Yugacharya Srimat Swami Pranabanandaji Maharaj

Yugacharya Srimat Swami Pranabanandaji Maharaj Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Yugacharya Srimat Swami Pranabanandaji Maharaj, Religious organisation, Agartala.

lord Yugacharya Srimat swami Pranavanandaji maharaj(1896-1941) Founder of Bharat Sevashram Sangha in 1917 in Bajitpur, Bangladesh and in 1923 in Kolkata,& overall India.,also abroad
swami pranavananda ji avtar of lord Shiva....

 #উপদেশামৃত ১৩৩:---অনুকূলের পরিচয়=বাজিতপুর হইতে ৪।৫ মাইল দূরবর্তী ষড়মঙ্গল গ্রামে জন্ম। শৈশবে পিতৃমাতৃহীন হওয়ায় জ্যেষ্ঠা...
06/08/2026

#উপদেশামৃত ১৩৩:---
অনুকূলের পরিচয়=
বাজিতপুর হইতে ৪।৫ মাইল দূরবর্তী ষড়মঙ্গল গ্রামে জন্ম। শৈশবে পিতৃমাতৃহীন হওয়ায় জ্যেষ্ঠাভগ্নী ইহাকে লালন-পালন করে। বাল্যে স্বীয় গ্রামে ও গোহালায় কিছুদিন পড়াশুনা করিয়া অনুকুল কলাগাছিয়ায় ভগ্নীর বাড়ী আসে এবং মুস্তফাপুর (কলাগাছিয়া হইতে ২-২৷৷ মাইল) উচ্চ ইংরাজী বিদ্যালয়ে পড়িতে থাকে। এইসময় ছাত্র-সম্মেলনের (ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের নির্দেশানুযায়ী কলাগাছিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত) এক অধিবেশনে "চরিত্র-গঠন" সম্বন্ধে সারগর্ভ প্রবন্ধপাঠ করায় নিকুঞ্জের সহিত পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। তদবধি ইহার ভিতর ধর্মভাবের স্ফুরণ হইতে থাকে। অনুকুলের শরীর খুব সবল ছিল। বেশী পড়াশুনা না করিলেও বাঙ্গালা ভাষায় ভালো প্রবন্ধ লিখিতে পারিত। জনহিতকর কার্য্যেও ইঁহার বেশ উৎসাহ ও পারদর্শিতা ছিলো। অনুকুল খুব সাধননিষ্ঠ ছিল। অনেকসময়ই দিনে বা রাত্রে একাদিক্রমে ৫।৬ ঘন্টা পদ্মাসনে বসিয়া ধ্যান-জপ করিতো।

সুরেশের পরিচয়=
বাজিতপুর গ্রামে ভট্টাচার্য্য বংশে জন্ম। পড়াশুনায় ভালো, স্কুলের প্রত্যেক পরীক্ষায় অত্যধিক নম্বর পাইয়া প্রথম স্থান অধিকার করিয়া প্রথম পুরস্কার পান এবং কয়েকটি লেটার পাইয়া ১৯১৮খৃষ্টাব্দে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯২০খৃষ্টাব্দে প্রথম বিভাগে আই-এ পাশ করেন। ১৯২১খৃষ্টাব্দে অসহযোগ আন্দোলনের সময় চতুর্থ বার্ষিক শ্রেণী হইতে কলেজ ত্যাগ করিয়া আসিয়া স্থায়ীভাবে আশ্রম-জীবন আরম্ভ করেন। তিনি শৈশব হইতেই অত্যন্ত নির্ভীক, স্পষ্টবক্তা, তেজস্বী ও স্বাধীনচেতা ছিলেন।
সুরেশ বাল্যে কিছু চঞ্চল প্রকৃতির ছিলেন। ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের সংস্পর্শে আসিয়া তাঁহার এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা দেয়। সর্ব্বদা একটা ভাবে মাতোয়ারা; কখনও রুদ্ধদ্বার গৃহে ধ্যান করিতেছেন, কখনও ইষ্টমূর্ত্তি বুকে করিয়া কাঁদিয়া আকুল হইতেছেন, আবার কখনও ছুটিয়া শ্রীমৎ আচার্য্যদেবের নিকট যাইতেছেন। সে ভাব এমনই গাঢ় যে, অভিভাবক, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক-ছাত্র, কেহ কিছু বলিবার অবকাশ পাইত না। এইসময় ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের প্রতি তাঁহার অনুরাগও খুব বেশী গভীর ছিল। এত গভীর ছিল যে, দিনের মধ্যে কিছুসময় তিনি শ্রীমৎ আচার্য্যদেবকে না দেখিয়া কিছুতেই স্থির থাকিতে পারিতেন না। এইজন্য দিন বা রাত্রির যে কোনসময় (ইহার কোন সময়-অসময় ছিল না) তিনি টলিতে টলিতে যাইয়া ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের নিকট উপস্থিত হইতেন।
সুরেশ অত্যন্ত কর্মকুশল, তর্কনিপুণ, যুক্তি প্রয়োগে সিদ্ধহস্ত ও প্রত্যুৎপন্নমতিসম্পন্ন ছিলেন। সঙ্ঘের আদর্শ ও ভাবধারা অতি সহজে তিনি সকলকে বুঝাইতে পারিতেন এবং যে কোন ব্যক্তি তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হইলে অত্যল্পসময়ে তাহাকে নিরস্ত করিয়া স্বীয় মতে আনয়ন করিতে সক্ষম হইতেন। তাঁহার অকাট্য যুক্তি ও তীক্ষ্ম শ্লেষের নিকট কেহ বেশী দাঁড়াইতে পারিত না।
Organise করার ক্ষমতাও তাঁহার যথেষ্ট ছিল। যাহাদের সহিত তিনি একবার মিশিতেন, তাহাদের সকলেই তাঁহাকে খুব আপন মনে করিয়া অন্তরের সহিত ভালবাসিত।

 #উপদেশামৃত ১৩২:---ওঁস্থান= প্রার্থনা কুটিরসময়= পূর্ব্বাহ্ণ ১০ ঘটিকাতারিখ= ১৮ই বৈশাখ, ১৩২৭ সন,               ইং মে ১৯২০ক...
05/08/2026

#উপদেশামৃত ১৩২:---
ওঁ
স্থান= প্রার্থনা কুটির
সময়= পূর্ব্বাহ্ণ ১০ ঘটিকা
তারিখ= ১৮ই বৈশাখ, ১৩২৭ সন,
ইং মে ১৯২০
ক্রমাগত কয়েকদিন যাবৎ শ্রীমৎ আচার্য্যদেবের সহিত পরিচয় করিয়া দেওয়ার জন্য অনুরোধ করায় অদ্য বেলা প্রায় ৯ ঘটিকার সময় অনুকুলকে সঙ্গে লইয়া আশ্রমে পৌঁছিলাম। কোথাও কেহ নাই। আমরা শ্যাওড়া গাছ তলায় ঘুরিয়া বেড়াইতেছি, এমন সময় সুরেশ দা আসিলেন। আমাদিগকে দেখিয়া তিনি একটু হাসিয়া বলিলেন:= "সাধু ঢেঁকিশালার ওখানে আছেন, এখানে আসিতে বিলম্ব হইবে। এখন কোন কথা হইবে না।"
আমিও হাসিয়া উত্তর দিলাম:= "আমরা এখন যাইব না। দ্বিপ্রহরে আশ্রমে থাকিয়া সন্ধ্যার সময় বাড়ী যাইব।"
এই কথার পর সুরেশ দা চলিয়া গেলেন এবং কিছুসময় পরে ফিরিয়া আসিয়া বলিলেন:= "আশ্রমে তো কোন লোক নাই, সকলেই ঢেঁকিশালার ওখানে কাজে ব্যস্ত, তোমাদেরই পাক করিয়া খাইতে হইবে। আমি ডালটা চাপাইয়া দিতেছি।"

এই বলিয়া ডাল চাপাইয়া দিয়া তিনি অন্য কাজে গেলেন, আমি উনুনে জ্বাল দিতে লাগিলাম। ক্রমে জল শুকাইয়া আসিল; কি করিতে হইবে বুঝিতে না পারিয়া প্রমাদ গণিলাম। অনেক কাজই চোখে দেখিয়া সহজ মনে হয়, কিন্তু হাতেকলমে না করিলে যে তাহা করিতে পারা যায় না, সে কথা বুঝিতে পারিলাম। এইসময় সুরেশ দা কিছু চাউল নিয়া আসিলেন; আমি হাঁপ ছাড়িয়া বাঁচিলাম।
ডালের অবস্থা দেখিয়া তিনি সহাস্যে বলিলেন:= "ডালটা পর্যন্ত রান্না করিতে পারো না, সাধু হইবে কেমন করিয়া? মা কি সঙ্গে সঙ্গে যাইয়া রান্না করিয়া দিবেন?"

আমি ঈষৎ লজ্জিত হইয়া একপার্শ্বে সরিয়া দাঁড়াইলাম। সুরেশ দা'ই ডাল-ভাত পাক করিলেন। তখন সকলে মিলিয়া স্নান করিয়া আসিয়া পরিতোষ সহকারে সেই ডাল-ভাত খাইলাম। কি যে ভালো লগিল! আশ্রমের সাদাসিধা পাক যে এত সুস্বাদু হয় তাহা ধারণা ছিল না। বাড়ীর পরিপাটী সহকারে পাক করা বিবিধ ব্যঞ্জনের সঙ্গে ইহার কোন তুলনাই হয় না। আহারান্তে কীর্ত্তনের ঘরে বসিয়া সকলে কথা বলিতেছি, এমন সময় ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব আসিয়া তাঁহার আসনে (প্রার্থনা-কুটিরের পিছনের বারান্দায়) গেলেন। আমরা তাঁহার পিছনে পিছনে যাইয়া ভিতরে বসিলাম। প্রথমেই তিনি অনুকুলের পরিচয় জিজ্ঞাসা করিলেন। আমি সমস্ত বিষয় বলিলে তিনি আমার হাতে একখানি কাগজ দিয়া চিঠি লিখিতে বলিলেন। গোয়ালন্দ ঘাটে জনৈক কর্মীকে প্রচার ও অর্থসংগ্রহের জন্য পাঠান হইয়াছে, তাহাকে লিখিতে হইবে। শ্রীমৎ আচার্য্যদেব ডানপার্শ্বে কাত হইয়া, দক্ষিণ হস্ততালুতে মস্তক স্থাপন করিয়া বলিতে লাগিলেন,আমি তাঁহার কোলের কাছে বসিয়া লিখিতে লাগিলাম। মধ্যে মধ্যে তিনি বামহস্ত দ্বারা কাগজের উপর দাগ দিয়া দেখাইতে লাগিলেন, এইস্থানে লেখো। একদিক লেখা হইলে নিজেই কাগজখানা উল্টাইয়া দিলেন।

 #উপদেশামৃত ১৩১:---শ্রীযুত কুমুদ ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের সংস্পর্শে আসিবার পর তাঁহার নির্দেশ মত ১৯১৫ খৃষ্টাব্দ হইতে স...
03/08/2026

#উপদেশামৃত ১৩১:---
শ্রীযুত কুমুদ ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের সংস্পর্শে আসিবার পর তাঁহার নির্দেশ মত ১৯১৫ খৃষ্টাব্দ হইতে স্বীয় জীবন-গঠনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের এবং পার্শ্ববর্তী বাড়ীর ছেলেদের নৈতিক জীবনগঠনে সচেষ্ট হন। তিনি প্রতি শনিবার বাড়ী আসিতেন এবং সোমবার সকালে বাড়ী হইতে আহারাদি করিয়া যাইয়া স্কুল করিতেন। রবিবার অপরাহ্ণে ছাত্রদের নিয়া জীবনগঠন সম্বন্ধে আলোচনা হইত। তাঁহার নির্দেশে সকলে দিনলিপি লিখিয়া রাখিত। কেহ কোন অন্যায় করিলে তাহার সংশোধনের ব্যবস্থা তিনি করিতেন। স্কুলে উপরের ক্লাসের কৃতীছাত্র হওয়ায় ছাত্রগণ তাঁহাকে সমীহ করিত এবং সকলে অবনত মস্তকে তাঁহার নিৰ্দ্দেশ বা শাসন মানিয়া চলিত। তাঁহার চেষ্টায় ছেলেদের স্বাস্থ্য, স্বভাব, আচরণ-ব্যবহার ও পড়াশুনা সমস্তই ভাল হইতে লাগিল।
সাধারণতঃই কুমুদ তাঁহার অমায়িক ব্যবহার, মধুর স্বভাব-প্রকৃতি ও অন্যান্য গুণাবলীর জন্য সর্ব্বসাধারণের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। এই কার্য্যের দ্বারা তিনি একেবারে সকলের অন্তরে অধিষ্ঠিত হইলেন। প্রত্যেক ঘরের অভিভাবক ও অভিভাবিকাগণ তাঁহার পথপানে তাকাইয়া থাকিতেন। তিনি বাড়ী আসিলেই তাঁহারা ছেলেদের সম্বন্ধে নানা প্রকার অভিযোগ তাঁহাকে জানাইতেন।
শ্রীযুত কুমুদের গৃহত্যাগের পর নিকুঞ্জ ও ভুবনের চেষ্টায় এই ছাত্র আন্দোলন ক্রমশঃ বিস্তৃতি লাভ করে। শেষের দিকে ৩।৪ খানা গ্রামের ৭০।৮০ জন ছাত্রও কোন কোন সম্মেলনে উপস্থিত হয়। তখন শুধু নৈতিক জীবনগঠন নয়, দেশ-জাতি-সমাজের বহুবিধ সমস্যা ও তাহার সমাধান সম্পর্কে আলোচনা এবং কার্য্যকরী ব্যবস্থা অবলম্বন করা হইত।
ক্রমে বেলা শেষ হইল। জাতি-সংগঠক মহান আচার্য্য তন্ময় হইয়া তাঁহার ভবিষ্যৎ পতাকাবাহী উত্তরসাধকগণের নিকট জাতিসংগঠন-মন্ত্রের ব্যাখ্যা করিতেছেন, বক্তা ও শ্রোতা উভয়ের প্রাণমনে উৎসাহের প্লাবন বহিতেছে, কথায় কথায় শান্তি ও আনন্দের নির্ঝর ছুটিতেছে; কিন্তু নিষ্ঠুর-কাল সেই আনন্দে বাদ সাধিল, সন্ধ্যা আসিয়া বিদায়ের ঘণ্টা বাজাইল। শ্রীমৎ আচার্য্যদেব নিকুঞ্জকে যোগবাশিষ্ঠখানা হাতে দিয়া সমস্ত পড়িয়া ফেলিতে বলিলেন।
তারপর তারককে বলিলেন:= আচ্ছা, এখন যাও। যখন ইচ্ছা হয় আসিবে, এখানে আসিতে কোন পরিচয়ের দরকার হয় না।
আমরা গাত্রোত্থান করিয়া গৃহাভিমুখে অগ্রসর হইলাম। চৈত্রের সন্ধ্যা। বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তরে মৃদুমধুর সান্ধ্য সমীরণ, রৌদ্রদগ্ধ ধরণী বক্ষে শান্তির হিল্লোল। সংগ্রাম-সংঘর্ষে ক্ষত-বিক্ষত প্রাণমনেও আমাদের আজ অফুরন্ত আনন্দের প্রবাহ। ভিতরে বাহিরে-প্রকৃতির বুকে ও অন্তরের গহনে কেবল শান্তি আর শান্তি, আনন্দ আর আনন্দ। এইসময় তারক প্রাণের উচ্ছ্বাস চাপিয়া রাখিতে না পারিয়া সোৎসাহে বলিয়া উঠিল= "এমন মানুষ তো আর কখনও দেখি নাই, এমন আনন্দও আর জীবনে কখনও পাই নাই। কিছুতেই যেন উঠিয়া আসিতে ইচ্ছা হয় না। আপনারা এখানে আসিয়া এত আনন্দ পান, এত উৎসাহের কথা, শান্তির কথা শোনেন, অথচ আমাকে এক দিনও নিয়া আসেন নাই!"
এমনিভাবে সে আরও কত কি বলিয়া চলিল। আমি শুধু উত্তরে বলিলামঃ= "নিজের অন্তর হইতে প্রকৃত আগ্রহ না হইলে আসল জিনিস লাভ করা যায় না। তাই এতদিন অপেক্ষা করিতেছিলাম।"
তারপর মনের আনন্দে ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে আলোচনা করিতে করিতে নৈশ অন্ধকারের আড়ালে লুকাইয়া নির্বিঘ্নে বাড়ী পৌঁছিলাম।

01/08/2026

শ্রী গুরু আরতি দর্শন #শ্রীশ্রীগুরুপূর্ণিমা #গুরুপুজা

 #উপদেশামৃত ১২৯:---ইহার পর কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া পুনরায় বলিতে আরম্ভ করিলেন:=           "আঘাত-আক্রমণ, অত্যাচার-উৎপীড়ন...
31/07/2026

#উপদেশামৃত ১২৯:---
ইহার পর কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া পুনরায় বলিতে আরম্ভ করিলেন:=
"আঘাত-আক্রমণ, অত্যাচার-উৎপীড়নকে ভয় করিলে কি কোন মহৎ কাজ করা যায়? যে জীবন যত বড়, যত মহান্ হইয়াছে, সেই জীবনেই তত বেশী আঘাত আক্রমণ আসিয়াছে। জগতের ইতিহাসে যাঁহারা শ্রেষ্ঠ বলিয়া পরিগণিত, তাঁহাদিগকে সমগ্র জীবনই সর্ব্বপ্রকারে প্রতিকূলতার সহিত তীব্রতম সংগ্রাম করিয়া জীবনের পথ করিয়া লইতে হইয়াছে। সুতরাং, সংগ্রাম-সংঘর্ষকে ভয় করিয়া এড়াইয়া গেলে চলিবে না। দুইফোঁটা চোখের জল আর পারে, তাহা হইলে আর এই জীবনের মূল্য কি? সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বিরুদ্ধে দাঁড়াইলেও একগাছি কেশ কেহ স্পর্শ করিতে পারিবে না--- এইরূপ দৃঢ়বিশ্বাস সব সময় চাই। সুমেরু বিচলিত হইতে পারে, কিন্তু আমার প্রতিজ্ঞা, আমার সঙ্কল্প কখনও ব্যর্থ হইতে পারে না-- এমনিতর বীরত্ব চাই। এই বীরত্ব, এই তেজস্বীতা ও পৌরুষই মানুষের মহাসম্বল, তাহা না হইলে কোন কাজ হয় না। যে ছেলে একটা ধমকে নিজের আদর্শ উদ্দেশ্য ছাড়িয়া মুহূর্তে ভালো ছেলে সাজে, তাহার দ্বারা জগতে কি কাজ হয়? সংগ্রাম-সংঘর্ষই প্রকৃত জীবনের চিহ্ন; সংগ্রাম-সংঘর্ষ যত তীব্র হইবে, ভিতরে শক্তিও তত দৃঢ় হইয়া উঠিবে। তাই বীর যে, সে সর্ব্বদা সংগ্রামকে বরণ করিয়া লয়। সংগ্রামকে নির্ভীক ভাবে বরণ করিয়া লওয়াই বীরের ধর্ম।"
কথাগুলি বলিতে বলিতে ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের চিত্ত যেন উদ্বেলিত হইয়া উঠিল। চক্ষুদ্বয় প্রদীপ্ত হইল এবং মুখমণ্ডল রক্তিমাভা ধারণ করিল। যাহাদিগকে তিনি তাঁর দায়ভার গ্রহণের উত্তরাধিকারী মনোনয়ন করিয়াছেন, তাহারা এখনও সংসারের গণ্ডী ছাড়িয়া আসিয়া তাঁহার পার্শ্বে দাঁড়াইতে পারিল না! এখনও কেহ আবিলতা পঙ্কিলতা কাটাইয়া উঠিয়া ত্যাগমন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণে সক্ষম হইল না! ক্ষোভে দুঃখে হৃদয় যেন ভাঙ্গিয়া যায়, অন্তর যেন অসহ্য আবেগে ফাটিয়া পড়ে। প্রত্যেকটি কথার ভিতর দিয়া যেন আজ সেই মৰ্ম্মভাঙ্গা অন্তর্ব্যথাই ফুটিয়া উঠিল। প্রাণে বড় আঘাত লাগিল। মনে মনে সেই জ্যোতির্ময় ভাস্বর মূর্তির সম্মুখে প্রতিজ্ঞা করিলাম, প্রার্থনা জানাইলাম যেন শীঘ্রই আসিয়া এই অন্তর্বেদনা দূর করিতে পারি।
ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব কিছুসময় চুপ করিয়া থাকিয়া তারকের বাড়ীর কথা জিজ্ঞাসা করিলেন। তারপর পড়াশুনার কথা জিজ্ঞাসা করিয়া ধীরে ধীরে বলিতে লাগিলেন:=
"তোমাদের মতো ছাত্রদের নিয়াই আমার প্রধান কাজ। আমি চাই বাঙ্গলার ছাত্রসমাজে, তরুণ সমাজে একটা নূতন আন্দোলন সৃষ্টি করিতে। ছাত্রসমাজই জাতির প্রকৃত সম্পদ, জীবনীশক্তি, ভবিষ্যৎ জাতির প্রকৃত নেতা ও পরিচালক। কয়েক বৎসর পরে দেশের বুকে যে সমস্ত জাতিগঠন-আন্দোলন ও কাজ চলিবে, তাহার নেতা, প্রাণশক্তি হইবে তোমাদের মত আজিকার এই তরুণ ছাত্রের দল। ভবিষ্যৎ নেতা ও পরিচালকদের স্থান তোমাদিগকেই গ্রহণ করিতে হইবে। সুতরাং, এখন হইতেই তোমাদিগকে প্রস্তুত হইতে হইবে। যাদের পিছনটান বা ভবিষ্যতের চিন্তা নাই, সংসারের কুটিল আবর্তে পড়িয়া যারা কোন প্রকার শঠতা প্রবঞ্চনা, চালাকী-চাতুরী শিখে নাই, জগতের পাপতাপ মলিনতা যাদের স্পর্শ করিতে পারে নাই, যাহারা ভোগে প্রলুব্ধ বা বিষয়ে আবদ্ধ নয়, তারাই প্রকৃত দেশের কাজ করিতে পারে। যাহারা সম্পূর্ণ নিষ্কিঞ্চন, বিষয়ত্যাগী, সরল পবিত্র তাদের দ্বারাই খাঁটি দেশসেবা হয়। তাই আমি ছাত্রদের এত ভালবাসি, তাদের জীবন-গঠনের জন্য এত চেষ্টা, এত পরিশ্রম করি। যারা প্রতিনিয়ত স্বার্থচিন্তায় মগ্ন, নানা প্রকার আবিলতা পঙ্কিলতায় উদ্ব্যস্ত, তারা আবার দেশের কাজ করিবে কি?

29/07/2026
29/07/2026

#শ্রীশ্রীগুরুপূর্ণিমা:---
ব্রহ্মানন্দং পরমসুখদং কেবলং জ্ঞানমূর্তিং
দ্বন্দ্বাতীতং গগনসদৃশং তত্ত্বমস্যাদিলক্ষ্যম্ ।
একং নিত্যং বিমলমচলং সর্বধীসাক্ষিভূতং
ভাবাতীতং ত্রিগুণরহিতং সদ্গুরুং তং নমামি ॥
নিদাঘের প্রচণ্ড উষ্ণতায় ধরিত্রী উত্তপ্তা; বুকফাটা তৃষ্ণায় সে যেন বিশীর্ণা, বিদীর্ণা। কবে হবে দেবতার কৃপাবর্ষণ? তারই প্রতীক্ষায় থাকে সে উন্মুখ হয়ে, পৃথিবী চায় তৃষ্ণার অমৃতবারি-- চায় তাপশান্তি।
গ্রীষ্মের অবসানে আবির্ভাব মেঘ-মেদুর বর্ষার; আকাশ হতে নেমে আসে অবিরল নির্ঝরধারা। ধরিত্রীর সকল তৃষ্ণা নিবারিত হয়, সকল তাপ জুড়িয়ে যায়, সকল ক্ষতের নিরাময় হয়। দেবতা যেন দু'হাতে আশীর্ব্বাদের ধারা বর্ষণপূর্ব্বক পৃথিবীকে করেন স্নিগ্ধা, শস্য-শ্যামলা। ঠিক এমনি সময়েই গম্ভীর জীমূতমন্দ্র জপে "গুরু গুরু" মহানাম; প্রাবৃট্-প্রসিদ্ধ অশ্রান্ত মল্লার রাগে প্রকৃতিদেবী যেন মুখরা হন শ্রীগুরুশক্তিরই মহাপ্রকাশের আগমনী সঙ্গীতে। চিদঘনবিগ্রহ শ্রীগুরুর কৃপাশক্তির অবতরণের পথ প্রদীপ্ত করেই যেন সজল জলধরের বক্ষঃ বিদীর্ণপূর্ব্বক সুস্মিতা সৌদামিনীর উচ্ছল আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত। সংসারমরুদগ্ধ মর মানবের অন্তরে অমিত আশার সঞ্চারপূর্ব্বক ক্রমে আবির্ভূত হয় পুণ্যময়ী আষাঢ়ী পূর্ণিমা; এই আষাঢ়ী পূর্ণিমাই " #শ্রীশ্রীগুরুপূর্ণিমা" নামে খ্যাত।

 #উপদেশামৃত ১২৮:---স্থান= প্রার্থনাকুটিরসময়= অপরাহ্ণ দুই ঘটিকাতারিখ= ২০শে চৈত্র, ১৩২৬ সন,               ইং এপ্রিল ১৯২০সু...
28/07/2026

#উপদেশামৃত ১২৮:---
স্থান= প্রার্থনাকুটির
সময়= অপরাহ্ণ দুই ঘটিকা
তারিখ= ২০শে চৈত্র, ১৩২৬ সন,
ইং এপ্রিল ১৯২০
সুদীর্ঘ ছুটি, প্রচুর অবকাশ।
সমস্ত দিনই প্রায় রুদ্ধদ্বার গৃহে সাধন-ভজন ও সদগ্রন্থাদি পাঠ চলিতেছে। অপরাহ্ণে কিছুসময় নির্জন প্রান্তরে বেড়াইয়া আসি, কাহারও সহিত কোনপ্রকার বাক্যালাপ নাই। এমনিভাবে সংসারের প্রয়োজনীয় কোন কাজে বাহিরে না যাওয়ায় নিজের প্রয়োজনেও বাড়ীর বাহিরে যাওয়া যায় না। কোথাও গেলেই সাধুর নিকট যাইতেছি বলিয়া সন্দেহ করিয়া সকলে বাধা দেয়। কাজেই ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের নিকট আর যাওয়া হইয়া উঠিতেছে না। এই সময় তারক নামে একটি ছেলে আসিয়া শ্রীমৎ আচার্য্যদেবের সহিত পরিচয় করিয়া দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাইল। ছেলেটি খুব ভালো, অনেক দিন যাবৎ আমাদের সহিত মিশিতেছে। সুতরাং অনুরোধ উপেক্ষা করিতে পারি না, অথচ কি উপায়ে যে বাড়ীর বাহির হইবো, তাহাও বুঝিতে পারিতেছি না। অবশেষে দুইদিন ধরিয়া চিন্তা করিয়া একটি কৌশল আবিষ্কার করিলাম। দ্বিপ্রহরে আহারের পর যখন সকলে ঘুমাইবে, তখন ভিতর হইতে খিল বন্ধ করিয়া কপাটের উপরের বেড়া কাটিয়া বাহির হইয়া যাইব। চৈত্রমাস, রৌদ্রের তেজ না কমিলে গরমের জন্য কেহ সাধারণতঃ বাহিরে আসে না, আর আসিলেও ভিতর হইতে দরজা বন্ধ থাকিলে (দুই বেলা খাওয়া সময় ব্যতীত) কেহ ডাকে না। সুতরাং, বাড়ীর বাহির হইবার ইহাই প্রকৃষ্ঠ উপায়। একটি দিন স্থির করিয়া বেলা একটার সময় তারককে রাস্তায় অপেক্ষা করিতে বলিলাম। আমিও চতুর্দিকে ঘুরিয়া অভিভাবকদের মধ্যে কে কোথায় কিভাবে আছেন তাহা দেখিয়া লইলাম। তাহার পর ঘরের ভিতর আসিয়া পূর্ব্ব সিদ্ধান্ত মত জামাটি মাজায় বাঁধিয়া দরজা বন্ধ করিয়া বেড়া কাটিয়া বাহিরে আসিলাম এবং কেহ যাহাতে লক্ষ্য করিতে না পারে, এইভাবে গাঢাকা দিয়া মাঠের রাস্তায় নামিলাম।

চৈত্রের দ্বিপ্রহর।
মেঘশূন্য নিৰ্ম্মল আকাশে মার্তণ্ডদেব প্রচণ্ড বিক্রমে প্রখর কিরণজাল ছড়াইতেছেন। ছায়াহীন মুক্ত প্রান্তরে কে যেন আগুন ঢালিয়া দিয়াছে, বাতাসে আগুনের হল্কা বহিতেছে, উর্দ্ধে অধে, সম্মুখে পশ্চাতে, দক্ষিণে বামে সর্বত্র যেন অগ্নির বেড়াজাল। কোথাও কোন জনপ্রাণী নাই। আমরা সমস্ত কিছু অগ্রাহ্য করিয়া মনের আনন্দে ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের কথা আলোচনা করিতে করিতে দ্রুতপদ-বিক্ষেপে পথ চলিতে লাগিলাম।
বেলা প্রায় দুই ঘটিকা।
শ্রীমৎ আচার্য্যদেব প্রার্থনা-কুটিরে বসিয়া আছেন। আমরা ঘর্মাক্ত কলেবরে ভিতরে প্রবেশ করিতেই তিনি সাদরে কাছে ডাকিয়া নিয়া বসাইয়া জামা খুলিয়া ফেলিতে বলিলেন। কিছুসময় জামা খুলিয়া বিশ্রাম করিলাম, একটি ছেলে শ্রীমৎ আচার্যদেবের নির্দেশে জল আনিয়া দিল। খুব পিপাসা লাগিয়াছিল, জল পান করিয়া পরিতৃপ্ত হইলাম।
তখন ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব বলিলেন:= "এত রৌদ্রের মধ্যে আসিলে কেন? শেষ বেলায় আসিলেই পারিতে?"

আমি উত্তরে, কিভাবে আসিয়াছি এবং এখানে আসিতে অসুবিধা কি, সমস্ত বিষয় বিস্তারিত জানাইলাম। তখন তিনি একটু তেজের সহিত বলিতে লাগিলেন:=
"আপোষরফা করিয়া, পালাইয়া পালাইয়া আর কতদিন চলা যায়। এখন সকলকে জানাইয়া প্রকাশ্যেই এখানে আসিবে। তাহাতে যে কোন বাধা আসুক,বরণ করিয়া লইবে। সংসার ত্যাগ করিয়া ত্যাগীর জীবনযাপন করিতে যাহারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাহাদের পক্ষে এইরূপ লুকোচুরি করিয়া সংঘর্ষ এড়ানো উচিত নয়। তোমার কাজ তুমি করিবে, তাহাতে যে কোন বাধা আসুক তাহার সহিত সংগ্রাম করিয়া চলিবে। এইরূপ সংগ্রাম-সংঘর্ষের ভিতর দিয়াই শক্তি জাগ্রত হইবে, সংসারের প্রকৃত স্বরূপ উদ্‌ঘাটিত হইয়া খাঁটি বৈরাগ্য দেখা দিবে। সংসারের ভিত্তি স্বার্থের উপর, ধর্ম্মের ভিত্তি নিঃস্বার্থপরতার উপর; সাংসারিক জীবনের ভিত্তি ভোগের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর ধর্মজীবনের ভিত্তি ত্যাগের উপর স্থাপিত; সুতরাং ইহার মধ্যে কোন আপোষরফা চলিতে পারে না। প্রথম জীবনে শক্তি সংগ্রহ করিয়া নিজের ভাবকে দৃঢ় করিয়া লইবার জন্য সংঘর্ষ এড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নাই। এখন সকলকে বুঝান দরকার যে, তোমরা ঘর-সংসার করিবার জন্য পৃথিবীতে আস নাই, তোমাদের দ্বারা ঘর-সংসারের কোন কাজ চলিবে না। প্রতি মুহূর্তের আচরণ ব্যবহারের ভিতর দিয়া যদি এই কথা সকলে বুঝিতে পারে, তাহা হইলেই তাহারা তোমাদিগকে ছাড়িয়া দিতে প্রস্তুত হইবে; ধীরে ধীরে তাহারা মনকে বুঝাইয়া লইবে যে,--- না, ইহাদিগকে আর কিছুতেই বাঁধিয়া রাখা যাইবে না। ইহাতে তোমার ভিতরেও বদ্ধমূল ধারণা জন্মিবে যে-- তুমি এই সংসারের কেহ নও, তোমার স্থান অন্যত্র, দুইদিনের জন্য মাত্র এখানে অপেক্ষা করিতেছ, সময়-সুযোগ হইলেই স্বীয় গন্তব্যস্থানে চলিয়া যাইবে। এইভাবে উভয়দিকেই আসক্তির বন্ধন ধীরে ধীরে শিথিল হইয়া আসিবে এবং কল্পনা দ্বারা সংসারের যে স্বরূপ দেখিবার চেষ্টা করিতেছ তাহাই প্রত্যক্ষ দেখিতে পাইবে। সুতরাং, সংগ্রাম-সংঘর্ষকে তীব্র হইতে তীব্রতর করিয়া তুলিয়া শীঘ্র শীঘ্র গণ্ডী ভাঙ্গিয়া বাহির হইবার চেষ্টা করো। জীবনের উৎকৃষ্ট সময় চলিয়া যাইতেছে। এই সময়টাকে কিছুতেই বৃথা ব্যয় হইতে দেওয়া উচিত নয়।"

 #উপদেশামৃত ১২৭:---সাধন-কুটিরের সম্মুখস্থ পুষ্করিণীর দক্ষিণপাড়ে বাজারে যাওয়ার রাস্তার ডানদিকে বাস্তখোলায় প্রথমে ঢেঁকি স্...
27/07/2026

#উপদেশামৃত ১২৭:---
সাধন-কুটিরের সম্মুখস্থ পুষ্করিণীর দক্ষিণপাড়ে বাজারে যাওয়ার রাস্তার ডানদিকে বাস্তখোলায় প্রথমে ঢেঁকি স্থাপন করিয়া দুঃস্থ পরিবারের অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থা করা হইলো। ক্রমে অন্যান্য সাধারণ ধরণের কিছু কিছু কুটির-শিল্প প্রবর্তনেরও উদ্যোগ আয়োজন আরম্ভ হইলো। গ্রন্থাগারটিকেও ভাল করিয়া তুলিবার চেষ্টা চলিল।
গ্রামের শিক্ষিত কর্মক্ষম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ সাধারণতঃ শহরে থাকেন। শহর হইতেই নূতন রীতিনীতি ভাবধারা গ্রামে ছড়াইয়া পড়ে; গ্রামবাসী জনসাধারণ ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সহরেরই অনুকরণ করে। বিশেষতঃ একই ধরণের সম্ভ্রান্ত, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণের বিরাট সমাবেশ একমাত্র শহরেই। তাই শহরের সহিত সংযোগ রক্ষা করিতে না পারিলে যত বড় মহৎ কাজই হউক না কেন, উপযুক্ত মূল্য বা মর্য্যাদা পায় না এবং প্রচারও হয় না। এইজন্য বাজিতপুর হইতে ১০মাইল দূরে মাদারীপুর মহকুমা শহরে কেন্দ্র স্থাপন করিয়া শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদিগকে আশ্রমের ভাব ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ করিবার প্রয়োজনীয়তাও অনুভূত হইতে লাগিল। ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব নিজেই প্রবীণ উকিল ও নেতা শ্রীযুক্ত সুরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, মোক্তার শ্রীশ্রীশচন্দ্র ঘোষ ও অন্যান্যের সহযোগীতায় এই কার্য্যের দায়িত্ব গ্রহণ করিয়া প্রচার ও ক্ষেত্র প্রস্তুতির কার্য্য আরম্ভ করিলেন।
কার্য্য প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আশ্রমে জনসমাগম অধিক হইতে লাগিল। কেহ উপদেশ গ্রহণ, কেহ কাজকর্ম সম্বন্ধে আলোচনা বা পরামর্শ, কেহ আশ্রমবাস বা অন্যান্য ব্যাপারে আশ্রমে আসিতে ও দুই একদিন করিয়া থাকিতে আরম্ভ করিলো। স্থায়ী ত্যাগী কর্মীরাও কয়েকজন করিয়া আশ্রমে অবস্থান করেন। দত্তমহাশয় শ্রীমৎ আচার্য্যদেবের নির্দেশে উৎসাহ ও আন্তরিকতা সহকারে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ, পাক, পরিবেশন প্রভৃতি যাবতীয় কার্য্য সম্পন্ন করেন। গ্রামবাসীরও সকলেই আশ্রমের কার্য্যে খুব উৎসাহী; সকলের ঘরে ঘরে যেন আশ্রমের ভাণ্ডার স্থাপিত। চাউল, ডাউল, তরকারী, তৈল, লবণ, চিড়া, মুড়ি.. প্রভৃতি যখন যাহা প্রয়োজন, দত্ত মহাশয় যাইয়া কাহারও নিকট চাহিলেই সানন্দে তিনি তাহা দান করেন। আশ্রম যেন তাহার পরিবারভুক্ত, অভাব পূরণ করিতে পারিলেই খুশী। ইহাতে কোনসময় অসময় নাই। কেহ যদি কখনও কিছু দিতে না পারেন, তবে দুঃখিত হন, সময়ান্তরে প্রয়োজন না থাকিলেও নিজে যাইয়া সেই জিনিসটি আশ্রমে পৌঁছাইয়া দিয়া শান্তি লাভ করেন। দত্তকেন্দুয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সাবজজ শ্রীযুত রাসবিহারী বসু মহাশয় শ্রীমৎ আচার্য্যদেবের প্রতি বিশেষ প্রীতি ও শ্রদ্ধাসম্পন্ন। ইতিপূর্ব্বে ইনি গভর্ণমেন্ট ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিত লেখালেখি করিয়া ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেবের পরীক্ষা দেওয়ার (১৯১৬ খৃঃ) অনুমতি সংগ্রহ করিয়া দেন; বর্তমানেও তিনি শ্রীমৎ আচার্যদেবের মহৎগুণ ও কর্মকুশলতার প্রশংসা এবং এই প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক সম্পর্কহীন শুধু ধাৰ্ম্মিক ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান বলিয়া জ্ঞাপন করিয়া বিশেষ পরিচয়পত্র দেন। ইহাতে আশ্রমের তরুণকৰ্ম্মীগণ সর্ব্বত্র নিরুপদ্রবে‌ কার্য্য করিতে সমর্থ হন। শ্রীযুক্তা হেমাঙ্গিনী বসুও শ্রীমৎ আচার্য্যদেবকে আবশ্যকমত অর্থপ্রদান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সাহায্যাদি করিতে থাকেন। এমনিভাবে বিশ্বনিয়ন্তার ইচ্ছায় বিশাল সঙ্ঘ-সৌধের ভিত্তি দেশবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও সদিচ্ছার উপর সুদৃঢ়রূপে প্রোথিত হইতে লাগিল।

আজ ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের তৃতীয় সংঘ-সভাপতি তথা শ্রী শ্রী ঠাকুরের প্রধান সপ্তর্ষি লীলা-পার্ষদগণের অন্যতম পরম পূজ্যপাদ শ্রী...
26/07/2026

আজ ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের তৃতীয় সংঘ-সভাপতি তথা শ্রী শ্রী ঠাকুরের প্রধান সপ্তর্ষি লীলা-পার্ষদগণের অন্যতম পরম পূজ্যপাদ শ্রীমৎ স্বামী যোগানন্দজি মহারাজের ১২৭তম শুভ আবির্ভাব তিথিতে, প্রতিবছরের ন্যায় প্রধান কার্যালয়ে তারই কক্ষে বিশেষ পূজা ও আরতি অনুষ্ঠিত হয়।, ও সাধু ভান্ডার এবং অন্যান্য মঙ্গলকার্য সম্পন্ন হয়। স্বামীজির দিব্য আশীর্বাদ আমাদের সকলের লাভ হোক, এই প্রার্থনা করি।

#ভারতসেবাশ্রমসঙ্ঘ #স্বামীযোগানন্দ

#গুরুপুজা

Address

Agartala

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Yugacharya Srimat Swami Pranabanandaji Maharaj posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share