26/01/2026
সরস্বতী পূজার সময় দেশের বিভিন্ন শহরের রাস্তায় অত্যন্ত উচ্চশব্দে অশ্লীল ডিজে গান বাজিয়ে একদল কাণ্ডজ্ঞানহীন হিন্দুর শোভাযাত্রা আমাদের সবার নজরে এসেছে। পূজার দিনেও উচ্চশব্দে গান বাজানোর বিষয়টি নতুন করে বলার কিছু নেই। বর্তমান সময়ে দেশে যখন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, তখন এই হিন্দুকুল শিরোমণিদের এমন আচরণ দেখে মনে হতে পারে হিন্দুরা যেন খুব সুখে আছে এবং তাদের কোনো দুঃখ বা সংকট নেই।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২০০ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং ৪০০০ এর বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দুদের ওপর হামলা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিষয়গুলো আমাদের সবার জানা। এমনকি কিছুদিন আগে সরকার নিজেও হিন্দুদের ওপর হওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছে।
কিন্তু এসব ঘটনায় এই ডিজেপ্রেমী হিন্দুদের কিছুই আসে যায় না, তারা দিব্যি সুখে ভাসছে। ভাবা যায়, সুখের মাত্রা কতটা চরম পর্যায়ে পৌঁছালে নির্লজ্জের মতো রাজপথেও উচ্চৈঃশব্দে সাউন্ড বক্সে ডিজে বাজিয়ে নেচে গেয়ে শোভাযাত্রা করা সম্ভব!
এসব গান কতটা রাজসিক বা তামসিক, তা নিয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। আজকের আলোচনার বিষয়ও সেটি নয়। দেশে হিন্দুসমাজের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন থাকার পরও এ ধরনের নির্লজ্জ আয়োজনকে আমরা কেবল মেরুদণ্ডহীনতা বলেই অভিহিত করতে পারি। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, নিজেদের হিন্দু জাতি ও সমাজের প্রতি কোনো মমতা, ভালোবাসা এবং কর্তব্যবোধ এই হিন্দুদের নেই। হিন্দুরা নির্যাতিত হোক, হিন্দুর বাড়িতে আগুন জ্বলুক, তাতে তাদের উল্লাস কখনোই থামবে না।
দেশীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও জানে এই মূর্খ হিন্দুদের কীভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। হিন্দু নির্যাতনের খবর প্রচার না করলেও এসব ঘটনা নিয়ে সবাই সংবাদ প্রকাশ করছে। করবেই না বা কেন? মুরগি যখন নিজেই শেয়ালের শিকার হতে এগিয়ে আসে, শেয়াল কি তখন আর পিছপা হয়?
এবার আসুন অন্য একটি চিত্র দেখি। গত বছর পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের ওপর চলমান নির্যাতনের প্রতিবাদে রাঙ্গামাটির বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তাদের রাষ্ট্রীয় চীবরদান অনুষ্ঠান বর্জন করেছিলেন। পাহাড়ে আদিবাসীরা ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, কারণ তাদের নিজের জাতির প্রতি সহমর্মিতা আছে এবং তাদের মেরুদণ্ড শক্ত। এ ধরনের নির্লজ্জ আচরণ তারা করে না।
হিন্দুরা এ ধরনের নির্লজ্জতায় লিপ্ত হয় বলেই আজ তারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হচ্ছে এবং জনসংখ্যাও ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এভাবেই চলতে থাকবে এবং একদিন এদেশ থেকে হিন্দুরা পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যাবে। ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে যে, বাংলাদেশে একদা এক চরম নির্লজ্জ ও আত্মঘাতী হিন্দুজাতি ছিল, যারা বিলুপ্ত হওয়ার সময়েও নেচে গেয়ে ফূর্তি করতে করতে শেষ হয়ে গিয়েছিল।