04/01/2026
মা ভৈরবী -- পর্ব -২
🌺 🌺 🌺 🌺 🌺 🌺 🌺 🌺 🌺 🌺 🌺
আজ রবিবার, সপ্তাহের প্রথম দিন, আজ থেকে চলবে দশমহাবিদ্যা পর্ব ।
Dasha Mahavidyā (দশ মহাবিদ্যা) হলো হিন্দু তন্ত্র ও শক্তি উপাসনায় দেবী শক্তির দশটি প্রধান মহারূপ। এরা প্রত্যেকেই দেবীর ভিন্ন ভিন্ন রূপ, শক্তি ও তত্ত্বকে প্রকাশ করেন, আজ আমরা জানবো দশমহাবিদ্যা পঞ্চমরূপ অর্থাৎ ভৈরবী রূপ সমন্ধে
মা ভৈরবী দশ মহাবিদ্যার পঞ্চম রূপ। তিনি দেবী শক্তির সেই ভয়ংকর অথচ কল্যাণময় প্রকাশ, যিনি তপস্যা, তেজ, শুদ্ধি ও আত্মজাগরণের প্রতীক। “ভৈরবী” শব্দটি এসেছে “ভৈরব” থেকে, যার অর্থ—ভয়ংকর, তেজস্বী ও সর্বভুক শক্তি। তিনি ভগবান শিবের ভৈরব রূপের শক্তি।
রূপ ও প্রতীক
মা ভৈরবীর গায়ের রং সাধারণত লাল বা অগ্নিবর্ণ, যা কামনা, ক্রিয়া ও তপস্যার প্রতীক।
তাঁর তিনটি নয়ন—সূর্য, চন্দ্র ও অগ্নির প্রতিফলন।
হাতে থাকে—
ত্রিশূল – অজ্ঞান, অহংকার ও আসক্তি বিনাশ
জপমালা – সাধনা ও ধ্যান
পুস্তক – জ্ঞান ও শাস্ত্র
কখনও তাঁকে সিংহ বা পদ্মাসনে অধিষ্ঠিত দেখা যায়।
তাত্ত্বিক তাৎপর্য
মা ভৈরবী আমাদের শেখান—
আত্মশুদ্ধি ব্যথাহীন নয়
ভয় ও সংযমই শক্তির উৎস
ইন্দ্রিয় দমন ও নিয়মই মুক্তির পথ
তিনি মূলত কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণের দেবী। তাই গুরু-নির্দেশ ছাড়া তাঁর উপাসনা তন্ত্রে নিষিদ্ধ বলে ধরা হয়।
উপাসনা ও সাধনা
মা ভৈরবীর উপাসনা সাধারণত—
নবমী তিথি
রাত্রিকালীন সাধনা
লাল ফুল, রক্তচন্দন, দীপ ও অগ্নি উপাসনা
তিনি বিশেষভাবে উপাসিত হন তান্ত্রিক সাধক, যোগী ও ব্রহ্মচারীদের দ্বারা।
🌺 🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺