05/05/2024
মায়ের ভালোবাসা💚
মিজান একটা ছোট খাট সরকারি চাকুরি পেয়েছে। বাড়ির বাইরে থাকার অভ্যাস একদম নেই। তাই মায়ের চিন্তাটা বোধই মিজান এর জন্য একটু বেশীই। মিজানের একবার ছুটি হয়েছে, তখন বেলা বাজে ৩ হয়ত বা মাকে ফোন দিয়ে আম্মা আমার আজকে ছুটি হয়েছে জান... মা আকস্মিক স্তব্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে? মিজান বলে মা ছুটি হয়েছে। মা তখন দুই এক সেকেন্ড চোখ বন্ধ করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানিয়ে মৃদু গলায় কাঁদতে কাঁদতে বলেন আল্লাহ, আল্লাহ তুমি আমার ছেলেকে সহি সালামতে আমার কোলে আইনা দাও। তখন মিজান মাকে জিজ্ঞেস করে মা তোমার কিছু কি লাগবে? মা না না না বাপজান কিচ্ছু লাগবে না, তুই তাড়তাড়ি বাড়ি চলে আয়। মিজান মনে মনে ভাবে হায় রে অভাগী মা তুমি এত পাগলের মত নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে যাও যা দুনিয়াতে আর কেও করবে না। এদিকে মিজানের গাড়ি অনেক সময় করে আসতে থাকে। বিকালের পর থেকে মা ফোন কিছুক্ষণ পর পর কল দিয়ে কোথায় আছি খোজখবর নেয়া যেন শেষ হয় না। রাত ১ টা বাজে তারপর ও মা না ঘুমিয়ে বাড়ির পথের মাথায় গাছের সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে। কোনো একটা গাড়ির শব্দ পেলেই উঠে দাড়ান এই বুঝি আসল।অবশেষে মিজান রাত ২ টায় এসে হাজির মা তখন ও পথের মাথায় দাড়ানো। মিজান আসার সাথে সাথে থাকে জড়িয়ে ধরে কান্না। মায়ের সাথে পরম আনন্দে ছুটি কাটানোর পর অবশেষে যাবার পালা। রাতে যাবে মিজান সকালে কি খাবে তা চিন্তা করে মা কিছু বোঝে উঠতে না পেরে ছেলের জন্য গন্ধ চাল যেটি মি চাল বলে সেটা রান্না করে ঘরের দেশি একটি আস্ত মুরগির বাচ্চা ভোনা করে দিয়েছেন, ও সাথে মিজান আবার ডিম পছন্দ করে তাই সেদ্ধ ডিম ও দিয়েছেন এগুলা দিয়ে ব্যাগ বেধে দিয়েছেন। মিজান কে মা এতটুকুই বলেন। যাবার বেলা মায়ের মুখে থাকানোর কোনো পরিস্থিতি নেই। মিজান মায়ের পায়ে সালাম করে, সাথে সাথে মা মুখে গালে চুমু দিয়ে হাতে কামড় দেন (টুটকা)। যাই হোক মিজান তার কর্তব্যস্থলে পৌঁছে তার খাবার প্যাকেট বের করে। দেখে সেই আস্ত মোরগ, ৪টি ডিম, কাঁচামরিচ ২টা, পেয়াজ কুচি একটু, শসা, একটা পলিথিনে লবনও.. হায়রে মা তুমি পারও.. তখন মিজান চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারল না। ও সাথে আবার বাড়ির লেবু গাছের লেবু কয়টা, পেয়ারা কয়টা যা পেয়েছেন সব দিয়েছেন। মিজান মনে মনে আল্লাহর দরবারে মন খুলে দোয়া করে আল্লাহ আমার মাকে বেহেশতের সর্বোচ্ছ মাকাম দান কর। আর আমি যেন মরার আগে আমার মাকে সর্বোচ্ছ সেবা দিতে পারি🙏।
তাই আসোন আমরা যেন আমাদের মাকে অবহেলা না করি, তাদের কে যেন উত্তম সেবা দেই। আর কোনো রকম কষ্ট যাতে আপনার দ্বারা না পান সে বিষয়ে খেয়াল রাখি।