Sri Sri Ramkrishna Ashram, Basugaon

Sri Sri Ramkrishna Ashram, Basugaon Works for the service of Mankind মানুষ মানুষের জন্যে :

কাশীপুর উদ্যানবাটীর দোতলার সেই ঘরটি তখন এক অদ্ভুত স্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। ভেতরে ধীরে ধীরে নিভে আসতে থাকা এক মহাপ্রাণের পার্থি...
16/08/2026

কাশীপুর উদ্যানবাটীর দোতলার সেই ঘরটি তখন এক অদ্ভুত স্তব্ধতায় আচ্ছন্ন। ভেতরে ধীরে ধীরে নিভে আসতে থাকা এক মহাপ্রাণের পার্থিব প্রদীপ। ১৮৮৬ সালের আগস্টের সেই দিনগুলোতে শ্রীরামকৃষ্ণের কণ্ঠে দুরারোগ্য ব্যাধির তীব্র যন্ত্রণা, অথচ চোখ দুটো দিয়ে যেন উপচে পড়ছে অপার করুণা আর অপার্থিব আলোকচ্ছটা।

তিরোধানের মাত্র তিন-চার দিন আগের এক দ্বিপ্রহর। ঘরে কেউ নেই, কেবল গুরু আর তাঁর প্রাণের চেয়েও প্রিয় শিষ্য নরেন্দ্রনাথ।

শ্রীরামকৃষ্ণ নরেনকে কাছে ডাকলেন। একদৃষ্টে শিষ্যের চোখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ প্রবেশ করলেন গভীর সমাধিতে। এক অলৌকিক অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হলেন নরেন—মনে হলো যেন এক অদৃশ্য প্রবল বিদ্যুৎপ্রবাহ তাঁর সমগ্র চৈতন্যে প্রবেশ করছে। বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে নরেন নিজেও এক অতল স্তব্ধতায় নিমজ্জিত হলেন।

অনেকক্ষণ পর যখন নরেনের চেতনা ফিরল, দেখলেন— শ্রীরামকৃষ্ণ কাঁদছেন। শীর্ণ দুটি গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রুধারা।

বিস্মিত, অভিভূত নরেন জানতে চাইলেন, "আপনি কাঁদছেন কেন?"

অতি স্নেহে, ভাঙা গলায় ঠাকুর বললেন—

"ওরে নরেন, আজ তোকে সব দিয়ে আমি কাঙ্গাল—ফকির হলুম রে! এই শক্তিতে তুই জগতের অনেক কাজ করবি, তারপর স্বস্থানে ফিরে যাবি।"

কেন এই মহাদান?

পরমহংসদেব জানতেন, তাঁর লীলাসংবরণের সময় সমাগত। যে সর্বজনীন ধর্মের বার্তা, অদ্বৈত চেতনার আলো এবং আর্ত মানবতার প্রতি নিঃস্বার্থ প্রেমের বীজ তিনি এই মাটিতে বুনে গেছেন, তা বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো এক মহাশক্তিমান আধারের প্রয়োজন ছিল। নরেন শুধু একজন শিষ্য ছিলেন না; তিনি ছিলেন সেই ‘সহস্রদল পদ্ম’, যার মাধ্যমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিলন ঘটার কথা। তাই নিজের আজীবনের সাধনা ও অধ্যাত্মশক্তির চূড়ান্ত নির্ঘোষ তিনি অবলীলায় ঢেলে দিলেন নরেনের অন্তরে—একজন গুরু নিঃস্ব হয়ে গেলেন তাঁর শিষ্যের পূর্ণতার জন্য।

এর ঠিক দু’দিন পরেই এল সেই শেষ সংশয় মোচনের মুহূর্ত। নরেন মনে মনে ভাবছেন, "এই অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও যদি ইনি বলতে পারেন যে ইনি ভগবান, তবেই আমি বিশ্বাস করব।" ভাবনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঠাকুর স্পষ্ট কণ্ঠে বলে উঠলেন—

"যে রাম, যে কৃষ্ণ, সে-ই এবার এই শরীরে রামকৃষ্ণ—তবে তোর বেদান্তের মতে নয়!"

১৮৮৬ সালের ১৬ই আগস্ট, মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঠাকুর পাড়ি দিলেন মহাসমাধির অনন্তলোকে।

মহাপ্রয়াণের পরবর্তী অধ্যায় ও উত্তরণ:

ঠাকুরের তিরোধানের পর এক শূন্যতার হাহাকার নেমে এসেছিল কাশীপুরের আঙিনায়। কিন্তু সেই শোকই জন্ম দিল এক মহাশক্তির। ঠাকুরের দিয়ে যাওয়া সেই আধ্যাত্মিক শক্তির স্ফুরণ ঘটল নরেন্দ্রনাথের জীবনে। প্রতিষ্ঠা হলো বরাহনগর মঠ, জন্ম নিল 'স্বামী বিবেকানন্দ' নামের এক ঝড়, যা ১৮৯৩ সালে শিকাগোর ধর্মমহাসভায় বিশ্ববাসীকে প্রথম শোনাল সনাতন ভারতের অমৃতবাণী। 'যত মত, তত পথ' রূপ নিল এক বৈশ্বিক দর্শনে, আর 'জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর' হয়ে উঠল মানবের সেবায় আত্মনিবেদনের মূলমন্ত্র।

আজকের দিনে এর প্রাসঙ্গিকতা:

আজকের এই তীব্র অসহিষ্ণু, স্বার্থপর ও খণ্ডিত পৃথিবীতে কাশীপুর উদ্যানবাটীর সেই মুহূর্তটি কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এক গভীর আত্মোপলব্ধি। শ্রীরামকৃষ্ণ ও নরেন—এ কোনো সাধারণ ব্যক্তিসম্পর্ক নয়; এ হলো শুদ্ধ ভালোবাসার দ্বারা আত্মার রূপান্তর। একজন গুরু নিজের অহং ও অর্জন সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে শিষ্যকে গড়ে তুলছেন জগতের কল্যাণে, আর সেই শক্তি নিয়ে শিষ্য দাঁড়াচ্ছেন আর্ত, বঞ্চিত মানুষের পাশে।

আজ ১৬ই আগস্ট, শ্রীরামকৃষ্ণের তিরোধান দিবসে আসুন সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করি। ধর্ম মানে তো কোনো আচার বা দেখনদারি নয়—ধর্ম হলো আত্মশুদ্ধি, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং অপরের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার এক অনন্ত সাধনা।
প্রণাম তোমায়, যুগাবতার।

রক্তদান জীবনদানআগামী 9 আগস্ট রবিবার সকাল 10 ঘটিকা হইতে বাসুগাঁও শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে এক রক্তদান শিবির অনুষ...
02/08/2026

রক্তদান জীবনদান

আগামী 9 আগস্ট রবিবার সকাল 10 ঘটিকা হইতে বাসুগাঁও শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে এক রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, উক্ত শিবিরে সকলের উপস্থিতি এবং সহযোগিতা কামনা করছি।
ইচ্ছুক রক্ত দাতাকে নিজের নাম, বয়স ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।।🙏🙏🙏🙏

নিয়মিত রক্তদান করার প্রধান শারীরিক ও মানসিক উপকারিতাগুলো হলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো, নতুন রক্ত কণিকা তৈরি হওয়া, এবং অন্যের জীবন বাঁচানোর আত্মতৃপ্তি। রক্তদানের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেহের রক্তের ঘাটতি পূরণ হয়ে যায় এবং প্রতিবার রক্তদানে প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ ক্যালোরি পর্যন্ত পোড়াতে সাহায্য করে

জয় ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব
জয় মা সারদা
জয় স্বামী বিবেকানন্দ
🙏🙏🙏

10/07/2026
19/01/2026

“শেষ আশীর্বাদ—শেষ স্পর্শ”

১৯২০ সালের জুলাই।
কাশীপুর উদ্যানবাটী নয়—এবার বেলুড় মঠের মাতৃমন্দির সংলগ্ন কক্ষে শয্যাশায়ী সারদা মা।

শরীর ক্রমশ ক্ষীণ, শ্বাস গভীর ও ধীর। চারদিকে নীরবতা—কেবল প্রদীপের মৃদু আলো আর গঙ্গার জলধ্বনি। ঘরের ভেতরে আছেন স্বামী ব্রহ্মানন্দ, স্বামী শিবানন্দ, স্বামী প্রেমানন্দ, ভগিনী নিবেদিতার শিষ্যারা এবং কয়েকজন অন্তরঙ্গ ভক্ত।

শেষ রাতের আগে মায়ের চেতনা বারবার ক্ষীণ হয়ে আসছিল।
হঠাৎ গভীর নিস্তব্ধতার মধ্যে মা আস্তে করে চোখ খুললেন।

তিনি ফিসফিস করে বললেন—
“ঠাকুর… এসেছ?”

কেউ কিছু বলার আগেই মায়ের মুখে এক অপার্থিব শান্ত হাসি ফুটে উঠল—যেন অদৃশ্য উপস্থিতির সঙ্গে কথা বলছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা পরে বলেছেন, সেই মুহূর্তে ঘরের আবহাওয়াই বদলে গিয়েছিল—গভীর প্রশান্তি, অথচ হৃদয়-ভাঙা করুণা।

এরপর মা ধীরে ধীরে হাত তুললেন এবং উপস্থিত সকলের দিকে তাকিয়ে বললেন—

“সবাই ভালো থাকবে… পরস্পরকে ভালোবাসবে।”

এটাই ছিল তাঁর শেষ আশীর্বাদ।

এক তরুণ সন্ন্যাসী তখন কেঁদে উঠলে মা ক্ষীণ স্বরে বললেন—
“কাঁদিস না। শরীর যায়—মা তো আছিই।”

১৯২০ সালের ২০ জুলাই রাত ১টা ৩০ মিনিটে সারদা মা শান্তভাবে মহাসমাধিতে বিলীন হন। কোনো আড়ম্বর নয়—কেবল গঙ্গার ঢেউ, ঘণ্টাধ্বনি এবং ভক্তদের অশ্রু।

মায়ের দেহ যখন শ্মশানে নেওয়া হয়, তখন বহু দরিদ্র গ্রামবাসী পথের দু’পাশে দাঁড়িয়ে প্রণাম করছিল। তাঁদের একজন বৃদ্ধা বলেছিলেন—
“আজ মা আমাদের ছেড়ে গেলেন, কিন্তু আমাদের বুকের ভেতরেই রইলেন।”

তথ্যসূত্র :-

“শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী” — স্বামী গম্ভীরানন্দ

“Mother as I Saw Her” — স্বামী নিত্যপ্রিয়নন্দ

18/01/2026

‎হৃদয় ও মস্তিষ্ক—এই দুই শক্তির মাঝেই মানুষের জীবন চলমান। বুদ্ধি আমাদের সতর্ক করে, হিসাব শেখায়, যুক্তির পথে চালায়, কিন্তু হৃদয় আমাদের সাহস দেয়, ভালোবাসতে শেখায়, সত্যের পথে স্থির রাখে।
‎স্বামীজী বলতেন—মানুষের আসল শক্তি শুধু জ্ঞানে নয়, তার অন্তরের পবিত্র অনুভূতিতে।
‎যখন বুদ্ধি সন্দেহে থমকে যায়, তখন হৃদয়ই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায়। কারণ হৃদয় কখনো স্বার্থ দেখে না—সে দেখে সত্য, করুণা ও ভক্তি। তাই জীবনের কঠিন মুহূর্তে, যখন দ্বন্দ্ব আসে, তখন ভরসা রাখো হৃদয়ের ওপর—সেখানে বাস করেন ভগবান। 🙏


16/01/2026
🕉️🙏🌺💟।।ঘর ফাঁকা হয়ে গেল। নরেনকে বললেন," চারিদিকে ভালো করে দেখে আয় উঁকি দিয়ে, কেউ যেন না উপরে আসে।" ‎ 🙏🌹।।নরেন দেখে এল...
16/01/2026

🕉️🙏🌺💟।।ঘর ফাঁকা হয়ে গেল। নরেনকে বললেন," চারিদিকে ভালো করে দেখে আয় উঁকি দিয়ে, কেউ যেন না উপরে আসে।"
‎ 🙏🌹।।নরেন দেখে এলো। বললে কেউ নেই।
🙏,,, ‎বোস আমার কাছটিতে।"
শান্ত হয়ে,তন্ময় হয়ে, পিপাসু হয়ে বসল নরেন।
‎,🙏,,,নরেন একবার বলেছিল ঠাকুরকে," আমি শান্তি চাই ঈশ্বর পর্যন্ত চাই না।"
‎ আহা, ঈশ্বরই তো শান্তি ।
‎ঠাকুরের পাশটিতে বসে সেই শান্তিই যেন আস্বাদ করছে নরেন।
‎🕉️🙏,,,নরেন তাকিয়ে আছে ঠাকুরের দিকে। ঠাকুরের নিষ্পলক দৃষ্টি । সর্বসংশয়চ্ছেদী অভয় আশ্বাসে পরিপূর্ণ। চেয়ে থাকতে থাকতে নরেনের মনে হল কি একটা আশ্চর্য স্পন্দন তার সমস্ত দেহে আলোড়িত হচ্ছে। মনে হল ওই দুটি পুণ্যচক্ষুর আভা ছাড়া সংসারে আর তার কোন অনুভূতি নেই।
‎ হঠাৎ চমক ভাঙল নরেনের। দেখল ঠাকুর কাঁদছেন।
‎ "এ কি কাঁদছেন কেন ?"
‎🕉️🙏,,,"নরেন আমার যা কিছু ছিল ,আমার যথাসর্বস্ব তোকে আজ দিয়ে দিলুম।"
‎ 🙏💟।।নরেনের একটা হাত ঠাকুরের একখানি হাতের মধ্যে ধরা - " দিয়ে, আমি আজ ফকির হয়ে গেলুম, ফতুর হয়ে গেলুম 🕉️🙏।। তুই রাজরাজেশ্বর হয়ে গেলি।"
‎ নরেন অনুভব করল এ কান্না আনন্দের নির্ঝর। এ কান্না তার রাজ্যাভিষেকের পুণ্যবারি।
‎নরেনও কাঁদতে লাগলো।
‎ঠাকুর বললেন , "তুই সবাইকে আঁকড়ে থাকবি, সকলের আশ্রয় হবি। সকলের ভার তোর হাতে দিয়ে গেলুম। তারপর তোর যখন কাজ ফুরুবে , যখন একদিন বুঝতে পারবি তুই সত্যি কে, ফিরে যাবি স্বাধামে।
‎নরেন গুরু বলে বলিয়ান হয়ে উঠল। অয়ময়ং ভোঃ। ওঠো জাগো , যতক্ষণ পর্যন্ত না ইপ্সিততমকে অর্জন করতে পারছো ততক্ষণ নিবৃত্ত হইও না।
‎ঠাকুর বললেন তিনিই সব হয়েছেন। কেন ? সবই আবার তিনি হবেন বলে। তুই এই হওয়ার বার্তাটি পৌঁছে দে ঘরে ঘরে। পৌঁছে দে জনে জনে।।🙏🙏🙏💟🌺💟🕉️

পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ। 🙏🙏🙏💟🌺💟🕉️
জয় ঠাকুরের জয়,, তোমার শ্রীচরণে ভূমিষ্ঠ অনন্ত কোটি নিরন্তর প্রণাম জানাই পরম দয়াময় প্রভু ,,, 🙏 🙏 🙏 🌺 💟 🌺 🕉️
জয়তু স্বামীজি মহারাজ তোমার শ্রীচরণে ভূমিষ্ঠ নিরন্তর প্রণাম জানাই রাজরাজেশ্বর বীর সন্ন্যাসী জয়তু স্বামীজি মহারাজ,,, 🙏 🙏 🙏 🌺 💟 🌺 🕉️

Address

RK ASHRAM Road
Basugaon
783372

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sri Sri Ramkrishna Ashram, Basugaon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share