22/07/2026
"মক্তব শিক্ষা ও কে.জি স্কুল: একটি পর্যালোচনা”
-মাওলানা মো: ফরিদ উদ্দীন
মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে সতর্ক করে বলেছেন,
إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَاللَّهُ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٍ
"নিশ্চয় তোমাদের ধন সম্পদ এবং তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের জন্য পরীক্ষা। তবে আল্লাহর নিকট তোমাদের জন্য রয়েছে মহান প্রতিদান"।
জগতের মানব শিক্ষক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-أدبوا أولادكم على ثلاث خصال حُبّ نبيكم وحبّ أهل بيته وقراءة القرآن
তোমাদের সন্তানদেরকে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলো; তোমাদের নবী ও নবীর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং কোরআন তেলাওয়াত।"
আল্লাহপাক ও তাঁর রাসূলের এই দুটো বাণী মাথায় রেখে আমরা সামনে অগ্রসর হই।
একটি মুসলিম শিশুর জীবন গঠনের জন্য মক্তব শিক্ষা যেমন প্রয়োজন তেমনি বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় কে.জি স্কুলের শিক্ষাও প্রয়োজন। যেকোনো একটি তার জীবনের জন্য কমপ্লিমেন্টারি নয় বরং পূর্ণতার জন্য উভয় শিক্ষাই তাকে গ্রহণ করতে হবে। কেন প্রয়োজন, কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় সে তথ্যগত আলোচনা এখানে করছিনা। তবে সংক্ষেপে এটুকু বলে রাখছি, যারা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে জিইয়ে রাখতে, সন্তানদের মুসলিম উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যেতে এবং পড়ন্ত বেলায় নিজের ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ পেতে চান তারা অবশ্যই মক্তব শিক্ষা চাইবেন। একই সাথে শিক্ষার্থীর জাগতিক শিক্ষার মানসম্মত ভিত গড়ার জন্যও কে.জি স্কুলের শিক্ষা চাইবেন। এ বাস্তবতা মুসলিম বিশ্বের সকল দেশ এবং সকল সমাজেই বিদ্যমান। যেহেতু একই সময়ে অর্থাৎ ভোর বেলা উভয় প্রতিষ্ঠান শুরু হয় এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাই আমরা শিশুদের জন্য চাই সেহেতু শিশুকে কোথায় পাঠাবো এর জবাব আমাদেরকে প্রস্তুত করতে হবে।
অন্যান্য দেশ ও মুসলিম সমাজ, বিশেষত: আরব দেশগুলো এর উত্তর খুঁজে বের করে নিয়েছে। পেছনে পড়ে রয়েছি আমরা। ফেইসবুক ও ইন্টারনেটের সুবাদে আমরা দেখতে পাচ্ছি যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ক্ষুধাক্লিষ্ট ফিলিস্তিন-গাজার শিশুগুলো কিভাবে সুন্দর করে কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করছে, নবীর বংশ পরম্পরা অনায়াসে বলে যাচ্ছে, সুন্দর সুন্দর দোয়া এবং কঠিন কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাচ্ছে, বিশুদ্ধ ভাষায় সাহসী বক্তব্য রাখছে, আরবি ও ইংরেজিতে সাবলিল ইন্টারভিউ দিচ্ছে। এটা শুধু ঐ অঞ্চলে নয় বরং আরবের অন্যান্য দেশেও। ইউরোপ আমেরিকার প্রতিকূল পরিবেশেও মুসলিম পরিবারগুলো তাদের শিশুর জন্য শিক্ষার বিষয় ও সময় নির্ধারণ করে সমন্বয় করে নিয়েছেন। সে তুলনায় আমরা এখনো অনেক পেছনে পড়ে আছি, কালক্ষেপণ করছি, আর পর্যবেক্ষণ করছি-বিগত কয়েক দশক ধরে আমাদের বাচ্চাগুলো স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় হতে সনদ নিয়ে বের হচ্ছে, অথচ সালাম-কালাম, নামাজ-রোজা, ভদ্রতা, শালীনতা, মানবতা ও একজন মুসলিম যুবক হিসেবে কোন পরিচয় তার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছেনা। যে অল্প সংখ্যকের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে তা তার পারিবারিক শিক্ষার কারণে অথবা ছোটবেলা মক্তবে কিছুদিন যাওয়ার কারণে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের সুযোগ হচ্ছে না এমন ইসলামী অনুশাসন বা সংস্কৃতি চর্চার। এ জন্য দায়ী সে নয়, দায়ী আমরা অভিভাবকরা এবং এই দায়ভারের বোঝা দিন দিন বেড়েই চলছে আমাদের উপর। অথচ আমরা চাইলেই এগুলো সমন্বয় করে নিতে পারি। কারণ আমাদের সমাজ মুসলিম সমাজ। এখনো প্রায় সকলেই চান নিজের সন্তানটি একজন ভালো মুসলিম হওয়ার পাশাপাশি একজন উচ্চশিক্ষিত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট, ব্যবসায়ী, বিদেশগামী, নেতৃস্থানীয় লোক ইত্যাদি হোক। উচ্চশিক্ষিত হয়েও ধর্মীয় জ্ঞানে মূর্খ কিংবা চোর-ডাকাত বা বেহায়া-বেয়াদব হোক এটা আমরা কেউই চাইনা। উভয় শিক্ষা নেয়ার জন্য একই সকালে শিশুকে কোথায় আগে পাঠাব, কেন পাঠাব এবং শিশুর কি কি সমস্যা হচ্ছে-সে বিষয়ে কিছু অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়তো আছে এবং ইতোমধ্যে অনেক কিছু হয়তো ভাবছেন। এখানে আরো কিছু শেয়ার করা প্রয়োজন। আশা করি তা সকলের নতুন কিছু চিন্তাভাবনার দ্বার খুলবে এবং মতামত তৈরি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে। লক্ষ্যণীয় বিষয়গুলোকে আমরা কয়েকটি পয়েন্টে ভাগ করছি।
যেমনঃ এক. শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত বিষয়: প্রায়শই মা-বাবা ও অভিভাবক কে.জি স্কুলে অধ্যয়নরত তার শিশুর স্বাস্থ্যহানি, ক্ষুধামন্দা, অমনযোগিতা ইত্যাদির অভিযোগ করে থাকেন। একই সাথে পাশের ঘরের যে শিশুটি কে.জি স্কুলে যাচ্ছেনা তার স্বাস্থ্যের প্রশংসা করেন। এর কারণ হিসেবে বলছেন-স্কুলে সময় মতো উপস্থিতির তাড়া থাকার কারণে ঘুম পূর্ণ হওয়ার আগেই অতি ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, একসাথে বহু জাতীয় বই খাতা ও সরঞ্জামসহ ব্যাগ গোছানো এবং নির্ধারিত ড্রেস পরিধান ইত্যাদির চাপ থাকায় বাচ্চার প্রসাব-পায়খানা বা বাথরুমের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়না। ফলে সে মুখে কিছু নিতে চায় না। মায়েরা জোর করে কিছু গিলাতে চাইলেও তার বদহজম হয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকায় ক্রমান্বয়ে বাচ্চাদের বদ হজম, পুষ্টিহীনতা ও চোখের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। অপরদিকে আমরা যদি দেখি, মক্তবে বাচ্চারা সকাল বেলা উঠে কোনরূপ বাড়তি চাপ না নিয়েই খালি হাতে অথবা একটিমাত্র বই বা কায়দা হাতে নিয়ে চলে যেতে পারে। নাস্তার জন্য অপেক্ষা করছেনা। কারণ সে মক্তব শেষে বাড়িতে গিয়ে নাস্তা করার সুযোগ পাচ্ছে। এখানে দলবল বেঁধে অলস বদনে বা কম মনোযোগ খাটিয়েও অনেক কিছু মুখস্ত করে ফেলতে পারে। কারণ মক্তবের পড়া অনেকটাই মুখস্থ নির্ভর। এখানে গণিতের হিসাব-নিকাশ মিলানো, বিভিন্ন সূত্র অনুধাবন ও ব্যবহার, বাংলা ইংরেজি বাক্য গঠনের কাঠিন্য কিংবা এক সাবজেক্ট থেকে অন্য সাবজেক্টে মনযোগ পরিবর্তন করার প্রযোজন হয়না। বই-খাতা, জামা-কাপড়, কাগজ-কলম ইত্যাদি গোছানো ও বহন করতে হয় না। বরং অনেকটা রিল্যাক্স মোডেই অনেক কিছু শিখে নেয়া যায়। বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, এ সময়ে ছোট বড় সকলেই অলস বদন থাকেন। তাই চোখ মেলেই বহুমুখী বিষয়ের চাপ নেয়া অস্বস্তিকর। এর বিপরীতে কোন হালকা বিষয় শেখা বা মুখস্ত করা খুবই সহজ। তাতে শরীর ও মন ভারমুক্ত থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাচ্চাদের প্রস্রাব পায়খানার বিষয়টি ও ক্লিয়ার হয়ে যায়, মক্তবে হোক কিংবা বাড়িতেই হোক।তখন সে কিছুটা ক্ষুধা অনুভব করে, নাস্তা-পানি খাওয়ার চাহিদা তৈরি হয়, মা-বাবাও কোন কিছু তৈরি করার সুযোগ পান। তাই বাচ্চারা মক্তব থেকে বাড়ি গিয়ে গোসল করে নাস্তা-পানি সেরে ঝরঝরে শরীরে কে.জি. স্কুল, সাধারণ স্কুল বা মাদ্রাসায় যাবে। এতে তার কোন ক্লান্তি আসবেনা। অভিজ্ঞজনদের বক্তব্য হচ্ছে-এজন্যই আগের যুগের মানুষের লেখাপড়ার চাপে ক্ষুধা-মন্দা, চোখের সমস্যা, মাথাব্যথা, স্বাস্থ্যহীনতা ইত্যাদি ছিল না। বিষয়গুলো নিজেদের অভিজ্ঞতা ও যুক্তির সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন।
দুই. যে শিক্ষার্থী মক্তবে সকাল বেলা যাবে তাকে কে.জি স্কুল বা মাদ্রাসায় পুনরায় আরবি শিক্ষা দানের প্রয়োজন হবে না। তাতে কঠিন একটি সাবজেক্টের চাপ থেকে স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষক উভয়ই বেঁচে যাবেন। এ সময়টা তারা অন্যান্য বিষয়ের কাজে লাগাতে পারবেন।
তিন. কে.জি. স্কুলে অনেক শিক্ষক আছেন যারা ডাবল ডিউটি করেন। তারা হয়তো চাইবেন সকাল বেলা দশটা পর্যন্ত শিশুদের পাঠদান করে পরে অন্য কোন রেগুলার স্কুল বা মাদ্রাসায় পাঠদান করাতে যাবেন। এতে ব্যক্তিগতভাবে তিনি উপকৃত হলেও উভয় প্রতিষ্ঠানের বাচ্চারা তার কাছ থেকে সাবলীল মনোযোগ সম্বলিত ক্লাস পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে। বিশেষ করে পরবর্তী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশি বঞ্চিত হবে। এছাড়া তিনি বাচ্চাদের টিউটোরিয়াল, কো-কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিস ও বাচ্চাদের মনোভাব রিডিং করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হবেন। কেননা প্রত্যেকেরই লোড নেয়ার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এজন্য কে.জি স্কুলগুলোতে একমুখী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন। তবে একজন শিক্ষক সকালের মক্তব পড়িয়েও অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্লাসে গেলে তার তেমন কোন মানসিক ক্লান্তি থাকবে বলে মনে হয় না। কারণ মক্তব শিক্ষায় সেরকম কো-কারিকুলাম, টিউটোরিয়েল, ক্লাসটেস্ট সহ বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যক্তি বিশেষের শারীরিক ও মানসিক সামর্থ্যের কারণে ভিন্নরূপ হতে পারে।
চার. তুলনা করে দেখা গিয়েছে পবিত্র কুরআনের সুরা কেরাত মুখস্ত করলে বাচ্চাদের মুখস্ত শক্তি অনেকগুণ বেড়ে যায়। হাফিজি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ কুরআন চর্চাকারী অনেক পরিবারের শিক্ষার্থীদের সাথে তুলনা করে প্রমাণিত হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জবাব হলো-আমি বড় বড় প্রশ্নোত্তর বা রচনাগুলোকে একটি সূরার দৈর্ঘের সাথে তুলনা করে যখন দেখি সেটা অনেক ছোট তখন মনে অনেক সাহস হয় এবং তা অনায়াসেই মুখস্ত করে ফেলি।
পাঁচ. মোবাইল, টিভি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে বাচ্চাদের রাতের বেলা আগেভাগে ঘুম পাড়াতে পারলে তার ঘুমের চাহিদা পূর্ণ হবে। সকাল বেলা ঝরঝরে শরীরে হাসিমুখে সে উঠবে। আনন্দ নিয়ে মক্তবে যাবে। কারণ তার বাড়তি কোন চাপ নেই এবং সে শারীরিকভাবে সতেজ। প্রথম প্রথম হয়তো স্বাদ পেতে একটু দেরি হওয়ার কারণে গড়িমসি করতে পারে। কিছু দিনের মধ্যে তা আনন্দে রূপ নেবে। তবে শিক্ষক মক্তব শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করে তুলতে হবে এবং অভিভাবকদের রুটিনের মধ্যে কিছু কারেকশন আনতে হবে। সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অবশ্যই ভালো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ।
ছয়. মক্তবের শিক্ষালয় যেমন মসজিদ তেমনি-কে.জি স্কুলেরও নিজস্ব ক্যাম্পাস ও ভবন থাকতে হবে। কারণ নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকলে তারা স্বাধীনভাবে পাঠদান ও কো-কারিকুলাম একটিভিটিস এর সময় নির্ধারণ করতে পারবেন না। এতে শিক্ষার পরিবেশ ও মান ক্ষুন্ন হবে।
সাত. শিক্ষকদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল ও নিরবিচ্ছিন্ন পাঠদান আশা করলে অবশ্যই তাদেরকে আর্থিক দুশ্চিন্তা ও পিছুটান থেকে মুক্ত রাখতে হবে। মূল কারিগরই যদি কাজে শক্তি না পান তাহলে সকল কাজ ব্যর্থ হবে। তাই প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক উভয়ে উভয়ের সক্ষমতা-অক্ষমতা মাথায় রেখে সন্তোষজনক বেতন নির্ধারণ করতে হবে। তাহলে তিনি অর্থ উপার্জনের জন্য যে সময় ও মেধা অন্যত্র ব্যয় করতে চান সেটুকু তিনি এ প্রতিষ্ঠানেই ব্যয় করবেন।
আট. সর্বোপরি উভয় প্রকার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান পরিচালক সবার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকতে হবে শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাসহ মান সম্মত শিক্ষাদান। এক পক্ষের ব্যবসা এবং অন্য পক্ষের শুধু ভালো ফলাফলের অহংকার শিক্ষার্থীকে নিষ্পেষিত করবে। শিক্ষার্থীর মধ্যে ভাল ফলাফলের প্রতিযোগিতা থাকবে এটা তার কর্মের উৎসাহ। কিন্তু অভিভাবক যদি এ প্রতিযোগিতায় লেগে বাচ্চার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার কথা ভুলে যান তবে এ ফলাফল কিছুদিনের মধ্যেই ম্লান হয়ে যাবে। সবার উদ্দেশ্য পরিস্কার থাকলে ইনশাআল্লাহ বাচ্চাগুলো তাদের স্ব-স্ব পছন্দের ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রাখবে।
লেখক: অধ্যক্ষ, ফেঞ্চুগঞ্জ মোহাম্মদিয়া কামিল মাদরাসা, সিলেট।
চলবে...
পূর্বের পর্বগুলো যথাক্রমে-
১-https://www.facebook.com/share/p/18tMoDkkHk/
২-https://www.facebook.com/share/p/19EC21Lwez/
৩-https://www.facebook.com/share/p/1CmyYoM8sd/
৪-https://www.facebook.com/share/p/14hZFxkGeXe/