01/08/2025
ছোট্ট আমির।
৮ বা ৯ বছরের ছোট্ট একটা ছেলে, নাম আমির।
যু&দ্ধ ও অভাব তার শৈশব কেড়ে নিয়েছে,তীব্র ক্ষুধার মুখে কিছু খাবার জোগাড় করাই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
মে মাসের এক গরম দিনে,নিঃস্ব, দুর্বল, হাড্ডিসার আমির খালি পায়ে বেরিয়ে পড়ে।গন্তব্য ১২ কিলোমিটার দূরের এক খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র।
পায়ে র*ক্ত, মুখে ধুলোর স্তর, আর চোখে একরাশ আশাভরসা।যদি একটু খাবার জোটে!
কোনো নিরাপত্তা নেই, আশেপাশে গর্জে উঠছে যুদ্ধবিমান কখনো গুলি, তবু সে হাঁটে।
খুব কষ্টে সে পৌঁছায় ত্রাণকেন্দ্রে।
অন্য হাজার মানুষের সঙ্গে ঠেলাঠেলি করে একটা অর্ধেক ভর্তি চালের ব্যাগ আর সামান্য ডাল জোগাড় করে।
তখন তার মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে।
হঠাৎ তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বিদেশি সেনা মার্কিন সেনা অ্যান্তনি আগুইলার।যিনি খাদ্য সংগ্রহে তাকে সাহায্য করেছিলি।
আমির তার দিকে এগিয়ে আসে,তার রুক্ষ, ধুলোমাখা ছোট্ট হাত দিয়ে সেনার হাতটা ধরে, তারপর মাথা নিচু করে হাতটা চুমু খায়।
ধন্যবাদ জানায় খাবারের জন্য।চোখে ছিল ছোট্ট একটা ভাষা, সে বাঁচতে চায়।
এরপর আমির ঘুরে দাঁড়ায়।তার হাতে ছোট্ট চাল-ডালের ব্যাগটা শক্ত করে চেপে ধরে।আর ফের শুরু করে সেই ১২ কিলোমিটার পথ হাঁটা,পিছনে অপেক্ষায় থাকা মায়ের কাছে ফিরবে বলে।
গল্পটা এখানে থেমে যেতে পারত। ছোট্ট একজীবনে এতটুকু দু:খ অনেক ছিল। কিন্তু...
খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে ই'স'রা'য়ে'লি সৈন্যরা হঠাৎই গুলি ছুঁড়তে থাকে জনতার ভিড়ে।তাদের ছত্রভঙ্গ করতে মরিচ গ্যাস, শব্দবোমা, এমনকি মর্টার শেল পর্যন্ত ছোঁড়ে।
অ্যান্তনি বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলেন আমিরের দিকে এবং তার চোখের সামনেই…
আমির পড়ে যায়।
তার হাতে তখনো ধরা ছিল সেই অর্ধেক বস্তা চাল।
তার ছোট ক্ষুধার্ত শরীরটি গুলির আঘাতে লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।
রক্তে ভেসে যায় ধুলো,ভেসে যায় স্বপ্ন,একটি সন্তান আর তার পরিবারের একমুঠো আহারের আশা।
আমির আর বাড়ি ফিরতে পারেনি।
তার জন্য অপেক্ষায় থাকা মা, বোনেরা আরেকটি খালি প্লেট নিয়ে বসে আছেন হয়ত...
এ হাজার হাজার আমিরের ভাগ্যে একই পরিহাস প্রতিদিন যা বিশ্ববাসী স্ক্রিনে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।অত:পর পেট ভরে খেয়ে সন্তান বুকে নিয়ে ঘুমাতে যায়।
আর যারা খালি পায়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে যায় খাবারের খোঁজে, গুলি খেয়ে পথেই পড়ে থাকে;যেন তারা কখনো পৃথিবীতেই ছিল না।😢😢