01/10/2024
সমালোচনা নয় সুপরামর্শ
দ্বিতীয় নম্বর কথা হলো, আমরা বহু সময় আলেম ওলামাদের নিয়ে, মসজিদ-মাদরাসা নিয়ে, তালিবে ইলমদের নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা করে ফেলি এবং শুনি। কখনো এটা সমালোচনার পর্যায়ে চলে যায়। এই ধরনের সমালোচনা করতে যদিও ভালো লাগে, শুনতে ভালো লাগে। এটা কিন্তু আমার জন্য ভালো নয়। এটা কখনো ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
যাদের থেকে আমি ঈমান পেয়েছি, ঈমানী বিষয়গুলো পাচ্ছি, যারা আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে ঈমানী বিষয়গুলো উম্মতের মাঝে সঠিকভাবে প্রচার-প্রসার করছেন, তাদের সাথে দূরত্ব, তাদের ব্যাপারে সমালোচনা, এটা আমার ঈমানের জন্য, আমার আমলের জন্য, আমার আখিরাতের জন্য কখনো ভালো বিষয় নয় এবং হতে পারে না।
তবে একটি প্রশ্ন অবশ্য আসে যে, যদি অপ্রীতিকর কোন বিষয় চোখে দেখি, কানে পড়ে, দিলে আসে তবে আমরা কি করবো?
এহেন পরিস্থিতিতে সমীচীন হলো, প্রথমত দেখতে হবে বিষয়টি আমার বিষয় কিনা? অর্থাৎ আমার দায়িত্বের অধীন কিনা? যদি আমার বিষয় না হয়, তবে আমি তা এড়িয়ে যাবো। সংযমিত হবো। নিজেও এ নিয়ে আলোচনা করবো না। অপরের আলোচনাও শুনবো না।
মুরব্বিরা লিখেছেন, আমার দায়িত্বে পড়ে না এমন বিষয় নিয়ে যদি আমি সমালোচনায় লিপ্ত থাকি, তবে এটা একথাই প্রমাণ করে যে, আল্লাহ পাক আমার উপর নারাজ। নাউযুবিল্লাহ।
আর যদি তা আমার আওতাধীন বিষয় হয়, তবে আন্তরিকতার সাথে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবো। সরাসরি আলোচনা না করে পেছনে আলোচনা করলে তা হবে গীবত।
রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
الغيبة أشد من الزنا
অর্থ: গীবত যেনা-ব্যভিচারের চেয়েও মারাত্মক [ ]
অপরদিকে সামনাসামনি আলোচনা করলে হবে সুপরামর্শ ও শুদ্ধির পরামর্শ। একটি ভালো পরামর্শ সমুদ্র পরিমাণ সওয়াব হতেও উত্তম হতে পারে। আমি কাউকে একটি পরামর্শ দিলাম। এই পরামর্শ হয়তো আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে কল্যাণ বয়ে এনেছে। তাহলে সেটা আমার জন্য সমুদ্র পরিমাণ সাওয়াব বয়ে আনবে। সেটা আমার জন্য সদকায়ে জারিয়া হবে। ইনশাআল্লাহু তাআলা।
তাহলে পেছনে আলোচনা করাকে সমালোচনা বলে, গীবত বলে। সামনে আলোচনা করাকে সুপরামর্শ বলে, আলোচনা বলে। পর্যালোচনা বলে। আলোচনা-পরামর্শ সুন্নত। গীবত-শেকায়েত হারাম।
এ কারণে আমরা যারা মাদরাসার আশেপাশে আছি, মাদরাসার সাথে সম্পৃক্ত আছি মাদরাসাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে নিবো। কোন কিছু দিলে-দেমাগে, মন-মানসিকতায় আসলে বা কোন কিছু কানে পড়লে এই ব্যাপারে আমি সুপরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করবো।
খুব লক্ষ রাখবেন। বর্তমানে আমরা যথেষ্ট উন্নয়নশীল জাতি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুরো পৃথিবী আমাদের হাতের মুঠোয়। যে কোন খবর মুহূর্তের মধ্যে আমাদের কাছে চলে আসে। আর আমাদের অবস্থাও এমন যে, কারো ব্যাপারে কোন কিছু দেখলে বা শুনলে, কারো ব্যাপারে সামান্য কিছু কানে পড়লে সত্য-অসত্য যাচাই করার আগেই বিশ্বাস করে বসে থাকি। যে বলেছে তার কথা সত্য মনে করি। আর যার ব্যাপারে কথা আসছে তাকে অভিযুক্ত মনে করি। তিলকে তাল মনে করি। অবাস্তবকে বাস্তব মনে করি। আলোচনা-সমালোচনা শুরু করে দেই। রঙচঙ মাখিয়ে অপরের সামনে পরিবেশন করি। আসলে বিষয়টি কি এমন হওয়া উচিত? না! কখনো এমন হওয়া উচিত নয়।
আল্লামা মুফতী শহীদুল্লাহ সাহেব দা.বা.
জামেয়া রশীদিয়া ফেনী