11/06/2026
#উপদেশামৃত ১১৬:---
তোমরা বর্তমানে জীবনের এক বিষম বিপজ্জনক স্থানে অবস্থান করিতেছ। এই সময়টা বড়ই ভয়ানক। এই স্থান হইতে বিপথে যাওয়ারও যেমন বেশী সম্ভাবনা, তেমনি সৎপথে অগ্রসর হইবারও খুব বেশী সম্ভাবনা। অবনতি হইলে খুব বেশী অবনতি হইবে, আবার উন্নতি হইলেও খুব দ্রুত উন্নতি হইবে। এই সময়টা একদিকে যেমন ভয়াবহ, অন্য দিকে আবার তেমনি খুব সুবিধাজনক। সৎপথে আসিয়া পবিত্রভাবে জীবনযাপন করিতে পারিলে শান্তি পাইতে থাকিবে, আর যদি প্রলোভনে পড়িয়া সংসারের দিকে ধাবিত হও, তবে জীবন একেবারে ব্যর্থ হইয়া যাইবে। কোনরকমে এই সময়টুকু উত্তীর্ণ হইতে পারিলেই খুব সুন্দর অবস্থায় উপনীত হইবে। আর ৩।৪টি বৎসর কঠোরতার ভিতর দিয়া ভালোভাবে চলিতে পারিলেই জীবন নিরাপদ হইবে। তাই তোমাদিগকে বার বার সাবধান করিয়া দিতেছি, খুব কঠোর নিয়ম পালন করিয়া চলিতে বলিতেছি।
এখানে একটি ছেলে আছে, আই-এ পাশ করিয়া বি-এ পড়িতেছে। পূর্ব্বে বেশ ভাল ছিল, বাড়ীতে আসিলে প্রায় সময়ই এখানে আসিত, নিয়মিতভাবে ধ্যান-জপ করিত, কঠোরভাবে চলিত, কিন্তু এখন সবই নষ্ট হইয়া গিয়াছে। পড়ার সময় নষ্ট হয় বলিয়া ধ্যান-জপ ছাড়িয়া দিয়াছে, অথচ বাবার টাকা রক্ষা করার জন্য ছেলে পড়াইতেছে। তাহাতে সময় নষ্ট হইবে না! আয়ের বুদ্ধি আসিযাছে কিনা, তাই টাকাই বড় হইয়াছে, জীবন-রক্ষার জন্য কোন চেষ্টা নাই! এখন আর সে আমাদিগকে বুঝিতেও পারে না। বিষয়বুদ্ধি আসিলে এইরূপই হয়। অনবরত বিষয়ীদিগের সহিত মিশিতে মিশিতে নিজের ব্যক্তিত্ব, অস্তিত্ব সব নষ্ট হয়, ধৰ্ম্ম-কর্ম সমস্ত লোপ পায়।
বাহিরের আক্রমণ হইতে আত্মরক্ষার জন্য ভিতরে একটি ভাবরাজ্যের সৃষ্টি করিয়া তাহাতে ডুবিয়া থাকিবে।
সর্ব্বদা নিজের ভিতরে একটা ভাব-প্রবাহ সৃষ্টি করিয়া মনকে সর্ব্বদা সেই ভাব-প্রবাহে, চিন্তাধারায় ডুবাইয়া রাখিবে। তাহা হইলে এই ভাবটাই বাহিরের সমস্ত ঝড়ঝঞ্ঝা, বিপদাপদ হইতে রক্ষা করিবে, কোন পাপতাপ আর স্পর্শ করিতে পারিবে না। সুরেশের ভিতর এইরূপ একটা ভাব আছে, এই ভাবটাই তাহাকে সর্ব্বদা রক্ষা করিতেছে। তাহা না হইলে তাহার সাধ্য কি যে, এইভাবে থাকিতে পারে। সাধু সন্ন্যাসীরাও নিজেদের নিরাপদ রাখিবার জন্য, বাহিরের বিরুদ্ধ আবহাওয়া, আবিলতা পঙ্কিলতার হাত হইতে মুক্ত থাকিবার জন্য এইরূপ একটা ভাবরাজ্য সৃষ্টি করিয়া তাহাতে ডুবিয়া থাকেন। ইহাতে পারিপার্শ্বিক কোনকিছু আর তাঁহাদের ধরিতে, ছুঁইতে, স্পর্শ করিতে পারে না, বেশ শান্তিতে নিজের ভাবে নিজেরা তন্ময় হইয়া থাকেন। তাঁহারা যখন যেখানে যান, তখনও সেই ভাব-প্রবাহ বহন করিয়া নিয়া বেড়ান। যে সমস্ত সদ্ব্যক্তি তাঁহাদের নিকট আসে, তাহারা সেই সেই ভাবের স্পর্শ লাভ করিয়া ধন্য হয়; কিন্তু বিষয়ীদের মলিন চিন্তা-ভাবনা আর সেই ভাবের আবেষ্টন করিয়া সন্ন্যাসীদের ভিতরে পৌঁছিতে পারে না।