01/13/2026
শান্তির পদযাত্রা (Walk for Peace)
অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।
গৌতম বুদ্ধের জন্মলগ্ন থেকেই হাঁটা বা পদযাত্রা আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় জীবনে গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং আত্মঅনুসন্ধান, সংযম এবং করুণার বিস্তারের একটি পথ।
গৌতম বুদ্ধের জন্ম নেপালের লুম্বিনীতে। সত্যের সন্ধানে তিনি রাজকীয় জীবন ত্যাগ করে ঘোড়ায় যাত্রা শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত বিহারের গয়া অঞ্চলে পৌঁছান, যেখানে তিনি সংসারিক বন্ধন ত্যাগ করে ধ্যানে নিমগ্ন হন। বোধগয়ায় বোধিলাভের পর তিনি পায়ে হেঁটে বারাণসী গমন করেন এবং সেখানে তাঁর প্রথম ধর্মদেশনা প্রদান করেন। জীবনের পুরো সময়জুড়ে তিনি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পদযাত্রা করে ধর্ম প্রচার করেছেন—শান্তি, অহিংসা ও প্রজ্ঞার বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন।
এই আধ্যাত্মিক পদযাত্রার ঐতিহ্য বুদ্ধের সঙ্গেই শেষ হয়ে যায়নি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন অঞ্চলের সন্ন্যাসী ও সাধকগণ ধর্মীয় ও মানবকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে দীর্ঘ পথ হেঁটে অতিক্রম করেছেন। চীন থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পদযাত্রা ছিল জ্ঞান ও পবিত্র শিক্ষার অনুসন্ধানে এক মহান ত্যাগের উদাহরণ। একইভাবে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও স্থলপথে ও সমুদ্রপথে দীর্ঘ যাত্রা করেছেন আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে—যেসব অঞ্চল আজ দক্ষিণ এশিয়া ও আশপাশের অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
আমাদের অনেকেরই জানা, এক হাজার বছরেরও বেশি আগে বাংলাদেশের প্রখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ভারত ও নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করে শেষ পর্যন্ত তিব্বতে বসবাস স্থাপন করেন এবং সেখানে বৌদ্ধ দর্শন ও সাধনায় গভীর অবদান রাখেন।
আধুনিক সময়েও এই ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ থেকে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু পায়ে হেঁটে বোধগয়া পর্যন্ত যাত্রা করেন এবং পরে একইভাবে পদযাত্রা করে চট্টগ্রামে প্রত্যাবর্তন করেন। এই যাত্রাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—হাঁটা কেবল শারীরিক গতি নয়, এটি একটি বার্তা।
আজ সেই বার্তাই বহন করছে শান্তির পদযাত্রা (Walk for Peace)। প্রায় ২১ জন ভিক্ষু যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত পায়ে হেঁটে শান্তির আহ্বান জানাচ্ছেন। এই যাত্রা কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নয়—এটি গভীরভাবে মানবিক। বিভক্ত ও অস্থির এই পৃথিবীতে এটি শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ডাক।
ইতিহাসের এই মুহূর্তে পৃথিবীর সত্যিই এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজন। এই পদযাত্রা সীমান্ত, ধর্ম ও সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে উঠে আশা, করুণা ও ঐক্যের প্রতীক।
এই শান্তির পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারী সকল ভিক্ষুকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের ত্যাগ ও নিষ্ঠা বিশ্ববাসীর জন্য অনুপ্রেরণা। আপনাদের প্রতিটি পদচারণা যেন সচেতনতা, আরোগ্য ও শান্তি বয়ে আনে।
🙏