Adhyatmik Chetana

Adhyatmik Chetana Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Adhyatmik Chetana, Religious Center, Barki Saria.

It will be my humble effort to try to share some spiritual visions to my next generation and my peers equally, selected from the ancient texts that I have studied in my lifetime.

আজকের বিষয়: ভক্ত প্রহ্লাদ ও নৃসিংহ অবতার — বিশ্বাসের জয় ও অহংকার বিনাশের দিব্য কথা​পৌরাণিক ইতিহাসে ভক্ত প্রহ্লাদের কাহিন...
23/05/2026

আজকের বিষয়: ভক্ত প্রহ্লাদ ও নৃসিংহ অবতার — বিশ্বাসের জয় ও অহংকার বিনাশের দিব্য কথা

​পৌরাণিক ইতিহাসে ভক্ত প্রহ্লাদের কাহিনী হলো অধর্মের ওপর ধর্মের জয় এবং ভক্তের ডাকে ভগবানের সাড়া দেওয়ার এক পরম অলৌকিক দৃষ্টান্ত। দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু ব্রহ্মার কাছ থেকে কঠোর বর লাভ করে অহংকারে অন্ধ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি নিজেকেই ঈশ্বর বলে ঘোষণা করেন এবং নির্দেশ দেন যে, রাজ্যে কেবল তাঁরই পূজা হবে। কিন্তু তাঁর নিজের ঘরেই জন্ম নেন পরম বিষ্ণুভক্ত প্রহ্লাদ।

​গর্ভে থাকার সময় দেবর্ষি নারদের মুখে হরিনাম শুনেই প্রহ্লাদের অন্তরে ভক্তির বীজ রোপিত হয়েছিল। তাই শত বাধা ও অসুরের ঘরে জন্ম নেওয়া সত্ত্বেও, প্রহ্লাদের মুখে অহর্নিশ ধ্বনিত হতো—"ওঁ নমো নারায়ণায়"। হিরণ্যকশিপু তাঁর পুত্রকে বিষ্ণুভক্তি থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য চরম অত্যাচার শুরু করেন। পাহাড়ের ওপর থেকে ফেলে দেওয়া, হাতির পায়ের তলায় পিষে দেওয়া, বিষপ্রয়োগ এবং বোন হোলিকার চিতায় পুড়িয়ে মারার চেষ্টা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রহ্লাদ তাঁর অটল বিশ্বাসের জোরে এবং শ্রীহরির কৃপায় অলৌকিকভাবে রক্ষা পান।

​অবশেষে ক্রোধোন্মত্ত হিরণ্যকশিপু প্রহ্লাদকে প্রশ্ন করেন, "কোথায় আছে তোর সেই হরি?" প্রহ্লাদ শান্তভাবে উত্তর দেন, "তিনি সর্বত্র আছেন, এমনকি এই স্ফটিক স্তম্ভেও আছেন।" উপহাস করে অহংকারী রাজা যখনই তরবারি দিয়ে সেই রাজপ্রাসাদের স্তম্ভে আঘাত করেন, তখনই এক মহাগর্জন করে স্তম্ভ বিদীর্ণ হয়ে যায়।

​ব্রহ্মার বরকে অক্ষুণ্ণ রেখে (যাতে হিরণ্যকশিপু মানুষ বা পশু, ঘরের ভেতরে বা বাইরে, দিনে বা রাতে, কোনো অস্ত্র দিয়ে নিহত না হন)—ভগবান বিষ্ণু অর্ধ-মানুষ ও অর্ধ-সিংহ রূপ ধারণ করে 'নৃসিংহ অবতার' রূপে আবির্ভূত হন। সন্ধ্যাকালে, রাজপ্রাসাদের চৌকাঠে বসে, নিজের উরুর ওপর রেখে, তীক্ষ্ণ নখ দিয়ে তিনি অত্যাচারী হিরণ্যকশিপুর বক্ষ বিদীর্ণ করে বধ করেন এবং ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করেন।

​নৃসিংহদেবের সেই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে যখন দেবতারাও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, তখন কেবল বালক প্রহ্লাদের ভক্তিপূর্ণ স্তব শুনে মায়ের মতো শান্ত হন ভগবান। প্রহ্লাদের এই জীবন আমাদের শেখায় যে, পরিস্থিতি যত প্রতিকূলই হোক না কেন, ঈশ্বরের প্রতি যদি পূর্ণ আত্মসমর্পণ থাকে, তবে স্বয়ং ভগবানও স্তম্ভ ভেদ করে ভক্তকে রক্ষা করতে ছুটে আসেন।

​ভগবান নৃসিংহের চরণে প্রণাম শ্লোক:
​"উগ্রং বীরং মহা বিষ্ণুং জ্বলন্তং বিশ্বতোমুখম্।
নৃসিংহং ভীষণং ভদ্রং মৃত্যুমৃত্যুং নমাম্যহম্॥"

​অর্থাৎ:
সেই উগ্র, বীর, মহাবিষ্ণু, প্রজ্জ্বলিত অগ্নির ন্যায় সর্বব্যাপী, ভয়ঙ্কর অথচ মঙ্গলময় এবং মৃত্যুরও মৃত্যুস্বরূপ ভগবান নৃসিংহদেবকে আমি অন্তরের প্রণাম জানাই।

​ #ভক্তপ্রহ্লাদ #নৃসিংহঅবতার #ভগবানবিষ্ণু #পৌরাণিকগল্প #বাংলারঐতিহ্য #ভক্তিযোগ #আধ্যাত্মিকতা

আজকের বিষয়: বিষ্ণু ভক্ত ধ্রুব — অটল বিশ্বাস ও পরম ভক্তির অমর উপাখ্যান​পৌরাণিক ইতিহাসে ধ্রুবের কাহিনী কেবল একটি গল্প নয়, ...
22/05/2026

আজকের বিষয়: বিষ্ণু ভক্ত ধ্রুব — অটল বিশ্বাস ও পরম ভক্তির অমর উপাখ্যান

​পৌরাণিক ইতিহাসে ধ্রুবের কাহিনী কেবল একটি গল্প নয়, এটি হলো ঈশ্বরের প্রতি মানুষের অটল বিশ্বাস, নিষ্ঠা এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মহারাজ উত্তানপাদ এবং রানী সুনীতির পুত্র ধ্রুব মাত্র পাঁচ বছর বয়সে সৎ-মা সুরুচির চরম অপমানের সম্মুখীন হয়েছিলেন। রাজসিংহাসনে বসার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে এবং পিতার উদাসীনতা দেখে বালক ধ্রুবের মন এক গভীর বৈরাগ্যে ভরে ওঠে।

​মাতা সুনীতির উপদেশ বুকে নিয়ে—"যিনি জগতের দুঃখ হরণ করেন, সেই পদ্মপলাশলোচন শ্রীহরির শরণ নাও"—বালক ধ্রুব রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে পরমেশ্বরের সন্ধানে যমুনার তীরে মধুবনে চলে যান। পথিমধ্যে দেবর্ষি নারদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। ধ্রুবের দৃঢ় সংকল্প দেখে নারদজি তাঁকে দ্বাদশাক্ষর মূল মন্ত্র "ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়" প্রদান করেন এবং তপস্যার দীক্ষা দেন।

​মাত্র পাঁচ বছরের এক বালক কঠোরতম তপস্যায় মগ্ন হন। শীত, গ্রীষ্ম, ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এক পায়ে দাঁড়িয়ে, শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে তিনি পরম পুরুষ ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করতে থাকেন। তাঁর এই অবিচল তপস্যার তেজে ত্রিলোক কেঁপে ওঠে। অবশেষে ধ্রুবের অনন্য ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং চতুর্ভূজ নারায়ণ তাঁর সম্মুখে আবির্ভূত হন। ভগবান শঙ্খ দিয়ে ধ্রুবের কপাল স্পর্শ করতেই তাঁর অন্তরে দিব্যজ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে।

​ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদে ধ্রুব কেবল দীর্ঘকাল পৃথিবী শাসনই করেননি, বরং নশ্বর দেহ ত্যাগের পর মহাকাশের সর্বোচ্চ ও পবিত্রতম স্থানে স্থান পান—যা আজ আমাদের কাছে 'ধ্রুবতারা' (Pole Star) নামে পরিচিত। ব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত গ্রহ-নক্ষত্র এই ধ্রুবতারাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। ধ্রুবের এই দিব্য জীবন আমাদের শেখায় যে, বয়স বা পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, যদি অন্তরে খাঁটি ভক্তি ও সংকল্প থাকে, তবে স্বয়ং ঈশ্বরকেও লাভ করা সম্ভব।

​সেই পরম পবিত্র মূল মন্ত্র:
​"ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়॥"

​অর্থাৎ:
পরম পুরুষ, সর্বব্যাপী ভগবান বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণকে আমি বারবার প্রণাম জানাই।

​ #বিষ্ণুভক্তধ্রুব #ধ্রুবতারা #ভগবানবিষ্ণু #পৌরাণিকগল্প #বাংলারঐতিহ্য #ভক্তিযোগ #আধ্যাত্মিকতা

আজকের বিষয়: পবিত্র পুরুষোত্তম মাস — আধ্যাত্মিক সাধনা ও পুণ্য অর্জনের মহাসুযোগ​সনাতন ধর্মে পুরুষোত্তম মাস বা অধিক মাসের গ...
21/05/2026

আজকের বিষয়: পবিত্র পুরুষোত্তম মাস — আধ্যাত্মিক সাধনা ও পুণ্য অর্জনের মহাসুযোগ

​সনাতন ধর্মে পুরুষোত্তম মাস বা অধিক মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। সূর্য ও চন্দ্র ক্যালেন্ডারের সময়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে প্রতি ৩-৪ বছর অন্তর পঞ্জিকায় এই অতিরিক্ত মাসটির আগমন ঘটে। পৌরাণিক কথা অনুসারে, এই মাসের কোনো অধিপতি দেবতা না থাকায় এর নাম হয়েছিল 'মলমাস' এবং একে একসময় শুভ কাজের অযোগ্য মনে করা হতো। তখন এই মাসটি পরমেশ্বর ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হলে, করুণাময় শ্রীবিষ্ণু একে নিজের নাম দান করেন—'पुरुषोत्तम' (পুরুষোত্তম)।

​ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদে এই মাসটি সমস্ত মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বেশি ফলদায়ী আধ্যাত্মিক মাসে পরিণত হয়। শাস্ত্র অনুসারে, এই মাসে করা জপ, তপস্যা, ব্রত এবং দান-ধ্যানের ফল সাধারণ মাসের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

যদিও এই মাসে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ বা নতুন ব্যবসা শুরুর মতো জাগতিক বা পার্থিব মাঙ্গলিক কাজগুলো বর্জন করা হয়, কিন্তু আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এই সময়টি সর্বোত্তম।

​বাঙালির ঘরে ঘরে এই পবিত্র মাসে প্রতিদিন প্রদীপ প্রজ্বলন করা, তুলসী তলায় জল দেওয়া, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বা বিষ্ণুসহস্রনাম পাঠ করা এবং নাম সংকীর্তনে মগ্ন থাকার রীতি রয়েছে। এই মাসটি আমাদের শেখায় জাগতিক কোলাহল থেকে ক্ষণিকের বিরতি নিয়ে অন্তরের পরমাত্মার সাথে যুক্ত হতে।

​একটি বিশেষ শ্লোক (ভগবান বিষ্ণুর চরণে প্রার্থনা):
​"ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়॥"
"নমো ব্রহ্মণ্যদেবায় গোব্রাহ্মণহিতায় চ।
জগদ্ধিতায় কৃষ্ণায় গোবিন্দায় নমো নমঃ॥"

​অর্থাৎ:
পরম পুরুষ ভগবান বাসুদেবকে প্রণাম। জগতের হিতকারী, গো ও ব্রাহ্মণের রক্ষক শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দকে আমি বারবার প্রণাম জানাই।

​ #পুরুষোত্তমমাস #অধিকমাস #মলমাস #ভগবানবিষ্ণু #বাংলারঐতিহ্য #আধ্যাত্মিকতা

আজকের বিষয়: বট সত্যবতী ব্রত — সতীত্বের মহিমা ও সংসারের মঙ্গল কামনা​বাঙালি সনাতন সংস্কৃতিতে জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই নানা ব্রত ও...
20/05/2026

আজকের বিষয়: বট সত্যবতী ব্রত — সতীত্বের মহিমা ও সংসারের মঙ্গল কামনা

​বাঙালি সনাতন সংস্কৃতিতে জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই নানা ব্রত ও পার্বণের সমাহার। আমরা সাধারণত জ্যৈষ্ঠের অমাবস্যায় 'সাবিত্রী ব্রত' বা 'বট সাবিত্রী ব্রত'-এর কথা শুনে থাকি, কিন্তু বাংলার কোনো কোনো আঞ্চলিক লোকপরম্পরায় জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষে এই বট সত্যবতী ব্রত পালন করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ব্রতের মূল উদ্দেশ্য হলো স্বামীর দীর্ঘায়ু, সন্তানের কল্যাণ এবং সংসারের সর্বাঙ্গীন সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা।

​পৌরাণিক ও লৌকিক উপাখ্যান অনুসারে, সতী সত্যবতী (বা সাবিত্রী) তাঁর একনিষ্ঠ পতিভক্তি, চরম আত্মত্যাগ এবং বুদ্ধিমত্তার জোরে স্বয়ং যমরাজের হাত থেকে তাঁর মৃত স্বামী সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন। সতীর এই অলৌকিক উপাখ্যানকে স্মরণ করেই এই ব্রতের নামকরণ। এই ব্রতের সঙ্গে 'বট' বা বটবৃক্ষের যোগ অত্যন্ত গভীর। সনাতন ধর্মে বটগাছকে দীর্ঘায়ু এবং অক্ষয় শক্তির প্রতীক মনে করা হয়।

বিশ্বাস করা হয়, বটবৃক্ষের মূলে ব্রহ্মা, স্তম্ভে বিষ্ণু এবং শাখাপ্রশাখায় মহাদেব অবস্থান করেন।
​আজকের দিনে ব্রতচারী বধূরা উপবাস থেকে নতুন বস্ত্র পরিধান করেন এবং কোনো প্রাচীন বটবৃক্ষের তলায় গিয়ে পুজো দেন। গাছের গুঁড়িতে লাল সুতো (রক্ষা সূত্র) জড়িয়ে পতির দীর্ঘজীবন প্রার্থনা করা হয় এবং জ্যৈষ্ঠের মরশুমি ফল যেমন আম, জাম, লিচু ও মিষ্টি মায়ের চরণে নিবেদন করা হয়। পরিশেষে ব্রতকথা শ্রবণের মাধ্যমে এই পূজার সমাপ্তি ঘটে। এই ব্রত আমাদের শেখায় যে, নিষ্ঠা, ভক্তি এবং একাগ্রতা থাকলে জীবনের সমস্ত অন্ধকার ও অমঙ্গলকে জয় করা সম্ভব।

​একটি বিশেষ শ্লোক (পতি ও সংসারের মঙ্গল প্রার্থনা):
​"অখণ্ড-সৌভাগ্য-দাত্রী ত্বং পতি-ব্রত-পরায়ণে।
সংসার-তারিণী দেবি রক্ষ মাং সর্ব-সংকটাৎ॥"

​অর্থাৎ:
হে অখণ্ড সৌভাগ্যদাত্রী, পতিব্রতা নারীদের রক্ষাকর্ত্রী দেবী! তুমি আমাকে সমস্ত সংকট থেকে রক্ষা করো এবং আমার সংসারকে মঙ্গলে ভরিয়ে তোলো।

​ #বটসত্যবতী ব্রত #সাবিত্রীব্রত #পতিরদীর্ঘায়ু #বাংলারঐতিহ্য #লোকসংস্কৃতি #আধ্যাত্মিকতা

আজকের বিষয়: জয় মা মঙ্গল চণ্ডী — সংসারের সর্বমঙ্গল দায়িনী​বাংলার ঘরে ঘরে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা মঙ্গল চণ্ডীর ...
19/05/2026

আজকের বিষয়: জয় মা মঙ্গল চণ্ডী — সংসারের সর্বমঙ্গল দায়িনী

​বাংলার ঘরে ঘরে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতি মঙ্গলবারে মা মঙ্গল চণ্ডীর ব্রত ও পূজা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। মা মঙ্গল চণ্ডী হলেন আদিশক্তি মহামায়ারই এক পরম করুণাময়ী রূপ, যিনি তাঁর নামের মতোই ভক্তের জীবনে সমস্ত প্রকার 'মঙ্গল' বা কল্যাণ বিধান করেন এবং 'চণ্ডী' রূপ ধারণ করে সব অশুভ শক্তিকে দমন করেন।

​মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে দেবী মঙ্গল চণ্ডীর মহিমা সবিস্তারে বর্ণিত আছে। ব্যাধ কালকেতু ও তার স্ত্রী ফুল্লরা এবং ধনী বণিক ধনপতির উপাখ্যানে দেখা যায়, কীভাবে ঘোর বিপদের দিনে দেবীর স্মরণ করলে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর হয় এবং হারানো সুখ-সমৃদ্ধি ফিরে আসে।

মা মঙ্গল চণ্ডী সিংহবাহিনী, চতুর্ভূজা এবং তিনি দুই হাতের বরাভয় ও খড়্গ দিয়ে যেমন দুষ্টের দমন করেন, তেমনই অন্য দুই হাতে পদ্ম ধারণ করে সংসারে শান্তি ও শ্রী ফিরিয়ে আনেন।

​বাঙালি মায়েরা ও বধূরা আজ উপবাস থেকে, ঘটে জল পিটুলি দিয়ে, নতুন বস্ত্র ও মরশুমি ফল নিবেদন করে দেবীর ব্রতকথা শ্রবণ করেন। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠাভরে মায়ের চরণে প্রণাম জানালে সংসারের সমস্ত রোগ-ব্যাধি, অলক্ষ্মী ও অমঙ্গল দূর হয় এবং পরিবারে সুখ, শান্তি ও সন্তানদের দীর্ঘায়ু লাভ হয়।

​একটি বিশেষ শ্লোক:
​"সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোঽস্তু তে॥"

​অর্থাৎ:
হে সর্বমঙ্গলদাত্রী, কল্যাণময়ী, সর্বার্থসাধিকা, শরণদাত্রী এবং ত্রিনয়নী গৌরী নারায়ণী—তোমাকে বারবার প্রণাম জানাই।
​ #মঙ্গলচণ্ডী #মঙ্গলচণ্ডীব্রত #পুরাণকথা #বাংলারঐতিহ্য #আধ্যাত্মিকতা

18/05/2026

"মনের সব কালিমা আর অহংকার দূর করতে আনন্দ ভবন আশ্রমে শক্তির আরাধনা। 🕯️ আরাধনার পর গভীর রাত পর্যন্ত চলা ফলহারিণী কালীর বিশেষ যজ্ঞের কিছু পুণ্য মুহূর্ত। সর্বস্তরের গুরুভাই-বোন ও সেবকদের সমবেত প্রচেষ্টায় এবং স্বামী আত্মানন্দ মহারাজজীর উপস্থিতিতে ধন্য হলো এই পবিত্র তিথি। মাগো, তোমার চরণে সবার মঙ্গল কামনা করি। 🌸🤲"

#কালীপূজা২০২৬ #যজ্ঞ #আশ্রমউৎসব #ভক্তিযোগ #আনন্দধারা #সুরিয়া #মহাপ্রসাদ #মঙ্গলকামনা #শক্তিরূপেন

18/05/2026

"অমাবস্যার পুণ্য লগ্নে আনন্দ ভবন আশ্রমে সম্পন্ন হলো অলৌকিক ফলহারিণী কালীপূজার বিশেষ হোম যজ্ঞ। 🔥✨ উদাত্ত কণ্ঠে শ্রীশ্রীচণ্ডীপাঠ, একান্ন পীঠের আহুতি আর Anandadhara'র নামগানের মেলবন্ধনে সারা রাত জুড়ে তৈরি হয়েছিল এক পরম পবিত্র আধ্যাত্মিক পরিবেশ। ভোররাতে আরতি ও পূর্ণাহুতির মাধ্যমে শেষ হলো এই মহোৎসব। মায়ের আশীর্বাদ সবার ওপর বর্ষিত হোক। জয় গুরু! জয় মা আনন্দময়ী! 🙏🔱"

#ফলহারিণীকালীপূজা #হোমযজ্ঞ #একান্নপীঠ #চণ্ডীপাঠ #পূর্ণাহুতি #আনন্দভবনআশ্রম #নামসংকীর্তন #আধ্যাত্মিকতা #জয়মা #জয়গুরু

"জয় গুরু"প্রসঙ্গ: "ফলহারিণী কালীপূজা" (আনন্দ ভবন আশ্রম)​গত ১৬ই মে, শনিবার রাত ৯টায় শুরু হয় অমাবস্যার পবিত্র "ফলহারিণী ক...
18/05/2026

"জয় গুরু"
প্রসঙ্গ: "ফলহারিণী কালীপূজা" (আনন্দ ভবন আশ্রম)

​গত ১৬ই মে, শনিবার রাত ৯টায় শুরু হয় অমাবস্যার পবিত্র "ফলহারিণী কালীপূজা"। পুজোয় তন্ত্রধারকের ভূমিকায় ছিলেন প্রধান পুরোহিত শ্রদ্ধেয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মহাশয় এবং পূজা ও হোম সম্পন্ন করেন আশ্রমের অন্যতম সাধু শ্রদ্ধেয় স্বামী "আত্মানন্দ মহারাজজী"।

​পূজার পর শুরু হয় হোম। একে একে ভোগ নিবেদন, বস্ত্র নিবেদন এবং "একান্ন পীঠের" হোমের পর, শেষ ভাগে আরতি ও পূর্ণাহুতি সম্পন্ন হতে হতে রাত দেড়টা বেজে যায়। পুজোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত **"আনন্দধারা"**র নামগান চলতে থাকে। বার্নপুর উপসমিতির গুরুভ্রাতা শ্রদ্ধেয় বীরেন ব্যানার্জী, শান্তিময় মাজি ও দয়াময় মাজির নেতৃত্বে উপস্থিত সকল গুরুভাই-বোন সেই নামগানে গলা মেলান। "একান্ন পীঠে"র হোমের সময় উদাত্ত কণ্ঠে "শ্রীশ্রীচণ্ডীপাঠ" করেন গুরুভ্রাতা শ্রী বীরেন ব্যানার্জী মহাশয়।

​কলকাতা, আসানসোল ও বার্নপুর থেকে বহু গুরুভাই-বোন এসে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এছাড়া "সুরিয়া আনন্দ ভবন" মূল আশ্রমের স্থানীয় সম্পাদক শ্রীযুক্ত অনিল সামন্ত মহাশয়, আশ্রমের সেবক, আশ্রমবাসী এবং স্থানীয় আমন্ত্রিত অতিথিরাও এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। সর্বোপরি আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক গুরুভ্রাতা শ্রদ্ধেয় গৌতম ব্যানার্জী, সভাপতি শ্রদ্ধেয় সুব্রত ব্যানার্জী, সহ-সভাপতি শ্রদ্ধেয় কমল ব্যানার্জী এবং সহ-সম্পাদক রামায়ণ দত্ত মহাশয়ের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সুন্দর ছবিগুলির জন্য গভর্নিং বডির সদস্য গুরুভ্রাতা শ্রদ্ধেয় অভিজিৎ সান্যাল মহাশয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

ভোগ রান্না, হোমের জোগাড় ইত্যাদি কাজে যে সকল গুরুভাই-বোন সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সকলকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।

​পরিশেষে মায়ের চরণে প্রার্থনা—সকল গুরুভাই-বোন, তাঁদের পরিবার, আত্মীয়-পরিজন এবং সেবকদের পরিবারগুলিকে তুমি ভালো রেখো মাগো। আমাদের সবার মনের কালিমা ও অহংকার দূর করে, প্রকৃত মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলো।

​"জয় গুরু", "জয় মা আনন্দময়ী", "জয় শ্রী শ্রী মদনমোহন জী ও শ্রী শ্রী রাধারাণী", এবং "জয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা জী"।
#ফলহারিণীকালীপূজা #আনন্দভবনআশ্রম #কালীপূজা২০২৬ #জয়মা #জয়গুরু #আশ্রমজীবন #অমাবস্যা

আজকের বিষয়: ফলহারিণী অমাবস্যা ও শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ-সারদাদেবীর দিব্য প্রাকট্য কথা​আজকের এই অমাবস্যা তিথিটি বাংলার শাক্ত ও আ...
16/05/2026

আজকের বিষয়: ফলহারিণী অমাবস্যা ও শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ-সারদাদেবীর দিব্য প্রাকট্য কথা

​আজকের এই অমাবস্যা তিথিটি বাংলার শাক্ত ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক পরম সন্ধিক্ষণ। এই তিথিতেই মা আদ্যাশক্তি 'ফলহারিণী কালিকা' রূপে মর্ত্যে পূজিত হন। 'ফলহারিণী' শব্দের অর্থ—যিনি আমাদের সমস্ত কর্মের অশুভ ফল, পাপ এবং মনের নেতিবাচকতাকে হরণ করে নেন। আম, জাম, লিচুসহ নানাবিধ মরশুমি ফল দিয়ে আজ আদ্যাশক্তির আরাধনা করা হয়।

​কিন্তু এই তিথির মহিমা বাঙালির কাছে আরও গভীর হয়ে ওঠে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের এক অলৌকিক লীলার মাধ্যমে। ১৮৭৩ সালের এই ফলহারিণী অমাবস্যার রাতেই দক্ষিণেশ্বরের শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর সহধর্মিণী শ্রীশ্রী সারদা দেবীকে জগদম্বার আসনে বসিয়ে 'ষোড়শী পূজা' করেছিলেন।

নিজের সমস্ত সাধনার ফল এবং জপমালা তিনি সমর্পণ করেছিলেন সারদা মায়ের চরণে। এটি ছিল জগতকে নারীশক্তির দেবীত্বের রূপ দেখানোর এক পরম আধ্যাত্মিক দৃষ্টান্ত।

​আজকের দিনে মায়ের আরাধনা করলে কেবল জাগতিক ফল লাভ হয় না, বরং অন্তরের অহংকার ও অজ্ঞানতা দূর হয়ে ভক্তির পুণ্য আলোক প্রজ্বলিত হয়। আসুন, এই পবিত্র নিশীথে আমরা সবাই মায়ের চরণে নিজেদের সমর্পণ করি, যেন মা আমাদের সব কলুষতা হরণ করে জীবনকে শান্তিময় করে তোলেন। জয় মা ফলহারিণী কালিকা!

​একটি বিশেষ শ্লোক:
​"ওঁ সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি নারায়ণি নমোঽস্তু তে॥"

​অর্থাৎ:
হে সর্বমঙ্গলদাত্রী, কল্যাণময়ী, সর্বার্থসাধিকা, শরণদাত্রী এবং ত্রিনয়নী গৌরী নারায়ণী—তোমাকে বারবার প্রণাম জানাই।
​ #ফলহারিণীঅমাবস্যা #মাকালী #দক্ষিণেশ্বর #বাংলারঐতিহ্য #আধ্যাত্মিকতা

আজকের বিষয়: ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যা — অহিরাজপুরীর উদ্ধারকর্ত্রী​বাংলার ৫১ পীঠের অন্যতম জাগ্রত পীঠ হলো বর্ধমান জেলার ক্ষ...
15/05/2026

আজকের বিষয়: ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যা — অহিরাজপুরীর উদ্ধারকর্ত্রী

​বাংলার ৫১ পীঠের অন্যতম জাগ্রত পীঠ হলো বর্ধমান জেলার ক্ষীরগ্রাম। কথিত আছে, এখানে দেবী সতীর ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি পতিত হয়েছিল। এখানকার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন মা যোগাদ্যা, যাঁর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে আছে রামায়ণের এক প্রাচীন লোকগাথায়।

​পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, লঙ্কাকাণ্ডে মহীরাবণ যখন রাম ও লক্ষণকে পাতালে অহিরাজপুরীতে বন্দি করে বলি দেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তখন হনুমানজি সেখানে মা যোগাদ্যার সাহায্য চান। মায়ের আশীর্বাদেই হনুমানজি মহীরাবণকে পরাজিত করেন এবং রাম-লক্ষ্মণকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীকালে অহিরাজপুরী থেকে এই চতুর্ভুজা মহিষমর্দিনী রূপী বিগ্রহ ক্ষীরগ্রামে আনীত হয়।

​ক্ষীরগ্রামের বিশেষত্ব হলো মায়ের বিগ্রহ সারা বছর ক্ষীরদীঘির জলের নিচে অবস্থান করে। কেবল বিশেষ তিথিতে (যেমন বৈশাখী সংক্রান্তি বা বিশেষ পূজা) মাকে জল থেকে তোলা হয়। মায়ের এই রূপ প্রচণ্ড তেজোময়ী এবং ভক্তের সকল মনোবাঞ্ছা পূরণকারী। আজ চতুর্দশী তিথিতে মায়ের চরণে অন্তরের ভক্তি নিবেদন করলে জীবনের সব বিঘ্ন নাশ হয় এবং শান্তি লাভ হয়। জয় মা যোগাদ্যা!

​একটি বিশেষ শ্লোক:
​"অহিরাজপুরী-স্থিতায়ৈ রাম-লক্ষণ-রক্ষিণীম্।
ক্ষীরগ্রাম-নিবাসিনীং যোগাদ্যাং প্রণমাম্যহম্॥"

​অর্থাৎ:
যিনি অহিরাজপুরীতে স্থিত হয়ে রাম ও লক্ষণকে রক্ষা করেছিলেন, সেই ক্ষীরগ্রাম-নিবাসিনী মা যোগাদ্যাকে আমি প্রণাম জানাই।
​ #মাযোগাদ্যা #ক্ষীরগ্রাম #মহাপীঠ #বাংলারঐতিহ্য #পুরাণকথা

আজকের বিষয়: চন্দননগরের জয় মা শীতলা — করুণাময়ী রক্ষাকর্ত্রী​বাংলার ঐতিহ্যে মা শীতলা কেবল একজন দেবী নন, তিনি হলেন গ্রাম-বা...
14/05/2026

আজকের বিষয়: চন্দননগরের জয় মা শীতলা — করুণাময়ী রক্ষাকর্ত্রী

​বাংলার ঐতিহ্যে মা শীতলা কেবল একজন দেবী নন, তিনি হলেন গ্রাম-বাংলার রক্ষাকর্ত্রী এবং শান্তিদায়িনী জননী। চন্দননগর, যা তার ফরাসি স্থাপত্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির জন্য পরিচিত, সেখানে মা শীতলার আরাধনা অত্যন্ত ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়।

​পুরাণ অনুসারে, মা শীতলা হলেন দেবী পার্বতীরই এক রূপ, যিনি রোগ-ব্যাধি (বিশেষত বসন্ত ও চর্মরোগ) থেকে ভক্তদের মুক্তি দান করেন। তাঁর হাতে থাকে কলস ও সম্মার্জনী (ঝাঁটা), যা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শুদ্ধির প্রতীক।

চন্দননগরের বিভিন্ন অঞ্চলে মায়ের যে প্রাচীন বিগ্রহ ও মন্দিরগুলো রয়েছে, তা যুগ যুগ ধরে ভক্তদের আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। লোকবিশ্বাস অনুসারে, নিষ্ঠাভরে মায়ের কাছে শীতল জল ও ভোগ নিবেদন করলে সংসারের অশান্তি ও জরা-ব্যাধি দূর হয়।

​আজকের এই তিথিতে চন্দননগরের পুণ্যভূমিতে মায়ের চরণে প্রণাম জানিয়ে আমরা প্রার্থনা করি, যেন জগত থেকে সমস্ত অমঙ্গল ও রোগ-ব্যথা দূর হয়। মা তাঁর শীতল আঁচলে আমাদের সবাইকে আগলে রাখুন। জয় মা শীতলা!

​একটি বিশেষ শ্লোক:

​"নমামি শীতলাং দেবীং রাসভস্থাং দিগম্বরীম্।
মার্জনী-কলশোপেতাং শূপালঙ্কৃত-মস্তকাস॥"

​অর্থাৎ:

গাধার পিঠে উপবিষ্টা, সম্মার্জনী ও কলসধারিণী এবং কুলা দিয়ে মস্তক অলঙ্কৃত সেই দেবী শীতলাকে আমি প্রণাম জানাই।

​ #মাশীতলা #চন্দননগর #বাংলারঐতিহ্য #রক্ষাকর্ত্রী #আধ্যাত্মিকতা

Address

Barki Saria

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Adhyatmik Chetana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share