11/04/2024
🙏🙏🙏🙏🙏🙏 জয়গুরু🙏🙏🙏🙏🙏🙏
"আশ্চর্য মাতৃভক্তি"
(শ্রীশ্রী ঠাকুর মহারাজের পালিতা কন্যা "বিমলা" মায়ের সুসন্তানদের মাতৃভক্তির অভূতপূর্ব কাহিনী)
শ্রীশ্রী ঠাকুর মহারাজের পালিতা কন্যা "বিমলা" মা'কে চেনেন না, নিগমানন্দ পরিবারে এমন মানুষ পাওয়া বোধহয় একেবারেই অসম্ভব!
আমরা বিশ্বাস করি নিগমানন্দ পরিবারের সকল সদস্যগণই অল্পবিস্তর বিমলা মাকে নিশ্চয়ই চেনেন। সেই জন্য বিমলা মাকে নতুন করে চিনিয়ে দেওয়ার দুঃসাহস আমারা আর দেখাচ্ছি না।
আজ আমরা আপনাদের বিমলা মা সম্পর্কে কিছু বলবো না, বলবো তাঁর সুসন্তানদ্বয়ের এক আশ্চর্য মাতৃভক্তির কাহিনী। আশাকরি, যা জানতে পেরে আপনারা সকলে অবশ্যই সমৃদ্ধ হবেন।
বিমলা মায়ের সুসন্তানদ্বয়ের প্রথমজন হলেন শ্রী নরেন্দ্র নাথ মাইতি, এবং দ্বিতীয়জন হলেন শ্রী হরেন্দ্র নাথ মাইতি। যারা নিজেদের গুরুসেবা গুনে নিগমানন্দ পরিবারে যথেষ্টই পরিচিত।
গুরু সন্তুষ্টি উৎপাদন হেতু শ্রীনরেন্দ্র নাথ মাইতি এবং শ্রীহরেন্দ্র নাথ মাইতির অবদান সত্যিই অসামান্য। তাঁরা গুরু নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে জ্ঞান, ভক্তি, ও কর্মের সমন্বয় সাধন করে আধ্যাত্ম পথে হয়েছেন যথেষ্ট উন্নীত।
আর, সেই জন্যই বোধহয় তাঁরা গড়তে পেরেছেন মাতৃভক্তির এক অদ্ভুত নিদর্শন।
আজ থেকে কিছুদিন আগের কথা।
আমরা খবর পেলাম পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কেলোমালের ভুবনকালুয়া গ্রামে, গ্রামের সমস্ত নরনারায়ণদের সেবা সহযোগে মহা সমারোহে ঠাকুর নিগমানন্দ দেবের এক বিশাল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে উপস্থিত হয়েছেন আসাম বঙ্গীয় সারস্বত মঠ ও নিগমানন্দ মিশনের শ্রদ্ধাভাজন সভাপতি তথা মঠের মোহান্ত ডঃ শ্রীমৎ স্বামী ব্রজেশানন্দ সরস্বতী মহারাজ। আসাম বঙ্গীয় সারস্বত মঠ ও নিগমানন্দ মিশনের শ্রদ্ধাভাজন সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী বিমলানন্দ সরস্বতী মহারাজ। আসাম বঙ্গীয় সারস্বত মঠের শ্রদ্ধেয় ট্রাষ্টি সহ অন্যান্য শ্রদ্ধেয় জ্ঞানীগুণী জন।
সেদিন আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো ঠাকুর নিগমানন্দ দেবের জেলা ভক্ত সম্মিলনী কিম্বা বিভাগীয় ভক্ত সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কিন্তু পরে বুঝলাম সেখানে তা হচ্ছিল না।
সেখানে ঠাকুর নিগমানন্দ দেবেরই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছিল বটে! তবে সে অনুষ্ঠানের কারণ ছিল অন্য। যা জানতে পেরে আমরা রিতিমত অবাক হয়ে যায়! এবং সেই সাথে ভীষণ আনন্দিতও হই।
সেখানে গিয়ে জানলাম, শ্রী নরেন্দ্র নাথ মাইতি এবং শ্রীহরেন্দ্র নাথ মাইতির আন্তরিক আহ্বানে তাঁদের পরলোকগতা, গর্ভধারিনী মাতৃ দেবীর (স্নেহশীলা মা) শুভ জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শ্রীশ্রী ঠাকুর মহারাজের সেই বিশাল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সেদিনের অনুষ্ঠানের পর থেকে আমাদের এই কথাগুলো বারবার ভাবাচ্ছিল, যে মায়ের প্রতি কতটা শ্রদ্ধা, ভালোবাসা থাকলে এই অসাধ্য সাধন করা যায়!
যিনি এই জগতে আর নেই, যার কাছে বিন্দুমাত্র চাওয়া পাওয়া নেই, তাঁর প্রতি এখনো এতো শ্রদ্ধা! এতো ভালোবাসা! কি করে সম্ভব!
সেইসাথে বারবার এটাও মনে হচ্ছিল, একজন মানুষের মৃত্যুর কয়েক দশক পরেও যদি তাঁর প্রতি এতো শ্রদ্ধা, ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তাহলে জীবিত অবস্থায় তাঁর প্রতি কতটা শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ছিলো!
সত্যি কথা বলতে, সেদিনের সেই ঘটনা আমাদের কাছে সত্যিই বিস্ময়কর লেগেছিল।
সেদিনের সেই অসাধারণ ঘটনা চাক্ষুষ করতে পেরে আমাদের মনে হয়েছিল এই ঘটনা সকলের জানা উচিৎ। শ্রীনরেন্দ্রনাথ মাইতি, শ্রীহরেন্দ্রনাথ মাইতির "মাতৃভক্তির ভাব" ছোঁয়াচে রোগের মত ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের সকল সন্তানদের মধ্যে। সকল সন্তান তাদের পিতা মাতার প্রতি শ্রদ্ধাবান হোক।
সেই জন্যই আজ আমরা আপনাদের এই অসাধারণ ঘটনার কথা জানাতে বাধ্য হলাম।
আমরা সকলেই জানি বর্তমান সমাজ বড়ই স্বার্থপর! স্বার্থের জন্য মানুষ করতে পারে না এমন কাজ বোধহয় নেই! এক স্বার্থপরতায় মানুষকে করে তুলেছে বোধহীন অমানুষ।
দিন যত যাচ্ছে স্বার্থপরতা ততই বাড়ছে।
তাইতো, রোজ রাস্তা ঘাটে, হাটে বাজারে কতশত ভয়ানক ঘটনা ঘটছে।
যার প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন পরিবারে!
স্বার্থসিদ্ধির জন্য পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারি, হানাহানি, আরো কতকিছু যে ঘটছে তার ইয়ত্তা নেই।
এইসব অশান্তির মূল সেই "স্বার্থপরতা" এবং অশিক্ষা।
সুশিক্ষা এবং উদারতা না থাকার কারণে অধিকাংশ পরিবারে আজ পচন দেখা দিয়েছে।
প্রতিদিনই সোশ্যাল মিডিয়া, কিম্বা খবরের কাগজ খুললেই কত পারিবারিক অশান্তির কথা জানতে পারা যায়। বিশেষতঃ সন্তানদের দ্বারা আক্রান্ত বৃদ্ধ পিতা মাতার করুণ পরিণতি মনকে নাড়িয়ে দেয়। কত পিতা মাতারা কাঁদতে কাঁদতে বলছে আমার সন্তান আমাকে মেরে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে, কিম্বা কেউ বলছেন আমার সমস্ত সম্পত্তি আমার প্রিয় সন্তানরা নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়ে আমাদের এই বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছে। আবার কেউ হয়তো একরাশ অভিমান নিয়ে হতাশার সুরে বলছেন, আমার চরম অসুস্থ্যতার খবর পেয়েও আমার অতি প্রিয় প্রবাসী সন্তানটি এখনও আমাকে দেখতে আসেনি! সে এখন ব্যস্ত নিজের ছোট্ট পরিবার আর অফিসের কাজ নিয়ে। সে সত্যিই ভীষণ ব্যস্ত! খুব ব্যস্ত! আমার মৃত্যুর খবর পেয়েও হয়তো তার ব্যস্ততার খামতি হবে না!
এইরকম কত করুণ ঘটনা যে রোজ ঘটছে সত্যিই তার ইয়ত্তা নেই।
সমাজ গড়ার প্রধান কারিগর হলেন পিতা মাতা।
তাঁরা যদি সময় থাকতেই তাঁদের সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতেন তাহলে বোধহয় তাঁদের শেষ বয়সে গাছ তলায় কিম্বা বৃদ্ধাশ্রমে কাটাতে হতো না!
সত্যি কথা বলতে প্রতিযোগিতামূলক সমাজে প্রধান স্থান অধিকার করে, বিলাসীতার শিখরে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে, কিছু পিতা মাতা তাদের সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে করতে ভুলে গেছেন তাঁদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে! তাইতো পরিণামে সর্বস্ব হারিয়ে শেষ বয়সে আশ্রয় পেয়েছেন রাস্তায় , গাছ তলায়, কিম্বা বড়োজোর বৃদ্ধাশ্রমে। আবার কেউ হয়তো লোক লজ্জার ভয়ে সন্তানের দাসত্ব স্বীকার করে অবহেলিত ভাবে রয়ে গেছেন বাড়ির এক নির্জন কোণে।
আমরা উচ্চ শিক্ষাকে শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি উচ্চ শিক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন। উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমেই দেশ এবং দশের অনেক উপকার হয়। উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমেই জনজাতি নতুন কিছু জানতে পারে। তাই উচ্চ শিক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন।
কিন্তু শুধু মাত্র উচ্চ শিক্ষা যথেষ্ট নয়, তাঁর সাথে সুক্ষিক্ষা একান্ত দরকার। সুশিক্ষা ছাড়া উচ্চশিক্ষা অনর্থক। তাই উচ্চ শিক্ষার আগে সুশিক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন।
সুশিক্ষা অর্থাৎ মনুষ্যত্বের শিক্ষা। মানুষ হয়ে যদি মনুষ্যত্বের শিক্ষায় শিক্ষিত হতে না পারা যায়, তাহলে মনুষ্য জন্ম বিফলে যায়।
মানুষ গড়ার কারিগর ঠাকুর নিগমানন্দ দেব ও মানব জাতির উদ্দেশ্যে বলেছেন তোমরা মানুষ হও। আমি তোমাদের কাছে মনুষ্যত্বের ভিক্ষারী।
তাই আমাদের সকলের উচিত, আগে মনুষ্যত্বের শিক্ষা অর্জন করা। আমরা যারা এখনও মনুষ্যত্বের শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারিনি, আসুন আজ থেকে আমরা মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি। নিজেরা মানুষ হয়ে উদারতা নিয়ে রুখে দিই সমাজের স্বার্থপরতার পচন।
এ জগতে স্বার্থপর মানুষের অভাব নেই। তবে এ জগতে সবাই যে স্বার্থপর একথা আমরা বলি না।
কারণ এ জগতে সবাই অমনুষ্যত্বের স্বীকার হন না। কিছু মানুষ এখনো আছেন যারা উদার এবং মনুষ্যত্বের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।
আজ আমরা সেইরকম দুজন সুশিক্ষা সম্পন্ন উচ্চ শিক্ষিত সুসন্তানদের অদ্ভুত মাতৃভক্তি থেকে এই শিক্ষাই লাভ করলাম যে, তোমরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আপন পিতা মাতাকে ঘর থেকে বের করে দিওনা। তাঁদের শেষ বয়সে রাস্তায়, গাছতলায়, কিম্বা বৃদ্ধাশ্রমে যেতে বাধ্য কোরোনা। তাঁদের জন্যই তোমরা এই সুন্দর পৃথিবী দেখতে পেরেছো।
তাই তোমরা তাঁদের প্রতি একটু মানবিক হও, একটু যত্নবান হও। স্বার্থপরতার ভয়াবহ স্রোতে নিজেকে অমানুষের মত ভাসিয়ে দিওনা। বরং স্রোতের বিপরীতে চলে নিজেকে মানুষ তৈরি করো। তোমরা সকলে মানুষ হও।
আমরা বিনম্রতার সাথে বারবার স্বীকার করছি মাইতি পরিবারের ভাতৃদ্বয়ের অসাধারণ মাতৃভক্তি, আমাদের সকলের কাছে সত্যিই শিক্ষণীয়। সেই জন্য আমরা "শ্রী নিগমানন্দ গুরু কূলের সুসন্তান" ফেসবুক পেজের পক্ষ থেকে শ্রীনরেন্দ নাথ মাইতি এবং শ্রীহরেন্দ্র নাথ মাইতি মহাশয়ের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করি। এবং সেইসাথে শ্রীশ্রী ঠাকুর মহারাজের রাতুল চরণে তাঁদের সার্বিক মঙ্গল প্রার্থণা করি 🙏
ঠাকুর মহারাজের রাতুল চরণে আরও প্রার্থণা জানাই, পৃথিবীর সকল সন্তানগণ তাঁদের পিতা মাতার প্রতি শ্রদ্ধাবান হোউক। সকল পিতা মাতা তাঁদের সন্তানদের দ্বারা শেষ জীবন পর্যন্ত খুব ভালো থাকুক।
স্বার্থপরতা নয়। আন্তরিকতাই হোক আমাদের সকলের মূল মন্ত্র।