12/04/2025
বর্তমানে বিয়ে কে কেন্দ্র করে যে পরিমান টাকা খরচ করা হয় আমার কাছে তা অপচয় ই মনে হয়।
দিন দিন তা ভাইরাসের মতো বৃদ্ধি পাচ্ছে। কালার ফেস্ট, প্রি হলুদ, প্রি ওয়েডিং , পোস্ট ওয়েডিং, রিসেপশন, বস্ত্রালংকার, আশীর্বাদ , ফিরানি আরো কত রিচুয়্যাল আছে অঞ্চলভেদে সবগুলো প্রোগামের জন্য ইভেনম্যানেজমেন্ট, ফটোগ্রাফি কস্ট , ড্রেস জুয়েলারি , পার্লার সব মিলিয়ে লাখ লাখ টাকার কারবার।
কথা হলো আপনার টাকা আছে আপনি যা খুশি টাকা উড়াবেন। কিন্তু এসবের দেখাদেখি সমাজে বিপদে পড়ে মধ্যবিত্তরা, গরীবরা। কিছু প্রচলিত জেলা ভিত্তিক বাজে নিয়ম আছে তার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা এক নাম্বারে। কত যে তাদের বিয়েতে ফর্দ যা পূরণ করতে করতে মধ্যবিত্ত বাবার সারাজীবনের জমানো অর্থ ঢেলে দিতে হয় , অনেকাংশে ঋণগ্রস্ত হতে হয় বিয়ের নামে সমাজের প্রচলিত গদবাঁধা নিয়মগুলো পালন করতে করতে।
অনেক মেয়েরা স্বাভাবিকভাবে অন্যদের বিয়ের বিভিন্ন সুন্দর ট্রেইলর এর ভিডিও গুলো দেখে স্বপ্ন দেখা শুরু করে তাদেরও বিয়েটা তেমন কিংবা তার থেকেও সেরা হওয়া চাই। তাই আমার বিয়ে নিয়ে এসব অসুস্থ প্রতিযোগিতা আর প্রচলিত গদবাঁধা নিয়মগুলো দেখে মনে হয় এতো টাকা বিয়েতে দুদিনে নষ্ট না করে , প্রয়োজনের অতিরিক্ত সে টাকাগুলো মেয়েকে ডিপোজিট করে দিন। মেয়ের ভবিষ্যতে কাজে লাগবে টাকা টা।
বিয়ে জীবনে একবার ই হয় তাই সেই দিনটা স্পেশাল করে তুলুন সাধ্যের মধ্যে। আয় বুঝে ব্যয় করুন বিয়েতে। অন্যের জাঁকজমকপূর্ণ জীবন দেখে স্রোতে গা ভাসালে বিপদ। বিয়ে করে মেয়ে তো চলে যাবে শ্বশুরবাড়ি কিন্তু বাবার কাঁধে থেকে যাবে ঋণের বোঝা।
চট্টগ্রামের বিয়েতে নরমালি বিয়ের পাকা কথা বলতেও ১০০/২০০ জন লোক যায়। কি অদ্ভুত নিয়ম!
কমিউনিটি সেন্টারগুলোর ভাড়া লক্ষ টাকা থেকে শুরু।বিয়ের লগ্নে তা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এমন বাজে ট্রেন্ড শুরু হইছে মেয়েরা স্বপ্ন ও দেখা শুরু করে আমার বিয়ে অমুক সেন্টারে হতে হবে আবার অনেক ক্ষেত্রে ছেলেরাও আবদার করে বিয়ে কিন্তু শহরের নামীদামী ক্লাবে হওয়া চাই। এগুলো আপনাদের কাছে কেমন লাগে জানিনা, আমার কাছে মনে হয় সমাজের তথাকথিত এসব নিয়মগুলো অনেক পরিবারের জন্য বোঝা। সাধ্যের মধ্যে সুন্দর ভাবে বিয়ে করা উচিত।
প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা বিয়েকে অপচয় না করে ব্যংকে রাখুন। সেই টাকা সংসারের কাজে লাগান , বা বিদেশের থেকে ঘুরে আসুন।
বিয়েতে আত্মীয়স্বজন পরিচিত বন্ধু বান্ধব কে নিমন্ত্রণ করুন!