শিমুলীয়া মধ্যপাড়া সালাফি জামে মসজিদ, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।

  • Home
  • Bangladesh
  • Sonaimuri
  • শিমুলীয়া মধ্যপাড়া সালাফি জামে মসজিদ, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী।

শিমুলীয়া মধ্যপাড়া সালাফি জামে মসজিদ, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী। আল কুরআন ও সহীহ হাদীস এবং সালাফে সালেহীনদের বুঝ অনুযায়ী পরিচালিত একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

03/01/2026
বিসমিল্লাহ্‌ হিররাহমানির রাহিম।একমাত্র দোয়ার মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব। দোয়ার তাৎপর্য অনেক।যেভাবে দোয়া কর...
29/11/2025

বিসমিল্লাহ্‌ হিররাহমানির রাহিম।

একমাত্র দোয়ার মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব। দোয়ার তাৎপর্য অনেক।

যেভাবে দোয়া করলে আল্লাহ বেশি খুশি হন এমন কিছু নসিহত নিচে দেয়া হলঃ

⬛️ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে দোয়া করা -----

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন আমার বান্দা আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, নিশ্চয় আমি তাদের নিকটবর্তী। আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করি, যখন সে আমার কাছে প্রার্থনা করে। সুতরাং তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করুক। এতে তারা সঠিক পথে চলতে পারবে।’
(সুরা: বাকারাহ,আয়াত: ১৮৬)

⬛️ নিষ্ঠার সঙ্গে দোয়া করা -----

হাদিসের বর্ণনামতে ইখলাস বা নিষ্ঠা দোয়া কবুলের শর্ত।আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেন,‘হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশের উচ্চতা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, তবু আমি তোমাকে ক্ষমা করব, আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো এবং আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করে থাকো, তাহলে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব।’
[সুনানে তিরমিজি,হাদিস-৩৫৪০(সংক্ষিপ্ত)]

⬛️ আল্লাহর প্রশংসাসূচক গুণবাচক নামের সঙ্গে দোয়া করা -----

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা তাঁকে সে নামেই ডাকবে।’
(সুরা: আরাফ, আয়াত: ১৮০)

রাসুলুল্লাহ (সা.) আয়েশা (রা.)-কে এভাবে দোয়া করতে বলেন, ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন।’
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১১৯৫)।
এখানে আল্লাহর ‘ক্ষমাশীল’ গুণ উল্লেখ করে দোয়া করতে বলা হয়েছে।

⬛️ হামদ ও দুরুদ পাঠ করে দোয়া করা ----

দোয়ার আগে আল্লাহর প্রতি ‘হামদ’ (প্রশংসা) ও রাসুলের প্রতি ‘সালাত’ (দরুদ) পাঠ করা। ফাজালা ইবনে উবাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) বসে ছিলেন। এমন সময় একজন লোক এলো এবং নামাজ আদায় করল। এরপর সে বলল, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার প্রতি দয়া করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘হে নামাজি! তুমি তাড়াহুড়া করলে। নামাজ শেষে যখন তুমি বসবে, তখন তুমি আল্লাহর উপযুক্ত হামদ এবং আমার প্রতি দরুদ পাঠ করবে। অতঃপর তুমি দোয়া করবে।’
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৬)

⬛️ কেবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে দোয়া করা -----

ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বদরের ময়দানে আল্লাহর নবী (সা.)-এর দোয়ার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘অতঃপর তিনি কেবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে স্বীয় প্রভুর কাছে বিনীত হয়ে বললেন ...।’
(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭৬৩)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের মহান প্রভু চিরঞ্জীব ও অতি দয়ালু। যখন তাঁর কোনো বান্দা তাঁর প্রতি হাত উঠায়, তখন তিনি খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।’
(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৩২০)

⬛️ প্রচণ্ড আশা নিয়ে দোয়া করা -----

আল্লাহর প্রতি প্রচণ্ড রকম আশা নিয়ে দোয়া করার নির্দেশ দিয়েছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেন, ‘দোয়া কবুল হওয়ার আশা নিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো। জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ উদাসীন ও অমনোযোগী অন্তরের দোয়া কবুল করেন না।’
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৯)

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা ছিল সৎকাজে প্রতিযোগী, তারা আশা ও ভয় নিয়ে আমার প্রার্থনা করত। তারা ছিল আমার প্রতি বিনীত।’
(সুরা: আম্বিয়া, আয়াত: ৯০)

⬛️ অশ্রুসিক্ত হয়ে দোয়া করা -----

আল্লাহ তাআলা অশ্রুসিক্ত হয়ে দোয়া করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রভুর প্রার্থনা করো গোপনে অশ্রুসিক্ত হয়ে।’
(সুরা: আরাফ, আয়াত: ৫৫)

⬛️ একান্তে দোয়া করা -----

দোয়া ও প্রার্থনার শিষ্টাচার হলো একান্তে দোয়া করা। তা প্রকাশ না করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের প্রভুর প্রার্থনা করো গোপনে অশ্রুসিক্ত হয়ে।’
(সুরা: আরাফ, আয়াত: ৫৫)

⬛️ দৃঢ়তার সঙ্গে দোয়া করা -----

আল্লাহর প্রতি দাবি ও অধিকার নিয়ে দোয়া করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যেন না বলে, হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমার প্রতি দয়া করুন। সে যেন দৃঢ়তার সঙ্গে চায়। কেননা কেউ আল্লাহকে বাধ্য করার ক্ষমতা রাখে না।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩৩৯)

⬛️ দোয়া কবুলের ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করা -----

নবী করিম (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল করা হয় যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে। যেমন সে বলল, আমি দোয়া করলাম কিন্তু তা কবুল হলো না।’
(আল জামি বাইনাস সহিহাইন,হাদিস: ২২৯২)

আল্লাহ মানুষকে তাঁর কাছে চাইতে, দোয়া ও প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। দোয়াকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমাদের প্রভু বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’
(সুরা: গাফির, আয়াত: ৬০)।

নবী করিম (সা.) বলেন, ‘দোয়াই ইবাদত।’
(সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৪৮১)

মুমিনের দায়িত্ব হলো, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। ছোট-বড় সব প্রয়োজনের জন্য দোয়া করা। আল্লাহ প্রার্থনাকারীকে পছন্দ করেন। প্রার্থনা না করলে তিনি রাগ করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে না; তিনি তাঁর ওপর রাগান্বিত হন।’
(সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৭৩)।

আলহামদুলিল্লাহ। আজকে শিমুলীয়া মধ্যপাড়া আত্ব-তাক্বওয়া সালাফি জামে মসজিদ, সোনাইমুড়ী,নোয়াখালী। মসজিদ ভিজিট করেছেন, সোনাইমুড়...
28/11/2025

আলহামদুলিল্লাহ। আজকে শিমুলীয়া মধ্যপাড়া আত্ব-তাক্বওয়া সালাফি জামে মসজিদ, সোনাইমুড়ী,নোয়াখালী। মসজিদ ভিজিট করেছেন, সোনাইমুড়ী সালাফিয়্যাহ মাদরাসা, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী। মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়গন।

অনেকেই অতীতের ভুলগুলো শোধরাতে চান, গন্তব্যহীন অন্ধকারময় পথ থেকে ফিরে আসতে চান, আল্লাহর পথে চলতে চান। অতীতে অনেক ধরনের গু...
17/11/2025

অনেকেই অতীতের ভুলগুলো শোধরাতে চান, গন্তব্যহীন অন্ধকারময় পথ থেকে ফিরে আসতে চান, আল্লাহর পথে চলতে চান।

অতীতে অনেক ধরনের গুনাহের সাথে জড়িত ছিলেন। ওই সময় ইসলাম ধর্মের অনেক কিছুই জানতেন না, জানলেও মানতেন না। কিন্তু বর্তমানে গুনাহ পরিত্যাগ করতে চান, অতীতের গুনাহগুলো পুনরায় যেনো না হয়, সেজন্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন।

ওয়াল্লাহি! এসকল মানুষের জন্য সুসংবাদ।

আল্লাহ ﷻ বলেছেন,
নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালবাসেন।
(সূরা বাকারাহ:২২২)

আল্লাহ অবশ্যই সেসব লোকের তাওবাহ্‌ কবুল করবেন যারা অজ্ঞতাবশতঃ মন্দ কাজ করে এবং তাড়াতাড়ি তাওবাহ্‌ করে, এরাই তারা, যাদের তাওবাহ্‌ আল্লাহ কবুল করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
(সূরা নিসা:১৭)

তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
(সূরা ফুরক্বান:৭০)

আন্তরিক তাওবাহ, গুনাহে না জড়ানোর দৃঢ় মনোবল, সৎ কর্মের চেষ্টা আপনাকে আপনার গন্তব্যে পৌছাতে পারে।

মহান আল্লাহ বলেছেন, নেকীর কাজ অবশ্যই গুনাহ দূর করে দেয়।
(সূরা হুদ: ১১৪)

রাসূল ﷺ বলেছেন, অন্যায় কাজ হয়ে গেলে পরক্ষণেই ভাল কাজ কর। তবে ভাল কাজ অন্যায়কে মুছে দিবে।
(তিরমিয়ী: ১৯৮৭)

আপনি আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলুন, আল্লাহ তা'য়ালা সন্তুষ্ট থাকেন এমন সকল কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখুন। আশেপাশের মানুষ কী ভাবলো, কী বললো তা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। কোন মানুষই আপনার দুঃখের ভার নিবে না, কেউই আপনার গুনাহের ভাগীদার হবে না।

নিয়মিত সালাত আদায় করুন,
তাহাজ্জুদ পড়ুন,
যিকর করুন,
তাসবীহ পাঠ করুন,
সময় করে কুরআন তিলাওয়াত করুন,
যথাসাধ্য দান করুন,
মিথ্যা এড়িয়ে চলুন,
যতটুকু সম্ভব ভালো কাজ করুন।

আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের তাওফিক দিন এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

আগামী ১৪ ই নভেম্বর রোজ শুক্রবার, শিমুলীয়া আত্ব-তাক্বওয়া সালাফি জামে মসজিদ, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী। মসজিদে জুম'আর নামাজ পড়াব...
12/11/2025

আগামী ১৪ ই নভেম্বর রোজ শুক্রবার, শিমুলীয়া আত্ব-তাক্বওয়া সালাফি জামে মসজিদ, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী। মসজিদে জুম'আর নামাজ পড়াবেন, উস্তাদ আব্দুস সাত্তার হাফিঃ। আপনারা সকলেই আমন্ত্রিত।

09/11/2025

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর রুকন ও শর্ত

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর ২ টি রুকন
১- নফী বা যাবতীয় উপাস‍্য থেকে নিজেকে বিমুক্ত ঘোষণা করা।
২- ইসবাত বা একমাত্র আল্লাহকেই উপাস‍্য হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করা ও তাঁরই উপাসনা করা।

“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর ৭টি শর্ত
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” — এই তাওহীদের বাক্যটি ইসলামের মূল ভিত্তি। কিন্তু কেবল মুখে বললেই এটি পূর্ণ হয় না; বরং এ বাক্যটির কিছু শর্ত রয়েছে, যেগুলো কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
এই ৭টি শর্ত হলো:
১- জ্ঞান (العلم)
এই বাক্যের অর্থ জানতে হবে — যেমন: “লা” দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্য সকল মাবুদকে অস্বীকার এবং “ইল্লাল্লাহ” দ্বারা শুধু আল্লাহকেই একমাত্র উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করা।
২- সুদৃঢ়তা (اليقين)
এই কথার উপর দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে; কোনো সন্দেহ থাকা যাবে না।
৩- একনিষ্ঠতা (الإخلاص)
ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্য হতে হবে। রিয়া বা শির্ক হলে এ বাক্য গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪- সত্যবাদিতা (الصدق)
মুখে উচ্চারণ করা ও অন্তরের বিশ্বাসের মধ্যে মিল থাকতে হবে। মুখে বললেও যদি অন্তরে বিশ্বাস না থাকে, তবে তা মুনাফিকি।
৫- ভালোবাসা (المحبة)
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে এবং যারা এটি মানে ও অনুসরণ করে তাদেরও ভালোবাসতে হবে।
৬- আনুগত্য (الانقياد)
আল্লাহর আদেশের প্রতি আত্মসমর্পণ করতে হবে এবং এই বাক্যের দাবিগুলোর উপর আমল করতে হবে।
৭- কবুল বা গ্রহণ করে নেয়া (القبول)
এই বাক্যের অর্থ ও নির্দেশনা গ্রহণ করতে হবে। কেউ যদি মুখে বলে, কিন্তু অন্তরে তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে তা ঈমানের জন‍্য যথেষ্ট নয়।



সালাফদের বাণী:
•হাসান আল বসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
“যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে এবং তার হক ও ফরজ আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
•ওহাব ইবন মুনাব্বিহ (রহ.) বলেন:
“প্রত্যেক চাবিরই দাঁত থাকে; যদি তুমি দাঁতযুক্ত চাবি আনো, তবে দরজা খুলবে, আর যদি না আনো তবে খুলবে না।”
— অর্থাৎ চাবির দাঁত মানে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর এই ৭টি শর্ত।

✍️ শাইখ প্রফেসর ডঃ আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া হাফিয্বাহুল্লাহ 🥀

সালাতে (নামাজে) কাতারে পা পা-য়ের সাথে মিলিয়ে দাঁড়ানো সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত — এটি রাসূল ﷺ ও সাহাবাদের আমল ছিল। নিচে ...
16/10/2025

সালাতে (নামাজে) কাতারে পা পা-য়ের সাথে মিলিয়ে দাঁড়ানো সহিহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত — এটি রাসূল ﷺ ও সাহাবাদের আমল ছিল। নিচে দলিলসহ বিস্তারিত দেওয়া হলো 👇

---

🌿 কোরআন থেকে নির্দেশ

> يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু কর, সেজদা কর, তোমাদের প্রভুর ইবাদত কর এবং সৎকাজ কর, যাতে তোমরা সফল হও।”
— সূরা আল-হাজ্জ ২২:৭৭

➡️ এই আয়াতে নামাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে, আর রাসূল ﷺ তা বাস্তবে কাতার সোজা করা ও পা মিলিয়ে দাঁড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন।

---

🌿 সহিহ হাদীস থেকে দলিল

১️⃣ নবী ﷺ কাতার সোজা করার আদেশ দিতেন

> عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُسَوِّي صُفُوفَنَا، حَتَّى كَأَنَّمَا يُسَوِّي بِهَا الْقِدَاحَ، حَتَّى رَأَى أَنَّا قَدْ عَقَلْنَا عَنْهُ، ثُمَّ خَرَجَ يَوْمًا، فَقَامَ حَتَّى إِذَا كَادَ أَنْ يُكَبِّرَ، فَرَأَى رَجُلًا بَادِيًا صَدْرُهُ مِنَ الصَّفِّ، فَقَالَ: عِبَادَ اللهِ، لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ، أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭১৭, সহিহ মুসলিম: ৪৩৬

🕌 অর্থ:
নু‘মান ইবন বশীর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের কাতার সোজা করতেন, যেন তীরগুলো সোজা করা হয়। তারপর একদিন তিনি এক ব্যক্তির বুক সামনের দিকে বের হয়ে আছে দেখে বললেন:

> “হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করো, নচেৎ আল্লাহ তোমাদের মুখমণ্ডল একে অপরের থেকে ফিরিয়ে দেবেন।”

---

২️⃣ পা পায়ের সাথে, কাঁধ কাঁধের সাথে মিলিয়ে দাঁড়ানোর বর্ণনা

> عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ أَحَدُنَا يُلْزِقُ كَعْبَهُ بِكَعْبِ صَاحِبِهِ وَمَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِهِ
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২৫

🕌 অর্থ:
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন,

> “আমরা নামাজে কাঁধ কাঁধের সাথে ও পা পায়ের সাথে লাগিয়ে দাঁড়াতাম।”

---

৩️⃣ আল্লাহর রাসূল ﷺ কাতার সমান না হলে শাস্তির আশঙ্কা দিয়েছেন

> سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصَّفِّ مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২২
— সহিহ মুসলিম: ৪৩৩

🕌 অর্থ:

> “তোমরা তোমাদের কাতার সমান করো, নিশ্চয় কাতার সমান করা নামাজের পরিপূর্ণতার অংশ।”

---

🌿 সাহাবাদের আমল

সাহাবারা শুধু কথায় নয়, বাস্তবে কাতার সোজা করতেন এবং পা পায়ের সাথে মিলিয়ে দাঁড়াতেন। এটি কোনো অতিরঞ্জন নয়, বরং সহিহ বুখারির স্পষ্ট বর্ণনা।

---

⚖️ ফিকহী ব্যাখ্যা (ইমামদের মতামত)

ইমাম মালিক, ইমাম আহমদ, ইমাম শাফেয়ী (রহ.) — বলেছেন কাতার সোজা করা এবং পা পা মিলানো সুন্নাহ।

ইমাম নববী (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন:

> “এর মানে হলো কাতারে ফাঁক না রাখা এবং পা ও কাঁধ মিলিয়ে সমানভাবে দাঁড়ানো।” (শরহ সহিহ মুসলিম, ৪/১২৮)

---

✅ উপসংহার

📖 সহিহ হাদীস অনুযায়ী,
নামাজে কাতারে পা পায়ের সাথে ও কাঁধ কাঁধের সাথে মিলিয়ে দাঁড়ানো —
এটি রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ, সাহাবাদের অনুসৃত আমল, এবং নামাজের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলার অংশ।

🔖 সালাতে বসার (জালসার) বিভিন্ন পদ্ধতি । যা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত কিন্তু অধিকাংশই এই নিয়মগুলো জানেন না —প্রথম পদ্ধতি :➊...
16/10/2025

🔖 সালাতে বসার (জালসার) বিভিন্ন পদ্ধতি । যা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত কিন্তু অধিকাংশই এই নিয়মগুলো জানেন না —

প্রথম পদ্ধতি :
➊ الافتِرَاش (আল-ইফতিরাশ)

📚 [সহীহ মুসলিম,হা/৪৯৮]

অর্থ : ইফতিরাশ হলো এমন বসা— যেখানে ডান পা খাড়া রেখে, বাম পায়ের উপর বসা হয় । (এই পদ্ধতি সমাধিক প্রচলিত)

ব্যবহার : এটি প্রথম তাশাহহুদের সময় বা এমন নামাজে হয় যেটি দুই রাকআত বিশিষ্ট (যেমন : ফজর) — সেখানে এটি শেষ তাশাহহুদ হয় ।

দ্বিতীয় পদ্ধতি :
➋ الإقعاء (আল-ইক্ব‘আ‘)

📚 [সহীহ মুসলিম,হা/৫৩৬; আবু দাউদ]

অর্থ : ইক্ব’আ’ হলো এমন বসা— যেখানে দু’টি পায়ের পাতা খাড়া রেখে নিতম্ব দুটি গোড়ালির মাঝে রাখা হয় । (চিত্রে দেওয়া ২য় ছবিটি খেয়াল করুন)

ব্যবহার : এটি দুই সাজদার মধ্যবর্তী বসা অবস্থায় হয় ।

তৃতীয় পদ্ধতি :
➌ التورّك (আত-তাওয়াররুক)

📚 [সহীহ বুখারী,হা/৮২৭]

অর্থ : তাওরুক হলো এমন বসা— যেখানে বাম পা শরীরের নিচ দিয়ে ডান পায়ের দিকে বেরিয়ে থাকে, আর ব্যক্তি মাটিতে নিতম্ব রাখে ও ডান পা খাড়া রাখে । (চিত্রে দেওয়া ৩য় ছবিটি খেয়াল করুন)

ব্যবহার : এটি শেষ তাশাহহুদের সময় হয়, যখন নামাজ দুই রাকআতের বেশি হয় । অর্থাৎ যে নামাজ দুই তাশাহহুদ বিশিষ্ট (যেমন : যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশা) । আল্লাহই ভালো জানেন।

10/10/2025

আজ ১০,১০,২৫ শিমুলীয়া আত্ব-তাক্বওয়া সালাফি জামে মসজিদ, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী। মসজিদের জুমা সুন্দর ভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।

Address

Sonaimuri
3827

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শিমুলীয়া মধ্যপাড়া সালাফি জামে মসজিদ, সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share