09/10/2022
এমনসব সৌভাগ্য নিয়ে আমরা সময় পার করি বছরের মাঝে কত কত মহিমান্বিত দিন-রাত কিংবা ক্ষণ এসে আমাদের আমলনামাকে সমৃদ্ধ করে যায় ।মহান আল্লাহ সুযোগ করে দেয় আমাদের পাপ গুলো মুছে তাঁর সামনে উপযুক্ত হওয়ার।এই যে বিশেষক্ষণ গুলো আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় মহাকালের স্পেশাল ইতিহাস ,যেসব ইতিহাসের কাছে আমরা প্রত্যেকেই দায়বদ্ধ মুসলিম হিসেবে ।
বারই রবিউল আউয়াল আমাদের কাছে অতি স্মরনীয় এক মাস।বিভিন্ন আয়োজনে সজ্জিত এমাসটি মুসলমানদের রান্না ঘর থেকে শুরু করে সেমিনার সিম্পোজিয়ামকে আন্দোলিত করে রাস্ট্রের সর্বোচ্চ বিবৃতিতে গিয়ে থামে।মুসলমানদের জযবা আবেগ পারেনা আকাশ চুঁই! কিন্তু যার আগমনকে ঘিরে এ আয়োজন ,যার জীবনী ,কথামালা পর্যন্ত এত নিখুঁত ও নির্ভেজালভাবে সংরক্ষিত তার চর্চা আমরা চলনে বলনে বিশ্বাসে কতটুকু কিভাবে করি তা ভেবে দেখা সময়ের প্রয়োজন।
মরুজগতে বেড়ে উঠা সেই শিশুজীবন,কিশোর বয়সের অধ্যায় ও বাদ পড়েনি ঐতিহাসিকদের কলম থেকে।মহান আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছিলেন পৃথিবীবাসীদের সংশোধন করে এ পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করতে ।স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রশিক্ষন নিয়ে তিনি পরম মমতায়,চরম বিচক্ষণতায়,উন্নত নৈতিকতা দিয়ে তিনি সেই চরম জাহেল সমাজের মানুষদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন ।এক অভিন্ন জাতি গঠন করেছিলেন।এই মহামানবের ইতিহাস চর্চা এ ক্ষুদ্র পরিসরে সম্ভব না । তবে তাঁর জীবনের চরম পদক্ষেপ ছিল উম্মাহর একতা ও পৃথিবী পরিচালনার উপযুক্ত জনগোষ্ঠী তৈরী করা । তিনি পেরেছিলেন ,সত্যিই তিনি পেরেছিলেন ।ইতিহাস তার সাক্ষী ।
هُوَ الَّذِىۡ بَعَثَ فِى الۡاُمِّيّٖنَ رَسُوۡلًا مِّنۡهُمۡ يَتۡلُوۡا عَلَيۡهِمۡ اٰيٰتِهٖ وَيُزَكِّيۡهِمۡ وَيُعَلِّمُهُمُ الۡكِتٰبَ وَالۡحِكۡمَةَ وَاِنۡ كَانُوۡا مِنۡ قَبۡلُ لَفِىۡ ضَلٰلٍ مُّبِيۡنٍۙ
তিনিই সেইসত্তা যিনি নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন।তিনি তাদের কাছে পাঠ করবেন তাঁর(আল্লাহর)আয়াতসমুহ আর তিনি তাদের পবিত্র করবেন আর তিনি তাদের শিক্ষা দিবেন আল্লাহর কিতাব ও জ্ঞানবিজ্ঞান, যদিও এর আগে তারা তো ছিল স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে, --।
(সুরা জুময়াঃ২)
তিনি দুনিয়াকে উপহার দিয়েছিলেন এমন জনগোষ্ঠী যারা সময়ের সবচেয়ে উপযুক্ত ।সমাজের এমন কোন ক্ষেত্র ছিলনা যেখানে তাদের যোগ্যতা পৃথিবী দেখেনি।আবুবকর,উমর ,উসমান ,আলী (রাঃ) সহ পৃথিবীকে আলোকিত সমৃদ্ধ করার মত এক জনগোষ্ঠীর দেখা পায় পৃথিবীর ইতিহাসে রাসুলের (সঃ) বিদায়ের কয়েকশতক পরও।
তাঁরা সীসা ঢালা প্রাচীরের মত ঐক্য নিয়ে পৃথিবীকে জয় করেছিলেন ।তাঁরা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরেছিলেন একই ধারায় ,পরম ঐক্যমতে ।এই ঐক্য ধরে রাখার জন্য রাসুল (সঃ) এর রেখে যাওয়া আঠার বয়ষ্কা স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) স্বয়ং যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্হিত হতে ও দ্বিধা করেন নি ।
আজ আমরা যে পরিস্হিতির স্বাক্ষী এ মুসলিম উম্মাহ খন্ড হতে হতে কত খন্ডে গিয়ে ঠেকেছে তা গননা করা অসম্ভব।ক্ষমতার রাজনীতির মাঠে গজিয়ে উঠা হরেক গ্রুপকে না হয় মেনে নিলাম ,কিন্তু ইসলামকে কেন্দ্র করে গজিয়ে উঠা এতসব দলের সয়লাবে মুসলিম উম্মাহ যে চরম ক্ষতির সম্মুখীন তা মেনে নেয়া কঠিন।সারা বিশ্বে আহলে সুন্নাহ ,আহলে হাদীস ,আহলে কুরআন ,সালাফী রকমারী সাজে সজ্জিত আরো অনেক দল কি আসলে রাসুল (সঃ) এর রেখে যাওয়া আল্লাহ কিতাব ও তাঁর সুন্নাহ অনুসরন করছে নাকি তাদের অন্তরালে অন্যকোন বৃহৎ শক্তি কাজ করছে !
আর আমাদের শিক্ষার ক্ষেত্রটাকে দ্বিমুখী করে মুসলিম উম্মাহ যে নিজেদের চরম ক্ষতিসাধন কখন করেছে সে হিসেব ও কারো নেই।ইসলাম বিমুখ সিলেবাস ও দুনিয়া বিমুখ সিলেবাস এ দুইয়ের যাঁতাকলে আজ আমরা দ্বাসত্বের জীবন বয়ে বেড়াচ্ছি।অথচ রাসুল(সঃ) এমনভাবে তাঁর জাতিকে প্রশিক্ষিত করেছিলেন যাদের হৃদয়ে ছিল কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান আর বাইরের অবয়বে তাঁরা ছিলেন সময়ের সবচেয়ে যোগ্য মানুষ সমাজের প্রতিটা সেক্টরে ।আজ দুনিয়াবী ডিগ্রীর ফেতনা আতংকে এক গ্রুপ ,ধর্মহীন জ্ঞানী অন্য গ্রুপ,এসব গ্রুপে কি আদৌ বিভক্ত ছিল রাসুল (সঃ) এর সমাজ?
এ যুগে ইসলামের বিধান প্রযোজ্য না বলে আমরা গডডালিকা প্রবাহে পা ছড়িয়ে দিই ,অথচ মুসলিম জনগোষ্টির কতটুকু অংশ ইসলামের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে জ্ঞান রাখে ।
সেই অনেক কাল আগে থেকে একটু একটু করে আমরা দ্বীনকে ভাগ করে নিয়েছিলাম অতি সন্তর্পণে যেটা আমরা বুঝতে পারিনি ।শয়তান আমাদের মাঝে বিজ্ঞ সেজে এসেছিল,আলেম সেজে এসেছিল ,বন্ধু সেজে এসেছিল ,বুজুর্গ সেজে এসেছিল সে এসে যে চরম ক্ষতিসাধন করেছিল যা আমরা বুঝতে পারিনি,এখনো পারছিনা ।কুরআন সুন্নাহর জ্ঞান ছাড়া শয়তান কে ও চিনতে পারা যায়না ।
তাই আজ সীরাতের এ মাসে আমরা সেই সুন্নাহটিই গ্রহন করার পদক্ষেপ নিই ,আমাদের ভেতরটা কুরআন সুন্নাহ দিয়ে মজবুত করি আর বাহিরটাকে পৃথিবীর জন্য যোগ্য করি ।রাসুলের শিখানো এ পন্হায় গঠন করি আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ।
لَقَدۡ كَانَ لَكُمۡ فِىۡ رَسُوۡلِ اللّٰهِ اُسۡوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنۡ كَانَ يَرۡجُوا اللّٰهَ وَالۡيَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَذَكَرَ اللّٰهَ كَثِيۡرًا
তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মাঝেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ যে আল্লাহ ও আখিরাতের কল্যান কামনা করে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমানে স্মরন করে ।
(সুরা আহযাবঃ২১)