আলোর পথ ইসলাম

আলোর পথ ইসলাম Servent of Allah ❤️

অমুস‌লিম‌দের পূ-জা-পার্ব‌ণ উপল‌ক্ষে একজন মু‌মিন যা কর‌তে পা‌রে না1️⃣ অমুস‌লিম‌দের পূ-জা-পার্ব‌ণে আন‌ন্দিত হ‌তে পা‌রে না।...
30/09/2025

অমুস‌লিম‌দের পূ-জা-পার্ব‌ণ উপল‌ক্ষে একজন মু‌মিন যা কর‌তে পা‌রে না

1️⃣ অমুস‌লিম‌দের পূ-জা-পার্ব‌ণে আন‌ন্দিত হ‌তে পা‌রে না।

2️⃣ শু‌ভেচ্ছা, অ‌ভিনন্দন জা‌না‌তে পা‌রে না। চি‌ঠি, বার্তা বা উইশ পা‌ঠি‌য়ে তা‌দের আনন্দিত কর‌তে পা‌রে না।

3️⃣ কো‌নোরূপ সমর্থন, সহ‌যো‌গিতা কর‌তে পা‌রে না।

4️⃣ টাকা-পয়সা বা কো‌নো কিছু দান কর‌তে পা‌রে না। এমন‌কি পূ-জার কা‌জে এক টাকাও দান করাও গুনাহ। ত‌বে আর্তমান‌বিক সাহায্য দি‌তে কোনো অসু‌বিধা নেই।

5️⃣ শুধু পূ-জার কা‌জে ব্যবহৃত হয়,‌ এমন জি‌নিস যোগান বা বি‌ক্রি কর‌তে পারে না। যেমন, পূ-জা উপল‌ক্ষে আতশবা‌জির দোকান খোলা বা বি‌ক্রি করা ইত্যা‌দি।

6️⃣ প্র‌-তিমা তৈ‌রি বা বি‌ক্রি কর‌তে পারে না।

7️⃣ পূ-জামণ্ডপ তৈ‌রি‌, ডেকা‌রেশন ইত্যা‌দি‌ কর‌তে পারে না। এগু‌লো‌তে শ্র‌মিক হিসা‌বে কাজ কর‌তে পা‌রে না।

8️⃣ পূ-জানুষ্ঠান উপ‌ভোগ করার জন্য দেখ‌তে যে‌তে পার‌বে না।

9️⃣পূ-জানুষ্ঠা‌নে উপ‌স্থিত থাক‌তে পারে না।

1️⃣0️⃣ তা‌দের অনুকর‌ণে নি‌জেরাও কো‌নো কাজ কর‌তে পার‌বে না। যেমন, ফটকা ফুটা‌নো, আতশবা‌জি করা, রং‌ছিটা‌নো, তা‌দের সৌজ‌ন্যে নতুন জামাকাপড় পরা ইত্যা‌দি।

1️⃣1️⃣ তা‌দের নিমন্ত্রণ গ্রহণ করা যা‌বে না।

1️⃣2️⃣ তা‌দের যবাই করা কো‌নো জি‌নিস ‌বিলকুল খাওয়া যা‌বে না।

1️⃣3️⃣ হা‌তে তৈ‌রি ‌পিঠা-পা‌য়েশ ও অন্যান্য জি‌নিসও প‌রিহার করা উ‌চিত। য‌দিও এগু‌লো হারাম নয়, তথা‌পি যে‌হেতু দেব‌দেবীর পাদপ্রা‌ন্তে দেওয়ার উদ্দে‌শ্যে এগু‌লো তৈ‌রি করা হয়, ‌সে‌হেতু তা পরিহার করা জরুরী।

1️⃣4️⃣ মুস‌লিম ব্যবসায়ী পূ-জা উপল‌ক্ষে তা‌দের সৌজ‌ন্যে বি‌শেষ ছাড় বা অফার ঘোষণা কর‌তে পা‌রে না। বরং ইসলা‌মের প্র‌তি আগ্রহসৃ‌ষ্টির জন্য এসব ছাড় ও অফারের ঘোষণা ঈদ, রমাযান ও অন্য কো‌নো উপল‌ক্ষে কর‌তে পারে।

1️⃣5️⃣ মুস‌লিম কর্মচারী বা‌ লেবার তার অমুস‌লিম মা‌লিকপ‌ক্ষের পূ-জার কা‌জে সহ‌যো‌গিতা কর‌তে পা‌রে না। যেমন পূ-জার ফুল পা‌নি এ‌গি‌য়ে দেওয়া, সান্ধ্যবা‌তি বা ধো‌নি দেওয়া ইত্যা‌দি।

উপরুক্ত বিষয়গু‌লোর কো‌নো কো‌নো‌টি দ্বারা ঈমান নষ্ট হ‌য়ে যা‌বে এবং মু*শ‌রিক হ‌য়ে যা‌বে। আর কো‌নো কো‌নো‌টি হারাম ও কবীরা গোনাহ। কো‌নো‌টি মাকরূহ ও নিন্দনীয়। আত্মমর্যাদাবান কো‌নো মু‌মিন এগু‌লো‌তে জড়া‌তে পা‌রে না। বরং এসব কু*ফরী‌-শি*রকী কর্মকা‌ণ্ডের প্র‌তি থাক‌বে তার প্রচণ্ড ঘৃণা‌বোধ। পাশাপা‌শি ওসব মু*শ‌রিক‌দের প্র‌তি থাক‌বে দাঈসুলভ করুণা ও দরদ, যা তা‌দের‌কে শি*রকমুক্ত করার চেষ্টা সাধনা কর‌তে মুস‌লিম‌কে উদ্বুদ্ধ কর‌বে।

কা‌*ফির-মু*শ‌রিক‌দের ধর্ম‌ীয় আচার ও পূ=জা-পার্ব‌নের ব্যাপা‌রে আমা‌দের অবস্থান হ‌বে ঠিক হযরত ইবরাহীম আ: এর অনুরূপ। তি‌নি এক‌দি‌কে তা‌দের কর্মকা‌ণ্ডের প্র‌তি ঘৃণা প্রকাশ ক‌রে‌ছেন, তা‌দের সা‌থে ধর্মীয় সস্পর্ক প্রকাশ্য ছিন্ন ক‌রে‌ছেন, অপর‌দি‌কে তা‌দের‌কে তাওহী‌দের দাওয়াত ‌দেওয়ার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন ক‌রে‌ছেন এবং তা‌দের‌কে শিরকমুক্ত করার জন্য ব্যাকুল ছি‌লেন।
মুস‌লিম তার ঈমান ইসলা‌মের ওপর অটল অ‌বিচল থাক‌তে হ‌লে এ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ কর‌তে হ‌বে। এক‌দি‌কে থাক‌বে আল্লাহর প্র‌তি পূর্ণ ঈমান ও আস্থা,‌ অপর‌দি‌তে তাগুত ও দেব‌দেবীর প্র‌তি থাক‌বে প্রচণ্ড ঘৃণা ও ধর্ম‌বিশ্বা‌সের প্র‌তি অস্বীকৃ‌তি। কা‌*ফের‌দের সা‌থে ধর্মগত সম্পর্ক ছিন্ন কর‌তে হ‌বে প‌রিপূর্ণভা‌বে। এ‌টি মু‌মিন‌কে ঈমানী অ‌বিচলতা দান কর‌বে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা ব‌লেন :
لَاۤ اِکۡرَاہَ فِی الدِّیۡنِ ۟ۙ قَدۡ تَّبَیَّنَ الرُّشۡدُ مِنَ الۡغَیِّ ۚ فَمَنۡ یَّکۡفُرۡ بِالطَّاغُوۡتِ وَ یُؤۡمِنۡۢ بِاللّٰہِ فَقَدِ اسۡتَمۡسَکَ بِالۡعُرۡوَۃِ الۡوُثۡقٰی ٭ لَا انۡفِصَامَ لَہَا ؕ وَ اللّٰہُ سَمِیۡعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۲۵۶﴾
"দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই ; সত্য পথ সুস্পষ্ট হয়েছে ভ্রান্ত পথ থেকে। অতএব, যে তাগূতকে অস্বীকার করবে ও আল্লাহ্‌র উপর ঈমান আনবে, সে এমন এক দৃঢ়তর রজ্জু ধারন করল যা কখনো বি‌চ্ছিন্ন হ‌বে না। আর আল্লাহ্‌ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।" (সূরা বাকারা- ২৫৬)
উ‌ল্লেখ্য, কো‌নো মু‌মি‌নের প‌ক্ষে যেমন বিধর্মী‌দের উপরুক্ত কাজগু‌লো‌তে জড়া‌নো সম্ভব নয়, তেম‌নি রা‌ষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অনুম‌তিপ্রাপ্ত এসব কা‌*ফির‌দের ধর্মীয় অনুষ্ঠা‌নে অ‌হেতুক হামলা বা আক্রমণ করাও উ‌চিত নয়। ঈমানী নিরাপত্তার স্বা‌র্থে যেমন প্রথমোক্ত বিষয়গু‌লো থে‌কে আমরা সর্বাত্মক আত্মরক্ষার চেষ্টা কর‌বো, তেম‌নি জানমাল ও সামা‌জিক নিরাপত্তার স্বা‌র্থে দ্বিতীয়‌টি থে‌কেও বিরত থাক‌বো। আল্লাহই একমাত্র তাওফীকদাতা।

© মুহাম্মাদ সাইফুদ্দীন গাযী ✔️
১২/১০/২১ [‌রি‌পোস্ট]

❛আল্লাহ❜ অবশ্যই সেই ব্যক্তির মর্যাদা বাড়িয়ে দেন!
29/09/2025

❛আল্লাহ❜ অবশ্যই সেই ব্যক্তির মর্যাদা বাড়িয়ে দেন!

27/09/2025

বাগরাম ঘাঁটি আম্রিকার কাছে কেনো এতো গুরুত্বপূর্ণ ┇ গ্লোবাল পলিটিক্স স্ট্র্যাটেজি

#বাগরাম

নিশ্চয়ই জুমুআ'র দিন শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর অন্যতম। সুতরাং সেদিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ পড়। নিশ্চয়ই তোমাদের দুরূদ আমা...
26/09/2025

নিশ্চয়ই জুমুআ'র দিন শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর অন্যতম। সুতরাং সেদিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ পড়। নিশ্চয়ই তোমাদের দুরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।

┇ সুনানে আবু দাউদঃ ১০৪৭ ┇

#জুমুআ_মোবারক

26/09/2025
24/09/2025

বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের পরাজয় কেনো? মোহাইমিন পাটোয়ারী ┇ আলোর পথ ইসলাম

❝ হাদিসে রাসূল ﷺ ❞ ফ্রী হাদিস শেখার কোর্স 🔥হযরত উমর (রা.) বর্ণনা করেন, “একজন আনসার ছিল, সে যখন অনুপস্থিত থাকত, তখন আমি র...
24/09/2025

❝ হাদিসে রাসূল ﷺ ❞ ফ্রী হাদিস শেখার কোর্স 🔥

হযরত উমর (রা.) বর্ণনা করেন, “একজন আনসার ছিল, সে যখন অনুপস্থিত থাকত, তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত থাকতাম। আমি যা শুনতাম তা ঐ ব্যক্তিকে জানাতাম। আবার আমি যখন অনুপস্থিত থাকতাম তখন ঐ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উপস্থিত থাকত। সে যা শুনত তা আমাকে জানাত।” (বুখারী)

সাহাবাদের মত আমাদেরও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস জানা ও মানার আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদীস অধ্যয়নের জন্য "ত্ব-হা যিন নূরাঈন অনলাইন মাদ্রাসা" নিয়ে এসেছে রাসূল (সাঃ) এর ১০০ টি বিষয়ভিত্তিক হাদিস শেখার কোর্স "হাদিসে রাসূল (সাঃ)"।

সেই সাথে অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে এই কোর্সটি সকলের জন্য উন্মুক্ত এবং #ফ্রি_কোর্স। অর্থাৎ কোর্সের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না।


রেজিস্ট্রেশন ও বিস্তারিত কমেন্টে 📌

নিশ্চয়ই জুমুআ'র দিন শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর অন্যতম। সুতরাং সেদিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ পড়। নিশ্চয়ই তোমাদের দুরূদ আমা...
18/09/2025

নিশ্চয়ই জুমুআ'র দিন শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর অন্যতম। সুতরাং সেদিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দুরূদ পড়। নিশ্চয়ই তোমাদের দুরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।

┇ সুনানে আবু দাউদঃ ১০৪৭ ┇

  ‘হিজাব ম্যান্ডেটরি না …’ এই বিষয়ক পোস্ট দেয়ার পরে অনেকেই আমাদের কমেন্টে জানিয়েছেন, ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম উনার পোস্টে...
16/09/2025

‘হিজাব ম্যান্ডেটরি না …’ এই বিষয়ক পোস্ট দেয়ার পরে অনেকেই আমাদের কমেন্টে জানিয়েছেন, ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম উনার পোস্টে এ ব্যাপারে উনার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

প্রথমে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করে নেই- আমরা কেন এ প্রসঙ্গে কথা বলছি?

কারণ খুব সহজ- ইসলামের নামে যেকোন বিকৃতি আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সাধ্যমত প্রতিবাদ করব ইনশা আল্লাহ।

এখন দেখে নেয়া যাক ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম উনার পোস্টে এ ব্যাপারে কী বলেছেন। আমরা উনার পোস্টটি হুবহু দিচ্ছি -

»
“সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার একটি বক্তব্যকে কেউ কেউ খন্ডিতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।

এই ক্ষেত্রে আমার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার, তা হলো- "পর্দা ইসলামের অন্যতম একটি ফরয বিধান"। কিন্তু কোন ব্যক্তির উপর তা জোর করে চাপিয়ে দেয়া যাবে না। আমি এক্ষেত্রে ইসলামে মদকে পর্যায়ক্রমে হারাম করার উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছিলাম।

ইসলামে পর্দার যে কল্যাণ ও মর্যাদা রয়েছে তার মোটিভেশন যদি তুলে ধরা যায় তাহলে অধিকাংশ নারী-পুরুষ ইসলামের এই ফরজ বিধানকে গ্রহণ করবেন, ইনশাআল্লাহ।

টকশোর সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে গিয়ে যদি শব্দ চয়নে ভুল হয়ে থাকে তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। সবাই দোয়া করবেন।“ »

আসুন, দেখা যাক এমনকি উনার এই পোস্টেও কী অসঙ্গতি আছে?

উনি বলেছেন - “এই ক্ষেত্রে আমার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার, তা হলো- "পর্দা ইসলামের অন্যতম একটি ফরয বিধান"। কিন্তু কোন ব্যক্তির উপর তা জোর করে চাপিয়ে দেয়া যাবে না। আমি এক্ষেত্রে ইসলামে মদকে পর্যায়ক্রমে হারাম করার উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছিলাম”

- মনে করুন, আপনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে বললেন- আমি জানি এটা সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম কিন্তু এটা আমার উপরে জোর করে চাপিয়ে দিবেন না। আমি হয়ত মোটিভেটেড হয়ে ইউনিফর্ম পরতেও পারি বাট প্লিজ, চাপিয়ে দিবেন না,- একথা বলতে পারবেন?

পারবেন না। কেন? কারণ আপনি জেনে, বুঝে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। আপনি জানেন এটাই সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম, আপনাকে এটাই পরিধান করতে হবে। আপনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে একথা বলতে পারেন না যে,- আমার উপরে চাপিয়ে দিবেন না।

আমাদের মনে হয় এ ব্যাপারে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ও দ্বিমত করবেন না। তাহলে কীভাবে এটি মেনে নেয়া সম্ভব যে,- কেউ দাবী করছে সে মুসলিম, সে আল্লাহর বিধানের কাছে নিজেকে সমর্পন করল, এরপরে যা কিছু আল্লাহ ফরজ করেছেন সে ব্যাপারে বলা হচ্ছে,- ইসলামের ফরজ বিধান কারো উপরে জোর করে চাপিয়ে দেয়া যাবেনা!?

- লক্ষ্য করুন, কেউ কারো উপরে কিছু জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছেনা। এটি আল্লাহ ফরজ করেছেন, দুনিয়ার কেউ না। আপনি যখন বলছেন আমি মুসলিম, তখন আপনি এটি স্বেচ্ছায় ‘ফরজ’ হিসেবেই মেনে নিচ্ছেন, ‘চাপিয়ে দেয়া’ হিসেবে নয়!

আপনি বলেছেন ‘লা ইকরাহা ফিদ দ্বীন’ এটির সাথে আপনি ফরজ বিধানকে কেন মিলিয়ে দিচ্ছেন? আমরা জানি, আপনিও জানেন,- এই আয়াতের তাফসির কী!

কেন আপনি জেনে বুঝে মিলিয়ে দিচ্ছেন? যার উপরে রোজা ফরজ, সে রোজা না রাখলে আপনি তার এই অজুহাত গ্রহন করবেন? যদি সে বলে - লা ইকরাহা ফিদ দ্বীন, আমার উপরে রোজা চাপিয়ে দিবেন না! লা ইকরাহা ফিদ দ্বীন এর অর্থ যদি এই হয় - তাহলে দ্বীন কোথায়!?

- লা ইকরাহা ফিদ দ্বীন এর সরল অর্থ হচ্ছে - দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই। এই অর্থ যেখানে ইচ্ছা সেখানে মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রয়োগের কোন সুযোগ নেই। এই আয়াতের পরিপূর্ণ অর্থ হচ্ছে -

- আল্লাহর জমিনে আল্লাহ’র দ্বীন, আল্লাহ’র বিধানই কায়েম হতে হবে এবং তা হবার পরে এই দ্বীন গ্রহনের জন্য কাউকে জোর-জবরদস্তি করা হবেনা বরং কেউ যদি দ্বীন গ্রহণ না করতে চায় তার জন্যও অপশন আছে। সে তার নিজের ধর্ম বিশ্বাসের উপরেই থাকবে, তবে জিজিয়া দিবে।

এখন এই লা ইকরাহা ফি দ্বীন - বলে আপনি একজন মুসলিমের উপরে আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তা লঘু করে দিতে পারেন না। No, full stop.
.
আল্লাহ বলেছেন

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً

তোমরা দ্বীনে প্রবেশ কর পরিপূর্ণ ভাবে। অনুগ্রহ করে এই আয়াতের তাফসিরে আরেকবার চোখ বুলিয়ে এরপরে বলুন - কীভাবে অস্বীকার করবেন!?

- পর্দার ফরজ বিধান আল্লাহ ফরজ করেছেন। কেউ কোন বিধান না মানতে পারেন সেটি গুনাহ কিন্তু কোন বিধানকে অস্বীকার করার বা মৌলিক হুকুম/আদেশের ধরণ/প্রকৃতি রদ-বদল করার সুযোগ নেই। সেটি কেবল একটি গুনাহ’ই নয় বরং আরো বড় কিছু!

আরো লক্ষ্য করুন -

عن ابن عمر قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ثَلَاثةٌ لَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يَنْظُرُ اللهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْعَاقُّ وَالِدَيْهِ وَالْمَرْأَةُ الْمُتَرَجِّلَةُ الْمُتَشَبِّهَةُ بِالرِّجَالِ وَالدَّيُّوثُ

ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তাদের প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকিয়েও দেখবেন না; পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী মহিলা এবং দাইয়ূস পুরুষ; (যে তার স্ত্রী, কন্যা ও বোনের চরিত্রহীনতা ও নোংরামিতে চুপ থাকে এবং বাধা দেয় না।)

(আহমাদ ৬১৮০, নাসাঈ ২৫৬২, সহীহুল জামে’ ৩০৭১)

অশ্লীল, ফাহেশা কাজ করা হারাম। অশ্লীল পোশাক পরা হারাম, ছেলে হয়ে মেয়েদের মত কিংবা মেয়ে হয়ে ছেলেদের মত পোশাক পরা, সাদৃশ্য ধারণ করা হারাম। আল্লাহ হারাম করেছেন। এখন অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আমাদের স্ত্রী সন্তানদের হারাম থেকে দূরে রাখা, অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখা, তাদের ফরজ পর্দার বিধানের মধ্যে নিরাপদ রাখা। এমন অবস্থায় আমাদের স্ত্রী বা সন্তান যদি বলেন - ‘লা ইকরাহা ফি দ্বীন’ আমাদের উপর পর্দা চাপিয়ে দিবেন না তাহলে সেটি কী গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়!? কেউ যদি এমন করে তাহলে হাদিস অনুযায়ী সে দাইয়ুস!

তাহলে কীভাবে আল্লাহ যা ফরজ করেছেন সে ব্যাপারে আপনি বলতে পারেন - ‘কিন্তু কোন ব্যক্তির উপর তা জোর করে চাপিয়ে দেয়া যাবে না।’ ফরজকে ফরজ করা হয়েছে এজন্যই যে সেটি অবশ্যই সবার কাছে সমানভাবে প্রিয় হবেনা, কিন্ত তারপরেও মুসলিম দাবী করতে চাইলে তাকে এই ফরজ বিধান সমূহ অবশ্যই মেনে নিতে হবে।

আপনি এরপরে বিষয়টিকে রিলেট করেছেন মদ হারামের সাথে। আপনি একের পর এক বিষয়গুলো শুধু ঘোলা করছেন!

আপনি বুঝাতে চেয়েছেন - মদ যেমন আল্লাহ একবারে হারাম হিসেবে চাপিয়ে দেননি, তেমনি হিজাব ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে বা এমন কিছু। আপনি একটি মৌলিক বিষয় ভুলে যাচ্ছেন -

মদ হারাম ঘোষণা দেয়ার জন্য ফেইজ বাই ফেইজ ডেভেলপমেন্ট এটি এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও করেন নি। আল্লাহ নিজে করেছেন। এবং এখানে তার কারণ, প্রেক্ষাপট আলোচনার সুযোগ নেই কিন্তু প্লিজ টেইক নোট,- এটি আল্লাহ করেছেন। এবং যখন মদ হারাম করে দেয়া হয়েছে এরপরে আর কারো জন্য এ সুযোগ নেই যে, - সে নিজের জন্য ধাপে, ধাপে মদ ছেড়ে দেয়ার পদ্ধতি ‘শরয়ি হুকুম’ হিসেবে গ্রহণ করবে। কেউ যদি না পারে সেটি আলাদা বিষয়, কিন্তু সেটি তার জন্য দলিল নয়।

একই ভাবে আল্লাহ পর্দা ফরজ করেছেন এবং তা ধাপে ধাপে করেন নি বরং সরাসরি করেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ প্রদান এবং প্রদানের ধরণ আল্লাহর পক্ষ থেকে।

- আপনি কিভাবে একটিকে আরেকটির সাথে মিলিয়ে দেন!?

- মদ ফেইজ বাই ফেইজ আল্লাহ হারাম করেছেন। আপনি না।

- পর্দা এক হুকুমে আল্লাহ ফরজ করেছেন। আপনি না।

তাহলে কীভাবে আপনি পর্দার হুকুম বাস্তবায়নে আপনার পছন্দসই মানসিকতা বা ব্যাখ্যা জাস্টিফাই করার জন্য পর্দার ফরজ হুকুমের সাথে মদের প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসছেন! পর্দা ধাপে ধাপে ফরজ হবেনা, আপনি যতই টানাটানি করেন! পর্দা ফরজ হয়ে গেছে, কিয়ামত পর্যন্ত ফরজ হয়েই থাকবে!

আপনি শেষে আবার পর্দাকে মোটিভেশন এর সাথে পেঁচিয়ে ফেললেন। ফরজ নামাজের জন্য কি মোটিভেশন শর্ত। আপনার প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান যদি এই বলে নামাজ না পড়ে,- আমি মোটিভেশন পাচ্ছিনা; সে কী ছাড় পেয়ে যাবে!? তাহলে ফরজ পর্দার আলোচনায় আপনি মোটিভেশন কেন পেঁচিয়ে দিলেন!

যারা আমাদের কমেন্ট করেছেন ‘উনি তো ব্যাখ্যা দিয়েছেন’- আমরা বলতে চাচ্ছি, উনার ব্যাখ্যা আমরা দেখেছি। এবার আমাদের ব্যাখ্যাও অনুগ্রহ করে আপনারা দেখে নিন!

- রাজনৈতিক দল হিসেবে আপনাদের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ, দর্শন, পরিকল্পনা, কৌশল থাকতেই পারে এবং তা নিয়ে আমাদের তেমন মাথা ব্যথা নেই। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে যদি আপনারা ‘ইসলাম’ নাম হিসেবেও ধারণ করতে চান, তবে আল্লাহর ওয়াস্তে সাধারণ মুসলিমকে ইসলামের নাম ব্যবহার করে ধোঁকা দিবেন না।

তাদের মত হবেন না যারা নিজেদের স্বার্থের জন্য আল্লাহর আয়াতের অর্থ বিকৃত করত!

সাম্প্রতিক সময়ে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম (কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সেক্রেটারি, ঢাকা মহানগরী উত্তর বাংলাদেশ জামায়াতে ই...
15/09/2025

সাম্প্রতিক সময়ে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম (কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সেক্রেটারি, ঢাকা মহানগরী উত্তর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) একটি টকশো’তে বলেছেন -

‘ইসলামে কোন কিছু (হিজাব) ম্যান্ডেটরি না’

টকশো’তে ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্যানেল প্রসঙ্গে, অপর পক্ষের একটি আর্গুমেন্ট ছিল, আমরা উদ্ধৃত করছি -

‘আপনি বলছেন ইসলামী দল… ৩ জন ছাত্রী ছিল, হিজাব নেই … আপনি ইসলাম নাম যখন ব্যবহার করবেন তখন কিন্তু হিজাব দিতে হবে, এটা ম্যান্ডেটরি…’

সামান্য এই কথার রিবাটল দিতে গিয়ে আপনি যদি হিজাবকেই ‘নন ম্যান্ডেটরি’ বানিয়ে দেন তাহলে সিস্টেমে ঢুকে যাবার পরে আপনি সিস্টেমের কতটুকু কী চেঞ্জ করবেন আর সিস্টেম আপনার কতটুকু কী চেঞ্জ করবে তা নিয়ে আমরা শংকিত!

এমনকি র‍্যান্ড কর্পোরেশনের প্রেসক্রিপশন ফলো করা মডারেট মুসলিমরা পর্যন্ত হিজাবকে স্ট্রংলি ডিফেন্ড করে। That physical hijab, আপনি যেটাকে ‘ম্যান্ডেটরি নয়’ বলেছেন!

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, আপনি বলেছেন - ‘ইসলামে কোন কিছু (হিজাব) ম্যান্ডেটরি না, পর্দা ম্যান্ডেটরি’। ইসলামে কোন কিছুই যদি ম্যান্ডেটরি না হয় তাহলে ইসলাম আসলে কী!

কুরআনের কোন আয়াতেই ‘পর্দা’ উল্লেখ নেই। আপনি ‘পর্দা’ কনসেপ্ট কোথা থেকে পেলেন বলুন তো? সুন্নাহ থেকে রাইট? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানিতা স্ত্রীগণ কুরআনের আদেশে নিজেদের কেমন অবস্থায় রেখেছিলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসাল্লাম তাঁদের কীভাবে পর্দা শিখিয়েছেন এবং সর্বোত্তম ৩ প্রজন্ম আল্লাহ’র আদেশে, রাসুলের শিখিয়ে দেয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে তাঁদের বাস্তব জীবনে কীভাবে পর্দা মেনে চলেছেন, - সেটিই আমাদের কাছে পর্দার কনসেপ্ট। পর্দার হুকুম, পর্দার বিধান।

আপনার কথার অর্থ,- হিজাব ম্যান্ডেটরি না, পর্দা ম্যান্ডেটরি। আচ্ছা বলুন তো, ফিজিক্যাল হিজাব নন ম্যান্ডেটরি বানিয়ে দিয়ে আপনি পর্দা মেন্টেইন করবেন কীভাবে? ‘মনের পর্দা বড় পর্দা’ বা এই টাইপ কিছু?

দেখুন -

মতিউর রহমান আকন্দ (নির্বাহী পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী) বলেছেন, - 'জামায়াতে ইসলামী একটি লিবারেল পলিটিক্যাল ডেমোক্রেটিক অর্গানাইজেশন'- যদিও নামটি জামায়াতে ইসলামী’।

Then come on, atleast defend that much! Defend that liberal values!

কেউ আপনাদেরকে ইসলামকে ডিফেন্ড করার দোহাই দিচ্ছেনা, সত্যিই না! বরং সবাই চাচ্ছে, আপনারা প্লিজ ‘ইসলাম’ নাম নিয়ে ইসলামকে ডিফেন্ড করার অভিনয় বন্ধ করুন!

It doesn’t work, seriously!

Address

Tangail

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আলোর পথ ইসলাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share