21/12/2025
ওঁম শ্রীগুরু যোগানন্দ নমঃ
" মরনং বিন্দু পাতেন জীবনং বিন্দু ধারণাং "
যোগশাস্ত্র হইতে এই ঋষিবাক্য দর্শন এবং পঠনে তাঁর হৃদয় এক সুগভীর আলোড়ন সৃষ্টি হয়. বিন্দুর পতনে মরণ , ধরণে জীবন. মরা দেহে কি সাধন ভজন হবে না ? সংসারী জীব তো কারণে অকারণে প্রতিনিয়ত মরণের মুখে চলে যাচ্ছে তাহলে তাদের মুক্তির উপায় কি ? মানব জনম নাকি দুর্লব জনম এই জনম কি তাহলে ব্যর্থতা পর্যবসিত হবে ?
শ্রী শ্রী বাবা বেদ, বেদান্ত, রামাযান, মহাভারত, উপনিষদ, শ্রীমদ্ভগবতগীতা, প্রভৃতি ধৰ্ম গ্রন্থপাঠে মনোনিবেশ করেন. ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে যোগদান করেন. ধর্মীয় ব্যক্তিদের মুখে ধৰ্ম কথা শ্রবণ করেন. কিন্তু কোথাও তিনি পরিতৃপ্তি লাভ করতে পারছেন না. তাঁর মনের ক্ষুধা মিটছে না .
শ্রী শ্রী বাবা যোগানন্দ তীর্থস্থান ভ্রমণ করতে লাগিলেন প্রথমে পূর্ব ভারত এর তীর্থ নবদ্বীপ ধাম , বুদ্ধ গয়া বিহার আসেন, কিসে মানুষ সাধু হইতে পারে তাঁর অনুসন্ধানে , তারপর শ্রী শ্রী বাবা উত্তর ভারত যাত্রা করেন আসেন বাবা বিশ্বনাথ এর তৈরী শহর কাশি ওখান হইতে মথুরা , বৃন্দাবন তারপর
দেবভূমি উত্তরাখণ্ড হরিদ্বার তাঁর এই ভ্রমণে বহু সাধু মহাপুরুষদের সংঘ হয় কিন্তু তাঁর উত্তর সে খুঁজে পাচ্ছিলো না সাধু হইতে হইলে আগে বীর্যধারন করিতে হইবে. আমি স্ত্রী সঙ্গী. কোনো যায়গায় ইহার আদর্শ খুঁজে পাইলেন না. তাই স্ত্রী সঙ্গে কি প্রকারের ব্রহ্মচর্য রখ্যা হয় এই ভাবিয়া কাঁদিতে লাগিলেন . হরিদ্বারে এক হিন্দি বলা সাধু শ্রী শ্রী বাবা যোগানন্দ কে " বৃন্দাবনবালা " বলে আখ্যা দেন. ফিরে আসেন বৃন্দাবন এর ব্রহ্মকুন্ডে তিন দিন নাওয়া খাওয়া ছেড়ে প্রায় পাগল অবস্থায় ধ্যানেস্তা হন এবং সম্যক জ্ঞান উপলব্ধি হয় (Divine Message). ফরিদপুরে ফিরিয়া আসেন এবং দয়া করিয়া গুরুশক্তি মায়ের ভিতর দিয়া কৃপা করিয়া এই সাধনতত্ত্ব শিখ্যা দেন .
শ্রী শ্রী বাবা যোগানন্দ বৃন্দাবন থেকে ফরিদপুর ফিরিয়া পঞ্চবটি বনে একটি সাধন কক্ষ তৈরী করতে বলেন তাঁর কথামতো একটি কক্ষ তৈরী করা হয়, সেই কক্ষে শ্রী শ্রী মা ব্রজেশ্বরী বাবা যোগানন্দ দীর্ঘ বারো বছর অবস্থান করেন. যোগসাধনায় লিপ্ত হন . শুরু হয় যুগল ভজন মার্গ. কখন রজনী প্রভাত হয় কখন বেলা উঠে গাছে কিছু টের পান না. অহোরাত্রি উপবাস . ত্রিরাত্রি , নবরাত্রি, পক্ষাহ. সিদ্ধি লাভ করলেন.
শ্রী শ্রী মা ব্রজেশ্বরী বাবার হাতে গেরুয়া বসন তুলিয়া দিলেন এবং প্রণাম করিলেন. পক্ষ্যান্তরে শ্রী শ্রী বাবা যোগানন্দ মায়ের হাতে গেরুয়া বসন তুলিয়া দিলেন তাঁর পদধূলি মস্তকে তুলে নিলেন ও তাকে ' গোসাই ' বলে সম্বোধন করলেন.