তেজপুর আহলে হাদিস জামেমসজিদ

তেজপুর আহলে হাদিস জামেমসজিদ তেজপুর আহলে হাদিস জামেমসজিদ,
আসো সালাত প্রতিষ্ঠা করি

06/11/2025
আলহামদুলিল্লাহ্
06/11/2025

আলহামদুলিল্লাহ্

23/10/2025

প্রশ্ন: কাউকে ছোট করে কথা বা বলা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, ভিন্ন নামে ডাকা, বিভিন্ন ভাবে মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি?
▬▬▬▬▬▬▬▬▬❂▬▬▬▬▬▬▬▬▬
▪️ভূমিকা: পৃথিবীতে মানুষ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। (সূরা ত্বীন; ৪)। আমাদের আদি পিতা-মাতা আদম ও হাওয়া (আঃ)। তাঁদের থেকেই দুনিয়াতে মানুষ বিস্তার লাভ করেছে। (সূরা নিসা; ৪/১)। সে হিসাবে পৃথিবীর সকল মানুষ ভাই-ভাই। আদর্শিক দিক দিয়ে বিবেচনা করলে মুসলমানরা ইব্রাহীম (আঃ)-এর বংশধর। (সূরা হজ্জ; ২২/৭৮)। সুতরাং যেদিক দিয়েই বিবেচনা করা হোক না কেন পৃথিবীর সকল মানুষ পরস্পর ভাই-ভাই। তাই মানুষ একে অপরকে কিংবা এক মুসলমান অপর মুসলমানকে কষ্ট দিতে পারে না। কারণ পরস্পরকে কষ্ট দেওয়ার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ইসলামী শরীয়তে এক মুসলিম অপর মুসলিমকে ছোট করা অথবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলা অথবা বিভিন্ন কথা কাজের মাধ্যমে কষ্ট দেয়া হারাম, এটি কবিরা গুনাহ।মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে ইমানদারগণ! কোনও মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোনও মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরাও যেন অন্য নারীদেরকে উপহাস না করে। কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ উপাধি অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তওবা করে না তারাই তো যালিম।’ (সূরা আল-হুজুরাত; ১১)। ইমাম ইবনু কাছীর (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত আয়াতে وَ لَا تَنَابَزُوۡا بِالۡاَلۡقَابِ ‘আর তোমরা একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না’-এর ব্যাখ্যায় বলেন, لا تتداعوا بالألقاب ، وهي التي يسوء الشخص سماعها ‘তোমারা একে অপরকে এমন সব উপাধি দ্বারা ডাকাডাকি করো না যা সে শুনতে অপছন্দ করে।’ (তাফসীরে ইবনু কাছীর, ৭/৩৭৬ পৃ.)
অপর একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন,অপরাধ না করা সত্ত্বেও যারা মুমিন পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়,তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ (সূরা আহযাব; ৩৩/৫৮)
মুসলমানকে কষ্ট দিতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। আল্লাহ বলেন,وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوْا فَقَدِ احْتَمَلُوْا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِيْنًا، ‘অপরাধ না করা সত্ত্বেও যারা মুমিন পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়,তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।’ (আহযাব; ৩৩/৫৮)। মুমিনকে কষ্ট দিতে নিষেধ করে রাসূল (ﷺ) বলেন, হে ঐ জামা‘আত! যারা মুখে ইসলাম কবুল করেছ, কিন্তু অন্তরে এখনো ঈমান মযবুত হয়নি। তোমরা মুসলমানদের কষ্ট দিবে না, তাদের লজ্জা দিবে না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হবে না। কেননা যে লোক তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধানে নিয়োজিত হবে আল্লাহ তার গোপন দোষ প্রকাশ করে দিবেন। আর যে ব্যক্তির দোষ আল্লাহ প্রকাশ করে দিবেন তাকে অপমান করে ছাড়বেন, সে তার উটের হাওদার ভিতরে অবস্থান করে থাকলেও।’ (তিরমিযী হা/২০৩২; মিশকাত হা/৫০৪৪; সহীহুত তারগীব হা/২৩৩৯)
মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কয়েকটি মাধ্যম: মানুষকে প্রধানত কথা ও কাজের মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া হয়ে থাকে। কথার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া বলতে গালি দেওয়া, গীবত-তোহমত, চোগলখুরী করা, খোঁটা দেওয়া, তুচ্ছ জ্ঞান করা ইত্যাদি বোঝায়। আর কাজের মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া বলতে যুলুম করা, ধোঁকা-প্রতারণা, রাস্তা বন্ধ করা, সম্পদ জবর দখল করা ও হত্যা করা ইত্যাদি বুঝায়।

(ক). কথার মাধ্যমে কষ্ট দেওয়া: আঘাতের ক্ষত ও ব্যথা দ্রুত সেরে যায়। কিন্তু কথার মাধ্যমে দেওয়া আঘাত ও ক্ষতের নিরাময় সহজে হয় না। সেজন্য কবি বলেন, جِرَاحَاتُ السِّنَانِ لَهَا الْتِئَامُ * وَلاَ يَلْتَامُ مَا جَرَحَ اللِّسَانُ
তরবারির আঘাতের ক্ষতের প্রতিষেধক আছে, কিন্তু জিহবার ক্ষতের কোন প্রতিষেধক নেই।’ (তুহফাতুল আহওয়াযী ৭/১৭৩; মিরক্বাত ৩/৫৯ পৃঃ)। তাই কথার মাধ্যমে দেওয়া আঘাত মানুষ সবচেয়ে বেশী স্মরণে রাখে এবং এ আঘাত সর্বাধিক ব্যথাতুর হয়। কথার দ্বারা মানুষকে কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হলো।-
▪️(১). গালি দেওয়া: মানুষকে গালি দেওয়া হলে সে কষ্ট পায়। আর এটা কবীরা গোনাহ। পরকালে এর প্রতিকার হবে নেকী প্রদান বা গোনাহ বহনের মাধ্যমে। রাসূল (ﷺ) বলেন, سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ ‘মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী।’ (বুখারী হা/৪৮, ৬০৪৪, ৭০৭৬; মুসলিম হা/৬৪; মিশকাত হা/৪৮১৪)। মুসলমানকে গালি দেওয়া নিজেকে ধ্বংসে নিপতিত করার শামিল। রাসূল (ﷺ) বলেন, سَابُّ الْمُؤْمِنِ كَالْمُشْرِفِ عَلَى الْهَلَكَةِ، ‘মুসলমানকে গালি দেওয়া নিজেকে ধ্বংসের দিকে নিপতিত করার ন্যায়।' (বায্যার, সহীহুল জামে হা/৩৫৮৬; সহীহুত তারগীব হা/২৭৮০)
▪️(২). গীবত-তোহমত: গীবত-তোহমতের মাধ্যমেও মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়। গীবত অর্থ দোষচর্চা, পরনিন্দা। আর তোহমত অর্থ মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা। এ দু’টিই পরিবারে ও সমাজে নানা বিশৃঙ্ক্ষলা সৃষ্টির জন্য দায়ী।গীবত বা দোষচর্চা থেকে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوْهُ، ‘আর একে অপরের পিছনে গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করে? বস্ত্ততঃ তোমরা সেটি অপছন্দ করে থাক।’(হুজুরাত ৪৯/১২)। অনুরূপভাবে রাসূল (ﷺ) গীবত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আবু বারযাহ আসলামী (রাঃ) বলেন, يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يَدْخُلِ الإِيْمَانُ قَلْبَهُ لاَ تَغْتَابُوا الْمُسْلِمِيْنَ- ‘হে ঐসব লোক! যারা কেবল মুখে ঈমান এনেছ। কিন্তু তাদের হৃদয়ে ঈমান প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলমানদের গীবত করো না।’ (আবু দাঊদ হা/৪৮৮০; তিরমিযী হা/২০৩২; মিশকাত হা/৫০৪৪)। ক্বায়েস বলেন, আমর ইবনুল আছ (রাঃ) তার কতিপয় সঙ্গী-সাথীসহ ভ্রমণ করছিলেন। তিনি একটি মৃত খচ্চরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যা ফুলে উঠেছিল। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! কোন ব্যক্তি যদি পেট পুরেও এটা খায়, তবুও তা কোন মুসলমানের গোশত খাওয়ার চেয়ে উত্তম। (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/৭৩২, সনদ সহীহ)
▪️(৩). চোগলখুরী করা: মানুষকে কষ্ট দেওয়ার আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে চোগলখুরী করা। আর তা হচ্ছে দুই ভাই বা বন্ধুর মাঝে সম্পর্ক বিনষ্টের উদ্দেশ্যে একে অপরের কাছে পরস্পরের দোষ উল্লেখ করা। ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন-মিথ্যা অপবাদ কি জিনিস আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব না? তা হচ্ছে চোগলখুরী করা। জনসমক্ষে কারো সমালোচনা করা।’ (সহীহ মুসলিম হা/৬৮০২)। আরেকটি হাদীসে এসেছে, আব্দুর রহমান ইবনু গানম ও আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন- আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা, যাদেরকে দেখলে আল্লাহকে স্মরণ হয়। আর আল্লাহ তা‘আলার নিকৃষ্ট বান্দা তারা, যারা মানুষের পরোক্ষভাবে নিন্দা করে বেড়ায়, বন্ধুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং পূত-পবিত্র লোকেদের পদস্খলন প্রত্যাশা করে।’ (আহমাদ হা/১৭৯৯৮; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান হা/৬৭০৮; সহীহাহ হা/২৮৮৯; আল-আদাবুল মুফরাদ হা/২৪৬; সহীহুত তারগীব হা/২৮১৪; মিশকাত হা/৪৮৭১-৭২)। এমনকি ব্যক্তি চোগলখুরীর জন্য কবরে শাস্তি হয়। (বুখারী হা/২১৬; মুসলিম হা/২৯২; মিশকাত হা/৩৩৮)
▪️(৪).মন্দ নামে ডাকা: মানুষকে মন্দ নামে ডাকা তাকে কষ্ট দেওয়ার একটি অন্যতম মাধ্যম। যেটা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, আর তোমরা একে অপরকে মন্দ লকবে ডেকো না। বস্ত্ততঃ ঈমান আনার পর তাকে মন্দ নামে ডাকা হলো ফাসেকী কাজ। যারা এ থেকে তওবা করে না,তারা সীমালংঘনকারী।’ (হুজুরাত; ৪৯/১১)।
▪️(৫). উপহাস করা: কোন মানুষ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সবারই কোন না কোন দিক দিয়ে দুর্বলতা থাকে। তাই কোন মানুষকে উপহাস করা উচিত নয়। এতে মানুষ মনে অত্যন্ত কষ্ট পায়। এটা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন,‘হে বিশ্বাসীগণ! কোন সম্প্রদায় যেন কোন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে। হতে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম। আর নারীরা যেন নারীদের উপহাস না করে। হতে পারে তারা তাদের চাইতে উত্তম।’ (হুজুরাত; ৪৯/১১)।
▪️(৬). তুচ্ছজ্ঞান করা: কোন মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করলে বা হেয় ভাবলে সে যারপর নাই কষ্ট পায়। এ কাজ থেকে রাসূল (ﷺ) নিষেধ করেছেন এবং এর অশুভ পরিণতি বর্ণনা করেছেন। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন- কোন মুসলিমের উপর প্রত্যেক মুসলিমের জান-মাল ও ইয্যত-আব্রু হারাম। (মুসলিম হা/২৫৬৪; মিশকাত হা/৪৯৫৯; সহীহুত তারগীব হা/২৮৮৫)।তিনি আরো বলেন, إِنَّ مِنْ أَرْبَى الرِّبَا اسْتِطَالَةَ الْمَرْءِ فِي عِرْضِ أَخِيهِ. ‘সবচেয়ে বড় সূদ হলো অন্যায়ভাবে কোন মুসলিমের মানহানি করা। (আবু দাউদ হা/৪৮৭৬; সহীহাহ হা/১৪৩৩, ৩৯৫০; সহীহুল জামে‘ হা/২২০৩, ২৫৩১; সহীহুত তারগীব হা/২৮৩৩)
▪️(৭).মিথ্যা অপবাদ দেওয়া: মিথ্যা অপবাদ হলো কারো ব্যাপারে অন্যের নিকটে এমন কথা বলা যা তার মাঝে নেই। (সহীহ মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২৮)। কারো উপর মিথ্যা অপবাদ লাগিয়ে প্রচার করা কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আর মিথ্যা অপবাদকারীর শাস্তি হচ্ছে ৮০ বেত্রাঘাত। (সূরা নূর; ২৪/৪-৫)। ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত রয়েছে যে, সতীসাধ্বী নারীর উপর অপবাদ দেওয়ার শাস্তি পুরুষের উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। (ফৎহুল বারী; ১২/১৮১)। উল্লেখ্য, শরী‘আত নির্ধারিত হদ্দ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের, সাধারণভাবে অন্যদের নয়।
▪️(৮). কুধারণা করা: কোন মানুষের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা সমীচীন নয়। কেননা এতে মানুষ কষ্ট পায়। বরং মুমিনের প্রতি সুধারণা পোষণ করা কর্তব্য। আল্লাহ বলেন,বিশ্বাসীগণ! তোমরা অধিক ধারণা হতে বিরত থাক। নিশ্চয়ই কিছু কিছু ধারণা পাপ।’ (হুজুরাত; ৪৯/১২)।
▪️(৯).খোঁটা দেওয়া: পৃথিবীর সকল মানুষকে আল্লাহ সমান করে সৃষ্টি করেননি। বরং কাউকে ধনী,কাউকে দরিদ্র করেছেন। আল্লাহ বলেন, وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ، ‘আর তোমরা এমন সব বিষয় আকাঙ্ক্ষা করো না, যেসব বিষয়ে আল্লাহ তোমাদের একের উপর অপরের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন।’ (নিসা; ৪/৩২)। সুতরাং ধনী-দরিদ্রের এ মর্যাদাগত পার্থক্য আল্লাহ করে দিয়েছেন। তাই ধনীরা দরিদ্রদের দান করে খোঁটা দিলে তারা অন্তরে কষ্ট পায়। মানুষকে কষ্ট দেওয়ার এটা একটা অন্যতম মাধ্যম। তিন ব্যক্তির সাথে ক্বিয়ামত দিবসে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের প্রতি তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। তার মধ্যে খোঁটা দানকারী একজন। (মুসলিম হা/১০৬; মিশকাত হা/২৭৯৫)
▪️(১০). দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করা: পৃথিবীতে দোষ-ত্রুটি মুক্ত কোন মানুষ নেই। সুতরাং নিজের মাঝে দোষ রেখে অপরের ত্রুটি খুঁজতে যাওয়া বোকামী বৈকি?কিন্তু মানুষ অপরের দোষ খুঁজে বের করে নিজে শান্তি অনুভব করে। কেউ কেউ অন্যের দোষ খুঁজে বের করাকে কৃতিত্ব ভাবে। এ কাজ মানুষকে যারপরনাই কষ্ট দেয়। অপরের দোষ খোঁজা কিছু কিছু মানুষের স্বভাব। যেমন রাসূল (ﷺ) বলেন,يُبْصِرُ أحَدُكُمُ الْقَذَاةَ فى عَيْنِ أخِيهِ، وَيَنْسَى الْجِذْعَ فِيْ عَيْنهِ، ‘তোমাদের কেউ তার (মুসলিম) ভাইয়ের চোখে পতিত সামান্য ময়লাটুকুও দেখতে পায়,কিন্তু নিজ চোখে পতিত খড়-কুটাও (অধিক ময়লা) দেখে না।’ (সহীহ ইবনে হিব্বান হা/৫৭৬১; সহীহাহ হা/৩৩; আদাবুল মুফরাদ হা/৫৯২)। মানুষের দোষ-ত্রুটি খুঁজতে রাসূল (ﷺ) নিষেধ করেছেন এবং এর মন্দ পরিণতি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, 'তোমরা দোষ-ত্রুটি তালাশ করবে না। কারণ যারা তাদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়াবে আল্লাহও তাদের দোষ-ত্রুটি খুঁজবেন। আর আল্লাহ কারো দোষ-ত্রুটি তালাশ করলে তাকে তার ঘরের মধ্যেই অপদস্থ করে ছাড়বেন।' (আবু দাউদ হা/৪৮৮০; তিরমিযী হা/২০৩২; সহীহুল জামে‘ হা/২৩৩৯)
▪️(১১). শত্রুতা পোষণ করা: মানুষ একে অপরকে ভাই মনে করবে এবং মুমিনও পরস্পরকে ভাই ভাববে এটাই তার করণীয়। কিন্তু কোন ক্রমেই একে অপরের সাথে শত্রুতা পোষণ করা কিংবা শত্রু ভাবা সমীচীন নয়। এগুলি মানুষকে কষ্ট দেয়। তাই এসব পরিহার করতে হবে। আল্লাহ বলেন, শয়তান তো কেবল চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত হতে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব এক্ষণে তোমরা নিবৃত্ত হবে কি?(সূরা মায়েদাহ; ৫/৯১)। মুসলিম ভ্রাতৃত্ব সম্পর্কে রাসূল (ﷺ) বলেন, পারস্পরিক ভালোবাসা, সহানুভূতি ও মায়া-মমতার দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা মুসলিম জাতি একটি দেহের সমতুল্য। যখন তার একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়,তখন তার গোটা শরীর জ্বর ও উত্তাপ অনুভব করে।’ (মুসলিম হা/২৫৮৫; সহীহাহ হা/১০৮৩; সহীহুল জামে‘ হা/৫৮৪৯)
▪️(১২).যুলুম করা: যুলুম অর্থ অন্যায়,অবিচার,
নিপীড়ন ইত্যাদি। এটা হক বা ন্যায়ের বিপরীত। পরিভাষায় কোন বস্ত্তকে তার অনুপযুক্ত স্থানে রাখা।(রাগেব ইছফাহানী, মুফরাদাতু আলফাযিল কুরআন, পৃঃ ৫৩৭) কেউ কেউ বলেন,যুলুম হচ্ছে অন্যের মালিকানায় হস্তক্ষেপ বা সীমালংঘন করা।(আল-জুরজানী, আত-তা‘রিফাত, পৃঃ ১৮৬)।যুলুমের শাস্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, وَمَنْ يَظْلِمْ مِنْكُمْ نُذِقْهُ عَذَابًا كَبِيْرًا، ‘বস্ত্ততঃ তোমাদের মধ্যে যারা সীমালংঘন করবে,আমরা তাদের বড় শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব।’ (ফুরক্বান; ২৫/১৯)। তিনি আরো বলেন, وَالظَّالِمُوْنَ مَا لَهُمْ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا نَصِيْرٍ، ‘আর যালেমদের কোন বন্ধু নেই বা কোন সাহায্যকারী নেই।’ (শূরা; ৪২/৮)। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ বলেন, হে আমার বান্দাগণ! আমি আমার ওপর যুলুম করাকে হারাম করে দিয়েছি। তাই আমি তোমাদের জন্যও যুলুম করা হারাম করে দিলাম। অতএব তোমরা (পরস্পরের প্রতি) যুলুম করো না।’ (মুসলিম হা/২৫৭৭; সহীহুল জামে‘ হা/৪৩৪৫; মিশকাত হা/২৩২৭)
পরিশেষে, কথা বা কাজ যে কোন মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। কেননা এসব বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট পাপ ও কবীরা গোনাহ। এসব পাপ থেকে বিরত না থাকলে পরকালে নেকী দিয়ে প্রায়শ্চিত্য করতে হবে। কিংবা যাদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে তাদের গোনাহ কষ্টদানকারীর উপরে বর্তাবে। অবশেষে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হতে হবে। তাই আল্লাহ আমাদের সকলকে ঐ পাপ থেকে হেফাযত করুন-আমীন! সংকলিত (আল্লাহই সবচেয়ে জ্ঞানী)
__________________________
উপস্থাপনায়,
জুয়েল মাহমুদ সালাফি

22/10/2025

নিজের গুনাহ ভুলে অন্যের গুনাহ বিচার করা – ইসলামের দৃষ্টিতে সতর্কবার্তা

ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে, প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো নিজের আমলকে ঠিক করা। যখন একজন মানুষ নিজের গুনাহের ওজনই সামলাতে পারে না, তখন অন্যের গুনাহ নিয়ে ব্যস্ত হওয়া কেবল সময়ের অপচয়ই নয়, বরং তা অহংকার ও আত্মপ্রবঞ্চনার লক্ষণ।

📖 কুরআনের নির্দেশ:
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন –

> “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ব্যাপারে মনোযোগ দাও। তোমরা সৎপথে থাকলে পথভ্রষ্ট লোকেরা তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”
(সুরা মায়িদা: ১০৫)

এই আয়াত আমাদের শেখায় যে, প্রথমে নিজের সংশোধনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

🕌 রাসূল ﷺ এর হাদিস:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন –

> “যে ব্যক্তি নিজের দোষ ভুলে অন্যের দোষ খোঁজে, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত।”
(আবু দাউদ)

এটি স্পষ্ট করে যে, নিজের গুনাহের বোঝা বহন করেই একজন মানুষ যথেষ্ট ব্যস্ত থাকার কথা। অন্যের গুনাহ নিয়ে মন্তব্য করা যেন একপ্রকার বিলাসিতা, যা প্রকৃত মু’মিনের বৈশিষ্ট্য নয়।

✨ শিক্ষা:

নিজের গুনাহ নিয়ে তাওবা করা সর্বাগ্রে জরুরি।

অন্যের দোষ প্রকাশ নয়, বরং গোপন রাখা উত্তম।

আত্মসমালোচনা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা আমাদের প্রকৃত দায়িত্ব।

📌 উপসংহার:
যেখানে নিজের গুনাহের ওজন অনেক বেশি, সেখানে অন্যের গুনাহ নিয়ে আলোচনা করা বা সমালোচনা করা কেবল হৃদয়কে কঠিন করে তোলে। তাই মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো প্রথমে নিজেকে ঠিক করা, তাওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং অন্যের জন্য দুআ করা।

08/10/2025

🌿 দানের মর্যাদা ও ফেরত নেওয়ার ঘৃণ্যতা 🕊️
— “যে দান ফিরিয়ে নেয়, সে যেন কুকুর যে বমি খায়” —

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —

> “যে ব্যক্তি দান করে তা পুনরায় ফেরত নেয়, সে কুকুরের মতো — যে বমি করে পুনরায় ফিরে এসে তা গলাধঃকরণ করে।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস নং ২৩৯১)

💫 হাদীসের অর্থ ও শিক্ষা:

এই হাদীসটি দানের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আন্তরিকতার গভীর শিক্ষা দেয়।
দান এমন একটি ইবাদত যা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পন্ন করতে হয়। একবার দান করলে, তা চিরতরে আল্লাহর পথে ছেড়ে দেওয়া উচিত।
কিন্তু কেউ যদি দান করার পর আবার সেই জিনিস ফেরত নিতে চায়, তাহলে সে আসলে দানের পবিত্রতা নষ্ট করে ফেলে — আর তার এই কাজকে রাসূল ﷺ ঘৃণিত এক প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

🌸 ইসলামী বিশ্লেষণ:

1. দান ইমানের প্রতিফলন:
দান মানে নিজের ভালো কিছু আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেওয়া। এটি কেবল সম্পদ নয়, বরং মন ও আত্মার এক প্রশিক্ষণ — যাতে মানুষ লোভ, অহংকার ও কৃপণতা থেকে মুক্ত হয়।

2. ফেরত নেওয়া মানে আত্মাকে কলুষিত করা:
যখন কেউ দান ফিরিয়ে নেয়, সে আসলে নিজের কাজকে নিজেই নষ্ট করে। কুরআনে আল্লাহ বলেন —

> “হে মুমিনগণ! তোমরা তোমাদের দান-সদকা নষ্ট করো না উপকারের কথা স্মরণ করিয়ে বা কষ্ট দিয়ে।”
(সূরা আল-বাকারা : ২৬৪)

অর্থাৎ, দান শুধু দেওয়া নয় — সেই দানকে সম্মানিত রাখাও ঈমানের অংশ।

3. কেন ‘কুকুরের’ উপমা দেওয়া হয়েছে:
ইসলাম কোনো প্রাণীকে অপমান করার জন্য নয়, বরং অভ্যাসের ঘৃণ্যতার তুলনা বোঝাতে এই উপমা ব্যবহার করেছে। যেমন কুকুর নিজের বমিতে ফিরে আসে, তেমনি দান ফেরত নেওয়া মানুষও নিজেই নিজের মান ও আমলকে কলুষিত করে ফেলে।

🌿 দানের আদব ও করণীয়:

দান করার আগে নিয়ত ঠিক করুন — “এটি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য”।

দানের পর তা নিয়ে আর কথা না বলা, গর্ব না করা।

দানকারীর উচিত বিনয়ী থাকা এবং দানপ্রাপ্তের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা।

দান ফেরত চাওয়াকে আল্লাহর অসন্তোষের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা।

🕊️ উপসংহার:

দান এমন এক ইবাদত যা আল্লাহর কাছ থেকে নেয়া বরকতকে বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু তা ফেরত নিলে বরকত ও সওয়াব হারিয়ে যায়।
অতএব, আমাদের উচিত দানকে হৃদয়ের ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা —
যাতে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি, এবং সেইসব মানুষের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি যাদের সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে —

> “যারা আল্লাহর পথে দান করে, তাদের জন্য রয়েছে মহান প্রতিদান।”
(সূরা আল-বাকারা : ২৭৭)

05/10/2025

আশার আলো:
ভবিষ্যৎ হবে তোমার জন্য উত্তম

> 🌼 “তোমার বর্তমান যতই কঠিন হোক না কেন, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি — তোমার ভবিষ্যৎ হবে আরও উত্তম।” 🌼
(সূরা আদ্-দুহা: ৪)

📖 আল্লাহ তাআলা বলেন:

> وَلَلْآخِرَةُ خَيْرٌ لَّكَ مِنَ الْأُولَىٰ
“আর অবশ্যই তোমার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উত্তম।”
(সূরা আদ্-দুহা, আয়াত ৪)

🌿 প্রেক্ষাপট ও অর্থ:

এই আয়াতটি আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-কে সান্ত্বনা ও আশা দেওয়ার জন্য নাজিল করেন। কিছু সময়ের জন্য যখন ওহি নাযিল বন্ধ ছিল, নবীজি ﷺ গভীরভাবে ব্যথিত হন। তখন আল্লাহ তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন — “তোমার বর্তমান দুঃখ, কষ্ট, একাকিত্ব — সবকিছুর পর তোমার জন্য অপেক্ষা করছে আরও উত্তম ভবিষ্যৎ।”

এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, মু’মিনের জীবন কখনো হতাশার নয়; বরং প্রতিটি কষ্টের পর রয়েছে আরাম, প্রতিটি অন্ধকারের পর রয়েছে আলো।

🌺 ইসলামের আলোকে বিশ্লেষণ:

🔹 ১. কষ্ট অস্থায়ী, রহমত স্থায়ী:
আল্লাহর পরিকল্পনায় কখনো কখনো আমরা পরীক্ষা দিই — যেন আমাদের ঈমান, ধৈর্য ও আস্থা দৃঢ় হয়।

> আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে রয়েছে স্বস্তি।” (সূরা ইনশিরাহ ৯৪:৬)

🔹 ২. আখিরাতই আসল গন্তব্য:
“পরবর্তী সময়” অর্থ কেবল দুনিয়ার ভবিষ্যৎ নয়, বরং আখিরাতও বোঝানো হয়েছে — যেখানে নবী ﷺ এবং তাঁর অনুসারীদের জন্য রয়েছে অশেষ পুরস্কার ও শান্তি।

🔹 ৩. আল্লাহর বান্দা কখনো নিরাশ হয় না:
এই আয়াত প্রত্যেক বিশ্বাসীর জন্য এক অশেষ আশার বার্তা — যদি আজ কঠিন সময়ও আসে, আগামীকাল আল্লাহর রহমতে তা উত্তমে পরিণত হবে।

🌷 শিক্ষণীয় বার্তা:

👉 জীবনে যত বিপদই আসুক, কখনো নিরাশ হয়ো না।
👉 আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখো — কারণ তিনি সবকিছুর উত্তম পরিকল্পনাকারী।
👉 কষ্টের সময় এই আয়াতটি স্মরণ করো; এতে হৃদয়ে প্রশান্তি ও আশার সঞ্চার হবে।

✨ কষ্টে ধৈর্য, বিলাসে সতর্কতা – ইসলামের দৃষ্টিতে ✨ইসলাম আমাদের শেখায় যে দুনিয়ার জীবন কখনো স্থায়ী নয়। সুখ ও দুঃখ, কষ্...
04/10/2025

✨ কষ্টে ধৈর্য, বিলাসে সতর্কতা – ইসলামের দৃষ্টিতে ✨

ইসলাম আমাদের শেখায় যে দুনিয়ার জীবন কখনো স্থায়ী নয়। সুখ ও দুঃখ, কষ্ট ও স্বাচ্ছন্দ্য—সবই আল্লাহর পরীক্ষা। তাই মুসলিমকে কষ্টের সময় ধৈর্য ধরতে এবং বিলাসিতায় মগ্ন না হয়ে কৃতজ্ঞ থাকতে শেখানো হয়েছে।

🔹 কুরআনের আলোকে:
আল্লাহ বলেন:
“আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ, প্রাণ ও ফলের ক্ষতি দ্বারা; আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৫৫)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে কষ্ট-দুঃখ জীবনের অংশ এবং এতে ধৈর্য ধরা ঈমানের নিদর্শন।

🔹 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শিক্ষা:
তিনি বলেছেন:
“দুনিয়াতে তুমি এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন পথিক বা পথের যাত্রী।”
(সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৪১৬)
অর্থাৎ, দুনিয়াতে বিলাসিতা নয় বরং পরকালের প্রস্তুতিই আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

🔹 বিলাসিতার সীমাবদ্ধতা:
যে ব্যক্তি বিলাসিতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, সে সামান্য কষ্টেই ভেঙে পড়ে। কিন্তু যে ব্যক্তি জীবনের কষ্টকে সহ্য করতে শিখে, তার অন্তর দৃঢ় হয় এবং সে আল্লাহর উপর ভরসা করতে শেখে।

✅ মূল শিক্ষা:
নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করো যাতে কষ্টের সময় ধৈর্যশীল ও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে পারো। কারণ দুনিয়ার বিলাসিতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু পরকালের পুরস্কার চিরস্থায়ী।

📖  #পরিবর্তনের সূচনা নিজেকে দিয়ে – ইসলামের আলোকে বিশ্লেষণইসলাম মানুষের জীবনকে একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দেয়। এর অন্য...
04/10/2025

📖 #পরিবর্তনের সূচনা নিজেকে দিয়ে – ইসলামের আলোকে বিশ্লেষণ

ইসলাম মানুষের জীবনকে একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দেয়। এর অন্যতম শিক্ষা হলো— সংশোধন শুরু করতে হবে নিজেকে দিয়ে। অন্যদের সৎকাজে আহ্বান করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু যদি আমরা নিজের জীবনেই সেই শিক্ষার প্রতিফলন না ঘটাই, তবে আমাদের কথা প্রভাব হারাবে।

🔹 কুরআনের শিক্ষা:
আল্লাহ বলেন –

> “তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মে নির্দেশ দাও এবং নিজেদেরকে ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব তিলাওয়াত কর? তবে কি তোমরা চিন্তা করবে না?”
📖 (সুরা বাকারা: ৪৪)

এ আয়াত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, দাওয়াত দেওয়ার আগে বা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের আমল শুদ্ধ করা অপরিহার্য।

🔹 রাসূল ﷺ এর শিক্ষা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন –

> “কিয়ামতের দিন এমন কিছু মানুষকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে যাদের অন্ত্র বের হয়ে যাবে এবং তারা সেই অন্ত্র নিয়ে গাধার মতো ঘুরতে থাকবে। তখন জাহান্নামের মানুষ জিজ্ঞাসা করবে: ‘এটা কি তুমি নও, যে দুনিয়াতে সৎকাজের নির্দেশ দিত আর নিজে তা পালন করতে না?’ সে বলবে: ‘হ্যাঁ, আমি সৎকাজের নির্দেশ দিতাম কিন্তু নিজে করতাম না।’”
📚 (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)

এ হাদিস আমাদের শেখায় যে, কথার সাথে কাজের মিল না থাকলে তা বড় গুনাহে পরিণত হতে পারে।

🔹 ব্যক্তিগত পরিবর্তনের গুরুত্ব:

নিজের জীবনকে ইসলামের আলোকে সাজানো

নিয়মিত আত্মসমালোচনা করা

অন্যদের জন্য দাওয়াতকে দায়িত্ব মনে করা, কিন্তু নিজের উপর তা প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া

🔹 প্রয়োগিক শিক্ষা:
✅ আগে নিজে নামাজ প্রতিষ্ঠা করুন, তারপর অন্যকে নামাজের কথা বলুন।
✅ আগে নিজের আচরণ সুন্দর করুন, তারপর অন্যকে ভালো আচরণের শিক্ষা দিন।
✅ আগে নিজের অন্তরে তাকওয়া আনুন, তারপর অন্যকে তাকওয়ার দাওয়াত দিন।

উপসংহার:
পরিবর্তনের শুরু নিজেকে দিয়ে করাই প্রকৃত দাওয়াতের মূল। যখন মানুষ দেখে যে দাওয়াতদাতা নিজেই তার কথার বাস্তব উদাহরণ, তখন তার কথা অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। তাই মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রথম কর্তব্য হলো নিজেকে শুদ্ধ করা, তারপর সমাজকে শুদ্ধ করার জন্য কাজ করা।

🔖 কিয়ামতের দিন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাক্ষ্য – মানুষের সামনে নিজের আমল প্রকাশইসলাম আমাদের বিশ্বাস করায় যে কিয়ামতের দিন প্র...
18/09/2025

🔖 কিয়ামতের দিন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাক্ষ্য – মানুষের সামনে নিজের আমল প্রকাশ

ইসলাম আমাদের বিশ্বাস করায় যে কিয়ামতের দিন প্রতিটি মানুষকে তার কর্মফল দেখানো হবে। সেই দিন শুধুমাত্র মুখের কথা বা অজুহাত নয়, বরং মানুষের নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গই তার আমলের সাক্ষ্য দেবে। কুরআনের একাধিক আয়াতে আল্লাহ তা‘য়ালা এই ভয়ংকর ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

---

📖 কুরআনের স্পষ্ট ঘোষণা:

১️⃣ সূরা ইয়াসীন (৬৫):

> “আজ আমি তাদের মুখে মোহর মেরে দেব, তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে তারা যা করত।”

২️⃣ সূরা নূর (২৪):

> “যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহবা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে।”

এই আয়াতগুলো বোঝায় যে কিয়ামতের দিন মানুষকে মিথ্যা বলার সুযোগ দেওয়া হবে না। যদি তারা অস্বীকার করে, আল্লাহ তাদের মুখ বন্ধ করে দেবেন এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিজেদের অপরাধ প্রকাশ করবে।

---

🕌 হাদিসের আলোকে:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন –

> “কিয়ামতের দিন মানুষের হাত, পা, এবং ত্বক তাদের আমলের সাক্ষ্য দেবে।”
(সহিহ মুসলিম)

এটি প্রমাণ করে যে কোনো গোপন কাজ গোপন থাকবে না। যা আমরা গোপনে করি – ভালো বা মন্দ – সবই প্রকাশ পাবে।

---

🌱 ইসলামিক শিক্ষা:

1. কোন কাজ গোপন নয়:

দুনিয়ায় মানুষ যা করে, তা আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়।

এমনকি গোপনে করা পাপও কিয়ামতের দিন প্রকাশিত হবে।

2. দায়িত্বশীল জীবনযাপন:

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একদিন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে—এটি মনে রেখে আমরা পাপ থেকে বিরত থাকতে পারি।

হাত, চোখ, কান, জিহবা—সবই আমাদের জন্য আমানত।

3. সৎকাজের সাক্ষ্যও থাকবে:

যেমন খারাপ কাজ প্রকাশ হবে, তেমনি ভালো কাজের সাক্ষ্যও দেওয়া হবে।

তাই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা ছোট কাজকেও হেলাফেলা করা উচিত নয়।

---

⚖️ মূল শিক্ষা ও উপসংহার:

কিয়ামতের দিন মানুষের সবচেয়ে বড় অনুশোচনা হবে যে তার নিজের শরীর তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিটি অঙ্গকে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যবহার করতে হবে। হাতকে অন্যায় থেকে বিরত রাখা, চোখকে হারাম দৃশ্য থেকে বাঁচানো, জিহবাকে মিথ্যা ও গীবত থেকে রক্ষা করা – এগুলোই প্রকৃত তাকওয়ার পরিচয়।

📌 উপসংহার:
যে ব্যক্তি সর্বদা সচেতন থাকে যে একদিন তার নিজের শরীর তার সাক্ষী হবে, সে দুনিয়াতে সাবধানতার সাথে জীবনযাপন করে। এই আয়াতগুলো আমাদের জন্য সতর্কবার্তা এবং একই সাথে নেক কাজের জন্য উৎসাহ। তাই আমাদের উচিত গোপন ও প্রকাশ্য সব কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা, যাতে সেই দিন আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আমাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়।

تَقَبَّلَ اللّهُ مِنَّ وَ مِنْكُمْ "তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।আসসালামু আলাইকুম সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ...
30/03/2025

تَقَبَّلَ اللّهُ مِنَّ وَ مِنْكُمْ
"তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।
আসসালামু আলাইকুম সবাইকে
পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা🏵️

তেজপুর,কালিহাতী টাংগাইল।
নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে
সকাল ৮:৩০মিনিটে ইংশাআল্লহ।
নির্ধারিত সময়ে সকল মুসল্লিদেরকে উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান করা হইল।

Address

তেজপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল
Tangail
1973

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তেজপুর আহলে হাদিস জামেমসজিদ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category