Bangladesh Agniveer, Sylhet Division

Bangladesh Agniveer, Sylhet Division A Humanitarian Vedic Approach

#বাংলাদেশ_অগ্নিবীরের_মূলনীতি _লক্ষ্য_ও_উদ্দেশ্য

বাংলাদেশ অগ্নিবীর বৈশ্বিক মানবতা ও ভ্রাতৃত্ববোধে বিশ্বাসী এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে যেকোন ধরনের বৈষম্যকে প্রত্যাখ্যান করে। আমরা "বসুধৈব কুটুম্বকম" সভ্যতার গর্বিত উত্তরসূরি, আমরা এক জাতি, এক পরিবার ও এক মানবতার ধর্মে বিশ্বাসী এবং সেটি হল এক ও অদ্বিতীয় বৈদিক ধর্ম। যা সকল মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখে, যার অনুপ্রেরণা এক ও অদ্বিতীয় নিরাকার সর্বব্য

াপক পরমেশ্বর।

→ মূলনীতি←

(১) বাংলাদেশ অগ্নিবীর বৈদিক মানবতার ধর্মে বিশ্বাসী যা পবিত্র বেদে বর্ণিত হয়েছে এবং যা শান্তি, সহিষ্ণুতা, একতা, সত্যবাদীতা ও সততাকে সমর্থন দেয়। কেউ যদি এর সাথে দ্বিমত হয় তবে তার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা ঐকমত্যে আসতে বিশ্বাসী; অর্বাচীন বাক্যালাপ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনে নয়। যদিও আজ পর্যন্ত বৈদিক মানবতাবাদের ত্রুটি কেউ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি।

(২) অগ্নিবীর পবিত্র বেদে বিশ্বাসী যা মানবজাতির প্রথম ও একমাত্র গ্রন্থ যা ঈশ্বরের প্রেরণায় প্রাপ্ত। অগ্নিবীর অন্য কোন গ্রন্থকেই ঐশ্বরিক বলে বিশ্বাস করেনা এবং এর পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে বলেই তা করে না।

(৩) তবে অগ্নিবীর কাউকে অন্ধভাবে বেদ গ্রহণ করতে বাধ্য করেনা কেননা এটি বেদের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে। বেদকে ঐশ্বরিক গ্রন্থ হিসেবে মানা সিদ্ধান্ত হবে, পূর্বনির্ধারিত অন্ধ বিশ্বাস নয়; এটাই বেদের নীতি। তাই বেদকে ঐশ্বরিক হিসেবে বিশ্বাস করেনা এমন লোকদেরও আমরা সমানভাবে মহৎ ও পুণ্যবান মনে করি। যদি তারা সৎ ও চরিত্রবান হয় এবং শুধু "সত্যকে স্বীকার আর মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান" এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়।

(৪) অগ্নিবীর ঈশ্বর উপাসনা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য যোগের অষ্টনিয়মে বিশ্বাসী।
যেমন—
• যম- অহিংসা, সত্যবাদিতা, চুরি না করা, মজুদ না করা ,আত্মসংযম।
• নিয়ম - চিন্তা এবং মনের বিশুদ্ধতা, আত্মতৃপ্তি, 'আমি এই অহংকারকে' দ্রবীভূত করে ঈশ্বরে সবকিছু উৎসর্গ করা, পরিশ্রম, অন্তর্দর্শন এবং স্বশিক্ষা।
• আসন - দীর্ঘায়িত সময়ের জন্য ধীরভাবে মনঃসংযোগ ক্ষমতা।
• প্রাণায়াম- শ্বাস প্রক্রিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ আনা।
• প্রত্যাহার - বহিরাগত ব্যাঘাতের থেকে মনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।
• ধারনা – ঈশ্বর ধারণায় মনোনিবেশ।
• ধ্যান- ধারাবাহিকভাবে নির্দিষ্ট কিছুতে মনোযোগী হওয়া।
• সমাধি – এমন বিশ্বাস অর্জন যে ঈশ্বর আমাদের মধ্যেই।

(৫) অগ্নিবীর জ্ঞানভিত্তিক বিবর্তন পদ্ধতিতে বিশ্বাস করে এবং জোরপূর্বক বিশ্বাস ও অন্ধবিশ্বাস এর পরিণতি সর্বদা বিপরীত ও অনাকাঙ্ক্ষিতই হয় বলে মনে করে। সেহেতু অগ্নিবীর এর পদ্ধতি হল সবচেয়ে সৎ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে জ্ঞান এবং মানসিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়া।

(৬) অগ্নিবীর বিশ্বাস করে যে "নারীরা পুরুষদের চেয়ে তুলনামূলক অযোগ্য এবং নারীদের পুরুষদের তুলনায় স্বল্প অধিকার প্রাপ্য" এরূপ যারা বিবেচনা করে তারা বেদ বিরুদ্ধ মানসিকতা লালন করে এবং তারা মানবতার সর্ববৃহৎ শত্রু।

(৭) অগ্নিবীর সম্পূর্ণরূপে সেইসব বিকৃতমস্তিস্কদের বিরুদ্ধে যারা জন্মভিত্তিক বর্ণপ্রথা এবং যোগ্যতাবিহীন বংশপরম্পরার ভিত্তিতে নির্ধারিত গুরুবাদে বিশ্বাস করে এবং এর মাধ্যমে বৈষম্যের সৃষ্টি করে। অগ্নিবীর পবিত্র বেদ বর্ণিত কর্ম ও গুণভিত্তিক শ্রমবিভাজন তথা বর্ণাশ্রম ধর্মে বিশ্বাসী, মানবসৃষ্ট ভ্রান্ত অমানবিক জন্মভিত্তিক বর্ণপ্রথায় নয়।

(৮) অগ্নিবীর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে 'মাতৃবৎ পরদারেসু' অর্থাৎ শুধুমাত্র নিজ স্ত্রী (একজন) ছাড়া সকল নারী মাতৃস্বরুপ। যে সকল প্রতিষ্ঠান বা অনুষ্ঠান নারীদের ভোগপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে আমরা তাদের দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি।

(৯) আমরা দুরভিসন্ধিযুক্ত অপপ্রচারকারীদের করা বেদের অশুদ্ধ অনুবাদকে অগ্রহণযোগ্য মনে করি এবং মহর্ষিগণ কর্তৃক অনুবাদিত এবং ভাষ্যকৃত বেদাঙ্গ,নিরুক্তসহ বৈদিক প্রমাণ আশ্রিত বেদ অনুবাদ অনুসরণ করি।

(১০) অগ্নিবীর বদ্ধ মানসিকতায় বিশ্বাসী নয় এবং নিজেদের মতকেই চূড়ান্ত মত বলে দাবী করেনা। আমরা যৌক্তিক আলোচনায় বিশ্বাসী এবং যেকোন প্রমাণিত সত্যকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত। সনাতন সম্প্রদায়ের সকল মার্গকেই অগ্নিবীর নিজের ভ্রাতৃসুলভ মনে করে এবং সমগ্র মানবজাতিকে অমৃতের সন্তান হিসেবে শ্রদ্ধা করে।

(১১) সমালোচনা অর্থই ঘৃণা নয়। আমরা এমনকি আমাদের পিতা-মতার সাথেও কোন বিষয়ে বিতর্ক করতে পারি কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা তাঁদের ঘৃণা করি। তাই প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আমাদের বেদের আদর্শভিত্তিক বক্তব্যসমূহকে নিন্দা বা ঘৃণার চোখে না দেখে যৌক্তিকতার চোখে দেখার আহ্বান জানাই। বৈদিক সত্যের শুভ্র সৈনিক অগ্নিবীরেরা কোনপ্রকারেই কারো সাথে অশালীন তর্ক,অযৌক্তিক বাক্যালাপ,কারো মতকে কুৎসিতভাবে আঘাত করতে পারেনা; বরং শান্তিপূর্ণ সুন্দর আলোচনা করতে পারে মাত্র।

(১২) সর্বশেষে অগ্নিবীর কোন বদ্ধ সংগঠন নয় বরং এটি একটি উন্মুক্ত ধারণা। আপনি যদি বৈদিক যৌক্তিকতার মতে বিশ্বাসী হন ও বাংলাদেশ অগ্নিবীর এর মূলনীতির অনুসারী হন তবে আপনিও একজন অগ্নিবীর! আমরা সকলে অহিংস হই, আমরা একে অপরের শত্রুভাবাপন্ন না হই, আমরা সকলের কল্যাণ কামনা করি, আমরা সকলকে নিজ পরিবারের সদস্য মনে করি। শান্তি, সহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা হোক আমাদের অস্ত্র।

→ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ ←

(১) সনাতন ধর্ম বেদমূলক । "বেদ অখিলো ধর্মমূলম্" - তাই সকল শাস্ত্র বৈদিক সিদ্ধান্তের অনুকুল ভাবেই মান্য করা বিহিত । বর্তমানে বৈদিক সিদ্ধান্তের নামে এবং আড়ালে অনেক সংস্কার ও বিচারধারা প্রবর্তিত হয়েছে যা কুসংস্কার ও সম্প্রদায়গত মতভেদের জন্ম দিয়েছে । তাই বেদের সর্ব প্রামাণ্যতা কথায় নয় বরং কাজে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের সর্বপ্রথম লক্ষ্য ।

(২) "পূর্বেষামপি গুরুঃ কালেনানবচ্ছেদাৎ।
(যোগদর্শন ১/২৬)
অর্থ = সেই ঈশ্বরই সকল গুরুরও গুরু, কেননা কালের দ্বারা তার অবচ্ছেদ নেই।
বর্তমানে অন্ধবিশ্বাসী গুরুবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা । যোগী, তপস্বী, বেদজ্ঞ গুরুদেব বা আচার্য শিষ্যকে পরমাত্মা প্রাপ্তির পথ দেখাতে পারেন, ভগবদ্ভক্ত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন, বেদানুকূলভাবে পঞ্চমহাযজ্ঞ সম্বলিত জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতে পারেন কিন্তু তাঁর বক্তব্যই শেষ কথা নয় সাথে যুক্তি ও শাস্ত্রীয় প্রামাণ্যতাও আবশ্যক । বর্তমানে অনেক নিজস্ব মতবাদপুষ্ট, বেদবিরোধী­ গুরুবাদের উদ্ভব হয়েছে এবং গুরুকে ঈশ্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে বৈদিক সনাতন সিদ্ধান্তে অনৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে যা দূর করা অত্যন্ত অত্যাবশ্যক ও দূরীকরণ করা আমাদের লক্ষ্য ।

(৩) বেদবিরুদ্ধ পশুবলি প্রথার বিলোপ এবং বেদানুকূল সাত্ত্বিক খাদ্য গ্রহণে উৎসাহীকরণ । খাদ্য বিচার নিয়ে সম্প্রদায়গত মতভেদ নির্মূলীকরণ ।

(৪) "জন্ম নয় বরং কর্ম ও গুণে ই বর্ণ" - এই মূলনীতিকে সামনে রেখে কর্ম ও গুণের ক্রমবিকাশের ওপর ভিত্তি করে উপনয়ন, বিবাহ সংস্কারাদি পরিচালনা করা এবং পর্যায়ক্রমে সকল সনাতনীকে ষোড়শ সংস্কারের আওতায় আনা।

(৫) সর্বস্তরে বেদ ও তদানুকূল শাস্ত্রের প্রচার -প্রসার এবং সংস্কৃত শিক্ষা প্রদান, তার জন্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসূত্রানুযায়ী পাঠদান। বর্তমান শাস্ত্রবিমুখদের মধ্যে শাস্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করা। পারিবারিকভাবে সন্তানদের শাস্ত্রশিক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।

(৬) সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক ও কর্মক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা ।

(৭) নারী পুরুষের সমান মৌলিক অধিকার -যজ্ঞ,পেশা,সংস্কার থেকে শুরু করে সম্পত্তির উত্তরাধিকারীকরণ পর্যন্ত নিশ্চিত করা । বিশেষতঃ সম্পত্তির উত্তরাধিকার সনাতন ধর্মালম্বনকারী সন্তানই হবে, ব্যতিক্রমীরা নয় তা নিশ্চিতকরণ ।

(৮) বাল্যবিবাহ বিলোপ,সমাজ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিজ সুরক্ষায় নিজেদেরই সমর্থ করা এবং সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকরণ

(৯) ভিন্ন উগ্রবাদী মতবাদ কর্তৃক প্রচারিত অপপ্রচার ও চেতনা পরিবর্তনের মাধ্যমে ধর্মান্তরকরণ [পড়ুন মতবাদের অনুসারীকরণ; কারণ মানবধর্ম একমাত্র বৈদিক সনাতন ধর্ম,অন্য সকল "ধর্ম" মতবাদ মাত্র] রোধ ও সত্য প্রতিষ্ঠা ।

(১০) সদ গ্রন্থ পাঠ ও বিবেকীপুরুষের মাধ্যমে অতীতে "ধর্মান্তরিত" বা নতুন শুভাগতদের শুদ্ধি যজ্ঞের মাধ্যামে আইনি ব্যবস্থা ও ধর্মীয়ভাবে মানসিক পরিশুদ্ধিকরণ বাস্তবায়ন করে সামাজিক ভাবে গ্রহণ ।

(১১) পরমেশ্বর ও বেদমাতার বাক্য শিরোধার্য করে "এক মত, এক চিত্ত,এক আহার,এক লক্ষ্য ও এক মিলন ভূমি " প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সনাতনের ঐক্য সাধন৷

(১২) পরমেশ্বরের শ্রেষ্ঠ নাম - ও৩ম
এক মহামন্ত্র - গায়ত্রী এই লক্ষ্যদ্বয় বাস্তবায়ন করে ঐক্য সাধন।

সবাইকে নমস্কার।

বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক

ও৩ম্ ইন্দ্রং মিত্রং বরুণমগ্নিমাহুরথো দিব্যঃ স সুপর্ণো গরুত্মান্।একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি অগ্নিং য়মং মাতরিশ্বানামাহুঃ।...
25/08/2026

ও৩ম্ ইন্দ্রং মিত্রং বরুণমগ্নিমাহুরথো দিব্যঃ স সুপর্ণো গরুত্মান্।
একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি অগ্নিং য়মং মাতরিশ্বানামাহুঃ।।
-(ঋগ্বেদ ১.১৬৪.৪৬)

অনুবাদ: এক সত্য পরব্রহ্মকে জ্ঞানীরা ইন্দ্র, মিত্র, বরুণ, অগ্নি, দিব্য, সুপর্ণ, গরুৎমান, যম, মাতরিশ্বা আদি বহু নামে অভিহিত করেন।

জন্মাষ্টমীর বিশেষ উপহার নিয়ে আসল বাংলাদেশ অগ্নিবীর।যদিহাস্তি তদন্যত্র যন্নেহাস্তি ন কুত্রচিৎ, যা এখানে নেই, তা কোথাও নেই...
24/08/2026

জন্মাষ্টমীর বিশেষ উপহার নিয়ে আসল বাংলাদেশ অগ্নিবীর।

যদিহাস্তি তদন্যত্র যন্নেহাস্তি ন কুত্রচিৎ, যা এখানে নেই, তা কোথাও নেই। এমনই আত্মবিশ্বাস ভারত সংহিতার জনৈক কবির। হবে না ই বা কেন, চতুর্বিংশ সহস্র শ্লোকে যে ভারত সংহিতা মহর্ষি ব্যাসদেব লিখে গিয়েছিলেন, তা শত শত বছর ধরে শত শত কবির লেখা সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি, জীবনাচরণ, মনস্তত্ত্ব, সুখ, দুঃখ, হাসি, বেদনার গল্পকে নিজ বক্ষে যুক্ত করে এমন বিরাটাকার ধারণ করে যে মনে হয় এর না আছে আদি, না আছে অন্ত। আর তখনই ব্যাসদেব রচিত ইতিহাস গ্রন্থ ভারত সংহিতা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মহাকাব্য, জীবন্ত এনসাইক্লেপিডিয়া মহাভারত হয়ে উঠে। আজও আমরা তাই বলি -যা নেই ভারতে, তা নেই ভারতে অর্থাৎ যা মহাভারতে নেই, তা আর কোথাও নেই।

ধর্মে চ অর্থে চ কামে চ মোক্ষে চ ভরতর্ষভ, হে ভরতবংশের শ্রেষ্ঠ, ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ, সবই আছে এই মহাভারতে, এমনটাই রাজা জনমেজয়কে বলেছেন মহাভারতের বর্ণনাকারী বৈশম্পায়ন। ডাচ ইন্ডোলজিস্ট ভ্যান বুইতেনেন মহাভারতকে তুলনা করেছেন একটি মহাবৈশ্বিক আয়নার সাথে যাতে প্রতিফলিত হয় সমগ্র মহাবিশ্বের সবকিছু। এই সুবৃহৎ কলেবর মহাভারতকে করে তুলেছে এক অপূর্ব বিশ্বকোষ, মানব জীবনের নানা দিককে কখনও বাস্তব ঘটনা, কখনও অতিপ্রাকৃত উপাদান মিশ্রিত আখ্যানসহ এত সুনিপুণ ভাবে উপস্থাপনের নজির বিশ্বে আর নেই। ব্যাসদেবের রচিত মূল ভারত সংহিতাকে ঘিরে গড়ে উঠা এই মহাকাব্যের জনপ্রিয়তা প্রাচীনকাল হতেই প্রজন্ম হতে প্রজন্মান্তরে তুমুল। তাই মহাভারতের এক কবি বলেছেন-

আচক্ষ্যুঃ কবয়ঃ কেচিৎ সংপ্রত্যাচক্ষতে পরে।
আখ্যাস্যস্তি তথৈবান্যে ইতিহাসমিমং ভূবি।।

কবিগণ অতীতে এই ইতিহাস বর্ণনা করেছেন, বর্তমানেও বর্ণনা করছেন, ভবিষ্যতেও পৃথিবীতে কবিগণ এই ইতিহাস বর্ণনা করবেন।

আর তাই দেখি উপমহাদেশের প্রতিটা স্থানে মহাভারতের শত শত প্রাচীন পুঁথি, স্থানীয় সংস্করণ পাওয়া যায়। তবে যুগে যুগে শত শত কবির যোগ করা বিন্দু বিন্দু আখ্যানে গড়ে ওঠা এই মহাসাগর যেমন মহাভারতকে করে তুলেছে বৈচিত্রময়, আবার একইসাথে তা মহর্ষি ব্যাসদেবের রচিত মূল ভারত সংহিতা নামক নিউক্লিয়াসটিকে নিমজ্জিত করেছে আড়ালে, ভারত সংহিতার ঐতিহাসিকতাকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে প্রাচ্যতত্ত্ববিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ, ভাষাবিদ ও জেনেটিক সায়েন্টিস্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই ক্ষয়ক্ষতির সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যেই মহাভারতের ক্রিটিকাল ইডিশন, হস্তিনাপুর, কুরুক্ষেত্র সহ মহাভারতের স্থানসমূহের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া প্রমাণাদি, ভাষাতাত্ত্বিকদের কর্তৃক মহাভারতের আদিতম স্তরগুলোকে আলাদাভাবে শনাক্তকরণ ও জেনেটিক সায়েন্টিস্টদের দ্বারা হস্তিনাপুর ও সিনৌলীর খননে প্রাপ্ত দেহাবশেষে আর্য আক্রমণ তত্ত্বের ভুল প্রমাণিত হওয়া, যুদ্ধের রথের ধ্বংসাবশেষ, সুশৃঙ্খলিত মৃতদেহ সৎকার প্রথা ও বিবাহ প্রথার প্রমাণ পাওয়া মহাভারত গবেষণা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রাপ্তি।

এইসব কিছুর আলেচনাতেও একটি কথা অনস্বীকার্য আর তা হলো মহাভারতের অনন্য সাহিত্যিক ও দার্শনিক তাৎপর্য। মানব জীবনের সমস্ত দিক নিয়ে মহাভারতকালীন বিদগ্ধ ব্যক্তিদের দিকনির্দেশনা মূলক বাণীসমূহ দিয়ে সমৃদ্ধ এই মহাকাব্য। বিশেষ করে বিশ্ব ইতিহাসের অতুলনীয় ধর্মবিদ ও রাজনীতিজ্ঞ যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের দর্শন ও শিক্ষাসূচক বাণীসমূহ যা ভগবদগীতার ওই ১৮ টি অধ্যায়ে নেই, সে সমস্ত বাণীসমূহ আমরা খুব কমই জানি। এছাড়াও বিদুর, পিতামহ ভীষ্ম, বিদুর, মহর্ষি ব্যাস সহ মহাভারতকালীন বিভিন্ন কালজয়ী পণ্ডিত ব্যক্তিদের চিন্তা, দর্শন, দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে এমন শত শত বাণীতে। সেই সমস্ত বাণীরই একটি সমৃদ্ধ সংকলন আমাদের লেখক শ্রী বিপ্লব আর্য ও তাঁর দল তুলে নিয়ে এসেছেন এই পুস্তকটিতে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ অগ্নিবীরের এই উপহার প্রকাশিত হবে আপনাদের জন্য। গ্রন্থটির প্রণামী ২৫০/-।
আমাদেরই প্রকাশিত যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণনীতি সহ নিলে দুইটি বইয়ের মোট প্রণামী ৩৩০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা। আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগা ও মহাভারত শিক্ষায় আত্মদর্শনের উন্নতিতে এই গ্রন্থটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

এই মিথ্যাচারী দাবি করছে, বাংলাদেশের হিন্দুরা নাকি বাংলাদেশকে ভালোবাসে না, দেশের পক্ষে কথা বলে না। দেশের বিপক্ষে কথা বলে।...
23/08/2026

এই মিথ্যাচারী দাবি করছে, বাংলাদেশের হিন্দুরা নাকি বাংলাদেশকে ভালোবাসে না, দেশের পক্ষে কথা বলে না। দেশের বিপক্ষে কথা বলে। এমনকি বাংলাদেশের হিন্দুরা নাকি মুসলিমদের সাথে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বাধিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই স্লোগান দেবে!

বৈশাখনন্দনকে প্রশ্ন করি, এসব উদ্ভট দাবির প্রমাণ কোথায়? প্রমাণ ছাড়া মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে যত খুশি চিৎকার করলেই কোনো মিথ্যা সত্য হয়ে যায় না। হিন্দুদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো এত বড় অভিযোগ তুলছ, তাহলে সন্দেহের যৌক্তিক কারণ দেখাও? মানে হিন্দুরা বাংলাদেশের এ পর্যন্ত ইতিহাসে কি আগে এমন কিছু করেছে যার কারণে তুমি এত বড়ো মনগড়া অভিযোগ হিন্দুদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছো?

বাংলাদেশের হিন্দুরা এই দেশের সুনাগরিক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের প্রশ্নে তাদের অবস্থান নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ষড়যন্ত্রের গল্প বানানো হয়েছে, সন্দেহ ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষতি করার অভিযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির করতে পারেনি কেউ। তুমিও পারবে না হা’রামজাদা।

তাই রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের হিন্দুদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের কোণঠাসা করার চেষ্টা বন্ধ করো। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য মিথ্যা আশঙ্কা আর সাম্প্রদায়িক সন্দেহ ছড়ানো খুবই নিকৃষ্ট মানের একটি অপকর্ম। যেহেতু পিনাকী ভত্তাচারজো, তোমার রুহানি **, তোমার কাছে ভালো হিন্দু তাই অন্য কোনো হিন্দুকেই তোমার ভালো লাগবে না স্বাভাবিক। না লাগতেই পারে। কিন্তু দুইটা প্রমাণ ছাড়া দুইশটা মিথ্যা অভিযোগ করো কোন সাহসে?

হিন্দুরা বাংলাদেশকে ভালোবাসে, তারা বাংলাদেশের হয়ে কথা বলতে চায়, এসব কথা হিন্দুরা তোমাকে বলতে যাবে কেন? Who are you?
bl’oody bas’tard!

🔰প্রশ্ন: ধর্মের লক্ষণ কী ? ধর্ম সনাতন নাকি পরমেশ্বরকৃত বা মনুষ্যকৃত ? 🌸মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী: পক্ষপাতরহিত ন্যায়— যাতে স...
22/08/2026

🔰প্রশ্ন: ধর্মের লক্ষণ কী ? ধর্ম সনাতন নাকি পরমেশ্বরকৃত বা মনুষ্যকৃত ?

🌸মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী: পক্ষপাতরহিত ন্যায়— যাতে সত্য গ্রহণ ও মিথ্যার পরিত্যাগ রয়েছে সেটিই ধর্মের লক্ষণ; তাই তা সনাতন, ঈশ্বরপ্রোক্ত ও বেদপ্রতিপাদিত; মানবকল্পিত কোনো ধর্ম নেই।

📖সূত্র: মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর জীবনচরিত ~ পণ্ডিত লেখরাম, পৃষ্ঠা ৪৮৪

বাংলাদেশ অগ্নিবীর, সিলেট বিভাগীয় শাখার আগস্ট মাসের তৃতীয় সাপ্তাহিক স্বাধ্যায় অনুষ্ঠিত। উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা...
21/08/2026

বাংলাদেশ অগ্নিবীর, সিলেট বিভাগীয় শাখার আগস্ট মাসের তৃতীয় সাপ্তাহিক স্বাধ্যায় অনুষ্ঠিত।
উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা এবং আগামী স্বাধ্যায়ে সবাইকে অগ্রিম নিমন্ত্রণ জানাই।🙏

📖 সাপ্তাহিক স্বাধ্যায় ও অগ্নিহোত্র  🚩🚩📅 তারিখ: ২১/০৮/২০২৬, শুক্রবার।⏰ সময়: বিকাল ৫:০০ টা📍 স্থান: দশনামী আখড়া, লামাবাজার,...
20/08/2026

📖 সাপ্তাহিক স্বাধ্যায় ও অগ্নিহোত্র 🚩🚩

📅 তারিখ: ২১/০৮/২০২৬, শুক্রবার।
⏰ সময়: বিকাল ৫:০০ টা
📍 স্থান: দশনামী আখড়া, লামাবাজার,সিলেট।

সূচি:
১। সমবেত ঈশ্বরস্তুতিপ্রার্থনাউপাসনা
২। অগ্নিহোত্র
৩। "পুনর্জন্ম" বিষয়ক স্বাধ্যায়
৪। প্রশ্নোত্তর
৫। ব্রহ্মসংগীত
৬। যজ্ঞাবশিষ্ট আপ্যায়ন

উক্ত আয়োজনসমূহে আপনারা সবাই সাদরে আমন্ত্রিত। স্বাধ্যায়ে আসুন,উত্তম কর্ম ও সংস্কার জানুন🙏

আমন্ত্রণক্রমে: বাংলাদেশ অগ্নিবীর, সিলেট বিভাগীয় শাখা 🕉️

20/08/2026
17/08/2026

কি সুন্দর তাই না?? 😍
দেখলেই মনটা ভরে যায়। 🥰
আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্তত আমরা ধর্মীয় সঠিক শিক্ষাটুকু দিতে পারছি, যা আমরা পাই নি। কতো সুন্দর করে ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা ও৩ম্ জপ করছে, ঈশ্বরস্তুতিপ্রার্থনাউপাসনা করছে, গায়ত্রী মন্ত্র জপ করছে আবার ভোজনের পূর্বে বেদমন্ত্র উচ্চারণপূর্বক আহার করছে। বিষয়গুলো কি কম প্রশান্তির??

এটা বাংলাদেশ অগ্নিবীর, সিলেট বিভাগীয় শাখার তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গলে পরিচালিত 'জ্ঞানমুদ্রা বেদ ও গীতা শিক্ষা পরিবার' এর সাপ্তাহিক ক্লাসের মূহুর্ত। শীঘ্রই এদের পরীক্ষা শেষে নতুন ব্যাচ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
আপনার সন্তানকে ছোট থেকেই বেদ শিক্ষা প্রদান করুন।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত বুরুয়া গ্রাম। এই গ্রামেরই এক নারী নিজের জীবনের সব ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বি...
16/08/2026

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত বুরুয়া গ্রাম। এই গ্রামেরই এক নারী নিজের জীবনের সব ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছেন অন্য এক মহৎ উদ্দেশ্যে। তিনি কুমারী রেখা রানী ওঝা। সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মেয়েদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে নিজে কখনো বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি। শুধু তাই নয়, নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের তিলে তিলে জমানো সব অর্থ এবং অবসরের পর পাওয়া পেনশনের টাকা বিলিয়ে দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
স্যালুট❤️

যে দেশে বেদ-বিদ্যার জিতেন্দ্রিয় বিদ্বান থাকে না, ওই দেশে পাখন্ডী, ধূর্ত আর দূরাচারী লোক গুরু সেজে সমাজকে ঠকায়।- মহর্ষি দ...
15/08/2026

যে দেশে বেদ-বিদ্যার জিতেন্দ্রিয় বিদ্বান থাকে না, ওই দেশে পাখন্ডী, ধূর্ত আর দূরাচারী লোক গুরু সেজে সমাজকে ঠকায়।

- মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী

Address

Sylhet

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangladesh Agniveer, Sylhet Division posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share