31/10/2024
জীবনে নিরোগী হওয়ার রহস্য কি?
মল কয় প্রকার?
শুধু নিরোগী নয়, এই রহস্যকে দীর্ঘায়ু হওয়ার কারণও বলা যায়। শুধু কি দীর্ঘায়ু? না, বলতে হবে জীবনে সুখে থাকার এক অন্যতম পথ।
তো সেটা কি?
আপনি নিশ্চয়ই মল ত্যাগ করেন। তো সেটির অনুভূতি কেমন, নিশ্চয়ই আপনি সেটি অনুভব করেছেন। যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি ভেতরের বর্জ্য বাইরে ফেলে না দেন ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি স্বস্থির নিশ্বাস ফেলতে পারেন না নিশ্চয়ই। ঐ মুহুর্তে আপনার সামনে লক্ষ দামের খাবারও রুচিহীন বলে মনে হবে। সমস্ত লজ্জা ভয় তখন আপনার কাছ থেকে চলে গেছে। না আছে সুখ না আছে শান্তি। আর শেষে যখন সেই বর্জ্য ফেলে দেন, সেই অনুভূতিকে বলার ভাষা আপনার কাছে নেই।
এটিতো মাত্র দেহের মলের কথা বললাম।
মল আমাদের দুই প্রকার,
(১) দেহের মল,
(২) মনের মল।
(১) দেহের মল:--- উপরে যেটি বললাম এটিতো মলের কেবল এক ভাগ মাত্র। কানের মল যখন বেড়ে যায় চুলকাতে থাকে। না ফেললে শান্তি নেই। নাকের মল, চোখের মল...। আর এমন মলেই আমাদের এই পুরো শরীর পূর্ণ। দেহের মল যদি পরিস্কার না করেন নানান ধরনের রোগের বাসা বাঁধবে এটা সবাই জানেন। সেই মল অপরিষ্কার রাখলে অল্পায়ু হবেন। দৈহিক সুখ হতে বঞ্চিত হবেন।
(২) মনের মল:--- ঠিক একইভাবে দেহে যেমন মল রয়েছে আমাদের মনের মধ্যেও এমন নয় ধরনের মল রয়েছে। যেটির কারনে কেউই সুখী হতে পারেনা। সেগুলি হলো-
(১) লোভ,
(২) দ্বেষ
(৩) ঈর্ষা মাৎসর্য
(৪) মান ...........
(১) লোভ মল: যার মন কেবল "চাই চাই আরো চাই" লোভের বশবর্তী হয়ে আকাঙ্ক্ষার চরম পর্যায়ে চলে যায় সে কি আদৌও সুখের সন্ধান পাবে?
(২) দ্বেষ মল:- যার মন ক্রোধ, রাগ প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে থাকে সেও কি সুখের সন্ধান পাবে? বাকিটা আপনিই চিন্তা করুন।
(৩) ঈর্ষা মাৎসর্য: যার মন অন্যের ধন সম্পত্তি, অন্যের সাফল্য, অন্যের সৌন্দর্য, অন্যের যশ খ্যাতি ইত্যাদি, এগুলির প্রতি সবসময়ই ঈর্শা আর মাৎসর্যের ভাব পোষন করে রাখে সেও কি সুখের সন্ধান পাবে বলে মনে করেন?
(৪) মান মল: চিন্তা করে দেখুন, যার মনকে মান অহংকার কাবু করে রাখে সে কি ভাল মন্দ, সাধু অসাধু, পূজ্য, নিন্দ্যদের মধ্যে ভেদ করতে পারবে?
আর যে মান অহংকারের বশে পূজ্যকে নিন্দা করে, আর নিন্দ্যকে পূজা করে তার কি সদগতি হবে? অহংকারের কারণে মানুষ তার পদ পদবী, মান মর্যাদা হারায়।
তাই কিছু মানুষের অঢেল সম্পত্তি থাকা সত্বেও সুখী নয়। কারো পরিবার থাকা সত্বেও সুখী নয়। কারন সুখে থাকার জন্যে শুধু দেহের যত্ন নিলেই হয় না, মনেরও যত্ন নিতে হয়। শুধু দেহের মলকে পরিস্কার করলেই নিরোগী, দীর্যায়ু হওয়া যায় না। মনের মলকেও পরিস্কার করতে হয়। যার মনের মল যত কম সে তত সুখী।
তাই চেষ্টা করুন সপ্তাহে একবার হলেও মনের মলকে পরিস্কার করতে।
✍ জীবনে নিরোগী হওয়ার রহস্য.!!!