04/05/2023
*আজ ভগবান্ শ্রীশ্রীনৃসিংহদেবের আবির্ভাব- শ্রীনৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত উপবাস।*
*আগামীকাল শ্রীনৃসিংহ চতুর্দশী ব্রতোপবাসের পারণ--*
*সূর্য উদয় সকাল 05/07 হইতে সকাল 09/25 মধ্যে।*
# # # # # # # # # # # # # # # # # # #
ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের প্রাদুর্ভাব, ভক্তকে রক্ষা ও দুষ্কৃত- অসুর- অসাধুগণকে বিনাশ করিবার জন্য ভগবান্ শ্রীহরি যুগে যুগে আবির্ভূত হন। ভগবান্ শ্রীনৃসিংহদেবের আবির্ভাবের কারণ,----------
অসুররাজ হিরণ্যকশিপু অমর,অজেয়, প্রতিপক্ষহীন অধিপতি হইবার জন্য মন্দরাচল পর্বতের গুহায় ব্রহ্মার তপস্যা করিয়াছিলেন। অসুরাজের কঠোর তপস্যায় সন্তুষ্ট হইয়া ব্রহ্মা তাঁহাকে বর প্রার্থনা করিতে বলিলে, হিরণ্যকশিপু বলিয়াছিলেন,- বর্তমান ও ভবিষ্যতে আপনার সৃষ্ট কোন প্রাণী হইতে, দিনে বা রাতে, মাটিতে বা উপরে, কোন অস্ত্রের দ্বারা আমার মৃত্যু হইবে না। সকল প্রাণী এবং লোকপালগণের উপর আধিপত্য, অনিমাদি ঐশ্বর্য লাভের বর প্রার্থনা করিয়াছিলেন। ব্রহ্মা হিরণ্যকশিপুরের প্রার্থনা অর্থাৎ বরগুলি প্রদান করিয়া স্বস্থানে চলিয়া গেলেন। এখানে ব্রহ্মার বাক্য সত্য রক্ষার্থে, শ্রীভগবান্ শ্রীনৃসিংহ রূপ ধারণ করিয়া আবির্ভূত হইয়াছিলেন।
হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদকে অসুর গুরু শুক্রাচার্যের ষন্ড (ষাঁড়) এবং অমর্ক (বানর) নামক দুই পুত্রের নিকট দণ্ডনীতি প্রভৃতি শাস্ত্র পড়িবার জন্য পাঠাইয়াছিলেন। কিছুদিন পরে প্রহ্লাদকে গুরুগৃহে কি পড়িয়াছ? জিজ্ঞাসা করিলে, প্রহ্লাদ বলিয়াছিলেন,- জাগতিক ভোগবাসনা ত্যাগ করিয়া শ্রীহরি ভজন করাই মনুষ্য জীবনের একমাত্র কর্তব্য। শ্রীবিষ্ণুর নাম- রূপ- গুণ- পরিকরলীলা- শ্রবণ, কীর্তন, স্মরণ, বন্দন, পাদ সেবন, পূজন, দাস, সখ্য ও আত্মনিবেদন-- এই নয়টি ভক্তির লক্ষণ। ইহাদের মধ্যে কোন একটিও যদি পালন করা যায়, তাহা হইলে তাহা ভক্তি হইবে, আমি ইহাই বুঝিয়াছি। ভগবৎ বিদ্বেষী হিরণ্যকশিপু এইরূপ কথা শুনিয়া প্রহ্লাদকে বধ করিবার জন্য অনেক চেষ্টা করিয়াছিলেন, কিন্তু 'রাখে হরি মারে কে', তাই প্রহ্লাদকে কোন প্রকারে বধ করিতে পারিলেন না। তখন হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে, তোমার বিষ্ণু কোথায় আছে? জিজ্ঞাসা করিলে, তিনি ভগবানের সর্বশ্রেষ্ঠত্ব এবং সর্বত্র আছেন বলিয়াছিলেন। পুত্রের মুখে এই রূপ শ্রবণ করিয়া হিরণ্যকশিপুর স্তম্ভের মধ্যে আছে? জিজ্ঞাসা করিলে ভক্ত প্রহ্লাদ স্তম্ভের মধ্যে ভগবানের অবস্থান স্বীকার করিলেন। তখন হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ক্রুদ্ধ বা কুপিত হইয়া স্তম্ভে মুষ্ট্যাঘাত করিলে ভক্তের সত্যবাক্য রক্ষার্থে স্তম্ভের মধ্য হইতে ভগবান্ শ্রীনৃসিংহদেব আবির্ভূত হইয়াছিলেন।
সূর্যদেব উদয় ও অস্ত যাওয়াতে জীবের আয়ু হরণ হইতেছে। বৃদ্ধকাল আসিয়া গেলে বিভিন্ন রোগ- জ্বালা -ব্যাধি- পীড়া প্রভৃতি আসিয়া যায়, হরি ভজন হয় না। তাই কুমার কাল হইতে জীবগণের ভগবৎ ভজন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
ভগবান্ শ্রীনৃসিংহদেব হিরণ্যকশিপুরকে বধ করিয়াছিলেন। হিরণ্য শব্দে সুবর্ণ, কশিপু শব্দে সজ্জা অর্থাৎ ভোগের বাসনা সমূহ। এই সকল প্রতিকূল ভাব সমূহকে দূর করিয়া ভগবান্ শ্রীনৃসিংহদেবের কৃপা পাওয়া আমাদের একান্ত প্রয়োজন। তাঁহার কৃপা হইলে জগতের যত বাধা- বিপত্তি আছে, সবই দূর হইয়া যাইবে এবং শান্তি আসিবে।
এখানে ভক্ত প্রহ্লাদ শ্রীহরির সর্বভয়হর চরণ কমলে একান্ত শরণাগত, সর্বস্ব ভগবৎ চরণে সেবারত রহিয়াছেন, শ্রীহরির অভিন্ন স্বরূপ শ্রীহরিনাম তাঁহার জিহ্বায় সর্বদা নিত্য করিতেছেন। তাই তাঁহাকে জাগতিক কোন শক্তি বধ করিতে পারিলেন না। অবশ্য রক্ষিবে কৃষ্ণ, তাঁহার এই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। অতএব তাঁহার আচরিত পথ অনুসরণ করিলে আমাদের মঙ্গল হইবে। তিনি বলিয়াছেন,---
ভগবৎ ভজন করিলে মনুষ্য জীবনের সার্থকতা হয় এবং ইহাই মনুষ্য জীবনের কর্তব্য। কাল বিলম্ব না করিয়া কুমার কাল হইতে আমাদের কৃষ্ণ সেবায় নিযুক্ত হইতে হইবে। স্বয়ং ভগবান্ দেব দৈবাদি সকলের প্রিয় আত্মা, ঈশ্বর ও সুহৃদ। কু-সঙ্গ ত্যাগ করিয়া সকলের তাঁহারই শরণ লওয়া উচিত। তাঁহার প্রীতির জন্য সাধু-গুরু-বৈষ্ণবগণের আনুগত্যে কর্ম অনুষ্ঠান করিতে হইবে। সকল বিদ্যা, সকল কর্ম তাঁহারই সেবায় সার্থক হয়, তা না হলে সকল কর্ম ব্যর্থ হয়।
( মায়াপুর শ্রীচৈতন্য মঠ।
শ্রীধাম মায়াপুর- নবদ্বীপ- নদীয়া- পশ্চিমবঙ্গ।--- হইতে শ্রীভক্তি কুসুম অরণ্য মহারাজ)।