29/01/2024
🤔❤️কলিযুগের যুগধর্ম কি?কলিযুগে জীবের মুক্তির উপায় কি?🌹🙏👇👇
💥 সনাতনী হিসেবে আমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ হল বেদ।বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান।বেদ চারটি ভাগে বিভক্ত।যথা-সংহিতা,ব্রাহ্মন,আরন্যক এবং উপনিষদ।সংহিতা চার প্রকার-ঋক,সাম, যজু এবং অথর্ব । এরপর রয়েছে ব্রাহ্মন এবং আরন্যক।সর্বশেষ বেদের বিভাগ হল উপনিষদ।তাই উপনিষদকে বেদান্ত বা বেদের অন্তভাগও বলা হয়।
মুক্তিকোপনিষদে ১০৮ টি উপনিষদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।সে উপনিষদের ৩৬ তম মন্ত্রে ১০৩ তম রুপে স্পষ্টভাবে কলির্সন্তরন উপনিষদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে("সাট্যয়নী হয়গ্রীব দত্তাত্রেয় চ গারুড়ম।কলি জাবালি সৌভাগ্য রহস্য ঋচ মুক্তিকা)।কৃষ্ণ যজুর্বেদের অন্তর্গত কলির্সন্তরন উপনিষদে সরাসরি কলিযুগের যুগধর্ম ও মুক্তির পথ হিসেবে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রটি নিদিষ্ট হয়েছে।সেখানে বলা হয়েছে...
💚 " হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
ইতি ষোড়শকং নাম্নাং কলির্কল্মষ নাশনং।
নাতঃ পরতরোপায় সর্ব বেদেষু দৃশ্যতে।।"
অনুবাদঃ ষোলটি নাম সমন্বিত হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কলির সমস্ত পাপ বিনষ্ট করে।এর থেকে শ্রেষ্ঠ পথ বেদের আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
-কলির্সন্তরন উপনিষদ ২ ( কৃষ্ণ যজুর্বেদ)
উপরোক্ত হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রের কথা যেমন কৃষ্ণ যজুর্বেদের অন্তর্গত কলির্সন্তরন উপনিষদে বর্ণিত আছে, ঠিক তেমনই ব্রহ্মান্ড পুরান,রাধাতন্ত্র এবং সনৎ সংহিতা শাস্ত্রেও বর্ণিত আছে।সে সমস্ত শাস্ত্রে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রকে কলিজীবের মুক্তির পথ বলা হয়েছে...
💝 "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
ইতি ষোড়শকং নাম্নাং কলির্কল্মষ নাশনং।
নাতঃ পরতরোপায় সর্ব বেদেষু দৃষ্টতে।।"
অনুবাদঃ ষোলটি নাম সমন্বিত হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কলির সমস্ত পাপ বিনষ্ট করে।এর থেকে শ্রেষ্ঠ পথ বেদের আর কোথাও দেখা যাবে না।
- ব্রহ্মান্ড পুরানঃ রাধাহৃদয়,৬/৫৫-৫৬
💙"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে ।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ।।
দ্বাত্রিংশ দক্ষরাণ্যেব কলৌ নামানি সর্বদা ।
শৃণুচ্ছন্দঃ সুত শ্রেষ্ঠ হরিনামঃ সদৈবহি ।।
ছন্দোহি পরমং গুহ্যং মহুৎপদ মনব্যয়ং।
সর্বশক্তিময়ং মন্ত্রং হরিনাম তপোধন ৷৷"
অনুবাদ: 'হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।। '- এই দ্বাত্রিংশদক্ষর হরিনামই কলিযুগে ত্রাণ করে । হে সুতশ্রেষ্ঠ ! এই মন্ত্রের ছন্দ অতি সুগোপ্য। হে তপোধন ! এই হরিনামাত্মক মন্ত্র সৰ্ব্ব শক্তিময়। এই মন্ত্রের চিন্তনে সর্ব্বশক্তির চিন্তা করা হয় এবং মহৎপদ প্রাপ্ত হয়।
-রাধাতন্ত্র, ২য় পটল, শ্লোক ২৯-৩১
🧡 "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
ষোড়শৈতানি নামানি দ্বাত্রিংশদ বর্ণকানি হি।
কলৌযুগে মহামন্ত্রঃ সম্মতো জীবতারণে।।
অনুবাদঃ "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। এই ষোলনাম বত্রিশ অক্ষর কলিযুগের মহামন্ত্র এবং জীব উদ্ধারের অভিমত।
- সনৎকুমার সংহিতা
(শ্রী ধ্যানচন্দ্র গোস্বামী তাঁর 'গৌরগোবিন্দরচন স্মরণপদ্ধতি' গ্রন্থের ১৩২-১৩৩ নং শ্লোকে 'সনৎ-কুমার সংহিতা' হতে উদ্ধৃতি করেছেন)
এছাড়াও বৃহন্নারদীয় পুরান এবং শ্রীমদ্ভাগবত পুরান শাস্ত্রসহ অষ্টাদশ পুরান, মহাভারত শাস্ত্রেও হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্ররুপ হরিনাম বা কৃষ্ণনামকে কলিযুগের একমাত্র ধর্ম ও মুক্তির পথ বলা হয়েছে...
💚 " হরের্নাম হর্রেনাম হরের্নামৈব কেবলম।
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতিরন্যথা।।"
অনুবাদঃ এই কলিযুগে হরিনাম ব্যতীত অন্য কোন গতি নেই, গতি নেই, গতি নেই।
- বৃহন্নারদীয় পুরান ৩/৮/১২৬
💝 " কৃতে যদধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং যজতো মখৈঃ।।দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌ তদ্ধরিকীর্তানাৎ।। "
অনুবাদঃযুগধর্ম ও মুক্তির পথ হিসেবে সত্যযুগে শ্রীবিষ্ণুর ধ্যান,ত্রেতাতে যজ্ঞ,দ্বাপরে অর্চন,এবং কলিযুগে হরিনাম সংকীর্তন নিধার্রিত হয়েছে।
-শ্রীমদ্ভাগবত পুরান ১২/৩/৫২
💙 "কলে দোষ নিধে রাজন অস্তি এক মহান গুন। কীর্তনাৎ এব কৃষ্ণস্য মুক্তসঙ্গ পরং ব্রজেৎ।।"
অনুবাদঃকলি যুগ পাপের সমুদ্র।কিন্তু তার এক মহান গুন আছে।সেটি হচ্ছে,শ্রীকৃষ্ণের নামকীর্তন। যদি কেউ তা করে তাহলে অনায়াসে এই জড় জগৎ থেকে মুক্ত হয়ে চিন্ময় জগৎ শ্রীকৃষ্ণের ধামে প্রবেশ করতে পারে।
- শ্রীমদ্ভাগবত পুরান ১২/৩/৫১