23/05/2026
#বাংলাদেশে দেওবন্দি মাসলাকের দায়িত্বশীল শ্রদ্ধেয় ওলামা-মাশায়েখ গণকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতীব, মুহতারাম মুফতী আবদুল মালেক সাহেব কে শরীয়তের বিধানের বিষয়ে জঘন্যতম মিথ্যাচার থেকে নিভৃত করুন। অন্যথায় তার এ মিথ্যাচারের খতিয়ান দিনকে দিন পুরো জাতির নিকট ছড়িয়ে পরবে। আখেরে সাধারণ মুসলিমগণ আলেম সমাজ থেকে মূখ ফিরিয়ে নিবে। এমনটার অনিবার্য ফল হবে-
"বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইসলাম এবং আলেম-ওলামাদের থেকে মূখ ফিরিয়ে জাহেলিয়াতের দিকেই ধাবিত হতে প্রলুব্ধ হয়ে নাস্তিকতায় নিমজ্জিত হবে।"
--------------------------------------------------------------
#খতীব সাহেবের মিথ্যাচার
---------------------------------------
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতীব, সম্মানীয় মুফতী আবদুল মালেক সাহেব
حفظه الله تعالى من الكذب
গত ৯ মে ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন, রমনার সেমিনারে জাতির উদ্দেশ্যে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার একটি ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। উক্ত ভিডিওতে তিনি বলেছেন "সারা পৃথিবীতে একক দিন-তারিখে রোজা, ঈদ, কুরবানী পালন করতে হবে এর কোনো দলীল ফিকহ, হাদীস , তাফসির কোথাও নেই।"
আপনারা তার ঐ ভিডিও বক্তব্যটি দেখতে ও শোনতে নিচে দেয়া লিংকে ক্লিক করুন।
https://www.facebook.com/share/p/1C1ET36xcR/
তার ঐ ভিডিওর বক্তব্য মুছাইলামাতুল কাজ্জাবের নবুয়াত দাবির মতোই চুড়ান্ত পর্যায়ের মিথ্যা বক্তব্য।"
এরকম মিথ্যা বক্তব্যের পর তিনি জাতীয় মসজিদের খতীব পদে থাকার নৈতিকতা হারিয়েছেন। কারণ, কোনো মিথ্যাবাদী ইমাম ও খতীব থাকার নৈতিক ও শরয়ী অধিকার রাখেন না।
যে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন - ০১৮১৪৩৮৬৭৯৬ নম্বরে।
----------------------------------------------------------
#সারা পৃথিবীতে একক দিন-তারিখে চান্দ্রমাস শুরু করতে হবে। এবং রোজা , ঈদ, কুরবানী সহ চান্দ্রমাসের তারিখ ভিত্তিক সকল ইবাদাত সারা পৃথিবীতে একক দিন-তারিখে পালন করতে হবে তার দলীল:-
#পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন-
يسألونك عن الاهلة قل هى مواقيت للناس والحج
অর্থাৎ - (হে রসূল) তারা ( সাহাবায়ে কেরাম/ মানুষেরা) আপনার নিকট اهلة বা নতুন চাঁদ সমূহ (১২মাসের ১২টি নতুন) সম্পর্কে জানতে চাইছে। আপনি বলে দিন, এগুলো সমগ্র মানব জাতির জন্য চান্দ্র মাস শুরুর সীমানা। এবং হজ্বের সময় নির্ধারক।
সূরাহ বাক্বারাহ্ ১৮৯।
আল্লাহ তায়ালা বল্লেন- নতুন চাঁদ "বিশ্ব মানবের জন্য" চান্দ্র মাসের সীমা নির্ধারণ করবে। অর্থাৎ শনিবার মুহাররম মাসের ১ তারিখ হলে, সারা বিশ্বের মানুষের জন্যই শনিবার মুহাররম মাসের ১ তারিখ হবে। আবার রোববার মুহাররম মাসের ৩০ তারিখ হলে সারা বিশ্বের মানুষের জন্যই রোববার মুহাররম মাসের ৩০ তারিখ হবে।
অত্র আয়াতের
عبارة النص، اشارة النص، دلالة النص، اقتضاء النص
দ্বারা এটা দিবা সূর্যের মতো স্পষ্ট ভাবে প্রমানিত।
তাহলে কুরআনের নির্দেশনা মতো একক দিন-তারিখে চান্দ্রমাস শুরু করতে হবে। এবং প্রত্যেক চান্দ্র মাসের প্রতিটি তারিখও সারা পৃথিবীর মানুষের জন্য একক দিন-তারিখে হবে এবং চান্দ্র তারিখ ভিত্তিক প্রতিটি ইবাদতও সারা পৃথিবীর মানুষকে একক দিন-তারিখে পালন করতে হবে।
যদি কোনো মুহাককিক আলেম কুরআনের দলীলের ভিত্তিতে ভিন্ন রূপ কিছু বলার সাহস রাখেন তবে কমেন্টে কুরআনের দলীলসহ লিখতে পারেন। অথবা আমাদের সাথে যে কোনো মিডিয়ায় লাইভ আলোচনায় বসতে পারেন। বিনীত আহ্বান থাকলো।
অথচ মুফতী আবদুল মালেক সাহেব বললেন একক দিন-তারিখে রোজা ঈদ কুরবানীর দলীল কোথাও নেই!!!
-------------------------------------------------------------
#রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন-
الصوم يوم تصومون والفطر يوم تفطرون والاضحى يوم تضحون
রোজা, তোমরা গোটা উম্মাহ রোজা রাখবে এক দিনে। ঈদুল ফিতর, তোমরা গোটা উম্মাহ ঈদুল ফিতর পালন করবে এক দিনে। কুরবানী, তোমরা গোটা উম্মাহ কুরবানী করবে এক দিনে।
বুখারী শরীফ -১৯০৯, মুসলিম শরীফ -১০৮১, তিরমিজী শরীফ - ৬৯৭, আবু দাউদ শরীফ - ২৩২৪।
--------------------------------------------------------------
#হাম্মলী মাযহাবের বিশ্ববিখ্যাত মুজাহিদ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনু কুদামাহ আর মাকদিসী আদ-দিমিশকী , ইন্তেকাল ৬২০ হিজরী তার প্রণীত কাফী গ্রন্থের ২ খন্ডের ৩৪৮ পৃষ্ঠায় কুরআন ও সুন্নাহর উপরুল্লেখিত আয়াত এবং হাদীসের ভিত্তিতে লেখেছেন
فصل: واذا رأي الهلال اهل بلد لزم الناس كلهم الصوم ، لانه ثبت ذللك من رمضان ، وصومه واجب بالنص والاجماع _
অর্থ্যাৎ - কোনো দেশবাসী রমাদানের নতুন চাঁদ দেখলে সমস্ত মানুষের উপর রোজা রাখা আবশ্যক হবে। কেননা উক্ত নতুন চাঁদ দেখার দ্বারা ঐ দিনটি রমাদানের অন্তর্ভুক্ত বলে প্রমাণিত হল। আর রমদান মাস প্রমাণিত হলে সেদিনে রোজা রাখা কুরআন, সুন্নাহ এবং এজমায়ে উম্মাহ দ্বারা ফরজ।
#মালেকী মাযহাবের বিশ্ববিখ্যাত আরব জাহানের আলেম ইমাম শিহাব উদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদুবনু ইদ্রিস ইবনি আবদির রহমান আছ ছিনহাজী আল মিশরী ইন্তেকাল ৬৮৪ হিজরী তার প্রণীত
الذخيرة في فروع المالكية
নামক গ্রন্থের ২য় খন্ডের ৩১১ পৃষ্ঠায় লেখেছন
اذا ثبت رمضان في بلد من البلدان ، لزم الصوم لكل بلد نقل اليهم
কোনো এক দেশে রমাদ্বান সাব্যস্ত হলে, যে সব দেশে উক্ত সংবাদ পৌঁছাবে এমন সকল দেশে রোজা রাখা লাযেম অত্যাবশ্যক হবে।
#হানাফী ফিকহের মূল স্তম্ভ কিতাব, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু হাসান আশ শায়বানী রহঃ ইন্তেকাল ১৮৯ হিজরী এর প্রণীত
المبسوط
এর ২ খন্ডের ২৪৯ পৃষ্ঠায় কুরআন, সুন্নাহর উক্ত আয়াত ও হাদীসের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে -
او جاء من مكان آخر فاخبره بذالك وهو ثقة ، فينبغي للمسلمين ان يصوموا بشهادته
অর্থাৎ - অন্য যেকোনো দেশ হতে নতুন চাঁদ প্রমাণিত হওয়ার ( চান্দ্র মাস শুরু হওয়ার) সংবাদ আসল এবং ঐ সংবাদ নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হল, তা হলে সকল মুসলিমের ওপর ঐ সংবাদের ভিত্তিতে ঐ দিন হতেই রোজা রাখা ফরজ হবে।
#জ্ঞাতব্য: ইমাম আবু হানিফা রহঃ এই ফাতাওয়া প্রদানের সময়ে আব্বাসীয় ২য় খলিফা আল-মনসুর এর শাসনামলে মুসলিম বিশ্বের বিস্তৃতি ছিল "১কোটি ১১ লক্ষ বর্গকিলোমিটার। সেই বিশাল বিস্তৃত মুসলিম সাম্রাজ্যের বিষয়ে ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর এই ফাতাওয়ার পরে আর এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই যে, নিকটবর্তী এলাকার নতুন চাঁদ সনাক্ত হওয়ার সংবাদ গ্রহণ করা হবে। কিন্তু দূরবর্তী এলাকার নতুন চাঁদ সনাক্ত হওয়ার সংবাদ গ্রহণ করা হবে না। সর্বোপরি বর্তমান বিশ্বের উন্নত তড়িৎ যোগাযোগ ব্যবস্থা সকলের হাতে হাতে সহজ লভ্য হওয়ায় বর্তমানে দূরের দেশ বলতে কিছু নেই।
#হানাফী মাজহাবের বিশ্ব নন্দিত মুজতাহিদ ও ফকীহগণের অন্যতম আবুল লাইছ নহর ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইব্রাহিম আস্ সমরকান্দি ইন্তেকাল ৩৭৩/৩৭৫ হিজরী তার প্রণীত
عيون المساءل للسمرقندى الحنفى
এর ১ম খন্ডের ৫২ পৃষ্ঠায় লেখেছেন -
ولو ان اهل بلد صاموا للرؤية تسعة و عشرين يوما ، واهل بلد ثلاثين يوما للرؤية فعلى من صام تسعة و عشرين يوما قضاء يوم -
অর্থাৎ এক দেশের অধিবাসীগণ তাদের নতুন চাঁদ সনাক্ত অনুযায়ী রোজা রাখলো ২৯ টি, আবার অন্য দেশের মানুষেরা তাদের নতুন চাঁদ সনাক্ত অনুযায়ী রোজা রাখলো ৩০ টি, তাহলে ২৯ রোজা আদায়কারীগণ একটি রোজা কাজা করবেন।
জ্ঞাতব্য: সারা পৃথিবীতে এক দিন-তারিখে রোজা শুরু ও শেষ করতে হবে বলেই ইমাম আবুল লাইস রহঃ প্রথমের রোজাটি কাজা করার ফাতাওয়া দিয়েছেন।
#হানাফী মাযহাবের বিশ্ববিখ্যাত মুজতাহিদ ইমাম বুরহান উদ্দীন মাহমুদ ইবনু আহমদ আল বুখারী রহঃ ইন্তেকাল ৬১৬ হিজরী তার প্রণীত বিশ্ব বিখ্যাত ফিকহ গ্রন্থ
المحيط البرهاني في الفقه النعمانى
এর ২খন্ডের ৫৪৯ পৃষ্ঠায় লেখেছেন -
اهل بلدة رأوا الهلال هل يلزم ذلك في حق اهل البلدة ؟ روي عن محمد انه قال: يعتمدون على قول تلك البلدة ، ويأخذون بقولهم ، ويصومون بصومهم ، وينظرون كذلك -
অর্থাৎ এক দেশের মানুষ নতুন চাঁদ দেখল, তাহলে উক্ত নতুন চাঁদের হুকুম অন্য দেশের মানুষের ওপর সাব্যস্ত হবে কী?
এর উত্তরে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে হাসান আশ শায়বানী রহঃ এর থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন যারা নতুন চাঁদ দেখেনি, তাঁরা নতুন চাঁদ দেখার দেশের উপর নির্ভর করবে, তাঁরা তাঁদের কথা গ্রহণ করবে, তাঁরা তাঁদের সাথে একই দিনে রোজা রাখবে, এরূপ চাঁদের তারিখ নির্ভর সকল ইবাদাতে তারা নতুন চাঁদ দেখা দেশটির অনুসরণ করবে।
#এরকম গত ৬০/৭০ বছর পূর্ব হতে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জমানা পর্যন্ত কুরআন, সুন্নাহ এবং ফিকহের অগ্রগণ্য সিদ্ধান্ত সম্বলিত প্রায় ১০০ শত নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের ২১৪ পৃষ্ঠার একটি ফাতাওয়া সংকলন আমার থেকে মুহতারাম আব্দুল মালেক সাহেব
حفظه الله تعالى من الكذب
নিজে হোয়াটসঅ্যাপে চেয়ে নিয়েছিলেন। ভিডিওতে বক্তব্যের সময় তার ডান পাশে তার সহযোগীর হাতে নড়াচড়া করানো কপিটি আমাদের ফাতাওয়া সংকলন। অথচ তিনি উক্ত ফাতাওয়া সংকলনের একটি ফাতাওয়াকেও ভুল বলে প্রমাণ করতে পারেননি। না তার ১ঘন্টা ১৮ মিনিটের বক্তব্যে, না তার ২৯০ পৃষ্ঠার এসংক্রান্ত ঐ সেমিনারে বিলিকৃত গ্রন্থে।
তিনি যে আমার থেকে "চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটি" এর সম্পাদনা পরিষদের ২১৪ পৃষ্ঠার ফতোয়ার কপিটি হোয়াটসঅ্যাপে চেয়ে নিয়েছিলেন তার স্ক্রীন সর্ট প্রমাণ হিসেবে নিচে দেয়া আছে।
------------------------------------------------------------
#এবার আপনারাই বিচার করুন, মুফতী আবদুল মালেক সাহেবের বক্তব্য কতটা মিথ্যায় ভরপুর!