The Voice of Islam -AFRF

The Voice of Islam -AFRF আসসালামু আলাইকুম । ইসলামকে সঠিক ভাবে জানতে লাইক দিয়ে আমাদের পাশে থাকুন ।

03/03/2022

প্রশ্নঃহাদীস কাকে বলে? হাদীস কি শরীয়তের উৎস? যারা নিজেকে ‘আহলে কুরআন’ দাবী করে বলে, আমরা কেবল কুরআন মানব, হাদীস মানব না।শরীয়তে তাদের বিধান কি?
____________🔰🔰🔰____________
হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা।
বাণী, সংবাদ, বিষয়, অভিনব ব্যাপার ইত্যাদি ।
ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম (ﷺ) আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়।সাহাবায়ে কিরামের কথা, কাজ ও সমর্থনকেও হাদীস বলা হয়, ইমাম নববী এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন যাতে কোন সাহাবীর কথা কাজ কিংবা অনুরূপ কিছু বর্ণিত হয়-তা পর পর মিলিত বর্ণনাকারীদের দ্বারা বর্ণিত হোক কিংবা মাঝখানে কোন বর্ণনা কারীর অনুপস্থিতি ঘটুক তা ‘মওকুফ হাদীস’।অবশ্য পরে উসুলে হাদীসে তাঁদের কথা, কাজ ও সমর্থনের নাম দেয়া হয়েছে ‘আসার’ এবং হাদীসে মওকুফ’।

ইসলামী শরী‘আতের প্রধান দু’টি উৎস হল, পবিত্র কুরআন এবং সহীহ হাদীস, যা মুসলিম মিল্লাতের মূল সম্পদ। প্রত্যেক মুসলিমের জানা আবশ্যক যে, কুরআনে কারীম ও সহীহ হাদীস দু’টিই আল্লাহ তা‘আলার ওহী। উভয়ের উপর সমানভাবে ঈমান আনয়ন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয। কুরআনকে বলা হয় অহিয়ে মাতলূ, যা পাঠ করা হয়। আর হাদীসকে বলা হয় অহিয়ে গায়রে মাতলূ। দু’টিই আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া বিধান [সূরা আন-নাজম : ৩-৪]

তাছাড়া ছাহাবায়ে কেরাম হাদীসকে আল্লাহ প্রেরিত ‘ওহী’ হিসাবেই বিশ্বাস করতেন [সহীহ বুখারী, হা/৭৩১০; মিশকাত, হা/১৭৫৩]

তাই হাদীসের প্রতি আমল না করে কেউ মুমিন হতে পারে না। এজন্য প্রত্যেক মুসলিমকে হাদীছ ও তার সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়া অপরিহার্য [সূরা আলি ‘ইমরান : ৩১; সূরা আন-নিসা : ৬৫, ৮০; সূরা আল-হাশর : ৭]

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত মতানুযায়ী আহলে কুরআন বা হাদীস অস্বীকারকারীরা কাফির। কারণ কুরআনের অনুসারীদের উপর হাদীস মানাও ফরয। হাদীসের সত্যতা ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করে কেউ আহলে কুরআন হতে পারে না। বুঝা যাচ্ছে যে, ‘আহলে কুরআন’ নামক দলটি কুরআন-সুন্নাহ তথা শরী‘আতের দলীলাদি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। তারা কুরআনের কিছুই বুঝে না। মূলত হাদীছ হল কুরআনের নির্ভুল ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং রাসূল (ﷺ)-এর আদর্শ, কর্মনীতি ও শরী‘আতের বিস্তৃত বিবরণ। হাদীস ছাড়া কুরআন বুঝা কোনক্রমেই সম্ভব নয়।তাই যারা নিজেদেরকে ‘আহলে কুরআন’ দাবী করে, তারা মিথ্যুক, পথভ্রষ্ট ও ধোঁকাবাজ। এরাই প্রচার করছে যে, শুধু কুরআন মানতে হবে হাদীস মানা যাবে না। কারণ হাদীসের মধ্যে সহীহ, যঈফ, জাল ইত্যাদি ভাগ রয়েছে। এই অজ্ঞতাপূর্ণ যুক্তির কুপ্রভাব এখন সর্বত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা হাদীস ও সুন্নাতের ব্যাপারে যুবকদের মধ্যে সন্দেহের তীর ছুড়ে মারছে। কূটকৌশলের মাধ্যমে তারা এই মিথ্যা দাবী প্রচার করছে। অথচ তারা অধিকাংশই অশিক্ষিত ও কুরআন-সুন্নাহর ইলম সম্পর্কে নিম্নশ্রেণীর জাহেল।এদের ভ্রান্ত মতবাদ সম্পর্কে

রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘জেনে রাখ! আমাকে কুরআন এবং তার সঙ্গে অনুরূপ কিছু দেয়া হয়েছে। জেনে রাখ! এমন এক সময় আসবে যখন কোন প্রাচুর্যবান ব্যক্তি তার আসনে বসে বলবে, তোমরা শুধু এ কুরআনকেই আঁকড়ে ধর, তাতে যা হালাল পাবে তাকে হালাল হিসাবে এবং যা হারাম পাবে তাকে হারাম হিসাবে গ্রহণ কর। নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘জেনে রাখ! গৃহপালিত গাধা তোমাদের জন্য হালাল নয় এবং ছেদন দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র পশুও নয়’[আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৪-৪৬০৫; তিরমিযী, হা/২৬৬৩-২৬৬৪, সনদ হাসান]

সমাজে আহলে কুরআনদের মত আরেক শ্রেণীর লোক আছে যারা মাযহাব বা তরীক্বার দোহাই দিয়ে হাদীস অস্বীকার করে থাকে। যে সমস্ত হাদীস মাযহাবী ফৎওয়ার বিরোধী, সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করার অস্ত্র হিসাবে তারা অনেক মিথ্যা উছূল তৈরি করেছে [হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৮৮] এই মারণাস্ত্র দিয়ে বহু হাদীসকে পিষ্ট করেছে, হাদীছের আমলকে সমাজ থেকে উঠিয়ে দিয়েছে, হাদীসের উপর গবেষণা বন্ধ করে দিয়েছে। এরা মাযহাবী গোঁড়ামিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে রাসূলের হাদীসের উপর ছুরি চালিয়েছে এবং ধর্মের আড়ালে রাসূল (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এদের সংখ্যাই বেশি।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,আর তিনি মনগড়া কোন কথা বলেন না। তা তো অহী, যা তাঁর প্রতি অহী করা হয়’ [সূরা আন-নাজম : ৩-৪]

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমাত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না, তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আর তোমার প্রতি আল্লাহর মহা অনুগ্রহ রয়েছে’ [সূরা আন-নিসা : ১১৩; সূরা আলি ‘ইমরান : ১৬৪]

উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইমাম ত্বাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আমি কুরআনুল কারীমের অগণিত বিশেষজ্ঞের নিকটে শুনেছি, তাঁরা বলেছেন, এখানে ‘কিতাব’ বলতে কুরআনুল কারীমকে বুঝানো হয়েছে আর ‘হিকমাত’ বলতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাতকে বুঝানো হয়েছে’ [আহকামুল কুরআন, ১/২৮ পৃ.; আর-রিসালাহ, পৃ. ৪৫; তাফসীরে ত্বাবারী, ১/৫৫৭-৫৫৮ পৃ.]

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কুরআনের মত হাদীছও অহীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছে। পার্থক্য শুধু এতটুকুই যে, হাদীসকে কুরআনের মত তিলাওয়াত করা হয় না’ [মাজমূঊল ফাতাওয়া, ১৩/৩৬৩ পৃ.]

খাত্বীব আল-বাগদাদী (রাহিমাহুল্লাহ) ও হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘আল্লাহর আদেশে যেভাবে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) নবী (ﷺ)-এর নিকট কুরআন নিয়ে অবতরণ করতেন, ঠিক এভাবেই তাঁর উপর সুন্নাত নিয়েও অবতরণ করতেন’ [আল-কিফায়াহ, পৃ. ১২; ফাৎহুল বারী, ১৩/২৯১ পৃ.; ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ফৎওয়া নং-৭৭২৪৩]

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘হাদীস অস্বীকারকারীদের ধ্বংস অনিবার্য’ [শারহু উছূলি ‘ইতিক্বাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ৪৭৮]

ইমাম ইসহাক্ব ইবনু রাহওয়াইহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যার কাছে রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন একটি ছহীহ হাদীস পৌঁছেছে, অতঃপর সে কোন ভয়ের আশঙ্কা ছাড়াই তাকে অস্বীকার করেছে, তবে সে নিশ্চিতরূপে কাফির’ [ইসলাম সাওয়াল ওয়া জাওয়াব, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ১৯, ফৎওয়া নং-১১৫১২৫]

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা মনে করে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করা অপরিহার্য নয়, তারা কাফির, তাদের হত্যা করা অপরিহার্য’
[আল-ওয়াসিয়্যাতুল কুবরা লি ইবনি তাইমিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩১৫]

ইমাম সুয়ূত্বী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসকে অস্বীকার করে তারা কাফির এবং তারা ইসলামের গণ্ডি ও চৌহদ্দি থেকে বের হয়ে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান অথবা অন্য কোন ধর্মের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে
[মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ, পৃ. ১৪]

ইমাম ইবনু দাক্বীক্ব ঈদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীস প্রমাণিত হওয়ার পরেও যারা তা প্রত্যাখ্যান করে তারা স্পষ্ট কাফির’ [শারহুল ইলমাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ১৭৭-১৭৮]

ইমাম ইবনু হায্ম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি বলে, আমরা শুধু কুরআনের বিধানই মানব, হাদীস মানব না, তবে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির’
[আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ৮০]

শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘যারা সুন্নাতকে অস্বীকার করে তারা কাফির ও স্বধর্মত্যাগী। কেননা সুন্নাতকে অস্বীকার করা কুরআনকে অস্বীকার করার নামান্তর। যে কিতাব ও সুন্নাতকে অস্বীকার করে অথবা এর কোন একটিকে সে সর্বসম্মতিক্রমে কাফির। অবশ্যই তাকে এ সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করা দরকার’ [ইবনু বায, মাজমূঊ ফাতাওয়া, ২য় খণ্ড, পৃ. ৪০৩ ও ৯ম খণ্ড, পৃ. ১৭৬-১৭৮]

সঊদী আরবের স্থায়ী ফাতাওয়া কমিটি বলেন, ‘যারা সুন্নাত অনুযায়ী আমল করাকে অস্বীকার করে তারা কাফির’ [ফাতাওয়া আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ, ৩য় খণ্ড, পৃ. ১৯৪ ও ৫ম খণ্ড, পৃ. ১৯-২০]
দলীল হিসাবে তাঁরা নিন্মের হাদীসদ্বয় উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِيْ فَلَيْسَ مِنِّيْ ‘সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি ঔদাসীন্য ও বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়’ [ছহীহ বুখারী, হা/৫০৬৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৪০১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৫৩৪]

অন্যত্র তিনি বলেন, مَنْ أَطَاعَنِيْ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ وَمَنْ عَصَانِيْ فَقَدْ عَصَى اللهَ ‘যে আমার আনুগত্য করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই আনুগত্য করল। আর যে আমার নাফরমানী করল, সে আল্লাহ তা‘আলারই নাফরমানী করল’[সহীহ বুখারী, হা/২৯৫৭, ৭১৩৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৩৫]

ইবনুল আরাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘কোন ব্যক্তি বা ইমামের কথায় একটি আয়াত কিংবা একটি সহীহ হাদীসও বর্জন করা জায়েয নয়। যে বর্জন করবে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট হবে এবং আল্লাহর দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে’[ফতূহাতে মাক্কিয়াহ-এর বরাতে হাক্বীক্বাতুল ফিক্বহ, পৃ. ১০২]

মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, কেউ যদি একটি হাদীসও বর্জন করে তবে আমাদের শিক্ষকমণ্ডলী বলতেন, সে কাফের হয়ে যাবে’ [মুক্ষুল বারী তরজমা সহীহ বুখারী, পৃ. ১২]

অতএব আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের সর্বসম্মত বক্তব্য হল, হাদীস অস্বীকারকারী কাফির। তারা ইসলাম থেকে বহিস্কৃত। এরা কেউ মারা গেলে কোন মুসলিম তার জানাযা পড়বে না এবং মুসলিমের কবরস্থানে তাকে দাফনও করা যাবে না। তাই এদের ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করতে হবে, যেন কেউ এদের প্রতারণার জালে পা না দেয়। আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম উম্মাহকে এদের ফেতনা থেকে হেফাযত করুন-আমীন!! আল্লাহু আলাম
_____________________________
উপস্থাপনায়ঃ
জুয়েল মাহমুদ সালাফি
সম্পাদনায় রফিকুল ইসলাম বিন সাঈদ, আলোচক সহীহ সুন্নাহ মিডিয়া ট্রাস্ট

▌সৌদি আরব ফিলিস্তিনিদের জন্য কি করেছে আজ পর্যন্ত❗বহুল আলোচিত সমালোচিত প্রশ্নের জবাব❗অনেক ভাই প্রশ্ন করে থাকেন সৌদি আরব ফ...
03/03/2022

▌সৌদি আরব ফিলিস্তিনিদের জন্য কি করেছে আজ পর্যন্ত❗

বহুল আলোচিত সমালোচিত প্রশ্নের জবাব❗অনেক ভাই প্রশ্ন করে থাকেন সৌদি আরব ফিলিস্তিনিদের জন্য কি করেছে আজ পর্যন্ত(?)

আসুন এবার প্রমান সহ জেনে নিন। সৌদি কি করেছে না করেছে। জানলে আপনার মাথা ঘুরেও যেতে পারে।
_______________________________________

১) আগস্ট ২০১৭ সৌদি আরব ফিলিস্তিনি বাজেটে ৩০.৮ মিলিয়ন ডলার দান করেন!
___________________________________
http://english.wafa.ps/page.aspx?id=f02nOUa91720436610af02nOU
___________________________________

২) এপ্রিল ২০১৮ সালে সৌদি আরব ফিলিস্তিনি বাজেটে ১৫০ মিলিয়ন ডলার দান করেন।
___________________________________

http://www.arabnews.com/node/1285086/saudi-arabia
___________________________________

৩) জুলাই ২০১৮ সালে সৌদি আরব ফিলিস্তিনি বাজেটে ৮০ মিলিয়ন ডলার দান করেন।
___________________________________

https://english.alarabiya.net/en/News/middle-east/2018/07/27/Saudi-Arabia-deposits-80-mln-to-support-the-Palestinian-Authority.html
___________________________________

৪) তাছাড়া ফিলিস্তিনির জন্য সৌদি আরবের বার্ষিক সাহায্য ২৪০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ থাকে।
___________________________________

http://www.arabnews.com/saudi-arabia/news/783426
___________________________________

৫) ২০১৬ সালের (united nations relief and works agency for palestine refugees (unrwa) এর
জরিপে ফিলিস্তিনি রিফিউজি সাহায্যকারি বিশ্বের টপ ১০ টি দেশের মধ্যে সৌদি আরব ছিল ২ নাম্বার স্থানে।
___________________________________

https://www.statista.com/chart/12574/the-countries-donating-the-most-to-the-palestinians/
___________________________________

৬) ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে সৌদি আরব দান করেছে ১৫ বিলিয়ন রিয়ালের ও বেশি যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫০ হাজার কোটি টাকা।
___________________________________

বিশ্বাস হয়না? না হলে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ
https://www.memri.org/reports/saudi-royal-familys-financial-support-palestinians-1998-2003-more-15-billion-riyals-4
___________________________________

৭) ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনকে সৌদি আরব দান করেছে ৬ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।
___________________________________

কি বিশ্বাস হয়না? না হলে নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ
http://saudigazette.com.sa/article/535741/World/Mena/Saudi-Arabia-provided-$6bn-in-aid-to-Palestinians-since-2000
___________________________________

১৯৯৪-২০১৭ পর্যন্ত সৌদি আরব ফিলিস্তিনিদের জন্য দান করেছে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের উপরে যার পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লক্ষ হাজার কোটি টাকার।

আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।
_____________________________________________

এভাবে করে যুগ যুগ ধরে ফিলিস্তিনিদের লালন পালন করে আসতেছে সৌদি আরব। 🇸🇦♥
সৌদি আরবের মত আর কোন মুসলিম দেশ এভাবে ফিলিস্তিনিদের দেখাশুনা করছে বলে আমাকে দেখাতে পারবেন না!

চ্যালেঞ্জ রইলো পারলে দেখান(!)

জানি পারবেননা।

সৌদি আরব প্রচার বিমুখ দেশ কখন মিডিয়া তারা বলে বেড়ায় না কারণ আপনারা সবাই জানেন হাদিসে স্পষ্ট বলা আছে যে সবচেয়ে উত্তম দান হচ্ছে সেই দান যেটা গোপনে করা হয়,এক হাত দিলে আরেক হাতও তা টের পায়না।
_____________________________________

তাই আসুন আমরা সৌদি আরবের প্রতি বিদ্বেষ নয় ভালবাসি,তাদের ভুল গুলো থেকে তারা যেন ফিরে আসে, মুসলিম উম্মাহর মনের আশা যেন পূরণ করে, তাদের জন্য মন থেকে দু'আ করি কারন মুসলিম উম্মাহর বিপদে, আপদে যে দেশটি কোন স্বার্থ ছাড়াই সব চেয়ে বেশি মুসলিম উম্মাহর পাশে দাড়ায় সে দেশটির নাম হচ্ছেঃসৌদি আরব-The Land of Tawheed 🇸🇦♥

(বিঃদ্রঃ এরপরও যারা গালাগালি, মিথ্যাচারে লিপ্ত থাকবে তাদের জন্য আর কিছু করার নেই, কারণ তাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে সৌদির বিরোধীতা করা। সৌদি যতই ভালো কাজ করুক তারা সেটা কখনও স্বীকার করবে না)

প্রিয় ভাইয়েরা দয়া করে পোষ্ট টি সবার সাথে শেয়ার করবেন।

✧═══•❁❁•═══✧•✧═══•❁❁•═══✧

Join with us for more information: https://www.facebook.com/groups/islamic.information.org/?ref=share

page: https://www.facebook.com/algalib.info/

🔴 ইসরাইলী আগ্রাসন বন্ধের প্রচেষ্টার জন্য 🇸🇦 সাঊদি বাদশাহ সালমান(হাফিজাহুল্লহ)কে ধন্যবাদ দিয়েছেন 🇵🇸 ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রপতি...
03/03/2022

🔴 ইসরাইলী আগ্রাসন বন্ধের প্রচেষ্টার জন্য 🇸🇦 সাঊদি বাদশাহ সালমান(হাফিজাহুল্লহ)কে ধন্যবাদ দিয়েছেন 🇵🇸 ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস।

রিয়াদ: শুক্রবার (২১ মে, ২০২১) ফিলিস্তিনী রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের সাথে ফোনালাপে সাঊদি বাদশাহ সালমান(হাফিজাহুল্লহ) ফিলিস্তিনে ইসরাইলের গত ১১ দিনের আগ্রাসন এবং হামলার পুনরায় নিন্দা জানান।

ইসরাইল ও হামাসের সম্মতিতে শুক্রবার ভোর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। হামলায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতার জন্য বাদশাহ সালমান (হাফিজাহুল্লহ) দু'আ করেছেন এবং ফিলিস্তিনী জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি কামনা করেন।

🇸🇦 সাঊদি বাদশাহ সালমান(হাফিজাহুল্লহ) মাহমুদ আব্বাসকে আশ্বস্ত করেন, জেরুজালেমে ইসরাইলের হামলা বন্ধের জন্য সাঊদি আরব সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইসরাইল সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সাথে কাজ করছে।

ইসরাইলী আগ্রাসন বন্ধের জন্য আন্তর্জাতিক, ইসলামিক ও আরব সংস্থাগুলির মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে সমর্থনের জন্য 🇸🇦 বাদশাহ সালমান(হাফিজাহুল্লহ) এবং সাঊদি আরব সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন 🇵🇸 ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস।

অনুবাদ: খান ইসফার বিন তারিক
গৃহীত: Arab News

News link:
https://arab.news/vcwwf
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
📌 ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলকে প্রত্যাখ্যান করলো 🇸🇦 সাঊদি আরব:
https://www.facebook.com/LoveSaudi1/videos/1389096504787019

12/12/2021

মহান আল্লাহকে সম্বোধনের ক্ষেত্রে তুই, তুমি ও আপনি শব্দের ব্যবহার:
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬
প্রশ্ন: আমি আল্লাহ থেকে কোন কিছু চাওয়ার সময় কী রকম ভাষায় কথা বলবো? যেমন: হে আল্লাহ, তুই আমাকে এটা দে.. ইত্যাদি। অর্থাৎ আল্লাহকে ‘তুই’ করে কথা বলা যাবে কি না?
উত্তর:
বিশ্বচরাচরের একচ্ছত্র অধিপতি, মহান রাজাধিরাজ ও মহান স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হলেন, সর্বোচ্চ সম্মান, মর্যাদা ও আনুগত্য পাওয়ার হকদার। আল্লাহ বলেন,
الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ ۚ أَيَبْتَغُونَ عِندَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ لِلَّهِ جَمِيعًا
”যারা মুমিনদেরকে বাদ দিয়ে কাফেরদেরকে বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে অথচ যাবতীয় সম্মান শুধু আল্লাহরই জন্য।”
[সূরা ইউনুস: ৬৫]
তিনি মহা মনিব আর আমরা তার অতিক্ষুদ্র গোলাম। তার সমকক্ষ ও সমতুল্য আর কেউ নাই। সুতরাং আমাদের কর্তব্য, তাঁর শানে এমন শব্দ ব্যবহার করা বা তাকে এমন শব্দ দ্বারা সম্বোধন করা যা দ্বারা সম্মান, ভালবাসা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। এ ক্ষেত্রে এমন শব্দ ব্যবহার করা জায়েজ নাই যা তার প্রতি অসম্মান ও বেয়াদবি বুঝায়।

❑ অভিধানের আলোকে ‘তুই’, ‘তুমি’ এবং ‘আপনি'এর অর্থ:

আরবি ভাষায় أَنْتَ (আনতা) শব্দটি দ্বারা তুই, তুমি, আপনি সব অর্থই প্রকাশ করে। অনুরূপভাবে ইংরেজিতে You শব্দ দ্বারাও। সে কারণে এ সব ভাষায় তুই, তুমি নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বাংলায় সম্বোধিত ব্যক্তির অবস্থার আলোকে কখনো তুই, কখনো তুমি আর কখনো আপনি ব্যবহৃত হয়। (যা বাংলাভাষার আলাদা একটি বৈশিষ্ট্য)।

বাংলা অভিধানে বলা হয়েছেে:

◍ তুই [ tui ] সর্ব. তুচ্ছার্থে বা অনাদরে তুমি -র রূপভেদ; নিম্নপদস্থ, কনিষ্ঠ বা অত্যন্ত অন্তরঙ্গ ব্যক্তির প্রতি প্রযোজ্য। [educaling]
◍ তুমি [ tumi ] /সর্বনাম পদ/ সম্বোধিত দ্বিতীয় ব্যক্তি বা মধ্যম পুরুষ ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, স্নেহের পাত্র ইত্যাদির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত.। [english-bangla]
অন্য একটি অভিধানে বলা হয়েছে, তুমি এর বাংলা অর্থ: সম্বোধিত ব্যক্তিসূচক সর্বনাম যা সাধারণত স্নেহপাত্র, ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বন্ধু পিতা-মাতা ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি উচ্চারিত হয়ে থাকে।
◍ আপনি [ āpani ] সর্ব. 1 তুমি-র সম্ভ্রমসূচক রূপ (আপনি আসুন) [educaling]

এখান থেকে বুঝা গেল, বাংলা ভাষায় ‘তুই’ শব্দ দ্বারা দু ধরণের অর্থ প্রকাশ করে। যথা:
ক. তাচ্ছিল্য ও অনাদর অর্থে।
খ. একান্ত অন্তরঙ্গতা ও ঘনিষ্ঠতা বুঝাতে। যেমন: আমাদের সমাজে সাধারণত: মা কে আন্তরিকতা, ভালবাসা ও একান্ত আপনজন বুঝাতে 'তুমি' বা 'তুই' বলে সম্বোধন করে। (উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় মাকে 'তুই' বলে সম্বোধন করার প্রচলন আছে) মা'র ক্ষেত্রে 'আপনি' শব্দের ব্যবহার খুব কম। এতে তাঁর প্রতি বেয়াদবি বা অসম্মান বুঝায় না। সামাজিকভাবে এভাবে সম্বোধন করা সর্বজন স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য রীতি।

সুতরাং কেউ যদি একান্ত অন্তরঙ্গতা, ঘনিষ্ঠতা ও ভালবাসা প্রকাশার্থে মহান আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে 'তুই' বা 'তুমি' শব্দ ব্যবহার করে তাহলে তাতে কোন আপত্তি নাই ইনশাআল্লাহ। তবে তা একান্ত নিভৃতে ও নির্জনে হওয়া উচিৎ। কিন্তু যদি লোকজনের সামনে এভাবে বললে আশঙ্কা থাকে যে, শ্রোতারা ভুল বুঝবে বা খারাপ ভাবে নিবে (যেমন: ওয়াজ মাহফিল বা সর্বশ্রেণীর সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে) তাহলে এমন শব্দ পরিহার করা উচিৎ। বরং সে ক্ষেত্রে ‘তুমি’ অথবা ‘আপনি’ ব্যবহার করা ভালো।

আর কেউ যদি আল্লাহর প্রতি বেদয়াবি, অসম্মান ও তাচ্ছিল্যের উদ্দেশ্যে তাকে ‘তুই’ শব্দ দ্বারা সম্বোধন করে তাহলে তা বড় কুফরি বলে গণ্য হবে-যা তাকে ইসলাম থেকে বের করে দিবে।
মোটকথা, বক্তার নিয়ত অনুযায়ী মহান রব্বুল আলামীনকে আপনি/তুমি/তুই ইত্যাদি যে কোনও শব্দ দ্বারা সম্বোধন করা জায়েজ হলেও সব ধরণের সংশয় বা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকার জন্য ‘তুমি’ বা ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করা অধিক উত্তম।
আল্লাহু আলাম।
▬▬▬ ◈◉◈▬▬▬

10/12/2021

সবসময় মনে রাখার জন্য কিছু কথা
--------------*-----------*-----------
প্রতিটি মানুষকে এই জীবন দেওয়া হয়েছে মৃত্যু পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি নিতে। সহজ বিষয়। কুরআন এই ব্যাপারে খুবই পরিষ্কার। এই দুনিয়া তোমার বাড়ি নয়। এটা তোমার বাসস্থান নয়। সবার জীবনকাল এখানে অল্প কিছু সময়ের জন্য। এরপর তুমি মারা যাবে। সবাইকে তাদের রবের সামনে দাঁড়াতে হবে। সবার বিচার হবে।

যদি এখানে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অনুযায়ী ভাল জীবন অতিবাহিত করে থাক, তুমি জান্নাতে প্রবেশ করবে। যারা ব্যর্থ হবে তারা জাহান্নামে যাবে। এই বিষয়ে কুরআন একেবারেই পরিষ্কার। প্রতিটি ব্যক্তির বিচার হবে শেষ বিচারের দিন। সেখানে তোমাকে কোন কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে কুরআন সেগুলোও পরিষ্কার করে তুলে ধরেছে।

কুরআন এই বিষয়টাও পরিষ্কার করে তুলে ধরেছে যে, এটাই একমাত্র জীবন যেখানে তুমি সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রস্তুত করবে। এছাড়া আর কোনো জীবন নেই। প্রত্যেককে এই একটি চান্স-ই দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বারের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। কারো জন্যই না।

এই দুনিয়াতে যত ভোগ্য সামগ্রী আল্লাহ আমাদের দান করেছেন সবগুলোই হলো জান্নাতে যা দিবেন তার একটা প্রিভিউ, সামান্য স্বাদ।

এই দুনিয়াকে শুধু এতটুকু পরিমাণেই উপভোগ্য করা হয়েছে যেন আপনি উপলব্ধি করতে পারেন এরচেয়ে অনেক বেশি উপভোগ্য এক জগৎ সামনে আসছে। অনেক ভালো এক জগৎ সামনে আসছে।

তাই, এই দুনিয়ার উপভোগে সীমা থাকতে হবে। অবশ্যই সীমা থাকতে হবে। কারণ, যদি সীমা নির্ধারণ না করেন তাহলে এই দুনিয়ার আনন্দের মাঝেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখবেন আর পরকালের কথা পুরোপুরি ভুলে যাবেন।যেখানে একদিন আপনাকে যেতেই হবে

06/12/2021

প্রশ্ন: কোন পাখি খাওয়া জায়েজ আর কোন পাখি খাওয়া জায়েজ নয়? দলিল সহ জানতে চাই।

উত্তর:

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকার হিংস্র পশু এবং নখর ধারী পাখি (খেতে) নিষেধ করেছেন।”
[সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: ৩৫/ শিকার ও জবেহ কৃত জন্তু এবং যে সব পশুর গোশত খাওয়া হালাল]
সুতরাং যে সব পাখি পাঞ্জা দ্বারা শিকার ধরে খায় তা খাওয়া জায়েজ নয়। যেমন: শকুন, চিল, ঈগল, কাক, বাজ ইত্যাদি।
আর যে সব পাখী পাঞ্জা দ্বারা শিকার ধরে খায় না তা (জবাই করে) খাওয়া জায়েজ ও হালাল। যেমন: হাঁস, মুরগি, ময়না, টিয়া, বক, সারস, শালিক, চড়ুই ইত্যাদি।
আল্লাহু আলাম।

05/12/2021

প্রশ্ন: কবরের ফেতনা দ্বারা কী উদ্দেশ্য?
উত্তর:
ফিতনা فتنة শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে। যেমন:পরীক্ষা, দাঙ্গা, গোলযোগ, বিপদ, কষ্ট, পরীক্ষা, সম্মোহন ও আকর্ষণ ইত্যাদি। তবে কুরআন-হাদিসে পরীক্ষা অর্থে ‘ফিতনা’ শব্দটির ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। যেমন: আল্লাহ তাআলা অর্থ-সম্পদ, স্ত্রী-সন্তানদেরকে ফিতনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ সব ক্ষেত্রে ফিতনা অর্থ: পরীক্ষা। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা এসব জিনিস দ্বারা বান্দাকে পরীক্ষা করতে চান। তারপর দেখতে চান, কারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় আর কারা ব্যর্থ হয়।
ঠিক তদ্রূপ কবরের ফিতনা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কবরের পরীক্ষা। অর্থাৎ আল্লাহর দু জন ফেরেশতা বিশেষ কিছু ব্যক্তি ছাড়া (যেমন: শহিদ, মুসলিম দেশের সীমান্ত প্রহরী মুজাহিদ প্রমূখ) কবরে সকল মানুষের পরীক্ষা নিবেন। এ কারণে হাদিসে এ দুজন ফেরেশতাকে فتان (ফাত্তান) বা পরীক্ষক ফেরেশতা নামে অভিহিত করা হয়েছে। সেখানে তারা কবর বাসীদেরকে তিনটি প্রশ্ন করবেন। যারা সেগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারবে তারা হবে সফলকাম এবং তারাই সৌভাগ্যবান। আর যারা পারবে না তারা হবে ব্যর্থ ও হতভাগ্য।

পরীক্ষায় উত্তীর্ণদেরকে মহা পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। আর তা হল, তাদের কবরের সাথে জান্নাতের সংযোগ স্থাপন করা হবে। তারা সেখানে জান্নাতের নিয়ামত উপভোগ করবে কিয়ামত পর্যন্ত। আর অকৃতকার্যরা ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে। ফেরেশতাগণ তাদের উপর কঠিন শাস্তি প্রয়োগ শুরু করবেন। জাহান্নামের সাথে তাদের কবরের সংযোগ স্থাপন করা হবে। সেখানে তারা কিয়ামত পর্যন্ত কঠিন শাস্তির মধ্যে কালাতিপাত করবে। এ ব্যাপারে হাদিসে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে।
সুতরাং বুঝা গেল, কবরের ফিতনা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কবরের পরীক্ষা তথা দু জন ফেরেশতা কর্তৃক কবর বাসীদেরকে প্রশ্ন করা আর আজাব হল, শাস্তি। যারা এই পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবে তারা কবরের আজাবের সম্মুখীন হবে আর যারা সফল হবে তা হতে রক্ষা পাবে।

▪কবরের তিনটি প্রশ্ন সংক্রান্ত হাদিস:

আনাস ইবনে মালিক রা. হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ وَإِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولاَنِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنْ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنْ الْجَنَّةِ فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا قَالَ قَتَادَةُ وَذُكِرَ لَنَا أَنَّهُ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى حَدِيثِ أَنَسٍ قَالَ وَأَمَّا الْمُنَافِقُ وَالْكَافِرُ فَيُقَالُ لَهُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ لاَ أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فَيُقَالُ لاَ دَرَيْتَ وَلاَ تَلَيْتَ وَيُضْرَبُ بِمَطَارِقَ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ
বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সাথীরা এতটুকু মাত্র দূরে যায় যে, সে তখনও তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এ সময় দু জন ফেরেশতা তার নিকট এসে তাকে বসান এবং তাঁরা বলেন, এ ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তুমি কী বলতে? তখন মুমিন ব্যক্তি বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহ্‌র বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থান স্থলটির দিকে নযর কর, আল্লাহ তোমাকে তার বদলে জান্নাতের একটি অবস্থান স্থল দান করেছেন। তখন সে দু’টি স্থলের দিকেই দৃষ্টি করে দেখবে।
কাতাদাহ রাহ. বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, সে ব্যক্তির জন্য তাঁর কবর প্রশস্ত করে দেয়া হবে। অতঃপর তিনি (কাতাদাহ) পুনরায় আনাস (রাঃ)-এর হাদিসের বর্ণনায় ফিরে আসেন। তিনি [(আনাস) (রাঃ)] বলেন, “আর মুনাফিক বা কাফির ব্যক্তিকেও প্রশ্ন করা হবে, তুমি এ ব্যক্তি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কী বলতে?”
সে উত্তরে বলবে, আমি জানি না। লোকেরা যা বলত আমি তা-ই বললাম।
তখন তাকে বলা হবে, তুমি না নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ।
আর তাকে লোহার মুগুর দ্বারা এমনভাবে আঘাত করা হবে, যার ফলে সে এমন বিকট চিৎকার করে উঠবে যে, দু’ জাতি (মানুষ ও জিন) ছাড়া তার আশপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে।” [সহীহ বুখারী, অধ্যায়: ২৩/ জানাজা, পরিচ্ছেদ: ২৩/৮৬. কবরের আজাব সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে]

▪আল্লাহর পথে যুদ্ধরত অবস্থায় শাহাদত বরণকারী এবং মুসলিম দেশের সীমান্ত প্রহরী মুজাহিদগণ কবরের প্রশ্নের সম্মুখীন হবে না:

- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এক সাহাবী থেকে বর্ণিত যে, এক সাহাবী জিজ্ঞাসা করলেন,
عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا بَالُ الْمُؤْمِنِينَ يُفْتَنُونَ فِي قُبُورِهِمْ إِلاَّ الشَّهِيدَ قَالَ ‏ "‏ كَفَى بِبَارِقَةِ السُّيُوفِ عَلَى رَأْسِهِ فِتْنَةً ‏"‏
হে আল্লাহর রাসূল! শহীদ ব্যতীত অন্যান্য মুমিনগণ কবরের ফিতনার সম্মুখীন হবে এর কারণ কি? তিনি বললেন, তার মাথার উপর উজ্জ্বল তরবারি তাকে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ রাখবে।

[সুনান আন-নাসায়ী, অধ্যায়: ২১/ জানাজা, পরিচ্ছেদ: ১১২/ শহীদ সহীহ। আল-আহকাম ৩৬, আত-তা'লীকুর রাগীব ২/১৯৭]

- সালমান ফারিসী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি,
«رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُهُ وَأُجْرِيَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ وَأَمِنَ الْفَتَّانَ»
“আল্লাহর পথে একদিন বা একরাত সীমানা পাহারা দেয়া, একমাসের সওম পালন ও সালাত আদায় করা হতে উত্তম। আর ঐ প্রহরী যদি এ অবস্থায় মারা যায়, তবে তার কৃতকর্মের এ পুণ্য ‘আমলের সাওয়াব অবিরত পেতে থাকবে, তার জন্য সর্বক্ষণ রিযক (জান্নাত হতে) আসতে থাকবে এবং সে কবরের কঠিন পরীক্ষা হতে মুক্তি পাবে। [সহিহ মুসলিম]

- অন্য হাদিসে এসেছে, ফাদালাহ ইবনে উবাইদ রা. সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
كُلُّ الْمَيِّتِ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلَّا الْمُرَابِطَ، فَإِنَّهُ يَنْمُو لَهُ عَمَلُهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَيُؤَمَّنُ مِنْ فَتَّانِ الْقَبْرِ
“প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর সাথে সাথে তার আমল শেষ হয়ে যায় কিন্তু সীমান্ত প্রহরায় সাওয়াব বন্ধ হয় না। কিয়ামত পর্যন্ত তার আমলের সাওয়াব বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং সে কবরের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।”
[সুনান আবু দাউদ (তাহকিককৃত) ৯/ জিহাদ, পরিচ্ছদ: ১৬. সীমান্ত পাহারা দেয়ার ফযীলত-সহিহ]
আল্লাহু আলাম।

05/12/2021

মানুষের ভ্রূণ তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে চিন্তাশীলরা নানা ধরনের ধারণা পোষণ করত প্রাচীনকাল থেকেই। এরিস্টটল মনে করতেন, মাসিকের রক্তের সঙ্গে পুরুষের বীর্যের মিলন হলে ভ্রূণ তৈরি হয়। অনেকে আবার মনে করতেন, মানুষের ভ্রূণ কেবল পুরুষের বীর্য থেকে তৈরি হয়।

এ দুটি ধারণা যে ভুল, তা প্রমাণ করেন ইতালিয়ান বিজ্ঞানী স্পিলিজার ১৭৭৫ সালে। ব্রাভি ১৮৮৮-১৯০৯ সালের মধ্যে প্রমাণ করেন ক্রোমোজম বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ঠিক করে। মরগান ১৯১২ সালে মানুষের ভ্রূণ তৈরিতে জীবের ভূমিকা প্রমাণ করেন।

মূল কথা হচ্ছে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আঠারশ শতকের আগে ভ্রূণ তৈরি সম্পর্কে কোনো ধারণাই লাভ করতে পারেনি; কিন্তু পবিত্র কুরআন সেটার ১৩০০ বছর পূর্বেই ভ্রূণ তৈরির প্রক্রিয়া সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছিল যা আজ প্রমাণিত সত্য! কুরআন বলছে-

إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعًا بَصِيرًا
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে, এভাবে যে, তাকে পরীক্ষা করব অতঃপর তাকে করে দিয়েছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন। (আল ইনসান ২)

আবার সকল জীবদেহ কোষ দ্বারা গঠিত। আর এই কোষ গঠনের মূল উপাদান হচ্ছে পানি। আরবি ব্যাকরণের একটি মত অনুযায়ী, এই ‘পানি’ অর্থ শুক্র (কুরতুবী)। তাছাড়া আকাশ ও পৃথিবী বন্ধ ছিল অর্থাৎ পূর্বে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হত না এবং যমীনে তরুলতা জন্মাত না।
আল্লাহর ইচ্ছায় বৃষ্টি বর্ষিত হ’ল এবং মাটি তা থেকে উৎপাদন ক্ষমতা অর্জন করল। পৃথিবীর জীব কোষের মূল উপাদান যেমন পানি (প্রোটোপ্লাজমের ৯৫% পানি), তেমনি এই পানিই মাটির উৎপাদন ক্ষমতা লাভের প্রধান উপাদান। মহান আল্লাহ এই ধরণীতে মাটি থেকে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করেন এবং তারপর তা থেকে ক্রমশ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এই মানব জাতি। সূরা হুজুরাতের ১৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا ۚ
হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে ‘মানব ক্লোন’। এই ক্লোন পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দিতে গেলে পুরুষের জীব কোষের প্রয়োজন। অর্থাৎ একজন পুরুষের জীব কোষ বা শুক্রাণু ব্যতীত একজন নারী সন্তান জন্ম দানে অক্ষম। কেননা নারীর ডিম্বাণু ক্রোমোসোম (XX) এবং পুরুষের শুক্রাণু ক্রোমোসোম (XY) পুত্র-কন্যা সন্তান গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
এখানে হযরত ঈসা (আ)-এর জন্ম সম্পর্কে প্রশ্ন হতে পারে। কিন্তু মহান আল্লাহ এ প্রশ্নের সমাধান পবিত্র কুরআনে যথাযথভাবে দিয়েছেন। তিনি বলেন,

إِنَّ مَثَلَ عِيسَىٰ عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ ۖ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকটে ঈসার দৃষ্টান্ত হচ্ছে আদমেরই মত। তাকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন অতঃপর তাকে বলেছিলেন, হয়ে যাও, সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেল। (ইমরান ৫৯)

ভ্রুণতত্ত্ব এবং ড. কিথ মুর
ভ্রূণতত্ত্ব (embryology) বলতে বুঝায়, জন্মের পূর্বে জীবের বিকাশ সম্পর্কিত বিদ্যা।
কুরআন এবং হাদীসে ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কিত বর্ণনাগুলোকে একত্রিত করে ইংরেজীতে অনুবাদের পর কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান এবং আধুনিক ভ্রূণতত্ত্বের বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. কিথ মুরকে সেগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য করতে বলা হয়। ড. মুর ভালভাবে সেগুলো অধ্যায়নের পর বলেন, কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসে ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে যা এসেছে, ভ্রূণবিদ্যার ক্ষেত্রে আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে সেগুলোর অধিকাংশের পূর্ণ মিল রয়েছে, কোন অমিল বা বৈসাদৃশ্য নেই। তিনি কিছু সংখ্যক আয়াতের মর্মের যথার্থতা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি। তিনি সেগুলোর বক্তব্য সত্য না মিথ্যা বলতে পারছেন না। কেননা সে তথ্যগুলো সম্পর্কে তিনি নিজেও ওয়াকিফহাল নন। আধুনিক ভ্রূণবিদ্যায় বা লেখায় সেগুলোর কোন উল্লেখ দেখা যায়না। এরকম একটি আয়াত হল- خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ
তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। (সূরা আলাক ২)

আরবী ভাষায় عَلَقٍ শব্দের অর্থ হল, জমাট রক্ত। অপর একটি অর্থ হল, দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে এমন আঠলো জিনিস। যেমন, জোঁক কামড় দিয়ে আটকে থাকে।

ড. মুর জানতেন না যে, প্রাথমিক অবস্থায় ভ্রূণকে জোঁকের মত দেখায় কিনা ! তিনি এটা যাঁচাই করার জন্য এক শক্তিশালী মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থা গবেষণা করেন এবং বলেন যে, ভ্রূণের চিত্র দেখতে অনেকটা জোঁকের মত। তিনি এ দু’টোর মধ্যে অদ্ভুত সামঞ্জস্য দেখে অভিভূত হয়ে যান। তিনি ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে কুরআন থেকে আরো বহু জ্ঞান অর্জন করেন যা তাঁর জানা ছিল না। ড. মুর কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত ভ্রণতত্ত্ব সম্পর্কিত ৮০টি প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত তথ্যগুলো ভ্রূনতত্ত্ব সম্পর্কে সর্বশেষ আবিষ্কৃত তথ্যের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল। তিনি আরো বলেন, আমাকে যদি আজ থেকে ৩০ বছর আগে এ সকল প্রশ্ন করা হত, তাহলে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের অভাবে আমি সেগুলোর অর্ধেকেরও উত্তর দিতে পারতাম না।

ড. কিথ মুর কুরআন নিয়ে রিসার্চ করার পূর্বে 'The Developing Human' নামক একটা বই লিখেছিলেন। কিন্তু কুরআন থেকে জ্ঞান সংগ্রহের পরপরই তিনি তার ঐ বইয়ের ৩য় সংস্করণ প্রকাশ করেন। বইটি একক লেখকের সর্বোত্তম চিকিৎসা বই হিসেবে পুরষ্কার লাভ করে। বইটি বিশ্বের অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ১ম বর্ষের মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের জন্য ভ্রূণবিদ্যায় পাঠ্যবই হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

এবার দেখা যাক, ভ্রুণবিদ্যা সম্পর্কিত কুরআনের তথ্যগুলো যা কিথ মুরকে এতটাই অভিভূত করেছিল যে, অমুসলিম হয়েও দাম্মামে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি কুরআনকে ‘সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত’ বলে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন!
সূরা তা’রিকের ৫-৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন-

فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِق خُلِقَ مِنْ مَاءٍ دَافِقٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَائِبِ
অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।

কুরআনের কমপক্ষে ১১টি স্থানে মানুষকে ‘নুতফাহ’ (শুক্র ) থেকে সৃষ্টির কথা বলেছে। ‘নুতফাহ’ অর্থ হলো-সামান্য পরিমাণ তরল পদার্থ কিংবা পেয়ালার নীচে অবশিষ্ট সামান্য পরিমাণ তরল জিনিস। ভ্রুণতত্ত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়ার জন্য কুরআনের একটি আয়াতের ব্যাখ্যা করাই যথেষ্ট!

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ ۚ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَىٰ أَجَلٍ مُسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ۖ وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّىٰ وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَىٰ أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا ۚ وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ
হে লোকসকল! যদি তোমরা পুনরুত্থানের ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হও, তবে (ভেবে দেখ-) আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না। তুমি ভূমিকে পতিত দেখতে পাও, অতঃপর আমি যখন তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করি, তখন তা সতেজ ও স্ফীত হয়ে যায় এবং সর্বপ্রকার সুদৃশ্য উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। (সূরা হজ্জ ৫)
উপরোক্ত আয়াত ছাড়াও কুরআনের অন্য যেসব আয়াতের নুতফাহ’র কথা এসেছে তা হল-
মু’মিনুন ১৩, নাহল ৪, কাহফ ৩৭, ফাতির ১১, মুমিন ৬৭, নাজম ৪৬, ক্বিয়ামাহ ৩৭, ইনসান ২, আবাসা ১৯

আদি মানব আদম (আ) মাটি থেকে সৃষ্টি
একটি প্রশ্ন অনেক সময় দূর্বল ঈমানদার এবং নাস্তিকদের মুখে শোনা যায়। সবকিছুর যদি স্রষ্টা থেকে থাকে, তাহলে আল্লাহর স্রষ্টা কে? ড. জাকির নায়েকের উত্তরটি দিয়ে তাদের শান্ত করা যায়। সবকিছুরই স্রষ্টা রয়েছে-এই ধারণা ভুল। কেবলমাত্র যা সৃষ্টি হয়েছে তারই স্রষ্টা রয়েছে। আল্লাহকে কেউ সৃষ্টি করেনি। তাই তাঁর কোনো স্রষ্টাও নেই।
আদম (আ) এর সৃষ্টি সম্পর্কেও এরকম একটি উদ্ভট প্রশ্ন শোনা যায়। আদম (আ) যদি প্রথম মানুষ হবে, তাহলে তাঁর কি পিতা-মাতা নেই, অথবা পৃথিবীতে তাঁর উদ্ভব কিভাবে হলো? মূল প্রশ্ন হলো-পৃথিবীতে প্রথম মানুষের পদযাত্রা শুরু হলো কিভাবে? مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ থেকে তো সম্ভব নয়। সেটা হলে তো আদমেরও পিতামাতা থাকা উচিত ছিল! এই উদ্ভট প্রশ্নের জবাব কুরআন দিচ্ছে এভাবে- الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ ۖ وَبَدَأَ خَلْقَ الْإِنْسَانِ مِنْ طِينٍ
যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। (আস সাজদাহ ৭)
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَإٍ مَسْنُونٍ

আমি মানবকে পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি। (হিজর ২৬)

فَاسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَمْ مَنْ خَلَقْنَا ۚ إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِنْ طِينٍ لَازِبٍ
আপনি তাদেরকে (মানুষকে) জিজ্ঞেস করুন, তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে। (সফফাত ১১)

خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ صَلْصَالٍ كَالْفَخَّارِ
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে। (আর রাহমান ১৪)

আদম (আ) বাদে বাকি সব মানুষ সৃষ্ট ‘নুতফাহ’ থেকে

আদম একাই কেবল মাটি থেকে সৃষ্টি। বাকি সবাই পিতা-মাতার মাধ্যমে সৃষ্ট।
ثُمَّ جَعَلَ نَسْلَهُ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ مَاءٍ مَهِين
অতঃপর তিনি তার বংশধর সৃষ্টি করেছেন তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে। (আস সাজদাহ ৮)

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ مِنَ الْمَاءِ بَشَرًا فَجَعَلَهُ نَسَبًا وَصِهْرًا ۗ وَكَانَ رَبُّكَ قَدِيرًا
তিনিই পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন মানবকে, অতঃপর তাকে রক্তগত, বংশ ও বৈবাহিক সম্পর্কশীল করেছেন। তোমার পালনকর্তা সবকিছু করতে সক্ষম। (ফুরকান ৫৪)

‘নুতফাহ’ সম্পর্কিত আয়াতগুলো পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। যারা বলে থাকে, “কুরআন শরীফের বহুস্থানে বলা হয়েছে সকল মানুষ মাটির তৈরী, তাই সকল মানুষ মাটির তৈরী”-তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

হযরত হাওয়া (আ) কিভাবে সৃষ্ট?
স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসতে পারে, হযরত আদম (আ) মাটি থেকে সৃষ্টি, কিন্তু মা হাওয়া (আ) কি দিয়ে সৃষ্ট? কারণ, কুরআনের বলা হয়েছে, এক পুরুষ এবং এক নারী থেকে আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু আদম যখন একা ছিলেন, তখন হাওয়াকে কিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-
خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا
তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে। অতঃপর তা থেকে তার যুগল সৃষ্টি করেছেন। (যুমার ৬)

يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গীনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। (নিসা ১)

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ
এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। (রূম ২১)
মহান আল্লাহ হযরত আদম (আ)-এর পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে মা হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, فَإِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ، وَإِنَّ أَعْوَجَ شَىْءٍ فِى الضِّلَعِ أَعْلاَهُ، فَإِنْ ذَهَبْتَ تُقِيْمُهُ كَسَرْتَهُ، وَإِنْ تَرَكْتَهُ لَمْ يَزَلْ أَعْوَجَ، فَاسْتَوْصُوْا بِالنِّسَاءِ - ‘নারী জাতিকে পাঁজরের বাঁকা হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড়ের মধ্যে একেবারে উপরের হাড়টি অধিক বাঁকা। যদি তা সোজা করতে যাও, ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি তা ছেড়ে দাও, তবে সব সময় বাকাই থাকবে। সূতরাং তোমরা নারীদের সাথে উত্তম ও উপদেশমূলক কথাবার্তা বলবে’।

গর্ভে সন্তান গঠনের গূঢ় রহস্য
গর্ভে সন্তান গঠনের চক্র সাধারণত দীর্ঘ ২৮০ দিন যাবৎ চলতে থাকে। যা ৪০ দিন অন্তর সুনির্দিষ্ট ৭ টি চক্রে বিভক্ত। নারী-পুরুষের যৌন মিলনের সময় নারীর ডিম্বনালীর ফানেলের মত অংশে ডিম্বাণু নেমে আসে এবং ঐ সময় পুরুষের নিক্ষিপ্ত বীর্যের শুক্রাণু জরায়ু বেয়ে উপরে উঠে আসে ও তা ডিম্বনালীতে প্রবেশ করে।

প্রথমে একটি শক্তিশালী শুক্রাণু ডিম্বাণুটির দেহে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে অন্য কোন শুক্রাণু প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে নারীর ডিম্বাণুটি নিষিক্ত (Fertilization) হয় এবং নিষিক্ত ডিম্বাণুটি জরায়ুতে নেমে প্রোথিত (Embedded) হয়। তাছাড়া নারীর ডিম্বাণুর বহিরাবরণে প্রচুর সিয়ালাইল-লুইস-এক্সসিকোয়েন্স নামের চিনির অণুর আঠালো শিকল শুক্রাণুকে যুক্ত করে পরস্পর মিলিত হয়। আর এই শুক্রাণু দেখতে ঠিক মাথা মোটা ঝুলে থাকা জোঁকের মত।

জোঁক যেমন মানুষের রক্ত চুষে খায়, শুক্রাণু ঠিক তেমনি ডিম্বাণুর মধ্যে প্রবেশ করে মায়ের রক্তে থাকা প্রোটিন চুষে বেড়ে উঠে। নিষিক্ত ডিম্বাণুটি সন্তান জন্মের রূপ নিলে সাধারণত নিম্নে ২১০ দিন ও উর্ধ্বে ২৮০ দিন জরায়ুতে অবস্থান করে এবং ঐ সময়ের মধ্যে ডিম্বাশয়ে নতুন করে আর কোন ডিম্বাণু প্রস্তুত হয় না। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,

وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِنْ طِي ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِي ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا آخَرَ ۚ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ
আমরা মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমরা তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে (জরায়ুতে) স্থাপন করেছি। এরপর শুক্র বিন্দুকে জমাট রক্ত রূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে গোশতপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর গোশতপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে গোশত দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করেছি। (মুমিনুন ১২-১৪)।

তিনি আরো বলেন, إِلَىٰ قَدَرٍ مَعْلُوم، فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقَادِرُون
এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত, অতঃপর আমি পরিমিত আকারে সৃষ্টি করেছি, আমি কত সক্ষম স্রষ্টা!’ (মুরসালাত ২২-২৩)

ثُمَّ سَوَّاهُ وَنَفَخَ فِيهِ مِنْ رُوحِهِ ۖ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۚ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ
অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন এবং তাতে রূহ সঞ্চার করেন। (সাজদাহ ৯)

এখানে মানব সৃষ্টির ৭টি স্তর উল্লেখ করা হয়েছে। স্তরগুলো হল মাটির সারাংশ, বীর্য, জমাট রক্ত, মাংসপিণ্ড, অস্থি পিঞ্জর, অস্থিকে গোশত দ্বারা আবৃতকরণ ও সৃষ্টির পূর্ণত্ব অর্থাৎ রূহ সঞ্চারণ।

রাসূলুল্লাহ (স) মাতৃগর্ভে মানব শিশু জন্মের স্তর সম্পর্কে এভাবে বলেছেন,

إِنَّ أَحَدَكُمْ يُجْمَعُ خَلْقُهُ فِىْ بَطْنِ أُمِّهِ أَرْبَعِيْنَ يَوْمًا، ثُمَّ يَكُوْنُ عَلَقَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَكُوْنُ مُضْغَةً مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَبْعَثُ اللهُ مَلَكًا، فَيُؤْمَرُ بِأَرْبَعِ كَلِمَاتٍ، وَيُقَالُ لَهُ اكْتُبْ عَمَلَهُ وَرِزْقَهُ وَأَجَلَهُ وَشَقِىٌّ أَوْ سَعِيْدٌ ثُمَّ يُنْفَخُ فِيْهِ الرُّوْحُ
তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান আপন মাতৃগর্ভে বীর্যের আকারে ৪০ দিন, জমাট বাধা রক্তে পরিণত হয়ে ৪০ দিন, গোশত আকারে ৪০ দিন। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে পাঠান এবং চারটি বিষয়ে আদেশ দেন যে, তার (শিশুর) আমল, রিযিক্ব, আয়ুষ্কাল ও ভালো না মন্দ সব লিপিবদ্ধ কর। অতঃপর তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দেয়া হয়।

অন্যত্র এসেছে,
إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَكَّلَ بِالرَّحِمِ مَلَكًا يَقُولُ يَا رَبِّ نُطْفَةٌ، يَا رَبِّ عَلَقَةٌ، يَا رَبِّ مُضْغَةٌ. فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَقْضِىَ خَلْقَهُ قَالَ أَذَكَرٌ أَمْ أُنْثَى شَقِىٌّ أَمْ سَعِيْدٌ فَمَا الرِّزْقُ وَالأَجَلُ فَيُكْتَبُ فِىْ بَطْنِ أُمِّهِ
আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফেরেশতা মোতায়েন করেন। ফেরেশতা বলেন, হে রব! এখনো তো ভ্রূণ মাত্র। হে রব! এখন জমাট বাঁধা রক্তপিন্ডে পরিণত হয়েছে। হে রব! এবার গোশতের টুকরায় পরিণত হয়েছে।

আল্লাহ যদি তাকে সৃষ্টি করতে চান, তখন ফেরেশতাটি বলেন, হে আমার রব! (সন্তানটি) ছেলে না মেয়ে হবে, পাপী না নেক্কার, রিযিক্ব কি পরিমাণ ও আয়ুষ্কাল কত হবে? অতএব এভাবে তার তাক্বদীর মাতৃগর্ভে লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়। নারী ও পুরুষের বীর্যের সংমিশ্রণ ঘুরতে থাকে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর চতুর্দিকে একটি ঝিল্লীর সৃষ্টি হয়, যাতে ভ্রূণটি ধ্বংস হতে না পারে।
এরপর আস্তে আস্তে এক বিন্দু রক্তকণায় পরিণত হয় এবং সেই রক্তকণা মাংসপিণ্ডে ও অস্থিমজ্জায় পরিণত হয়, এভাবেই সৃষ্টি হয় মানব শিশু। মাতৃগর্ভে শিশুকে সংরক্ষণের জন্য মাতৃ জঠরের তিনটি পর্দা বা স্তরের কথা কুরআনে বলা হয়েছে।
১.পেট বা গর্ভ, ২.রেহেম বা জরায়ু এবং ৩.ভ্রূণের আবরণ বা গর্ভফুল (Placenta)
এই তিন স্তর সম্পর্কে মহান আল্লাহ সূরা যুমারের ৬ নং আয়াতে বলেন,

يَخْلُقُكُمْ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ خَلْقًا مِنْ بَعْدِ خَلْقٍ فِي ظُلُمَاتٍ ثَلَاثٍ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ ۖ
তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তোমাদের মাতৃগর্ভে পর্যায়ক্রমে একের পর এক ত্রিবিধ অন্ধকারে।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে পবিত্র কুরআনে যে, ‘ত্রিবিধ অন্ধকারের’ কথা বলা হয়েছে তা হল- ১. রেহেম, ২. المشيمة বা গর্ভফুল এবং ৩. মায়ের পেট। রেহেমে রক্তপিন্ড ব্যতীত সন্তানের আকার-আকৃতি কিছুই তৈরী হয় না। আর গর্ভফুল (Placenta) ভ্রূণ বৃদ্ধি, সংরক্ষণ, প্রতিরোধ ইত্যাদি কাজে অন্যতম ভূমিকা রাখে। গর্ভফুল মায়ের শরীর থেকে রক্তের মাধ্যমে নানা পুষ্টি ভ্রূণের দেহে বহন করে, খুব ধীর গতিতে রেচন পদার্থ মায়ের দেহের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।
গর্ভফুলের সাহায্যে ভ্রূণ অক্সিজেন (O2) গ্রহণ ও কার্বনডাই অক্সাইড (CO2) ত্যাগ করে মায়ের ফুসফুসের মাধ্যমে, জীবাণু (Infection) থেকে ভ্রূণকে রক্ষা করে। এছাড়া ভ্রূণটি ঠিকমত জরায়ুতে আটকে রাখা, পুষ্টি সঞ্চয়, সম্পর্ক রক্ষা, হর্মোন সৃষ্টি ইত্যাদি কাজে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এভাবে ভ্রূণটি জরায়ুতে বেড়ে উঠতে থাকে ও ১২০ দিন অতিবাহিত হলে শিশুর রূহ ফুঁকে দেয়া হয়। আর শিশু নড়েচড়ে উঠে ও আঙ্গুল চুষতে থাকে এবং পূর্ণ-পরিণত হওয়ার পরে সেখান থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হয় (আবাসা ১৮-২০)। কুরআনে মহান আল্লাহ ‘ঠেলে দেয়া হয়’-প্রত্যয়টি ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ ২১০ দিন পর একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হবার উপযুক্ত হয়।
আর সন্তানটির যখন ভূমিষ্ঠ হবার উপযুক্ত সময় হয়ে যায়, তখন Overy-Placenta থেকে এক প্রকার গ্রন্থিরস নিঃসৃত হয়, যা প্রসব পথ পিচ্ছিল ও জরায়ুর মুখ ঢিলা করে দেয়। আর মানব সন্তান ঐ সময় বিভিন্নভাবে নড়াচড়া করতে থাকে এবং প্রসব পথ পিচ্ছিল থাকায় বাচ্চা অনায়াসে বেরিয়ে আসে। সবচেয়ে মজার কথা হ’ল মানবশিশুর যে অঙ্গ সর্বপ্রথম গঠিত হয় তা হ’ল কর্ণ। আর সন্তান গর্ভে ধারণের ২১০ দিন পর চক্ষু গঠিত হয় এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মানব শিশুতে পরিণত হয়।

সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ-
নারীর গর্ভ সঞ্চার হওয়ার পর ২৮০ দিনের মধ্যে ১২০ দিন অতিবাহিত হলে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জানা যায়, সন্তানের লিঙ্গ কী হবে অথাৎ সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে! ছেলে-মেয়ে সৃষ্টি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-

لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا ۖ وَيَجْعَلُ مَنْ يَشَاءُ عَقِيمًا
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। অথবা তাদের পুত্র-কন্যা উভয় দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। (শুআরা ৪৯-৫০)
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (স) এর একটি হাদীস উল্লেখযোগ্য-পুরুষের বীর্য স্ত্রীর বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করলে পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। আবার স্ত্রীর বীর্য পুরুষের বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করলে কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।

আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের মতে, জরায়ুতে যদি কন্যা ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, তাহলে করটেক্স কম্পোন্যান্টগুলি (Cortics Componant) বৃদ্ধি প্রাপ্ত হতে থাকে এবং মেডুলার কম্পোন্যান্টগুলি (Medullar Componant) কমতে থাকে। পক্ষান্তরে জরায়ুতে যদি পুত্র ভ্রূণ সৃষ্টি হয়, তাহলে করটেক্স কম্পোন্যান্টগুলি (Cortics Componant) কমতে থাকে এবং মেডুলার কম্পোন্যান্টগুলি (Medullar Componant) বৃদ্ধি প্রাপ্ত হতে থাকে। তাছাড়া মানুষের প্রতিটি দেহকোষে মোট ২৩ জোড়া ক্রোমোসোম থাকে। তার মধ্যে ২২ জোড়া অটোসোম এবং এক জোড়া থাকে সেক্স ক্রোমোসোম। নারীর ডিম্বাণুতে XX ক্রোমোসোম এবং পুরুষের শুক্রাণুতে XY ক্রোমোসোম থাকে। সুতরাং নারীর ডিম্বাণুর X ক্রমোজমকে যদি পুরুষের শুক্রাণুর X ক্রমোজম নিষিক্ত করে, তবে জাইগোটের ক্রমোজম হবে XX এবং কন্যা সন্তানের জন্ম হবে। পক্ষান্তরে নারীর ডিম্বাণুর X ক্রমোজমকে যদি পুরুষের শুক্রাণুর Y ক্রমোজম নিষিক্ত করে, তবে জাইগোটের ক্রমোজম হবে XY এবং পুত্র সন্তান জন্ম হবে।
মূল কথা হলো, যখন ডিম্বাণুর ও শুক্রাণুর জাইগোটের ক্রোমোসোম একই গোত্রীয় (XX) হয়, তখন কন্যা সন্তান এবং যখন ডিম্বাণুর ও শুক্রাণুর জাইগোটের ক্রমোজম একই গোত্রীয় (XY) না হয়, তখন পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। অতএব সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নির্ভর করে পুরুষের দেহে উৎপন্ন শুক্রাণুর উপর। আর যমজ সন্তান জন্ম দানের জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা স্ত্রীর।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, নারীর ডিম্বাশয় থেকে যখন একটি ডিম্বাণু জরায়ুতে নেমে আসে, তখন একটি শক্তিশালী শুক্রাণু তাতে প্রবেশ করে একটি সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু যদি দু’টি ডিম্বাণু জরায়ুতে নেমে আসে, তখন দু’টি শক্তিশালী শুক্রাণু তাতে আলাদা আলাদা প্রবেশ করে। ফলে যমজ সন্তানের জন্ম হয়।
কুরআনের শুরুতেই আল্লাহ বলে দিয়েছেন, এ কুরআনের মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। তাই কুরআনে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, সেটাই ঠিক, কেবলমাত্র সেটাই ঠিক। বিজ্ঞানের সাথে যদি সে তথ্য মিলে যায়, তবু কুরআন সঠিক। যদি না মেলে তবুও কুরআনই সঠিক। বিজ্ঞান ভুল।
আধুনিক বিজ্ঞান যেটা নিয়ে তটস্থ থাকে, সে বিষয়ে আল্লাহর একটা ইশরাই যথেষ্ট। যেমনটি কুরআনের মধ্যে আল্লাহ বলেছেন, كُنْ فَيَكُونُ-হয়ে যাও, অমনি তা হয়ে যায়! তাই, আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।

কুরআনে ভ্রুণবিদ্যার স্পষ্টতা দেখে ইসলাম গ্রহণ-
কুরআনে তালাকের পর তিন মাস পর্যন্ত ‘ইদ্দত’ পালনের বিধানসংশ্লিষ্ট রহস্য ভেদ করে অপার বিস্ময়ে অভিভূত হন ভ্রুণ বিশেষজ্ঞ রবার্ট গিলাম। রবার্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি হেলথ ইনস্টিটিউটে গবেষণারত আছেন। সম্প্রতি তিনি ইয়াহুদী ধর্ম ত্যা করে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। নারীদের সম্ভ্রম প্রহরায় গোটা বিশের ইসলামের অবস্থান একক ও অতুলনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন, ইসলামের বিধান বাস্তব অর্থেই স্বাস্থ্যবিধি ও বিজ্ঞানসম্মত। আর কুরআনই পৃথিবীর বুকে একমাত্র গ্রন্থ যা নিজের মধ্যে এরূপ অসংখ্য গুঢ়রহস্য ধারণ করে আছে।

Address

Tangail
009

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when The Voice of Islam -AFRF posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to The Voice of Islam -AFRF:

Share