দশমহাবিদ্যা

দশমহাবিদ্যা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from দশমহাবিদ্যা, Hindu temple, চুঁচুড়া, হুগলী, Chinsurah.

দশমহাবিদ্যা, তন্ত্র-বিদ্যা এবং মহাবিদ্যার স্বরূপ এবং বিশ্লেষণ জানতে "দশমহাবিদ্যা" পেজটি লাইক, ফলো এবং সাবস্ক্রাইব করুন।। যাঁরা দশমহাবিদ্যা সম্পর্কে আগ্রহী তাঁরাও ফলো করে রাখতে পারেন।

“রবৌ চন্দ্রে গজারূঢ়া, ঘোটকে শনি ভৌময়োঃ, গুরৌ শুক্রে চ দোলায়াং নৌকায়াং বুধবাসরে”“গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরাঘ...
01/09/2026

“রবৌ চন্দ্রে গজারূঢ়া, ঘোটকে শনি ভৌময়োঃ, গুরৌ শুক্রে চ দোলায়াং নৌকায়াং বুধবাসরে”

“গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা
ঘোটকে ছত্রভংস্তুরঙ্গমে
নৌকায়াং চ শস্যবৃদ্ধিস্তুথাজলম
দোলায়াং মকরং ভবেৎ”

সপ্তমীর বার = আগমনের বাহন
​দশমীর বার = গমনের বাহন

সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসারে ভারতীয় প্রমাণ সময় অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ১৪৩৩ সনের মহালয়া ও ৺শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা পূজার নি...
31/08/2026

সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসারে ভারতীয় প্রমাণ সময় অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে ১৪৩৩ সনের মহালয়া ও ৺শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা পূজার নির্ঘন্ট:-

মহালয়া:-

২২ আশ্বিন ১৪৩৩, ১০ অক্টোবর ২০২৬,

কালবেলাদি ৭।২ মধ্যে ও ১২।৫২ গতে ২।২০ মধ্যে ও ৩।৪৭ গতে ৫।১৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৬।৪৭ মধ্যে ও ৪।২ গতে ৫।৩৫ মধ্যে। যাত্রা—নাই, দিবা ৭।২ গতে যাত্রা শুভ পূর্ব্বে ও উত্তরে নিষেধ, দিবা ৩।৪৭ গতে পুনঃ যাত্রা নাই, রাত্রি ৬।৪৭ গতে পুনঃ যাত্রা শুভ পূর্ব্বে উত্তরে ঈশানে ও বায়ুকোণে নিষেধ, রাত্রি ৮।৩৪ গতে যাত্রা মধ্যম মাত্র পূর্ব্বে ও উত্তরে নিষেধ, শেষরাত্রি ৪।২ গতে পুনঃ যাত্রা নাই। শুভকর্ম্ম—নাই। বিবিধ (শ্রাদ্ধ)—অমাবস্যার একোদ্দিষ্ট ও সপিণ্ডন। অমাবস্যার ব্রতোপবাস। সায়ংসন্ধ্যা নিষেধ। পূর্ব্বাহ্ন ৯।২৮ মধ্যে (কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ৭।২ গতে পূর্ব্বাহ্ন মধ্যে) শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর অমাবস্যাবিহিত পূজা প্রশস্তা (অত্রকৃত্যে কালবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। মহালয়া পার্ব্বণশ্রাদ্ধ, শ্রাদ্ধানন্তর ষোড়শ পিণ্ডদান কর্তব্য অপরপক্ষীয় বা প্রেতপক্ষবিহিত শ্রাদ্ধ ও তিলতর্পণ সমাপন।

অমৃতযোগ—দিবা ৬।৩১ মধ্যে ও ৭।১৬ গতে ৯।২৯ মধ্যে ও ১১।৪২ গতে ২।৪০ মধ্যে ও ৩।২৫ গতে ৫।১৪ মধ্যে এবং রাত্রি ১২।৩৮ গতে ২।২১ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ—রাত্রি ২।২১ গতে ৩।১২ মধ্যে।

৺দুর্গাপূজা:-

​২৮শে আশ্বিন (ভাঃ ২৪শে আশ্বিন), ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার—সূঃ উঃ ৫।৩৮। অঃ ৫।৯। পূর্বাহ্ন ৯।২৮। ষষ্ঠী রাত্রি ৩।৪৭ পর্যন্ত। শ্রীশ্রীদুর্গা ষষ্ঠী। পূর্বাহ্ন মধ্যে কিন্তু বারবেলানুরোধে দিবা ৮।৩০ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা প্রশস্তা (অত্রকৃত্যে বারবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। সায়ংকালে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
​২৯শে আশ্বিন (ভাঃ ২৫শে আশ্বিন), ১৭ অক্টোবর, শনিবার—সূঃ উঃ ৫।৩৮। অঃ ৫।৮। পূর্বাহ্ন ৯।২৮। সপ্তমী অহোরাত্র। শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাপূজা। পূর্বাহ্ন মধ্যে অশ্বাঙ্ক-চরণাংশে ও চরণবাংশে (কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ৭।৪ গতে পূর্বাহ্ন মধ্যে) শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা প্রশস্তা (অত্রকৃত্যে কালবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। দেবীর ঘোটকে আগমন। ফল—ছত্রভঙ্গ।
​৩০শে আশ্বিন (ভাঃ ২৬শে আশ্বিন), ১৮ অক্টোবর, রবিবার—সূঃ উঃ ৫।৩৯। অঃ ৫।৭। পূর্বাহ্ন ৯।২৮। সপ্তমী প্রাতঃ ৫।৫৩ পর্যন্ত। প্রাতঃ ৫।৫৩ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর শুক্লা সপ্তমীবিহিত অধিক পূজা প্রশস্তা। রাত্রি ১০।৫১ গতে ১১।৩৯ মধ্যে দেবীর অর্ধরাত্রিবিহিত পূজা।
​১লা কার্তিক (ভাঃ ২৭শে আশ্বিন), ১৯ অক্টোবর, সোমবার—সূঃ উঃ ৫।৩৯। অঃ ৫।৬। পূর্বাহ্ন ৯।২৮। মহাঅষ্টমী দিবা ৭।৫০ পর্যন্ত। দিবা ৭।৫০ মধ্যে কিন্তু সন্ধিপূজানুরোধে দিবা ৭।২৬ মধ্যে কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ৭।৫ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর মহাঅষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ, কেবল মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাঅষ্টমীবিহিত পূজা প্রশস্তা। বীরাষ্টমীব্রত ও মহাঅষ্টমীর ব্রতোপবাস (অত্রকৃত্যে কালবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। দিবা ৭।২৬ গতে ৮।১৪ মধ্যে সন্ধিপূজা।

দিবা ৭।২৬ গতে সন্ধিপূজারম্ভ।
দিবা ৭।৫০ গতে বলিদান।
দিবা ৮।১৪ মধ্যে সন্ধিপূজা সমাপন।

২রা কার্তিক (ভাঃ ২৮শে আশ্বিন), ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার—সূঃ উঃ ৫।৪০। অঃ ৫।৫। পূর্বাহ্ন ৯।২৮। মহানবমী দিবা ৯।৩১ পর্যন্ত। পূর্বাহ্ন মধ্যে কিন্তু বারবেলানুরোধে দিবা ৭।৫ মধ্যে পুনঃ দিবা ৮।৩১ গতে পূর্বাহ্ন মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজা প্রশস্তা এবং দেবীর নবরাত্রিক ব্রত সমাপ্ত (অত্রকৃত্যে বারবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। পূর্বাহ্ন মধ্যে বীরাষ্টমীব্রত ও মহাঅষ্টমীব্রতের পারণ।

​৩রা কার্তিক (ভাঃ ২৯শে আশ্বিন), ২১ অক্টোবর, বুধবার—সূঃ উঃ ৫।৪০। অঃ ৫।৪। পূর্বাহ্ন ৯।২৮। দশমী দিবা ১০।৪৭ পর্যন্ত। পূর্বাহ্ন মধ্যে চরণাংশে ও চরণবাংশে কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ৮।৩১ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর দশমীবিহিত পূজা সমাপনান্তে বিসর্জন প্রশস্তা (অত্রকৃত্যে কালবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। দেবীর নৌকায় গমন। ফল—শস্যবৃদ্ধি ও জলবৃদ্ধি। কুলাচারানুসারে বিসর্জনান্তে অপরাজিতা পূজা। বিজয়াদশমীকৃত্য।

বাংলাদেশের প্রমাণ সময় অনুযায়ী বাংলাদেশে ৺শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা পূজার নির্ঘন্ট:-

​২৮শে আশ্বিন (ভাঃ ২৪শে আশ্বিন), ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার—সূঃ উঃ ৫।৫১। অঃ ৫।২৮। পূর্বাহ্ন ৯।৪৯। ষষ্ঠী শেষরাত্রি ৪।১৭ পর্যন্ত। শ্রীশ্রীদুর্গাষষ্ঠী। পূর্বাহ্ন মধ্যে কিন্তু বারবেলানুরোধে দিবা ৮।৫২ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা প্রশস্তা (অত্রকৃত্যে বারবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। সায়ংকালে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস।

​২৯শে আশ্বিন (ভাঃ ২৫শে আশ্বিন), ১৭ অক্টোবর, শনিবার—সূঃ উঃ ৬।০। অঃ ৫।২৭। পূর্বাহ্ন ৯।৪৯। সপ্তমী অহোরাত্র। শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাপূজা। পূর্বাহ্ন মধ্যে ধ্যাত্মক-চরলগ্নে ও চরণবাংশে (কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ৭।২৭ গতে পূর্বাহ্ন মধ্যে) শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা প্রশস্তা (অত্রকৃত্যে কালবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। দেবীর ঘোটকে আগমন। ফল—ছত্রভঙ্গ।

​৩০শে আশ্বিন (ভাঃ ২৬শে আশ্বিন), ১৮ অক্টোবর, রবিবার—সূঃ উঃ ৬।০। অঃ ৫।২৬। পূর্বাহ্ন ৯।৪৯। সপ্তমী প্রাতঃ ৬।২৩। প্রাতঃ ৬।২৩ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর শুক্লা সপ্তমীবিহিত অধিক পূজা প্রশস্তা। রাত্রি ১১।২১ গতে ১২।৯ মধ্যে দেবীর অর্দ্ধরাত্রিবিহিত পূজা।

​১লা কার্তিক (ভাঃ ২৭শে আশ্বিন), ১৯ অক্টোবর, সোমবার—সূঃ উঃ ৬।১। অঃ ৫।২৬। পূর্বাহ্ন ৯।৪৯। মহাঅষ্টমী দিবা ৮।২০ পর্যন্ত। দিবা ৮।২০ মধ্যে কিন্তু সন্ধিপূজানুরোধে দিবা ৭।৫৬ মধ্যে কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ৭।২৭ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর মহাঅষ্টম্যাদি কল্পারম্ভ, কেবল মহাঅষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাঅষ্টমীবিহিত পূজা প্রশস্তা। বীরাষ্টমীব্রত ও মহাঅষ্টমীর ব্রতোপবাস (অত্রকৃত্যে কালবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। দিবা ৭।৫৬ গতে ৮।৪৪ মধ্যে সন্ধিপূজা। দিবা ৭।৫৬ গতে সন্ধিপূজারম্ভ। দিবা ৮।২০ গতে বলিদান। দিবা ৮।৪৪ মধ্যে সন্ধিপূজা সমাপন।

​২রা কার্তিক (ভাঃ ২৮শে আশ্বিন), ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার—সূঃ উঃ ৬।১। অঃ ৫।২৫। পূর্বাহ্ন ৯।৪৯। মহানবমী দিবা ১০।১ পর্যন্ত। পূর্বাহ্ন মধ্যে (কিন্তু বারবেলানুরোধে দিবা ৭।২৭ মধ্যে পুনঃ দিবা ৮।৫৩ গতে পূর্বাহ্ন মধ্যে) শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজা প্রশস্তা এবং দেবীর নবরাত্রিক ব্রত সমাপ্ত (অত্রকৃত্যে বারবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। পূর্বাহ্ন মধ্যে বীরাষ্টমীব্রত ও মহাঅষ্টমীব্রতের পারণ।

​৩রা কার্তিক (ভাঃ ২৯শে আশ্বিন), ২১ অক্টোবর, বুধবার—সূঃ উঃ ৬।২। অঃ ৫।২৪। পূর্বাহ্ন ৯।৫০। দশমী দিবা ১১।১৭ পর্যন্ত। পূর্বাহ্ন মধ্যে চরলগ্নে ও চরণবাংশে কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ৮।৫৪ মধ্যে শ্রীশ্রীশারদীয়া দুর্গাদেবীর দশমীবিহিত পূজা সমাপনান্তে বিসর্জন প্রশস্তা (অত্রকৃত্যে কালবেলানুরোধে নিরবকাশে ন বহু সম্মতঃ)। দেবীর নৌকায় গমন। ফল—শস্যবৃদ্ধি ও জলবৃদ্ধি। কুলাচারানুসারে বিসর্জনান্তে অপরাজিতা পূজা। বিজয়াদশমীকৃত্য।

সকলের বোঝার সুবিধার্থে সম্পূর্ণ নির্ঘন্ট টি সরলীকরণ করে নিচে দেওয়া হলো।

​ভারতীয় প্রমাণ সময় অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মহালয়া ও দুর্গাপূজার সময়সূচি
​মহালয়া (১০ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার)
​শুভ কাজের সময় (অমৃতযোগ): সকাল ৬:৩১-এর মধ্যে; সকাল ৭:১৬ থেকে ৯:২৯; সকাল ১১:৪২ থেকে দুপুর ২:৪০; বিকেল ৩:২৫ থেকে ৫:১৪ এবং রাত ১২:৩৮ থেকে ২:২১।
​খুব শুভ সময় (মাহেন্দ্রযোগ): রাত ২:২১ থেকে ৩:১২।
​অশুভ সময় (কালবেলা): সকাল ৭:০২-এর মধ্যে; দুপুর ১২:৫২ থেকে ২:২০; বিকেল ৩:৪৭ থেকে ৫:১৪।
​অশুভ সময় (কালরাত্রি): সন্ধ্যা ৬:৪৭-এর মধ্যে; শেষরাত্রি ৪:০২ থেকে ভোর ৫:৩৫।
​ভ্রমণ বা যাত্রা নিয়ম: সাধারণভাবে যাত্রা মানা। সকাল ৭:০২-এর পর পূর্ব ও উত্তর দিক ছাড়া যাত্রা শুভ। বিকেল ৩:৪৭-এর পর আবার যাত্রা মানা। সন্ধ্যা ৬:৪৭-এর পর যাত্রা শুভ হলেও পূর্ব, উত্তর, ঈশান ও বায়ুকোণে যাওয়া নিষেধ। রাত ৮:৩৪-এর পর মধ্যম যাত্রা (পূর্ব ও উত্তর নিষেধ)। শেষরাত্রি ৪:০২-এর পর আবার যাত্রা মানা।
​পূজা ও শ্রাদ্ধ সময়: সকাল ৯:২৮-এর মধ্যে (তবে কালবেলার কারণে সকাল ৭:০২-এর পর) দুর্গাদেবীর অমাবস্যাবিহিত পূজা করা ভালো। তিলতর্পণ, মহালয়া পার্বণ শ্রাদ্ধ ও ষোড়শ পিণ্ডদান পুরো সকালের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। অমাবস্যার ব্রতোপবাস পালনীয় এবং সন্ধ্যাপূজা (সায়ংসন্ধ্যা) নিষেধ।
​মহাষষ্ঠী (১৬ অক্টোবর, শুক্রবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৫:৩৮ ও বিকেল ৫:০৯।
​ষষ্ঠী তিথি: শেষরাত্রি ৩:৪৭ পর্যন্ত।
​পূজা ও অনুষ্ঠান: সকাল ৯:২৮-এর মধ্যে পূজা সম্পন্ন করতে হবে (বারবেলার কারণে সকাল ৮:৩০-এর মধ্যে করা ভালো)। সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
​মহাসপ্তমী (১৭ অক্টোবর, শনিবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৫:৩৮ ও বিকেল ৫:০৮।
​সপ্তমী তিথি: সারাদিন ও সারারাত (অহোরাত্র)।
​পূজা ও অনুষ্ঠান: সকাল ৯:২৮-এর মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তমী পূজা করতে হবে (কালবেলার কারণে সকাল ৭:০৪-এর পর করা উত্তম)।
​দেবীর বাহন ও ফল: দেবীর আগমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) — ফল: ছত্রভঙ্গ।
​অতিরিক্ত সপ্তমী পূজা (১৮ অক্টোবর, রবিবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৫:৩৯ ও বিকেল ৫:০৭।
​পূজা ও সময়: সকাল ৫:৫৩ পর্যন্ত সপ্তমী তিথির প্রভাব থাকায় সকাল ৫:৫৩-এর মধ্যে অতিরিক্ত সপ্তমী পূজা প্রশস্তা। রাত ১০:৫১ থেকে ১১:৩৯-এর মধ্যে দেবীর অর্ধরাত্রিবিহিত পূজা।
​মহাঅষ্টমী ও সন্ধিপূজা (১৯ অক্টোবর, সোমবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৫:৩৯ ও বিকেল ৫:০৬।
​অষ্টমী তিথি: সকাল ৭:৫০ পর্যন্ত।
​পূজা ও ব্রত: সকাল ৭:৫০-এর মধ্যে (কালবেলার কারণে সকাল ৭:০৫-এর মধ্যে) মহাঅষ্টমী পূজা ও কল্পারম্ভ করতে হবে। সারাদিন মহাঅষ্টমীর ব্রতোপবাস ও বীরাষ্টমীব্রত।
​সন্ধিপূজার সময়সূচি:
​সন্ধিপূজা শুরু: সকাল ৭:২৬ থেকে।
​বলিদান: সকাল ৭:৫০-এর পর।
​সন্ধিপূজা সমাপ্তি: সকাল ৮:১৪-এর মধ্যে।
​মহানবমী (২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৫:৪০ ও বিকেল ৫:০৫।
​নবমী তিথি: সকাল ৯:৩১ পর্যন্ত।
​পূজা ও পালন: সকাল ৯:২৮-এর মধ্যে নবমী পূজা ও নবরাত্রিক ব্রত শেষ করতে হবে (বারবেলার কারণে সকাল ৭:০৫-এর মধ্যে অথবা সকাল ৮:৩১-এর পর করা ভালো)। সকালে বীরাষ্টমী ও মহাঅষ্টমীব্রতের পারণ (উপবাস ভঙ্গ)।
​বিজয়া দশমী (২১ অক্টোবর, বুধবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৫:৪০ ও বিকেল ৫:০৪।
​দশমী তিথি: সকাল ১০:৪৭ পর্যন্ত।
​পূজা ও বিসর্জন: সকাল ৯:২৮-এর মধ্যে দশমী পূজা শেষ করে বিসর্জন দেওয়া ভালো (কালবেলার কারণে সকাল ৮:৩১-এর মধ্যে করা উত্তম)। বিসর্জনের পর অপরাজিতা পূজা ও বিজয়াদশমীর আচার পালন।
​দেবীর বাহন ও ফল: দেবীর গমন নৌকায় — ফল: শস্যবৃদ্ধি ও জলবৃদ্ধি।
​বাংলাদেশের প্রমাণ সময় অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময়সূচি
​মহাষষ্ঠী (১৬ অক্টোবর, শুক্রবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৫:৫১ ও বিকেল ৫:২৮।
​ষষ্ঠী তিথি: শেষরাত্রি ৪:১৭ পর্যন্ত।
​পূজা ও অনুষ্ঠান: সকাল ৯:৪৯-এর মধ্যে পূজা সম্পন্ন করতে হবে (বারবেলার কারণে সকাল ৮:৫২-এর মধ্যে করা উত্তম)। সন্ধ্যায় দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
​মহাসপ্তমী (১৭ অক্টোবর, শনিবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৬:০০ ও বিকেল ৫:২৭।
​সপ্তমী তিথি: সারাদিন ও সারারাত (অহোরাত্র)।
​পূজা ও অনুষ্ঠান: সকাল ৯:৪৯-এর মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তমী পূজা করতে হবে (কালবেলার কারণে সকাল ৭:২৭-এর পর করা ভালো)।
​দেবীর বাহন ও ফল: দেবীর আগমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) — ফল: ছত্রভঙ্গ।
​অতিরিক্ত সপ্তমী পূজা (১৮ অক্টোবর, রবিবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৬:০০ ও বিকেল ৫:২৬।
​পূজা ও সময়: সকাল ৬:২৩-এর মধ্যে অতিরিক্ত সপ্তমী পূজা প্রশস্তা। রাত ১১:২১ থেকে ১২:০৯-এর মধ্যে দেবীর অর্ধরাত্রিবিহিত পূজা।
​মহাঅষ্টমী ও সন্ধিপূজা (১৯ অক্টোবর, সোমবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৬:০১ ও বিকেল ৫:২৬।
​অষ্টমী তিথি: সকাল ৮:২০ পর্যন্ত।
​পূজা ও ব্রত: সকাল ৮:২০-এর মধ্যে (কালবেলার কারণে সকাল ৭:২৭-এর মধ্যে) মহাঅষ্টমী পূজা করতে হবে। সারাদিন মহাঅষ্টমীর ব্রতোপবাস ও বীরাষ্টমীব্রত।
​সন্ধিপূজার সময়সূচি:
​সন্ধিপূজা শুরু: সকাল ৭:৫৬ থেকে।
​বলিদান: সকাল ৮:২০-এর পর।
​সন্ধিপূজা সমাপ্তি: সকাল ৮:৪৪-এর মধ্যে।
​মহানবমী (২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৬:০১ ও বিকেল ৫:২৫।
​নবমী তিথি: সকাল ১০:০১ পর্যন্ত।
​পূজা ও পালন: সকাল ৯:৪৯-এর মধ্যে নবমী পূজা ও নবরাত্রিক ব্রত শেষ করতে হবে (বারবেলার কারণে সকাল ৭:২৭-এর মধ্যে অথবা সকাল ৮:৫৩-এর পর করা ভালো)। সকালে বীরাষ্টমী ও মহাঅষ্টমীব্রতের পারণ।
​বিজয়া দশমী (২১ অক্টোবর, বুধবার)
​সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সকাল ৬:০২ ও বিকেল ৫:২৪।
​দশমী তিথি: সকাল ১১:১৭ পর্যন্ত।
​পূজা ও বিসর্জন: সকাল ৯:৫০-এর মধ্যে দশমী পূজা সম্পন্ন করে বিসর্জন দেওয়া ভালো (কালবেলার কারণে সকাল ৮:৫৪-এর মধ্যে করা উত্তম)। বিসর্জনের পর অপরাজিতা পূজা ও বিজয়ার নিয়ম পালন।
​দেবীর বাহন ও ফল: দেবীর গমন নৌকায় — ফল: শস্যবৃদ্ধি ও জলবৃদ্ধি।

আপনি কি জানেন এই মন্দিরে দর্শন করতে গেলে আপনাকে একজন নারী সাজতে হবে ?👉কেরালা রাজ্যের কোল্লাম জেলায় অবস্থিত বিখ্যাত কোট্ট...
19/08/2026

আপনি কি জানেন এই মন্দিরে দর্শন করতে গেলে আপনাকে একজন নারী সাজতে হবে ?

👉কেরালা রাজ্যের কোল্লাম জেলায় অবস্থিত বিখ্যাত কোট্টনকুলংরা শ্রী দেবী মন্দিরে প্রতি বছর এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখা যায়। এখানকার 'চামায়াভিলাক্কু' উৎসবে হাজার হাজার পুরুষ নিজেদের সম্পূর্ণ নারীরূপে সাজিয়ে তোলেন। শুধু শাড়ি পরাই নয়, কপালে টিপ, চোখে কাজল, চুলে জুঁই ফুলের গজরা আর গয়নাগাটি দিয়ে একদম নিখুঁতভাবে ষোলো আনা নারীরূপ ধারণ করেন তারা। অনেকেই দাড়ি-গোঁফ কামিয়ে এমনভাবে সাজেন যে চেনা মানুষটাকেও চেনা দায় হয়ে যায়! এরপর রাতের অন্ধকারে জ্বলন্ত প্রদীপ হাতে নিয়ে তারা মন্দিরের দেবী মায়ের কাছে প্রার্থনা করতে যান।এই অদ্ভুত ঐতিহ্যের পেছনে একটা সুন্দর লোকগাথা আছে।

বলা হয়, বহু বছর আগে একদল রাখাল বালক খেলাচ্ছলে এই মন্দিরের একটি পাথরকে দেবী মনে করে পূজা করেছিল। তারা নারীদের মতো পোশাক পরে দেবীকে ফুল ও নারকেলের দুধের নৈবেদ্য দেয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, তাদের সেই সরল ভক্তিতে খুশি হয়ে স্বয়ং দেবী মা সেখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত এই প্রথা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে চলে আসছে। আর এক লোককথা মতে কয়েকজন বালক মাঠে একটি নারকেল পড়ে থাকতে দেখে এবং তা ফাটাতেই জলের পরিবর্তে নারকেলের ভিতর দিয়ে রক্ত বের হয়। একজন সাধু বলেন এটা দেবী মায়ের আশীর্বাদ এবং এখানে দেবীর এক মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়।

কোনো লোকদেখানো নাটক নয়, বরং অত্যন্ত পবিত্র মনে এবং গভীর বিশ্বাস নিয়ে পুরুষরা দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসেন। অনেকে চাকরি, ব্যবসা বা পরিবারের মঙ্গলের জন্য মানত করেন। আর মনস্কামনা পূরণ হলে, মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তারা এভাবে নারীবেশে দেবীর দরবারে হাজির হন।

ভক্তি বা বিশ্বাসের যে কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গ বা রূপ হয় না, কেরালার এই উৎসব যেন আমাদের সেটাই মনে করিয়ে দেয়। ভক্তির এই রূপ সত্যিই যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনই ভীষণ সুন্দর এবং মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো!

আজ শ্রাবণ-সংক্রান্তি। বাংলা জুড়ে সর্বত্র আজ মনসা পুজো ! গ্রাম বাংলার প্রতিটি মানুষ মেতে উঠবেন মা মনসার আবাহনে। তাই আজ এই...
18/08/2026

আজ শ্রাবণ-সংক্রান্তি। বাংলা জুড়ে সর্বত্র আজ মনসা পুজো ! গ্রাম বাংলার প্রতিটি মানুষ মেতে উঠবেন মা মনসার আবাহনে। তাই আজ এই বিশেষ দিনে #দশমহাবিদ্যা পেজে জেনে নিন কাঁকুড়গাছির জাগ্রত মা মনসা দেবীর কথা :-
**************************************

কলকাতার কাঁকুড়গাছির ২১, মতিলাল বসাক লেনে অবস্থিত মা মনসা মন্দির একটি অত্যন্ত জাগ্রত ও ঐতিহ্যবাহী মন্দির। সাপের দেবী মনসা রূপে পূজিত এই স্থানে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা মনস্কামনা পূরণের আশায় আসেন । পুরনো এই মন্দিরে নিত্যপুজো ছাড়াও মনসা পূজার সময় ব্যাপক উৎসব ও ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যা স্থানীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক।

অবস্থান বা দিক নির্দেশনা :

কলকাতার কাঁকুড়গাছি এলাকায়, ২১ নম্বর মতিলাল বসাক লেন। ট্রেনে করে এলে নিকটবর্তী রেল স্টেশন বিধাননগর রোড বা স্যার গুরুদাস ব্যানার্জি হল্ট আর নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন হল ফুলবাগান। মেট্রো স্টেশন থেকে সরাসরি মন্দির যাওয়ার অটো রিক্সা পাওয়া যায়। আর বাসে করে এলে ফুলবাগান বা কাঁকুড়গাছি গামী বাসে করে পোস্ট অফিস স্টপেজ নেমে মন্দির বললেই সবাই পথ নির্দেশ বলে দেবে।

প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বাসের কথায় এলে মন্দিরটি বহু বছরের পুরনো, তবে এর সঠিক প্রতিষ্ঠার সময়কাল নিয়ে জনশ্রুতি রয়েছে যে, দেবী মনসার প্রতি নিষ্ঠার কারণেই এই মন্দির গড়ে উঠেছিল ।

ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত এবং এখানে মনসা পুজোর সময় বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান করা হয় ।

প্রতিদিন প্রচুর ভক্ত নিজেদের সমস্যার সমাধান বা মনের ইচ্ছা পূরণের জন্য এখানে প্রার্থনা জানাতে আসেন ।

এই মন্দিরটি কলকাতা তথা বাংলার গ্রামীণ বিশ্বাসের এক অপূর্ব নিদর্শন, যা শহরের কোলাহলের মধ্যে আজও বিরাজমানের সহিত টিকে আছে।।

🔸 বিশেষ কৃতজ্ঞতা :- শ্রী অভিরূপ চক্রবর্তী মহাশয়

🔸 কাঁকুড়গাছি মা মনসার ছবি তাদের ফেসবুক পেজ সৌজন্যে প্রাপ্ত।

🔸 ✍️ ©️ কালীকথা। KALI KATHA

#কালীকথা
#কালীকথাপেজপোস্ট
#বাংলারবৈচিত্রময়দেবদেবী
#দশমহাবিদ্যা

সন্ধ্যা নামলেই খালি হয়ে যায় এই মন্দির! রাত কাটালেই গায়েব মানুষ? জানুন গুজরাটের এই জাগ্রত পাহাড়ের অলৌকিক রহস্য!পাহাড়ের চু...
14/08/2026

সন্ধ্যা নামলেই খালি হয়ে যায় এই মন্দির! রাত কাটালেই গায়েব মানুষ? জানুন গুজরাটের এই জাগ্রত পাহাড়ের অলৌকিক রহস্য!

পাহাড়ের চুড়োয় এক অচিন মন্দির, যেখানে সূর্য ডোবার সাথে সাথে নেমে আসে এক থমথমে নিস্তব্ধতা। সন্ধ্যার শেষ আরতি হতেই কোনো মানুষকে আর সেখানে থাকতে দেওয়া হয় না—এমনকি যে পূজারী সারাদিন দেবীর সেবা করলেন, তাকেও পাহাড় ছেড়ে নিচে নেমে আসতে হয়! লোকমুখে আজও রটে আছে, কোনো দুঃসাহসী যদি রাতের অন্ধকারে সেখানে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে, তবে পরদিন সকালে তার আর কোনো চিহ্নই খুঁজে পাওয়া যায় না!

কথা হচ্ছে গুজরাটের সুরেন্দ্রনাথ নগর জেলার বিখ্যাত চোটলা চামুণ্ডা দেবী মন্দির নিয়ে। কিন্তু কেন এই রহস্য? বলা হয়, রাতে এই ধামের পাহারার দায়িত্ব নেন স্বয়ং কাল ভৈরব, আর মায়ের চরণে পাহারায় বসে জঙ্গলরাজ সিংহ!

শুধু কি তাই? ভারতের আর কোনো চামুণ্ডা মন্দিরে আপনি যা দেখতে পাবেন না, তা রয়েছে এই চোটলা ধামে। এখানকার বিগ্রহ কোনো সাধারণ একমুখী মূর্তি নয়—এখানে দেবী বিরাজ করছেন অদ্ভুত এক দ্বিমুখী রূপে! কথিত আছে, চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই ভয়ঙ্কর অসুরকে বধ করতে দেবী চণ্ডী ও চামুণ্ডা এক হয়ে এই রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

আর এই রহস্যময়ী মা চোটলা কিন্তু ভক্তদের কাছে অপার করুণাময়ী। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের জন্য এই পাহাড়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাজকীয় প্রসাদ ও থাকার সুব্যবস্থা থাকে। ভীতি, অলৌকিকতা আর ভক্তির এমন অদ্ভুত মেলবন্ধন বোধহয় পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না!

জয় মা চামুণ্ডা 🙏🌺

🪷💮  মা বগলামুখী ধ্যানমন্ত্র ও শোস্ত্রমঃ  💮🪷🏵 মধ্যে সুধাব্ধিমণিমণ্ডপরত্নবেদী সিংহাসনোপরিগতাং পরিপীতবর্ণাম্। পীতাম্বরং কণক...
13/08/2026

🪷💮 মা বগলামুখী ধ্যানমন্ত্র ও শোস্ত্রমঃ 💮🪷

🏵 মধ্যে সুধাব্ধিমণিমণ্ডপরত্নবেদী সিংহাসনোপরিগতাং পরিপীতবর্ণাম্।
পীতাম্বরং কণকমাল্যবিভূষিতাঙ্গীং দেবীং স্মরামি ধৃতমুদ্গর বৈরিজিহ্বাম্।।
জিহ্ববাগ্রমাদায় করেণ দেবীং,বামেন শত্রুন্ পরিপীড়য়ন্তীম্।
গদাভিঘাতেন চ দক্ষিণে ন পীতাম্বরাঢ্যাং দ্বিভুজাং নমামি।

🏵 মুণ্ডমালা তন্ত্র অনুসারে দশমহাবিদ্যা হলেন কালী, তারা, ষোড়শী, ভৈরবী, ভুবনেশ্বরী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী ও কমলাকামিনী। মা বগলামুখী। ইনি অষ্টম মহাবিদ্যা। ইনি হলুদ পুস্প খুব ভালোবাসেন। এঁনার পূজোয় হলুদ পুস্প, হলুদ সিঁদুর দেওয়া হয়। মা বগলা কে শত্রু নাশের জন্য পূজো করা হয়। আমাদের অন্তরে যে রিপু, স্বার্থপরতা, হিংসা, অহংকার রুপী যে শত্রু আছে – আমরা তার বিনাশের জন্য মায়ের চরণে প্রার্থনা জানাবো। মা যেন সেই শত্রু গুলিকে নিপাত করেন।

🏵 মা বগলামুখী জপমন্ত্র ----
ওঁ হ্লীং বগলামুখি
সর্বদুষ্টানাং বাচং মুখং পদং স্তম্ভয়
জিহ্বাং কীলয়
বুদ্ধিং বিনাশয় হ্লীং ওঁ স্বাহা

🏵॥ শ্রীবগলামুখীস্তোত্রম্ ॥🏵

শ্রীগণেশায় নমঃ ।

চলত্কনককুণ্ডলোল্লসিতচারুগণ্ডস্থলীং
লসত্কনকচম্পকদ্যুতিমদিন্দুবিম্বাননাম্ ।
গদাহতবিপক্ষকাং কলিতলোলজিহ্বাংচলাং
স্মরামি বগলামুখীং বিমুখবাঙ্মনস্স্তম্ভিনীম্ ॥ ১॥

পীয়ূষোদধিমধ্যচারুবিলদ্রক্তোত্পলে মণ্ডপে
সত্সিংহাসনমৌলিপাতিতরিপুং প্রেতাসনাধ্যাসিনীম্ ।
স্বর্ণাভাং করপীডিতারিরসনাং ভ্রাম্যদ্গদাং বিভ্রতীমিত্থং
ধ্যায়তি য়ান্তি তস্য সহসা সদ্যোঽথ সর্বাপদঃ ॥ ২॥

দেবি ত্বচ্চরণাম্বুজার্চনকৃতে য়ঃ পীতপুষ্পাঞ্জলীন্ভক্ত্যা
বামকরে নিধায় চ মনুং মন্ত্রী মনোজ্ঞাক্ষরম্ ।
পীঠধ্যানপরোঽথ কুম্ভকবশাদ্বীজং স্মরেত্পার্থিবং
তস্যামিত্রমুখস্য বাচি হৃদয়ে জাড্যং ভবেত্তত্ক্ষণাত্ ॥ ৩॥

বাদী মূকতি রঙ্কতি ক্ষিতিপতির্বৈশ্বানরঃ শীততি ক্রোধী
শাম্যতি দুর্জনঃ সুজনতি ক্ষিপ্রানুগঃ খঞ্জতি ।
গর্বী খর্বতি সর্ববিচ্চ জডতি ত্বন্মন্ত্রিণা য়ন্ত্রিতঃ
শ্রীর্নিত্যে বগলামুখি প্রতিদিনং কল্যাণি তুভ্যং নমঃ ॥ ৪॥

মন্ত্রস্তাবদলং বিপক্ষদলনে স্তোত্রং পবিত্রং চ তে
য়ন্ত্রং বাদিনিয়ন্ত্রণং ত্রিজগতাং জৈত্রং চ চিত্রং চ তে ।
মাতঃ শ্রীবগলেতি নাম ললিতং য়স্যাস্তি জন্তোর্মুখে
ত্বন্নামগ্রহণেন সংসদি মুখে স্তম্ভো ভবেদ্বাদিনাম্ ॥ ৫॥

দুষ্টস্তম্ভনমুগ্রবিঘ্নশমনং দারিদ্র্যবিদ্রাবণং
ভূভৃত্সন্দমনং চলন্মৃগদৃশাং চেতঃসমাকর্ষণম্ ।
সৌভাগ্যৈকনিকেতনং সমদৃশঃ কারুণ্যপূর্ণেক্ষণম্
মৃত্যোর্মারণমাবিরস্তু পুরতো মাতস্ত্বদীয়ং বপুঃ ॥ ৬॥

মাতর্ভঞ্জয় মদ্বিপক্ষবদনং জিহ্বাং চ সঙ্কীলয়
ব্রাহ্মীং মুদ্রয় দৈত্যদেবধিষণামুগ্রাং গতিং স্তংভয় ।
শত্রূংশ্চূর্ণয় দেবি তীক্ষ্ণগদয়া গৌরাঙ্গি পীতাম্বরে
বিঘ্নৌঘং বগলে হর প্রণমতাং কারুণ্যপূর্ণেক্ষণে ॥ ৭॥

মাতর্ভৈরবি ভদ্রকালি বিজয়ে বারাহি বিশ্বাশ্রয়ে
শ্রীবিদ্যে সময়ে মহেশি বগলে কামেশি বামে রমে ।
মাতঙ্গি ত্রিপুরে পরাত্পরতরে স্বর্গাপবর্গপ্রদে
দাসোঽহং শরণাগতঃ করুণয়া বিশ্বেশ্বরি ত্রাহি মাম্ ॥ ৮॥

সংরম্ভে চৌরসঙ্ঘে প্রহরণসময়ে বন্ধনে ব্যাধিমধ্যে
বিদ্যাবাদে বিবাদে প্রকুপিতনৃপতৌ দিব্যকালে নিশায়াম্ ।
বশ্যে বা স্তম্ভনে বা রিপুবধসময়ে নির্জনে বা বনে বা
গচ্ছংস্তিষ্ঠংস্ত্রিকালং য়দি পঠতি শিবং প্রাপ্নুয়াদাশু ধীরঃ ॥ ৯॥

ত্বং বিদ্যা পরমা ত্রিলোকজননী বিঘ্নৌঘসংছেদিনী
য়োষিত্কর্ষণকারিণী জনমনঃসম্মোহসন্দায়িনী ।
স্তম্ভোত্সারণকারিণী পশুমনঃসম্মোহসন্দায়িনী
জিহ্বাকীলনভৈরবী বিজয়তে ব্রহ্মাদিমন্ত্রো য়থা ॥ ১০॥

বিদ্যা লক্ষ্মীর্নিত্যসৌভাগ্যমায়ুঃ পুত্রৈঃ পৌত্রৈঃ সর্বসাম্রাজ্যসিদ্ধিঃ ।
মানো ভোগো বশ্যমারোগ্যসৌখ্যং প্রাপ্তং তত্তদ্ভূতলেঽস্মিন্নরেণ ॥ ১১॥

ত্বত্কৃতে জপসন্নাহং গদিতং পরমেশ্বরি ।
দুষ্টানাং নিগ্রহার্থায় তদ্গৃহাণ নমোঽস্তু তে ॥ ১২॥

পীতাম্বরাং চ দ্বিভুজাং ত্রিনেত্রাং গাত্রকোমলাম্ ।
শিলামুদ্গরহস্তাং চ স্মরে তাং বগলামুখীম্ ॥ ১৩॥

ব্রহ্মাস্ত্রমিতি বিখ্যাতং ত্রিষু লোকেষু বিশ্রুতম্ ।
গুরুভক্তায় দাতব্যং ন দেয়ং য়স্য কস্যচিত্ ॥ ১৪॥

নিত্যং স্তোত্রমিদং পবিত্রমিহ য়ো দেব্যাঃ পঠত্যাদরাদ্ধৃত্বা
য়ন্ত্রমিদং তথৈব সমরে বাহৌ করে বা গলে ।
রাজানোঽপ্যরয়ো মদান্ধকরিণঃ সর্পা মৃগেন্দ্রাদিকাস্তে
বৈ য়ান্তি বিমোহিতা রিপুগণা লক্ষ্মীঃ স্থিরা সিদ্ধয়ঃ ॥ ১৫॥

॥ ইতি শ্রীরুদ্রয়ামলে তন্ত্রে শ্রীবগলামুখীস্তোত্রং সমাপ্তম্ ॥

📸 চিত্র সৌজন্য- গণমাধ্যম [কালীঘাট মন্দির প্রাঙ্গনে নবনির্মিত বগলা বিগ্রহ]

✍️ #সংগৃহীত

#দশমহাবিদ্যা

✨বৈদ্যনাথ ধামের প্রচলিত জনশ্রুতি বলে, লঙ্কার রাজা রাবণ যখন শিবলিঙ্গটি নিজের রাজ্যে বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন দেবতাদের এক...
11/08/2026

✨বৈদ্যনাথ ধামের প্রচলিত জনশ্রুতি বলে, লঙ্কার রাজা রাবণ যখন শিবলিঙ্গটি নিজের রাজ্যে বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন দেবতাদের এক কৌশলের ফাঁদে পড়ে তিনি সেটিকে মাটিতে নামিয়ে রাখতে বাধ্য হন। এরপর সেই লিঙ্গ চিরস্থায়ীভাবে বসে যায় ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের মাটিতে। প্রবল শক্তি প্রয়োগ করেও রাবণ সেটি আর তুলতে পারেননি; বরং তাঁর হাতের চাপে লিঙ্গের গায়ে একটি গভীর দাগ পড়ে যায়। ত্রেতাযুগের এই ঘটনার বহুকাল পর, দেওঘরেই ঘটে যায় আরেকটি হৃদয়স্পর্শী কাণ্ড, যার সূত্রেই এই তীর্থক্ষেত্রের নাম হয়ে যায় 'বৈদ্যনাথ' বা 'বৈজুনাথ'।

সেই সময় জায়গাটা ছিল গভীর অরণ্যে ঢাকা। সেই জঙ্গলের এক প্রান্তে বাস করত এক আদিবাসী তরুণ, নাম বৈজু। লেখাপড়া জানত না, শাস্ত্রবিধি বা মন্ত্রোচ্চারণেরও কোনো ধারণা ছিল না তার। কিন্তু জঙ্গলে কুড়িয়ে পাওয়া প্রাচীন এক শিবলিঙ্গের প্রতি তার নিষ্ঠা প্রকাশ পেত একেবারে নিজস্ব ভঙ্গিতে। একদিন মাঠ পেরোতে গিয়ে অসাবধানে তার পা লেগে যায় লিঙ্গটির গায়ে। সেই মুহূর্ত থেকেই বৈজু মনে মনে এক অদ্ভুত প্রতিজ্ঞা করে বসে—প্রতিদিন জঙ্গলে গিয়ে লাঠি দিয়ে শিবলিঙ্গের মাথায় জোরে একটি আঘাত করবে, তারপরই কেবল ঘরে ফিরে খাবার মুখে দেবে।

একদিন সকাল থেকে কাজের চাপ আর নানা ঝক্কিতে বৈজু একেবারে ভুলে যায় যে সেদিন এখনও লাঠির আঘাতটা দেওয়া হয়নি। বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল, সে বাড়ি ফিরে হাত-মুখ ধুয়ে স্বস্তিতে ভাতের থালা নিয়ে বসল—আর ঠিক প্রথম গ্রাসটি মুখে তোলার মুহূর্তেই তার হঠাৎ মনে পড়ে গেল, "সর্বনাশ! আজ তো বাবাকে লাঠির ঘা দেওয়াই হয়নি!"
কথাটা মনে আসতেই বৈজুর বুক কেঁপে ওঠে। থালার খাবার থালাতেই পড়ে রইল, এক ফোঁটা জলও না ছুঁয়ে সে উঠে দাঁড়াল। ঘরের লোকজন অনুরোধ করল, "আগে খেয়ে নে!" কিন্তু বৈজু নাছোড়। তার একটাই কথা—"বাবাকে আঘাত না করে আজ আমি কিছুতেই মুখে অন্ন তুলব না।"

বাইরে তখন প্রবল ঝড়-বৃষ্টি চলছে। সেই দুর্যোগের মধ্য দিয়েই লড়াই করতে করতে বৈজু শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেল শিবলিঙ্গের কাছে। সারাদিনের অভুক্ত শরীর ক্লান্তিতে কাঁপছিল, তবু মনের জোরে সে লাঠি তুলে শেষবারের মতো জোরে আঘাত হানল লিঙ্গের গায়ে।

আর ঠিক তখনই গোটা জঙ্গল আলোকিত করে এক অপার্থিব দিব্য জ্যোতি ছড়িয়ে শিবলিঙ্গ থেকে সাক্ষাৎ প্রকট হলেন মহাদেব স্বয়ং! সামনে পরমেশ্বরকে দেখে ভয় আর বিস্ময়ে বৈজু লাঠি হাত থেকে ফেলে মাটিতে বসে পড়ল।
কিন্তু মহাদেব রাগ করেননি, বরং গভীর স্নেহে দু-হাত বাড়িয়ে বৈজুকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। ভোলানাথ বললেন, "বৈজু! জগতের মানুষ আমাকে কত ফুল-ফল আর মন্ত্র দিয়ে পুজো করে। কিন্তু আজ খেতে বসেও প্রথম গ্রাস মুখে দেওয়ার আগে তুই থালা ফেলে ছুটে এলি আমার কথা ভেবে—এই টানই সবচেয়ে খাঁটি। তোর লাঠির এই আঘাত কোনো আঘাত নয়, এ তো আমার প্রতি তোর গভীর ভালোবাসা আর অধিকারবোধের প্রকাশ।"

মহাদেব বর দিতে চাইলেন, কিন্তু সরল বৈজু হাত জোড় করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। তখন করুণাময় শিব নিজেই ঘোষণা করলেন, "আজ থেকে এই পবিত্র তীর্থে আমার নামের আগে উচ্চারিত হবে তোর নাম। জগৎ আমাকে ডাকার আগে প্রথমে ডাকবে তোকে।"

সেই বৈজুর নামানুসারেই এই তীর্থস্থানের নাম হয় 'বৈজুনাথ', কালক্রমে যা 'বৈদ্যনাথ ধাম' নামে জগৎজোড়া খ্যাতি পায়। ভগবান যে কোনো বাঁধাধরা নিয়মের অধীন নন, বরং সরল হৃদয়ের নিখাদ ভক্তিরই পূজারি—এই আখ্যান তারই এক জীবন্ত সাক্ষ্য।
হর হর মহাদেব 🙏🌸✨

শক্তিপূজায় 'বলি' আবশ্যকীয় উপাচারসনাতন ধর্মে পশুবলি প্রথা শাস্ত্রীয়। সনাতন ধর্মের প্রধান গ্রন্থ বেদসহ সনাতন শাস্ত্রে পশু...
05/08/2026

শক্তিপূজায় 'বলি' আবশ্যকীয় উপাচার

সনাতন ধর্মে পশুবলি প্রথা শাস্ত্রীয়। সনাতন ধর্মের প্রধান গ্রন্থ বেদসহ সনাতন শাস্ত্রে পশুবলি নিষিদ্ধ নয়। ঋগ্বেদ সংহিতায় বলির পশু অশ্বের উৎসর্গ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- দেবতাদের উৎসর্গিত পশুটি দেবতাদের নিকটে গমন করে। কিন্তু পশুটিকে বলি প্রদানের সময়ে তার প্রিয় দেহটিকে অধিক ক্লেশ প্রদান করা বাঞ্ছনীয় নয়। খড়্গ যেন পশুটির শরীরে অধিকক্ষণ না থাকে এবং কোনো মাংসলোলুপ, ছেদনে অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা যেন বলিকর্ম সম্পাদন করা না হয়। অর্থাৎ বলির পশুটিকে পুচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে বহুক্ষণ ধরে যেন হত্যা করা না হয়। এক কোপে বলির পশুটিকে ছেদন করতে হবে। দেবতাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত পশুকে বলি প্রদান করলে, তা কখনো হিংসা হয় না; বরং তা হিংসারহিত কর্ম। বলিকৃত যজ্ঞের পশু উত্তম পথে দেবতাদের নিকটে গমন করে মুক্ত হয়। এর মাধ্যমে যজমান শোভন গো-অশ্ব সমৃদ্ধ এবং পুত্রসন্তানযুক্ত বিবিধ জগৎপোষক ধন এবং প্রভুত্ব বা শারীরিক বল লাভ করে।

মা ত্বা তপৎপ্রিয় আত্মাপিয়ন্তং মা স্বধিতিস্তম্ব আ তিষ্ঠিপত্তে।
মা তে গৃধ্নূরবিশস্তাতিহায় চ্ছিদ্রা গাত্রাণ্যসিনা মিথূ কঃ৷৷
ন বা উ এতন্ম্রিয়সে ন রিষ্যসি দেঁবা ইদেষি পথিভিঃ সুগেভিঃ।
হরী তে যুঞ্জা পৃষতী অভূতামুপাস্থাদ্বাজী ধূরি রাসভস্য ॥
সুগব্যংনো বাজী স্বশ্ব্যং পুংসঃ পুত্রাঁ উত বিশ্বাপুযং রয়িম্।
অনাগাস্ত্বং নো অদিতিঃ কৃণোতু ক্ষত্রং নো অশ্বো বনতাং হবিষ্মান্॥
(ঋগ্বেদ সংহিতা: ০১.১৬২.২০-২২)

" হে অশ্ব, তুমি যখন দেবতাদের নিকটে গমন করো, তখন তোমার প্রিয় দেহ যেন তোমাকে ক্লেশ প্রদান না করে, খড়্গ যেন তোমার অঙ্গে অধিকক্ষণ না থাকে। কোনো মাংসলোলুপ ও ছেদনে অদক্ষ ছেদক অস্ত্রের দ্বারা ব্যর্থভাবে যেন তোমার অবয়ব ছিন্ন না হয়।

হে অশ্ব, তুমি মৃত্যুবরণ করছো না বা তোমায় কেউ হিংসা করছে না, তুমি উত্তম পথে দেবতাদের নিকটে গমন করছো। ইন্দ্রের হরি নামক অশ্বদ্বয় এবং মরুৎগণের পৃষতীনামক বাহনদ্বয় তোমার রথে যোজিত হবে, অশ্বিনীদ্বয়ের বাহন রাসভের পরিবর্তে কোনো দ্রুতগামী অশ্ব তোমার রথে সংযুক্ত হবে।

এই অশ্ব আমাদের শোভন গো-অশ্ব সমৃদ্ধ এবং পুত্রসন্তানযুক্ত বিবিধ জগৎপোষক ধন প্রদান করুক। অদিতি আমাদের অপরাধহীন করুক।এই অশ্ব যেন হবিঃযুক্ত হয়ে আমাদের প্রভুত্ব বা শারীরিক বল প্রদান করে।"

দেবতাদের উদ্দেশ্যে পশুবলিতে বধকৃত পশুটি যে মুক্ত হয়ে সুগম দেবযান পথে দেবতাদের নিকটে গমন করে -এ বিষয়টি ঋগ্বেদ সংহিতার ন্যায় শুক্লযজুর্বেদ সংহিতাতেও বর্ণিত হয়েছে।

ন বা উ এতন্ম্রিয়সে ন রিষ্যাসি দেবাঁ ইদেষি পথিভিঃ সুগেভিঃ।
যত্রাসতে সুকৃতো যত্ৰ তে যযুস্তত্র ত্বা দেবঃ সবিতা দধাতু৷৷
(শুক্লযজুর্বেদ সংহিতা: ২৩.১৬)

"হে অশ্ব ! এই যে তুমি আমাদের দ্বারা কর্তিত হ'তে যাচ্ছ, তবে তোমার মরণ হবে না ও তুমিও বিনষ্ট হবে না। বলি পরবর্তী তুমি সুগম দেবযান পথে দেবতাদের নিকটে গমন করবে। যে স্থানে পুণ্যবানগণ নিবাস করেন এবং যে স্থানে তাঁরা গমন করেন, সেই পুণ্যবানদের জ্যোতির্ময় লোকে তোমাকে সবিতাদেব স্থাপন করুক ৷"

বেদসহ সনাতন অধিকাংশ শাস্ত্রেই পশুবলির কথা থাকলেও শুধুমাত্র বৈষ্ণব দর্শনে পশুবলির আবশ্যকতা পাওয়া যায় না। এর অন্যতম কারণ বৈষ্ণব দর্শন ও উপাসনায় অহিংসা তত্ত্বের প্রভাব এবং শ্রীরামানুজাচার্য, শ্রীমধ্বাচার্য, শ্রীনিম্বার্ক এই প্রধান চার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রধান আচার্যবৃন্দ সকলেই দক্ষিণ ভারতের; আর বলার অপেক্ষা রাখে না, দক্ষিণ ভারতে আধ্যাত্মিকতার সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গে নিরামিষের প্রভাব ব্যাপক । এই নিরামিষ খাদ্যাভ্যাসেরই সরাসরি প্রভাব পরেছে বৈষ্ণব সম্প্রদায়গুলোর উপরে। তবে বৈষ্ণব দর্শনে পশুবলি না থাকলেও বৈষ্ণবশাস্ত্রের বিবিধস্থানে পশুবলির কথা রয়েছে। বেদের পরে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রধানতম গ্রন্থ শ্রীমদ্ভাগবতপুরাণ ও বিষ্ণুপুরাণে ধূপ, প্রদীপ, উপহার এবং বলি দ্বারা দেবীকে পূজা করতে বলা হয়েছে, তবেই দেবী সন্তুষ্ট হয়ে ভক্তের সকল মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করবেন।

অর্চিষ্যন্তি মনুষ্যাস্ত্বাং সর্বকামবরেশ্বরীম্‌ ।
ধূপোপহারবলিভিঃ সর্বকামবরপ্রদাম্‌ ।।
( শ্রীমদ্ভাগবতপুরাণ: ১০. ২.১০)

"তুমি সর্বলোকের সকলের প্রার্থনাপূরণকারিণী বরদাদেবীরূপে পূজিতা হবে। লোকে ধূপ,প্রদীপ, উপহার এবং বলি দ্বারা সকল মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্যে তোমার পূজা করবে।"

আদ্যাশক্তি মহামায়ার উদ্দেশ্যে শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের মত এই একইপ্রকারের কথা বিষ্ণু পুরাণেও পাওয়া যায়।

সুরামাংসোপহারৈশ্চ ভক্ষ্যভোজ্যৈশ্চ পূজিতা ।
নৃণামশেষকামাংস্ত্বং প্রসন্না সম্প্রদাস্যসি ।।
( বিষ্ণু পুরাণ: ৫.১.৮৬)

"হে দেবী! সুরা ও মাংস, ভক্ষ্য ও ভোজ্য দ্বারা তোমায় পূজা করলে তুমি প্রসন্ন হয়ে মনুষ্যগণের সর্ব প্রার্থিত বিষয় প্রদান করবে।"

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের দশম স্কন্ধে আরও পাওয়া যায়, ব্রজের গোপীগণও ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পাওয়ার উদ্দেশ্যে বলি প্রদানসহ দেবী কাত্যায়নী ভদ্রকালীর অর্চনা করতেন।বৃন্দাবনের গোপকুমারীরা অতি প্রত্যূষে সূর্যোদয়ের পূর্বে যমুনার জলে স্নান সেরে নদীর তটভূমিতে বালুকাময় মাটি দিয়ে দেবীর মূর্তি নির্মাণ করে চন্দনাদি গন্ধদ্রব্য, সুগন্ধি পুষ্পের মালা, বলি, ধূপ, দীপ, নানাপ্রকার উপহার দ্রব্য, পল্লব, ফল এবং তণ্ডুলাদির দ্বারা কাত্যায়নী, মহামায়া, মহাযোগিনী, অধীশ্বরী ভদ্রকালীর পূজা করতেন।

শ্রীশুক উবাচ
হেমন্তে প্রথমে মাসি নন্দব্রজকুমারিকাঃ।
চেরুর্হবিষ্যং ভুঞ্জানাঃ কাত্যায়ন্যর্চনব্ৰতম্॥
আপ্লুত্যাম্ভসি কালিন্দ্যা জলান্তে চোদিতেঽরুণে।
কৃত্বা প্রতিকৃতিং দেবীমানর্চুর্নৃপ সৈকতীম্॥
গন্ধৈর্মাল্যৈঃ সুরভিভির্বলিভির্ধূপদীপকৈঃ। উচ্চাবচৈশ্চোপহারৈঃ প্ৰবালফলতণ্ডুলৈঃ॥
(শ্রীমদ্ভাগবতপুরাণ:১০.২২.১-৩)

"শ্রীশুকদেব বললেন- বললেন—পরীক্ষিৎ ! এরপর হেমন্ত ঋতুর প্রথম মাস অর্থাৎ মার্গশীর্ষ বা অগ্রহায়ণ মাসে নন্দমহারাজের ব্রজভূমির কুমারীগণ দেবী কাত্যায়নীর পূজা তথা ব্রত আচরণে প্রবৃত্ত হলেন। এই সময়ে তাঁরা শুধুমাত্র হবিষ্যান্নই গ্রহণ করতেন।

মহারাজ ! গোপকুমারীরা অতি প্রত্যূষে দিগন্তে অরুণাভাস দেখা দিতে না দিতে যমুনার জলে স্নান সেরে জলসমীপেই তটভূমিতে বালুকা দিয়ে দেবীর মূর্তি নির্মাণ করে চন্দনাদি গন্ধদ্রব্য, সুগন্ধি পুষ্পের মালা, বলি, ধূপ, দীপ, নানাপ্রকার উপহার দ্রব্য, পল্লব, ফল এবং তণ্ডুলাদির দ্বারা তাঁর পূজা করতেন।"

ধর্ম ভিন্ন হলেও পাঠাবলি এবং কুরবানির উদ্দেশ্য এবং প্রকৃতি প্রায় একই প্রকারের বলা চলে। দুটিই যারযার নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে সৃষ্টিকর্তার নামে সমর্পণ করে সেই পবিত্র মাংস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা। আমি আমার এ জীবনে কোন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে কোনদিন দেখিনি কোরবানির বিরুদ্ধে কখনো কোন নেতিবাচক মন্তব্য করতে। সে অশিক্ষিত রিক্সাওয়ালা হোক অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। কারণ বিষয়টি তাদের ধর্মগ্রন্থে রয়েছে।কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি উল্টো। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মগ্রন্থের বিবিধ স্থানে পশুবলির শাস্ত্রীয় নির্দেশনা থাকার পরেও, তথাকথিত শিক্ষিত সম্প্রদায়ের কিছু পণ্ডিতম্মন্য ব্যক্তি শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। তাদের মধ্যে এমন একটি ভাব; যদি সে বলির বিরুদ্ধে না বলে, বলির বিরুদ্ধে না লিখে তবে সে প্রগতিশীলদের কাতারে ঠাই পাবে না। এরাই আবার পশুমাংস ভোজনের সময়ে মাংসের পাতিল খালি করে ফেলে। দেখা যায়, মাংস যে রান্না করেছে তারই ভাগ্যে জোটে না বা কিঞ্চিৎ পরিমাণ জোটে। এই দ্বৈতচরিত্রের ব্যক্তিরা ভয়ংকর। বঙ্গদেশে মনসাপূজা, দুর্গাপূজা এবং কালীপূজা আসলেই এই তথাকথিত নিজে পশুভক্ষক হয়েও, ঋতুভিত্তিক পশুপ্রেমীগণ শীতনিদ্রা ত্যাগ করে জেগে উঠেন। পেটের পাকস্থলীতে হজমের অপেক্ষায় পশুমাংস নিয়ে তারা সক্রিয়ভাবে শাস্ত্রীয় পশুবলির বিরুদ্ধে লেখালেখি, প্রচারণা শুরু করে দেন। কিছু সস্তা বালখিল্য যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন, সনাতন ধর্মে পশুবলি অধর্মাচরণ এবং অশাস্ত্রীয়। কিন্তু বিষয়টি তা নয়; বরং সম্পূর্ণ উল্টো। অবশ্য বৈষ্ণব সম্প্রদায় এই ঋতুভিত্তিক পশুপ্রেমীগণের পর্যায়ভুক্ত নয়। তাদের উদ্দেশ্য মহৎ তারা তাদের সাধন জীবনে অগ্রসর হতে সর্বদা উদ্ভিজ্জ আমিষ ভোজন করেন।এতে তাদের শরীর ও মস্তিষ্ক শান্ত হয়ে দৈবীপথে ঊর্ধ্বগামী হয়।

পশুবলি সনাতন ধর্মে অশাস্ত্রীয় নয়। প্রায় সকল শাস্ত্রগ্রন্থেই পশুবলির নির্দেশনা রয়েছে।শাক্ত সম্প্রদায়ের বেদের পরে প্রধান গ্রন্থ শ্রীচণ্ডী। এ শ্রীচণ্ডীতে একাধিক স্থানে বলি প্রদানের কথা রয়েছে। পূজায় পশুবলি প্রদানের নির্দেশনা দেবী স্বয়ং নিজমুখেই দিয়েছেন :

বলিপ্রদানে পূজয়ামগ্নিকার্যে মহোৎসবে।
সর্বং মমৈতচ্চরিতমুচ্চার্যং শ্রাব্যমেব চ।।
জানতাজানতা বাপি বলিপূজাং তথা কৃতম্ । প্রতীচ্ছিষ্যাম্যহং প্রীত্যা বহ্নিহোমং তথা কৃতম্ ॥
(শ্রীচণ্ডী:১২.১০-১১)

"বলিদানে, দেবতার পূজায়, যজ্ঞ ও হোমাদিতে এবং মহোৎসবে আমার এই মাহাত্ম্য সম্পূর্ণরূপে পাঠ ও শ্রবণ করা কর্তব্য।
আমার মাহাত্ম্যপাঠের পর বিধিজ্ঞানপূর্বক বা অজ্ঞানপূর্বক অনুষ্ঠিত বলিদানসহকারে পূজা এবং আমার উদ্দেশে অনুষ্ঠিত হোমাদি আমি প্রীতিপূর্বক গ্রহণ করি।"

কালিকাপুরাণে বলিদান দ্বারা সর্বদা দেবী চণ্ডীকাকে সন্তুষ্ট করতে বলা হয়েছে:

বলিদানং ততঃ পশ্চাৎ কুর্যাদ্দেব্যাঃ প্রমোদকম্। মোদকৈর্গজবক্ত্রঞ্চ হবিষা তোষয়েদ্রবিম্।।
তৌর্যত্রিকৈশ্চ নিয়মৈঃ শঙ্করং তোষয়েদ্ধরিম্।
চণ্ডিকাং বলিদানেন তোষয়েৎ সাধকঃ সদা।।
(কালিকাপুরাণ:৫৫.১-২)

"এরপরে দেবীর প্রমোদজনক বলি প্রদান করবে। কেননা, শাস্ত্রে উক্ত হয়েছে সাধক, মোদক দ্বারা গণপতিকে, ঘৃতদ্বারা হরিকে, নিয়মিত গীত বাদ্যদ্বারা শঙ্করকে এবং বলিদান দ্বারা চণ্ডিকাকে সর্বদা সন্তুষ্ট করবে।"

যজ্ঞাদি কর্মে পশুবধজনিত পাপ হয় না। বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব রচিত বেদান্তসূত্রেও বলা হয়েছে:

অশুদ্ধমিতি চেৎ, ন, শব্দাৎ ॥
(ব্রহ্মসূত্র:৩.১.২৫)

"যদি এইরূপ বলা হয় যে, যজ্ঞাদিতে পশু ইত্যাদি বলি হয় বলে উহা পাপ।কিন্তু তা নয় — কারণ এর শাস্ত্রীয় প্রমাণ রয়েছে।"

শ্রুতিতে পশুবধের বিধান আছে— এবং এই কর্মের শুধুমাত্র পুণ্য ফলই হবে বলা আছে। বেদান্তসূত্রের এ সূত্রটির মাধ্যমে পূর্বসূত্রে উপস্থাপিত যজ্ঞে পশুবলি বিরোধীদের সকল আপত্তিটির খণ্ডন করা হয়েছে। আপত্তিটি ছিল যে, জীব যজ্ঞাদিতে পশু হননাদি দুষ্কর্মে পাপে লিপ্ত হয়ে বৃক্ষগুল্মাদি জন্ম প্রাপ্ত হয়। এই আপত্তিকে খণ্ডন করে বেদান্তসূত্রকার ব্যাসদেব বলেন, যজ্ঞে পশুহননাদি দ্বারা যজ্ঞকর্তার কোন পাপ বা অশুভ কর্মফলের সৃষ্টি হয় না— কারণ এটি শাস্ত্রানুমোদিত।

মহাভারতে বিবিধ স্থানেই পশুবলির প্রসঙ্গে বলা হয়েছে। ভীষ্মপর্বে অন্তর্গত শ্রীমদ্ভগবদগীতায় পূর্বে যে 'দুর্গাস্তব' রয়েছে, সে পবিত্র স্তোত্রের মধ্যেও অর্জুন দেবীকে "সর্বদা মহিষরক্তপ্রিয়ে!" বলে সম্বোধন করেছেন। কৌরবপক্ষীয় দুর্য্যোধনের সৈন্য যুদ্ধের জন্য উপস্থিত হয়েছে দেখে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তাঁর যুদ্ধজয়সহ কল্যাণের জন্য বললেন। হে মহাবাহু অর্জুন, তুমি পবিত্রচিত্ত হয়ে যুদ্ধের অভিমুখে থেকে শত্রুগণের পরাজয়ের জন্য 'দুর্গাস্তব' পাঠ কর। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশে অর্জুন রথ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে কৃতাঞ্জলি হয়ে দুর্গাস্তব পাঠ করেন।

মহিষাসৃক্ প্ৰিয়ে নিত্যং কৌশিকি পীতবাসিনি ।৷ ৷
অট্টহাসে কাকমুখি নমস্তেঽস্তু রণপ্ৰিয়ে।।
(মহাভারত: ভীষ্মপর্ব, ২৩.৮)

"সর্বদা মহিষরক্তপ্রিয়ে! কৌশিকি! পীতবসনে!
অট্টহাসে! কাকবদনে! রণপ্রিয়ে! তোমায় নমস্কার।।"

মানববৎসলা দুর্গা অর্জুনের ভক্তি এবং স্তোত্রে সন্তুষ্ট হয়ে শ্রীকৃষ্ণের সম্মুখে আকাশে আবির্ভূত হলেন। দেবী দুৰ্গা বললেন— "হে দুৰ্দ্ধৰ্ষ পাণ্ডুনন্দন ! তুমি অল্পকালের মধ্যেই সকল শত্রুগণকে জয় করবে। কারণ, স্বয়ং নারায়ণ তোমার সহায় এবং তুমিও মহর্ষি নরের অবতার; সুতরাং তুমি শত্রুগণের কেন—স্বয়ং ইন্দ্রেরও অজেয়।"

যুদ্ধজয়ের বরদান করে দেবী অন্তর্হিত হলেন। অর্জুনও দেবীকর্তৃক বর লাভ করে ধর্মযুদ্ধে জয়লাভের নিশ্চয়তা পেলেন। এরপরে অর্জুন নিজের উত্তম রথে আরোহণ করে রথের সারথি শ্রীকৃষ্ণসহ দিব্য শঙ্খধ্বনি করলেন।

দেবীপুরাণের বিভিন্ন স্থানে পশুবলির প্রসঙ্গ পাওয়া যায়। দেবতারা বলি দিয়ে দেবীর পূজা করেছেন, সন্তুষ্ট করেছেন।

বরঞ্চ সর্বলোকানাং প্রপদৌ ভয়নাশিনী।।
বলিঞ্চ দদ্যুর্ভূতানাং মহিষাজামিষেণ চ।।
( দেবীপুরাণ: ২১.৪-৫)

"সেই ভয়নাশিনী দেবী সকল লোককেই অভয় প্রদান করলেন। ভূতগণ মধ্যে মহিষ, ছাগ ইত্যাদি বলি দেবীকে প্রদান করলেন।"

দেবীপুরাণে পশুবলি প্রসঙ্গে প্রজাপতি ব্রহ্মা বললেন:

জলদান্তে আশ্বিনে মাসি মহিষারিনিবর্হিণীম্‌ ।
দেবী সম্পূজয়িত্বা তু অষ্টমী হ্যর্দ্ধরাত্রিষু ।
যে ঘাতয়ন্তি সদা ভক্ত্যা তে ভবন্তি মহাবলাঃ ।।
( দেবীপুরাণ:২১.৯)

"বর্ষা প্রভাতে আশ্বিন মাসে অষ্টমী অর্ধরাতে দেবীকে নিষ্ঠার সাথে পূজা করে যারা মহিষ, ছাগ বলি প্রদান করেন, জগতে তাঁরা মহাবলশালী হয়ে থাকেন।"

দেবী দুর্বলদের পূজা কখনোই গ্রহণ করেন না। অনেক দুর্বলচিত্ত অহিংসার নামে নিজের নপুংসকতা এবং দুর্বলতাকে আচ্ছাদিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু দেবীর শরণে থাকলে মনুষ্যের কোন ভয় নেই। দেবী তাঁর আশ্রিত ভক্তের সর্বপ্রকার ভয় হরণ করে নেন।

পদ্মস্থা চর্চ্চিকা রৌপ্যা ধর্মকামার্থমোক্ষদা ।
প্রেতস্থা সর্ব্বভয়হা নিত্যং পশুনিপাতনাৎ ।।
( দেবীপুরাণ:২৩.১৬)

"কমলাসনা দেবীমূর্তি আরোগ্য, ধর্ম, কাম, অর্থ ও মুক্তি প্রদান করেন। প্রেতাসনা দেবী পশুবলি গ্রহণ করে নিত্য সর্ববিধ ভয় হরণ করেন।"

প্রেতাসনা বলতে প্রেত বা শবের ওপর অধিষ্ঠিতা দেবী বোঝানো হয়েছে। কালী, তারা, চামুণ্ডা সবাই শবাসনা। দেবীকে পূজা করলে দেবী নিজেই চতুর্বিধ ফল দেন।শুভনিশুম্ভ বধ করেছেন যে কৃষ্ণবর্ণা হস্তে মুণ্ড এবং ত্রিশুলধারিণী কৌশিকীদেবী (কালী) বলি মাংসে অত্যন্ত তৃপ্তা হন।

বলিমাংসৌদনাহারাং কৃষ্ণগন্ধস্রজপ্রিয়াম্‌ ।
তুরুস্কাগুরুহোমেন বিকারিভয়নাশিনীম্‌ ।।
( দেবীপুরাণ: ৫০.৩৮)

"বলি, মাংস, অন্ন, নৈবদ্য এই দেবীর খুব প্রিয় । এই দেবীকে কৃষ্ণবর্ণ চন্দন , মালা দিতে হয় । তুরুস্ক , অগুরু ইত্যাদি দ্বারা হোম করলে দেবী সর্বভয় নাশ করেন । "

দেবী রক্তমালা ও রক্তবস্ত্র ধারণ করেন। বিধিভাবে পূজা করলে এই দেবী সর্বসিদ্ধি প্রদান করেন ।দেবীপুরাণে কার্ত্তিক মাসের চতুর্দশী ও অমাবস্যা তিথিতে পশুবলি দিয়ে দেবীর পূজা বিধান রয়েছে:

তুলাস্থে দীপদানেন পূজা কার্য্যা মহাত্মনা ।
দীপবৃক্ষাঃ প্রকর্তব্যা দীপচক্রাস্তথাপরা ।।
দীপযাত্রা প্রকর্তব্যা চতুর্দ্দশ্যাং কুহূষ চ ।
সিনীবালীস্তথা বৎস তদা কার্য্যং মহাফলম্‌ ।
সর্বশেষে প্রকর্তব্যা বলিপূজাহোমোৎসবম্‌ ।
নৈরাজনং প্রকর্তব্য নৃনাগতুরগাদিষু।
কার্তিক্যাং কারয়েৎ পূজা যাগং দেবীপ্রিয়ং সদা।।
( দেবীপুরাণ: ৫৯.২৩-২৬)

"কার্ত্তিক মাসে দীপমালা দান করে পূজা করবে। ঐ মাসের চতুর্দশী এবং অমাবস্যার দিন দীপমালা, দীপচক্র ও দীপবৃক্ষাদি নির্মাণ করবে। ঐ দিবস বলি-পূজা- হোম এবং উৎসবাদি করবে। দেবতাদের অভ্যুত্থান ও মনুষ্য, অশ্ব, হস্তি প্রভৃতির নীরাজন করবে (যুদ্ধযাত্রার পূর্বে অস্ত্রশস্ত্রাদি পরিষ্কারকরণ তথা অর্চনাকরণ)। কার্তিক মাসে দেবীর পূজা এবং দেবীর উদ্দেশ্য যজ্ঞ করবে। যজ্ঞ দেবীর অত্যন্ত প্রিয়।"

দেবীপুরাণেই স্বয়ং ব্রহ্মা বলেছেন- উদর তৃপ্তির জন্য প্রানী হত্যা করে খেলে পাপ। কিন্তু যজ্ঞের উদ্দেশ্যে দেবতাকে উৎসর্গ করে, সেই উৎসর্গিত মাংস গ্রহণ করলে কোন পাপ স্পর্শ করে না।

ব্রহ্মোবাচ-
যজ্ঞার্থে পশবঃ সৃষ্টা যজ্ঞেম্বেষাং বধঃ স্মৃতঃ ।
অন্যত্র ঘাতনাদ্দোষো বাঙ্মনঃকায়কর্ম্মভিঃ ।।
দেবার্থে পিতৃকার্যেষু মনুষ্যর্থে পুরন্দর ।
বধয়ন্‌ ন ভবেদেন অন্যথা মহাকিল্বিষী ।।
নবকৃষরপূপাণি পায়সং মধুসর্পিষী।
বৃথামাংসঞ্চ নাশ্নীয়াদ্দেবপিতৃ অহোমিতম্।।
( দেবীপুরাণ: ৯৭.৩-৫)

"ব্রহ্মা বললেন, হে পুরন্দর ! যজ্ঞের জন্যই পশুর সৃষ্টি । যজ্ঞে তাদের বধ শাস্ত্রে বিহিত রয়েছে । যজ্ঞের কার্য্যে , বাক্য , মন , কায় ও কর্ম ছাড়া বাকী কর্মে পশুঘাত করলে পাপ হয়।
দেবকার্য্যে, পিতৃকার্য্যে ও মনুষ্যকৃত্যে পশুবধ করলে পাপ হয় না। এর বিপরীতে করলে বরং পাপ হয় ।
দেবতা ও পিতৃগণকে নিবেদিন না করে নূতন কৃষর, পিঠা, পায়স, মধু, ঘৃত ও দেবতাকে অনিবেদিত বৃথামাংস ভক্ষণ করবে না।"

পশুবলি প্রসঙ্গে বরাহপুরাণে বলা হয়েছে :

বরাহ উবাচঃ
মার্গমাংসং ভরং ছাগং শাকং সমনুধুজ্যতে ।
এতান্‌ হি প্রাপণে দদ্যান্মম্ম চৈতৎ প্রিয়াবহম্‌ ।।
বুজানো বিততে যজ্ঞে ব্রাহ্মণে বেদপারগে ।
ভাগো মমান্তি তত্রাপি পশূনাং ছাগ্লস্য চ ।।
মহিষং বর্জয়েন্মস্যং ক্ষীরং দধি ঘৃতং ততঃ ।
বর্জ্জয়েত্তত্র মাংসানি যজুষা বৈষ্ণবোহশ্নৃতে ।।
পরং পায়সপি বর্জ্যানি তন্মাংসং চেতক খুরে ।
পক্ষিণাঞ্চ প্রবক্ষ্যামি যে প্রযোজ্যা বসুন্ধরে ।।
যে চৈব মম ক্ষেত্রেষু উপযুজ্যন্তি নিত্যশঃ ।
লাবুকং কার্ত্তিকঞ্চৈব প্রশস্তঞ্চ কপিঞ্জলম্‌ ।।
( বরাহ পুরাণ:১১৯.১১-১৫ )

"মৃগমাংস , ছাগ মাংস ও শসমাংস আমার অতি প্রিয় । সুতরাং এসব আমাকে নিবেদন করে দেবে। বিস্তৃত যজ্ঞে ছাগ ও অনান্য পশু দান করে বেদপারগ ব্রাহ্মণ কে সমর্পণ করলে আমি তাহার অংশভাগী হই।
আমাকে মহিষ মাংস , ক্ষীর, দৈ ও ঘি দান করতে হয়। কোনো কোনো বৈষ্ণবব্রতে মাংস দান করাও নিয়ম। হে বসুন্ধরা ! সম্প্রতি আমাকে যে সকল পাখীর মাংস আমাকে দিতে হয় তা উল্লেখ করছি, শ্রবণ করো।
লাবক, কার্ত্তিক , কাপিঞ্জল ও অনেক প্রকার মাংস আমার কাজে প্রযুক্ত । যে সব দ্রব্য আমার কাজে দান করতে হয় তা বললাম।"

ব্রহ্মবৈবর্ত্তপুরাণের প্রকৃতিখণ্ডসহ বিবিধ স্থানে দেবী দুর্গা, দেবী মনসা, দেবী মঙ্গলচণ্ডীসহ শক্তিপূজায় অত্যাবশকীয় পূজার উপাচার হিসেবে বলি প্রদান করতে বলা হয়েছে। সেখানে ভক্তিপূর্বক নানাপ্রকার নৈবেদ্য, বস্ত্র, অলঙ্কার, মাল্য, পায়স, পিষ্টক, মধু, সুধা, নানাপ্রকার সুপক্ক ফলসহ বিবিধ উপাচারের সাথে ছাগ, মেষ, মহিষ প্রভৃতি পশুবলি দিয়ে মঙ্গলচণ্ডী দেবীর পূজা করা হয়েছে। এবং পশুবলিসহ সকল উপাচারের সাথে সংকীর্তন, বাদ্যাদির মাধ্যমে আনন্দপূর্বক কৃষ্ণনাম কীৰ্ত্তন করার কথাও বর্ণিত হয়েছে।

মহিষেণ বর্ষশতং দশবর্ষঞ্চ ছাগলাৎ ।
বর্ষং মেষেণ কুস্মাণ্ডৈঃ পক্ষিভির্হরিণৈস্তথা ।।
( ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ:প্রকৃতিখণ্ড.৬৪.৯৪)

"দেবী দুর্গা মহিষবলি দিলে শতবর্ষ , ছাগল বলিতে দশ বৎসর , মেষ- কুস্মাণ্ড বলিতে এক বছর প্রসন্না থাকেন।"

পঞ্চম্যাং মনসাখ্যায়াং দেব্যৈ দদ্যাচ্চ যো বলিম্।
ধনবান্ পুত্রবাংশ্চৈব কীর্তিমান্ স ভবেদ্ ধ্রুবম্।।
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ : প্রকৃতি খণ্ড, ৪৬.৯)

"পঞ্চমী তিথিতে দেবী মনসাকে যে ব্যক্তি বলি প্রদান করে, সে ধনবান, কীর্তিমান এবং পুত্রবান হয়।"

পূজয়ামাস তাং শক্তিং দেবীং মঙ্গলচণ্ডিকাম্ ॥ পাদ্যার্ঘ্যাচমনীয়ৈশ্চ বলিভির্বিবিধৈরপি ।
পুষ্প-চন্দন-নৈবেদ্যৈৰ্ভক্ত্যা নানাবিধধৈর্ম্মুনে ॥ ছাগৈৰ্ম্মেষৈশ্চ মহিষৈর্গণ্ডৈৰ্মায়াতিভিস্তথা ।
বস্ত্রালঙ্কারমাল্যৈশ্চ পায়সৈঃ পিষ্টকৈরপি ৷৷
মধুভিশ্চ সুধাভিশ্চ পক্বৈনানাবিধৈঃ ফলৈঃ । সঙ্গীতৈর্নত্তনৈর্বাদ্যেরুৎসবৈঃ কৃষ্ণকীৰ্ত্তনৈঃ ॥
ধ্যাত্বা মধ্যন্দিনোক্তেন ধ্যানেন ভক্তিপূর্বকম্ ।
দদৌ দ্রব্যাণি মূলেন মন্ত্রেণৈব চ নারদ ॥
(ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ: প্রকৃতিখণ্ড, ৪৪.১৫-১৯)

"পাদ্য, অৰ্ঘ্য, আচমনীয়, নানাপ্রকার পূজোপহার, পুষ্প, চন্দন, ভক্তিপূর্বক দত্ত নানাপ্রকার নৈবেদ্য, ছাগ, মেষ, মহিষ প্রভৃতি পশুবলিসহ; বস্ত্র, অলঙ্কার, মাল্য, পায়স, পিষ্টক, মধু, সুধা, নানাপ্রকার সুপক্ক ফল, সংকীর্তন, বাদ্য, আনন্দপূর্বক কৃষ্ণনাম কীৰ্ত্তন প্রভৃতি দ্বারা মঙ্গলচণ্ডী দেবীর পূজা করেছিলেন। যজুর্বেদীয় মধ্যন্দিনোক্ত মন্ত্রদ্বারা ভক্তিপূর্বক ধ্যান করেছিলেন এবং দেবীর মূলমন্ত্র উচ্চারণ পূর্বক দেবীর উদ্দেশ্যে দ্রব্যাদি প্রদান করেছিলেন।"

জয় ত্বং কামভূতেশ সর্ব্বভূতসমাবৃতে ।
রক্ষ মাং নিজভূতেভ্যো বলিং গৃহ্ন নমোঽস্তু তে ।।
( গরুড় পুরাণ:পূর্ব খণ্ড, ৩৮.১৮ )

"ওঁ জয় ত্বং কামভূতেশে – ইত্যাদি মন্ত্রে সিংহবাহিনী মহিষমর্দিনী দেবীকে বলিপ্রদানপূর্বক পূজা সমাপন করবে।"

বৃহর্দ্ধমপুরাণের পূর্বখণ্ডে মহাষ্টমীতে উপবাস অবলম্বন করে এবং নবমীতে বলিদান দ্বারা মহাভক্তিসহকারে দেবীর দুর্গার পূজা করতে দেবী স্বয়ং আদেশ করেছেন। ঐ দুইদিন কোটীযোগিনীরও পূজা অবশ্য কর্তব্য। অষ্টমী নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজার গুরুত্ব অপরিসীম।

সপ্তম্যাং গৃহমানীয় পূজয়েন্মাং দিনদ্বয়ম্।
নানাবিধৈশ্চ বলিভিঃ পূজাজাগরণাদিভিঃ।।
অষ্টম্যামুপবাসেন নবম্যা বলিদানতঃ।
অর্চ্চয়েন্মাৎ মহাভক্ত্যা যোগিনীশ্চাপি কোটিশঃ ॥ অষ্টমীনবমীসন্ধিকালোঽয়ং বৎসরাত্মকঃ।
তত্রৈব নবমীভাগঃ কালঃ কল্পাত্মকো মম ॥
(বৃহর্দ্ধমপুরাণ: পূর্বখণ্ড,২২.২৭-২৯)

"সপ্তমিতে গৃহে এসে পূজা করবে। এরপরে দুইদিন নানাবিধ বলি, পূজা, ও জাগরণাদি দ্বারা আমার পূজা করবে। মহাষ্টমীতে উপবাস অবলম্বন করবে এবং নবমীতে বলিদান দ্বারা মহাভক্তিসহকারে আমার পূজা করবে। ঐ দুইদিন কোটীযোগিনীরও পূজা অবশ্য কর্তব্য। অষ্টমী নবমীর সন্ধিক্ষণে আমার পূজার বৎসর তুল্য কাল। এরমধ্যে আবার নবমীক্ষণ কল্পস্বরূপ কাল।অর্থাৎ অষ্টমীক্ষণে একবার পূজা করলে দেবীর বৎসরব্যাপী পূজার ফল লাভ হয়। নবমীক্ষণে পূজা করলে কল্পব্যাপী পূজার ফল লাভ হয়।"

দেবীভাগবতের নবমস্কন্ধে বলা হয়েছে, দেবী মনসাকে যে ব্যক্তি বলি প্রদান করে, সে ধনবান, কীর্তিমান এবং পুত্রবান হয়। তাই সর্বদা নিষ্ঠার সাথে বলিদান করে দেবীকে পূজা করে সন্তুষ্ট করা প্রয়োজন।

নত্বা ষোড়শোপচারং বলিঞ্চ তৎপ্রিয়ং তদা।
প্রদদৌ পরিতুষ্টশ্চ ব্রহ্মাবিষ্ণুশিবাজ্ঞয়া।।
(দেবীভাগবত: নবমস্কন্ধ, ৪৮.১১৪)

"দেবরাজ ইন্দ্র ভক্তিযুক্ত শুদ্ধ হৃদয়ে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শিবের আজ্ঞায় বলিসহ ষোড়শ উপচারে মনসাদেবীর পূজা করলেন।"

মনুসংহিতাতেও শ্রীরূপা লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে ‘শ্রিয়ৈ নমঃ’ মন্ত্রোচ্চারণ পূর্বক এবং ‘ভদ্রকাল্যৈ নমঃ' মন্ত্রোচ্চারণপূর্বক ভদ্রকালীর উদ্দেশ্যে বলি প্রদানের বিধি পাওয়া যায়।

উচ্ছীর্ষকে শ্রিয়ৈ কুর্য্যাদ্ভদ্রকাল্যৈ চ পাদতঃ। ব্রহ্মবাস্তোষ্পতিভ্যাক্ত বাস্তুমধ্যে বলিং হরেৎ।।
(মনুসংহিতা:৩.৮৯)

"উচ্ছীর্ষক অর্থাৎ প্রসিদ্ধ দেবগৃহের শীর্ষস্থানে বা গৃহস্থের শয়নগৃহের ঊর্দ্ধভাগে উত্তর বা পূর্বদিকে লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে ‘শ্রিয়ৈ নমঃ’ মন্ত্রোচ্চারণ পূর্বক বলি প্রদান করবে এবং ভদ্রকালীর উদ্দেশ্যে ‘ভদ্রকাল্যৈ নমঃ' মন্ত্রোচ্চারণপূর্বক বলি প্রদান করবে। গৃহমধ্যে ব্রহ্মার উদ্দেশ্যে ‘ব্রহ্মণে নমঃ’ ও বাস্তুদেবতার উদ্দেশ্যে ‘বাস্তোষ্পতয়ে নমঃ' মন্ত্রোচ্চারণ করে বলি প্রদান করবে।"

দেবী কালীর উদ্দেশ্যে পাঠাবলি প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি স্মর্তব্য। তিনি বলেছেন, মা কালী চিরকাল ভক্তের সমর্পিত পাঠাবলি গ্রহণ করেছেন, যখন এই সৃষ্টি যতদিন থাকবে এর কোন ব্যত্যয় হবে না। তিনি এই দেশীর মূলধারার ধর্ম ও সংস্কৃতির বিরোধিতাকারী বিধর্মীদের চিন্তা এবং সংস্কৃতির অনুসারী নব্যপন্থীদের উপরে ব্যাপকভাবে বিরক্ত ছিলেন। তাই স্বামী বিবেকানন্দ তাদের উদ্দেশ্যে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি এদেশীয় পরম্পরাগত সংস্কৃতি পছন্দ না হয়, তবে সরে পড়তে। এ প্রসঙ্গে তিনি সুর চড়া করে আরও বলেন, দু-চারজনের জন্য দেশসুদ্ধ লোককে হাড়-জ্বালাতন সহ্য করা কখনোই সম্ভব নয়। যাদের এদেশীয় মূলধারা সংস্কৃতি পছন্দ না হয়; তারা চড়ে অন্যত্র চলে যেতে পারে, তাদের জন্য সমগ্র পৃথিবী পড়ে রয়েছে। কিন্তু তা নয়, তাদের অন্যত্র যাওয়ারও মুরদ নেই আবার ; আবার এদেশে বসে এদেশের পরম্পরায়গত ধর্ম সংস্কৃতিরই দিবারাত্রি বিরোধিতা করবে।

"এদেশে সেই বুড়ো শিব বসে আছেন, মা কালী পাঁঠা খাচ্ছেন, আর বংশীধারী বাঁশী বাজাচ্ছেন। ঐ বুড়ো শিব ষাঁড় চড়ে ভারতবর্ষ থেকে একদিকে সুমাত্রা, বোর্নিও, সেলিবিস, মায়, অস্ট্রেলিয়া আমেরিকার কিনারা পর্যন্ত ডমরু বাজিয়ে এককালে বেড়িয়েছেন, আর একদিকে তিব্বত, চীন, জাপান, সাইবেরিয়া পর্যন্ত বুড়ো শিব ষাঁড় চরিয়েছেন, এখনও চরাচ্ছেন; ঐ যে মা কালী - উনি চীন জাপান পর্যন্ত পূজা খাচ্ছেন, ওঁকেই যীশুর মা মেরী করে ক্রিশ্চানরা পূজা করছে। ঐ যে হিমালয় পাহাড় দেখছ, ওরই উত্তরে কৈলাশ, সেথা বুড়া শিবের প্রধান আড্ডা। ও কৈলাশ দশমুণ্ড-কুড়িহাত রাবণ নাড়াতে পারেননি, ও কি এখন পাদ্রী-ফাদ্রীর কর্ম! ঐ বুড়ো শিব ডমরু বাজাবেন, মা কালী পাঁঠা খাবেন, আর কৃষ্ণ বাঁশী বাজাবেন—এ দেশে চিরকাল। যদি না পছন্দ হয়, সরে পড় না কেন? তোমাদের দু-চারজনের জন্য দেশসুদ্ধ লোককে হাড়-জ্বালাতন হতে হবে বুঝি ? চড়ে খাওগে না কেন? এত বড় দুনিয়াটা পড়ে তো রয়েছে। তা নয়। মুরদ কোথায়? ঐ বুড়ো শিবের অন্ন খাবেন, আর নিমকহারামী করবেন, যীশুর জয় গাইবেন—আ মরি!"
(বাণী ও রচনা (ষষ্ঠ খণ্ড) ২০১৫: ১১৮- ১১৯)

জগজ্জননীরূপে যিনি সকল জীবকে সৃষ্টি করেন, সেই তিনিই জীবের অন্তিমকালে মহাকালীরূপে জীবকে গ্রাস করেন। তিনিই সৃষ্টি করেন, তিনিই লয় করেন। এ শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কেউ যদি প্রশ্ন করে যে, তিনি জীবকে সৃষ্টি করেছেন তিনি কি করে নিজের সৃষ্ট সন্তান বা জীবকে অন্তকালে গ্রাস করেন- তবে তা জ্ঞানহীন অজ্ঞানতা ছাড়া আর কিছুই নয়। সৃষ্টি, স্থিতি, লয় বা জন্ম, জীবনধারা এবং বিনাশের অধিশ্বরী তিনি। তিনিই ব্রহ্মাণী শক্তরূপে ভগবান ব্রহ্মাকে সৃষ্টিতে শক্তি প্রদান করেন। তিনিই বৈষ্ণবী শক্তি রূপে ভগবান বিষ্ণুকে সক্রিয় করেন। এবং তিনিই মাহেশ্বরী বা কালিকা শক্তি রূপে ভগবান মহেশ্বরকে বিনাশে সামর্থ্য প্রদান করেন। সর্বত্র সেই এক মহাশক্তিরই খেলা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডব্যাপী, বহু কেবল জ্ঞানের সীমাবদ্ধতায়।সেই এক ও অদ্বিতীয় মহাশক্তিই বিবিধরূপে জগতে বিবিধ কার্য করে চলছেন, কখনো তিনি ব্রহ্মাণীরূপে জগতকে প্রসব করেন; আবার মহাকালীরূপে জগতকে গ্রাস করেন। এ প্রসব এবং গ্রাস করে লয় করে দেয়া দুটিই তাঁর মায়ার খেলা। যে মায়ার জাল ভেদ করা করা অসম্ভব, তাইতো তাঁর নাম 'মহামায়া'।

তথ্য সহায়তা:
১. স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা (ষষ্ঠ খণ্ড), উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা: সেপ্টেম্বর ২০১৫

✍️ ড. কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী

#দশমহাবিদ্যা

🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

Address

চুঁচুড়া, হুগলী
Chinsurah
712103

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when দশমহাবিদ্যা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category