শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দরবার শরীফ -Official

  • Home
  • Bangladesh
  • Swarupkati
  • শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দরবার শরীফ -Official

শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দরবার শরীফ -Official লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা:)
(1)

এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ দিগন্তে ভারত মহাসাগরের উত্তর প্রান্তে Bay of Bengal (বঙ্গোপোসাগর) অবস্থিত। তারই উত্তর কোল ঘেষে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যা সম্বলিত শতকরা প্রায় নব্বই ভাগ মুসলমান অধ্যুসিত ক্ষুদ্র স্বাধীন দেশটির নাম বাংলাদেশ। এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট এই দেশটির জনসংখ্যা চৌদ্দ কোটির উর্ধ্বে। এই বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি জেলার নাম পিরোজপুর যা সাবেক বাকেরগঞ্জ জেলার

অন্তর্গত একটি মহাকুমা ছিল। বর্তমান পিরোজপুর জেলার অন্তর্গত নেছারাবাদ উপজেলা সদরে অবস্থিত একটি গ্রাম- নাম তার ছারছীনা। অজপাড়া গাঁয়ে অবস্থিত অনুন্নত, অবহেলিত ছারছীনা আজ একটি পরিচিত নাম, একটি ইতিহাস, আধ্যাত্মিক জগতের পুণ্যভূমি। বাংলার আল আজহারকে বুকে ধারণ করে সগৌরবে অবস্থান করছে।

সমুদ্র তীরবর্তী দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে আগমন ঘটেছে বনিক মুসলিম প্রচারকদের। আর মুসলিম শাসনের পথ বেয়ে আগমন করেছেন আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী অনেক আউলিয়ায়েকেরাম। তাঁদের পরশ ছোঁয়ায় ও আধ্যাত্মিক শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে এদেশের হিন্দু সম্প্রদায় দলে দলে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করার ফলে দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে পরিণত হয়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ১৭৫৭ইং সনে পলাশী প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হওয়ায় দেশটি ইংরেজ বেনিয়াদের দখলে চলে যায়। যার ফলে বিধর্মীদের জাগরণ ও মুসলমানদের নিগৃহীত হওয়ার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা হয়ে যায়।

ঊনবিংশ শতাব্দির শেষ ভাগ। বাংলার মুসলমানদের করুণ অবস্থা। মুসলমানদের জাতীয় অনুভূতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ নিভু নিভু অবস্থায় বিলীন হওয়ার পথে। সারা বাংলা বিশেষ করে এর দক্ষিণাঞ্চল ছিল অজ্ঞানতার তিমিরে আচ্ছন্ন। ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে নিজস্ব তাহজীব-তামদ্দুন ছেড়ে দিয়ে মুসলমানরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল বিজাতীয় আচার-ব্যবহার, চাল-চলন ও পোশাক-পরিচ্ছদে। নামের আগে শ্রী ব্যবহার করা, লুঙ্গীর বদলে ধুতি পরিধান করা, টুপির বদলে মাথায় টিকি রাখা, মেয়েদের সিঁথিতে সিঁদুর ব্যবহার করা, কপালে লাল টিপ লাগানো, পূজাপার্বণে মুসলমানদের অংশগ্রহণ করা, তিথিলগ্ন, দিকশূল পালন এবং দেবদেবীর নামে মানত করার মত বহু ইসলাম গর্হিত কাজসহ শিরক ও বিদয়াত বাংলার ঘরে ঘরে সে সময় সংক্রামক ব্যাধির ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছিল। মুসলিম জাতীয় জীবনে নেমে এসেছিল ধর্মীয় চেতনা ও নৈতিক মূল্যবোধের এক চরম বিপর্যয়। এমনি এক সংকট সন্ধিক্ষণে বাংলার এক অজানা অচেনা নিভৃত পল্লী ছারছীনাতে বর্ষিত হল আল্লাহর রহমতের অমিয়ধারা। দীনের আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে ১৮৭৩ ইং সন মোতাবেক বাংলা ১২৭৯ সালে ধরায় চলে আসলেন এক পুণ্যবান তাপস, যুগশ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক, মুজাদ্দিদে জামান কুতুবুল আলম হযরত মাওলানা শাহ্ সূফী নেছারুদ্দীন আহমদ (রহঃ)।

বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ'র কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ২০২৫ ইং, ৮-ই নভেম্বর, শনিবার, সকাল নয়টায়।স্থান: বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম...
31/10/2025

বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ'র কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ২০২৫ ইং,

৮-ই নভেম্বর, শনিবার, সকাল নয়টায়।

স্থান: বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর ঢাকা।

উপমহাদেশের অন্যতম দ্বীনি মারকায ছারছীনা দরবার শরীফ'এর হযরত পীর সাহেব কিবলা আলহাজ্ব মাওলানা শাহ সূফি মোহাম্মদ মোহেব্বুল্ল...
16/07/2024

উপমহাদেশের অন্যতম দ্বীনি মারকায ছারছীনা দরবার শরীফ'এর হযরত পীর সাহেব কিবলা আলহাজ্ব মাওলানা শাহ সূফি মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ আজ রাত ২:১১ মিনিটে রফীকে আ'লার সান্নিধ্যে চলে গেলেন।
انا لله وانا اليه راجعون الله يرحمه ويغفر له

আল্লাহ পাক জান্নাতুল ফেরদৌস এর উচ্চ মর্যাদা দান করুন আমিন আমিন আমিন ।

পবিত্র আশুরার রাতে জিকিররত অবস্থায় আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান পীর সাহেব কেবলা।

জাতীর এ দুর্দিনে আমরা মুরুব্বী হারা হয়ে গেলাম।

আগামী ১৮/৭/২০২৪ বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ ঘটিকায় ছারছীনা দরবার শরীফে হুজুরের যানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ইন শা আল্লাহ।

মরহুম হুজুরের অসিয়ত মোতাবেক একটি জানাজা নামাজই অনুষ্ঠিত হবে।

ছারছীনা শরীফের হযরত পীর সাহেব কেবলা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধী৷  হুজুর কেবলার  দীর্ঘ হায়াত ও সুস্থতা কামনায় আগামী ৫ জুলাই শুক...
03/07/2024

ছারছীনা শরীফের হযরত পীর সাহেব কেবলা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধী৷ হুজুর কেবলার দীর্ঘ হায়াত ও সুস্থতা কামনায় আগামী ৫ জুলাই শুক্রবার দেশের সকল মসজিদে দু'আর আয়োজন করার অনুরোধ রইল।
আল্লাহ তায়ালা তৌফিক দান করুন। আমীন

হাদীয়ে দ্বীন ও মিল্লাত,মুহিউসুন্নাত, কুতুবুল বাঙ্গাল আল্লামা শাহ সূফী নেছারুদ্দীন আহমদ (র.)-এর ৭২ তম ইন্তেকাল বার্ষিকী উ...
31/01/2024

হাদীয়ে দ্বীন ও মিল্লাত,মুহিউসুন্নাত, কুতুবুল বাঙ্গাল আল্লামা শাহ সূফী নেছারুদ্দীন আহমদ (র.)-এর ৭২ তম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত লিখনী।
------------------------

ভূমিকাঃ
➡️➡️➡️➡️
ফিরিঙ্গি লা-দ্বীনিয়াত ও কুসংস্কারের অশুভ প্রভাবে এবং তথাকথিত ব্রাহ্মণবাদী ও হিন্দুয়ানী রীতিনীতি এবং আচার- আচরণের ভয়াবহ সয়লাভের তোড়ে যখন গোটা মুসলিম তাদের ঈমান-আকিদা, আমল-আখলাক, তাহজীব-তামাদ্দুন থেকে বিচ্যুত হয়ে জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে চরমভাবে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হতে ছিল ঠিক সেই সময় বীভৎস ও মারাত্মক পরিবেশে আবির্ভাব হয়েছিলো মুহিয়ে সুন্নাত, কুতুবুল আলম, হাদীয়ে দ্বীন ও মিল্লাত, সমাজ সংস্কারক আল্লামা নেছার উদ্দিন আহমদ (র.)-এর। বক্ষমান নিবন্ধে আমরা এই মহান ওলির জীবনী সম্পর্কে জানবো ইনশাআল্লাহ।

জন্ম ও পরিচয়ঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️

হাদীয়ে দ্বীন ও মিল্লাত, পীরে কামেল আল্লামা নেছার উদ্দিন আহমদ (র.) বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার অর্ন্তগত সন্ধ্যা নদীর তীরে নিভৃত 'ছারছীনা' নামক গ্রামে হিজরি ১২৯৩ সাল মোতাবেক, বাংলা ১২৭৯ সাল অগ্রহায়ণ মাস, ইংরেজি ১৮৭৩ সালের নভেম্বর মাসে এক সম্ভান্ত্র মুসলিম 'আকন' পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম হাজী মৌলভী ছদর উদ্দিন। মাতা মরহুমা জোহরা বেগম।

শিক্ষা জীবনঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️

আল্লামা নেছার উদ্দিন আহমদ র. বাল্যকাল থেকেই সরল, সুবোধ, বিদ্যানুরাগী ও ধীরস্থির স্বভাবের ছিলেন। ১২ বছর পর্যন্ত পিতামাতার কাছেই ইলমে দ্বীন শিক্ষা করেন। তাঁর বয়স যখন ১৪ বছর, তখন বাংলা ১২৯৩ সাল মোতাবেক ইংরেজী ১৮৮৮ সালে ৫০ বছর বয়সে তাঁর পিতা পবিত্র হজ্জব্রত পালন অবস্থায় মক্কা শরীফে ইন্তেকাল করেন। পিতৃহীন বালক নেছার উদ্দিনের লালন পালনের ভার গ্রহণ করেন তাঁর মহীয়সী মাতা ও দাদা সূফি জহির উদ্দিন আকন। পরবর্তীতে মায়ের দৃঢ়তায় তিনি মাদারীপুরের একটি প্রাথমিক মাদ্রাসায় পড়াশুনা শুরু করেন। এরপর ঢাকার হাম্মাদিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে কিছুদিন অধ্যায়নের পর তিনি চলে আসেন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায়। অতঃপর তিনি হুগলীর মোহসেনিয়া মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেন এবং বৃত্তি সহকারে ১৮৯৬ সালে তৎকালীন মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি 'জামায়াতে-উলা' (ফাজিল) পাস করেন এবং বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বিশিষ্ট আলেমদের কাছ থেকে ইলমে নববীর গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

ইলমে তাছাওউফ অর্জনঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️

মাওলানা নেছার উদ্দিন র. হুগলী মোহসেনিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন কালে ১৮৯৫ ঈসায়ী সালে তদানীন্তন যুগের শ্রেষ্ঠ ফুরফুরা শরীফের পীর, মুজাদ্দিদে জামান,উলিল আমর, হযরত মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী আল কোরাইশী (র.)-এর সাথে কোন এক জলছায় সাক্ষাৎ হয় এবং সেখানে তিনি বাইয়াত গ্রহণ করেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে তিনি চার তরিকার সর্ব্বোচ সবক ও কামালিয়াতের উচ্চ স্তরে উন্নীত হয়ে লোকজনকে বাইয়াত করার ও তালিম দিতে খিলাফত প্রাপ্ত হন। তিনি অনেক সময় বলতেন- "আমি ৪৫ বছর পর্যন্ত পীরের খেদমত করেছি। আল্লাহ তায়ালা আমাকে যা কিছু এনায়েত করেছেন তা আমার পীরে মরহুমের ফয়েজ, সোহবত ও তাওয়াজ্জুহের উসিলায় দিয়েছেন।"

আখলাক ও আদাতঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️
মাওলানা নেছার উদ্দিন আহমদ র. ছিলেন নবী চরিত্রের এক মূর্ত প্রতীক। ইবাদত-বন্দেগি সহ জীবনের সকল কাজে হুবহু সুন্নাত তরীকা মোতাবেক পালন করতে সদা সচেষ্ট থাকতেন। তাকওয়া-পরহেজগারী, সবর ও শোকর, আমানতদারিতা, লজ্জা-শরম, কোমলতা, নম্রতা, বদান্যতা,সহানুভূতি, মানবতাবোধ ইত্যাদি ছিল তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বিবাহ ও পরিবারঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️
আল্লামা নেছার উদ্দিন (র.) মোট তিনটি বিবাহ করেন। তাঁর বয়স যখন ১৪ বছর তখন স্বীয় পিতা হজ্জে যাওয়ার প্রাক্কালে তাঁকে ছারছীনা শরীফের পার্শ্ববর্তী মাগুরা গ্রামের মরহুম দলীল উদ্দিন শিকদারের কন্যা ছাহেরা খাতুনকে বিবাহ করান। এই ঘরে দুই ছেলে জন্মগ্রহণ করে। প্রথম স্ত্রী ইন্তেকালের পর দ্বিতীয় বিবাহ করেন গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ার কুশলা গ্রামে। এই ঘরে আট ছেলে ও ছয় কন্যা জন্মগ্রহণ করে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরেই জন্মগ্রহণ করেন মরহুম শাহ্ আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ (র.) মরহুম শাহ মুহাম্মদ সিদ্দিক (র.) ও মরহুম শাহ মুহাম্মদ নূর (র.)। পরবর্তীতে তিনি আরো একটি বিবাহ করেন ঝালকাঠি জেলার কাচাবালিয়া গ্রামে। এই ঘরে চারজন কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে।

তাবলীগ ও হেদায়েতঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️
ফুরফুরার পীর আবু বকর সিদ্দিকী (র.)-এর কাছে থেকে চার তরীকার কামালিয়াত অর্জন করে নেছার উদ্দিন র. প্রাথমিক পর্যায়ে নিজ এলাকায় দাওয়াতী কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সারা দেশে তাঁর সংস্কার ধারা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সময় তিনি বলতেন, "আমার ইচ্ছে হয় প্রত্যেক জেলায় জেলায় গিয়ে ইসলামের মর্মবাণী লোকদিগকে শুনাইয়া আসি।" তিনি মানুষের হেদায়েতের জন্য সারা দেশে অসংখ্য মসজিদ,মক্তব, মাদরাসা, কুতুবখানা ও খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামের মর্মবাণী গুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নেছার উদ্দিন র. বছরে তিনদিন ব্যাপী করে দুইটা ইসালে সাওয়াব মাহফিলের আয়োজন করেন। স্বীয় পীরের নির্দেশে নিজ বাড়িতে ১৯১৪ ইং সালে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলার আজহার খ্যাত "ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত আলিয়া কামিল মাদরাসা।"

সমাজ সেবামূলক কাজঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️
নেছার উদ্দিন নামের অর্থ দ্বীনের জন্য উৎসর্গকৃত, ঠিক তার ব্যত্যয় ঘটেনি পীর নেছার উদ্দিন আহমদ (র.)-এর জীবনীতে। সত্যিকার জনদরদী, আর্তমানবতার সেবায় এক আর্দশ ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন "হেমায়েতে ইসলাম তহবিল" ও "এহ্ইয়ায়ে সুন্নাত ফান্ড।" এছাড়া ১৯৩৭ সালে "মক্কা-মদিনা শরীফে রিলিফ ফান্ড ও মুসাফিরখানা", "পঞ্চগ্রাম সাহায্য সমিতি", বাংলা ১৩৫০ সালে "বরিশাল লঙরখানা", ১৯১৪ সাল থেকে "ইসালে সাওয়াব মাহফিল", ইংরেজি ১৯৪১ সালে "বিপন্নদের সেবা", "ফাতেহিয়া ফান্ড" ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।

লেবাছ ও ছুরাতঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️
আল্লামা নেছার উদ্দিন আহমদ র. লেবাছ-পোশাক ও পানাহারে জাঁকজমক পছন্দ করতেন না। তিনি সর্বদা সাদা নেছফে-ছাক গোল জামা, কল্লিদার পায়জামা, গোল টুপি, নামাজে পাগড়ী ব্যবহার করতেন। তাঁর গালভর্তি দাড়ি ছিলো। তিনি শরীয়তের বিষয়ে এতই কঠোর ছিলেন যে, সুদখোর, বে-নামাজী, ঘুষখোর ও দাড়ি মুণ্ডনকারীর দাওয়াত ও হাদিয়া গ্রহণ করতেন না।

ইবাদত- বন্দেগীঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️
আল্লামা নেছার উদ্দিন আহমদ র. মস্তবড় আবেদ বান্দা ছিলেন। ফরজ-ওয়াজিব বিধান ছাড়াও তিনি নফল ইবাদতে এত মশগুল থাকতেন যে, মনে হত তিনি কেবল ইবাদতের জন্যই দুনিয়াতে এসেছেন। আল্লাহর ভয়ে তিনি বেশি রোনাজারি করতেন। তিনি তার ভক্ত-মুরিদদেরকে বলতেন, "আপনারা নামাজ, রোজা, মুরাকাবা, মুশাহাদা প্রভৃতি ফরজ,ওয়াজিব ও সুন্নাত মুস্তাহাবগুলি অতি মহব্বতের সাথে আদায় করবেন।" হযরত পীর সাহেব কেবলার শত শত খলিফা রয়েছে তৎমধ্যে কয়েক জন হযরত মাওঃ শাহ সূফি আবু জাফর মোহাম্মদ ছালেহ মরহুম পীর সাহেব রহঃ, হযরত কায়েদ ছাহেব হুজুর রহঃ, মৌকরা পীর সাহেব রহঃ, সন্তেষপুর পীর সাহেব রহঃ , পখিরা পীর ছাহেব রহঃ , মদনা পীর সাহেব রহঃ, মোকামিয়া পীর সাহেব রহঃ, পাঙ্গাসিয়ার পীর সাহেব রহঃ, তিলিপের পীর সাহেব রহঃ, চৈতার পীর সাহেব রহঃ সহ অনেক।

গ্রন্থ রচনাঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️
আল্লামা নেছার উদ্দিন আহমদ র. লেখনীর মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষিক লোকদের মধ্যে ইসলামী বিপ্লব সৃষ্টির নিমিত্তে বহুগ্রন্থ রচনা করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য- তরিকুল ইসলাম (১৪ খন্ড), এজহারুল হক (জুমার বাহাস), মোসলেম রত্নহার, নূরুল হেদায়েত, জামেউল উসুল, মাসায়েলে ছালাছা, মাসায়েলে আরবায়া, হক কথা, দাড়ি-গোঁফ সমস্যা, ফতোয়ায়ে সিদ্দীকিয়া , মজহাব ও তাকলীদ, রদ্দে বদগোমান, তালীমে মা'রেফাত, আল-জুম'আ,জুমার সংক্ষিপ্ত দলীল, জুমার অকাট্য দলীল, দ্বিধা ভঞ্জন, গঞ্জে হক, সুদ সমস্যা, ফুটবলের ফতোয়া, সমাজ উন্নতি, নছবনামা, অছিয়তনামা, পীর-মুরীদি, নারী ও পর্দা ইত্যাদি গ্রন্থ রচনা করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৫০ ইসায়ী সালে শেষবার হজ্জে যাওয়ার সময় "তাবলীগ" নামে একটা পাক্ষিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।

সংগঠন প্রতিষ্ঠাঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️
সমাজের সর্বস্তরের দ্বীনদার মুসলমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য নেছার উদ্দিন আহমদ র. ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন "আঞ্জুমানে আল ইছলাহ" নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। কিছুদিন পর ফুরফুরার আব্দুল হাই সিদ্দিকী (র.)-এর নির্দেশে সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় "হিযবুল্লাহ জমইয়াতুল মুজাহিদীন।" পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৯৫০ সালে সংগঠনের নাম পুনঃ পরিবর্তন করে রাখা হয় "পাকিস্তান জমইয়াতে হিযবুল্লাহ।" ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর সংগঠনের নাম রাখা হয় "বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ।" ছাত্রদের আমল-আকিদা ঠিক রাখার জন্য অঙ্গ সংগঠন হিসেবে ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন "জমিয়তে তোলাবায়ে হিযবুল্লাহ।" ১৯৮৭ সালে একে আধুনিকায়ন করে নাম রাখা হয় "বাংলাদেশ ছাত্র হিযবুল্লাহ।"

হজ্জব্রত পালনঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️
মাওলানা নেছার উদ্দিন আহমদ র. স্বীয় পীর মুজাদ্দিদে জামান (র.)-এর এযাযত নিয়ে ২৯/৩০ বছর বয়সে (১৯০১-০২ইং) সালে স্ব-পরিবারে প্রথম হজ্জব্রত পালন করেন। এরপর মধ্য বয়সে ১৯২৩ সালে দ্বিতীয়বার হজ্জব্রত পালন করেন। সর্বশেষ ১৯৫০ সালে ১৪০১ জন সঙ্গী নিয়ে শেষবারের হজ্জ পালন করেন।

কাশফ ও কারামতঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️➡️
১. মঠবাড়িয়া এলাকার এক লোক এসে হুজুরের কাছে দোয়া চাইলেন। পরে তিনি লোকটিকে শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে নসিহত করেন এবং বলেন, "তামাক বিড়ি খেয়ো না , হুক্কা-বিড়ি মুখে দিলে তোমার পেটে আগুন জ্বলবে।" সে হুজুরের কথা মত বিড়ি সিগারেট না খাওয়ার ওয়াদা করল। বাড়িতে গিয়ে ওয়াদা ভঙ্গ করে পূনরায় বিড়ি সিগারেট খাওয়া আরম্ভ করল। সাথে সাথে পেটে অসহ্য ব্যথা আরম্ভ হলো; কিছুতেই সে ব্যথা দূর হয় না। তখন সে বাধ্য হয়ে নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর দরবারে তাওবা করল এবং হুজুরের কাছে এসে মাফ চাইল। হুজুর তার জন্য দোয়া করলেন এবং পানি পড়া দিলেন, তখন সে ভালো হয়ে উঠল। সুবহানাল্লাহ!

২. জনাব নূরে এলাহী নামে নেছার উদ্দিন (র.)-এর বিশিষ্ট মুরিদ ছিলো। মুরিদ হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি অনেক সময় বনে জঙ্গলে কাটাতেন। একদিন তিনি বনে বসে আছেন, এমন সময় আকস্মিক একটা বাঘ তার দিকে আক্রমণ করতে আসে। তখন মুরিদ বাঘকে বললো, "আমাকে খেতে চাস? আয়,খেয়ে যা- আমি ছারছীনার নেছার উদ্দিনের মুরিদ।" এই কথা বলার সাথে সাথে বাঘটি লেজ গুটিয়ে অন্যদিকে চলে গেল।

ইন্তেকালঃ
➡️➡️➡️➡️➡️➡️
আল্লামা নেছার উদ্দিন আহমদ র. তাঁর সমস্ত মুরিদ মো'তাকিদিন, আত্মীয়-স্বজন ও মুসলমান জাতিকে শোক সাগরে বাসিয়ে ইংরেজি ১৯৫২ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী, বাংলা ১৩৫৮ সালের ১৮ই মাঘ, হিজরী ১৩৭১ সালের ৪ঠা জমাদিউল আউয়াল, রোজ বৃহস্পতিবার রাতে ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রায় ৮২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। পরের দিন শুক্রবার আসর নামাজের পূর্বে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে বড় শাহ্ সাহেব আবু জাফর মুহাম্মদ ছালেহ (র.)-এর ইমামতিতে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত এবং দাফনকার্য্য সম্পূর্ণ হয়।

তথ্যসূত্রঃ
➡️➡️➡️➡️➡️
১.ছীরতে নেছারিয়া (১-৩ ভাগ), মাওলানা নুরুদ্দীন আহমদ র. (ছারছীনা দারুসসুন্নাত লাইব্রেরি,নেছারাবাদ,পিরোজপুর,১ম সংস্করণ, ১৩৬৪ বা.)

২. হযরত মাওলানা শাহ্ ছুফি নেছার উদ্দিন (র.)-এর জীবনীঃ আব্দুল বারী খন্দকার, (ছারছীনা দারুসসুন্নাত লাইব্রেরি, নেছারাবাদ, পিরোজপুর (৬ষ্ঠ বর্ধিত সংস্করণ,২০১৫ইং).

৩. মুজাদ্দিদে জামান শাহ্ ছুফি নেছার উদ্দিন আহমদ (র.)-একটি জীবন,একটি আদর্শঃ ড.এ.এফ.এম. আনওয়ারুল হক, (ছারছীনা দারুসসুন্নাত লাইব্রেরি, নেছারাবাদ, পিরোজপুর, ২য় সংস্করণ, ২০১৭ ইং).

৪. পীর নেছারুদ্দীন আহমদ (র.), মুহাম্মদ রফিকুল্লাহ নেছারাবাদী, (ইফাবা,ঢাকা,২য় প্রকাশ, ২০১৪ ইং).

৫. বাংলাদেশের পীর আওলিয়াগন, আলহাজ্ব মাওলানা এম.ওবাইদুল হক র. (মদিনা পাবলিকেশন্স, ঢাকা, বর্ধিত সংস্করণ,২০০৮), পৃ.৩০৪-৩১৭.

৬. বাংলাদেশের সূফি সাধক, ড.গোলাম সাকলায়েন, (ইফাবা,ঢাকা, ৮ম সংস্করণ,২০১৯ইং), পৃ.১৮৭-১৯১

৭. বাংলাদেশের পীর আওলীয়া ও সাধক ওলামা মাশায়েখের জীবনী, এ.এস.এম আজিজুল হক আনসারী, (সোলেমানিয়া বুক হাউস,ঢাকা, ৫ম মুদ্রণ,২০১৫ ইং.), পৃ.৭২-৭৬

ছারছীনা দরবার শরীফের আলা হযরত পীর সাহেব হুজুর কেবলার আহবানে, ফিলিস্তিনের মজলুম মুসলমানদের সমর্থনে,অবৈধ্য রাষ্ট্র ই-জ%রা ...
22/10/2023

ছারছীনা দরবার শরীফের আলা হযরত পীর সাহেব হুজুর কেবলার আহবানে, ফিলিস্তিনের মজলুম মুসলমানদের সমর্থনে,অবৈধ্য রাষ্ট্র ই-জ%রা ই/লের নিষ্ঠুর আগ্রসনের বিরুদ্ধে আগামী ২৫ অক্টোবর রোজ বুধবার বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।

উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে সকল দ্বীনদার, ইমানদার মুসলমান ও বাংলাদেশ জমিয়তে হিজবুল্লাহ, আইয়াম্মায়ে হিজব্বুল্লাহ, যুব হিজবুল্লাহ, ছাত্র হিজবুল্লাহর সকল কর্মিবৃন্দকে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।

আয়োজনেঃ বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ, ইউনাইটেড ঢাকা।

ছারছীনা দরবার শরীফের দরজা সব সময় সবার জন্য খোলা।এটা একটা বহুমুখী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান।এখানে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে ...
02/06/2023

ছারছীনা দরবার শরীফের দরজা সব সময় সবার জন্য খোলা।এটা একটা বহুমুখী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান।
এখানে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে আসেন।কেউ আসেন ইলমে শরিয়ত শিখতে,কেও ফতোয়া জানতে, কেউ ইলমে মারেফত শিখতে, কেও আসেন জিয়ারত করতে, কেও দোয়া নিতে ইত্যাদি।

সর্বপরি এই দরবার একটি অরাজনৈতিক দরবার। এখানে গদি ভিত্তিক দলিয় রাজনীতির উর্ধে থেকে দ্বীন, দেশ ও জাতির খেদমত করা হচ্ছে।

তাই আমাদের সকল পীর ভাই মুহিব্বিনদের কে দরবার শরীফের নাম ব্যবহার করে কোনরুপ রাজনৈতিক পক্ষে বা বিপক্ষে বক্তব্য দিতে নিষেধ করা হচ্ছে। (তবে নিজ পরিচয়ে কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা যার যার নিজস্ব বিষয়)

একটি বিশেষ সংবাদের শিরোনামের কারনে অনেকে ঐ সাংবাদিক বা সংবাদপত্রের সমালোচনায় বিভিন্ন বাজে শব্দ ব্যবহার করেছেন। যা মোটেও কাম্য নয়।এবং যারা এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে সমালোচনা করেছেন তারা কেউই ছারছীনা মিডিয়া ফোরামের কেউ নয়।তাই সকলকে এই ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হচ্ছে।

27/01/2023
01/12/2022

বর্তমান শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি

Address

Swarupkati
8520

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দরবার শরীফ -Official posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ছারছীনা দরবার শরীফ -Official:

Share