07/11/2022
ঠাকুর তব রাতুল রাঙ্গা চরণে কোটি-কোটি প্রণাম।
#একদিন নরেন্দ্রনাথ দও(স্বামী বিবেকানন্দ) রামকৃষ্ণপরমহংসদেবকে বললেন মশায় আপনার ঈশ্বর দর্শন হয়েছে?জবাবে ঠাকুর বললেন, হ্যাঁ,তাঁর সাথে কথা বলা যায়,তাঁকে দেখা যায়।তা,তুই দেখতে চাস?নরেন্দ্রনাথ অগ্রহভরে বললেন-হ্যাঁ, এক্ষুনি।ঠাকুর তাকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে একটা পুকুরে চুবিয়ে ধরলেন।খানিকপরে জল থেকে উঠিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোর জলের ভিতর কেমন লাগছিল রে? নরেন্দ্রনাথ বললো,প্রাণ আকুপাকু করছিল যেন প্রাণ যায়-যায়।ঠাকুর বললেন দেখ! এইরুপ ভগবানের জন্য যখন তোর প্রাণ আকুপাকু করবে তখন জানবি যে তাঁকে দর্শনের সময় হয়েছে ।(রাঃকৃথামৃত)
#আমি(বিবেকানন্দ), তাঁর(রামকৃষ্ণপরমহংসের)জন্ম-জন্মান্তরের দাস, এই আমার পরম সৌভাগ্য তাঁর মুখের একটি কথা আমার কাছে বেদ এবং বেদান্ত অপেক্ষা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।আমি তস্য দাস-দাস দাসোহহং।
(স্বামীবিবেকান্দ বাণী ও রচনা, ৯ম খন্ড,পৃঃ-৪৩৪)
#মহাসমাধির তিন চার দিন আগে একদিন স্বামীজীকে কাছে বসিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ একদৃষ্টে তাঁর দিকে তাকিয়ে থেকে সমাধিস্থ হয়ে পড়লেন৷
স্বামীজীর ঐ দিন অনুভব হয়েছিল যেন, শ্রীরামকৃষ্ণের দেহ থেকে তড়িৎকম্পনের মতো একটা সূক্ষ্ম তেজোরশ্মি তাঁর দেহমধ্যে প্রবেশ করছে ৷এরপর স্বামীজীও বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে ছিলেন ৷ কতক্ষন এভাবে কেটেছিল, তা স্বামীজী বুঝতে পারেননি৷চেতনা লাভ করে স্বামীজী দেখেন, শ্রীরামকৃষ্ণ অশ্রুবর্ষণ করছেন৷ স্বামীজী শ্রীরামকৃষ্ণকে অশ্রুবর্ষণের কারণ জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন, " আজ যথা সর্বস্ব তোকে দিয়ে ফকির হলুম ৷তুই এই শক্তিতে জগতের অনেক কাজ করবি৷ কাজ শেষ হলে পরে ফিরে যাবি৷"
(যুগ নায়ক বিবেকানন্দ, প্রথম খন্ড)
#মানুষদেহ ধারন করে ঈশ্বর অবতীর্ণ হন।তিনি সর্ব্বস্থানে সর্বভূতে আছেন বটে, কিন্তু অবতার না হলে জীবের আকাঙ্ক্ষা পুরে না,প্রয়োজন মেটে না।কি রকম জানো?গরুর যেখানটা ছোঁবে গরুকে ছোয়াই হয় বটে,শিঙটা ছুলেও গাইটাকে ছোয়া হল,কিন্তু গাইটার বাট থেকেই দুধ হয়।(রাঃকৃঃকথামৃত)
#কচ্ছপ জলে চরে বেড়ায়,কিন্তু তার মন কেথায় পড়ে আছে জানো?আড়ায় পড়ে আছে।যেখানে তার ডিমগুলি আছে।সংসারে সব কর্ম্ম করবে, কিন্তু ঈশ্বরে মন ফেলে রাখবে।(রাঃকৃঃকথামৃত)
#সত্য,এেতা,দ্বাপর যুগের তপস্যার কথায় ঠাকুর বলতেন-বাদশাহী মোহর অচল/কোম্পানীর নোটই সচল।বাদশাহী আমলের টাকা এখন চলে না।কেননা তার ক্ষমতা এখন আর নাই।তাই, এখন-এখনকার অবতারের মতে চলা চাই।(রাঃকৃঃকথামৃত)
#সময় আগত ইহলীলা সংবরণ করবেন ঠাকুর, নরেন্দ্রনাথের মনে বার-বার একটি প্রশ্ন উকি দিচ্ছে ঠাকুর কি প্রকৃতই অবতার কিনা? ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ করলেন ভগবান।তিনি নরেন্দ্রনাথের(স্বামী বিবেকানন্দ) দিকে ফিরে বললেন, "এখনো তোর জ্ঞান হলো না? সত্যি-সত্যি বলছি, যে রাম যে কৃষ্ণ,সেই ইদানীং এ শরীরে রামকৃষ্ণ -তবে তোর বেদান্তের দিক দিয়ে নয়।"
(প্রশ্নাওরে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণপরমহংস--স্বামী বৈকুণ্ঠনন্দ)
★পুন আগমনীবার্তা★
ঠাকুর বলেছিলেন ১০০বৎসরের মধ্যে আবার আসবেন।আমি বল্লাম, আমি আর আসতে পারব না।ঠাকুর হেসে বললেন, "যাবে কোথা?কলমির দল,এক জায়গায় বসে টানলেই সব এসে পড়বে।
(রামকৃষ্ণকে যে রুপে দেখিয়াছি--শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী)
#আবার শিগগীর আসবো,উওর পূর্বকোনে এবার সংসারী হয়ে স্ত্রী-পুএসহ সদা সর্ব্বদা কাছে হুকো আর কল্কে থাকবে।(কথা প্রসঙ্গে গ্রন্থ --শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী)
#এবার আমার ছদ্দবেশে আসা, তাই পার্ষদদের সব জ্ঞান দিচ্ছি না।শ্রীঘ্রই আবার রাজবেশে আসতে হবে।
(রাঃকৃঃকথামৃত )
#ঈশাণকোনে আর একবার আমার দেহ হবে।তখন অনেক লোক মুক্ত হবে, আর যারা হবে না মুক্তির জন্য তাদের দীর্ঘকাল অপেক্ষা করতে হবে।(রাঃকৃঃলীলামৃত)