24/03/2023
[পাত্র বাছাই এর বেলায় যারা দ্বীনদারি বলতে 'আলেম','হাফেজ','মাওলানা','ইমাম', টাইটেল আবশ্যক করে দেন তারা নিচের লেখাটা পড়ুন]
পর্দা করা খুব কঠিন এই সমাজে -
আমি বাবার বাড়িতে আগে পর্দা করতাম না শিক্ষিত পরিবারের হলেও কেউ আমার পর্দাকে মেনে নিতে পারেনি তবুও শত কষ্ট করে দুই বছর যাবত পরিপূর্ণ পর্দা করছিলাম । আমার ফুফাতো ভাই, খালু, ফুফা, চাচাতো ভাই ,খালাতো ভাই কারো সামনেই যেতামনা বলে ফুফুরা আমার সাথে রাগ । আমি বলতাম - দ্বীনের জন্য আমাকে ঘৃণা করুক সমস্যা নেই । তো - বিয়ে হওয়া নিয়ে খুব চিন্তিত। ভাবতাম হুজুর দেখে বিয়ে করবো তাহলে পর্দা করতে পারবো। আমার পরিবার চাকরি আর টাকা, সম্পদ দেখে,আমার পরিবারো চাকরিজীবী। আল্লাহর কাছে চাইলাম। আল্লাহ হুজুরের সাথেই বিয়ে ঠিক করছে। অল্প মোহরে বিয়ে আমার পরিবার রাজি ছিলনা তেমন ওরা চাকরি খুঁজে কিন্তু পর্দা পছন্দ করেনা। আমি দ্বীনটাকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম। পরিশেষে একটা মাদ্রাসার শিক্ষকের সাথেই বিয়ে ঠিক হলো। ওনার বাবাও মৌলভী। ওদের বাড়ির নামো মৌলভী বাড়ি। আমি পর্দা সম্পর্কে বলছি;- তখন উঃ দিয়েছিলো - ওরা হুজুর পরিবার পর্দা করতে দিবে পরিপূর্ণ। তাহলে সব ঠিক আছে । বিয়ে সম্পন্ন হলো । বিয়ের পরদিন সকালে হাজব্যান্ডের দুলাভাই ভাগিনা বড় ভাই উপস্থিত আমাকে দেখবে কিন্তু আমি রাজি না। নতুন বউ সবাই জোর করে দেখালো আমার চোখে পানি চলে এসেছে। তারপর - তার ভাই আর দুলাভাইদের সামনে যেতে বাধ্য। আমি চাপে পড়ে তবুও খালি মুখ ঢেকে জিজ্ঞেস করেই শেষ করে দেয় কথা । কিন্তু হবে না। আমাকে ভাত বেড়ে হাতে বাতাস করা লাগবো রসিকতা করা লাগবো জায়ের মতো। প্রতিনিয়ত পর্দার জন্য চোখ থেকে পানি পড়ছেই। হাজবেন্ডকে বললে বলে পরিবারের বিরুদ্ধে যেতে পারবে না। তাছাড়াও ওরা হুজুর পরিবার বুঝিয়ে লাভ নেই। আমি বলি - পর্দা করা ফরজ আর এই দায়িত্ব আপনার উপর ফরজ । কই পাবে - ভাবিদের সাথে রসিকতা, ফোনালাপ , ভাবির ছবি দিয়ে হাজবেন্ডের ফোন ভরা । কয়েকদিন যাবত - বাড়িতে রাজমিস্ত্রী কাজ করে । তো অনেক পুরুষ এইতো আমি মুখ ঢেকে কাজ করছি বলতাছে আমি কেন এভাবে কাজ করবো । সবাই টাইট ফিটিং করে জামা বানায় আমি কেন এত ঢিল বানাই। আমি ডং করি আরও অশ্লীল কথাবার্তা। আমি বিয়ের পর থেকে এই আটমাস কারো কথার উত্তর দেয়নি। বিশ্বাস করেন শব্দ করিনি । বাড়িতে কাকে বলবো - আমার মা ও স্কুলে নাচ দেখতে যায়। আজ আমার বাসর বলতাছে - আমার নাকি ফিগার ভালো । আমি শুনে ফেলছি । আমি গোসল করতেছি বাহিরে গোসলখানা। ওনি ঢুকে পড়ছে পর্দা ছড়িয়ে,আমি ওরনা ছাড়া। আমি এত কষ্ট পাইছি বলার বাহিরে। ওনি আমাকে দেখেই চলে আসছে। আমি হতভম্ব। এ কেমন জীবন হলো আমার।
আমাকে এই আট মাসে ভিতর খন্ড খন্ড করে ফেলছে।
আজকে হাজব্যান্ডকে বলেই ফেলছি-
তোমার ভাইয়ের সাথে আমাকে বিয়ে দিয়ে দাও - তাহলে - তুমি আর তোমার ভাই হালাল ভাবেই উপভোগ করতে পারবা। আর ওনার ছেলেদের সামনে গেলেও পরে গুনাহ হবে না। যেহেতু পর্দার ব্যবস্থা করতে পারবানা তাহলে এই কাজটাই করো। তুমি তোমার ভাবিকে বিয়ে করে ফেলো - তারপর এমন বিশ্রি মেলামেশা করো। হালাল ভাবেই করো আমার সমস্যা নেই। পায়ে ধরি - তবুও হারামে থেকো না আমাকেও রেখো না। এখন উল্টো পিষ্ট করে শুয়ে আছে! আমি কতটা কষ্টে বলছি সেটা একমাত্র আমিই জানি 😭
জানিনা কাজটা ভালো করছি কিনা? কিন্তু আমি আর নিজেকে সামলাতে পারছিনা। দোয়া করবেন যেনো পর্দায় আমি সফলতা পায়। 😭 এমন জাহান্নামের আগুন কারো জীবনে না হোক। হাজবেন্ড সকালে কি জানি করএ- খুব ভয় করছে। না পাইলাম পরিবারের সাপোর্ট না পাইলাম স্বামী।
[সংগৃহিত]