06/08/2026
#উপদেশামৃত ১৩৩:---
অনুকূলের পরিচয়=
বাজিতপুর হইতে ৪।৫ মাইল দূরবর্তী ষড়মঙ্গল গ্রামে জন্ম। শৈশবে পিতৃমাতৃহীন হওয়ায় জ্যেষ্ঠাভগ্নী ইহাকে লালন-পালন করে। বাল্যে স্বীয় গ্রামে ও গোহালায় কিছুদিন পড়াশুনা করিয়া অনুকুল কলাগাছিয়ায় ভগ্নীর বাড়ী আসে এবং মুস্তফাপুর (কলাগাছিয়া হইতে ২-২৷৷ মাইল) উচ্চ ইংরাজী বিদ্যালয়ে পড়িতে থাকে। এইসময় ছাত্র-সম্মেলনের (ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের নির্দেশানুযায়ী কলাগাছিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত) এক অধিবেশনে "চরিত্র-গঠন" সম্বন্ধে সারগর্ভ প্রবন্ধপাঠ করায় নিকুঞ্জের সহিত পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। তদবধি ইহার ভিতর ধর্মভাবের স্ফুরণ হইতে থাকে। অনুকুলের শরীর খুব সবল ছিল। বেশী পড়াশুনা না করিলেও বাঙ্গালা ভাষায় ভালো প্রবন্ধ লিখিতে পারিত। জনহিতকর কার্য্যেও ইঁহার বেশ উৎসাহ ও পারদর্শিতা ছিলো। অনুকুল খুব সাধননিষ্ঠ ছিল। অনেকসময়ই দিনে বা রাত্রে একাদিক্রমে ৫।৬ ঘন্টা পদ্মাসনে বসিয়া ধ্যান-জপ করিতো।
সুরেশের পরিচয়=
বাজিতপুর গ্রামে ভট্টাচার্য্য বংশে জন্ম। পড়াশুনায় ভালো, স্কুলের প্রত্যেক পরীক্ষায় অত্যধিক নম্বর পাইয়া প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রথম পুরস্কার পান এবং কয়েকটি লেটার পাইয়া ১৯১৮খৃষ্টাব্দে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯২০খৃষ্টাব্দে প্রথম বিভাগে আই-এ পাশ করেন। ১৯২১খৃষ্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলনের সময় চতুর্থ বার্ষিক শ্রেণী হইতে কলেজ ত্যাগ করিয়া আসিয়া স্থায়ীভাবে আশ্রম-জীবন আরম্ভ করেন। তিনি শৈশব হইতেই অত্যন্ত নির্ভীক, স্পষ্টবক্তা, তেজস্বী ও স্বাধীনচেতা ছিলেন।
সুরেশ বাল্যে কিছু চঞ্চল প্রকৃতির ছিলেন। ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের সংস্পর্শে আসিয়া তাঁহার এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দেয়। সর্ব্বদা একটা ভাবে মাতোয়ারা; কখনও রুদ্ধদ্বার গৃহে ধ্যান করিতেছেন, কখনও ইষ্টমূর্ত্তি বুকে করিয়া কাঁদিয়া আকুল হইতেছেন, আবার কখনও ছুটিয়া শ্রীমৎ আচার্য্যদেবের নিকট যাইতেছেন। সে ভাব এমনই গাঢ় যে, অভিভাবক, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক-ছাত্র, কেহ কিছু বলিবার অবকাশ পাইত না। এইসময় ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের প্রতি তাঁহার অনুরাগও খুব বেশী গভীর ছিল। এত গভীর ছিল যে, দিনের মধ্যে কিছুসময় তিনি শ্রীমৎ আচার্য্যদেবকে না দেখিয়া কিছুতেই স্থির থাকিতে পারিতেন না। এইজন্য দিন বা রাত্রির যে কোনসময় (ইহার কোন সময়-অসময় ছিল না) তিনি টলিতে টলিতে যাইয়া ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের নিকট উপস্থিত হইতেন।
সুরেশ অত্যন্ত কর্মকুশল, তর্কনিপুণ, যুক্তি প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত ও প্রত্যুৎপন্নমতিসম্পন্ন ছিলেন। সঙ্ঘের আদর্শ ও ভাবধারা অতি সহজে তিনি সকলকে বুঝাইতে পারিতেন এবং যে কোন ব্যক্তি তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হইলে অত্যল্পসময়ে তাহাকে নিরস্ত করিয়া স্বীয় মতে আনয়ন করিতে সক্ষম হইতেন। তাঁহার অকাট্য যুক্তি ও তীক্ষ্ম শ্লেষের নিকট কেহ বেশী দাঁড়াইতে পারিত না।
Organise করার ক্ষমতাও তাঁহার যথেষ্ট ছিল। যাহাদের সহিত তিনি একবার মিশিতেন, তাহাদের সকলেই তাঁহাকে খুব আপন মনে করিয়া অন্তরের সহিত ভালবাসিত।