যদা যদাহি ধর্ম্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্ম্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।৭
অর্থঃ-(৭) হে ভারত! যখনই যখনই ধর্ম্মের গ্লানি এবং অধর্ম্মের অভ্যুত্থান হয়, আমি সেই সেই সময়ে নিজেকে সৃষ্টি করি (দেহ ধারণপূর্ব্বক অবতীর্ণ হই)।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুস্কৃতাম্।
ধর্ম্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।৮
অর্থঃ-(৮) সাধুগণের পরিত্রাণ, দুষ্টদিগের বিনাশ এবং ধর্ম্মসংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবত
ীর্ণ হই।
আজ থেকে ৫০০০ বছর আগে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণ জন্ম গ্রহন করে মাতা দেবকি ও পিতা বাসুদেব এর কোলে.শ্রী কৃষ্ণের জন্ম তারিখ হলো 18 July 3228BCE.কংসের অত্যাচারের জন্য বাসুদেব তাকে গোকুলে মাতা যোশোদা ও পিতা নন্দ এর ঘরে রেখে আসে.শ্রীকৃষ্ণের মুল উদ্দেশ্য ছিলো অত্যাচারি কংসকে হত্যা করা.তিনি ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন্ লিলা খেলার মাধ্যমে সর্বদা তার বন্ধু ও প্রতিবেশিদের আনন্দিত রাখতেন.এছারা কংসের পাঠানো পুতনা,ত্রিনাবার্ত,বকাসুর ইত্যাদি রাক্ষসদের বধ করেন. এছারা কালীয় নাগের বিষ থেকেও সকল মানুষকে রক্ষা করেন.এবং শ্রী কৃষ্ণ ও বলরাম যায় কংস বধ করতে সেখানে চানু ও মুষ্টিক কে শ্রী কৃষ্ণ ও বলরাম যুদ্ধে হারায় ও শ্রীকৃষ্ণ ও কংসের মধ্যে ভিষন যুদ্ধ হয় ও শ্রীকৃষ্ণ বিজয় হয় তার মাতা পিতাকে ও সকল মানুষকে কংসের হাত থেকে মুক্ত করে.পরবর্তি কালে তাকে মহাভারতে অংশ নিতে দেখা যায় পান্ডব পত্নি দ্রৌপদির বস্ত্রহরনের সময় তিনি দ্রৌপদিকে রক্ষা করেন. মহাভারতে বিশাল ধর্মযুদ্ধে অর্জুনের সারথি হয়.অর্জুনকে বিশ্বরুপ দর্শন করায় ও গীতার জ্ঞান দেয়.গীতাই হলো সকল মানুষের শান্তিতে চলার পথ.গীতায় কৃষ্ণ বলেছেন "হে পার্থ সকল ধর্ম পরিত্যাগ করে আমার স্বরনে আসো আমি তোমাকে সকল পাপ থেকে মুক্ত করবো"এই ধর্মযুদ্ধে ধর্মের জয়ের হয় কিন্তু কৌরব মাতা গান্ধারির একশত অধর্মি পুত্রের মৃত্যু হলে মাতা গান্ধারি কৃষ্ণ যদু বংস ধ্বংস হবে বলে অভিশাপ দেয় কৃষ্ণ হাসি মুখে সেই অভিশাপ গ্রহন করে.এছারা কৌরবদের পিতা ধৃতরাষ্ট্র ভীমকে জরিয়ে ধরার নামে ভীমকে হত্যা করতে চেয়েছিলো কারন ভীম তার শত অধর্মিপুত্রকে হত্যাকরে.ভগবান কৃষ্ণ আগে থেকে ধৃতরাষ্ট্রের মতলব বুঝতে পেরে ভিমের জায়গায় এক লৌহ মুর্তি ধৃতরাষ্ট্রকে দেয় ধৃতরাষ্ট্র ছিলো জন্মঅন্ধ তাই সে নাবুঝে সেই লৌহ মুর্তিটিকে ভীম মনে করে জোরে চেপে ভেঙেফেলে ফলে ভীম রক্ষা পায়.অনেক বছর রাজত্ব করার পর কৃষ্ণের গান্ধারির অভিশাপের কথা মনে পরে তখন কৃষ্ণ দেখে তার দাদা বলরাম ধ্যান করছে এবং মুখ থেকে এক শতমুখী সাপ নির্গত হয়ে সমুদ্রে ভেসে গেছে তখন কৃষ্ণ বুঝলো যে তার দাদা বলরাম দেহত্যাগ করেছে.কৃষ্ণ একটি গাছের উপর বসলে এক ব্যাধ তার চরনটিকে হরিন মনে করে তীর মারলে পরে বোঝে যে সেটি শ্রীকৃষ্ণ.তখন ব্যাধ শ্রীকৃষ্ণের কাছে ক্ষমা চাইলে শ্রীকৃষ্ণ বলে পুর্ব জন্মে ব্যাধটি বালিপুত্র অঙ্গদ ছিলো তখন কৃষ্ণ রাম অবতারে এসে তাকে কথা দেয় এই জন্মে তার মৃত্যু হবে তার হাতেই তাই তাকে আর ক্ষমা চাইতে হবেনা.শ্রীকৃষ্ণ এই পৃথিবী ত্যাগ করে পুনরায় স্বর্গে ফিরে গেলেন এবং পরে পুরো দ্বারকা নগরীকে সমুদ্র এসে গ্রাস করে(বর্তমানে আরব সাগরের নীচে দ্বারকা নগরীর অস্তিত্ব মিলেছে).