16/03/2026
হাদিস-২৪→ জি/হাদের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
ইমাম বুখারি(রহ) আবূ হুরাইরা(রা) এর সূত্রে বর্ণনা করেন,
এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল(সা) এর নিকট এসে বলল, আমাকে এমন কাজের কথা বলে দিন, যা জি/হাদের সমতুল্য হয়। তিনি বলেন, আমি তা পাচ্ছি না।
অতঃপর বললেন, তুমি কি এতে সক্ষম হবে যে, মুজাহিদ যখন বেরিয়ে যায়, তখন থেকে তুমি মাসজিদে প্রবেশ করবে এবং দাঁড়িয়ে 'ইবাদাত করতে থাকবে; কোনো আলস্য করবে না, আর সিয়াম পালন করতে থাকবে; কিন্তু এর মাঝে কোনো ইফতার করবে না৷ ব্যক্তিটি বলল, এটা কে পারবে?
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'মুজাহিদের ঘোড়া যখন রশির দৈর্ঘ্য পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে, এতেও তার জন্য নেকী লেখা হয়।'
শিক্ষাঃ
১. হাদীস থেকে বোঝা যায়, জিহাদ হচ্ছে এমন একটি নেক আমল, যার সমকক্ষ অন্য কোনো নেক আমল নেই। পবিত্র কুরআনেও এ কথা এসেছে।
সূরা তাওবায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
"তোমরা কি হাজিদেরকে পানি পান করানো ও মাসজিদুল হারামকে আবাদ করার কাজকে সেই ব্যক্তির সমান মনে করো, যে আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় জি/হাদ করেছে? আল্লাহর কাছে এরা সমান নয়৷"
ইবনু হাজর আসকালানী(রহ) বর্ণনা করেন,
'জিহাদ হচ্ছে সর্বোত্তম নেক আমল। কেননা তা দ্বীনে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও কুফরী শক্তি খর্ব করার মাধ্যম৷'
২.'মুজাহিদের ঘোড়া যখন রশির দৈর্ঘ্য পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে, এতেও তার জন্য নেকী লেখা হয়।' এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে, জিহাদের ময়দানে গিয়ে শুধু জিহাদ করলেই সাওয়াব পাওয়া যাবে এমন নয়; বরং জিহাদের ময়দানে মুজাহিদের প্রতিটি কাজেই সাওয়াব রয়েছে।
৩. পরিভাষাগত দিক থেকে জি/হাদ বলতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কি/তাল ফি সাবিলিল্লাহ বোঝানো হয়। যদিও জি/হাদের শাব্দিক অর্থের মাঝে আল্লাহর দ্বীনকে বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে সব রকম প্রচেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত। সেটা হাতিয়ারের মাধ্যমে হোক, অথবা সম্পদ ব্যয়ের মাধ্যমে, কাজের মাধ্যমে, লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমেও হতে পারে। তবে জি/হাদ শব্দের এ ব্যাপক অর্থ নিতে হলে আগে-পরে এর যোগসূত্র বা ইঙ্গিত থাকতে হবে। কোনো প্রকার যোগসূত্রতা না থাকলে জি/হাদ বললে কি/তাল ফি সাবিলিল্লাহই উদ্দেশ্য হবে।
৪. জি/হাদ পরিত্যাগ করা বা জি/হাদের ব্যাপারে মন-মানসিকতা পোষণ না করার ব্যাপারেও হাদীসে কঠোর শব্দ উচ্চারণ করা হয়েছে। সহীহ মুসলিমে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন: 'যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো, অথচ কখনও জি/হাদ করল না বা জি/হাদের কথা তার মনে কোনোদিন জাগ্রতও হয়নি, সে যেন মুনাফিকের মৃত্যুবরণ করল।'
৫. জি/হাদ পরিত্যাগ মুসলিমদের জন্য লাঞ্চনা ও অপদস্ততার কারণ। সুনানে আবূ দাউদের এক হাদীসে এসেছে: 'যখন তোমরা ঈনা পদ্ধতিতে ব্যবসা করবে, গরুর লেজ আঁকড়ে ধরবে, কৃষিকাজেই সন্তুষ্ট থাকবে এবং জি/হাদ ছেড়ে দিবে তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দিবেন। তোমরা তোমাদের দ্বীনে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদেরকে এই অপমান থেকে মুক্তি দিবেন না।