09/01/2024
সুন্নী মুখোশে ড্যামি সুন্নীদেরকে চিনে রাখুন
=========================
৭ই জানুয়ারীর নির্বাচন যে একতরফা হবে, ড্যামি হবে এটা তফসিল ঘোষণার আগেই প্রমানিত হয়েছে, খুদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিলো ডামি প্রার্থী দেওয়ার! ২০১৪ ও ২০১৮-এর নৈশ ভোটের প্রহসনের নির্বাচনের পর, সেই বিনা ভোটের সংসদ বহাল রেখেই আয়োজিত নির্বাচন যে ড্যামি ইলেকশন হবে, একতরফা ও পূর্বনির্ধারিত ফলাফল নিয়ে আসবে তা জানেনা বা বুঝেনা এমন কোন মানুষ বা ভোটার এমনকি আওয়ামীলীগেও পাওয়া যাবেনা।
স্বতন্ত্র নামে আওয়ামিলীগ সমর্থিত অসংখ্য ড্যামি; তমুকলীগ সমর্থিত ও অমুক পার্টি মনোনিত ড্যামি প্রার্থী; ক্রিকেট কিংবা সিনেমার ড্যামিগুলোও কম যান নি!
কিন্তু ক্ষমতাসীনরা এই সর্বজন জ্ঞাত ড্যামি ইলেকশনকে কিভাবে বাস্তবে রূপ দিতে সক্ষম হয়েছে এটা বুঝা অনেক জরুরী। তার চেয়ে জরূরী এটা বুঝা যে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়াটা ক্ষমতাসীনদের বড় সফলতা নয়, নির্বাচন হলে এটাতো অনুমেয় ছিল যেহেতু প্রতিপক্ষই নেই। আসল সফলতা ছিল ২০২৪ এর এই একতরফা নির্বাচনটা বিনা বাধায় করতে পারা। উপরে উল্লেখিত ড্যামিরা সবাই কোন না কোনভাবে আওয়ামীলিগারই। প্রহসনের এই নির্বাচনকে বাস্তবতায় আনার পিছনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করেছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো যারা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। প্রতিপক্ষের অভিনয় করেছে। এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমুলক দেখানোর জন্য বাকী দালাল দলগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার ক্ষমতাসীনরা কিন্তু অত্যন্ত নিপুণতার সাথে করেছে।
তন্মধ্যে অত্যন্ত দুঃখজনক, ক্ষতিকর, কলঙ্কজনক ও বিপজ্জনক হলো যে, এই ড্যামি নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নাম বিক্রি করে চলা রাজনৈতিক ড্যামি প্রার্থী-সমর্থক উঠেপরে লেগে ছিল! দালালীতে কে কত বড় এর এক মহা প্রতিযোগিতা ছিল। যা সাধারণ মানুষের কাছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতকে বিকৃত করে, সুন্নীদেরকে মিসগাইড করে আহলে সুন্নাতকে মুলুকিয়তের দালালীতে আবদ্ধ করে দিশাহীন আগাছায় পরিণত করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আহলে সুন্নাতের এরুপ বিকৃতি-অপমান আমাদের পরিলক্ষিত হয়নি।
ষোলশহরের ইসলামী ফ্রন্ট থেকে শুরু করে চাদপুরের ইসলামিক ফ্রন্ট, মাইজভান্ডারি সুপ্রিম পার্টি, সিলেটের ফুলতলিসহ ফরিদপুরের জাকের পার্টি কিংবা তরিকত ফেডারেশন এরা সবাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নামের অপব্যবহার করে এই প্রতারণার ইলেকশনকে বৈধতা দিয়ে রাষ্ট্রের সাথে, গণ মানুষের সাথে এবং সবচেয়ে জরুরী সুন্নীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
তারা সবাই জানতো যে একটা ভুয়া ইলেকশন হতে যাচ্ছে, তারা অবশ্যই জানত যে ফেয়ার ইলেকশন হলেও জয়ী হওয়ার কোন সম্ভাবনা তাদের নাই, সেখানে ড্যামি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার পেছনে একটাই মোটিভ কাজ করতে পারে আর তা হলো ক্ষমতাসীনদের চাটুকারিতা করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে এই সর্বজন জ্ঞাত প্রহসনের ইলেকশনকে বৈধতা দেওয়া, দেশের মানুষকে আরোও অন্তত: ৫টি বছর জুলুম শোষণের কারাগারে নিক্ষিপ্ত করা। এমন দালাল সম্প্রদায় কোনভাবেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের হতে পারেনা। এরা এমনিতেই আহলে সুন্নাতের মৌলিক আকিদায় ঈমান রাখেনা তা আমরা বিভিন্নভাবে তুলে ধরেছি। এতদসংগে আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, গ্ণতন্ত্র হত্যার এই ইলেকশনকে সমর্থন, ভোটাধিকার হরণেরই সমর্থন, একক গোষ্ঠীর স্বৈরতা দস্যুতা কায়েমের সমর্থন, বস্তুবাদী অপরাজনীতির কবলে রাষ্ট্রকে সপে দেওয়া সুন্নীয়ত হতে পারেনা। এই ভুয়া ইলেকশনকে বৈধতা দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে তারা আসলে রিয়েল নয় ভুয়া সুন্নী, ফেইক সুন্নী। ড্যামি সুন্নী।
আহলে রাসুলের গোলামিয়তের যেই সুন্নীয়ত, খোলাফায়ে রাশেদীন মকবুল সাহাবায়ে কেরাম জামে আওলিয়া কেরামের অনুসরণে যেই চিরন্তন প্রকৃত সুন্নীয়ত, প্রাণাধিক প্রিয়নবীর দান কলেমার যেই সুন্নীয়ত সেই সুন্নীয়ত কোন বাতেল জালেম অপশক্তিকে সমর্থন করার, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার, একটা রাস্ট্র জবরদখলের ফেইক ইলেকশন - একতরফা ইলেকশনকে বৈধতা দেওয়ার শিক্ষা দেয়না। তবে এই চিরন্তন প্রকৃত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের বিপরীতে মুয়াবিয়া এজীদের খারেজীবাদী যেই ভুয়া সুন্নীয়ত চালু আছে সেই মুয়াবিয়াবাদ এজীদবাদ ঠিকই এধরণের হীনতাকে সমর্থন করতে শেখায়।
আমরা আশ্চর্য হচ্ছি অনেক সুন্নী ভাইবোন যারা এই নির্বাচনকে প্রতারণা প্রহসনের নির্বাচন মনেও করেন, সমালোচনাও করেন কিন্তু তারাই আবার- পাকিস্তানের মিনহাজুল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল সিলেট বিভাগের প্রধান, ২০২৩ পর্যন্ত ইসলামকে অরাজনৈতিক ঘোষণাকারী, ওয়াবী কৌমিদের সকল কর্মসূচীকে সমর্থনকারী, এক স্বতন্ত্র ডামি পীরসাহেবের ভোট বিজয়কে সুন্নীয়তের অর্জন মনে করছেন! শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন! অত্যন্ত দুঃখজনক এহেন স্ববিরোধীতা, এটা সুন্নীয়ত না বুঝার লক্ষণ।
চারিদিকে যখন সুন্নীয়তের নামের অপব্যবহার করে এসব ড্যামি মোল্লা, ড্যামি পীরেরা সুন্নী ভাইবোনদের মিসগাইড করছে, রাষ্ট্রের সাথে গণ মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন নামে ভিন্ন প্রতীকে কোথাও সরাসরি নৌকার পক্ষে ভোট দেওয়াকে সুন্নীয়ত ঘোষণা করে আহলে সুন্নাতকে বিকৃত করেছে তখন বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের রাজনৈতিক দিশা খেলাফতে ইনসানিয়াত বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক আল্লামা ইমাম হায়াত এই ড্যামি ইলেকশনকে বৈধতা দেননি। বরং তিনি একইসাথে সুন্নীদেরকে এবং সকল গণ মানুষকে জুলুম শোষণ থেকে উদ্ধার করতে এই সংসদ ভেঙে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে নির্বাচন পরিচালনা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা তিনি করেছেন, তিনি আদালত পর্যন্ত গিয়েছেন, লাখ টাকার জরিমানাও গুণতে হয়েছে, যদিও এই জরিমানা মূলত দেশের ১৮ কোটি মানুষকেই করা হয়েছে। তবুও এই ড্যামি নির্বাচনকে তিনি বৈধতা না দিয়ে এটাকে রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের হত্যা ঘোষণা করে সবাইকে নির্বাচন বর্জনের আহবান জানিয়েছেন, হয়েছেও তা-ই, মানুষ এই ড্যামি ইলেকশনকে বর্জনই করেছে।
তাই সকল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অনুসারী ভাইবোনদের প্রতি আহবান রইলো এই যে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নামে ধান্দাবাজ প্রতারক ডামিদেরকে চিনে রাখুন, তাদেরকে সুন্নী মনে করার কোন সুযোগ নেই, তাদের হাতে চলমান ও আসন্ন সকল জুলুম শোষণ পাশবতার রক্ত, আপনার ভোটাধিকার হরণের অস্ত্র।
An observation of Muslim Community in Europe (MCE). Joint statement by:
M. Al Amin (Chief Coordinator)
Nishat Moni (Media and Communications Secretary)
Mejbah Uddin (Political Analyst)