06/05/2026
হযরত শাহজালাল (রহ.) হলেন এমন এক মহান অলি ও সুফি সাধক, যার ফয়েজ আজও বাংলার মানুষের মাঝে প্রবাহিত হচ্ছে। উনি পিতার দিক থেকে আবু বকর (রা:) এর বংশধর এবং মাতার দিক থেকে হযরত ইমাম হুসাইন (রা:) এর বংশধর।
একদা হযরত শাহজালাল (রহ.) ইবাদত-বন্দেগী, মোরাকাবা ও মোশাহেদায় নিমগ্ন অবস্থায় ক্ষণিকের জন্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন। এ সময় তিনি স্বপ্নে দো-জাহানের বাদশাহ, সাইয়্যেদুল মুরসালিন, হুজুরে আকরাম ﷺ এর দিদার লাভ করেন, এবং মানবজাতিকে ধ্বংসের পথ থেকে রক্ষা করার জন্য শাহজালাল (রহ.)-কে হিন্দুস্তানে গমনের নির্দেশ প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ!!
মামা আহমদ কবীর (রহ.) শাহজালাল (রহ.)-কে একমুঠ মাটি প্রদান করে বলেন—যে স্থানের মাটির সাথে এর মিল পাওয়া যাবে, সেটিই হবে তাঁর গন্তব্য ও কর্মস্থল।
অন্যদিকে, বাংলার ইতিহাসে এক অন্ধকার সময় চলছিল—গৌড় গোবিন্দের শাসনামল। তখন এ ভূখণ্ডে মুসলমান ছিল খুবই নগণ্য, আর যারা ছিল, তারা ছিল চরম নির্যাতিত ও নিপীড়িত। নামাজ আদায় করাও ছিল যেন এক অপরাধ; মুসলিমদের ইবাদত দেখলেই গৌড় গোবিন্দ ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠতো, আরোপ করতো কঠোর নিষেধাজ্ঞা।
সেই সময় ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। হযরত বুরহানউদ্দীন (রহ.) সন্তান লাভের খুশিতে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে গরু কোরবানি করেন। কিন্তু এ সংবাদ জানার পর গৌড় গোবিন্দ নিষ্ঠুরভাবে শিশু গোলজার (রহ.)কে শহীদ করে এবং হযরত বুরহানউদ্দীন (রহ.)–এর হাত কর্তন করে। এ ছিল তৎকালীন বাংলার এক শোচনীয় বাস্তবতা।
এমন সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার অশেষ রহমতে বাংলায় আগমন করেন হযরত শাহজালাল (রহ.)। যিনি সূদুর ইয়েমেন থেকে আক্বায়ে নামদার, তাজেদারে মাদীনা ﷺ এর নির্দেশে বাংলার উদ্দেশ্যে ১২ জন সঙ্গী নিয়ে সফর শুরু করেন যা পর্যায়ক্রমে ৩৬০ জন সফর সঙ্গীতে উপনীত হয়। এরপর উনি উনার মুরীদ হযরত নাসিরউদ্দিন সিপাহসালার (রহ.) কে সেনাপতি করে গৌড় গোবিন্দকে পরাজিত করেন এবং বাংলায় ইসলামের ঝান্ডা উত্তোলন করেন।
এরপর হযরত শাহজালাল (রহ.) ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করে এবং সকলকে তিনি ইমামুল আম্বিয়া, রাহমাতাল্লিল আলামিন ﷺ এর মোহাব্বতের সুধা পান করাতে থাকেন। উনার বক্তৃতায় বিমোহিত হয়ে শ্রোতামন্ডলী উনার হাতে বায়াত গ্রহণ করতেন এবং একইসাথে অন্য ধর্মাবলম্বীরা আশ্রয় নিতো ইসলামের সুমহান আদর্শের শীতল ছায়াতলে। উনি উনার খলীফাদের বাংলার বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করেন এবং বাংলাকে সোনার বাংলায় রুপান্তরিত করেন। সুবহানাল্লাহ!!
হে আল্লাহ, আমাদেরকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দেখানো পথে চলার তৌফিক দান করুন, এবং আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশকে আবার সত্যিকারের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার তৌফিক দিন। আমীন।