SOMC Dawah Circle • SDC

SOMC Dawah Circle • SDC Amidst the stormy chaos of darkness, striving to ignite valor in the flickering flame of the heart.

20/03/2026
19/03/2026

আরও একটা রমাদান চলে যাচ্ছে হায়াত থেকে৷
বিদায় বেলায় সময় এসেছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব মিলানোর৷

এ মাস এসেছিলো ক্ষমার বার্তা নিয়ে৷ এ মাস এসেছিলো আমাদের মুত্তাকি বানাতে৷

এ মাস এসেছিলো আমাদের এমন একটা রাত উপহার দিতে, যা হাজার রাত থেকেও শ্রেষ্ঠ৷ লম্বা সময় হায়াত পাওয়া পূর্ববর্তী ইবাদতগুজার উম্মতদের চাইতে যাতে আমরা ইবাদতে এগিয়ে থাকতে পারি, তার জন্যে দেয়া হয়েছিলো এই নিয়ামত৷ আমরা কি পেরেছি এই নিয়ামতের উত্তম মর্যাদা দিতে?

এ মাসের এত মর্যাদার কারণ মানবতার মুক্তির সনদ কুরআন নাযিল হওয়া৷ আমরা কি পেরেছি কুরআনে সময় দিতে?

যদি আমরা এত এত নিয়ামতের পূর্ণ ব্যবহার করে থাকি তাহলে শেষ সময়ে আমাদের উচিত রব্বে কারিমের নিকট শুকরিয়া আদায় করা৷
আর যদি নিয়ামত পেয়েও অবহেলা করে থাকি, তাহলে বিদায় বেলায় আমরা পূর্ণরূপে তওবা করে নেই৷ খালেস দিল নিয়ে দয়াময়ের নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি৷

সর্বোপরি, আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমাদান থেকে শিক্ষা নিয়ে সারাটা বছর কাটানোর তৌফিক দিক৷

18/03/2026

হাদিস-২৬→যিকির

ইমাম তিরমিযি(রহ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনু বুসর(রা) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য ইসলামের শরীয়াতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে থাকতে পারি। তিনি বললেন, "সর্বদা তোমার জিহবা যেন আল্লাহ তাআলার যিকিরের দ্বারা সিক্ত থাকে"

শিক্ষাঃ

১. যিকির এমন আমল যা আদায় করতে সহজ কিন্তু সওয়াবের দিক থেকে অনেক ভারী৷

২. যিকিরের আমল যে স্থায়ী ও অব্যাহত আমল, তা বোঝাতে নবি(সা) সাহাবী বলেছেন যেন সবসময় জিহবা সিক্ত থাকে যিকির দ্বারা৷

৩. 'ইসলামের শরীয়াতের বিষয়াদি অতিরিক্ত হয়ে গেছে।' এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য হলো, নফল বিষয়াদি। অর্থাৎ সাহাবি জানতে চাচ্ছেন যে, ফরয-ওয়াজিব আমলগুলো তো করতে হবে। এগুলো ছাড়া নফল আমলগুলোর মাঝে কোন আমলকে বেশি গুরুত্ব দিবো। কোনটা আঁকড়ে ধরলে সহজে আল্লাহর রেযামন্দি পাওয়া যাবে।

৪. হাদিস থেকে বোঝা যায়, সাহাবাগন নেক আমলের প্রতি সর্বদা উদগ্রীব ছিলেন৷

17/03/2026

হাদিস-২৫

ইমাম মুসলিম(রহ) আবু হুরাইরা(রা) এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ(সা) বলেন, "সে সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! ইয়াহুদী হোক আর খৃস্টান হোক, যে ব্যক্তিই আমার এ রিসালাতের খবর শুনেছে অথচ আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, অবশ্যই সে জাহান্নামী হবে"

শিক্ষাঃ

১. আলোচ্য হাদীসটি নির্দেশ করে যে, রাসূলুল্লাহ গোটা জাহানের নবি।

২. মহানবির বরকতময় আগমনের পর পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল দ্বীন রহিত হয়ে গেছে। এখন শুধু একমাত্র দ্বীনে ইসলামের ওপরই চলতে হবে। অন্য কোনো আসমানী ধর্মেরও এখন আর যথার্থতা অবশিষ্ট নেই। দুনিয়াবী মনগড়া ধর্মের কথা তো আসবেই না।

৩. কাযী ইয়ায (রহ) বলেন, মহানবি(সা) -কে চেনা ও জানার জন্য রাস্তা হলো, তিনি জীবিত থাকাকালীন তাঁর মুজিযা ও সত্যতার বিষয়টি স্বচক্ষে দেখা, কিন্তু যারা তাঁকে স্বচক্ষে দেখতে পায়নি, তাদের জন্য উপায় হলো মহানবি সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো প্রকার সঠিক সংবাদ পৌঁছা। পক্ষান্তরে আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়নের বিষয়টি ভিন্ন। কেননা পৃথিবীর অপরূপ সৃষ্টিজগতে কেউ সঠিকভাবে সুস্থ মস্তিস্কে চিন্তা করলেই সৃষ্টিকর্তা রাব্বুল আলামীনকে চিনতে পারবে। তার প্রতি ঈমান ও একত্ববাদের সন্ধান পাবে।

৪. ইসলাম আসার পরেও যারা নিজেদের ধর্মমত নিয়ে পড়ে আছে তারা কাফির, জাহান্নামী৷ তাদেরকে কাফির, জাহান্নামী হিসেবে বিশ্বাস না করাও কুফুরি৷

16/03/2026

হাদিস-২৪→ জি/হাদের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব

ইমাম বুখারি(রহ) আবূ হুরাইরা(রা) এর সূত্রে বর্ণনা করেন,
এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল(সা) এর নিকট এসে বলল, আমাকে এমন কাজের কথা বলে দিন, যা জি/হাদের সমতুল্য হয়। তিনি বলেন, আমি তা পাচ্ছি না।
অতঃপর বললেন, তুমি কি এতে সক্ষম হবে যে, মুজাহিদ যখন বেরিয়ে যায়, তখন থেকে তুমি মাসজিদে প্রবেশ করবে এবং দাঁড়িয়ে 'ইবাদাত করতে থাকবে; কোনো আলস্য করবে না, আর সিয়াম পালন করতে থাকবে; কিন্তু এর মাঝে কোনো ইফতার করবে না৷ ব্যক্তিটি বলল, এটা কে পারবে?
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'মুজাহিদের ঘোড়া যখন রশির দৈর্ঘ্য পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে, এতেও তার জন্য নেকী লেখা হয়।'

শিক্ষাঃ

১. হাদীস থেকে বোঝা যায়, জিহাদ হচ্ছে এমন একটি নেক আমল, যার সমকক্ষ অন্য কোনো নেক আমল নেই। পবিত্র কুরআনেও এ কথা এসেছে।

সূরা তাওবায় আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
"তোমরা কি হাজিদেরকে পানি পান করানো ও মাসজিদুল হারামকে আবাদ করার কাজকে সেই ব্যক্তির সমান মনে করো, যে আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান এনেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় জি/হাদ করেছে? আল্লাহর কাছে এরা সমান নয়৷"

ইবনু হাজর আসকালানী(রহ) বর্ণনা করেন,
'জিহাদ হচ্ছে সর্বোত্তম নেক আমল। কেননা তা দ্বীনে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও কুফরী শক্তি খর্ব করার মাধ্যম৷'

২.'মুজাহিদের ঘোড়া যখন রশির দৈর্ঘ্য পর্যন্ত ঘোরাফেরা করে, এতেও তার জন্য নেকী লেখা হয়।' এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে, জিহাদের ময়দানে গিয়ে শুধু জিহাদ করলেই সাওয়াব পাওয়া যাবে এমন নয়; বরং জিহাদের ময়দানে মুজাহিদের প্রতিটি কাজেই সাওয়াব রয়েছে।

৩. পরিভাষাগত দিক থেকে জি/হাদ বলতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কি/তাল ফি সাবিলিল্লাহ বোঝানো হয়। যদিও জি/হাদের শাব্দিক অর্থের মাঝে আল্লাহর দ্বীনকে বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে সব রকম প্রচেষ্টাও অন্তর্ভুক্ত। সেটা হাতিয়ারের মাধ্যমে হোক, অথবা সম্পদ ব্যয়ের মাধ্যমে, কাজের মাধ্যমে, লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমেও হতে পারে। তবে জি/হাদ শব্দের এ ব্যাপক অর্থ নিতে হলে আগে-পরে এর যোগসূত্র বা ইঙ্গিত থাকতে হবে। কোনো প্রকার যোগসূত্রতা না থাকলে জি/হাদ বললে কি/তাল ফি সাবিলিল্লাহই উদ্দেশ্য হবে।

৪. জি/হাদ পরিত্যাগ করা বা জি/হাদের ব্যাপারে মন-মানসিকতা পোষণ না করার ব্যাপারেও হাদীসে কঠোর শব্দ উচ্চারণ করা হয়েছে। সহীহ মুসলিমে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেন: 'যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো, অথচ কখনও জি/হাদ করল না বা জি/হাদের কথা তার মনে কোনোদিন জাগ্রতও হয়নি, সে যেন মুনাফিকের মৃত্যুবরণ করল।'

৫. জি/হাদ পরিত্যাগ মুসলিমদের জন্য লাঞ্চনা ও অপদস্ততার কারণ। সুনানে আবূ দাউদের এক হাদীসে এসেছে: 'যখন তোমরা ঈনা পদ্ধতিতে ব্যবসা করবে, গরুর লেজ আঁকড়ে ধরবে, কৃষিকাজেই সন্তুষ্ট থাকবে এবং জি/হাদ ছেড়ে দিবে তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দিবেন। তোমরা তোমাদের দ্বীনে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদেরকে এই অপমান থেকে মুক্তি দিবেন না।

15/03/2026

হাদিস-২৩→ ফিৎনার সময় করনীয়

ইরবায ইবনু সারিয়াহ (রা) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ(সা) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। এরপর আমাদের দিকে ফিরে এমন মর্মস্পর্শী বক্তৃতা শুনালেন যে, তাতে (আমাদের) অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে থাকে। তখন আমাদের মাঝে একজন বলল, 'হে আল্লাহর রসূল! এ যেন বিদায়ী ভাষণ মনে হচ্ছে। তাই আপনি আমাদেরকে কি নির্দেশ দেন?
তিনি বললেন, 'আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি এবং (রাষ্ট্রনেতার) কথা শোনার ও তার আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি; যদিও তোমাদের ওপর কোনো নিগ্রো (আফ্রিকার কৃষ্ণকায় অধিবাসী) রাষ্ট্রনেতা হয়।
তোমাদের মধ্যে যে আমার পর জীবিত থাকবে, সে অনেক মতভেদ বা অনৈক্য দেখবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ ও সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাঁত দিয়ে মজবুত করে ধরে থাকবে।
আর তোমরা দীনের মাঝে নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, দ্বীনের মাঝে প্রত্যেক নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদাআত। আর প্রত্যেক বিদাআতই ভ্রষ্টতা।

শিক্ষাঃ

১. হাদিসে মুসলিমদের যিনি খলিফা বা আমীর হবেন, তার আনুগত্যকে আবশ্যক করা হয়েছে৷ (যতক্ষন না তারা শরীয়াহর বিরুদ্ধে কোনো আদেশ করে)

২. শরীয়তের দৃষ্টিতে বিদআত বলা হয় দ্বীনের মধ্যে কম-বেশি করা, কুরআন-হাদীস এবং সাহাবাদের আমল ও যুগে যার কোনো সূত্র পাওয়া যায় না। আর এ আমলটি করা হবে ইবাদাত মনে করে সাওয়াবের প্রত্যাশায়।
আর যেটা দ্বীনি কোনো কাজ বা ইবাদাত সহজ করণার্থে, কোনো ইবাদাতের মাধ্যম বা ওসীলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তা বিদাআত হবে না।

৩. হাদীসটি এ কথার দলীল যে, খুলাফায়ে রাশিদীন এর সুন্নাহও একটি গ্রহণযোগ্য দলীল।

৪. মুসলিমদেরকে ওয়াজ-নাসীহাহ করা দরকার। যারা যোগ্য ও ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট, তারা মাঝে মাঝে কুরআন-হাদীসের বিভিন্ন বিষয় মানুষদের মাঝে তুলে ধরা উচিত। তবে নাসীহাহ হতে হবে এমন, যাতে মানুষ দুনিয়া-আখিরাতের কোনো খোরাক পায়। আবার এমন লম্বা সময় না নেওয়া উচিত, যাতে মানুষের মাঝে বিরক্তি না চলে আসে।

৫. হাদীস থেকে বোঝা যায়, উম্মাতে মুহাম্মাদীর মাঝে বিভেদ-বিচ্ছেদ, বিভিন্ন দল-উপদল, এগুলো কোনোভাবে কাম্য নয়। এগুলো মুসলিমদের মূল বৈশিষ্ট্যকে নষ্ট করে দেয়।

14/03/2026

হাদিস-২২→ উত্তম সবরের নমুনা

ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম (রহ) আনাস(রা) এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,

আবূ তালহার এক ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে৷
এরপর আবূ তালহা (কোনো কাজে) বাইরে গেলেন, তখন ছেলেটি মারা গেল।

আবু তালহার স্ত্রী উন্মু সুলাইম তখন ছেলেকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরিয়ে মৃতদেহটি সংরক্ষণ করেন। দেহটি একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন। এরপর বলেন, আবূ তালহাকে ছেলের মৃত্যু সম্পর্কে আমি ছাড়া অন্য কেউ যেন সংবাদ না দেয়।

রাতে আবূ তালহা (তাঁর মাসজিদের কিছু সাথীদের নিয়ে) ফিরলেন। এসে জিজ্ঞেস করলেন: ছেলেটি কী করছে? উম্মু সুলাইম বললেন: সে এখন আগের চেয়ে শান্ত আছে। তারপর তাঁকে রাতের খাবার দিলেন। তিনি আহার করলেন। (অন্য বর্ণনায় এসেছে, মেহমানরা সকলে রাতের খাবার খেয়ে বেরিয়ে যায়।)

তখন উম্মু সুলাইম নিজ স্বামী আবূ তালহার উদ্দেশ্যে অন্যসময়ের তুলনায় একটু বেশি সাজসজ্জা করেন ও সুগন্ধি ব্যবহার করেন। রাতে আবূ তালহা স্ত্রী সহবাস করেন। এরপর ঘুমিয়ে যান।

ভোরে গোসল করে যখন আবু তালহা বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন উম্মু সুলাইম তাকে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শোনান। আর বলেন: আচ্ছা বলুন তো! যদি কোনো সম্প্রদায় তাদের কিছু জিনিস কোনো পরিবারের নিকট ধারস্বরূপ প্রদান করে, এরপর তারা তাদের বস্তু ফিরিয়ে নিতে চায়, তখন কি ওই পরিবার তাদের জিনিস ফিরিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে? আবু তালহা বলেন: না, বরং তারা সম্প্রদায়ের জিনিস ফেরত দেবে।

উম্মু সুলাইম বললেন, আপনার ছেলেও আল্লাহর পক্ষ থেকে ধারস্বরূপ ছিল। তার ব্যাপারেও মনে করুন যে, আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন। এখন তাকে দাফন করে আসুন। এ কথা শুনে আবূ তালহা রেগে গিয়ে বলেন: তুমি তো আমাকে আগে বলোনি। অথচ আমি অপবিত্রও হয়েছিলাম। এখন ছেলের সংবাদ দিচ্ছ? (আবূ তালহা ইন্নালিল্লাহ পড়েন ও আল্লাহর প্রশংসা করেন।) সকাল হলে আবূ তালহা রাসূল(সা)-এর কাছে এসে তাঁকে এ ঘটনা বললেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: গত রাতে তুমি কি স্ত্রীর সঙ্গে রয়েছ? (অন্য বর্ণনায় এসেছে, তোমরা কি মৃত ছেলেকে পাশে রেখেই রাতযাপন করেছ?) তিনি বললেন: হাঁ! নবি বললেন: হে আল্লাহ! তাদের জন্য তুমি বারাকাহ দান করো।

কিছুদিন পর উম্মু সুলাইম একটি সন্তান প্রসব করেন। (রাবী বলেন,) আবূ তালহা আমাকে বলেন, তাকে তুমি দেখাশোনা করো যতক্ষণ না আমি তাকে নবি(সা) এর কাছে নিয়ে যাই। অতঃপর তিনি তাকে নবি(সা) এর কাছে নিয়ে গেলেন। (তখন রাসূল যন্ত্র দিয়ে উট দাগাচ্ছিলেন।) উম্মু সুলাইম সঙ্গে কিছু খেজুর দিয়ে দিলেন।

নবি(সা) তাকে (কোলে) নিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সঙ্গে কিছু আছে কি? তাঁরা বললেন: হাঁ, কিছু খেজুর আছে। তিনি তা নিয়ে চিবালেন এবং মুখ থেকে বের করে বাচ্চাটির মুখে দিলেন। তিনি এর দ্বারাই তার তাহনীক করলেন এবং তার নাম রাখলেন 'আবদুল্লাহ'। (এই আবদুল্লাহ একসময় আনসারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যুবক ছিলেন।)।

13/03/2026

হাদিস-২১ → অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন নয়; অনুসরণেই মুক্তি

ইমাম বুখারি (রহ) ও মুসলিম(রহ) আবূ হুরাইরা (রা) এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) -কে বলতে শুনেছেন, 'আমি তোমাদের যা বারণ করেছি তা হতে বিরত থাকো, এবং যা তোমাদের নির্দেশ করেছি তা যা সম্ভব হয় পালন করো। কেননা, অধিক জিজ্ঞাসা ও স্বীয় নবিগণের সঙ্গে মতবিরোধ তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে৷'

শিক্ষাঃ

১. শরীয়তের বিধানাবলীকে দুভাগে ভাগ করা যায়। কিছু বিষয় যেগুলো ছাড়তে হবে। আর কিছু বিষয় যেগুলো পালন করতে হবে। যেসব বিষয় পরিত্যাগ করার নির্দেশ এসেছে, সেগুলো পরিত্যাগ করা আবশ্যক। আর যেগুলো আদায় করার নির্দেশ এসেছে, সেগুলো শক্তি ও সক্ষমতা অনুযায়ী আদায় করতে হবে।

২. যেসব বিষয় পরিত্যাগ করার কথা এসেছে, সেখানে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ এ কথা বলা হয়নি যে, সামর্থ অনুযায়ী ছাড়তে হবে। বরং এ কাজগুলো কোনো অবস্থাতেই করা যাবে না। (একান্তই বাধ্য না হলে)

৩. যে বিষয় নিষেধ, তার কম-বেশ সবটুকুই নিষেধ। এমন নয় যে, সামান্য হলে করা যাবে। বেশি হলে করা যাবে না। যেমন সুদ হারাম। মদ হারাম। তো এই সুদ ও মদের কম-বেশ সবই হারাম।

৪. বিধি-বিধান পালনে কারও যদি সক্ষমতা থাকে, তথাপি সে দাবী করে যে, সে সক্ষম নয়, তাহলে তার কথা গ্রহণযোগ্য নয়। আর এ কারণে তার দায়িত্ব থেকে বিধানটি বাদ যাবে না। বরং আদায় করতে হবে।

৫. অতিরিক্ত প্রশ্ন করা ধ্বংসের কারণ। বিশেষ করে যেসব বিষয়ে কোনো সঠিক সমাধানে যাওয়া সম্ভব নয়। যেমন অদৃশ্যের বিষয়াবলী, আল্লাহ তাআলার বিভিন্ন সিফাত ইত্যাদি।

৬. পূববর্তী উম্মাত তথা ইহুদী ও খৃষ্টানরা দুটি কারণে ধ্বংস হয়েছে। অতিরিক্ত প্রশ্ন ও নবিদের বিরুদ্ধাচারণ। তবে ইহুদীদের মাঝে এ বৈশিষ্ট্য বেশি ছিল

12/03/2026

হাদিস-২০ → হালাল-হারাম ও অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যপারে করনীয়

নুমান ইবনু বাশীর(রা) বলেন, আমি নবি(সা)-কে বলতে শুনেছি যে, 'নিশ্চয় হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এ উভয়ের মাঝে রয়েছে সন্দেহজনক (অস্পষ্ট) বিষয়, অধিকাংশ লোকই এগুলো জানে না।
যে ব্যক্তি এসব সন্দেহজনক বিষয় থেকে দূরে থাকে সে তার দ্বীন ও মর্যাদাকে নিরাপদে রাখে। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক বিষয়ে পতিত হবে সে হারামের মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়বে।
যেমন কোনো রাখাল সংরক্ষিত চারণভূমির পাশে পশু চরায়, আশঙ্কা রয়েছে সে পশু তার ভেতরে গিয়ে ঘাস খাবে। সাবধান! প্রত্যেক রাজারই সংরক্ষিত এলাকা থাকে। সাবধান! আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর হারামকৃত বিষয়গুলো। জেনে রেখ! দেহের মধ্যে এক টুকরো গোশত আছে, যখন তা সুস্থ থাকে তখন সমস্ত দেহই সুস্থ থাকে। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায় তখন সমস্ত দেহই নষ্ট হয়ে যায়। স্মরণ রেখ! সেটি হলো মানুষের অন্তর।

শিক্ষাঃ

১. মানুষ প্রথমে অবহেলাবশত সন্দেহপূর্ণ কাজগুলো করতে থাকে। পরে সে হারামের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং অভ্যস্ত হয়ে যায়। তারপর হারাম কাজটি হালকা মনে হতে থাকে। এক পর্যায়ে সেটি আর হারাম মনে হয় না। এভাবে হারামকে হালাল মনে করে তাতে জড়িত থাকার ফলে সে কুফরীতে চলে যায়।

২. দুনিয়াতে হারাম বস্তু হচ্ছে সীমিত। আর হালাল অসংখ্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলার নীতি হলো, তিনি হারামের মূলনীতি ও বর্ণনাগুলো বলে দিয়েছেন। হারামের সীমারেখা-চৌহদ্দি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এতে মানুষের জন্য সহজ হয়েছে যে, সীমারেখার ভেতরে হারাম নিয়ে তাদের প্রশ্ন থাকবে না। নবি(সা) এই হারামের সীমারেখার কাছাকাছিও চলতে নিষেধ করেছেন। কারণ হতে পারে সে হারামে পতিত হয়ে যাবে; কিন্তু তার কোনো উপলব্ধিও হবে না।

৩. হাদীসে বলা হয়েছে, অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ জানে না। তাতে বোঝা যায়, কিছু মানুষ অবশ্যই সে বিষয়ে জানেন। আর তারা হলেন, কুরআন-হাদীসের গভীর জ্ঞানের অধিকারী মুজতাহিদ ফুকাহায়ে কেরাম।

৪. একজন সাধারণ মানুষ যখন সন্দেহজনক বিষয়ের সম্মুখীন হবে; যার বৈধতা ও অবৈধতার বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই, তাহলে সে মুজতাহিদ ফকীহ বা বিজ্ঞ মুফতির শরণাপন্ন হবে। সে পর্যন্ত এ কাজ থেকে বিরত থাকা তার জন্য আবশ্যক।
আর যদি এমন হয়, এ প্রসঙ্গে সমকালীন মুফতিদের দুই রকমের মতামত রয়েছে তাহলে তার জন্য যথাসম্ভব এ কাজ পরিহার করা উত্তম৷

৫. এ হাদীস থেকে শারীয়াতের অন্যতম একটা নীতি ও দলীল এসেছে। তা হলো سد الذريعة | সহজভাবে এই মূলনীতির ব্যাখ্যা হলো, একটি কাজ সত্তাগতভাবে বৈধ; কিন্তু তাতে লিপ্ত হলে অন্য একটি হারাম কাজে জড়িত হবার ভয় রয়েছে, তাই সেটি করা যাবে না।
ফুকাহাদের মাসআলায় এর একটা উদাহরণ হলো যেমন, ওযু অবস্থায় গড়গড়া করা ও নাকের ভেতরে পানি পৌঁছানো মুস্তাহাব আমল। কিন্তু এটা রোযা অবস্থায় না করা উচিত। কেননা হতে পারে এটা করতে গিয়ে তার গলায় পানি চলে যাবে এবং রোযা ভেঙে যাবে।

৬. দেহের মাঝে কলব বা অন্তর হলো এমন, যাকে কেন্দ্র করে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিচালিত হয়। অন্তর পরিশুদ্ধ হলে ব্যক্তির কাজকর্ম, আচার-আচরণ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যবহার সঠিক হয়ে যায়। আর অন্তর রোগাক্রান্ত হলে এসব ঠিক থাকে না। এজন্য বলা হয়, (মাঝে মাঝে) মানুষের বাহ্যিক খারাপ অবস্থা তার অভ্যন্তরীণ খারাপ অবস্থাকে প্রকাশ করে।

11/03/2026

হাদিস-১৯→ অমুসলিমকে সালাম দেওয়া প্রসঙ্গে

ইমাম বুখারি(রহ) ও মুসলিম(রহ) আয়িশা(রা) -এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইয়াহুদিদের একটি দল নবি(সা)-এর কাছে এসে বলল: السام عليكم -তোমাদের ওপর মৃত্যু আসুক৷ আয়িশা(রা) বলেন, আমি এ কথার অর্থ বুঝলাম এবং বললাম: وعليكم السام واللعنة -তোমাদের ওপরও মৃত্যু ও লানত আসুক।আয়িশা(রা) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ(সা) বললেন: থাম হে আয়িশা! আল্লাহ সকল কাজে নম্রতা ভালোবাসেন। আমি বললাম : ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি শোনেননি তারা কী বলেছে? রাসূলুল্লাহ বললেন: আমি বলেছি وعليكم -এবং তোমাদের ওপরও।

শিক্ষা:

১. ওপরোক্ত হাদীসে নবি(সা) সংবাদ দিচ্ছেন যে, কাফিররা তাদের অন্তরে মুমিনদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত বিদ্বেষ ও ঘৃণা পোষণ করে। এই কারণে কাফিরদের আগ বাড়িয়ে সালাম দেওয়া তো দূরের কথা, তাদেরকে সালাম দেওয়ারই রীতি নেই। কারণ 'আসসালামু আলাইকুম' শব্দের মাধ্যমে যে দুআ করা হয়েছে কাফিররা কোনোভাবেই এর উপযুক্ত নয়।

অবশ্য কোনো বিধর্মী যদি আগ বাড়িয়ে সালাম প্রদান করে, তাহলে সর্বাবস্থায় (তার সালামের শব্দটি যাই হোক) 'ওয়ালাইকুম' বলে সালামের উত্তর প্রদান করা উচিত। নবি(সা) ইরশাদ করেন : 'তোমরা ইয়াহুদি ও নাসারাদের আগ বাড়িয়ে সালাম দিতে যেও না।'(সহীহ মুসলিম)

২. যেকোনো কথা বা বাক্যের বিকৃতি করা ইহুদিদের একটি স্বভাবগত খারাপ গুণ৷ যেমন- আস সালাম-কে আস-সাম বলা৷

৩. ইহুদীরা সালামের বিষয়ে অন্তরে হিংসা লালন করতো৷ নবি(সা) বলেন, ইহুদীরা সালাম ও (সালাতে) আমিন বলার ওপর সবচেয়ে বেশি হিংসা পোষণ করে৷(ইবনু মাজাহ)

৪. অন্তরের নম্রতা, কোমলতা ও সদয় অবস্থা মানুষকে আল্লাহর প্রিয়পাত্র বানায়। আর যখন কেউ আল্লাহর প্রিয়পাত্র হয়ে যায়, তখন অন্য সবাই তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। একইভাবে দ্বীনের দাওয়াতের ক্ষেত্রেও এই সৎ স্বভাবের বিকল্প নেই। রুঢ় ও শক্তভাবে কথা বললে অনেক সময় মানুষ তা গ্রহণ করার পরিবর্তে প্রত্যাখ্যান করে।

তবে মনে রাখতে হবে, এই নম্রতা ও সদয় অবস্থা যেন দুর্বলতার প্রতীক না হয়ে ওঠে। নম্রতার সাথে সাথে নিজের ব্যক্তিসত্তাকেও ধারণ করতে হয়৷

৫. কেউ অন্যায়ভাবে বদদুআ করলে তা কবুল হবে না৷

Address

Sylhet MAG Osmani Medical College
Sylhet
3100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SOMC Dawah Circle • SDC posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share