27/09/2026
সাধারণ ভাষায় বলিয়া থাকি 'বাঁদরের গলায় মুক্তার মালা'। আমরা কলিহত জীবগণ সেই প্রকার বাঁদরের মত। আমাদিগকে কৃপা করিয়া ব্রহ্মার দুর্লভ বস্তু কৃষ্ণতত্ত্ব-ভক্তিতত্ত্ব অতি সহজে বিলান হইয়াছে বলিয়া আমরা ভক্তিতত্ত্বেরও যথেষ্ট কদর্থ করিয়াছি। ইহাও আমাদের দুর্ভাগ্যের পরিচয়। যে নিকৃষ্ট ইন্দ্রিয়-ধর্ম হইতে পরিত্রাণ করিয়া আত্মধর্মে প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দুইবার চেষ্টা করিয়াছেন, আমরা দুর্ভাগ্যক্রমে সেই আত্মধর্মের কথা আবার ইন্দ্রিয়-ধর্মে পরিণত করিয়াছি।
~ কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ
গৌড়ীয় পত্রিকায় প্রকাশিত “ভগবান শ্রীকৃষ্ণই পরমতত্ত্ব” প্রবন্ধ হতে।
এখানে শ্রীল প্রভুপাদ খুব গভীর একটি কথা সহজ উদাহরণে বুঝিয়েছেন।
“বাঁদরের গলায় মুক্তার মালা” — এই প্রবাদটির অর্থ হলো, কেউ মূল্যবান জিনিস পেলেও তার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারে না।
প্রভুপাদ বলছেন, আমরা কলিযুগের মানুষও অনেকটা তেমন। ভগবান ও গুরুজনেরা আমাদের অতি দুষ্প্রাপ্য জ্ঞান — কৃষ্ণতত্ত্ব ও ভক্তিতত্ত্ব — খুব সহজে দিয়েছেন, কিন্তু আমরা সেই জ্ঞানের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে না পেরে কখনও অবহেলা করি, কখনও নিজের স্বার্থে ব্যবহার করি।
তিনি আরও বলছেন:
* মানুষের আসল ধর্ম হলো আত্মধর্ম — অর্থাৎ আত্মাকে জানা ও ভগবানের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা।
* কিন্তু আমরা অধিকাংশ সময় ইন্দ্রিয়-ধর্মে ব্যস্ত থাকি — মানে খাওয়া, ঘুম, ভোগ, সম্মান, লোভ ইত্যাদির পিছনে ছুটি।
* ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বারবার মানুষকে এই ভোগকেন্দ্রিক জীবন থেকে উদ্ধার করতে এসেছেন।
* অথচ দুর্ভাগ্যবশত, আমরা সেই আধ্যাত্মিক শিক্ষাকেও অনেক সময় বাহ্যিকতা, গর্ব বা ভোগের বিষয় বানিয়ে ফেলি।
মূল বার্তা হলো:
ভক্তি শুধু বাহ্যিক আচার নয়; এটি হৃদয়ের পরিবর্তন। কৃষ্ণভক্তির উদ্দেশ্য হলো ইন্দ্রিয়সুখ থেকে উঠে আত্মার প্রকৃত কল্যাণের পথে যাওয়া।