02/04/2026
❇️⚜️🌼*কুতুবে জামান, বাহরুল মায়ারিফ, আরিফ বিল্লাহ হজরত খাজা ইব্রাহিম সাইফুদ্দিন হুসাইনি রহমাতুল্লা আলাইহ এর এক মুরিদের আর্তনাদে সাড়া*🌼⚜️❇️
হুগলী জেলার পুরশুড়া থানার অন্তর্গত সুন্দরউষ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন আব্দুল আহাদ বক্স। তিনি ছিলেন হজরত খাজা ইব্রাহিম সাইফুদ্দিন হুসাইনি রহমাতুল্লাহি আলাইহ-এর একান্ত মুরিদ ও আশিক ব্যাক্তি । এবং আপন পিরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও মহাব্বাত করতেন।
একদা গভীর রাত… চারদিক নিস্তব্ধ…
হঠাৎ সেই নীরবতা চিরে ভয়াবহ শব্দ ভেসে আসে —ডাকাত! ডাকাত!
মুহূর্তের মধ্যে একদল সশস্ত্র ডাকাত তার বাড়ি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। প্রাচীরের দরজা ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরের ভেতর শুরু হয় আতঙ্ক, কান্না আর অসহায়তার আর্তনাদ—স্ত্রী, পুত্র-কন্যা সবাই ভয়ে কাঁপছে।
উনি ওনার স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়ির ভিতরে পাটাতনে উঠিয়ে লুকিয়ে দেন। ও ডাকাত থেকে বাঁচার জন্য কী ব্যাবস্থা নেবেন ভাবতে থাকেন।
এই কঠিন মুহূর্তে আব্দুল আহাদ বক্সের অন্তর ভেঙে যায়। তিনি আর কোনো উপায় না দেখে অশ্রুসজল নয়নে, কাঁপা কণ্ঠে নিজের পীর-মুর্শিদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন—
“হে আমার আমার পীরও মুর্শিদ …! আমাদের বাঁচান…!”
ডাকাত দল দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ফেলেছে। তারা লাঠি, তরবারি নিয়ে তেরে আসলো ওনার দিকে।
হঠাৎ
এক বিস্ময়কর দৃশ্য! দেখা গেলো
এক কালো চাদরে আবৃত এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এসে উপস্থিত হলেন উঠানে। তার উপস্থিতিতে অন্ধকার আঙিনা আলোকীত হয়ে গেলো।
তিনি কোনো কথা না বলে ডাকাতদের উপর তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আক্রমণ শুরু করলেন। মুহূর্তেই ডাকাতদের মনে ভয় ঢুকে গেল। তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে চিৎকার করতে লাগল— মার খেতে খেতে চেঁচাতে লাগলো “আহাদের পীর এসে গেছে! পালাও! পালাও!”
এই বলে তারা দিশেহারা হয়ে পালিয়ে যেতে লাগল। কিছু জন বেহুঁশ হয়ে যায় আর কয়েক জন ডাকাত পালিয়ে যায়।
অবশেষে ডাকাতেরা পালিয়ে গেলে আব্দুল আহাদ দেখলেন—
সেই চাদর আবৃত ব্যক্তি ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছেন…
তিনি দৌড়ে গিয়ে তার কদম জড়িয়ে ধরলেন—
কাঁদতে কাঁদতে বললেন—
“আপনি কে? আপনি কে, যিনি আমার এত উপকার করলেন? দয়া করে পরিচয় দিন…!”
কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দিলেন না…
যেই পা' টি ধেছিলেন, তিনি সেই পায়ের জুতাটি খুলে রেখে অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেলেন …
আব্দুল আহাদ কাঁপতে কাঁপতে জুতাটি হাতে নিলেন…
জুতাটি নিয়ে, আলোতে গিয়ে যখন দেখলো জুতার দিকে, তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল— সে চিনতে পেরে বলে উঠলো
“এ তো…! এ তো আমার পীরের জুতা মুবারক…!”
তার চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরতে লাগল। ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় তিনি সেই জুতাটি মাথায় তুলে নিলেন।
ডাকাতদের পরিস্থিতি সামলে, সেই রাতেই তিনি আর দেরি করলেন না।
মাথায় করে সেই জুতা নিয়ে অন্ধকার রাতেই রওনা দিলেন পীরের দরবারের উদ্দেশ্যে।
সকালবেলায় তিনি উপস্থিত হয়ে আবেগভরে সকলকে বললেন—
“হে আমার পিরভাইসব! জানো—গতরাতে আমাদের পীরো মুর্শিদ, নিজে এসে আমার পরিবারকে বাঁচিয়েছেন! আমাদের প্রাণ রক্ষা করেছেন, ডাকাতদের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন!” বলে রাতে ঘটে যাওয়া সকল বৃত্তান্ত ঘটনা জানালেন।
উপস্থিত সকলে অবাক হয়ে গেল।
কারণ তারা তো প্রত্যক্ষ করেছে—
হজরত খাজা ইব্রাহিম সাইফুদ্দিন হুসাইনি রহমাতুল্লাহি আলাইহ সারা রাত খানকাহে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন !
এমনকি ফজরের নামাজও তারা তাঁর পেছনে আদায় করেছে!
তাহলে—তিনি গেলেন কখন? ফিরলেন কখন?
এ নিয়ে আব্দুল আহাদ ও বাকী মুরিদদের সহিত মতানৈক্য সৃষ্টি হলো।
অবশেষে সকলে মিলে সমাধানের জন্য হজরত খাজা ইব্রাহিম সাইফুদ্দিন হুসাইনি রহমাতুল্লা আলাইহ এর নিকটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।
সকলে ওনার নিকট উপস্থিত হয়ে আরজ করল—
“হুজুর, আপনার এই মুরিদ দাবি করছে আপনি গতরাতে তাদের বাড়ি গিয়েছিলেন। অথচ আমরা তো আপনাকে এখানেই সারা রাত ইবাদতে দেখেছি, ফজরের নামাজও আপনার পেছনে পড়েছি। এর সত্যতা কী?”
হজরত খাজা ইব্রাহিম সাইফুদ্দিন হুসাইনি রহমাতুল্লাহি আলাইহ কোনো উত্তর না দিয়ে মুচকি হেঁসে এরশাদ করলেন —
“ওহে আব্দুল আহাদ!
তুমি তো রাতে আমার জুতাটা নিয়ে নিলে …
যাও, গিয়ে দেখো বাড়ির সামনে অপর জুতাটি পরে রয়েছে, সেখানে এটা রেখে আসো—
সকাল থেকে আমি এক পাটি জুতা পরতে পারছি না, আমি খালি পায়ে রয়েছি …”
এই কথা শুনে উপস্থিত সকলের হৃদয় কেঁপে উঠল…
চোখ অশ্রুসজল হয়ে গেল…
তারা বুঝে গেল— এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়…
এটি তাদের পীর-মুর্শিদের এক বিশেষ কারামাত…
যিনি এক স্থানে ইবাদতে থেকেও, আল্লাহর হুকুমে অন্য স্থানে অসহায় মুরিদকে সাহায্য করেছেন…
(সুবহানাল্লাহ.......)
✍️:- হুসাইনি........
#মারেফাত #ওলি #তাসাউফ #খানকাহে_হুসাইনিয়া