27/02/2026
যে সাহাবীর জন্য আল্লাহ তাআলা মৌমাছির বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন, তিনি হলেন মহান সাহাবি
عاصم بن ثابت (আসিম ইবন সাবিত রা.)।
এই সম্মানিত সাহাবির ঘটনা শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং আল্লাহ তাঁর আন্তরিক বান্দাদের কীভাবে রক্ষা করেন তার জীবন্ত প্রমাণ। দুঃখজনকভাবে, আমাদের অনেকেই তাঁর এই মহান ঘটনাটি সম্পর্কে খুব কম জানি।
✦
এই মহামানব ছিলেন আনসারদের বীর সাহাবিদের একজন এবং অত্যন্ত দক্ষ তীরন্দাজ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে বলেছেন:
“যুদ্ধ এভাবেই হয়; যে লড়বে, সে যেন আসিমের মতো লড়ে।”
উহুদের যুদ্ধে তিনি অসাধারণ বীরত্ব দেখিয়েছিলেন। তিনি শত্রুদের দুইজন যোদ্ধা—হারিস ও মুসাফি‘ (তালহা পরিবারের সন্তান)—কে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করেন। তখন তাদের মা, সুলাফা বিনতে সা‘দ, প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ করেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, তিনি আসিম (রা.)-এর মাথার খুলি দিয়ে মদ পান করবেন এবং যে তাঁর মাথা এনে দেবে তাকে একশত উট পুরস্কার দেবেন।
কয়েক বছর পরে, হিজরির চতুর্থ বছরে, “আদল” ও “কারা” গোত্রের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে ইসলাম শিক্ষা দেওয়ার জন্য সাহাবি চাইল। যদিও নবীজি ﷺ আশঙ্কা করেছিলেন যে এতে প্রতারণা থাকতে পারে, তবুও তিনি দশজন সাহাবিকে পাঠান। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন আসিম ইবন সাবিত (রা.) এবং মারসাদ ইবন আবি মারসাদ (রা.)।
তাঁরা যখন “বিরে রাজী” নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তারা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হন। শত্রুরা “রিল”, “জাকওয়ান” ও “লিহইয়ান” গোত্রকে ডেকে আনল। প্রায় একশত যোদ্ধা তাদের ঘিরে ফেলল।
শত্রুরা বলল, তোমরা আত্মসমর্পণ করো, না হলে যুদ্ধ করো। তখন আসিম (রা.) দৃঢ়ভাবে বললেন:
“আমি কখনো কাফিরের নিরাপত্তা গ্রহণ করব না।”
এরপর তিনি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি তীর নিক্ষেপ করে অনেক শত্রুকে হত্যা করেন। তীর শেষ হয়ে গেলে বর্শা দিয়ে যুদ্ধ করেন, বর্শা ভেঙে গেলে তলোয়ার তুলে নেন এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেন।
এই অবস্থায় তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي حَمَيْتُ دِينَكَ أَوَّلَ النَّهَارِ، فَاحْمِ لِي لَحْمِي آخِرَهُ
“হে আল্লাহ! আমি দিনের শুরুতে তোমার দ্বীন রক্ষা করেছি; তুমি আমার দেহকে রক্ষা করো দিনের শেষে।”
অবশেষে তিনি শহীদ হন। শত্রুরা তাঁর মাথা কাটতে চাইল যাতে পুরস্কার পায়। তখন আল্লাহর অদ্ভুত সাহায্য নেমে আসে। আল্লাহ একটি বিশাল মৌমাছি ও বোলতার বাহিনী প্রেরণ করেন। তারা তাঁর দেহ ঘিরে রাখে। কেউ কাছে এলেই তাদের মুখ ও চোখে হুল ফোটাত। ফলে শত্রুরা ভয়ে পালিয়ে যায়। তারা বলে:
: نَتْرُكُهُ حَتَّى اللَّيْلِ
“ওকে ছেড়ে দাও, রাত হলে মৌমাছি চলে যাবে।”
কিন্তু রাত হলে আল্লাহ আবার তাঁর কুদরত দেখালেন। প্রবল বৃষ্টি ও বন্যা নেমে আসে এবং তাঁর পবিত্র দেহ ভাসিয়ে নিয়ে যায় এমন এক স্থানে, যা কেউ জানে না। সকালে শত্রুরা অনেক খুঁজেও তাঁর দেহের কোনো চিহ্ন পায়নি। এভাবে আল্লাহ তাঁকে অপমান থেকে রক্ষা করেন।
এই মহান ঘটনা প্রমাণ করে—যে আল্লাহর দ্বীনকে রক্ষা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করেন, জীবনে ও মৃত্যুর পরেও।
আল্লাহ আসিম ইবন সাবিত (রা.)-এর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং আমাদেরকে তাঁদের পথ অনুসরণ করার তাওফিক দিন। আমিন।