11/12/2017
প্রতিবছর সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বহু মানুষ বাঘের কামড়ে মারা যান। ফলে তাদের স্ত্রীরা বিধবা হয়ে পড়েন। অভিযোগ, সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসনে সেরকম কোনওভাবে সহযোগিতা করা হয় না। সুন্দরবনের সেই সব পরিবারের পুনর্বাসনে এগিয়ে এল ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ। সঙ্ঘের উদ্যোগে সুন্দরবনের রায়দীঘির কঙ্কনদীঘিতে শুরু হল ‘বাঘ বিধবা’ প্রকল্প। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, সুন্দরবন এলাকায় পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত মানুষদের উন্নয়নে নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ। এই বাঘ বিধবারা নানা ভাবে বঞ্চিত। অনেকের স্বামী মারা যাবার পর দুবেলা খাবারও জোটে না। কঙ্কনদীঘিতে প্রায় 250 পরিবার আছে এই বাগ বিধবারা থাকেন। প্রাথমিকভাবে সঙ্ঘ 100 টি পরিবারের বিধবাদের নানা ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বাকি পরিবারগুলিকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
বিশ্বাত্মানন্দ জানান, ডিসেম্বরের শুরুতেই তিনি এইসব বাগ বিধবাদের গ্রাম পরিদর্শন করে তাদের হাতে গরম জামাকাপড়, কম্বল, খাদ্যদ্রব্র তুলে দিয়েছেন। এই সব বিধবাদের হাতের কাজ,সেলাই, বড়ি তৈরি, কাপড় বোনা সহ নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তারা নিজেরাই রোজগার করে সংসার চালাতে পারে। ইতিমধ্যেই সঙ্ঘের রায়দীঘির মৈপিঠ বৈকুন্ঠপুর প্রনবানন্দ বিদ্যানিকেতনের মাধ্যমে সেই কাজ শুরু করা হয়েছে।কঙ্কন দীঘির মৈপিঠ, বৈকুন্ঠপুর, কিশোরী মোহনপুর, নগেনাবাদ, বিনদপুর ও জামতলা এলাকায়। এই সব গ্রামের বাসিন্দারা ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সহযোগিতা পেয়ে খুবই উপকৃত।
বছর খানেক আগে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের কামড়ে মৃত্যু হয় সুমিত্রা দাসের স্বামী দশরথ দাসের। তিন বছর আগে বাঘের পেটে চলে যায় আর এক বাসিন্দা সুমিত্রা ঢালির স্বামী শ্রীমন্ত ঢালি। তার পর থেকে এই সব পরিবারগুলি বাড়ি বাড়ি কাজ করে প্রায় অনাহারে দিন কাটে। এদিন ভারত সেবাশ্রমের সাহায্য পেয়ে তারা খুবই খুশি।