10/09/2026
#বলাৎকার_ও_সমকামিতার_কুফলঃ
-----------------------------------------------------------------------
❓ #প্রশ্নঃ
মুহতারাম মুফতী সাহেব!
মহোদয়ের কাছে জানার বিষয় হলো- সমকামিতার সূচনা কোথা থেকে হয়েছে? সমকামিতার শাস্তি কি? সমকামিদের ইমামতি এবং তাদের পিছনে ইক্তিদার বিধান কি? প্রশ্নগুলোর উত্তর খুবই প্রয়োজন৷ তাই দ্রুত উত্তর দিলে কৃতজ্ঞ হবো৷
📖 #উত্তরঃ
بسم الله الرحمن الرحيم.
#সমকামিতার_সূচনাঃ
হযরত লূত আলাইহিস সালাম এর জাতিকে কওমে লুত বলা হয়৷ তারা ছিল এক অভিশপ্ত জাতি৷ তারা আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে শিরক ও কুফরীতে লিপ্ত হয়েছিল। দুনিয়াবী উন্নতির চরম শিখরে উন্নীত হওয়ার কারণে তারা সীমা লঙ্ঘনকারী জাতিতে পরিণত হয়েছিল। পূর্বেকার ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলির ন্যায় তারা চূড়ান্ত বিলাস-ব্যসনে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল। অন্যায়-অনাচার ও নানাবিধ দুষ্কর্ম তাদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এমনকি পুংমৈথুন বা সমকামিতার মত নোংরামিতে তারা লিপ্ত হয়েছিল, যা ইতিপূর্বেকার কোন জাতির মধ্যে পরিদৃষ্ট হয়নি। এমন কি তখন পর্যন্ত পৃথিবীর কোন মানুষ জানতোই না যে, এই ধরনের কোন কু-কর্ম করা যায়। কওমে লূতই সেই কুকর্মের জন্ম দিয়েছিল। সে জাতির পুরুষেরা নারীর সাথে যৌনক্রিয়া করার চেয়ে পুরুষে পুরুষে রতিক্রিয়া করতেই অধিক আগ্রহী ছিল। এই জঘন্য অপকর্ম তারা প্রকাশ্যে করে আনন্দ লাভ করত। সুন্দরী নারীকে ত্যাগ করে তারা পুরুষের সাথে রতিক্রিয়া করতো। আল্লাহ তায়ালা এ কু-কর্মের কারনে তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন৷ আজো লূত সাগর সেই ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে আছে ৷ (সূরা আরাফ ৮০-৮১ আয়াত৷ সূরা শুয়ারা ১৭২ আয়াত৷ তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/২২৪ পৃষ্ঠা৷ মাওয়ায়েযে আশরাফিয়া ৪/১৩৩- ১৩৪ পৃষ্ঠা৷)
কওমে লূতের কু-কর্ম সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
وَلُوْطًا اِذْ قَا لَ لِقَوْمِهٖۤ اَتَأْتُوْنَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ اَحَدٍ مِّنَ الْعٰلَمِيْنَ. اِنَّكُمْ لَـتَأْتُوْنَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّنْ دُوْنِ النِّسَآءِ ۗ بَلْ اَنْـتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ.
আর আমি লূতকে পাঠিয়েছিলাম। যখন সে তার জাতিকে বলেছিল, তোমরা এমন নির্লজ্জতার কাজ করছো যা বিশ্বজগতে তোমাদের পূর্বে কোন একজনও করেনি। তোমরা যৌন তাড়নায় স্ত্রীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন করছ, তোমরা হচ্ছ এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। (সূরা আরাফ ৮০-৮১ আয়াত৷)
কুরআনুল কারীমে আরও ইরশাদ হয়েছে-
اَتَاۡتُوۡنَ الذُّکۡرَانَ مِنَ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ وَتَذَرُوۡنَ مَا خَلَقَ لَکُمۡ رَبُّکُمۡ مِّنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ ؕ بَلۡ اَنۡتُمۡ قَوۡمٌ عٰدُوۡنَ.
বিশ্বজগতের সমস্ত মানুষের মধ্যে তোমরাই কি এমন, যারা পুরুষদের সাথে কুকর্ম কর। আর বর্জন করে থাক তোমাদের স্ত্রীগণকে, যাদেরকে তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? প্রকৃতপক্ষে তোমরা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। (সূরা শুয়ারা ১৬৫-১৬৬ আয়াত৷)
#কওমে_লূতের_ধ্বংসঃ
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
وَلُوْطًا اِذْ قَا لَ لِقَوْمِهٖۤ اَتَأْتُوْنَ الْـفَا حِشَةَ وَاَ نْـتُمْ تُبْصِرُوْنَ. اَئِنَّكُمْ لَـتَأْتُوْنَ الرِّجَا لَ شَهْوَةً مِّنْ دُوْنِ النِّسَآءِ ۗ بَلْ اَنْـتُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُوْنَ. فَمَا كَا نَ جَوَا بَ قَوْمِهٖۤ اِلَّاۤ اَنْ قَا لُـوْۤا اَخْرِجُوْۤا اٰلَ لُوْطٍ مِّنْ قَرْيَتِكُمْ ۚ اِنَّهُمْ اُنَا سٌ يَّتَطَهَّرُوْنَ. فَاَ نْجَيْنٰهُ وَ اَهْلَهٗۤ اِلَّا امْرَاَ تَهٗ قَدَّرْنٰهَا مِنَ الْغٰبِرِيْنَ.
স্মরণ কর লূতের কথা, তিনি তাঁর কওমকে বলেছিলেনঃ তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ! তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়। উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বললোঃ লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়। অতঃপর তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তাঁর স্ত্রী ছাড়া। কেননা, তার জন্যে ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম। (সূরা নামল ৫৪-৫৭ আয়াত৷)
আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন-
وَلَمَّا جَآءَتْ رُسُلُنَاۤ اِبْرٰهِيْمَ بِا لْبُشْرٰى ۙ قَا لُـوْۤا اِنَّا مُهْلِكُوْۤا اَهْلِ هٰذِهِ الْقَرْيَةِ ۚ اِنَّ اَهْلَهَا كَا نُوْا ظٰلِمِيْنَ ۚ
আমার প্রেরিত ফেরেশতাগণ সুসংবাদ নিয়ে ইব্রাহীমের কাছে আগমন করল, তখন তারা বললঃ আমরা লূতের জনপদের অধিবাসীদেরকে ধ্বংস করব। নিশ্চয়ই এর অধিবাসীরা অপরাধী। (সূরা আনকাবুত ৩১ আয়াত৷)
আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেন-
ثُمَّ دَمَّرْنَا الْاٰ خَرِيْنَ ۚ
অতঃপর তাদের সকলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিলাম। (সূরা শুয়ারা ১৭২ আয়াত৷)
্মতের_সমকামিতার_ব্যপারে_আশঙ্কাঃ
হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي عَمَلُ قَوْمِ لُوطٍ "
হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে লূত জাতির অনুরূপ অপকর্ম তথা সমলিঙ্গি ব্যভিচার বা পুরুষে-পুরুষে যৌন-মিলনে লিপ্ত হওয়ার সর্বাধিক আশঙ্কা করি। সনদ হাসান৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫৬৩ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ১৪৫৭ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ১৫০৯৩ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫৭৭ হাদীস৷)
#সমকামীদের উপর আল্লাহর অভিশাপঃ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন -
«لَعَنَ اللهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ، لَعَنَ اللهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ، لَعَنَ اللهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوْطٍ»
আল্লাহ তা‘আলা সমকামীকে লা‘নত করেন। আল্লাহ তা‘আলা সমকামীকে লা‘নত করেন। আল্লাহ তা‘আলা সমকামীকে লা‘নত করেন। (মুসনাদে আহমাদ ২৯১৫ নং হাদীস। সহীহ ইবনে হিব্বান ৪৪১৭ নং হাদীস। সুনানে বায়হাক্বী ৭৩৩৭, ১৬৭৯৪ নং হাদীস। ত্বাবরানী কাবীর ১১৫৪৬ নং হাদীস।)
#সমকামিদের_হাসরঃ
হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ
عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ يَنْظُرُ اللهُ إِلَى رَجُلٍ
أَتَى رَجُلاً أَوِ امْرَأَةً فِى الدُّبُرِ
হযরত ইবনে আব্বাস রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির দিকে চেয়েও দেখবেন না, যে ব্যক্তি কোন পুরুষের মলদ্বারে অথবা কোন স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করেছে। সনদ সহীহ৷ (সুনানে তিরমিযী ১১৬৫ হাদীস৷ সহীহ ইবনে হিব্বান ৪৪১৮ হাদীস৷ সহীহুল জামে ৭৮০১ হাদীস৷)
#সমকামিতার_শাস্তিঃ
সমকামিতার শাস্তি সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ " .
হযরত ইবনে আব্বাস রাযিঃ থেকে বর্ণিত৷ হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কাউকে লূত জাতির অনুরূপ অপকর্মে লিপ্ত পেলে তাকে এবং যার সাথে অপকর্ম করা হচ্ছে তাকে হত্যা করো। সনদ সহীহ৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫৬১-২৫৬২ হাদীস৷ সুনানে আবূ দাউদ ৪৪৬২ হাদীস৷ সুনানে তিরমিযী ১৪৫৬ হাদীস৷ সুনানে কুবরা বাইহাকী ১৭৪৭৫ হাদীস৷ মুসনাদে আহমাদ ২৭৩২ হাদীস৷ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৫৭৫ হাদীস৷
হাদীস শরীফে আরও বর্নিত হয়েছে-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي الْبِكْرِ يُوجَدُ عَلَى اللُّوطِيَّةِ
قَالَ يُرْجَمُ .
হযরত ইবনে আব্বাস রাযিঃ বলেছেনঃ অবিবাহিত কাউকে যদি সমকামিতায় পাওয়া যায়, তাহলে তাঁকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। সনদ সহীহ৷ (সুনানে আবু দাউদ ৪৪৬৩ হাদীস৷)
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওফাতের পর সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু একমত হয়েছিলেন যে, বলাৎকারকারীর শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ফুক্বাহায়ে কিরাম সমকামিতার সাত প্রকার শাস্তি নির্ধারন করেছেনঃ
১৷ সমকামি উভয়কে কতল করবে৷
২৷ সমকামি উভয়কে পাথর মেরে হত্যা করবে৷
৩৷ সমকামি উভয়কে দেয়াল চাপা দিয়ে হত্যা করবে৷
৪৷ সমকামি উভয়কে উঁচুস্থান থেকে ফেলে হত্যা করবে৷
৫৷ সমকামি উভয়কে আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দিবে৷
৬৷ সমকামি উভয়কে যিনার শাস্তির ন্যায় শাস্তি দিবে৷
৭৷ সমকামি উভয়কে কঠোর শাস্তি দিয়ে জেলখানায় বন্দী করে রাখবে৷
এছাড়াও ইসলামী আদালতের বিচারক অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে বলৎকারের যেকোনো কঠোরতম 'তা'যীর' (দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি) নির্ধারণ করতে পারেন।
আর যদি কোনো শিশু বা অসহায়ের ওপর জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয়, তবে বলৎকারকারীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা ক্রুশবিদ্ধকরণ। (কিন্তু শিশু ও অসহায় ব্যাক্তি মাজুর বলে গণ্য হবে।)
বিঃদ্রঃ এ শাস্তিগুলো একমাত্র ইসলামী শরয়ী আদালত প্রয়োগ করবে৷ (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/২২৬ পৃষ্ঠা৷ তাফসীরে জালালাই ২/৪২৯ পৃষ্ঠা৷ তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ৩/৫৯৩ পৃষ্ঠা৷ ইসলামী ফিকাহ ২/৬৯৫ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে শামী ৪/২৭ পৃষ্ঠা। ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ৩/২৬১ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে দারুল উলুম ৯/৯৮ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৫/৫১১ পৃষ্ঠা৷)
#সমকামিতা_থেকে_সতর্কতাঃ
হাদীস শরীফে বর্নিত হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عُرْيَةِ الرَّجُلِ وَلاَ الْمَرْأَةُ إِلَى عُرْيَةِ الْمَرْأَةِ وَلاَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَلاَ تُفْضِي الْمَرْأَةُ إِلَى الْمَرْأَةِ فِي ثَوْبٍ " .
হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবূ সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণিত৷ হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কোন পুরুষ অন্য পুরুষের গোপন অঙ্গের দিকে তাকাবে না এবং কোন নারীও অন্য নারীর গোপন অঙ্গের দিকে তাকাবে না। আর কোন পুরুষ অপর পুরুষের সাথে একই কাপড়ের ভিতরে একত্রে ঘুমাবে না এবং কোন নারীও অপর নারীর সাথে একই কাপড়ের ভিতরে ঘুমাবে না। সনদ সহীহ৷ (সুনানে আবু দাউদ ৪০১৮ হাদীস৷)
#সমকামিদের_ইমামতী_ও_শিক্ষকতাঃ
সমকামিতা হারাম এবং যিনার চেয়েও মারাত্বক৷ সমকামি ব্যক্তি বড় ফাসিক৷ তাই সমকামিদের ইমামতী মাকরুহে তাহরীমী তথা হারাম৷ তাই সমকামির পিছনে ইক্তিদা করা জায়েয নেই এবং এরুপ ব্যক্তিকে ইমাম বানানোও জায়েয নেই৷ বরং এরুপ পাপিষ্ঠ ব্যক্তিকে ইমামতীর পদ থেকে বর্খাস্ত করে নেককার ইমাম নির্ধারন করা মহল্লাবাসীর উপর ওয়াজিব৷ অনুরূপভাবে এরূপ ব্যাক্তিকে মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়াও হারাম এবং এরূপ ব্যাক্তি কোন মাদরাসার শিক্ষক হলে তাকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিয়ে বরখাস্ত করা ওয়াজিব। (ফতোয়ায়ে শামী ১/৫৬২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাযীখান ১/৯২ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে তাতার খানিয়া ১/৩৭৭ পৃষ্ঠা৷ ফতোয়ায়ে কাসেমীয়া ১/১৭১ পৃষ্ঠা৷ আহসানুল ফতোয়া ৩/২৯০ পৃষ্ঠা৷)
والله اعلم بالصواب.
✍️উত্তর লিখনেঃ
মুফতী তাহমীদ শামী
ঢাকা, বাংলাদেশ।
৯/৯/২০২৬ ঈসায়ী৷