13/01/2023
সরস্বতী পূজার আগে সনাতন শাস্ত্র মতে বরই বা কুল / Plum কেন খাওয়া যাবে না?
♦ সরস্বতী পূজার আগে কুল না খাওয়ার রীতি মূলত বাঙালি-অসমীয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যেই অধিক প্রচলিত।🙂
যুগ যুগ ধরে বাঙালি নতুন ফসল ঘরে তুললে, তা গৃহদেবতাকে না নিবেদন করে গ্রহণ করে না। যেহেতু বাঙালিদের সকল পার্বনই ঋতুভিত্তিক তাই অনেক সময় দেখা যায় যে , সেই ঋতুভিত্তিক ফসল গুলো ওই নিৰ্দিষ্ট ঋতুতে পূজিত দেবতাকে নিবেদন করা হয়। যেমন : নবান্নে নুতন ধানের পিঠা পুলি লক্ষ্মীদেবীকে নৈবেদ্য এ দেয়া হয়।🥰
তেমনিভাবে সরস্বতী পূজা বসন্ত আগমনের সাথে সম্পর্কিত, তাই এর প্রতীক বাসন্তী রং। বাসন্তী রংয়ের আধপাকা কুল তাই এই ঋতুর ফলের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। কুল শীতকালীন ফল। মাঘ মাসে দেবী সরস্বতী পূজিত হন। দেবীর প্রধান পূজারী শিক্ষার্থীরা। তাই তারা ভক্তিবশে সর্বাগ্রে দেবীকে নিবেদিত কুলই গ্রহণ করে।🙏
এখানে জোর করার কিছু নেই বরং শিক্ষার্থীরা সানন্দেই এই সংযম ধারন করে। এমন কোনো কথা নেই যে পূজোর আগে কুল খেয়ে ফেললে দেবী রাগ করবেন এবং বিদ্যে-বুদ্ধি কমিয়ে দেবেন। আবার এটা কোনোরকম কুসংস্কারও নয়। আসলে এটা বাঙালি সনাতন রীতির একটি অভিন্ন অংশ। লোকাচারও বটে।☺️
এছাড়া একটি কিংবদন্তি অনুসারে, ব্যাসদেব বদরিকাশ্রমে তার তপস্যা স্থলের কাছে একটি কুলবীজ রেখে মনস্থ করলেন যে, যখন এই কুলবীজ অংকুরিত হয়ে চারা, চারা থেকে গাছ, গাছের নতুন কুল হবে এবং সেই কুল পেঁকে ব্যাসদেবের মাথায় পতিত হবে, সেইদিন তার তপস্যা পূর্ণ হবে। অতঃপর শ্রীপঞ্চমীতে তার তপস্যা পূর্ণ হয়। কুল এর আরেক নাম বদরী। পরে ঐ জায়গার নাম বদরিকাশ্রম নামে প্রচার হয়ে যায়। অনেকে সেই কিংবদন্তিকে মাথায় রেখেও এই সংযম, ব্রত হিসেবে পালন করে। তবে এটি কেবল কিংবদন্তিই।🙂
আবার, প্রবীণেরা অকালে কাঁচা /কষযুক্ত কুল খেয়ে বাচ্চাদের শরীর খারাপ হতে পারে, এই উপলব্ধি থেকে পরিপক্ব হবার আগে কুল খেতে বারন করে দেন (নিজেরাও খান না)।👍
♥ তাই, কুল খাওয়া বা না খাওয়া কোনো শাস্ত্রগত নির্দেশও যেমন নয়, তেমনি কোনো অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কার বশেও পালিত হয় না। এটি সুশিক্ষা অর্জনে ক্ষুদ্র ত্যাগস্বীকারের, আত্মসংযমের মনোভাব ও বিদ্যাদেবী সরস্বতীর প্রতি শ্রদ্ধাঅর্পনের একটি সুন্দর প্রথা৷
🧑💻লেখা: Pritom Saha
# #কুল #বরই