ইত্তাকিল্লাহ - Ittaqillah

ইত্তাকিল্লাহ - Ittaqillah An Islamic Knowledge Store and Dawah platform for people. Slave of Allah. An Ummah of Prophet Muhammad (Saw) .

23/12/2024
21/02/2024

খুব কাছের বলতে কি আদৌ কেউ আছে? কত কাছের মানুষের কথায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় অন্তর! কত গভীর সম্পর্ক ভেঙে চুরমার হয়ে যায় মুহুর্তেই! পাহাড়সম বিশ্বাস ছিল যার প্রতি, অবিশ্বাসের দেয়াল উভয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে যায় সহসাই!

মানসিক কষ্ট যাই আপনি পেয়ে থাকেন এই দুনিয়ার জীবনে, তার সিংহভাগই তো আসে এই কাছের মানুষদের থেকে। প্রচন্ড বিপদে দিক বিদিক শুন্য আপনি, অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখবেন, আপনার ভালবাসার মানুষগুলোর মধ্যেই অনেকে সেদিন চিনেও করবে না চেনার ভান।

এ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিষ্ফোরন হয় মানুষের এই ছোট্ট অন্তরে। আর তা হয় মানুষের কারনেই।

এরই নাম দুনিয়া। গেঁথে নিন অন্তরে, এ দুনিয়া আপনার বাড়ি নয়। এখানকার কষ্টগুলোও চিরস্থায়ী নয়। দেখবেন, কষ্টগুলো তখন আর অসহ্য মনে হবে না। পারবেন শত বিপদেও বলতে সহজেই “আলহামদুলিল্লাহ”।

বিশ্বাস করুন গভীরভাবে, আপনার একমাত্র বন্ধু আপনার রব। যিনি আপনাকে মায়ের পেটে পেলেছেন, যখন আপনার কোনই বন্ধু ছিল না। কবরের একাকিত্বে যদি কেউ সাথী হয়, তাহলে হবে একমাত্র তাঁরই রহমত ও দয়া। তাঁকে সন্তুষ্ট রাখাই যদি হয় আপনার একমাত্র চাওয়া পাওয়া, কে দুরে সরে গেলো, কেই বা কাছে আসলো, খুব একটা ভাবান্তর আর হবে না কখনই।

© রিজওয়ানুল কবির

শেষ যাত্রার শুরুতেহামিদা মুবাশ্বেরাকেস স্টাডি ১ঃমৃত্যুটা হয়েছিলো একটা গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে।মৃতের সারা শরীরে অসংখ্য কাঁচ ঢ...
16/12/2023

শেষ যাত্রার শুরুতে
হামিদা মুবাশ্বেরা

কেস স্টাডি ১ঃ

মৃত্যুটা হয়েছিলো একটা গাড়ি অ্যাক্সিডেন্টে।মৃতের সারা শরীরে অসংখ্য কাঁচ ঢুকে গিয়েছিলো। শয়ে শয়ে, নাকি হাজারে হাজারে? গোসল করানোর জন্য তার গায়ে হাত দেয়া যাচ্ছিলো না। কী করণীয়? অনেক চিন্তার পর একটা বুদ্ধি বের হলো। কিভাবে মনে নেই কিন্তু আলগোছে লাশটাকে আধ শোয়া করে পানির পাইপ দিয়ে তীব্র বেগে বিপরীত দিক থেকে পানি বর্ষণ করা হতে লাগলো। কিছুটা গাছে পানি দেয়ার মত করে। বেশ দূর থেকে আর খেয়াল করা হলো সামনে যেন কেউ না থাকে। সেই পানির তোরে অজস্র কাঁচ বেড়িয়ে এলো শরীর থেকে। এভাবে বেশ কয়েক বার করার পর অবস্থা অন্তত এটুক দাঁড়ালো যে গায়ে হাত দেয়া যাচ্ছে, কোনো রকমে গোসল সেরে কাফনের কাপড় পরিয়ে দেয়া হল।
কেস স্টাডি ২ঃ

মেয়েটা হাল ফ্যাশনের টাইট জিন্স আর টপস পরে বের হয়েছিলো বাসা থেকে। এবার একটু বেশীই আঁটসাঁট কেনা হয়ে গেছে কী? নাহ, যত লেগে থাকে গায়ের সাথে, বডি শেপটা ভালো বুঝা যায়, সুন্দরও লাগে- রিকশায় বসে ভাবছিলো মেয়েটি। কিন্তু বাধ সাধলো বিপরীত দিক থেকে তীব্র বেগে ছুটে আসা একটা বাস। রিকশা থেকে ছিটকে পরলো। গোসল করানোর সময় দেখা গেলো এত সাধের জিন্সটা এমনভাবে গায়ের সাথে এটে বসেছে যে কিছুতেই লাশের গা থেকে খোলা যাচ্ছে না। কী করণীয় তবে? বহু কষ্টে পায়ের গোড়ালি থেকে কাচি দিয়ে কাটা শুরু করা হল। শরীরের মাংস যেন কেটে না যায় এইভাবে, অতি সাবধানে জিন্সটা গা থেকে খোলা হল, গোসল দেয়া হল।

কেস স্টাডি ৩ঃ

‘আমার খুব ভয় লাগছে রে’- ডাক্তারের কাছে যেতে যেতে বোনকে ফিসফিস করে বলেছিলো মেয়েটি। যদি এবারো মেয়ে হয়, তোর দুলাভাই বলেছে যেন তার বাড়ির চৌকাঠ না মারাই।
আহ আপা, এত ভাবিস না তো, রিযিক্বের মালিক আল্লাহ। যেতে হবে না তোর ওই বাসায় তিন নাম্ব্বার মেয়েকে নিয়ে।
সাত পাঁচ এত না ভেবেই বড় বোনকে স্বান্তনা দিয়েছিলো। কিন্তু সে কি বুঝেছিলো কী বলেছিলো বোনকে?

আলট্রা সনোগ্রামে দেখা গেলো এবারো মেয়ে। বাড়ি ফিরে স্বামীকে কী বলবে এটা ভাবতে ভাবতেই ডাক্তারের চেম্বারে সিড়ি দিয়ে হোঁচট খেয়ে পরল মেয়েটি। কয়েক স্টেপ গরিয়ে যখন নিচে পরল, তখন সব শেষ। আপাদমস্তক বোরখাতে আবৃত, সুন্দরভাবে তার রাবের কাছে চলে গেলো মেয়েটি, সাথে গর্ভের মেয়েটাও। আর একজন মেয়ে জন্ম দেয়ার ‘বিশাল’ অপরাধের শাস্তি পেতে হল না আর। মেয়েটিকে গোসল করানোর অভিজ্ঞতা হয়েছিলো যার, তিনি বলেছিলেন এত সহজ আর সুন্দর ভাবে খুব কম গোসলই সম্পন্ন হয়েছে। হাল্কা একটা হাসি মুখে লেগেছিলো যেন ঠোঁটে। অপমানজনকভাবে কোনো বাড়িতে ফিরতে হয় নি, ফিরে গেছেন সম্মানজনক এক বাড়িতে।

কেস স্টাডি ৪ঃ

ঊনার পরিচিত কেউ নেই? আত্মীয় স্বজন?
নাহ, এই নার্সিং হোমে ফেলে গেছে দিন দশেক আগে, ভুয়া ফোন নম্বর আর ঠিকানা দেয়া। গত ৪-৫ ঘণ্টা ধরে পায়ুপথ দিয়ে বর্জ্য পদার্থ বের হচ্ছে তো হচ্ছেই। এমনিতে গোসল করাতে গিয়ে মৃতের শরীর থেকে রক্ত, জমে থাকা মল মুত্র বের হওয়া কিছুটা কমন অভিজ্ঞতা। কিন্তু এহেন ঘটনার সম্মুখীন হন নাই কখনো। বিরামহীনভাবে বের হয়ে চলেছে। আর ধৈর্য্য ধরে রাখা সম্ভব হল না.........মোটামুটিভাবে গোসল শেষ করিয়ে এক গাদা তুলার গাড্ডি চেপে ধরা হল ওই রাস্তায়। এভাবেই কাফনের কাপড় পরিয়ে ফেলা হল.........

উপরের ঘটনাগুলো ২০১০-১১ সাল নাগাদ একটা লাশ ধোয়ানোর ক্লাস করতে গিয়ে ইন্সট্রাক্টরের মুখে শোনা। বিস্তারিত এখন অনেকটাই মনে নেই, তাই কিছুটা কল্পনার আশ্রয় নেয়া হয়েছে, তবে মূল থিম ঠিক আছে। যিনি ক্লাস নিয়েছিলেন, এই জীবনে বহু লাশ ধুইয়েছেন তিনি। হয়েছেন বহু অভিজ্ঞতার সাক্ষী। আমাদের সারা জীবনের যা আমল, অনেক সময়েই তার উপর নির্ভর করে এই শেষ যাত্রার শুরুটা কেমন হবে। কারো কারো গোসল করাতে গিয়ে বীভৎস সব অভিজ্ঞতা হয়, কারো কারো ক্ষেত্রে খুব সহজে, সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়ে যায় সব কিছু। পরিচয় প্রকাশ না করে এই অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করেছিলেন যেন আমরা শিক্ষা নিতে পারি।
ওই ক্লাস করার পর বেশ কিছুদিন রাতে ঘুমাতে পারতাম না। দুআ করতাম একটা সুন্দর মৃত্যুর জন্য। তারপর কত সময় কেটে গেছে। শয়তান ভুলিয়ে দিয়েছে ওই তীব্র আবেগ।

আবারো হয়তো দুআর লিস্টে যোগ হয়েছে হালাল ইনকাম, পড়াশোনা, সন্তান, সবার সুস্থ থাকা-----------সবই গ্রহনযোগ্য দুআ অবশ্যই কিন্তু একটু বেশীই বুঝি দুনিয়া কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছিলাম?
জানি না।

গতকাল আমার নানী শাশুড়ি আমাদের রাবের কাছে ফিরে গেছেন। আমার দেখা অসাধারণ একজন মহিলা। অসামান্য সুন্দরী ঊনার চেহারা মনে করলেই আমার চোখে ভেসে উঠে একটা দৃশ্য---------আশেপাশের মহিলারা হয়তো সাংসারিক নানা আলাপচারিতায় মগ্ন, ঊনি একটু দূরে বসে তাফসীর পড়ছেন। আমাদের বিয়েতে তাফসীর ইবনে কাসীরের পুরো সেটটা গিফট দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন একজন আত্মীয়কে। ঊনার বক্তব্য ছিলো এইটা আমাদের সবার পড়া দরকার, এই সুযোগে কেনা হয়ে যাবে, সবাই মিলে মিশে পড়া যাবে।

শেষ যেবার দেশে যাই, ঊনার সাথে কয়েক রাত কাটানোর সৌভাগ্য হয়েছিলো। মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে দেখতাম বিছানা খালি, তাহাজ্জুদের জন্য উঠে গেছেন। আমি ঊনার অনেক আদর পেয়েছি, ভালবাসতে পারার অসামান্য যে ক্ষমতা আল্লাহ ঊনাকে দিয়েছিলেন, তার বদৌলতে। শেষ কদিন খুব কষ্ট পেয়েছেন-----------ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ঊনার কষ্টের দিনগুলো আবার আমার মাঝে ওই দুআটা ফিরিয়ে এনেছে- একটা সুন্দর মৃত্যুর দুআ।

যখন আমি আমার রাবের প্রতি সন্তুষ্ট এবং আমার রাব, আম্মা, মেয়ের বাবা, আমার চারপাশের মানুষগুলো আমার উপর সন্তুষ্ট, এই অবস্থায় যেন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে পারি। এই যে নানু চলে গেলেন, ঊনার চারপাশের মানুষগুলো শুধুই স্মরণ করছেন ঊনার ওয়াক্তের শুরুতে নামায পরার, তাহাজ্জুদ পরার, গীবত না করার, কুরআন বুঝে পড়ার, পর্দা করে চলার অভ্যাসগুলো। আল্লাহ আমাদেরও এমন মৃত্যু দেয়ার তৌফিক দিন, নানুকে জান্নাতুল ফিরদাউস দিন, আমাদের, আমাদের সন্তানদের ঊনার জন্য সাদক্বায়ে জারিয়ে হিসেবে ক্ববুল করুন।

*উত্তম মৃত্যুর জন্যে দোয়া* 🌹
‎*اللهم إني أسألك حسن الخاتمة .. *

উচ্চারণ:- আল্লহুম্মা ইন্নি আসআলুকা হুসনাল খ-তিমাহ।
অর্থ:- *হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উত্তম মৃত্যু চাই!*

২) *মৃত্যুর আগে খাঁটি তাওবা করার জন্য দোয়া*🌹
‎اللهم أرزقني توبة
‎ نصوحة قبل الموت

উচ্চারণ:-আল্লাহুম্মারযুক্বনি তওবাতান্নাসু-হাহ, ক্ববলাল মাউত।
অর্থ:- *হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রিযিক হিসেবে দিন মৃত্যুর পূর্বে খাটি দিলে তওবা করার।*

৩) *দীনের উপরে অটল থাকার জন্য দোয়া* 🌹
‎.. اللهم يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك ..

উচ্চারণ:-আল্লাহুম্মা ইয়া! মুক্বাল্লিবাল ক্বুলুব, ছাব্বিত ক্বলবী আ'লা দ্বীনিক।
অর্থ:- *হে আল্লাহ ! হে হৃদয়ের পরিবর্তন কারী ! আপনি আমার হৃদয়-কে আপনার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন!*

#রৌদ্রময়ী

১।কাজিনের বিয়ে। সব চাচাতো ফুপাতো ভাই-বোন গোল হয়ে বসে প্ল্যান  করছে।-শোন সুমন ভাইয়ের হলুদে কিন্তু মাল খাবো। সবাই চাঁদা দি...
15/12/2023

১।

কাজিনের বিয়ে। সব চাচাতো ফুপাতো ভাই-বোন গোল হয়ে বসে প্ল্যান করছে।

-শোন সুমন ভাইয়ের হলুদে কিন্তু মাল খাবো। সবাই চাঁদা দিবি।
- সবাই কেন চাঁদা দিবে? ভাইয়ের বিয়া, ভাই স্পন্সর করবে।
- তাইলে ধর তারে।
- ভাইয়া, আমরা মেয়েরাও কিন্তু…...।
- এই জংলীগুলি কই থেকে আসছে রে? মেয়েমানুষ এইসব কি বলে??
- হবে না হবে না। এখন ছেলে মেয়ে সমান সমান। তোমরা খেলে আমরাও খাবো। ব্যস।
- রেবু শোন, যদি হলুদে সাদিয়ারে নাচাতে পারিস, তাহলে তোদেরকেও দলে নিবো, যা।
- সাদিয়া? ও জীবনেও নাচবে না। ওর মাও দিবে না।
-তাইলে ফুট। আচ্ছা, শোন একটা চ্যালেঞ্জ দেই। কথাটা বলে একটু নিঃশ্বাস নিলো তপন।

সাদিয়াকে দিয়ে যদি এক নাচে পাঁচ বার কোমড় দোলাতে পারিস, প্রতিবারের জন্য এক হাজার টাকা পাবি। সাথে যা খেতে চাস, নইলে ভাগ।

রেবেকা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। কোন গান সিলেক্ট করবে ভাবছে। এমন গান নিতে হবে যেখানে লাইনে লাইনে কোমর দোলানো যায়।

…………………………………

স্টেজে দাঁড়িয়ে আছে সাদিয়া। পিঠের উপর যেন শিরশিরে একটা অনুভূতি নেমে গেলো। হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। এক মাস ধরে রেবেকা আপা কানের কাছে গান গেয়েছে।

-আরে আমরা আমরাই তো। বাইরের কেউ থাকবে না।
-আব্বা রাগ করবে।
- ফুপার চিন্তা বাদ দে। রাত দশটার মধ্যে মুরুব্বি সবাই নেমে যাবে ছাদ থেকে। শুধু আমরা আমরা।
- না আপা, আমার এইসব ভাল্লাগে না। লজ্জা লাগে।
- কি গাইয়া খ্যাত রে তুই? আজকালকার দিনে এইসব নকশা চলে? নাকি নিজেকে ভার্জিন মেরি মনে করিস তুই? আর আমরা সব খারাপ।
- না না, আমি তো তা বলিনি। আমি বলেছি যে......
- আরে চুপ, এত কথা কিসের? আচ্ছা জাস্ট একটা গানে নাচবি তুই, ব্যস শেষ কথা।

কথাগুলো মানা করার পিছনে আর কোন যুক্তি পায়নি সে। একটা দিনই তো। সবাই করছে, সে না করলে এক ঘরে হয়ে যাবে। কেউ মিশবে না তার সাথে। অতঃপর নিরুপায় হয়েই মত দিয়েছে সে। শর্ত একটাই, ছেলেরা থাকবে না। মেনে নিয়েছে রেবা আপু।

কিন্তু স্টেজে দাঁড়িয়ে সে স্পষ্ট দেখছে ছেলেরা যায়নি। একটু পিছনের দিকে আলো আঁধারিতে দাঁড়িয়ে আছে মইন, তপন, মিতুল, শোভন, রাকিব।

নার্ভাস ভঙ্গীতে রেবার দিকে তাকায় সে। রেবা ইশারায় বোঝায়, সবাই দেখছে। সিন ক্রিয়েট না করতে।
সাউন্ড বক্সে প্রচন্ড শব্দে বেজে ওঠে গান।

হিন্দি গানের কথাগুলো বাংলা করলে যা দাঁড়ায় তা যদি গানের পাশাপাশি কেউ বলে দিতো, মা-চাচীরা এত খুশি খুশি চোখে তাকিয়ে দেখতেন না হয়ত।

গানের ফাঁকে ফাঁকে ডিজে বলছে, shake it daddy, shake shake.

এই লাইনের সাথে সাথে শুরু হবে কোমড় দুলানো। চারবার দুলিয়ে থামবে।

রেবেকা দোলানো গুনতে যেয়ে স্টেপ মিস করে ফেলছে। আফসোস নাই তার। তপন ভাইকে খসানো যাবে আজ।

তপন মনে মনে ভাবছে, ‘’শালী, ভড়ং ধরে ছিল এতদিন। ঠিকি তো বাইজিদের মত কোমর দোলাচ্ছে।’’ দুই আংগুল মুখে ভরে শীষ বাজায় সে।

সাদিয়া মনে মনে ভাবছে, ‘’OMG, I am doing great. Feeling so appreciated! They just love my performance. ’’

ধীরে ধীরে অস্বস্তি কমে আসছে তার। জানে না, তাকে তার কাজ সুশোভিত করে দেখাচ্ছে কেউ। ডিসেনসিটাইজড হয়ে যাচ্ছে সে।

…………………………………………

২।

হনুফার বয়স পাঁচ। ওর মা বাসা-বাড়িতে ছুটাবুয়ার কাজ করে। সন্ধ্যায় এক বাসায় যেয়ে রুটি বানিয়ে দিয়ে আসে পরদিন সকালে খাওয়ার জন্য। হনুফার বাবা নেই। অনেক আগে মাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেছে কেউ জানে না।

মা কাজে গেলে হনুফা একাই বাসায় থাকে।

আজকেও তাই ছিলো। বাসার সামনেই মুদি দোকান। এই দোকান থেকেই বাকিতে চাল-ডাল-তেল আনে মা। বেতন পেয়ে শোধ করে দেয়।

দোকানদারের ছোট ছেলে জাফরভাই অনেক আদর করে হনুফা কে। মাঝে মাঝেই চকলেট দেয় বিনা পয়সায়।

আজকে তাকে দূর থেকে দেখেই ডাকলো হাত ইশারা করে।
-চল তোকে একটা জিনিস দেখাবো, খুব ফাইন একটা জিনিস।
- মা আইসা না পাইলে বকবো।
- আরে তর মায়ে আসার আগেই ফিরত আসবো।

হনুফার মুখ কে চেপে ধরলো মনে নেই। জ্ঞান হারানোর আগে সে শুনতে পাচ্ছিলো কেউ বলছে, আরে গানটা জোরে দে বেটা, সাউন্ড ফুল কর। চিল্লাইলেও কেউ শুনব না।

কান ফাটানো শব্দে গান ছাড়ে কেউ। ব্যাথায়, ভয়ে জ্ঞান হারায় হনুফা।

………………………………………

৩।

শাতিন কে নিয়ে মিউজিক ইন্ড্রাস্ট্রিতে বিস্তর কানাঘুষা। শাতিন নাকি আত্মা বিক্রি করে দিয়েছে সাফল্যের বিনিময়ে। তার এই একের পর এক ব্লকবাস্টার হিটস নাকি সেই বিনিময়েরই ফল।

আজকের কনসার্টে যত মানুষ ভিতরে ঠাই পেয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষ বাইরে। টিকিট না পেয়েও দাঁড়িয়ে আছে বাইরে। শাতিনের গাড়িটা যদি একটু দেখা যায়, এক পলকের জন্য যদি শাতিন কে দেখা যায়, এই আশায় অপেক্ষা করছে ওরা।

………

শাতিন যখন স্টেজে দাঁড়ায়, তখন তার ব্যক্তিত্বে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। এমনিতে শাতিন ইন্ট্রোভার্ট - শান্ত শিষ্ট, চুপচাপ। অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করে। সেই শাতিনই স্টেজে নাচে, লাফায়, চিৎকার করে, মানুষকে নাচায়। শাতিন নিজেই বলে কী যেন ভর করে তার উপর।

সে যার কাছে নিজের আত্মা বিক্রি করেছে, সেই অশুভ শক্তিই তার উপর ভর করে হয়ত, জানেনা সে। অথবা জানে।

…………………………

- শাতিন! শাতিন! শাতিন!

স্লোগান দিচ্ছে ভক্তরা

- SHATIN, I love youuuuuuu.

বলেই জ্ঞান হারায় মেয়েটা।

হাত নেড়ে অভিবাদন জানায় সে ভক্তদের। হাতের আংগুলগুলো ভাজ করে এক অদ্ভুত সাইন বানায় শাতিন। ভক্তরা বলে রক সাইন। রক সাইন দেখতে দুই শিং এর মত। শাতিন যখন হাতটা মাথার সামনে এনে দেখায়, মনে হয় শয়তানের মাথার শিং।

-Can you make it? ভক্তদের কেও রক সাইন দেখাতে উৎসাহ দেয় শাতিন।

বলতে দেরি হয়, ভক্তদের ফলো করতে দেরি হয় না।

-Awesome! Can you bow like this?

মাথা ঝোঁকাতে বলে সে ভক্তদের। ভক্তরা জানেনা, কার উদ্দেশ্যে এই মাথা ঝোঁকানো, কি উদ্দেশ্যে ঝোঁকানো। তারা অন্ধের মত অনুসরণ করে তাদের প্রিয় রকস্টার কে।

-Okey now I want all of you to denounce God, right here, right now. Only then I will start.

-Denounce! denounce! denounce!

ভক্তদের চিৎকারে কান পাতা দায়। ওরা জানেই না কী হারিয়ে ফেলেছে কথায় কথায়। ওরা জানেই না ,কাকে সিজদাহ দিয়েছে একটু আগে, ওরা জানেই না হাতের আংগুল দিয়ে কি দেখিয়েছে ওরা রক সাইনের নামে। ওরা তো এও জানেনা যে কার কথায় কাকে অস্বীকার করে বসেছে। মাতাল ওরা, গানের মদে।
..................................................

৪।

-বুঝিনা, গান শুনলে সমস্যা কি? ইসলামে তো কঠোরতা নেই। তোরা এইসব বাড়াবাড়ি পাস কই থেকে?

ভাবির কথায় উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকাই সমীচীন মনে করছে জুঁই।

কিছু না বলে মুচকি হাসি দেয় সে।

মনে মনে বলছে,
- শুনলাম ও মানলাম।
......................................

মাতাল হৃদয়
নূরুন আ'লা নূর

#রৌদ্রময়ী_গল্প

10/12/2023

ডিয়ার সিস্টার্স আন্ড ব্রাদার্স, আল্লাহমুখী হোন। সমস্ত এক্সপেকটেশন শুধু আল্লাহর প্রতি রাখুন।

কারণ আপনার রিজিক, খাবার, জামা, সুস্থতা, সম্পদ, উত্তম নেককার স্বামী, নেককার সন্তান, বাবা-মায়ের সন্তুষ্টি, সুন্দর সুখের সংসার, আপনার প্রতি আপনার স্বামীর ভালবাসা, যত্ন, আর্থিক সহায়তা, আপনার বাসস্থান, আপনার মনের শান্তি সব কিছু একদম সব কিছু আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে, আপনার স্বামী থেকে না, একটা সরষে দানা পরিমাণ কিছুই আপনার স্বামী থেকে আসে না। আসে আল্লাহর তরফ থেকে, যে মেয়ের জামাই নাই সেই মেয়েও একজন বিবাহিতা মেয়ের মত খাওয়াদাওয়া করছে, জামাকাপড় পরছে, বিছানা পেতে ঘুমাচ্ছে, হাসির কারণে হাসছে, দুঃখের কারণে কাঁদছে।

আল্লাহ আপনার তাকদিরে যা লিখে রেখেছেন, আপনি দুয়া করে করে আল্লাহ থেকে যা আদায় করে নিতে পারছেন তাই আপনার পাওনা। তা-ই আপনার তাকদির, তা-ই আপনার পরীক্ষা, তা-ই আপনার নিয়ামাহ। স্বামী কিংবা অন্য কেউ শুধু মাত্র উসিলা, আপনার তাকদিরে যা আছে তা আপনা পর্যন্ত পৌঁছাতে।

আপনার স্ত্রীর আনুগত্য, আমানতদারিতা, একজন আবিদা, শাকিরা, সাবিরা স্ত্রী, স্ত্রীর দিল থেকে পাওয়া মুহব্বত, দেখতে সুন্দরী, কুররাতু আইয়ুন, একজন উত্তম স্ত্রী, উত্তম মা, পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল এমন স্ত্রী যদি আল্লাহ আপনার তাকদিরে লিখে রাখেন তবেই আপনি এমন কাউকে পেতে পারেন।
যদি না পান তবে স্ত্রীর দোষ না, ওটা আপনার তাকদির, ওটা আপনার জন্য পরীক্ষা আল্লাহর পক্ষ হতে। স্ত্রীর কাছ থেকে যদি সুকুন না পান, খেদমত না পান, নম্র আচরণ না পান, স্ত্রী যদি মজার মজার রান্না না পারে তবে স্ত্রী হিসেবে তাকে দোষ দিবার আগে নিজের নাসিব নিয়ে ভাবা দরকার, কারণ খোদ স্ত্রীই আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য এসেছে, তার যাবতীয় গুণাবলী তো আর যৌতুক হিসেবে আসে নাই, ঐগুলোও আল্লাহর তরফ থেকেই এসেছে। আল্লাহ কেন আপনাকে এমন দিলেন? কেন পরীক্ষা দিলেন? আল্লাহ যদি নিয়ামাহ দিয়ে রাখেন তবে তা যেমন আল্লাহর পক্ষ থেকে, যদি পরীক্ষা দিয়ে রাখেন তবেও তা আল্লাহর পক্ষ থেকে।

আমরা তাই-ই পাই যার যোগ্য বা আমরা ডিজার্ভ করি, আমরা তাই-ই পাই যা আমাদের জন্য উত্তম, কারণ আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী, আমরা তাই-ই পাই যা আমরা নিজেদের আমল দ্বারা কামাই করে নেই।

থার্ড পারসনের প্রভাবে কখনওই আমাদের কিছু হয় না। থার্ড পারসন একটা উসিলা মাত্র। সেই উসিলায় আল্লাহ আমাদের পাওনা পাইয়ে দেন। যেমন কেউ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল, কেউ ব্রেইন স্ট্রোক করে মারা গেল, কেউ শ্বাস আটকে মারা গেল, এইযে জ্বর, ব্রেইন স্ট্রোক, শ্বাস আটকে আসা এগুলো মৃত্যু আসার উসিলা মাত্র, এখানে জ্বর, ব্রেইন স্ট্রোককে দোষ দিয়ে লাভ আছে?

যেসব মেয়েরা স্বামী দ্বারা পরীক্ষায় আছেন, আর যেসব ছেলেরা স্ত্রী দ্বারা পরীক্ষায় আছেন, পাশেপাশের মানুষজনের সুখশান্তি দেখে আফসুস না করে আল্লাহর কাছে নিজেদের উত্তমটা চান, কষ্ট থেকে পানাহ চান, বর্তমান কষ্টকর হালত সহজ করে দিতে বলেন, না হয় পরিবর্তন করে উত্তম কোনো বিনিময় দিতে বলেন।

একজন আরেকজনের প্রতি এমনভাবে নির্ভরশীল হয়ে পইড়েন না যে মনে হবে সে আমাকে ভুলে গেলে আমি খাব কী, আমি চলব কীভাবে! নির্ভরশীল আল্লাহর উপর হোন, রিজিক আল্লাহ দিবেন। কারও অবহেলায় যদি পথেঘাটে পড়ে থাকতে হয় তাও শোকর আদায় করেন, আল্লাহ এটাই আপনার নসিবে রেখেছেন।

আপনাদের আতংক দেখে মনে হয় আমরা দুনিয়ার জন্যই বাঁচি, আমাদেরকে দুনিয়াতে সুখি হতেই হবে। দুনিয়াতেই সব পাইতে হবে। পরিপূর্ণ হইতেই হবে। আমাদের জন্য মনে হয় জান্নাত নামক কিছুই নাই, নিয়ামাহতে ভরপুর কোনো কিছু আমাদের জন্য সাজানো হচ্ছে না। তাই আমরা পরীক্ষাবিহীন শান্তিপূর্ণ একটা জীবন চেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছি।
জামাই ছেড়ে চলে গেলে, বা আরেক বিয়া করলে শেষ আমার জিন্দেগী, দুনিয়াই আমার সব, আখিরাত বলতে কিছু নাই আমার জন্য, জান্নাত বলতে কিছু নাই আমার জন্য।

আল্লাহু আকবার, যেভাবে খাবলাইয়া আঁকড়াইয়া জামাইরে ধরে রাখেন রিজিকদাতা মনে করে, সেভাবে যদি আল্লাহকে ধরতে পারতেন, উনার উপর ফানা ফানা হয়ে তাওয়াককুল করতে পারতেন, তবে এই অন্তরে যে সুকুন আপনি অনুভব করতেন তা দুনিয়ার আর কোনো কিছুতে করতেন না। আল্লাহই আপনার জন্য যথেষ্ট এটাকে যদি গাঁইথা নিতে পারেন দিলে তাহলে আর কোনো কিছু হারানোর আর কাউকে নিজের কোনো কিছুর ভাগ দেওয়ার ভয় থাকত না।

যখন ফুঁৎকারে ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি বলে উঠে বুক চাপড়াবেন তখন কই থাকবে আপনাদের এই শিং মাছের মত পিছলা জামাই? যারে হারানোর ভয় করেন ১৯ থেকে ২০ হলেই?

ইয়া নাফসি করার সময়টা বাস্তব সত্য, এখনই করেন ইয়া নাফসি। সমস্ত এক্সপেকটেশন শুধুমাত্র আল্লাহ থেকে করেন। শিরকি তাবিজ ব্যবহারের বিষয়ে একটা হাদিস আছে, যে কেউ যখন কোনো কিছুকে নিজের হেফাজতকারী মনে করে তখন আল্লাহ তাকে সেই বস্তুর উপর সোপর্দ করে দেন। অর্থাৎ আল্লাহকে হেফাজতকারী হিসেবে মানলে আল্লাহ উনার পক্ষ থেকে হিফাজত করতেন। আর যে বস্তুর উপর(শিরকি তাবিজ) আমি আস্থা রাখছি যে এটা আমাকে হিফাজত করবে তবে এই বস্তুতে যতটুক ক্ষমতা আছে আমাকে হিফাজত করার আমি ততটুক পাব। এখন আমরা ভাল করেই জানি এমন শিরকি তাবিজে কতটুক ক্ষমতা থাকে আর সেটা আমাদের জন্য কতটুক মঙ্গলজনক হয়।

আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করলে অফুরন্ত পাবেন। আর জামাইর উপর করলে পাবেন তার ইনকাম আর মানসিকতা যত্তুক, ততটুক।

© যাইনাব আল গাযী

31/08/2023

মানসিকভাবে ভাল থাকা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে অনেক বড় একটা নিয়ামাহ। আমাদের উচিৎ না এই নিয়ামাহ নষ্ট করার অধিকার অন্য কাউকে দিয়ে দেয়া। কারও উপর মানসিকভাবে ঐ পর্যায়ের নির্ভরশীল না হওয়া যে পর্যায়ে গেলে সে মানুষটা চাইলেই তার কোনো কথা বা ব্যবহার দিয়ে আমাদের মন খারাপ করে দিতে পারবে।

শুধুমাত্র আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কের কোনো সীমা নাই। কিন্তু এক বান্দার সাথে আরেক বান্দার অবশ্যই একটা সীমা আছে। কারও প্রতি সম্পূর্ণ দুর্বল, সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হওয়া উচিৎ না। একটা পর্যায়ে গিয়ে থেমে যেতে হয়। ব্যাস এতটুকুই। এই সীমার পর প্রত্যেকেরই নিজস্ব স্পেস প্রয়োজন। আর এভাবেই সম্পর্কগুলো তাজা থাকে, স্বতঃস্ফূর্ত থাকে, একঘেয়েমি কিংবা দম বন্ধ লাগে না, হীনমন্যতায় ভোগা বা অপর পক্ষ থেকে মানসিক চাপটা হয় না।

আর এটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে। আজকাল বেশিরভাগ দম্পতির মাঝে এই স্পেসের অভাবেই কারও দম বন্ধ লাগে, কারও একঘেয়েমি লাগে, কারও এই সংসার জীবনটাই তিক্ত লাগে, কেউ ভেংগে চুরমার হয়ে যায়।

একজন মুসলিম কখনই কারও প্রতি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ দুর্বল হতে পারে না, নিজের মানসিক কন্ট্রোল হারাতে পারে না, এমনকি অন্য কাউকে সম্পূর্ণভাবে নিজের আয়ত্তে রাখার এখতিয়ারও করতে পারে না। বরং সে সম্পূর্ণভাবে একমাত্র আল্লাহর উপর সার্বিকভাবে নির্ভরশীল হবে।

যখনই বুঝবেন কাউকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন, কিংবা আপনাকে কেউ সম্পূর্ণভাবে তার নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে তখনই থেমে যান, একটু বিরতি নিন, স্পেস দিন এবং নিন। এবং সেই বান্দা থেকে মায়া সরিয়ে আল্লাহর কাছে বিলীন হয়ে যান।

26/08/2023

"প্র্যাকটিসিং মানুষ" মানেই "দ্বীনের জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ", এমনটা কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সত্য না। তাই যে কারো কাছে দ্বীনের যেকোনো বিষয়ে উপদেশ চাইতে যাওয়ার আগে একটু ভাববেন, তিনি সেই বিষয়ে উপদেশ দেয়ার যোগ্যতা রাখেন কিনা। কেউ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মসজিদে পড়েন মানেই তিনি "কো এডুকেশন" অথবা "সামান্য মিউজিক" অথবা এমন আরো অনেক হারামের সমস্যা অথবা ইসলামী আহকাম বুঝবেন এমন নাও হতে পারে। এমন কারো কাছে উপদেশ চাইলে তিনি নিষ্ঠার সাথে আপনাকে ভুল নির্দেশনা দিতে পারেন। এবং আপনি সেই পথে বহুদূর যাওয়ার পর বুঝতে পারেন যে ভুল করছেন। তাই আগেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

© নায়লা নুজহাত

22/08/2023

১.
"তুই আমার খেয়ে, আমার পরে আমার সম্মানে কেন আঘাত করলি? সারাটা জীবন তোর জন্য খেটে গেলাম! তোর কি একটুও লজ্জা করে না?!
এই!! তুই কথা বলছিস না কেন!"

সুরাইয়া বরফের মতো স্থির হয়ে যায়। মায়ের চিৎকারের কোন জবাব দিতে পারে না। আরেকটু জড়োসড়ো হয়ে যায়। কচ্ছপের মতো নিজের খোলসের ভেতরে নিজেকে গুটিয়ে নেয় আরো একটু বেশি। মনে হচ্ছিল তার পায়ের তলার মাটিটা যদি ফাঁক হয়ে যেত তাহলে সে গর্তের ভেতর ঢুকে পড়তো।

"আমার খেয়ে, আমার পরে" আম্মুর এই কথাগুলো কানে ঘন্টার মত বেজে চলেছে। আহ সে একটা কত বড় বোঝা!! বিয়ে হচ্ছে না, ভালো কোন জায়গায় চান্স পাচ্ছে না -- আহ! সে যদি কোনভাবে দুনিয়া থেকে নাই হয়ে যেত, তাহলে যেন সবার বোঝা হালকা হয়ে যেত! দু ফোটা চোখের পানি গড়িয়ে টপ করে হাতের তালুতে পড়ল।

আরশের মালিকের কাছে প্রত্যেকটা চিকচিক করা ফোঁটার হিসাব জমা পড়ে গেল।

২.
"তোর আর তোর পরিবারের জন্য আমি কি না করেছি?! আর কিছু না হোক তোকে তো মা-বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমি পালছি! তোর পরিবারকে উঠিয়ে দিলাম তো আমি। আর তুই কিনা আমার সাথে মুখে মুখে কথা বলিস? আমার মতামতের উপরে তুই নিজের মতামত রাখার সাহস করিস?"

ছোট ভাই চয়ন তার চাচাতো ভাইয়ের কথা শুনে একদম ফাটা বেলুনের মতন চুপসে গেল। হ্যাঁ, আমার এই আত্মীয় ভাই তো আসলে আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন! মা-বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই সে অসহায়, এতিম! ভাইয়ের উপকারকে সে কখনো অস্বীকার করে নি। এমনি কথার পিঠে কথা বলতে গিয়ে নিজের মতামতটা বলেছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ভীষণ ভুল হয়ে গেল! মনে হচ্ছে কেনই ভাইয়ের কাছ থেকে উপকার নিয়েছিল! কেনই বা কথাটা বলল!

চয়ন একদম চুপ। তাষর বুকের হৃদপিন্ডের ভেতর ভিশন গতিতে এসে বুলেট বিঁধে গিয়েছে। সেখান থেকে অদৃশ্য রক্তক্ষরণ হচ্ছে। জিহবার এই সাইলেন্ট বুলেটের আঘাতে তার হৃদয়টা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। সেই সাইলেন্ট বুলেটের শব্দ এবং অদৃশ্য রক্তক্ষরণ কেউ না দেখলেও, রব্বুল আলামিনের আদেশে কাঁধের ফেরেশতারা যত্ন করে টুকে রাখল।

৩.

"কি ব্যাপার তুমি না কত প্রাক্টিসিং? তুমি নাকি দুনিয়ার দ্বীনদার? এখানে ওখানে লেখালেখি করো? তোমার এই অবস্থা কেন? তোমার আচরণ এরকম কেন? এ কেমন প্রাক্টিসিং মুসলিম হয়েছ তুমি?"

কথাগুলো শুনে শামিমার মনে হচ্ছিল সে চিৎকার করে কাঁদবে। এতো জোরে চিৎকার করবে যে তার কন্ঠনালী ফেটে যাবে। কায়দা করে ঢোক গেলার সময় সে তার চিৎকার করার ইচ্ছাটা গিলে ফেলল।

একবার মনে হল যে বলে, "আসলে আমি আল্লাহর দ্বীন মানার চেষ্টা করছি দেখে নিখুঁত ফেরেশতা হয়ে যাইনি। আমার আদি পিতা বাবা আদম (আ) - তিনিও তো ভুল করে ফেলেছিলেন এবং ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন আলহামদুলিল্লাহ। আমি মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকি, কিন্তু তাই বলে পারফেক্ট হয়ে যাইনি। ভুল আমারও হবে। আমাকে ক্ষমা করে দিবেন!"

শামিমার গলা দিয়ে কিছুই বের হলো না। খুব দম বন্ধ লাগছে, খোলা অক্সিজেনের মাঝে থেকেও নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। এরকম একটা কথা তার পুরো সপ্তাহকে বিষন্ন করে দিতে যথেষ্ট।

৪.
উপরের চিত্র গুলো খুব কমন। অহরহ আমাদের সামনে ঘটছে। আমরাই ঘটাচ্ছি। আমরা এগুলো নিয়ে একটু থেমে চিন্তা করিনা।‌ এগুলোকে পাত্তা দেই না।

আমি যদি বলি আমরা সবাই একটা শক্তিশালী লোড করা বন্দুক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি - বিশ্বাস করবেন? জিহবা আমাদের সেই বন্দুক। প্রতিনিয়তঃ নিঃশব্দে এই বন্দুক থেকে বের হওয়া বুলেট দিয়ে আমরা আমাদের কাছের মানুষদের অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করে যাচ্ছি।

প্লিজ কখনো আপনার সন্তানকে বলবেন না যে, "আমার খেয়ে, আমার পরে .."। এধরনের কথা সন্তানকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলতে পারে। আপনার সন্তানের রিজিক আল্লাহর কাছে থেকে আসে। সে আপনার-আমার খায় না, আপনার পরেও না। আল্লাহ তার জন্য যতটুকু খাওয়া এবং পরা নির্ধারণ করে রেখেছে সেটা তার প্রাপ্য এবং সেটাই সে পায়।

দান করে অথবা কারো উপকার করে আমরা বুঝে না বুঝে তাকে খোঁটা দেই‌। মনে হয় আমি তো উপকার করলাম, কি মহান একটা কাজ করে ফেললাম, সে এখন আমার পায়ের নিচে থাকবে!! আসলেই কি তাই?

আল্লাহ অনুগ্রহ করে আপনাকে কিছু সম্পদ বেশি দিয়েছেন এই সম্পদ আপনার কাছে আমানত, এই সম্পদে গরিব-দুঃখীদের, মিসকিন আত্মীয়দের হক আছে। আপনি মানুষকে তার হকের মধ্যে যা ছিল সেটাই দিয়েছেন, এটা নিয়ে খোঁটা দেওয়ার ব্যাপারে কুরআনে কঠোরভাবে মানা করা হয়েছে। মানুষের আত্মমর্যাদায় আঘাত করলে কেমন কষ্ট লাগে আমরা কি বুঝি না?

কারো সবচেয়ে দুর্বল পয়েন্ট নিয়ে আঘাত করতে আমাদের পৈশাচিক আনন্দ লাগে। কেউ আল্লাহর খুশির জন্য দাওয়াতী কাজ করছে দেখে তার কাছ থেকে সব রকমের পারফেকশন আশা করবেন না। আদম (আ) নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে ফেলেছিলেন। প্রিয় নবী মুসা (আ) ভুলবশত একজনকে খুন করে ফেলেছিলেন। নবী ইউনুস (আ) তার কওমের প্রতি আশাহত হয়ে গিয়েছিলেন। তারা আমাদের জন্য শ্রেষ্ঠতম রোল মডেল এবং তারাও দুর্বল মুহূর্তের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। ওই দুর্বল মুহূর্তেও তারা আল্লাহর দিকে ফিরেছেন এবং আল্লাহ তাদেরকে শক্তিশালী এবং সম্মানিত করেছেন। আমরাও যেন একজন আরেকজনের জন্য পজিটিভ শক্তি, সম্মান এবং আশা সঞ্চারের কারণ হই। উল্টোটা না।

কুরআন সম্পর্কে আমাদের মনে হয় এটা খুব উঁচু লেভেলের একটা ধর্মীয় এবং ইতিহাসের বই - যেখানে শুধু জটিল ব্যাপার গুলো বলা আছে। -অথচ আমাদের জীবনের এই ছোট ছোট দৈনন্দিন ব্যবহারের ব্যাপারে কুরআনে কত সুন্দর ভাবে গাইডলাইন দেয়া আছে। আমরা এগুলো মানি না, তাহলে আমাদের মনে শান্তি কিভাবে আসবে? আমাদের ঘরে রহমত কিভাবে আসবে?

"কারো উপকার করলে, সেটা তাকে মনে করিয়ে কষ্ট দিবে না ..." (কুরআন ২:২৬২)

"চিৎকার করবে না, কর্কশ ভাবে কথা বলবেনা, নম্রভাবে নিচু স্বরে কথা বলবে" (৩১:১৯)

"কাউকে নিয়ে উপহাস টিটকারি ব্যঙ্গ করবে না, অন্যকে নিন্দা করবে না, কারো মানহানি করবে না, কাউকে কোন বাজে নামে ডাকবে না .." (৪৯:১১)

"আল্লাহ যাদের বেশি দিয়েছেন, তাদের হিংসা করবে না.."
(৪:৫৪)

(কুরআনের আয়াতগুলোর ভাবানুবাদ করা হয়েছে।)

_____________________
সাইলেন্ট বুলেট
শারিন সফি অদ্রিতা
#রাইটিং_থেরাপি

06/08/2023

প্রতিটা বাসার চার দেয়ালের মাঝের কিছু কথা থাকে যেগুলো এর-তার সামনে বলার না। আপনি যদি অনেক সমস্যায় থাকেন, যিনি সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, শুধু তাঁর সাথে শেয়ার করুন- চেষ্টা করুন তিনি যেন এমন কেউ হন যার আপনার জীবনের ঘটনা নিয়ে কিছু যায় আসে না। সকলের সামনে ঘরের ভিতরের খবর প্রকাশ করে নিজেকে আর নিজের পরিবারকে ছোট করবেন না।

© নায়লা নুজহাত

05/08/2023

আপনি যখন বুঝতে পারেন যে আমি আপনাকে ঘৃণা করছি, নিশ্চিত জানবেন— কেবল আল্লাহর জন্যই এই ঘৃণা। আবার, যখন বুঝতে পারবেন যে আপনাকে আমি ভালোবাসছি, তখনও নিশ্চিত হোন— এই ভালোবাসাও কেবল আল্লাহর জন্যেই৷

আমাদের ভালোবাসা আর ঘৃণার মাঝামাঝি কিছু নেই এবং সেসবের কোনোকিছু ব্যক্তিগতও নয়৷

- আরিফ আজাদ

03/08/2023

এই যে আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের উপর জুলুম করছি, অপমান করছি, হাত দিয়ে, মুখ দিয়ে, গীবত করে, হাসাহাসি করে, চুগলখোরী করে, কারও নেয়ামত নষ্ট করে দিচ্ছি, শান্তি নষ্ট করে দিচ্ছি, কারও ভেতর সন্দেহ ঢুকিয়ে দিচ্ছি, দুই ব্যক্তির মাঝে সম্পর্ক খারাপ করে দিচ্ছি। দিন, মাস, বছর কেটে যায়, ভুলেই যাচ্ছি আমাদের কারণে কার কী ক্ষতি হল, অথচ আমাদের অল্প কটা শব্দ, কিংবা কোনো আচরণ বছরের পর বছর কারও উপর জুলুম করেই যাচ্ছে ...

আদৌ কি মাফ মিলবে?

জবানের ব্যপারে হাদিসে কত কড়াভাবে সাবধান হতে বলা হয়েছে, জবানের কারণেই বেশিরভাগ মানুষ জাহান্নামী হবে, এইটুকু উপলব্ধিই কি যথেষ্ট নয় জবান কম খরচ করার জন্য? যা বলব উত্তম কথা বলব, এমন কিছু বলব যা সাদাকা সরূপ হয়। আর নয়ত চুপ থাকব৷

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে নিজ গুণে ক্ষমা করুন, যাদের হক নষ্ট করে কষ্ট জারি রাখছি তাদের হক আদায় করে মাফ পাওয়ার তাউফিক দিন, যাদের কথা ভুলে গেছি, তাদের কথা মনে করিয়ে দিন৷ কেয়ামতের ভয়াবহতা যেন আমাদের জন্য না হয়। আমিন।

02/06/2023

কখনই কোনো মানুষের সন্তুষ্টি চাইবেন না, চাইবেন আল্লাহর সন্তুষ্টি। কারো হৃদয়ে নিজের জন্য স্থান চাইবেন না, চাইবেন আল্লাহর রাজি খুশি। কারো ভালবাসা চাইবেন না, চাইবেন আল্লাহর ভালবাসা। কারো থেকে সম্মান চাইবেন না, চাইবেন আল্লাহ যেন আপনাকে সম্মানিত করেন। সামান্যতম ভালবাসা, আবেগ, মায়া, যত্ন, সম্মান কোনো কিছুর জন্যই জীবনেও কোনো মানুষের মুখাপেক্ষী হবেন না। শুধুমাত্র আল্লাহর মুখাপেক্ষী হবেন। আপনি শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য, এইটুকুই মাথায় রাখবেন। দেখবেন, যা চাইছেন তার থেকে অনেক বেশিই পাচ্ছেন।

Address

Satkhira
9400

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইত্তাকিল্লাহ - Ittaqillah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share