14/03/2026
অনলাইন হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য
*নিজস্ব প্রতিবেদক*
“কোরআনের সুর সিজন–৩” এ ৩০ পারা গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করল হাফিজ আবু তালহা
আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহপাকের অসীম রহমত, করুণা ও অশেষ মেহেরবানীতে অনলাইন হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতা “ আল কুরআনের সুর সিজন–৩”-এ ৩০ পারা গ্রুপে ১ম হয়ে গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে জগন্নাথপুরের এক মেধাবী কুরআনের শিক্ষার্থী। শত শত প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ অনলাইন হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে পিছনে ফেলে ৩০ পারা গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করেছে হাফিজ আবু তালহা। তার এই অসাধারণ সাফল্যে উচ্ছ্বসিত শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা যায়, জগন্নাথপুরের সুপরিচিত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টি. এম হিফযুল কুরআন একাডেমী, জগন্নাথপুর-এর কৃতি ছাত্র হাফিজ আবু তালহা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, ধৈর্য, কঠোর সাধনা ও নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করে আসছিল। তার মেধা, কণ্ঠস্বরের মাধুর্য ও তাজবিদের শুদ্ধতায় বিচারকদের মন জয় করে সে এই কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন লাভ করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারী অসংখ্য প্রতিযোগীর মধ্যে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে প্রথম স্থান অর্জন করা নিঃসন্দেহে একটি বড় গৌরবের বিষয়।
এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন জগন্নাথপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জামাল উদ্দিন বেলাল। তিনি উদারভাবে হাফিজ আবু তালহার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য স্পন্সর করেন এবং নীরবে সবসময় তাকে উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে থেকেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদের এমন পৃষ্ঠপোষকতা দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও কোরআনের হাফেজ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফিজ আবু তালহা নগদ প্রাইজমানি লাভ করেছে। তবে তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মানুষের ভালোবাসা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দোয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সে জানায়—
“আমি আল্লাহর অশেষ রহমতে এই সাফল্য পেয়েছি। আমার শিক্ষক, অভিভাবক এবং এলাকার সকলের দোয়া ও ভালোবাসাই আমাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। ভবিষ্যতে একজন বড় আলিম হয়ে কোরআনের আলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই এবং দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।”
টি. এম হিফযুল কুরআন একাডেমী, জগন্নাথপুর-এর শিক্ষকবৃন্দ বলেন, কুরআনের হাফেজ তৈরি করা শুধু একটি শিক্ষাগত অর্জন নয়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক দায়িত্ব ও আমানত। শিক্ষার্থীদের কুরআনের শিক্ষা, নৈতিকতা, আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হাফিজ আবু তালহার এই সাফল্য শুধু প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয় এবং এটি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
এদিকে হাফিজ আবু তালহার এই অসাধারণ সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী, শুভানুধ্যায়ীরা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, আধুনিক যুগের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তরুণ প্রজন্ম যখন কোরআনের শিক্ষা ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জনে নিজেদের উৎসর্গ করে, তখন তা সমাজের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠে।
অনেকেই মনে করেন, এমন সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং আল্লাহর উপর ভরসা থাকলে যেকোনো স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে। হাফিজ আবু তালহার এই অর্জন কেবল একটি ব্যক্তিগত বিজয় নয়—এটি কোরআনের প্রতি ভালোবাসা, অধ্যবসায় এবং ঈমানি চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সবশেষে শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা হাফিজ আবু তালহার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তার জন্য দোয়া করেছেন, যেন সে ভবিষ্যতে একজন বিশিষ্ট আলিম হিসেবে ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে এবং কোরআনের আলো মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে পারে।
এই অর্জন যেন আরও বহু তরুণকে কোরআনের পথে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করে—এমন প্রত্যাশাই সবার।