20/08/2024
যারা বলেছেন হিন্দু টিচারদের জোর পূর্বক পদত্যাগ করাচ্ছে না তাদের জন্য মুসলিম বোনের করা এই পোস্টটি পড়ার অনুরোধ 👇
আজিমপুর গভমেন্ট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের স্টুডেন্টরা আন্দোলন করে কিছু শিক্ষককে পদত্যাগ করিয়েছে। বর্তমানে শিক্ষকদের পদত্যাগ করানো যেন একটা ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে।
আজিমপুর গভঃমেন্ট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে যেসব যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম গৌতম চন্দ্র পাল স্যার। স্কুলের বেস্ট ম্যাথ আর কেমিস্ট্রি টিচার ছিলেন। অন্যান্য টিচাররা নিজের স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করলেও গৌতম স্যার সব সময় স্কুল নিয়ে চিন্তা করতেন, স্টুডেন্টদের নিয়ে চিন্তা করতেন।
গৌতম স্যারের বিরুদ্ধে যে সব এলিগেশন রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম তিনি কোচিং বানিজ্য করতেন। হ্যাঁ তিনি কোচিং করাতেন। আমি দুই বছর তার কাছে পড়েছি। তিনি কোনোদিন কোন স্টুডেন্টকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো আচারে ইঙ্গিতে নিজের কোচিংয়ে পড়ার জন্য কোনরকম বাধ্য করেনি এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। যাদের ইচ্ছা হয়েছে তারা স্যারের কাছে পড়তে গেছে, তাহলে এটা বাণিজ্য হলো কিভাবে।
দ্বিতীয়তঃ তিনি নাকি প্রশ্ন ফাঁস করেন। আর এই এলিগেশন দিয়েছে সেই স্টুডেন্টরা যারা পরিক্ষার আগের দিন ইউটিউবে প্রশ্ন পেয়ে সেই প্রশ্নে পরেরদিন পরিক্ষা দেয়৷ হাস্যকর। আজিমপুর গার্লসের বর্তমান বা প্রাক্তন কোন স্টুডেন্ট বলতে পারবেনা স্যার কোনদিন সাজেশনও দিয়েছেন। একবার স্যারকে অনেক করে রিকোয়েস্ট করি স্যার প্লিজ একটু সাজেশন দিয়েন, সাজেশন দিয়েন। স্যার বলেন আচ্ছা ঠিক আছে, পরীক্ষার আগের দিন দিব। তারপর পরীক্ষার আগের দিন যখন স্যারকে সাজেশন দেওয়ার কথা বলি স্যার বলেন সিলেবাস বের করো সবাই। সবাই অনেক খুশি হয়ে সিলেবাস বের করি আর স্যার বলেন, সিলেবাসই সাজেশন। স্যার এত ভালো ম্যাথ করাতেন যে গাধাও বুঝবে। যে উপপাদ্য আমি অনেক ভয় পেতাম সেই আমাকে স্যার উপপাদ্যের ফ্যান বানিয়ে দিয়েছিলেন। ক্লাস নাইনে হাফ ইয়ার্লি এক্সামে আমি ম্যাথে ২৯ পাই, তারপর স্যারের কোচিং এ ভর্তি হই। ফাইনাল এক্সামে আমি ম্যাথে ৯৫ পাই যা ক্লাসে হায়েস্ট ছিল। তখন সবাই বলেছিল হেড স্যারের কাছে পড়ে নিশ্চয়ই প্রশ্ন পেয়েছে। আমি বাসায় যেয়ে স্যারকে বলি স্যার সবাই এমন বলে। স্যার বললেন এসএসসি তেও এরকম রেজাল্ট কইরো আর কেউ কিছু বলার সাহস পাবে না।নাইন টেনের দুই বছরে স্যারের কাছে যে কত বেতের বাড়ি খাইছি তার কোন হিসাব নেই।( এখনকার স্টুডেন্টরা হয়তো বলবে কত বড় সাহস আমাদের গায়ে হাত তুলে টিচার হয়ে) স্যারের একটা অভ্যাস ছিল যারা হোমওয়ার্ক করত না তাদের স্যার কিছুই বলত না। কিন্তু যারা হোম ওয়ার্ক রেগুলারলি করত তারা কোন একদিন না করে আনলেই স্যার মারতেন। স্যার আমাদের পিছনে প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। এমনও হইছে স্যার বলেছেন এক্সট্রা পড়ানোর সময় নাই। তারপর অনেক রিকোয়েস্ট করায় বলেন, যদি ছয়টায় আসতে পারো তাইলে পড়াবো। আমরা ছয়টায় যেয়ে হাজির। স্যার হাসতেন আর বলতেন আমার কি একটু রেস্ট লাগে না। আবার শুরু করতেন পড়ানো। এমন হাজারো মেমোরিস আছে স্যারের সাথে।
তৃতীয়তঃ তার ব্যবহার নাকি বাজে ছিল। স্যার স্কুলে আসার পর থেকে পদত্যাগ করে আগ পর্যন্ত কোন স্টুডেন্ট হয়তো বলতে পারবেনা স্যার তাদের সাথে কোনদিন ধমক দিয়ে কথা বলেছে খারাপ ভাবে কথা বলেছে বা ধমক দিয়েছে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও ধৈর্যশীল একজন মানুষ।
এতদিন শুধু শুনেছি zen z এর ২০০৬ এর পরে জন্ম নেওয়া স্টুডেন্টরা বেয়াদব। এ বক্তব্যটি যে সত্যি তা আজিমপুর গার্লস স্টুডেন্টরা প্রমাণ করেছে।একজন গার্ডিয়ানকে দেখলাম স্যারকে গৌতম গৌতম বলে সম্বোধন করছেন। এমন মায়ের সন্তানের কতটা আদব থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন করাও মুর্খের কাজ।
তবে বাইরে থেকে লোকজন আনিয়ে স্টুডেন্টদের গায়ে হাত তোলানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। কিন্তু স্টুডেন্টরা এই ঘটনার আগেই টিচারদের পদত্যাগ করিয়েছে। আর এখন ভিক্টিম সাজছে গায়ে হাত তোলার কারণে পদত্যাগ দাবি করেছে।
জান্নাতুল ফেরদৌস
এসএসসি ব্যাচ-২০২০