01/11/2024
"শান্তি কি কোন Factory-তে তৈরি হয় নাকি? টাকা-পয়সা দিলে পাওয়া যায়? টাকা-পয়সা, ঘর-বাড়ি, Quality কোন কিছু তোমাকে শান্তি দিতে পারবে না। শান্তি তোমার ভিতরেই রয়েছে......"
জিজ্ঞাসু :— আমরা ভাবি আনন্দে থাকবো কিন্তু পারি না। মাঝে মাঝে এমন বাধা সৃষ্টি হয় —
স্বামী পরমানন্দ :— কিসের বাধা?
জিজ্ঞাসু :— জপ-ধ্যানে —
স্বামী পরমানন্দ :— সেটা আলাদা কথা। আনন্দে যদি বাধা পড়ে তো সেটা বাড়বে। ওটা আনন্দ নয়, সুখ। আনন্দ যদি কেউ ঠিক পায় তাহলে তা কোন অবস্থায় কমবে না। বরং প্রতিকূলতা এলে বাড়বে। যেমন এক হাঁড়ি রস আছে — ধাক্কা মারলে চলকে পড়বে। উপচে পড়বে। ‘রসো বৈঃ সঃ’। যদি কেউ আনন্দ পায়, তাহলে কেউ যদি তাকে গালি দেয় তো সে হাসবে। অভিমান হবে না। এটা পরমহংস অবস্থা। তুমি যেটা বলছো, সেটা সুখ। সুখ তিনরকম আছে — আধিভৌতিক, আধিদৈবিক আর আধ্যাত্মিক। আধিভৌতিক হচ্ছে শরীর দিয়ে যে সুখ অনুভব হয়। যেমন আহার, রমণ, নিদ্রা — এর অনুকূলে সুখ। একে বলছে Pleasure. প্রতিকূলতায় দুঃখ। একে বলছে Misery. আধিদৈবিক সুখ হচ্ছে মানসিক সুখ, একে বলছে Joy. এর প্রতিকূলতায় দুঃখ। একে বলছে Sorrow. আর আধ্যাত্মিক সুখ — Happiness. এর প্রতিকূলে যে দুঃখ তা Un-happiness. সুখে সব সময় Duality আছে। কিন্তু আনন্দ একটাই। আনন্দ কোন ব্যক্তি বা বস্তুনির্ভর নয়। আনন্দ তোমার স্বরূপে। তোমার স্বরূপ হচ্ছে — সচ্চিদানন্দ। আনন্দ তোমার স্বরূপ। শান্তি তোমার স্বভাবে নিহিত আছে। বাইরে থেকে পাওয়া যায় না। শান্তি কি কোন Factory-তে তৈরি হয় নাকি? টাকা-পয়সা দিলে পাওয়া যায়? টাকা-পয়সা, ঘর-বাড়ি, Quality কোন কিছু তোমাকে শান্তি দিতে পারবে না। শান্তি তোমার ভিতরেই রয়েছে। সুতরাং নিজের মধ্যে ডুব দাও। নিজের অন্তরের গভীরে ডুবে যাও ডুবুরির মতো। বাউল তো এটাই বলছে “ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে পরশ পাথর।” এটাই আধ্যাত্মিকতা। মানুষ জ্ঞাতসারে অজ্ঞাতসারে এটাই খুঁজে চলেছে। জানে না, তাই বস্তুর মধ্যে, ব্যক্তির মধ্যে, সবকিছুর মধ্যে খুঁজে বেড়াচ্ছে। গুরু হয়তো Instruction দিতে পারেন কিন্তু তোমাকেই ডুবতে হবে।
উপাসনা, পূজা-পাঠ, সাধনা — এসবের তো একটাই উদ্দেশ্য — আনন্দ পাওয়া। তাছাড়া আর কি? না হলে উপাসনা করবে কেন? সাধনায় আনন্দ পায়, তাই করে। না পেলে করবে না। অনেকে ঘণ্টা নেড়ে নেড়ে পুজো করছে। আমি বলি, ঘণ্টা নেড়ে আনন্দ পাচ্ছিস তো? যদি পাস তাহলে কর। না হলে করিস না। আমাকে অনেকে বলে, আপনি কোনো উপাসনা করেন না? আমি বলি.. কেন? বলে, না এমনি — মনে শান্তি পাওয়া যায় তো! আমি বলি — শান্তির আমার অভাব নেই। প্রশান্ত মহাসাগরের মতো শান্তি আছে। আনন্দও তাই। আমার অভাব নেই।
[‘বাউল বাণী’ থেকে সংগৃহীত]