05/09/2026
ইদানীং জেনারেল মুসলিম মেয়েদের পাশাপাশি মাদ্রাসায় পড়া মেয়েদের মাঝেও একটা বিষয় খুব দেখা যাচ্ছে। সেটা হচ্ছে—আমাদের মুসলিম মেয়েরা অন্য ধর্মের ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং তাদের ভয়ংকরতম নোংরা প্রেমের ফাঁদে পা দিচ্ছে।
অন্য ধর্মের ছেলেরা মুসলিম মেয়েদেরকে বলে, “আমি ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাই, মুসলিম হতে চাই। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, তোমার জন্য আমার ধর্ম ত্যাগ করবো।”
ব্যস! এই কথাগুলো শুনেই আমাদের অবুঝ মেয়েরা ভাবতে শুরু করে—“সে আমাকে এত ভালোবাসে যে আমার জন্য সে তার ধর্ম ত্যাগ করবে? এত ভালো আর কে আমাকে বাসবে?”
এরপর থেকে শুরু হয় হারাম রিলেশন। আর সেই সম্পর্কের মধ্যে থেকেই চেষ্টা চলে তাকে দ্বীনের পথে ফেরানোর।
“আমি তোমার সাথে থাকতে চাই, তোমার মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাই”—এই কথাগুলো শুনে যে সকল মুসলিম মেয়েরা হিন্দু ধর্মের ছেলেদের নোংরা প্রেমের ফাঁদে পা দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্যে ছোট্ট করে একটা কথা বলতে চাই—
বোন, আপনাকে আগে আমার ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করা উচিত। আপনি কি জানেন না, কোরআন কারীমে কী বলা হয়েছে?
আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারীমে বলেছেন—
إِنِ ٱتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِٱلْقَوْلِ فَيَطْمَعَ ٱلَّذِي فِي قَلْبِهِۦ مَرَضٌ
অর্থ: “যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়।” [১]
—সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩২
তাহলে যেখানে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে, সেখানে আপনি প্রেমের মতো হারাম রিলেশন দিয়ে অন্যজনকে দ্বীনের পথে নিয়ে আসবেন, অন্য ধর্মের ছেলের দ্বীনে ফেরার গল্প হবেন—এটার মতো হাস্যকর আর কিছু হতে পারে?
যেখানে নিজেরই দ্বীন সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান এবং তাকওয়ার অভাব, সেখানে অন্যজনকে কীভাবে দ্বীনের পথে নিয়ে আসবেন?
আর রইল প্রেমের বিষয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে নির্জনে বা একাকী মিলিত না হয়, কারণ তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।”
[২] —সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১৬৫; মুসনাদে আহমাদ
তাহলে আপনি একজন সচেতন মুসলিমা হয়ে কীভাবে এমন একটি হারাম সম্পর্কে জড়াতে পারেন?
শুনুন বোন, আমার কথা—তারা আপনার জন্য তাদের ধর্ম ত্যাগ করবেও না, বরং তারা সুযোগ বুঝে আপনার ক্ষতি করে চলে যাবে, অথবা আপনাকে Va,রতে পাচার করে দিবে। আর যদি সত্যি সত্যি আপনাকে বিয়েও করে, তাহলে আপনাকে আপনার শান্তির ধর্ম ইসলাম ত্যাগ করতে বাধ্য করবে। যার ফলে আপনি আপনার দুনিয়া এবং আখিরাত—উভয়টাকেই ক্ষতির মধ্যে ফেলবেন।
তাই সময় থাকতে ফিরে আসুন।
যদি সত্যিই অন্য ধর্মের কেউ দ্বীনে ফিরতে চায়, তাহলে তাকে বলুন—আমাদের ইসলাম ধর্মের অনেক বড় বড় শায়েখ, স্কলার আছেন। তাদের সাথে পরামর্শ করতে। একমাত্র শায়েখ, স্কলাররাই তাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে দ্বীনের পথে নিয়ে আসতে পারেন।
বোন, আবেগের বশে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না, যার জন্য পরবর্তীতে সারাজীবন আফসোস করতে হয়।
নিজের ঈমানকে ভালোবাসুন, নিজের দ্বীনকে জানুন এবং হারাম সম্পর্ক থেকে নিজেকে হেফাজত করুন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল মুসলিম বোনকে হেফাজত করুন এবং সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।
✍️~ উম্মে আব্দুল্লাহ।