16/04/2026
রঘু দাসের শ্রীজগন্নাথ দর্শন-
একসময় পুরীধামে ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের একজন মহান ভক্ত ছিল। সে শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের সিংহদ্বারের কাছে একটি বড় ছাতার নিচে থাকত। একবার সে যখন জগন্নাথ দর্শন করতে গেল, তখন সে বিগ্রহবেদীতে রাম, লক্ষণ ও সীতাদেবীর দর্শন পেল। সেইদিন থেকে তাঁর দৃঢ়বিশ্বাস হল যে, শ্রীজগন্নাথ শ্রীরামচন্দ্র থেকে অভিন্ন। শ্রীজগন্নাথের প্রতি রঘুর সখ্য প্রীতি জন্মাল।
একবার রঘু শ্রীজগন্নাথের জন্য একটি সুন্দর মালা গেঁথে জগন্নাথকে দেয়ার জন্য সে পূজারীকে দিল। কিন্তু পূজারী সেটি ভগবানকে দিতে চাইলেন না, কেননা কলার বাকল থেকে সূতো তৈরী করে রঘু মালাটি গেঁথেছিল। সেই সময়ে জগন্নাথ মন্দিরে এইসব দ্রব্য নিষিদ্ধ ছিল। তাঁর মালাটি জগন্নাথকে দেয়া হল না দেখে রঘু অত্যন্ত দুঃখিত, বিমর্ষ হয়ে মন্দির ত্যাগ করল।
সেইদিন সন্ধ্যায় পূজারী সন্ধ্যারতি সমাপন করলেন। ভগবান শয়নে যাওয়ার পূর্বে পূজারীরা তাঁকে একটি বিশেষ বেশ পরান, যাকে বলা হয় বড়-শৃঙ্গার বেশ। সেদিন এইভাবে বেশ কয়েকবার পূজারী ভগবানের শ্রীঅঙ্গ ফুল দিয়ে সাজাতে শুরু করলেন। কিন্তু বিস্ময়ের সাথে তিনি লক্ষ্য করলেন যে, ভগবানের দেহে একটি ফুলও থাকছে না, ভগবান কোনও ফুলই গ্রহণ করছেন না। সমস্ত পূজারীরা এই ভেবে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন যে তাঁরা নিশ্চয়ই কোন গর্হিত অপরাধ করেছেন। কিন্তু কি সেই অপরাধ? তাঁরা সকলে স্থির করলেন যে তাঁরা কি অপরাধ করেছেন তা জানবার জন্য তাঁরা সকলে মন্দিরেই শয়ন করবেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না ভগবান তাঁদেরকে তাঁদের অপরাধ সম্বন্ধে বলছেন, তাঁরা উপবাসী থাকবেন। সেইদিন রাত্রেই জগন্নাথ প্রধান পূজারীর নিকট স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে বললেন, "আমার ভক্ত রঘু দাস আমার জন্য একটি ফুলের মালা এনেছিল। সে কত ভক্তি ও প্রীতি সহকারে সেটি গেঁথেছিল! তুমি কেবল বাইরে থেকে সূতোটি দেখে তাঁকে ফিরিয়েছ - আমাকে মালা অর্পণ করার অনুমোদন দেও নি। এখন আমার সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আমার ভক্ত তাঁর বাড়িতে মালাটি সামনে রেখে বিষণ্ণ মনে শয়ন করে আছে; সে কিছুই আহার করেনি, আর অবিরাম অশ্রুপাত করছে, এখনও সে নিদ্রা যায়নি। আমার ভক্তের মনোহভিলাষ পূর্ণ না হলে আমি কিভাবে তোমাদের কাছ থেকে মালা গ্রহণ করে নিদ্রা যাব?"
তৎক্ষণাৎ পূজারী জেগে উঠে অন্যান্য পূজারীদেরকে সব কথা জানালেন। তখন তাঁরা সকলে রঘুদাসের কাছে গিয়ে অপরাধ স্বীকার করলেন এবং শ্রীজগন্নাথদেবকে তাঁর মালা অর্পণ করতে বললেন। রঘু দাস অত্যন্ত খুশি হল এই শুনে যে, ভগবান এতই করুণাময় যে তিনি স্বয়ং তাঁর মালা গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছেন। রঘুদাস আনন্দে বিহ্বল হল।
জয় জগন্নাথ।