11/09/2025
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, টুইন টাওয়ার ট্রাজেডির সময় চারটা যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিলো:─── (১) প্রথমে American Airlines Flight 11 এর Boeing 767-223ER সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত হানে। (২) এর মাত্র ১৭ মিনিট পর, সকাল ৯টা ০৩ মিনিটে United Airlines Flight 175 এর Boeing 767-222 আঘাত হানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সাউথ টাওয়ারে। (৩) এরপর সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে American Airlines Flight 77 এর Boeing 757-223 আঘাত হানে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। (৪) ওদিকে সকাল ১০টা ০৩ মিনিটে United Airlines Flight 93 এর Boeing 757-222 পেনসিলভেনিয়ার একটা মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
টুইন টাওয়ারে যেই বিমান আঘাত হেনেছিলো সেগুলো ছিলো বোয়িং-এর পুরোনো ভার্সন Boeing 767—যেগুলার গতি ও ভার আধুনিক বিমানগুলোর তুলনায় অনেকটাই কম। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে টাওয়ারটাতে আঘাত হানার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পুরো ভবনই ধ্বসে পড়ে তাও আবার খুব নিখুঁতভাবে। টুইন টাওয়ারের পাশাপাশি ৪৭-তলার আরেকটা ভবন ছিলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিল্ডিং ৭ (WTC 7) নামের। এটাতে তো বিমানের কোনো আঘাতই লাগেনি তবুও বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই ধ্বসে পড়ে এটা। রিপোর্টে বলা হয়েছিলো আগুনের কারণে ধ্বসে গিয়েছিলো। বাট্ বিশ্লেষকদের দাবি অনুযায়ী, শুধু মাত্র আগুনের কারণে স্টিল ফ্রেমের এতো বড় ভবন পুরোপুরিই এভাবে ভেঙে পড়ার কথা না।
অন্যদিকে Air India Flight 171–এর Boeing 787 Dreamliner— বোয়িং 767 এর তুলনায় অনেক বড়,
ভারি, নতুন প্রজন্মের হাই-স্পিড, হাই-পাওয়ার এয়ারক্রাফট। গত ২২ জুন ভারতের আহমাদাবাদে একটা স্কুলের উপর বিধ্বস্ত হয়েছিলো এটা। স্কুলের ভবন ছিলো মাত্র দু’তলা তাও আবার কংক্রিটের ভবন। এতো হাই-পাওয়ার এয়ারক্রাফট হওয়ার পরও ভবনটা পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে পারে নাই। অথচ টুইন টাওয়ার ছিলো স্টিল ফ্রেমড—তখনকার ইঞ্জিনিয়ারিং দুনিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী ও ফায়ারপ্রুফ ভবনের একটি হিসাবে ধরা হতো এটাকে।
সেদিনের সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছিলো যে, বিমানের জ্বালানির আগুন ও তাপের কারণে স্টিলের কাঠামো দুর্বল হয়ে যায়, যার ফলে আস্তে আস্তে পুরো টাওয়ারটাই ধসে পড়ে। কিন্তু প্রকৌশলীদের দাবি অনুযায়ী— টাওয়ারগুলো এত দ্রুত, এত নিখুঁতভাবে 'ফ্রি-ফল স্টাইলে' ধ্বসে পড়া সম্ভব না। টুইন টাওয়ারের ডিজাইনই এমনভাবে করা হয়েছিলো যাতে বড় ধরনের আঘাত সামলাতে পারে। প্রত্যেকটা টাওয়ারে ব্যবহার করা হয়েছিলো হাজার টনের বেশি স্টিল এবং উন্নত ফায়ারপ্রুফিং।
তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সরকার কোনো প্রকার শক্ত প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছে যে, "৯/১১ এর ঘটনায় সরাসরি জড়িত AQ—সংগঠনটির ১৯ জন সদস্যের চারটা গ্রুপ তাদের চারটা যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে, একটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে এবং একটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। এতে প্রায় ৩,০০০ মানুষ নি/হত হন। আর AQ—এর সর্বোচ্চ নেতা UBL শায়েখই ছিলেন এই পরিকল্পনার মূল হোতা।"
তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য, ও সাক্ষ-প্রমাণে কিন্তু পরিস্কার ভাবে এটাই বুঝা যায় যে, UBL শায়েখ এই ট্রাজেডির সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন। কারণ:───প্রথমতঃ আমেরিকার মতো দেশের সবচেয়ে অত্যাধুনিক "প্রযুক্তি-প্রাচীর" ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে এতো বড় হামলা পরিচালনা করার মতো প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ তখন UBL শায়েখের হাতে ছিলো না।
তা ছাড়া সে সময় UBL শায়েখ দীর্ঘ দিন যাবত ত|লেব|ন সরকারের সর্বপ্রকার যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন আর দেশ হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগ|নিস্ত|নের অবস্থা তো এতোই শোচনীয় ছিলো যে, বিদ্যুতের অভাবে রাতের কাবুলও তখন অন্ধকারে ডুবে থাকতো। মোটকথা ব্যক্তি
উস|ম| বা রাষ্ট্র আফগ|নিস্ত|ন কারো পক্ষেই তখন সম্ভব ছিলো না আমেরিকার মতো দেশের হৃৎপিণ্ডে এতো বড় হামলা এতো নিখুঁত ভাবে পরিচালনা করা। এটা এমন কোনো রাষ্ট্রশক্তির পক্ষেই সম্ভব ছিলো-প্রয়োজনীয় অর্থ, অস্ত্র, মেধা ও প্রযুক্তি এ সবকিছুই যার আছে।
দ্বিতীয়তঃ তখনকার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাই তথ্য প্রকাশ করেছিলো যে, এই সুপরিকল্পিত হামলার পিছনে ই%সর|ইলী গোয়েন্দা সংস্থা মোস|দের হাত থাকতে পারে। ভয়াবহ ট্রাজেডিতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ধ্বংসযজ্ঞে যেখানে সেদিন পাঁচ শতাধিক মুসলিম নিখোঁজ হয়েছেন সেখানে আহত বা নিহতদের তালিকায় কোনো ই/হু%দীর নাম নাই। কারণ ট্রেড সেন্টারে কাজ করা চার হাজার ই/হু/দির মধ্যে একজনও সেদিন কর্মস্থলে যায় নাই। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সেদিন ই%সর|ইলী প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্কের ই/হু%দী সংস্থার একটা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু গোয়েন্দা সূত্রের পরামর্শের ভিত্তিতে সেদিন ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি সে।
তৃতীয়তঃ টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত হওয়ার পর পর টাওয়ারের নিকটবর্তী একটা ভবন থেকে ছয় জন ই%সর|ইলী ই%হু/দীকে আটক করেছিলো এফ বি আই গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। যারা গোপনে শুরু থেকেই হামলায় ধ্বসে পড়া টাওয়ারের ভিডিও রেকর্ড করছিলো।
চতুর্থতঃ এই ঘটনার পর আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা বিমান ছিনতাইকারী হিসেবে যে ঊনিশ জনের নাম প্রকাশ করেছিলো পরবর্তীতে দেখা গেছে তাদের কয়েকজন বহাল তবিয়তে সৌদি এয়ার লাইন্সে কর্মরত ছিলেন। অথচ এতো বড় ট্রাজেডি করার পর সেখান থেকে আবার বেঁচে ফিরবে এটাতো একেবারেই অসম্ভব!!
#9/11
#911