22/07/2026
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন কাদের জন্য পাঠিয়েছেন?
উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তর সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সরাসরি বলে দিয়েছেন। এরশাদ হচ্ছে- "শাহরু রামাদানাল্লাজি উনজিলা ফীহিল কোরআনা হুদাল্লিন্নাস"। এর অর্থ হল- রামাদান মাস সেই মাস যেই মাসে নাজিল হয়েছে এই কোরআন মানবজাতির পথনির্দেশনা হিসেবে। অতএব পবিত্র কোরআন মানবজাতিকে পথ দেখাবে অনাগত ভবিষ্যতের জন্য। আর যেহেতু মানবজাতি তথা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সবার জন্যই কোরআন পাঠানো হয়েছে, সেহেতু তারা সবাই তা পড়বে, বুঝবে এবং মানবে অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। এভাবে বিশ্বব্যাপী ইসলাম ছড়িয়ে পড়বে। এখানে অজু বা গোসলের পূর্বশর্ত শতভাগ অবান্তর কথা।
সুরা তাওবায় আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- "ইয়া আইউহাল্লাজিনা আমানু ইন্নামাল শরিকুনা নাজাসুন" (৯:২৮)। অর্থঃ ওহে যারা ইমান এনেছ (শোন) নিশ্চয়ই সকল মুশরিকরা অপবিত্র। অপবিত্র মুশরিকরা যদি নিঃশর্ত ভাবে পবিত্র কোরআন পড়তে পারে তাহলে পবিত্র ইমানদার মুসলমানদের ক্ষেত্রে ওয়াজুর পূর্বশর্তের কথা শতভাগ অবান্তর কথা তথাপি বাংলাদেশের আলেমগন কোরআন তেলাওয়াতের পূর্বে ওয়াজু করা জরুরী বলে মনে করে থাকেন। এই প্রসঙ্গে আমার ছোটবেলার হুজুরের কথা না বলে পারলাম না। কোরআন তিলাওয়াতের আগে ওয়াজুর গুরুত্বের কথা বুঝাতে গিয়ে তিনি আমাকে বলে ফেললেন- শুন, পবিত্র কোরআন হচ্ছে ঘুমন্ত বাঘের সমান। যদি ওয়াজু ছাড়া কেউ একে স্পর্শ করে তবে তার আর রক্ষা নেই। এবার বুঝুন আমার অবস্থা। বিষয়টা ভাল ভাবে জানতে গিয়ে জীবনের অর্ধেকটা সময় চলে গেছে। কারন হচ্ছে ওয়াজু। আল্লাহ্ প্রদত্ত জীবনবিধান আমার জীবন থেকে বহু দূরে সরে গেছে। তথাপি জাহান্নামের ভয়ে তাকে ছাড়তে পারিনি।
সুরা ওয়াকীয়ার ৭৯ নম্বর আয়াতের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে-'পবিত্ররা (ফেরেশতাগন) ছাড়া কেউ একে (লাউহে মাহফুজে রাখা এই কোরআনকে) স্পর্শ করতে পারে না' (৫৬:৭৯)। বাংলাদেশে এই আয়াতের তাফসী করা হয়েছে- 'পবিত্র (মানুষ) ব্যতীত কেউ ইহাকে (কোরআনকে) স্পর্শ করবে না'। মক্কার মুশরিকগন এক সময়ে বলা শুরু করল যে, মোহাম্মদের কাছে এই সকল আয়াত অপবিত্র শয়তান এবং জ্বীনরা আসমান থেকে নিয়ে আসে। প্রত্যুত্তরে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত সহ মোট আটটা আয়াত নাজিল করেন। তখনতো কোরআন নাজিলের প্রাথমিক স্তর। এই দেশের আলেমগন সেই অবস্থায় বর্তমান কিতাব মানুষ কর্তৃক স্পর্শের কথা পেলেন কোথা থেকে? শানেনুজুল না জানার কারনেই তাঁরা এই ভুলটা করে থাকেন।
অথচ সুরা নাহালে পরিষ্কার ভাবে বলা আছে- 'অনন্তর আপনি যখন কোরআন পাঠ করতে চান, তখন বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রর্থনা করে নেবেন' ১৬৪৯৮)। অর্থাৎ আউজু বিল্লাহি মিনাশশাইতা নির্রাজীমল বলতে হবে। এখানে ওয়াজু করার কথাতো বলা হয়নি। হুজুরগন সেটা পেলেন কোথা থেকে? তাহলে কি এমনটা বলা যাবে যে, আল্লাহ্ তায়ালা স্বলাতের আগে ওয়াজু করার কথা (৫:৬) বলেছেন ঠিকই; কিন্তু তিলাওয়াতের আগে ওয়াজুর কথা বলতে ভুলে গেছেন। নাউজুবিল্লাহ।
তাছাড়া বর্তমান কোরআন কম্পিউটার করা, প্রুফ দেখা, ছাপানো, বাধাই করা, স্টোরে রাখা, সরবরাহ করা, বিক্রি করা ইত্যাদি কাজ ওয়াজু সহ করা কখনো সম্ভব হতে পারে না। এমন অযৌক্তিক শর্তের কারনে মানুষ কোরআন থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। বর্তমান ধর্মহীনতার জন্য এটাও অনেকাংশে দ্বায়ী। এমন দুর্ভাগ্যজনক কথাকে আলাহ তায়ালার বিরুদ্ধাচরণ ছাড়া আর কি বলা যেতে পারে? তাই সবার উদ্দেশ্যে বলব কোরআনকে সাথে রাখুন এবং জীবনের সকল পর্যায়ে এর নির্দশনাসমূহ মেনে চলুন।
দুঃখজনক হলেও আরেকটা সত্যকথা বলতে হয়। খোদ আমেরিকার ঘটনা। ইসলাম গ্রহন করা এক মুসলিম বলেন যে, ক্রেতার অমুসলিম পরিচয় জানার পর মুসলিম বিক্রেতা পবিত্র কোরআন বিক্রি করতে অস্বিকৃতি জানায়। এই ঘটনা তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন এবং নিজ কানে শুনেছেন। এটা শুনার পর মনের দুঃখে তিনি অনেকক্ষন আফসোস করেছেন। এইভাবে প্রকৃত জ্ঞানের অভাবে মানুষ কোরআনের শিক্ষা গ্রহন এবং প্রদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ বেতন করা পাদ্রীগন খ্রীস্টান ধর্মকে জীবন বাজি রেখে অজপাড়াগাঁয়ে পৌঁছে দিতে কোন রকম কার্পন্য করছে না। কিন্তু মূলধারার খ্রীস্টানগন ধর্ম কি জিনিষ তা জানেই না। দাওয়াত পৌঁছানো গেলে মুসলিম হতে তাদের দেরী করার কথা নয়। বিশ্বমিডিয়ায় বিরূপ প্রপাগান্ডার কারনে বর্তমানে তারা কিছুটা ইসলামোফবিয়ায় আক্রান্ত। মুসলিম বিশ্বের এই ব্যাপারে আনেক কিছুই করার আছে।
✍🏻 ইন্জিঃ মোহাম্মদ এনামুল হক।
কোরআন, হাদিস ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ছাত্র।
প্রাক্তন মহাপরিচালকঃ টেলিকম স্টাফ কলেজ, টিএন্ডটি বোর্ড।
মহাসচিবঃ হিজরী ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ।