Yugacharya Srimat Swami Pranabanandaji Maharaj

Yugacharya Srimat Swami Pranabanandaji Maharaj Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Yugacharya Srimat Swami Pranabanandaji Maharaj, Religious organisation, Agartala.

lord Yugacharya Srimat swami Pranavanandaji maharaj(1896-1941) Founder of Bharat Sevashram Sangha in 1917 in Bajitpur, Bangladesh and in 1923 in Kolkata,& overall India.,also abroad
swami pranavananda ji avtar of lord Shiva....

 #উপদেশামৃত ১১৬:---তোমরা বর্তমানে জীবনের এক বিষম বিপজ্জনক স্থানে অবস্থান করিতেছ। এই সময়টা বড়ই ভয়ানক। এই স্থান হইতে বিপথে...
11/06/2026

#উপদেশামৃত ১১৬:---
তোমরা বর্তমানে জীবনের এক বিষম বিপজ্জনক স্থানে অবস্থান করিতেছ। এই সময়টা বড়ই ভয়ানক। এই স্থান হইতে বিপথে যাওয়ারও যেমন বেশী সম্ভাবনা, তেমনি সৎপথে অগ্রসর হইবারও খুব বেশী সম্ভাবনা। অবনতি হইলে খুব বেশী অবনতি হইবে, আবার উন্নতি হইলেও খুব দ্রুত উন্নতি হইবে। এই সময়টা একদিকে যেমন ভয়াবহ, অন্য দিকে আবার তেমনি খুব সুবিধাজনক। সৎপথে আসিয়া পবিত্রভাবে জীবনযাপন করিতে পারিলে শান্তি পাইতে থাকিবে, আর যদি প্রলোভনে পড়িয়া সংসারের দিকে ধাবিত হও, তবে জীবন একেবারে ব্যর্থ হইয়া যাইবে। কোনরকমে এই সময়টুকু উত্তীর্ণ হইতে পারিলেই খুব সুন্দর অবস্থায় উপনীত হইবে। আর ৩।৪টি বৎসর কঠোরতার ভিতর দিয়া ভালোভাবে চলিতে পারিলেই জীবন নিরাপদ হইবে। তাই তোমাদিগকে বার বার সাবধান করিয়া দিতেছি, খুব কঠোর নিয়ম পালন করিয়া চলিতে বলিতেছি।
এখানে একটি ছেলে আছে, আই-এ পাশ করিয়া বি-এ পড়িতেছে। পূর্ব্বে বেশ ভাল ছিল, বাড়ীতে আসিলে প্রায় সময়ই এখানে আসিত, নিয়মিতভাবে ধ্যান-জপ করিত, কঠোরভাবে চলিত, কিন্তু এখন সবই নষ্ট হইয়া গিয়াছে। পড়ার সময় নষ্ট হয় বলিয়া ধ্যান-জপ ছাড়িয়া দিয়াছে, অথচ বাবার টাকা রক্ষা করার জন্য ছেলে পড়াইতেছে। তাহাতে সময় নষ্ট হইবে না! আয়ের বুদ্ধি আসিযাছে কিনা, তাই টাকাই বড় হইয়াছে, জীবন-রক্ষার জন্য কোন চেষ্টা নাই! এখন আর সে আমাদিগকে বুঝিতেও পারে না। বিষয়বুদ্ধি আসিলে এইরূপই হয়। অনবরত বিষয়ীদিগের সহিত মিশিতে মিশিতে নিজের ব্যক্তিত্ব, অস্তিত্ব সব নষ্ট হয়, ধৰ্ম্ম-কর্ম সমস্ত লোপ পায়।

বাহিরের আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষার জন্য ভিতরে একটি ভাবরাজ্যের সৃষ্টি করিয়া তাহাতে ডুবিয়া থাকিবে।
সর্ব্বদা নিজের ভিতরে একটা ভাব-প্রবাহ সৃষ্টি করিয়া মনকে সর্ব্বদা সেই ভাব-প্রবাহে, চিন্তাধারায় ডুবাইয়া রাখিবে। তাহা হইলে এই ভাবটাই বাহিরের সমস্ত ঝড়ঝঞ্ঝা, বিপদাপদ হইতে রক্ষা করিবে, কোন পাপতাপ আর স্পর্শ করিতে পারিবে না। সুরেশের ভিতর এইরূপ একটা ভাব আছে, এই ভাবটাই তাহাকে সর্ব্বদা রক্ষা করিতেছে। তাহা না হইলে তাহার সাধ্য কি যে, এইভাবে থাকিতে পারে। সাধু সন্ন্যাসীরাও নিজেদের নিরাপদ রাখিবার জন্য, বাহিরের বিরুদ্ধ আবহাওয়া, আবিলতা পঙ্কিলতার হাত হইতে মুক্ত থাকিবার জন্য এইরূপ একটা ভাবরাজ্য সৃষ্টি করিয়া তাহাতে ডুবিয়া থাকেন। ইহাতে পারিপার্শ্বিক কোনকিছু আর তাঁহাদের ধরিতে, ছুঁইতে, স্পর্শ করিতে পারে না, বেশ শান্তিতে নিজের ভাবে নিজেরা তন্ময় হইয়া থাকেন। তাঁহারা যখন যেখানে যান, তখনও সেই ভাব-প্রবাহ বহন করিয়া নিয়া বেড়ান। যে সমস্ত সদ্ব্যক্তি তাঁহাদের নিকট আসে, তাহারা সেই সেই ভাবের স্পর্শ লাভ করিয়া ধন্য হয়; কিন্তু বিষয়ীদের মলিন চিন্তা-ভাবনা আর সেই ভাবের আবেষ্টন করিয়া সন্ন্যাসীদের ভিতরে পৌঁছিতে পারে না।

09/06/2026

#ভারত_সেবাশ্রম_সঙ্ঘ
#হিন্দুমিলনমন্দির #আলিপুরদুয়ার


#অস্ত্রআরতি

 #উপদেশামৃত ১১৫:---কিন্তু সে একবারও ভাবে না যে, এই মুহুর্তেই যদি তার মৃত্যু হয়, তবে কে তাহার পিতামাতাকে অর্থোপার্জ্জন ক...
08/06/2026

#উপদেশামৃত ১১৫:---
কিন্তু সে একবারও ভাবে না যে, এই মুহুর্তেই যদি তার মৃত্যু হয়, তবে কে তাহার পিতামাতাকে অর্থোপার্জ্জন করিয়া খাওয়াইবে? কে তাহার পিতামাতার ঋণ শোধ করিবে? তখন সকলেই নিরুত্তর, কেহ কোন কথা বলিবে না।
এই যে কালু ভুঁইঞা ছিল, সে যদি এখন সন্ন্যাসী হইয়া চলিয়া যাইত তবে লোকে তাহাকে কত গালাগালি দিত; সকলেই বলিত, এতগুলি নাবালক শিশু সন্তান ফেলিয়া যাওয়া নিতান্ত অন্যায় হইয়াছে। কিন্তু তাহার যে মৃত্যু হইল, এখন কে তাহার স্ত্রীপুত্রের ভরণপোষণ করিবে?
কে তাহাদের ঋণ পরিশোধ করিবে?
কই, তাহার তো কোন ঋণ শোধ হইল না! ইহার উত্তরে সকলে বলিবে= মৃত্যুর সঙ্গে কোন কথা বলা চলে না। কেন?
জীবনের সঙ্গে যদি কথা চলে, তবে মৃত্যুর সঙ্গেই বা চলিবে না কেন?
মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তো সব কিছু শেষ হইয়া যায় না। মৃত্যুর পূর্ব্বে এখনও যে "আমি" আছি, মৃত্যুর পরেও তো সেই "আমি"ই থাকিব। একই "আমি" জন্ম-মৃত্যুর ভিতর দিয়া বিভিন্ন দেহ ধারণ ও ত্যাগ করিয়া এই সংসারক্ষেত্রে বিচরণ করিতেছি! সুতরাং এই দেহের সঙ্গে আমার কি সম্বন্ধ?
জীবনের চরম লক্ষ্য সাধন--- ভগবল্লাভের জন্যই তো দেহধারণ, আর সেই দায়িত্ব ও কর্তব্য উদ্যাপনেই তো ইহার চরম সার্থকতা। অন্যকিছু করিয়া জীবন অতিবাহিত করিলে তো দেহধারণের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হইয়া যায়!

দেহের সহিত সম্বন্ধহেতুই পিতৃমাতৃ-সম্বন্ধ-- সাংসারিক বন্ধন স্বীকার করিতে হয়, দেহাত্মবোধের অভাবে দৈহিক সম্বন্ধও লোপ পায়।
আমি এই দেহ নই; সুতরাং এই দেহের সহিত সম্বন্ধযুক্ত কোনকিছুও আমার নয়। আত্মা এই দেহকে আশ্রয় করিয়া আছে বলিয়াই শরীর নড়িতেছে, চলিতেছে, কাজকর্ম করিতেছে। কিন্তু যে মূহূর্তে আত্মা এই দেহ ছাড়িয়া চলিয়া যাইবে, সেই মূহূর্তেই ইহা নিশ্চল হইবে, দুইদিন যাইতে না যাইতেই পচিয়া গলিয়া নষ্ট হইতে থাকিবে। তখন দুর্গন্ধে অস্থির হইয়া সকলে দূরে পালাইবে। ইহাই এই দেহের পরিণাম! দেহের এই শোচনীয় পরিণাম প্রত্যক্ষ করিয়াও কি কোন বিচারশীল বুদ্ধিমান ব্যক্তি ভোগবিলাসে, দেহের সুখস্বাচ্ছন্দ্য বিধানে মত্ত হইতে পারে?
না, বাজে কাজে বহুমূল্যবান সময় নষ্ট করিয়া জীবনের অপব্যবহার করিতে পারে?
বিবেকী যে, প্রকৃত বুদ্ধিমান বিচক্ষণ যে, সে দেহের এই অবশ্যম্ভাবী পরিণতির কথা চিন্তা করিয়া শ্রেষ্ঠতম কর্তব্য সাধন--- ভগবল্লাভের চেষ্টা করিয়াই জীবনের সদ্ব্যবহার করিতে যত্নবান হয়। সে জানে, মনে-প্রাণে উপলব্ধি করে যে, পিতামাতা, ভাই-বন্ধুর সহিত সম্বন্ধ এই দেহের, দেহ ধারণ করিয়াছি বলিয়াই এইসমস্ত পিতামাতা, ভাই-বন্ধু দেখা দিয়াছে, দেহের সহিত সম্বন্ধহেতুই এইসমস্ত সম্বন্ধ স্বীকার করিতে হইতেছে। জীবনের গন্তব্যপথে কতশত জন্মে এইরূপ কতশত পিতা-মাতা-ভাই-বন্ধু হইয়াছে ও গিয়াছে। তাঁহাদের সহিতই যখন কোন সম্বন্ধ নাই, তখন ইঁহাদের সহিতই বা কোন সম্বন্ধ থাকিবে কি করিয়া?
ক্ষণভঙ্গুর দেহের সহিত সম্বন্ধযুক্ত এইসমস্ত লৌকিক সম্বন্ধও নিতান্তই ক্ষণভঙ্গুর। দেহাত্মবোধেই এইসমস্ত সম্বন্ধ স্বীকার করিতে হয় এবং তাহার অভাব হইলেই সম্বন্ধও লোপ পায়। সুতরাং, আমি যখন দেহ নই, তখন দেহের সহিত সম্বন্ধযুক্ত এই সব অলীক সম্বন্ধই বা আমার হইবে কেন?
আর সেই সম্বন্ধই যদি না হয়, তবে আমি কতকগুলি মিথ্যা, কাল্পনিক দায়িত্ব ও কর্তব্য স্বীকার করিয়া আমার প্রকৃত দায়িত্ব ও কর্তব্যকে অবহেলা করিব কেন?—
ইহাই প্রকৃত বিবেকীর বিচার।
তোমরা এইভাবে বিচার করিয়া সংসারের প্রকৃত রহস্য উপলব্ধি করিতে চেষ্টা করিবে। তোমাদের জন্য ওসব কথা নয়। যাহারা বীরের ন্যায় এইমূহূর্তে সমস্তকিছু আবর্জনা-স্তূপের মত ছুড়িয়া ফেলিয়া দিয়া শ্রীভগবানের লাভের জন্য বাহির হইয়া যাইতে চায়, তাহাদের জন্য স্বতন্ত্র কথা, শাস্ত্রের স্বতন্ত্র বিধান। তোমরা কখনও ঐসব কথায় বিচলিত হইবে না। লোকে এইসব কথা বলিয়া তোমাদিগকে ভ্রান্তপথে পরিচালিত করিতে চায়। ইহাও একপ্রকার পরীক্ষা। খুব সাবধান, খুব সতর্ক থাকিবে। সর্ব্বদা খুব বিচার করিয়া চলিবে, যেন কোন ভ্রমভ্রান্তি পাপতাপ স্পর্শ করিতে না পারে।

 #উপদেশামৃত ১১৪:---ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব যত জোরের সহিত কথাগুলি বলিতে লাগিলেন, সকলের সন্দেহ-সংশয়ের গ্রন্থিও তত দ্রুত ...
07/06/2026

#উপদেশামৃত ১১৪:---
ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব যত জোরের সহিত কথাগুলি বলিতে লাগিলেন, সকলের সন্দেহ-সংশয়ের গ্রন্থিও তত দ্রুত শিথিল হইতে লাগিল। এইসময় অপর একজন বিষয়টির পরিষ্কার মীমাংসা করিয়া লইবার জন্য সাহস সঞ্চয় করিয়া জিজ্ঞাসা করিল:=
অনেকে বলে-- এইসমস্ত কথা নাকি শাস্ত্রে আছে। কথা কয়টি শুনিবামাত্রই শ্রীমৎ আচার্য্যদেব ধমক দিয়া বলিলেন:=
"ওসব কথা কাহাদের জন্য? শাস্ত্রের সব কথাই কি সকলের জন্য? তাহা হইলে বুদ্ধ, শঙ্কর, চৈতন্য সন্ন্যাসী হইলেন কেমন করিয়া? তাঁহারা কি শাস্ত্রের বিধান লঙ্ঘন করিয়াছেন, না সংসার ত্যাগ করিয়া অন্যায়, অধর্ম করিয়াছিলেন? তাঁহাদের মত শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত তখন ভারতবর্ষে কয়জন ছিলেন এবং এখনই বা কয়জন আছেন? আসল কথা, বিবেক-বিচার-সম্পন্ন যাঁরা, সংসারের প্রকৃত স্বরূপ, জগতের প্রকৃত রহস্য উদ্ভেদ করিয়া, ভোগ্য পদার্থের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হইয়া যাঁহারা শ্রীভগবান্ লাভের জন্য কৃতসঙ্কল্প, তাঁহাদের জন্য এই কথা নয়। যাহারা কামনা বাসনার জ্বালায় জর্জরিত, বিষয়-ভোগের জন্য পাগল, নিজ নিজ স্বার্থ ও ইন্দ্রিয় সুখ-সম্ভোগ ব্যতীত আর কিছু বুঝে না, তাহাদের জন্যই এইসমস্ত বিধান; তাহাদের উপর এইসমস্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য আরোপ করিয়া, সঙ্কীর্ণ স্বার্থচিন্তা ভুলাইয়া, ঋষিরা তাহাদিগকে উদার ও সংযত করিতে চেষ্টা করিয়াছেন। ইহাতে মানুষ শুধু নিজ নিজ আহার-বিহার, সুখভোগ নিয়া ব্যস্ত থাকিতে পারিবে না, তাহাকে কিয়ৎপরিমাণে নিজের কথা ভুলিয়া, স্বার্থসুখ বিসর্জন দিয়া পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, পরিজন প্রভৃতির জন্যও চিন্তা করিতে হইবে, চেষ্টা-যত্ন করিতে হইবে, ইহাতে তাহাকে বাধ্য হইয়া কতকটা ত্যাগ, কতকটা সংযম অবলম্বন করিতে হইবে। সংসারে এই দায়িত্ব ও কর্তব্যের বন্ধন না থাকিলে মানুষ পশুর স্তরে নামিয়া যাইত। তাই শাস্ত্রকার সাধারণ স্বার্থ-সঙ্কীর্ণ, দেহ সুখপরায়ণ, ভোগলুব্ধ মানুষকে ঊর্ধ্বমুখী, উন্নত করিবার জন্য এইসমস্ত নির্দেশ দিয়াছেন। প্রথম পাঠের পড়ার মত ইহা ত্যাগ-সংযম অভ্যাসের, ধৰ্ম্ম-জীবন-গঠনের প্রথম স্তরের কর্তব্য গৃহস্থাশ্রমের বিধান। এইসমস্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিতে করিতেই সাধারণ মানুষের ভিতর বৃহত্তর ত্যাগের ভাব আসে। কিন্তু এই সমস্তই মায়ারাজ্যের কথা, ভ্রান্তি। ভ্রান্তির ঘোর ভাঙ্গিয়া গেলে, মোহের নেশা কাটিয়া গেলে আর এইসমস্ত দায়িত্ব ও কর্তব্যের বন্ধন থাকে না, শুষ্কপত্রের মত আপনিই খসিয়া পড়ে। তখন আর তাহাকে শত চেষ্টা করিয়াও সংসারে আটকাইয়া রাখা যায় না।
মানুষ মায়ামোহে আচ্ছন্ন হইয়া ভাবে যে, মা আমাকে জন্মাবধি কত না আদর-যত্নে লালনপালন করিয়াছেন, পিতা কত না কষ্টে অর্থোপার্জন করিয়া ভরণপোষণ করিতেছেন! আমি কি তাঁহাদের জন্য দায়ী নই? আমার কি তাঁহাদের উপর কোন কর্তব্য নাই? নিশ্চয়ই আছে; পিতামাতা যখন আমাকে খাওয়াইয়া পড়াইয়া মানুষ করিয়াছেন, তখন আমাকেও তাহাই করিতে হইবে। এই ভাবে মোহমুগ্ধ মানুষ কল্পনাবলে কতকগুলি মিথ্যা দায়িত্ব ও কর্তব্য গড়িয়া লইয়া গুটিপোকার মত নিজেকে নিজের রচিত জালে আবদ্ধ করিয়া রাখে।*

*এইগুলি চরম বৈরাগ্যের উপদেশ।
মনে রাখিতে হইবে= শ্রীমৎ আচার্য্যদেব এখানে একজন অষ্টাদশবর্ষীয় কঠোর সাধনপরায়ণ, মুমুক্ষু, সংসার-ত্যাগে উদ্যোগী, বৈরাগ্যপরায়ণ যুবককে তাহার শেষ সংশয় সন্দেহ নিরসন করিয়া জীবনের শ্রেষ্ঠতম দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে উদ্বুদ্ধ করিতেছেন। সাধকের ভিতরটা যখন জলন্ত হাঁপরের মত বোধ হয়, ভোগ-সামগ্রী যখন আনন্দের পরিবর্তে নিদারুণ জ্বালার সৃষ্টি করে, তখনই সে সংসারের সাধারণ দায়িত্ব ও কর্তব্য অস্বীকার করিতে পারে এবং তাহাতে তাহার কল্যাণ হয়। কিন্তু তৎপূর্ব্বে নয়। নিজের ভোগপ্রবৃত্তি ও তাহার জন্য চেষ্টা-যত্ন যতদিন পর্যন্ত থাকিবে, ততদিন পর্যন্ত সংসারের সাধারণ দায়িত্ব কর্তব্যও স্বীকার করিতে হইবে। তাহা না হইলে তাহাকে প্রত্যবায়ভাগী হইতে হইবে--- অধৰ্ম্ম, অন্যায়, অপরাধ করা হইবে। গৃহী ও সন্ন্যাসী, সংসারাসক্ত ও সংসার-বিরক্তের দায়িত্ব কর্তব্য এক নয়। গৃহীর পক্ষে সাধারণতঃ যাহা অবশ্য কর্তব্য, সন্ন্যাসীর পক্ষে তাহাই অবশ্য পরিত্যজ্য। সংসারাসক্ত ব্যক্তির যাহা ধর্ম, সংসার-বিরক্তের তাহা অধৰ্ম্ম। অবস্থা-ভেদে, অধিকার ভেদে শাস্ত্রের বিধান অনুসারেই উভয়ের দায়িত্ব-কর্তব্যে ভেদ রহিয়াছে। সুতরাং, গৃহীরা যেন এখানে পিতৃমাতৃ-ঋণ এবং পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্বন্ধে ভুল না বুঝেন।
(স্বামী আত্মানন্দ)

 #উপদেশামৃত ১১৩:---এইসময় বিধু জিজ্ঞাসা করিল= এইসমস্ত সাধারণ লোকদের সহিত না মিশিলে, কথা না বলিলে কি করিয়া ইহাদের পরিবর্তন...
06/06/2026

#উপদেশামৃত ১১৩:---
এইসময় বিধু জিজ্ঞাসা করিল= এইসমস্ত সাধারণ লোকদের সহিত না মিশিলে, কথা না বলিলে কি করিয়া ইহাদের পরিবর্তন করা যাইবে? ত্যাগী যাঁরা যদি ইহাদের কোলে তুলিয়া না নেন, তবে ইহারা কি ভাবে উন্নত হইবে?

ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব এই কথা শুনিয়া মৃদুমধুর হাসিয়া বলিলেন=
"এ কথা ঠিক। তবে যার শক্তি-সামর্থ্য আছে, যে অপরের ভাবে ভাবান্বিত না হইয়া অপরকে নিজের ভাবে, নিজের আদর্শে ভাবান্বিত করিতে পারে, সেই এই কাজ করিতে পারে। যার শক্তিসামর্থ্য নাই, নিজেকে নিয়াই যে প্রতিনিয়ত বিব্রত, সে যদি সকলের সহিত মিশিয়া তাহাদের উন্নত করিতে যায়, তবে তাহা হইবে আত্মহত্যা। তাহাতে নিজের অস্তিত্বই হারাইয়া যাইবে। যার অপরকে গড়িয়া তুলিবার মত শক্তি-সামর্থ্য আছে, সে তো তাদের কোলে তুলিয়া নিবেই। কিন্তু তাই বলিয়া যাহার সেই শক্তি নাই, তাহাকে এই কাজ করিতে হইবে না। তাহা হইলে জীবনই বিপন্ন হইবে, অন্যের কিছু উপকার হইবে না। তোমরা ওসব কথায় কখনও কান দিও না। ওইসব কথা শুনিতে বড় ভালো, কিন্তু উহার ভিতর দিয়াই মানুষের ভিতর নানাপ্রকার দুর্ব্বলতা প্রবেশ করে। একটু বিচার করিলেই উহার ফাঁকি ধরা পড়িবে। আগে নিজে শক্তিমান হও, নিজের জীবন গড়িয়া তোল, তারপর অপরকে শক্তিমান করিবার চেষ্টা করা যাইবে। নিজের জীবনই যদি গড়িয়া না উঠিল, তবে অপরের জীবনকে গড়িয়া তুলিবে কি করিয়া? নিজে যদি শক্তিমান না হইতে পার, তবে অপরকে শক্তিমান করিতে যাওয়ার কথা বাতুলতা নয় কি?"

যুবকদিগকে ত্যাগমন্ত্রে দীক্ষাগ্রহণের আহ্বানের কথা শুনিয়াই নিকুঞ্জের প্রাণে একটি প্রশ্ন কিছুসময় যাবৎ কেবল অবসর খুঁজিতেছিল। শ্রীমৎ আচার্য্যদেবকে একটু নির্বাক দেখিয়া সে ধীরে ধীরে অতি সঙ্কুচিতভাবে জিজ্ঞাসা করিল= অনেকে বলে--- গৃহস্থাশ্রমে প্রবেশ করিয়া পিতৃমাতৃ-ঋণ শোধ না করিলে নাকি ধৰ্ম্ম-কর্ম হয় না, অনন্ত নরক হয়--- ইহার অর্থ কি?
ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব এই কথা শুনিবামাত্রই অতি তেজের সহিত গম্ভীরভাবে বলিলেন=
"ও কথা নিতান্ত ভুল। অবিবেকী ভ্রান্ত যাহারা--- যাহারা মায়ামোহে মুগ্ধ, প্রকৃত ধৰ্ম্মতত্ত্ব বুঝে না--- তাহারাই নিজেদের দুর্ব্বলতা, নিজেদের অজ্ঞানতাকে সমর্থন করিবার জন্য এইসমস্ত কথা বলিয়া থাকে। ইহা আত্মপ্রতারণা ব্যতীত আর কিছু নয়। প্রকৃত বীর যে, এই মুহূর্তেই যে সমস্ত ভোগসুখ বিসর্জন দিয়া, সংসার-বন্ধন ছিন্ন করিয়া ভগবল্লাভের জন্য প্রস্তুত, তাহার জন্য ঐ কথা নয়। তোমরা কখনও উহা শুনিবে না। প্রকৃত জ্ঞানীর চক্ষে, বেদান্তের দৃষ্টিতে বিচার করিলে দেখা যায় যে, এ-জগতে কেহ কাহারও নিকট ঋণী নয়, কেহ কাহারও জন্য দায়ীও নয়--- প্রত্যেকেই নিজের নিকট ঋণী, নিজের জন্য দায়ী। পিতামাতা, ভাই-বন্ধু, আত্মীয়-পরিজন কেহই আমার জন্য দায়ী নয় এবং আমিও কাহারও জন্য দায়ী নই, কেহই আমার নিকট ঋণী নয়, আমিও কাহারও নিকট ঋণী নই। এ-কথা অভ্রান্ত সত্য।"

 #উপদেশামৃত ১১২:--- #ত্যাগ_ও_ভোগের_তারতম্য_বিশ্লেষণ:---ত্যাগ ও ভোগ--- দুইটি সম্পূর্ণ বিপরীত পথ। একটি স্বর্গ= মহাসুখের, অ...
05/06/2026

#উপদেশামৃত ১১২:---
#ত্যাগ_ও_ভোগের_তারতম্য_বিশ্লেষণ:---
ত্যাগ ও ভোগ--- দুইটি সম্পূর্ণ বিপরীত পথ।
একটি স্বর্গ= মহাসুখের, অপরটি নরক= অনন্ত দুঃখের;
একটি মহাশান্তি, মহাকল্যাণের, আর একটি মহা অশান্তি ও অকল্যাণের। দুইটি সম্পূর্ণ বিরুদ্ধ পথ পরস্পর বিপরীত দিকে চলিয়াছে।
একটি চায়= যাহা কিছু আছে সমস্ত বিসর্জন দিতে, আর একটি চায়= যাহা কিছু আছে শুধু তাহাই নয়-- যাহা কিছু নাই তাহাও সংগ্রহ করিয়া আনিয়া ভোগ করিতে। সুতরাং, এই দুইয়ের মধ্যে কখনও কোনরকমে মিল বা সামঞ্জস্য হইতে পারে না। তাই যাহারা প্রকৃত বুদ্ধিমান, তাহারা ত্যাগের পথই বাছিয়া লয়।

#বর্তমান_মানুষের_ভোগপ্রবণতা:---
আজকাল ভারতের অবস্থা বড় শোচনীয়। যে ভারত একদিন ধর্মপ্রাণ, ধৰ্ম্মনিষ্ঠ ছিল, ত্যাগ--- আত্মবিসর্জন যেখানে জীবনের একমাত্র সাধনা, একমাত্র ব্রত ছিল, সেই ভারত আজ ধৰ্ম্মকে পরিত্যাগ করিয়া ভোগবাদকেই চরমবাদ বলিয়া জীবনে বরণ করিয়া লইয়াছে। যে ভারতবাসী একদিন শৈশব হইতেই গুরুগৃহে থাকিয়া রিপু-ইন্দ্রিয়ের সংযম, সেবা ও স্বার্থত্যাগ অভ্যাস করিত, আজ সেই ভারতবাসী সমগ্র জীবন শুধু বিষয়-সুখ-সম্ভোগ এবং ইন্দ্রিয় ও ইন্দ্রিয়-পরিতৃপ্তির জন্য ছুটিতেছে। সকলেই মায়ামোহে মুগ্ধ হইয়া অনিত্য বিষয়কে আঁকড়াইয়া ধরিয়া আছে, কেহই মোহমুক্ত হইয়া শ্রীভগবানকে লাভ করিতে চেষ্টা করিতেছে না! ফলে নানাবিধ জ্বালা-যন্ত্রণা, অসুখ-অশান্তি আসিয়া ভারতবাসীকে চতুর্দিক হইতে ঘিরিয়া ধরিয়াছে।

ভারতকে ভোগ-প্রবণতার কবল হইতে রক্ষার জন্য চাই একদল ত্যাগী পুরুষ।
ভারতের এই কলুষিত আবহাওয়ার পরিবর্তনের জন্য আজ চাই লক্ষ লক্ষ ত্যাগী পুরুষ, যাঁহারা জীবনের সমস্ত ভোগ-সুখ, আরাম-বিরাম বিসর্জন দিয়া সমগ্র দেশময় একটা ত্যাগের ভাব, একটা ধর্ম্মের আবহাওয়া সৃষ্টি করিবে। ভারতবর্ষ ত্যাগীর দেশ, ধর্ম্মের রাজ্য, ভারতবাসী অমৃতের সন্তান। ভারতের নরনারী, বালবৃদ্ধযুবা ধর্ম্মের জন্য জীবন ধারণ করিয়াছে, আবার প্রয়োজন হইলে ধর্ম্মের জন্যই জীবন বিসর্জন দিবে। সুতরাং, ভারতবাসী কখনও অন্য আদর্শ, অন্য কোন ভাবকে গ্রহণ করিতে পারে না। তাই আজ একদল শিক্ষিত যুবককে ত্যাগব্রত গ্রহণ করিয়া বাহির হইয়া আসিতে হইবে। তাঁহাদের ভোগবিমুখ, বিষয়-নিস্পৃহ, বৈরাগ্যপূর্ণ জীবন, তাঁহাদের কঠোর সাধনা ও আত্মত্যাগ, তাঁহাদের পবিত্রতাপূর্ণ উন্নত চরিত্রের সংস্পর্শে দেশের ভোগপ্রবণপঙ্কিল মনোবৃত্তি পবিত্র, বিশুদ্ধ হইবে। তখন সেই ত্যাগময় পবিত্র, বিশুদ্ধ আবহাওয়ার মধ্যে নূতন সাধনার ভিতরে, নূতন আদর্শ নিয়া জন্মগ্রহণ করিবে ভারতের ভবিষ্যৎ বংশধর-আদর্শবান, নীতিপরায়ণ, স্বধৰ্ম্মনিষ্ঠ খাঁটি ভারতীয় জাতি। এমনি ভাবেই ধীরে ধীরে সমগ্র ভারত ত্যাগ, সংযম ও পবিত্রতার পথে অগ্রসর হইবে।
তোমরা কখনও (ঘোর) বিষয়ী ব্যক্তিদের সঙ্গে মিশিবে না। তাহা হইলে উহাদের বিষয়-চিন্তা তোমাদের ভিতর প্রবেশ করিবে, একটুখানি ত্যাগের ভাব যা আছে, সব নষ্ট হইয়া যাইবে। কখনও উহাদের সহিত কথা বলিবে না, উহাদিগকে স্পর্শ করিবে না। এ-বিষয়ে খুব কঠোরতা অবলম্বন করিবে। কর্তব্যের অনুরোধে যদি কখনও মিশিতে হয়, তবে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু মিশিবে, তাহার চেয়ে এক তিলও জেন বেশী না হয়। সর্ব্বদা নিজের ভাবে নিজে থাকিবে, নিজের আদর্শে নিজে চলিবে।
তোমরা কখনও নিমন্ত্রণ খাইবে না। নিমন্ত্রণ খাইতে হইলে এরূপ বহু লোকের সংস্রবে যাইতে হয়, নানা অবান্তর কথা বলিতে হয়, নানা বাজে লোকের ছোয়া উচ্ছিষ্ট খাইতে হয়, তাহাতে ভিতরে অতি সাধারণ ভাব আসার সুযোগ পায়। বাজে লোকের সংস্রব, বহু লোকের সংস্রব সর্ব্বদা এড়াইয়া চলিতে চেষ্টা করিবে। কাহারও সঙ্গে বেশী কথা বলিবে না! যদি নিজের ভাবের লোক পাও, তবে তাহার সঙ্গে মিশিবে, কথা বলিবে, তাহার প্রাণের কথা শুনিবে। নিজের লোক না পাইলে কাহারও সহিত কথা বলিবে না, চুপ করিয়া থাকিবে।"

 #উপদেশামৃত ১১১:---জীবনের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য চাই প্রহ্লাদের মত দৃঢ়তা ও নির্ভীকতা:=সর্বদা সমস্ত অবস্থায় পর...
03/06/2026

#উপদেশামৃত ১১১:---
জীবনের অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য চাই প্রহ্লাদের মত দৃঢ়তা ও নির্ভীকতা:=
সর্বদা সমস্ত অবস্থায় পর্ব্বতের মত অচল অটল থাকিবে। কোন কিছুতে ভ্রূক্ষেপ করিবে না, গ্রাহ্য করিবে না। আপন মনে আপন ভাবে আপনি ডুবিয়া থাকিবে।
আজকাল যদি কোন ছেলেকে তাহার বাপ মা একটু মন্দ বলে, একটা ধমক দেয় (সৎপথে চলার জন্য), অমনি সে তাহার আদর্শ, তাহার সাধনা বিসর্জন দিয়া 'ভাল ছেলে' সাজে। আদর্শে কোন নিষ্ঠা নাই, সঙ্কল্পে কোন জোর নাই, নিয়মে নীতিতে কোন আস্থা নাই। এমনিভাবে কি কোন জীবন তৈরী হয়! তোমরা প্রহ্লাদের কথা চিন্তা করিবে। কি অদ্ভুত দৃঢ়তা, কি অসাধারণ ছিল তাঁহার মনের জোর! অতটুকু ছেলে, তাহাতে হিরণ্যকশিপুর মত দুর্দান্ত প্রতাপশালী রাজা তাহার পিতা। হরিনাম ত্যাগ করার জন্য কত প্রলোভন দেখাইল, কত ভয় দেখাইল, কত লাঞ্ছনা, কত অত্যাচার করিল; কিন্তু সে কোন ভয়ে ভীত, কোন প্রলোভনে প্রলুব্ধ হইল না! উচ্চ গিরিশৃঙ্গ হইতে সমুদ্রজলে নিক্ষেপ করিল, মদমত্ত মহাভয়ঙ্কর হস্তীর পদতলে ফেলিয়া পিষিয়া মারিবার চেষ্টা করিল, বিষধর সর্প আনিয়া সম্মুখে ছাড়িয়া দিল, কিন্তু কিছুতেই সে বিচলিত হইল না। অবশেষে নিরুপায় হইয়া প্রাণবধের জন্য প্রহ্লাদকে ভীষণদর্শন নিষ্ঠুর ঘাতকের হস্তে সমর্পণ করিল; কিন্তু তবুও সে অচল অটল--- এক বিন্দু টলিল না, এক চুল নড়িল না, একটু ভীত সন্ত্রস্ত হইল না; বরং দ্বিগুণ উৎসাহে হরিনাম করিতে লাগিল। মরিতে হয় তো হরিনাম করিতে করিতেই মরিব, হরিনাম ত্যাগ করিয়া আদর্শ ও সাধনা বিসর্জন দিয়া বাঁচিয়া থাকিয়া লাভ কি?--- এই ছিল তাঁহার পণ, তাঁহার সঙ্কল্প, তাঁহার বিচার। আদর্শ যখন জীবনের সঙ্গে এমনিভাবে মিশিয়া যায়, তখনই মানুষ তাহার (রক্ষার) জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত হয়। আদর্শই জীবন, আদর্শ-সাধনার সঙ্কল্পই জীবনের প্রকৃত উৎস। তাই সাধক আদর্শের জন্য--- স্বীয় সঙ্কল্প-সাধনের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে প্রস্তুত হয়, কিন্তু জীবনের জন্য আদর্শ--- আদর্শ-সাধনের সঙ্কল্প বিসর্জন দেয় না। আদর্শহীন জীবন মৃত্যুরই নামান্তর। জীবনের আদর্শই যদি নষ্ট হয়, সাধনার সঙ্কল্পই যদি ভাঙ্গিয়া যায়,তবে আর বাঁচিয়া থাকিয়া লাভ কি? তাই প্রকৃত সাধক প্রহ্লাদের মত দৃঢ়তা নিয়া সঙ্কল্পরক্ষা--- আদর্শ রক্ষার জন্য প্রস্তুত হয়।
তোমরা সর্ব্বদা প্রহ্লাদের দৃঢ়তা, শঙ্করের জ্ঞান, বুদ্ধের ত্যাগ-বৈরাগ্য ও চৈতন্যদেবের প্রেমের কথা চিন্তা করিবে। বুদ্ধের কি অসাধারণ ত্যাগ!

#বুদ্ধের_ত্যাগের_শ্রেষ্ঠতা:---
রাজপুত্র--- অতুল ঐশ্বর্য্যের অধিকারী, সুবিশাল রাজ্য, বিপুল ভোগসম্ভার, সদ্যোজাত পুত্র, বৃদ্ধ পিতামাতা, প্রিয়তমা পত্নী--- সবকিছু পরিত্যাগ করিয়া ভিখারীর বেশে তিনি রাজপ্রাসাদ হইতে বাহির হইয়া আসিলেন! যে সমস্ত ভোগৈশ্বর্য্যের জন্য গৃহস্থরা প্রতিনিয়ত কত না প্রার্থনা, কত না ব্রত-উপবাস-পূজার্চ্চনা করে, যাহার সামান্য কিছু পাইলে সাধারণ লোক নিজেকে কৃতার্থ মনে করে, বুদ্ধদেব সেই সমস্ত বস্তুই তৃণের মত তুচ্ছ জ্ঞান করিয়া পথের ভিখারী হইলেন! পিতামাতার স্নেহ, পত্নীর ভালবাসা, পুত্রের প্রতি মমতা, বিষয়ের প্রলোভন--- কিছুই তাঁহাকে আবদ্ধ করিতে পারিল না! রাজার ছেলে--- জন্মাবধি যিনি বিলাস-ব্যসন, ভোগৈশ্বর্য্যের মধ্যে লালিত পালিত, তিনি স্বেচ্ছায় সমস্ত কিছু বিসর্জন দিয়া ভিক্ষাব্রত গ্রহণ করিলেন। কত বড় মহান্ ত্যাগ, কি অদ্ভুত নিস্পৃহতা!
এই ত্যাগেই প্রকৃত সুখ, আর ভোগেই দুঃখ। যেখানে ভোগের আকাঙক্ষা নাই, ইন্দ্রিয় পরিতৃপ্তির প্রয়াস নাই, সেখানে কি কখনও অ-সুখ, অশান্তি থাকিতে পারে? অ-সুখ, অশান্তি তাহার কাছেও যাইতে পারে না। ভোগের লিপ্সা, কামনা বাসনার তাড়না যেখানে, সেখানেই অ-সুখ, অশান্তি, নিরানন্দ। কামনা বাসনার আগুনই মানুষের সুখ, শান্তি, আনন্দ পোড়াইয়া ছাই করিয়া দেয়; কিন্তু তবু মানুষের জ্ঞান হয় না, চৈতন্য হয় না, ভোগের আপাত মনোরম চাকচিক্যে ভুলিয়া সে আবার অন্ধের মত বিষয়ের পানে ধাবিত হয়। ত্যাগীরা যাহা কাকবিষ্ঠার মত ঘৃণা সহকারে পরিত্যাগ করে, ভোগীরা তাহাই আনন্দের সামগ্রী বলিয়া পরম সমাদরে গ্রহণ করে, গ্রহণ করিয়া অশান্তির জ্বালায় জ্বলিয়া মরে।

 #উপদেশামৃত ১১০:---কথাগুলি বলিতে বলিতে ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব হঠাৎ থামিয়া কিছুসময় নীরবে অবস্থান করিতে লাগিলেন। এইসময় ...
02/06/2026

#উপদেশামৃত ১১০:---
কথাগুলি বলিতে বলিতে ভগবান শ্রীশ্রীআচার্য্যদেব হঠাৎ থামিয়া কিছুসময় নীরবে অবস্থান করিতে লাগিলেন। এইসময় বিধু অতি সন্তর্পণে জিজ্ঞাসা করিলেন= কি করিয়া জীবনের উদ্দেশ্য সর্বদা জাগ্রত রাখা যাইবে?

#সৎসঙ্কল্প_সাধককে_সর্ব্বদা_লক্ষ্যসাধনে_তৎপর_রাখে
শ্রীমৎ আচার্য্যদেব মৌন ভঙ্গ করিয়া আবার ধীরে ধীরে বলিতে লাগিলেন=
"মনে মনে সবসময় কতকগুলি সৎচিন্তা, সৎভাবনা, সৎসঙ্কল্প পোষণ করিবে। তাহা না হইলে কিছু হইবে না। আমি জীবনে এই এই মহৎ কাজ করিব, আমার জীবন এই এই ভাবে অতিবাহিত হইবে, এইসমস্ত মহৎ গুণ ও আদর্শকে আমার জীবনে প্রস্ফুটিত করিয়া তুলিব, আমার লক্ষ্য এই, গন্তব্যস্থান এখানে--- এমনিভাবে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে চিন্তা করিবে, সঙ্কল্প গ্রহণ করিবে। এই ধরণের চিন্তা ও সঙ্কল্পই সাধকের জীবনকে নিরাপদ রাখে, সমস্ত বিপদাপদের কবল হইতে রক্ষা করিয়া লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাইয়া দেয়। এইসমস্ত চিন্তা-ভাবনা-সঙ্কল্পই সাধককে সর্বদা তাহার আদর্শে প্রতিষ্ঠিত রাখে, জীবনকে ক্রমশঃ উন্নত হইতে উন্নততর করে। যে পর্য্যন্ত না সঙ্কল্প সিদ্ধ হয়, যে পর্য্যন্ত না জীবন পরিপূর্ণরূপে আদর্শানুসারে গড়িয়া উঠে, সে-পর্য্যন্ত মানুষকে কিছুতেই এইসমস্ত চিন্তাভাবনা স্থির থাকিতে দেয় না, তাহাকে সঙ্কল্প-সাধনের জন্য উদ্ব্যক্ত করিয়া তোলে। যদি কখনও বিরুদ্ধচিন্তা, বিরুদ্ধভাব আসে, কেহ যদি কখনও কুপথে নিয়া যাইতে চায়, পাপতাপ, প্রলোভন, আসক্তি যদি মোহগ্রস্ত করিয়া বিপথে আকর্ষণ করে, তাহা হইলে তখনই স্মরণ হয় যে, না--- আমি তো এ কাজ করিতে পারি না, আমি তো এই পথে যাইতে পারি না, আমার আদর্শ স্বতন্ত্র, উদ্দেশ্য স্বতন্ত্র, দায়িত্ব ও কর্তব্য যে স্বতন্ত্র--- আমার গন্তব্যস্থান যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, পৃথক। এমনিভাবে সৎচিন্তা, সৎভাবনা, সৎসঙ্কল্প সর্ব্বদা সাধককে সুদৃঢ় বর্ম্মের মত আবিলতা পঙ্কিলতার হাত হইতে রক্ষা করে, তাহার আত্মবোধ আত্মস্মৃতি জাগ্রত জীবন্ত রাখে। এইজন্য সাধুরা সবসময় একটা না একটা সৎসঙ্কল্প পোষণ করেন এবং প্রাণপণে উহাকে আঁকড়াইয়া ধরিয়া থাকেন। তাহা না হইলে বড় বিপদে পড়িতে হয়, চতুৰ্দ্দিক হইতে নানাপ্রকার আবিলতা-পঙ্কিলতা আসিয়া একেবারে বিব্রত করিয়া ফেলে।

#সঙ্কল্পই_সাধনায়_আট_অনিয়া_দেয়
সঙ্কল্পই মানুষকে সর্বদা তাহার লক্ষ্যের দিকে লইয়া যায়, জীবন-সাধনায় ব্রতী রাখে। যাহার জীবনে একটা মহৎ আদর্শ আছে, আদর্শ-সাধনার সুদৃঢ় সঙ্কল্প আছে, তাহার জীবনই দ্রুত উন্নত হয়। সঙ্কল্প না থাকিলে মানুষের জীবনে কখনও আঁট আসে না, আর আঁট না থাকিলে জীবনের কোন উন্নতি হয় না। ভিতরে সঙ্কল্প যত তীব্র হইবে, সাধনায় আঁটও তত বেশী হইবে, আর আঁট যত বেশী হইবে, জীবনের উন্নতিও তত দ্রুত হইবে। তোমরা সবসময় তোমাদের সঙ্কল্প ধরিয়া থাকিবে। সঙ্কল্প-সাধনায় খুব আঁট চাই। তোমরা যদি সর্বদা নিয়মের ভিতর থাক, ধ্যানজপ প্রার্থনা কর, শ্রীভগবানকে অন্তরের সহিত ডাক, ভালবাস এবং প্রকৃতই যদি সাধুজীবন চাও, তবে কাহারসাধ্য যে একটি কেশ তোমাদের স্পর্শ করে! এ জগতে এমন কিছু আজ পর্যন্ত সৃষ্টি হয় নাই, যা সাধকের নিঃস্বার্থ শুদ্ধ সঙ্কল্পকে রোধ করিতে পারে।

29/05/2026

#শ্রীশ্রীগুরুর_পদসেবায়_সর্ব্বপাপমুক্তি:-
শ্রীশ্রীগুরুর পদসেবা সর্ব্বপাপহর:=
"সর্ব্বপাপ-বিশুদ্ধাত্মা শ্রীগুরোঃ পাদসেবনাৎ"
অধিক কি? সকল পুণ্য তীর্থস্নানের যে ফল, তা মাত্র শ্রীগুরুর চরণারাধনার মাধ্যমেই লভ্য:=
"সর্ব্বতীর্থাবগাহস্য ফলং প্রাপ্নোতি নিশ্চিতম্"
শুধু তাও নয়, শ্রীশ্রীগুরুর চরণোদকবিন্দুর সহস্রাংশের যে ফল, সপ্তসাগর পর্য্যন্ত তীর্থস্নানাদির দ্বারা সে ফল সুদুর্লভ(শ্রীশ্রীগুরুগীতা,শ্লোক নং ৫১)
শ্রীগুরুর চরণসেবার ব্রতে মনের দম্ভ ও অভিমান তিরোহিত হয়ে চিত্তে ভক্তি, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের অনুকূল ভাবটি সুদৃঢ় হয়, তাতেই জন্ম-জন্মান্তরাজ্জিত পাপ, তাপ ও মালিন্য দূরীভূত হয়ে চিত্ত হয় বিশুদ্ধ।

 #উপদেশামৃত ১০৯:--- #ত্যাগী_ও_ভোগীর_ধ্যানে_পার্থক্য:---এ-জগতে বিষয়ী, ভোগী, ত্যাগী সকলেই ধ্যান করে ও ধ্যানে আনন্দ পায়। বি...
27/05/2026

#উপদেশামৃত ১০৯:---
#ত্যাগী_ও_ভোগীর_ধ্যানে_পার্থক্য:---
এ-জগতে বিষয়ী, ভোগী, ত্যাগী সকলেই ধ্যান করে ও ধ্যানে আনন্দ পায়। বিষয়ী, ভোগী ব্যক্তিরা ভোগ্যপদার্থের ধ্যান করে, আর ত্যাগী সন্ন্যাসীরা চিদানন্দস্বরূপ সেই মঙ্গলময় পুরুষের ধ্যান করেন। বিষয়ীরা "আপাত মনোরম পরিণাম ভয়াবহ" দুঃখকর বিষয়ের ধ্যান করে, আর ভগবদ্ভক্তগণ সদানন্দস্বরূপ শ্রীভগবানের ধ্যান করেন। সাধারণ লোক অনিত্য ভূয়া মিথ্যাবস্তুর ধ্যান করে, আর মহাপুরুষেরা নিত্য সত্য পবিত্র বস্তুর ধ্যান করেন। বিষয়ীরা এজগতে প্রতিনিয়ত কত দুঃখ-কষ্ট জ্বালা-যন্ত্রণা পায়, কিন্তু যখনই নূতন বিষয়ভোগের চিন্তা করে তখন সব কিছু ভুলিয়া যায়। সেই সমস্ত দুঃখ-কষ্টের কথা আর মনেও থাকে না, আবার নূতন বিষয়ের পশ্চাতে ধাবিত হয়। সাধারণ মানুষ বিষয়-চিন্তায়, বিষয়ের ধ্যানে আনন্দ পায় বলিয়াই তো সমস্ত দুঃখকষ্ট ভুলিয়া আবার তাহাতেই মত্ত হয়। তাহা না হইলে কি আর কেহ শুধু শুধু এমনিভাবে নিতান্ত মূর্খের মত অশান্তির পথে পা দিতে পারে? এই জগতে সকলেই শান্তি চায়, শান্তি অন্বেষণ করে। কেহ এইসমস্ত সাধারণ অনিত্য বিষয়ে শান্তি পায়, আবার কেহ নিত্য বিষয়ে শান্তি পায়। অনিত্য বিষয়ের শান্তি অনিত্য, অস্থায়ী, পরিণাম ভয়াবহ, আর নিত্য বিষয়ের শান্তি নিত্য, স্থায়ী, পরিণাম সুখাবহ। সাধারণ মানুষ সহজ লভ্য বিষয়ের ক্ষণিক আনন্দে ভুলিয়া পরিণামে নিদারুণ অশান্তিকে বরণ করিয়া লয়। সমস্তই মায়া; মায়াই মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করিয়া রাখে, মায়াই সদসতের মধ্যে ভ্রান্তি সৃষ্টি করিয়া মানুষকে শ্রীভগবানের দিক হইতে ভুলাইয়া বিষয়ের মধ্যে টানিয়া নিয়া যায়। সাবধান, তোমরা কখনও এই মায়ার কুহকে ভুলিয়া ভ্রান্তির পথে পা দিও না। খুব বিচার করিয়া চলিবে। সাধারণ বিষয়ের, সাধারণ ভোগ্য পদার্থের আপাদমনোরম চাকচিক্যে আত্মবিস্মৃত হইয়া কখনও চিরশান্তির পথ ত্যাগ করিও না। সাধারণ মানুষ সাধারণ জিনিস চাহিতে পারে, সাধারণ মানুষের সাধারণ জিনিস ভাল লাগিতে পারে; কিন্তু তোমাদের জীবন তো সাধারণ জীবন নয়; তোমাদের সাধারণ জিনিস চাহিলে, সাধারণ জিনিস ভালো লাগিলে চলিবে কেন।"

এইসময় নিকুঞ্জ আবার ধীরে ধীরে বলিল= অনেকসময় যেন প্রতিকূল অবস্থার চাপে জীবনের উদ্দেশ্য ভুল হইয়া যায়, নানা রকম সংশয় সন্দেহ আসে। কখনও কখনও যেন আদর্শের প্রতি বীতশ্রদ্ধা, এমন কি অনাস্থার ভাবও দেখা দেয়।
শ্রীমৎ আচার্য্যদেব:= "জীবনের লক্ষ্য স্থির না হইলে, আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধানুরাগ সুদৃঢ় না হইলেই এইসমস্ত ভাব আসে। যে পর্যান্ত না সাধনার দ্বারা কোন নিরাপদ স্থানে পৌঁছিতে পারা যায়, সেই পর্য্যন্ত মধ্যে মধ্যে এইরূপ ভাব আসিবেই। যাহাদের জীবনে কোন মহান আদর্শ নাই, তাহাদেব জীবন কি একটা জীবন? শুধু আহার-নিদ্রার ভিতর দিয়া তুচ্ছ ছেলেখেলা করিয়া যাহাদের জীবনকাটে, তাহাদের দ্বারা জগতের কোন্ উপকার হয়? তাহাদের মত মানুষ প্রতিদিন হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ জন্মিতেছে, মরিতেছে, তাহাতে জগতের কি আসে যায়? মানুষের মত মানুষ একটি হইলে সমগ্র জগৎকে নাড়াচাড়া দিতে পারে। সমস্ত দেশ, সমস্ত জাতি তাঁহাদের দ্বারা উন্নত হয়, গৌরবান্বিত হয়, নূতন জীবন লাভ করিয়া ধন্য হয়। আজ তোমরা সেই মনুষ্যত্বের সাধনায় ব্রতী। সমগ্র জাতি আজ তোমাদের মুখের দিকে তাকাইয়া আছে। দেশের মহামলিনতা ঘুচাইবার জন্য, সমগ্র দেশময় মহান্ আদর্শ প্রচার করিবার জন্য তোমাদের জীবন উৎসর্গ করিতে হইবে। সুতরাং ওসব সাধারণ ভাবকে প্রশ্রয় দিলে চলিবে না। প্রাণে প্রাণে স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়া রাখো--- আমাদের জীবন তুচ্ছ ছেলেখেলা খেলিয়া গড্ডালিকা প্রবাহে ভাসিয়া যাইবার জন্য নয়, আমাদের জীবন-- মহোচ্চ আদর্শকে জীবনে প্রতিফলিত করিয়া সমগ্র দেশ ও জাতির মুখোজ্জ্বল করিবার জন্য। প্রতিনিয়ত এই বিষয় ভাবো, চিন্তা করো। তাহা হইলে আর ওসব সংশয়-সন্দেহ, বিভ্রম-বিভ্রান্তি আসিতে পারিবে না। মানুষ প্রকৃত মানুষ হয় তাহার মহান্ আদর্শ, মহোচ্চ উদ্দেশ্য দ্বারা। মহান্ উদ্দেশ্যসমূহ যতই হৃদয়ে জাগ্রত করিয়া রাখিতে পারিবে, মহান্ আদর্শ ও নীতি সমূহ অনুসরণের জন্য ততই আগ্রহ হইবে; আর যতই মহান্ আদর্শ ও নীতি অনুসরণ করিয়া জীবনে প্রতিষ্ঠিত করিতে পারিবে, ততই জীবন উন্নত ও মহান্ হইয়া উঠিবে।"

Address

Agartala

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Yugacharya Srimat Swami Pranabanandaji Maharaj posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share