18/02/2023
উপমহাদেশের সনাতন সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ তীর্থস্থান চন্দ্রনাথধাম, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রামে "শিবচতুর্দশী তীর্থ ও মেলা" সীতাকুণ্ড স্রাইন এস্টেট ও সীতাকুণ্ড মেলা কমিটি যৌথ ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছরের মতো এ বছরও আনন্দ-উৎসবমুখরভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সুসম্পন্ন করেছেন। এ উপলক্ষে সীতাকুণ্ড মেলা কমিটি কর্তৃক প্রচারিত গুরুত্বপূর্ণ পোস্টটি নিম্নে উপস্থাপিত হলো।
#সীতাকুণ্ডের_মেলা_২০২২৩
#শেয়ার_করুন
#তীর্থযাত্রীদের #করণীয়
🎯 রাত্রিকালে ভুলক্রমেও চন্দ্রনাথে আরোহন করবেন না। এই যাত্রা কৌতূহলোদ্দীপক হলেও আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য অত্যন্ত নিদারূণ যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠতে পারে। তাই সাবধান!
🎯পাতাল কালী, মন্দাকিনী দর্শন করানোর নামে একশ্রেণীর ডাকাতরা সাধু বেশে ওৎপেতে থাকে। তাই দলবিচ্ছিন্ন হয়ে এসব স্থান দর্শনে যাবেন না।
🎯 সীতাকুন্ডে আসার পূর্বেই আপনার গায়ে পরিহিত ছোট বা বড় যেকোন ধরনের স্বর্ণবস্ত্র বাড়িতে রেখে আসবেন। তীর্থ করতে বা আপনার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোন অর্থ সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন না। ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে করে না নিয়ে আসাই ভাল। প্রতিবারই আমরা এই ব্যাপারে আপনাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি, তবুও চুরি, ছিনতাই মেলার সময় নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশাকরি আপনারা আরও বেশী সচেতন হবেন। যেকোনো ধরণের জটলা এড়িয়ে চলবেন।
🎯 মেলার নির্দিষ্ট রাস্তায় চলাচল করবেন। ইতিমধ্যে তীর্থের রাস্তা তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে সম্প্রসারণ এবং সংস্কার করা হয়েছে, তাই ঘুরপথে যাবেন না।
🎯 রাত্রে নির্জন কোনো স্থানে রাত্রিযাপন করবেন না। আপনাদের রাত্রি যাপন করার জন্য অনেক তীর্থযাত্রী নিবাস রয়েছে। সেইগুলির কোনো একটিতে আশ্রয় গ্রহণ করবেন। নতুবা কোনো মন্দির প্রাঙ্গনে যেখানে রাতভর হরিনাম হচ্ছে সেখানে যোগ দিতে পারেন।
🎯 খুব ভোরে ব্যাসকুণ্ড থেকে স্নান করে, ভৈরব মন্দির এ প্রনাম করে আপনার তীর্থযাত্রা শুরু করুন।
🎯 স্নান করার জন্য মা-বোনদের জন্য শুধুমাত্র নির্ধারিত ঘাটেই মা বোনেরা স্নান করবেন। আপনারা সকলের জন্য নির্ধারিত বা পুরুষদের সঙ্গে ঘাট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। মা বোনেরা স্নান করতে নামার সময় সঙ্গে করে অতিরিক্ত কাপড় ও গামছা/ তোয়ালে সাথে করে নিয়ে স্নান করতে ব্যাস কুন্ডে নামবেন। স্নান শেষে তোয়ালে বা গামছা ভাল করে গায়ে জড়িয়ে শুধুমাত্র মা-বোনদের জন্য নির্দিষ্ট রুমে কাপড় পরিবর্তন করবেন।
🎯 ভৈরব মন্দির দর্শন শেষে আপনাদের পরবর্তী গন্তব্য স্থল হচ্ছে মা ভবানী মন্দির ও স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির। এই চন্দ্রনাথে মাতা সতী ভবানী রূপে পূজিত। সেখানে যাবার পথে আপনি হনুমান মন্দির, সীতার কুণ্ড ইত্যাদি পাবেন। কিন্তু এই সব স্থানে সময় নষ্ট না করে, আপনার মূল লক্ষ্য চন্দ্রনাথ দর্শন মাথায় রেখে অগ্রসর হতে হবে। কারণ সূর্য উঠে গেলে আপনার তীর্থভ্রমণ ক্লেশকর হয়ে উঠতে পারে। তাই স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির প্রণাম করেই বিরুপাক্ষ মন্দিরের উদ্দেশ্যে আপনার যাত্রা শুরু করুন।
🎯 স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির হতে যাত্রার প্রতিটা মহুর্ত্তে আপনাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কোনো ভাবেই তাড়াহুড়ো বা দৌঁড়া-দৌঁড়ি করা থেকে বিরত থাকবেন, এবং অন্যদের বিরত থাকতে অনুরোধ করে, সারিবদ্ধ ভাবে বিরুপাক্ষ আরোহন করবেন। একসাথে কয়েজন মিলে দলবেধে চন্দ্রনাথ যাত্রা করবেন। মহিলা ও সঙ্গে যদি শিশু থাকে তাহলে সাথে কয়েকজন করে পুরুষ সহযাত্রী অবশ্যই থাকবেন। আবারও বলছি, পরিধানে কোনো স্বর্ণ বস্ত্র ধারণ করবেন না। চন্দ্রনাথ দর্শন শেষে নামতে একই ভাবে দলবেধে যাত্রা করবেন।
🎯 যাত্রা পথে আপনার সহযাত্রী কোন ভাই বা বোন বিপদে পড়লে সবাই মিলে তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসুন। আপনাদের একতাই সকলের (তীর্থযাত্রীদের) বল। সীতাকুন্ড সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান হলেও বর্তমানে এখানে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক খুবই নগন্য। মেলায় তাই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তাছাড়া মেলা উপলক্ষে সারাদেশ থেকে কিছু দুর্বৃত্ত অপরাধ সংগঠনের লক্ষ্যে সীতাকুণ্ড জড়ো হয়।
🎯 বিরুপাক্ষ মন্দিরে পৌঁছার পর আপনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে, মন্দিরে পূজা ও প্রণাম শেষে আবার চন্দ্রনাথের পথে যাত্রা শুরু করুন।
🎯 কোনো আবেগময় প্ররোচনায় প্রলোভিত হবেন না।
🎯 চন্দ্রনাথে পৌঁছে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও বিনীতভাবে আপনার পূজা ও অর্ঘ্য নিবেদন করুন। আপনার কারণে অন্য তীর্থযাত্রী ভাইবোনদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা দেখে নিন। তা হলে আপনার তীর্থ সফল হবে না।
🎯 দান - মেলার সময় চন্দ্রনাথ ও এর আশেপাশে যাদের দেখা যায় তাদের অধিকাংশই ভাসমান ভিক্ষুক। খেয়াল রাখবেন আপনার দান যেন কোনো অযোগ্য ব্যক্তিকে, অনাদরে ও অবজ্ঞা সহকারে না করা হয়। তাহলে তা তামসিক দান হয়ে যাবে। যথার্থ ব্রাহ্মণ বা সাধু-সন্ন্যাসী খুঁজে পেলেই তবেই দান করবেন। তাছাড়া স্থানীয় শংকর মঠে কিছু অনাথ আশ্রয় আছে, সেখানে গিয়ে অনাথদের জন্য আপনি দান করতে পারেন। কোন মন্দিরের উন্নয়নে দান করতে চাইলে শুধুমাত্র মন্দির কর্তৃপক্ষকে প্রমাণ সাপেক্ষে দান করুন।
🎯 চন্দ্রনাথ দর্শন শেষে নামার সময় খুবই সাবধানতা অবলম্বন করবেন। কারণ এই পথটিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। *** মহিলা ও শিশুদের সাথে কয়েকজন করে পুরুষ সহযাত্রী অবশ্যই থাকবেন। পরিধানে কোনো স্বর্ণ বস্ত্র ধারণ করবেন না। চন্দ্রনাথ দর্শন শেষে নামতে একই ভাবে দলবেধে যাত্রা করবেন।
🎯 এরপর পুনরায় স্বম্ভুনাথ মন্দিরে পৌঁছে, সেখান থেকে সব মঠ-মন্দির দর্শন করতে করতে সীতাকুন্ড বাজারের দিকে এগিয়ে যান এবং আপনার একটি সুন্দর ও স্বার্থক তীর্থযাত্রা সফল করে তুলুন।
ღღ জয় বাবা ভোলানাথ ღღ