24/08/2026
জন্মাষ্টমীর বিশেষ উপহার নিয়ে আসল বাংলাদেশ অগ্নিবীর।
যদিহাস্তি তদন্যত্র যন্নেহাস্তি ন কুত্রচিৎ, যা এখানে নেই, তা কোথাও নেই। এমনই আত্মবিশ্বাস ভারত সংহিতার জনৈক কবির। হবে না ই বা কেন, চতুর্বিংশ সহস্র শ্লোকে যে ভারত সংহিতা মহর্ষি ব্যাসদেব লিখে গিয়েছিলেন, তা শত শত বছর ধরে শত শত কবির লেখা সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রাজনীতি, জীবনাচরণ, মনস্তত্ত্ব, সুখ, দুঃখ, হাসি, বেদনার গল্পকে নিজ বক্ষে যুক্ত করে এমন বিরাটাকার ধারণ করে যে মনে হয় এর না আছে আদি, না আছে অন্ত। আর তখনই ব্যাসদেব রচিত ইতিহাস গ্রন্থ ভারত সংহিতা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মহাকাব্য, জীবন্ত এনসাইক্লেপিডিয়া মহাভারত হয়ে উঠে। আজও আমরা তাই বলি -যা নেই ভারতে, তা নেই ভারতে অর্থাৎ যা মহাভারতে নেই, তা আর কোথাও নেই।
ধর্মে চ অর্থে চ কামে চ মোক্ষে চ ভরতর্ষভ, হে ভরতবংশের শ্রেষ্ঠ, ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ, সবই আছে এই মহাভারতে, এমনটাই রাজা জনমেজয়কে বলেছেন মহাভারতের বর্ণনাকারী বৈশম্পায়ন। ডাচ ইন্ডোলজিস্ট ভ্যান বুইতেনেন মহাভারতকে তুলনা করেছেন একটি মহাবৈশ্বিক আয়নার সাথে যাতে প্রতিফলিত হয় সমগ্র মহাবিশ্বের সবকিছু। এই সুবৃহৎ কলেবর মহাভারতকে করে তুলেছে এক অপূর্ব বিশ্বকোষ, মানব জীবনের নানা দিককে কখনও বাস্তব ঘটনা, কখনও অতিপ্রাকৃত উপাদান মিশ্রিত আখ্যানসহ এত সুনিপুণ ভাবে উপস্থাপনের নজির বিশ্বে আর নেই। ব্যাসদেবের রচিত মূল ভারত সংহিতাকে ঘিরে গড়ে উঠা এই মহাকাব্যের জনপ্রিয়তা প্রাচীনকাল হতেই প্রজন্ম হতে প্রজন্মান্তরে তুমুল। তাই মহাভারতের এক কবি বলেছেন-
আচক্ষ্যুঃ কবয়ঃ কেচিৎ সংপ্রত্যাচক্ষতে পরে।
আখ্যাস্যস্তি তথৈবান্যে ইতিহাসমিমং ভূবি।।
কবিগণ অতীতে এই ইতিহাস বর্ণনা করেছেন, বর্তমানেও বর্ণনা করছেন, ভবিষ্যতেও পৃথিবীতে কবিগণ এই ইতিহাস বর্ণনা করবেন।
আর তাই দেখি উপমহাদেশের প্রতিটা স্থানে মহাভারতের শত শত প্রাচীন পুঁথি, স্থানীয় সংস্করণ পাওয়া যায়। তবে যুগে যুগে শত শত কবির যোগ করা বিন্দু বিন্দু আখ্যানে গড়ে ওঠা এই মহাসাগর যেমন মহাভারতকে করে তুলেছে বৈচিত্রময়, আবার একইসাথে তা মহর্ষি ব্যাসদেবের রচিত মূল ভারত সংহিতা নামক নিউক্লিয়াসটিকে নিমজ্জিত করেছে আড়ালে, ভারত সংহিতার ঐতিহাসিকতাকে করেছে প্রশ্নবিদ্ধ। তবে প্রাচ্যতত্ত্ববিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ, ভাষাবিদ ও জেনেটিক সায়েন্টিস্টদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই ক্ষয়ক্ষতির সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যেই মহাভারতের ক্রিটিকাল ইডিশন, হস্তিনাপুর, কুরুক্ষেত্র সহ মহাভারতের স্থানসমূহের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া প্রমাণাদি, ভাষাতাত্ত্বিকদের কর্তৃক মহাভারতের আদিতম স্তরগুলোকে আলাদাভাবে শনাক্তকরণ ও জেনেটিক সায়েন্টিস্টদের দ্বারা হস্তিনাপুর ও সিনৌলীর খননে প্রাপ্ত দেহাবশেষে আর্য আক্রমণ তত্ত্বের ভুল প্রমাণিত হওয়া, যুদ্ধের রথের ধ্বংসাবশেষ, সুশৃঙ্খলিত মৃতদেহ সৎকার প্রথা ও বিবাহ প্রথার প্রমাণ পাওয়া মহাভারত গবেষণা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রাপ্তি।
এইসব কিছুর আলেচনাতেও একটি কথা অনস্বীকার্য আর তা হলো মহাভারতের অনন্য সাহিত্যিক ও দার্শনিক তাৎপর্য। মানব জীবনের সমস্ত দিক নিয়ে মহাভারতকালীন বিদগ্ধ ব্যক্তিদের দিকনির্দেশনা মূলক বাণীসমূহ দিয়ে সমৃদ্ধ এই মহাকাব্য। বিশেষ করে বিশ্ব ইতিহাসের অতুলনীয় ধর্মবিদ ও রাজনীতিজ্ঞ যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের দর্শন ও শিক্ষাসূচক বাণীসমূহ যা ভগবদগীতার ওই ১৮ টি অধ্যায়ে নেই, সে সমস্ত বাণীসমূহ আমরা খুব কমই জানি। এছাড়াও বিদুর, পিতামহ ভীষ্ম, বিদুর, মহর্ষি ব্যাস সহ মহাভারতকালীন বিভিন্ন কালজয়ী পণ্ডিত ব্যক্তিদের চিন্তা, দর্শন, দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে এমন শত শত বাণীতে। সেই সমস্ত বাণীরই একটি সমৃদ্ধ সংকলন আমাদের লেখক শ্রী বিপ্লব আর্য ও তাঁর দল তুলে নিয়ে এসেছেন এই পুস্তকটিতে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ অগ্নিবীরের এই উপহার প্রকাশিত হবে আপনাদের জন্য। গ্রন্থটির প্রণামী ২৫০/-।
আমাদেরই প্রকাশিত যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণনীতি সহ নিলে দুইটি বইয়ের মোট প্রণামী ৩৩০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা। আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগা ও মহাভারত শিক্ষায় আত্মদর্শনের উন্নতিতে এই গ্রন্থটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।