রাঢ়ের স্থাপত্য ও ঐতিহ্যময় নিদর্শন

  • Home
  • India
  • Bankura
  • রাঢ়ের স্থাপত্য ও ঐতিহ্যময় নিদর্শন

রাঢ়ের স্থাপত্য ও ঐতিহ্যময় নিদর্শন Independent Researcher

বাঁকুড়ার বড়কালীতলার ঐতিহাসিক 'বৈপ্লবিক বাড়ি' ছিল ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রফুল্ল চাকী ও মুকুন্দ দাসের মতো বিপ্লবীদের আত্ম...
29/08/2026

বাঁকুড়ার বড়কালীতলার ঐতিহাসিক 'বৈপ্লবিক বাড়ি' ছিল ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, প্রফুল্ল চাকী ও মুকুন্দ দাসের মতো বিপ্লবীদের আত্মগোপনের বীরত্বগাথা স্মৃতিবিজড়িত এক অমূল্য জাতীয় ঐতিহ্য। এই ঐতিহাসিক ভবনের মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষায় অতীতেও আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে লড়াই করেছিলাম; আজ পরিকল্পিত ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে বাড়িটিকে সরকারিভাবে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণার দাবিতে প্রয়োজনে আবার সেই লড়াই চালিয়ে যাব।

শৈবতীর্থ এক্তেশ্বর: হেরিটেজ সার্কিট, শ্রাবণী মেলা ও পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত​পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের পুণ্যভূমি বাঁক...
29/07/2026

শৈবতীর্থ এক্তেশ্বর: হেরিটেজ সার্কিট, শ্রাবণী মেলা ও পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
​পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের পুণ্যভূমি বাঁকুড়ার দ্বারকেশ্বর নদের তীরে অবস্থিত এক্তেশ্বর মন্দির কেবল একটি প্রাচীন উপাসনালয় নয়, এটি ভারতের অন্যতম প্রধান এবং ঐতিহাসিক শৈব তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠার সবরকম উপাদান বহন করে। মাকড়া (ল্যাটেরাইট) পাথরে নির্মিত এই ত্রিরথ দেউলটির স্থাপত্যশৈলী ও প্রাচীনত্ব একে বাংলার ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ সার্কিটের একটি অন্যতম শীর্ষবিন্দুতে উন্নীত করার দাবি রাখে। এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি সুসংহত পর্যটন মানচিত্র বা সার্কিট কল্পনা করা অত্যন্ত সহজসাধ্য; যেখানে এক্তেশ্বরের ঐতিহাসিক পীঢ়া দেউলের সমান্তরালে যুক্ত হতে পারে সোনাতপল ও বহুলাড়ার দ্বাদশ শতকের অনন্য নাগরশৈলীর ইটের দেউল, রাজগ্রাম ও পাঠকপাড়ার সূক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত টেরাকোটা মন্দির, এবং প্রাচীন শ্রেষ্ঠ পুরাকীর্তি বিক্রমপুরের গোপাল জিউ মন্দির।
​এই সমগ্র প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলটি যেভাবে রাঢ়বঙ্গের প্রাচীন আদিবাসী জনজাতির একেশ্বরবাদী ধর্মচেতনা, জৈন-বৌদ্ধ প্রভাব এবং মধ্যযুগীয় মল্লরাজন্যবর্গের ইতিহাসের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে, তা দেশীয় পুণ্যার্থী থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি-অনুসন্ধিৎসু ও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য এক আদর্শ ক্ষেত্র। চৈত্র সংক্রান্তির বর্ণিল চোতগাজন ও লোক-ঐতিহ্যের চড়ক মেলার পাশাপাশি এখানকার প্রধানতম আকর্ষণ হলো শ্রাবণী মেলা।
এই মেলা উপলক্ষে পুণ্যার্থীরা শুশুনিয়া পাহাড়ের প্রাকৃতিক ঝরনা থেকে জল সংগ্রহ করে বাঁকে তুলে নেন। এরপর পদব্রজে যাত্রা করে সেই পুণ্যতোয়া জল বাবার মস্তকে অর্পণ করেন। যা পরিব্রাজকদের ঐতিহাসিক জল ঢালার প্রথা। শ্রাবণ মাস জুড়ে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ও আধ্যাত্মিক উদ্দীপনা এই তীর্থভূমিকে এক অনন্য উচ্চতা দান করে।
​গর্ভগৃহের অনন্য ‘একপাদেশ্বর’ শিবলিঙ্গের আধ্যাত্মিক মহিমা ও এই বর্ণিল লোক উৎসবগুলিকে যদি যথাযথ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটি প্রথম সারির জাতীয় তীর্থক্ষেত্র ও হেরিটেজ জোন হিসেবে তুলে ধরা যায়, তবে এটি ভারতের মানচিত্রে অন্যতম বৃহৎ, প্রাণবন্ত এবং তারকেশ্বরের সমকক্ষ একটি আন্তর্জাতিক শৈব সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

02/07/2026

কংসাবতী-কুমারী উপত্যকার পুরাকীর্তি ও পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন সম্ভাবনা: একটি বিস্তৃত সমীক্ষা
​রাঢ়বঙ্গের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে কংসাবতী ও কুমারী নদীর অববাহিকা—বিশেষত মুকুটমণিপুর, অম্বিকানগর এবং পরেশনাথ অঞ্চল—প্রাগৈতিহাসিক প্রত্ন-আয়ুধের প্রাপ্তিযোগ এবং আদি-মধ্যযুগীয় জৈন ও হিন্দু সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয়ক্ষেত্র। ১৯৫৯ সালে মুকুটমণিপুরের কংসাবতী ও কুমারী নদীর সংযোগস্থলে বাঁধ নির্মাণের সময় সারেঙ্গগড় ও পরেশনাথসহ অন্তত ৪০টি প্রাচীন জনপদ, সনাতন হিন্দু স্থাপত্য ও জৈন বসতি জলের তলায় চলে যায়। তা সত্ত্বেও, পরেশনাথের প্রায় ছয় ফুটের তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথের প্রতিমা, ক্লোরাইট পাথরের বীরস্তম্ভ এবং অম্বিকানগরের জৈন শাসনদেবী অম্বিকা (যিনি বর্তমানে হিন্দু মাতৃকারূপে সিঁদুর ও উজ্জ্বল নকল চোখে পূজিত) এই অঞ্চলের প্রাচীন ধর্মীয় বিবর্তনের অকাট্য ঐতিহাসিক দলিল। ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, সেন রাজাদের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত ‘সেনেরগড়’ এবং রাজস্থানের ক্ষত্রিয় রাজা জগন্নাথ ও তাঁর পৌত্র অনন্ত ধবলদেবের রাজধানী হিসেবে অম্বিকানগর একদা এক সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল।
​বর্তমানে বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটনকেন্দ্র মুকুটমণিপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিশাল জলাধার, বোটিং এবং হরিণ উদ্যানের (Deer Park) আকর্ষণে শীতের মরসুমে বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটে। তবে আধুনিক পর্যটনতত্ত্বে (Tourism Studies) কেবল এই প্রাকৃতিক প্রমোদ-ভ্রমণই যথেষ্ট নয়; এর সমান্তরালে অম্বিকানগরের ভৈরব শিবের ভগ্ন দেউলসহ কংসাবতী উপত্যকার প্রাচীন প্রত্নস্থলগুলির বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ ও একটি সুসংহত ‘হেরিটেজ ট্যুরিজম সার্কিট’ গঠন একান্ত জরুরি। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) বা রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সক্রিয় উদ্যোগে এই অবহেলিত ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির সংস্কার করা সম্ভব হলে, তা একদিকে যেমন গবেষক ও ইতিহাস-অনুসন্ধিৎসু পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াবে, অন্যদিকে তেমনই দায়িত্বশীল পরিবেশ-বান্ধব পর্যটনের (Eco-Tourism) মাধ্যমে স্থানীয় হস্তশিল্পের প্রসার ঘটিয়ে আঞ্চলিক অর্থনীতির স্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী বিকাশ ঘটাবে।
​তথ্যসূত্র
• ​দাশগুপ্ত, পরেশচন্দ্র। সুবর্ণরেখার প্রাঙ্গণে অরণ্যকন্যা কংসাবতী। কলকাতা।
• ​বরাট, বিপ্লব। (২০২৪). প্রত্নকল্পতরু দ্বারকেশ্বর: ক্ষেত্রসমীক্ষায় নৃতাত্ত্বিক অনুসন্ধান। বাঁকুড়া: নিদর্শন সাহিত্য প্রকাশনী।
• ​বন্দ্যোপাধ্যায়, রাখালদাস। (১৯২৫). অম্বিকানগর ও সারেঙ্গগড় প্রত্ন-পরিমণ্ডল প্রতিবেদন।
• ​Archaeological Survey of India (ASI). Annual Report on Eastern Indian Antiquities & Jain Vestiges in Bankura District.

পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্ব পাওয়ার দাবিদার বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের কালঞ্জয় শিব মন্দিরের কাছের ঘোষাল পাড়া, যা বাংলার অনন্য স্থা...
04/06/2026

পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্ব পাওয়ার দাবিদার বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের কালঞ্জয় শিব মন্দিরের কাছের ঘোষাল পাড়া, যা বাংলার অনন্য স্থাপত্যশৈলীর এক অনবদ্য নিদর্শন। এখানকার মূল আকর্ষণ তিনটি মন্দির— প্রথমত, ল্যাটেরাইট পাথরের তৈরি ত্রি-খিলানযুক্ত আটচালা রঘুনাথ মন্দির, যেখানে শালগ্রাম শিলা পূজিত হন এবং এর গায়ে কৃষ্ণলীলা, রামরাজা, গণেশজননী, দশাবতার ও সামাজিক দৃশ্যের বিস্ময়কর টেরাকোটা অলংকরণ রয়েছে; দ্বিতীয়ত, পাশের পঞ্চরথ শিব দেউল, যার খিলানশীর্ষে হর-পার্বতীর চমৎকার টেরাকোটা ভাস্কর্য এবং প্রবেশদ্বারের কাঠের কপাটে প্রাচীন ঐতিহ্যের সুচারু অলংকৃত কারুকার্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়; এবং তৃতীয়ত, তিন-খিলানযুক্ত বারান্দা ও ঢেউখেলানো ছাদের অভিনব দালান কালী মন্দির, যার দেওয়ালে পলস্তারার সূক্ষ্ম নকাশি কাজ এবং পিছনের দেওয়ালে বড় আকারের কালী বিগ্রহসহ অহল্যা উদ্ধার ও কয়েকটি প্রাচীন পোড়ামাটির মূর্তি নিবদ্ধ আছে। বর্ধমান বা বিষ্ণুপুর থেকে বাস অথবা পাত্রসায়ের রেলস্টেশন থেকে টোটোয় কালঞ্জয় শিব মন্দির হয়ে মাত্র ৫ মিনিটের হাঁটা পথে এই ঐতিহ্যস্থলে পৌঁছানো যায়।

পুরুলিয়ার গড়পঞ্চকোট পাহাড়ের পাদদেশে ভারতবর্ষীয় জৈন দিগম্বর সমিতির উদ্যোগে সম্প্রতি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘জৈন ঐতিহ্য দিবস...
28/04/2026

পুরুলিয়ার গড়পঞ্চকোট পাহাড়ের পাদদেশে ভারতবর্ষীয় জৈন দিগম্বর সমিতির উদ্যোগে সম্প্রতি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘জৈন ঐতিহ্য দিবস’ উদযাপিত হলো। গবেষক নির্মল কুমার জৈনের জন্মতিথি স্মরণে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে রজত সুরানার আমন্ত্রণে যোগ দিতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এএসআই (ASI) বড়োদরা রিজিয়নের প্রধান শুভ মজুমদার এবং সঞ্চালক রাজকুমার শেঠীর উপস্থিতিতে এই আয়োজন এক অনন্য মাত্রা পায়। এই মাহেন্দ্রক্ষণে জৈন তীর্থঙ্কর চন্দ্রপ্রভুর মন্দির পুনঃস্থাপন ও জৈন পুরাকীর্তি সংরক্ষণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নদী, প্রকৃতি ও পুরাকীর্তি রক্ষার যে ব্রত ও কাজ নিয়ে আমি নিরন্তর এগিয়ে চলছি, সেই প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে আমাকেসহ (বিপ্লব বরাট) রামামৃত সিংহ মহাপাত্র, সুভাষ রায়, সুখময় মাঝি, তপন মাঝি, শিবশঙ্কর সিংহ ও মধুসূদন মাঝিসহ মোট আটজন গবেষককে সংবর্ধিত করা হয়। দীর্ঘ দিন পর প্রিয় শুভদার সান্নিধ্য লাভ এবং চন্দ্রপ্রভুর আশীর্বাদপুষ্ট এই সম্মাননা প্রাপ্তি আমার গবেষক জীবনে এক অবিস্মরণীয় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে

বাঁকুড়ার দারুশিল্পের নবদিগন্ত: কেঞ্জাকুড়ার কর্মকার শিল্পীদের কাষ্ঠ-ভাস্কর্য​বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা ঘোড়ার বিকল্...
19/03/2026

বাঁকুড়ার দারুশিল্পের নবদিগন্ত: কেঞ্জাকুড়ার কর্মকার শিল্পীদের কাষ্ঠ-ভাস্কর্য

​বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা ঘোড়ার বিকল্প ও টেকসই রূপ হিসেবে ষাটের দশকে কাষ্ঠমূর্তি বা দারু-তক্ষণের যে উদ্ভাবন ঘটেছিল, বর্তমানে কেঞ্জাকুড়ার কর্মকার শিল্পীরা তাকে এক অনন্য নান্দনিক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। মূলত গামার, সোনাঝুরি বা অর্জুন কাঠের তক্তায় হাতুড়ি ও বাটালির নিপুণ আঁচড়ে তাঁরা পদ্ম, পুষ্পিত লতা, মকর এবং জ্যামিতিক নকশার মতো চিরাচরিত লোকায়ত মটিফ ফুটিয়ে তোলেন। রামপুর থেকে সূচিত এই শিল্পধারা আজ জগদ্দলা ও খাতড়া ছাড়িয়ে কেঞ্জাকুড়ার সাধন কর্মকারের মতো শিল্পীদের সৃজনশীলতায় বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে। কেবল ঘোড়া নয়, বরং হাতি, বাইসন ও বিবিধ পশুপক্ষীর এই জীবন্ত ভাস্কর্যগুলি বর্তমানে গৃহসজ্জা ও উপহার হিসেবে রুচিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং প্রাচীন কারিগরি ঐতিহ্যের এক সার্থক আধুনিক বিবর্তনকে তুলে ধরে।

​তথ্যসূত্র: সমীক্ষা— বিপ্লব বরাট, সাথী— সুদীপ দাস ও রাজীব অধিকারী; ২৫/২/২০২৬; দারু শিল্পী— সাধন কর্মকার, কেঞ্জাকুড়া, বাঁকুড়া।

পুরাতত্ত্বের আঙিনায় এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতামাননীয় অজয় কুমার ঘোষ মহাশয়ের আহ্বানে বর্ধমান ইতিহাস ও পুরাতত্ত্ব চর্চা কেন্দ্র...
15/03/2026

পুরাতত্ত্বের আঙিনায় এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা

মাননীয় অজয় কুমার ঘোষ মহাশয়ের আহ্বানে বর্ধমান ইতিহাস ও পুরাতত্ত্ব চর্চা কেন্দ্রের সপ্তদশ বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করা আমার নিকট এক অবিস্মরণীয় প্রাপ্তি। ভাষাচার্য সুকুমার সেনের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এই অধিবেশনে রাঢ়বঙ্গের বিলুপ্তপ্রায় মাদার নাচ (তাপস কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়), বহুরূপী সংস্কৃতি (বনবীণা মুখোপাধ্যায়), স্বাধীনতা সংগ্রাম (সন্তোষ কুমার হাজরা), মুসলিম নারী সমাজ (সৈয়দ সেরিনা) এবং বাংলা ভাষার উৎসতত্ত্ব (শম্ভুনাথ ভট্টাচার্য) বিষয়ক তাত্ত্বিক প্রবন্ধগুলো আঞ্চলিক ইতিহাসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। সভার অধিবেশন পর্বে সভাপতি হিসেবে গবেষকদের এই সারস্বত ভাববিনিময়ে ঋদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রিয় লেখক সান্দীপনি ভট্টাচার্যের 'জীবন কৃতী সম্মান ২০২৬' এবং ড. বিমল কুমার থান্ডার, ড. যুগল মুখোপাধ্যায় ও বাঁকুড়ার লক্ষ্মীকান্ত পাল ও প্রসেনজিৎ সরকারের বিশেষ সম্মাননা প্রাপ্তি অনুষ্ঠানকে মহিমান্বিত করেছে। হিমাদ্রি শংকর দে, সঞ্জীব চক্রবর্তী ও সর্বজিৎ যশ মহাশয়ের সান্নিধ্যে কাটানো সেই মুহূর্তগুলো আমাকে এটাই শিখিয়েছে যে, নিষ্ঠার সঙ্গে পুরাতত্ত্ব চর্চা করলে মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

আজকে পাঁচমুড়াতে ❤️ মৃৎশিল্পের নান্দনিক উত্তরাধিকার​বিষ্ণুপুর থেকে ২১ কিমি এবং তালডাংরা থেকে ১২ কিমি দূরত্বে অবস্থিত সমৃদ...
09/02/2026

আজকে পাঁচমুড়াতে ❤️

মৃৎশিল্পের নান্দনিক উত্তরাধিকার
​বিষ্ণুপুর থেকে ২১ কিমি এবং তালডাংরা থেকে ১২ কিমি দূরত্বে অবস্থিত সমৃদ্ধ গ্রাম পাঁচমুড়া বর্তমানে বিশ্বজনীন মৃৎশিল্পের এক অনন্য পীঠস্থান। এখানকার কুম্ভকার সম্প্রদায়ের নিপুণ হস্তশৈলীতে নির্মিত ‘বাঁকুড়ার ঘোড়া’ আজ বিশ্বশিল্পের আঙিনায় ভারতীয় লোকায়ত ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নান্দনিক প্রতীক। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী রাসবিহারী কুম্ভকারের উত্তরসূরিদের হাতে তৈরি প্রতিটি শিল্পদ্রব্য যেমন একদিকে মাটির আদিম শিল্পতত্ত্বকে বহন করে, অন্যদিকে তার সূক্ষ্ম অলংকরণ ও রূপতাত্ত্বিক গাম্ভীর্য দেশবিদেশের শিল্পরসিকদের কাছে এক উচ্চাঙ্গ চারুশিল্পের মর্যাদা পায়। ঐতিহ্যের বিশুদ্ধতা ও আধুনিক রুচির মেলবন্ধনে পাঁচমুড়া আজও এক সজীব সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।

ভূতেশ্বর গ্রামের লোকায়ত ঐতিহ্য: দেবী সঙ্কটতারিণী ও মাটির জোড়া পুতুলের ব্রতকথা​বাঁকুড়া শহরের মাত্র চার কিলোমিটার পূর্বে, ...
05/02/2026

ভূতেশ্বর গ্রামের লোকায়ত ঐতিহ্য: দেবী সঙ্কটতারিণী ও মাটির জোড়া পুতুলের ব্রতকথা
​বাঁকুড়া শহরের মাত্র চার কিলোমিটার পূর্বে, গন্ধেশ্বরী ও দ্বারকেশ্বর নদের সঙ্গমস্থলে ল্যাটারাইট মৃত্তিকার প্রাচীন উচ্চভূমিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক প্রত্ন-ক্ষেত্র ভূতেশ্বর গ্রাম। এই গ্রামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দেবী সঙ্কটতারিণীর বিশেষ পূজা ও মেলা, যা প্রতি বছর সরস্বতী পুজোর ঠিক চৌদ্দ দিন পর ফাল্গুনের কৃষ্ণা চতুর্থী তিথিতে উদযাপিত হয়। এই অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজপুত ক্ষত্রিয়দের আরাধ্য এই দেবীর কোনো নির্দিষ্ট মন্দির বা মূর্তি নেই; বরং বাসক গাছের ঘেরাটোপে উন্মুক্ত আকাশের নিচে এক বেদীতে তিনি বিরাজমান। দেবীর প্রতীক হিসেবে তিন ইঞ্চি ব্যাসের একটি রুপোর কৌটো ব্যবহৃত হয়, যা ‘ফার্টিলিটি গড’ বা ‘কৌটোদেবী’ হিসেবে পরিচিত। কৌটোর অভ্যন্তরে কী রহস্য নিহিত আছে, তা আজও লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেছে এবং এটি সেবাইত সিংহ পরিবারে সংরক্ষিত থাকে। পুজোয় প্রধান উপকরণ হিসেবে নিবেদিত হয় বাসকফল ও গুড়ের নাড়ু, যা স্থানীয়দের কাছে ‘পাহাড়’ নামে পরিচিত। ব্রতিনীরা দুপুর থেকে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত ঘিয়ের প্রদীপ জ্বেলে কৃচ্ছ্রসাধন করেন এবং সন্ধ্যাবেলায় চাঁদ দেখে জলপান করে ব্রত সমাপ্ত করেন। এই উৎসবের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো ‘মাটির জোড়া পুতুল’ মানত করা। সেঁন্দরার সন্ন্যাসী কুম্ভকার পরিবারের তৈরি দেড়-দুই ইঞ্চির ছেলে ও মেয়ের এই মাটির পুতুলগুলো আইবুড়ো ছেলে-মেয়েরা নিজেদের নামে ‘মানসিক’ হিসেবে অর্পণ করে। এছাড়া মানত হিসেবে মাটির হাতি-ঘোড়াও উৎসর্গ করা হয়। লোকায়ত বিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় আচারের এই মেলবন্ধনে ভূতেশ্বরের এই মেলা আজ এক সমৃদ্ধ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
​তথ্য ও চিত্রঋণ: বিপ্লব বরাট।

Address

Lalbazar Second Feeder Road
Bankura
722101

Opening Hours

9am - 5pm

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রাঢ়ের স্থাপত্য ও ঐতিহ্যময় নিদর্শন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category