17/07/2026
#কারবালাঃ___
যদিও মোহাম্মদী ইসলামের জন্ম মক্কায়, কিন্তু সেখান হইতে লাঞ্ছিত বিতাড়িত হইল। মদিনায় আশ্রিত হইয়া অতিকষ্টে বড় হইল। উমাইয়া রাজশক্তির কবলে পড়িয়া দামেস্কে উহা পচিয়া গেল এবং আব্বাসী রাজশক্তির কবলে বাগদাদে উহা মরিয়া গেল।
* #খেলাফতকালে মোসলেম রাষ্ট্রে একপ্রকার দ্বৈতশাসন প্রবর্ত্তিত হইয়া গেল। রাষ্ট্র ও ধর্ম্ম এক হইতে অন্য আলাদা হইতে শুরু করিল। প্রথম তিন খলিফা এমন কি মাবিয়াও মাওলাইয়াতকে তথা ইমামগণকে ধর্ম্মীয় নেতা হিসাবে কাজ করিয়া চলিতে বাঁধা দান করেন নাই। এজিদ ক্ষমতায় আসিয়া ইমাম হোসাইনকে স্বাধীনভাবে ধর্ম্মপ্রচারের অধিকার হইতে বঞ্চিত করিলেন। মদিনার গভর্ণরকে সম্রাট এজিদ হুকুম দিলেন ইমাম হোসাইনকে এজিদের রাষ্ট্রের নিকট আত্মসমর্পণ করাইবার জন্য। এখন হইতে আর তাঁহাকে ধর্ম্মীয় নেতা হিসাবে স্বাধীনভাবে কাজ করিতে দেওয়া হইবে না। ইহার ফলে পরিণামে কারবালার শোচনীয় দুর্ঘটনা সংঘটিত হইল এবং ইহার মাওলাইয়াত অর্থাৎ ইমামত তাহার ধর্ম্মীয় অধিকারও হারাইয়া ফেলিল। এ কারণে হোসাইন পুত্র ইমাম জয়নুল আবেদিন রাষ্ট্রনৈতিক সকল সংশ্রব হইতে নিজেকে সরাইয়া ফেলিয়াছেন বলিয়া ঘোষণা করিলেন-- যাহার ফলে তাঁহার প্রতি এজিদের দয়ার দৃষ্টি পতিত হইল এবং তিনি পুনরায় রাজনীতি বিবর্জ্জিত ধর্ম্মনীতি প্রচারের অধিকার প্রাপ্ত হইলেন।
এইরূপ সত্ত্বেও পরবর্ত্তীকালে দেখা গেল ইমামগণ তাঁহাদের যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বের কারণে এত বেশি জনপ্রিয় হইলেন যে, প্রতিটি রাজাই তাঁহাদিগকে ভয় করিতেন। পাছে তাঁহারা তাঁহাদের জনপ্রিয়তার সুযোগ গ্রহণ করিয়া শাসনযন্ত্র দখল করিয়া বসেন, এই ভয় সকল রাজাদেরই ছিল। এইজন্যই কি উমাইয়া কি আব্বাসী, পরবর্ত্তী সকল শাসকগণই ইমামগণকে হত্যা করিয়াছেন, হয় প্রকাশ্যে, নয়তোবা বিষ প্রয়োগ করিয়া গোপনে।
* #কারবালায় সত্যের সমাধি রচিত হইল। হোসাইন (আ.) কারবালায় শিক্ষামূলক যে আর্দশের প্রতিষ্ঠা করিয়া গেলেন তাহার সঠিক মর্য্যাদা মুসলমানগণ কোনকালেই আর দিতে পারে নাই।
*" #সবার জীবনেই "কারবালা" আছে। ইহাতে "হোসাইন_পক্ষ" সমর্থন করিয়া মৃত্যুকে বরণ করিলে সেই মৃত্যু মধুর চেয়ে মিষ্টি...
* #কারবালা আজও শেষ হয় নাই। ইহা চিরন্তন। আজও "মোহাম্মদী_আদর্শ" তথা ''হোসাইনী_আদর্শ" সমাজে গ্রহণ করিলে কারবালার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে।
যেই মুহুর্তে মানুষ সত্যকে হৃদয় দিয়া গ্রহণ করিবে তখনই তাহার সামনে হাজির হইবে 'কারবালা'। আর তখনই দেখা যায়, আমাদের মধ্যে হাজারে ৯৯৯জন 'এজিদ পক্ষ' গ্রহণ করিয়া তথা দুনিয়া সমর্থন করিয়া জীবনযাপন করিয়া যাইতেছি।
* #কারবালার ঘটনা কি ইসলামের আদর্শের উপর ঘটিয়াছিল? না শুধু ইমাম হোসাইনের (আ.) উপর ঘটিয়াছিল? যদি আদর্শের উপর ঘটিয়া থাকে তবে প্রত্যেক মুসলমানের দলের জন্য আদর্শের সিদ্ধান্ত এবং প্রতিজ্ঞা গ্রহণের প্রয়োজন আছে কি-না? উম্মতে মোহাম্মদীকে হযরত হোসাইন (আ.) কার্যত: ইহার উত্তর দেখাইয়া দিয়া গিয়াছেনঃ
"আমি হোসাইন কেন,
সমগ্র ঘরবাড়ি, উজাড় করিয়া দিতে পারি,
যদি ভাগ্যে জোটে মোহাম্মদ (আ.)।"
* #ভারতবর্ষে মোহাম্মদী ইসলামের ভিত্তিস্থাপনকারী, হিন্দেল ওলি, আতায়ে রসুল, খাজা গরীবে নেওয়াজ মইনুদ্দিন চিশতী সাহেব ঘোষণা করিতেছেনঃ
“শাহ্ আস্ত হোসাইন, বাদসা আস্ত হোসাইন,
দ্বীন আস্ত হোসাইন, দ্বীন পানাহ্ আস্ত হোসাইন,
ছেরদাদ ওয়া না দাদ দাস্ত দার-দাস্তে ইয়াজিদ।
হাক্কাকে বেনায়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আস্ত হোসাইন (আঃ)।”
“ #অনুবাদঃ হোসাইন (আঃ) হইলেন আদ্দ্বীনের সম্রাট এবং দুনিয়ার (রাজত্ব পরিচালনা করিবার অধিকার প্রাপ্ত যোগ্য) সম্রাট। হোসাইন (আঃ) হইলেন ধর্ম। ধর্মের আশ্রয় দাতা হইলেন হোসাইন (আঃ). দিলেন মাথা এবং না দিলেন হাত এজিদের হাতে। সত্য ইহাই যে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ এর স্তম্ভই হইলেন হোসাইন (আঃ)।
১. “মাথা দিলেন” অর্থ- জীবন দিলেন।
২. “হাত দিলেন না” অর্থ আনুগত্যের হাত বাড়াইয়া দেন নাই তথা আত্মসমর্পণ করেন নাই।
৩. নবি এবং ইমামগণের কাহারও নিকটে আশ্রয় গ্রহণ করাই ধর্মের আশ্রয়। তাঁহারা ব্যতীত আল্লাহ্র ধর্ম নাই এবং ধর্মের কোন আশ্রয়দাতাও নাই।
#টীকাঃ ইমামিয়া রাজত্ব কখনও কুফরীর নিকট আত্মসমর্পণ করিতে পারে না। ইমাম হোসাইন আলাইহে সালাতু আস্সালাম যদি এজিদের নিকট আত্মসমর্পণ করিতেন তাহা হইলে মোহাম্মদী দ্বীন সেইখানে শেষ হইয়া যাইত। অর্থাৎ দ্বীনের আদর্শও জগতে থাকিত না। তখন হইতে আজ পর্যন্ত জগতে কোথাও মোহাম্মদী ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। আদর্শরূপে কারবালার পরেও উহা স্মৃতির মধ্যে বাঁচিয়া আছে মাত্র।”
“
* #কারবালার ঘটনা দ্বারা আকাশের (মনোজগতের) যে অপূরণীয় রক্তস্রাব ঘটাইয়াছে তাহা কি পশু প্রকৃতির কুফাবাসী বুঝিতে পারিয়াছিল?
না আজও তাহা তথাকথিত মোসলেম জাহান বুঝিতে পারিয়াছে? মানুষের চিত্তাকাশে যে রং ফলাইতে তাহারা আসিয়াছেন তাহাদের সকল প্রচেষ্টা কারবালায় ব্যর্থ করিয়া দেয় নাই কি?
#কারবালায় ইসলামের যে সমাধি রচনা হইয়াছে তাহা হইতে মোহাম্মদী ইসলামের উত্থানের কোন সম্ভাবনা আজও দেখা যায় না। অন্তত ভবিষ্যতের জন্য মানুষের মনোজগতের আলো দানকারী মোহাম্মদী সূর্যকে অস্তমিত করা হইয়াছে। আকাশের তথা মনোজগতের রক্ত ক্ষরণ হইবে ইহাতে মূর্খরাই আশ্চর্য হইতে পারে। অনন্ত আখেরাতের তথা অনন্ত পরবর্তী কালের মানুষের মনোজগতের উন্নতি লাভের উপর যে আঘাত হানা হইয়াছে তাহার গুরুত্ব লোকেরা আজও গুরুত্ব সহকারে উপলব্ধি করিতে পারিয়াছে কি?। ---মাওলা শাহ্ সুফি সদর উদ্দিনি আহ্মদ চিশতী (আঃ)