21/03/2024
আবির নয় শবদাহের পর চিতার ছাই দিয়ে হোলি উৎসব !!
🙏হর হর মহাদেব 🙏
অনেক সনাতনীর কাছেই মসান হোলি উৎস অজানা ! জানুন মসান হোলি উৎসবের আদ্যপান্ত্য ।
অবিশ্বাস্য নয় একেবারেই সত্যি শুধুমাত্র দেবাদিদেব মহাদেবের সন্তুষ্টি লাভের আশায় চিতার ভস্ম/ছাই দিয়ে হোলি উৎসব চলে আসছে যুগ যুগ ধরে।
আর এই উৎসব কে বলে মসান হোলি। মাসান হোলি বলতে সাধারনত আমরা যে দোল উৎসবের কথা জানি বা দেখি তা থেকে সম্পুর্ন আলাদা ?
প্রধানত হোলির চার থেকে পাচদিন আগে একাদশী তিথিতে এই উৎসব শুরু হয় । এই বিশেষ উৎসবকে কাশির মানুষরা রংভরি উৎসব বলে থাকে । কথায় বলে কাশি শহরটা সম্পুর্ন শিবের ত্রিশুলের উপর টিকে আছে। দেবাদিদেব মহাদেব এখানকার আত্মীয়, জামাই প্রধান আরাধ্য ভগবান । কাশির বাসিন্আদাদের বিশ্বাস রংভরি একাদশিতে🙏 পিতা শিব ও মা পার্বর্তী🙏 একসংগে মিলিত হন। ভক্তদের সাথে শোভাযাত্রায় অংশ নেন । ভক্তদের সাথে আনন্দে মেতে ওঠেন দুজনে, আর তার পরদিন শিব চলে আসেন মাসানে । সেখানে ভুত প্রেত আত্মা সাধু আর শ্মশানচারিদের সাথে ফের একবার দোল খেলায় মেতে ওঠেন । আর এই গোটা উৎসবের নাম মাসান হোলি উৎসব । প্রতিবছর এ মসান উৎসব দেখতে যান বিদেশি পর্যটক সহ হাজার হাজার মানুষ।
ভারতের বেনারস আর যেখানে রয়েছে রাজা হরিশচন্দ্র ঘাট, আর আছে আত্মার চিরমুক্তির একমাত্র স্থান মনিকণির্কা শ্মশান ঘাট যেখানে চিতার আগুন আজও নেভেনি , স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদিদেব বিরাজ করেন সর্বময় সেখানেই শিবভক্ত সন্নাসীরা প্রতিবছর হোলির সময় মেতে উঠেন এই উৎসবে। এই ঐতিহ্য এসেছে মহাদেবের এক কাহিনি থেকে।
প্রভু শঙ্করের কপালে বসন্ত পঞ্চমীর তিলক লাগানোর পরেই বারাণসীতে হোলি উৎসব শুরু হয়। এরপর তাঁরা শিবরাত্রির দিন বিয়ে করেন। মা পার্বতীর তোতাপাখি দান করার পর বারাণসীতে এসে অন্যান্য দেবতা, যক্ষদের সঙ্গে হোলি খেলেন প্রভু বিশ্বনাথ। কিন্তু সেদিন তিনি ভূত-প্রেতদের সঙ্গে হোলি খেলতে পারেননি। তাই পরদিন চিতাভস্ম মেখে সবার সঙ্গে মিলে হোলি খেলেন মহাদেব। তারপর থেকেই এই প্রথা চলে আসছে।’
শ্মশানচারির প্রিয় উপাদান হলো ছাই বা ভস্ম তাই রঙের বদলে ছাই দিয়ে এই হোলি উদযাপন করা হয়। কথিত রয়েছে, রঙ্গভরী একাদশীর দুই দিন পরে ভোলানাথ মনিকর্ণিকা ঘাটে নন্দীভৃঙ্গীসমেত তাঁর গণ অর্থাৎ অনুচরদের নিয়ে হাজির হন। সেখানে ভক্তদের ডাকে সারা দেন মহাদেব।
তার ইচ্ছেতেই এখানে হোলি খেলায় আনন্দে মেতে ওঠেন ছেলে বুড়ো সকলে , কিন্তু রাধাকৃষ্ণের দোল যাত্রার মত সুন্দর ছবিটা একানে নেই , এখানে প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে ভয়ংকর কুৎসিত! এখানে রংগিন আবিরের পরিবর্তে শ্মশানচারি , সন্নাসীদের হাতে থাকে চিতার ছাই, অস্থি, মানুষের মাথার খুলি, হাড়গোড় মন্ত্র ও পূজাপাঠ।
আর এই আদ্ভুত হোলি উৎসব বিশ্বে আজও রহস্যময়।
#কপি