বাকরআলীবিল সার্বজনীন ত্রিরত্ন বিহার

  • Home
  • Bangladesh
  • Satkania
  • বাকরআলীবিল সার্বজনীন ত্রিরত্ন বিহার

বাকরআলীবিল সার্বজনীন ত্রিরত্ন বিহার আসক্তিই দুর্ভোগের মূল কারণ।

অভিনন্দন বার্তা🥰💐                        নবনির্বাচিত সভাপতি শিক্ষক সন্তোষ কুমার বড়ুয়া ,সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়...
17/12/2025

অভিনন্দন বার্তা🥰💐
নবনির্বাচিত সভাপতি শিক্ষক সন্তোষ কুমার বড়ুয়া ,সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবু টিংকু বড়ুয়া,অর্থ সম্পাদক বাবু ডা:শিবু বড়ুয়া,সহ নবনির্বাচিত সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক এবং কমিটির সকল সদস্যবৃন্দকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।🥰💐আমরা আশা করি,আপনাদের সক্রিয় নেতৃত্বে আমাদের গ্রাম ও সমাজ নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে।

আপনাদের সফলতা ও সুদীর্ঘ পথচলার শুভকামনা রইলো।💐🥰

হে মহাপুণ্য পুরুষ আপনার প্রয়াণে আজ বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমাজ এক মহান অবিভাবককে হারিয়েছে। আপনার অন্তিম যাত্রায় শতকোটি প্রণাম।🙏...
13/11/2025

হে মহাপুণ্য পুরুষ আপনার প্রয়াণে আজ বাংলাদেশী বৌদ্ধ সমাজ এক মহান অবিভাবককে হারিয়েছে। আপনার অন্তিম যাত্রায় শতকোটি প্রণাম।🙏🙏🙏

চতুরার্য সত্যের ব্যাখ্যা,১/ দুঃখ আর্যসত্য:জগৎ দুঃখময়। সুখ এখানে ক্ষণস্থায়ী। সংসার চক্রে পরিভ্রমণ করে মানুষ দুঃখ ভোগ করে।...
14/10/2025

চতুরার্য সত্যের ব্যাখ্যা,

১/ দুঃখ আর্যসত্য:
জগৎ দুঃখময়। সুখ এখানে ক্ষণস্থায়ী। সংসার চক্রে পরিভ্রমণ করে মানুষ দুঃখ ভোগ করে। বুদ্ধ দুঃখকে প্রধানত আট ভাগে বিভক্ত করেছেন। যথা:
১. জন্ম দুঃখ ২. জরা দুঃখ ৩. ব্যাধি দুঃখ ৪. মৃত্যু দুঃখ ৫. অপ্রিয় সংযোগ দুঃখ ৬. প্রিয় বিচ্ছেদ দুঃখ ৭. ঈপ্সিত বস্তুর অপ্রাপ্তি দুঃখ এবং ৮. পঞ্চস্কন্ধময় এ দেহ ও মন দুঃখময়।

সকলকে কোনো না কোনোভাবে দুঃখ ভোগ করতে হয়। দুঃখ হতে কারো নিস্তার নেই। তাই বুদ্ধ এগুলোকে দুঃখ আর্যসত্য বলে অভিহিত করেছেন।

২/ দুঃখের কারণ আর্যসত্য:
কারণ ছাড়া কোনো কার্যের উৎপত্তি হয় না। সবকিছুরই কারণ আছে। দুঃখ উৎপত্তিরও কারণ আছে। দুঃখ আছে জেনেও মানুষ মায়ার জালে আবদ্ধ হয়ে আরও দুঃখ ভোগ করে। জন্ম নিলেই দুঃখ ভোগ করতে হয়। তাহলে কী কারণে মানুষ জন্মগ্রহণ করে? জন্মের কারণ তৃষ্ণা। আর তৃষ্ণার কারণ অজ্ঞতা বা জ্ঞানের অভাব। অজ্ঞতার কারণে আমরা অসত্যকে সত্য, সত্যকে অসত্য মনে করি। ফলে পৃথিবীর রূপ, রস, স্বাদ, গন্ধ, স্পর্শ ইত্যাদিতে আকৃষ্ট হই এবং তা পাওয়ার জন্য আকাঙ্ক্ষা উৎপন্ন হয়। পতঙ্গ যেমন আগুনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আগুনের কাছে যায় এবং আহত বা হতও হয়, তেমনি মানুষও মোহাচ্ছন্ন হয়ে বারবার দুঃখ ভোগ করে। জগতের ক্ষণস্থায়ী বস্তু পাওয়ার জন্য তীব্র বাসনা জাগ্রত হয়। এই আকাঙ্ক্ষার ফলেই আমরা বারবার জন্মগ্রহণ করি। কামনা, বাসনা, লোভ, অহংকার, মোহ, শোক-এ সবই তৃষ্ণা থেকে উৎপত্তি হয়। তৃষ্ণাই দুঃখের কারণ।

৩/ দুঃখ নিরোধ আর্যসত্য:
আমরা জেনেছি তৃষ্ণাই দুঃখের কারণ। তৃষ্ণার ফলেই আমরা বারবার জন্মগ্রহণ করি। জন্মগ্রহণ করে অসংখ্য দুঃখ ভোগ করি। সুতরাং তৃষ্ণাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে দুঃখ নিরোধ সম্ভব। তৃষ্ণার ক্ষয় পুনর্জন্ম রোধ করে। তৃষ্ণার বিনাশ করাই দুঃখ নিরোধ আর্যসত্য।

৪/ দুঃখ নিরোধের উপায় আর্যসত্য:
রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ঔষধ খেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলতে হয়। তথাগত বুদ্ধ কঠোর তপস্যা করে দুঃখ নিরোধের উপায়ও আবিষ্কার করেছেন, যা দুঃখ নিরোধের উপায় আর্যসত্য নামে পরিচিত। বুদ্ধ নির্দেশিত আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গই দুঃখ নিরোধের উপায়। মার্গ অর্থ পথ। আটটি সত্য পথ অনুসরণ করে আমরা দুঃখ নিরোধ করতে পারি। আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ নিম্নরূপ:

১. সম্যক দৃষ্টি ২. সম্যক সংকল্প ৩. সম্যক বাক্য ৪. সম্যক কর্ম ৫. সম্যক জীবিকা ৬. সম্যক ব্যায়াম বা প্রচেষ্টা ৭. সম্যক স্মৃতি ৮. সম্যক সমাধি

সাহিত্যিক আবুল ফজল তাঁর ‘মানবপুত্র বুদ্ধ’বইটিতে বলেছেন, গৌতম বুদ্ধ মানুষ ছিলেন।তিনি অবতার ছিলেন না, ঈশ্বরের পুত্রও না । ...
14/10/2025

সাহিত্যিক আবুল ফজল তাঁর ‘মানবপুত্র বুদ্ধ’বইটিতে বলেছেন,
গৌতম বুদ্ধ মানুষ ছিলেন।তিনি অবতার ছিলেন না, ঈশ্বরের পুত্রও না ।
নবী বা ঈশ্বরের বিশেষ দূতও ছিলেন না ।
তাঁর সাফল্য ও সাধনার জন্য কোন অপৌরুষেয় শক্তির মুখাপেক্ষ তিনি হননি, নির্ভর করেননি কোন অলৌকিকতার উপর।এইখানেই তাঁর গৌরব,এখানেই মানবপুত্রের মহিমা । এদিক দিয়েই আধুনিক মানুষের কাছেও তিনি সর্বাধুনিকতার আদর্শ।

গৌতম বুদ্ধ হিংসাকে অহিংসা দ্বারা, ক্রোধকে অক্রোধের দ্বারা জয় করতে বলেছেন । তিনি সংস্কারমুক্ত মানুষ ছিলেন।তাঁর একটি অনুপম উক্তি হলো,দূর করো প্রাচীন সংস্কার,বরণ করে নাও নতুনকে,পরিহার করো পাপ, শ্রেয়কে করো সঞ্চয়।বুদ্ধ বারংবার আত্মশক্তিকে জাগ্রত করার কথা বলেছেন।এসব কথা নিশ্চয়ই মূল্যহীন নয় । তিনি তাঁর কথা যাচাই করে গ্রহণ করতে বলেছেন।যাচাই করতে ক্ষতি কী ?

ভদন্ত/সুধী,ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত সমাপনান্তে আনন্দে মুখরিত হয় সমগ্র বৌদ্ধজাতি, যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় এবং উৎসবের বর্ণাঢ্য...
14/10/2025

ভদন্ত/সুধী,

ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত সমাপনান্তে আনন্দে মুখরিত হয় সমগ্র বৌদ্ধজাতি, যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় এবং উৎসবের বর্ণাঢ্যতায় "শুভ কঠিন চীবর দান" বাংলাদেশ তথা সমগ্র বৌদ্ধদের জন্য সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। শুরু হয় মাসব্যাপী ধর্মসুধা শ্রবণ করার প্রত্যয়ে প্রতিটি বিহারে বৌদ্ধদের আকাঙ্ক্ষিত "দানোত্তম শুভকঠিন চীবর দানোৎসব" তারই ধারাবাহিকতায় ৫ম বারের মতো আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ০৯ কার্তিক ১৪৩২ বাংলা, ২৫৬৯ বুদ্ধাব্দ, শনিবার। চট্টগ্রামস্থ সাতকানিয়া উপজেলার বাকরআলীবিল সার্বজনীন ত্রিরত্ন বিহারে বিপুল উৎসব উদ্দীপনায় মুখরিত ভাবগম্ভীর পরিবেশে দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

এহেন পুণ্যময় দানানুষ্ঠানে সভাপতির আসন অলংকৃত করবেন পুঁটিবিলা মহাবোধি বিহারের অধ্যক্ষ, ভদন্ত রত্নানন্দ মহাথের এবং প্রধান সদ্ধর্মদেশক হিসেবে আসন অলংকৃত করবেন চকরিয়া বৌদ্ধ ধর্মীয় শিক্ষা পরিষদ'র মহাসচিব, সংঘরত্ন ধর্মদূত এম প্রজ্ঞামিত্র থের এম.এ।

এছাড়া আরো উপস্থিত থাকবেন পন্ডিত, প্রাজ্ঞ পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ, ধর্মালোচকবৃন্দ, সরকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সুধীজন উপস্থিত হওয়ার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে আপনাদের কায়িক, বাচনিক, মানসিক, আর্থিক, সার্বিক সহযোগিতা ও উপস্থিতি একান্তভাবে কামনা করছি।

08/10/2025

🔥💥 শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা'২৫ 💥🔥

“ তুমি প্রথম হে মহামানব শোনালে মুক্তির গান
কোটি মানুষের হৃদয়ে আজো তাই চির অম্লান ”

ফানুসে আকাশ বর্ণিল হোক,
মানুষের অজ্ঞানতা দূরীভূত হয়ে সুবোধ বর্ধিত হোক।

অনিত্য বয়ে চলে,🥲    "অনিচ্চা বত্ সাংখারা"🥹🥹🥹ঐতিহ্যবাহী সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূম...
05/10/2025

অনিত্য বয়ে চলে,🥲
"অনিচ্চা বত্ সাংখারা"🥹🥹🥹
ঐতিহ্যবাহী সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি,সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা পুণ্যতীর্থ বাকরআলীবিল সার্বজনীন ত্রিরত্ন বিহারের ধার্মিক উপাসক এবং গ্রামের সুনামধন্য পরিবারের সু-সন্তান অনিল বড়ুয়ার,বড় পুত্র মিন্টু বড়ুয়ার অকাল প্রয়াত হয়েছেন আজকে দুপুর ৩ টায়। অকাল প্রয়াত মিন্টু বড়ুয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীর ভাবে শোকাহত।আমাদের সকলের ক্ষুদ্র জীবনের অর্জিত পূণ্য রাশি তাহার পারলৌকিক সদ্গতি কামনায় পুণ্যদান করছি।

শোকার্তে - বাকরআলীবিল সার্বজনীন ত্রিরত্ন বিহারের সকল দায়ক-দায়িকাবৃন্দ ,বাজালিয়া,সাতকানিয়া,
চট্টগ্রাম

ধর্মের প্রতি সঠিক শ্রদ্ধাড. বরসম্বোধি ভিক্ষুধর্ম ধারণ ও দর্শন করার জন্য শ্রদ্ধা জাগাতে হবে। শুদ্ধ ধর্মের জ্ঞান আহরণের জন...
10/09/2025

ধর্মের প্রতি সঠিক শ্রদ্ধা

ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু

ধর্ম ধারণ ও দর্শন করার জন্য শ্রদ্ধা জাগাতে হবে। শুদ্ধ ধর্মের জ্ঞান আহরণের জন্যও শ্রদ্ধা জাগাতে হবে। সৎকর্ম ও আত্ম নিরীক্ষণ করার জন্যও শ্রদ্ধা জাগাতে হবে। ধর্ম দর্শনের উৎসাহের জন্যও শ্রদ্ধা জাগাতে হবে। কিন্তু যে শ্রদ্ধা জাগ্রত করবেন, তা যেন অন্ধশ্রদ্ধা না হয় সে দিকেও কড়া নজর বা খেয়াল রাখতে হবে। সত্যিকার ধর্মের প্রতি, ধর্ম দর্শনের প্রতি এবং ধর্ম ধারণের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা যখন জাগ্রত হয় তখনই বলা হয়-‘ ধম্মং সরণং গচ্ছামি।’

আপনি কোন ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা উৎপন্ন করবেন? কোন ধর্মকে দর্শন করবেন? এবং কোন ধর্মকে ধারণ করবেন? যে ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা উৎপন্ন করবেন, যে ধর্মকে আপনি দর্শন করবেন এবং যে ধর্মকে ধারণ করবেন, সে ধর্ম বৌদ্ধধর্ম নয়, হিন্দু ধর্মও নয়, ইসলাম ধর্মও নয়, জৈন ধর্মও নয়, খৃষ্টান ধর্মও নয়, পার্সী ধর্মও নয় এবং শিখ ধর্মও নয়। সে ধর্ম হল অনন্ত, অপ্রমাণ। ‘অপ্পমাণো ধম্মো’ অর্থাৎ অপরিমিত বা অপ্রমাণ ধম্ম। যা সতত আপনার মধ্যে উৎপন্ন হচ্ছে এবং বিলয় হচ্ছে। অপ্রমাণ ধর্ম হলেই তখন হবে ধর্ম। সকলের জন্য যা হয় তাই হল ধর্ম। বৌদ্ধধর্ম তো কেবল বৌদ্ধদের জন্য। হিন্দু ধর্ম তো কেবল হিন্দুদের জন্য। ইসলাম ধর্ম তো কেবল মুসলিমদের জন্য। জৈন ধর্মও তো কেবল জৈনদের জন্য। অনুরূপভাবে খৃষ্টান ধর্মও তো কেবল খৃষ্টানদের জন্য। পার্সী ধর্মও তো কেবল পার্সীদের জন্য এবং শিখ ধর্মও তো কেবল শিখদের জন্য। উপরোক্ত ধর্মগুলি হল বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা সমূহের জন্য। সেগুলির কোনটাই সার্বজনীন বা সকলের ধর্ম নয়।

ধর্ম হতে হবে সকলের জন্য। সকলের জন্য অর্থাৎ সার্বজনীন যে ধর্ম সে ধর্মেরই শরণ নেওয়া বা আশ্রয় নেওয়া উচিত। সার্বজনীন হল সে ধর্ম, যা আপনার/ আমার ভিতরে রয়েছে, যা উদয়-বিলয় হচ্ছে। যে ধর্মকে আমরা ধারণ করে রয়েছি তাকেই দর্শন করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি ক্রোধ, হিংসা, লোভ, অজ্ঞানতা ইত্যাদি ধর্ম সমূহ ধারণ করেন, তাহলে আপনি দুঃখী, অস্থির ও অশান্ত হবেন। তা হল সার্বজনীন দুঃখদায়ক ধর্ম। সে ধর্ম সমূহ ধারণ করলে আপনি নিজেও কখনও সুখী হতে পারবেন না, অপরকেও কখনও সুখ দিতে পারবেননা। এগুলি হল সার্বজনীন অহিতকারী ধর্ম। সে সমস্ত ধর্মে ‘গচ্ছামি’ বা গমণ করলে কেবল দুঃখই দুঃখ।

তেমনি আপনি যদি মৈত্রী, করুণা, ভালবাসা, সদাচার, অলোভ, অদ্বেষ ও অমোহ ইত্যাদি ধর্মকে ধারণ করেন, তাহলে আপনি হবেন শান্ত, সংযত ও সুখী। আপনি নিজেও আনন্দ ও সুখময় জীবন-যাপন করতে পারবেন এবং অপরকেও সুখের ভাগীদার করতে পারবেন। এগুলিই হল সার্বজনীন সুখকর ধর্ম। এ সমস্ত ধর্মে ‘গচ্ছামি’ বা গমণ করলে জীবনে সুখ, শান্তি ও আনন্দ লাভ করবেন। সুতরাং কোন ধর্মকে ধারণ করছেন, তা আপনাকে দর্শন করতে হবে। আপনি সঠিক ধর্মের অনুসরণ করলেই তখন ধর্মও আপনাকে শরণ বা আশ্রয় দেবে। বুদ্ধ বলেছেন- ধম্মো হবে রক্খতি ধম্মচারিং।’ ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে বা শরণ দেয়। সঠিক ধর্মের অনুসরণ করলেই সত্যিকার ধর্মের শরণে যাচ্ছেন এবং সে ধর্ম অনুসরণের দ্বারা আপনি সুরক্ষা পাবেন।আপনি সঠিক ধর্মকে ধারণ না করে কেবল মুখে বুদ্ধ নাম নিচ্ছেন, মুখে ‘ধম্মং সরণং গচ্ছামি’ উচ্চারণ করছেন, অথচ ধারণ করছেন ক্রোধ, হিংসা, লোভ, শঠতা, প্রতারণা ও লোক ঠকানো মূলক অধর্ম, তাতে কি সত্যিকার ধর্মের শরণে আপনি আছেন? আপনার মধ্যে বাক্য সংযম নাই, কায় সংযম নেই এবং মন সংযম নেই। আপনার সমস্ত ইন্দ্রিয়ই অসংযত। যে ধর্ম আপনি ধারণ করে আছেন, সে ধর্ম কি আপনাকে রক্ষা করবে? কখনও না। সর্বদা আপনি দুঃখ-অশান্তিই তো ভোগ করবেন। ইহাই হল সার্বজনীন, সার্বকালীক ও সার্বদেশিক দুঃখদায়ক ধর্ম।

আর আপনি যদি মৈত্রী, করুণা, দয়া, অহিংসা, অলোভ, অদ্বেষ ও অমোহ ইত্যাদি ধর্মকে ধারণ করেন, কায়, বাক্য ও মনকে সংযত করেন এবং ইন্দ্রিয় সমূহকেও সংযত করেন, তাহাই হবে প্রকৃত ধর্ম ধারণ। সে ধর্মই আপনাকে শরণ বা আশ্রয় দেবে। সে ধর্মের দ্বারাই আপনি যথার্থ সুখ, শান্তি ও আনন্দ পাবেন। ইহাই হল সার্বজনীন, সার্বদেশিক ও সার্বকালিক সুখদায়ক ধর্ম।

আপনি বৌদ্ধ, বিহারে গিয়ে প্রতিদিন বুদ্ধের বন্দনা করছেন, ধর্মের শরণ নিচ্ছেন, ধর্মের প্রচুর বই-পুস্তক পড়ছেন, ধর্মীয় সভা-সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন, ধর্মকথাও বলছেন, শীলও গ্রহণ করছেন, মুসলমান আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ-কালামও পড়ছেন, রোজাও রাখছেন, দাঁড়ি রাখছেন, টুপিও পড়ছেন, আপনি হিন্দু ব্রত-উপবাসও রাখছেন, বিভিন্ন পূজা-পার্বণও উদযাপন করছেন, ভজন-কীর্তনও করছেন, দেব-দেবীর কাছে মাথা ঠেকাচ্ছেন, কপালে টিকা বা তিলকের লাগাচ্ছেন, লোক আপনাকে মনে করছে আপনি অনেক ধার্মিক। কারণ আপনার বাহ্যিক আবরণে তাই দেখাচ্ছে। এত কিছু করেও দেখা যাচ্ছে, আপনার ক্রোধ কমছেনা, আপনার হিংসা-বিদ্বেষ কমছেনা, আপনার লোভ-লালসা কমছে না, আপনার বাক্য সংযম নাই, কায় সংযম নাই, আপনার মন সংযম নাই এবং আপনার ইন্দ্রিয় সংযম নাই, আপনার কায়, বাক্য ও মন অসংযত। তাহলে বুঝতে হবে, যে ধর্মকে আপনি ধারণ করেছেন, তা সঠিক ধর্ম নয়। এখানেই ধর্ম ধারণের মাপকাঠি বা মানদণ্ড দেখা যায়। আপনি সঠিক ধর্মের শরণে নাই। আপনি কেবল হিন্দু, বৌদ্ধ, ইসলাম, খৃষ্টান, জৈন, শিখ ও পার্সী ইত্যাদি তথাকথিত ধর্মকে ধারণ করে আছেন। আপনি নিজের মধ্যে ধারণকৃত ধর্মকেও আপনি দর্শন করছেননা। বাহ্যিক ধর্মকেই কেবল আশ্রয় দিয়েছেন। নিজের মধ্যে ধারণকৃত ধর্মকে দর্শন করাই হল সত্যিকার ধর্ম দর্শন। যে ধর্ম ধারণ করলে আপনি প্রকৃত সুখ, শান্তি ও আনন্দ পাবেন, যে ধর্মকে ধারণ করলে আপনার কায়, বাক্য ও মন ইত্যাদি ইন্দ্রিয় সমূহ সংযত হবে, শান্ত হবে, সে ধর্ম হতে আপনি যোজন দূরে অবস্থান করছেন। মুখে ‘ধম্মং সরণং গচ্ছামি’ বললেও সত্যিকার ধর্মের শরণে আপনি নাই।

আপনি যে ধর্মকে ধারণ করেছেন, সে ধর্ম আপনাকে মৃত্যুর পর পরলোকে শান্তি দেবে, সুখ দেবে, পুরস্কার দেবে, স্বর্গ দেবে, বেহেস্ত দেবে, হেভেন দেবে, সেখানে অপার শান্তি, অপার ঐশ্বর্য ভোগ করবেন, অপার কাম বাসনার চরিতার্থ করবেন এ বিশ্বাসেই কেবল সাম্প্রদায়িক ধর্ম সমূহ বা লেবেল লাগানো ধর্ম সমূহ অনুসরণ করে চলেছেন। সেজন্য অনুসৃত ধর্ম সমূহের দ্বারা ইহ জীবনে আপনি অশান্তি, দুঃখ-কষ্ট ভোগ করলেও মৃত্যুর পর স্বর্গে অপার সুখ লাভের কল্পনা বা বিশ্বাস আপনার মধ্যে রয়েছে।

আমাদের দেখতে হবে যে, ধর্মের গুণ তো ‘অকালিকো’ অর্থাৎ অকালিক বা কখন ফল দেবে তার কোন কালাকাল নাই। যে ধর্ম অনুসরণে বর্তমানে যদি আপনি সুখ, শান্তি ও আনন্দ না পান, যে ধর্ম ধারণে আমরা প্রতি মুহূর্তে যদি ফল না পাই, সবকিছু যদি কেবল মৃত্যুর পর হয়, তাহলে সে ধর্ম ধারণে আমার লাভ কি? মৃত্যুর পর যে লাভ করব তারও নিশ্চয়তা কি? যে ব্যক্তি ইহ জীবনে অশান্ত, অসংযত, ক্রোধী, হিংসুক, লোভী, বিদ্বেষী হয়ে নিজেও দুঃখ ভোগ করছেন প্রতি পদে পদে এবং অপরকেও দুঃখ দিচ্ছেন বা দুঃখের কারণ হচ্ছেন, তিনি কিভাবে আশা করতে পারেন যে, মৃত্যুর পর স্বর্গে তার জন্য অপার সুখ অপেক্ষা করছে।

যে রকম ধর্ম আমরা ধারণ করব, সে রকম ধর্মের ফল আমরা প্রতি পদে পদে ভোগ করে থাকি। তারজন্য পরকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়না। ধর্মের ফল রয়েছে তৎকাল বা ‘সন্দিট্ঠিকো’ অর্থাৎ সন্দিষ্টিক। এখন ধারণ করলে এখন ফল পাবেন। এখন ধারণ করছেন, তার ফল এখন পাচ্ছেন, কি পাচ্ছেন না, তা পরীক্ষা করে দেখুন। যদি এখন ধারণ করছেন, আর ফল পাবেন মৃত্যুর পর, তাহলে বুঝতে হবে সে ধর্মের মধ্যে কোথাও গোঁজামিল বা গড়বড় রয়েছে। মৃত্যুর পর পরিণাম যাই আসুক না কেন, তা অন্য কথা। কিন্তু এখন অর্থাৎ বর্তমানে আমার কি হচ্ছে, কি পরিণাম আসছে, তা কি দেখতে নেই?

যদি ধর্ম ধারণে আমার এখন কোন পরিবর্তন না আসে, আমার লোভ, ক্রোধ, কামনা, বাসনা ও ঠক-প্রতারণা মূলক বিকার সমূহ হতে সামান্যও মুক্তি না আসে এবং মৃত্যুর পর কেহ আমাকে মুক্ত করে দেবে, কারও কৃপা দ্বারা আমি মুক্ত হয়ে যাব, তখন বুঝতে হবে যে, এরকম প্রবচন দাতারা ধোঁকাই দিচ্ছেন আপনাকে। ভাই! আপনি ধর্মের নামে মহা ধোঁকার মধ্যে রয়েছেন। এর থেকে বড় ধোঁকা ও প্রতারণা পৃথিবীতে আর কিছু হতে পারেনা। ধর্মের নিয়ম তো আপনাকে এখানেই সংশোধন করবে। বর্তমানে সংশোধন করবে। বর্তমান শুদ্ধ হলে ভবিষ্যত তখন আপনাতেই শুদ্ধ হয়ে যাবে। ইহলোকের জীবন শুদ্ধ ও পবিত্র হলে পরলোক তো আপনাতেই শুদ্ধ হবে। বর্তমান সংশোধনই হল সত্যিকার ধর্ম। ইহলোক সংশোধন করাই হল ধর্ম। পরলোকের চিন্তা আমার দরকার নাই। ক্ষণে ক্ষণে নিজেকে শুদ্ধ ধর্মের আশ্রয়ে সংশোধন করুন। পরক্ষণ তো বর্তমান ক্ষণেরই জন্ম দেওয়া সন্তান। বর্তমানকে সংশোধন করুন, ভবিষ্যত তো বর্তমানেরই সন্তান। তা আপনাতেই সংশোধন হবে। কেননা ধর্মের গুণ অকালিকো। ধর্মের গুণ সন্দিষ্টিক অর্থাৎ ক্ষণে ক্ষণে তৎকাল ফল প্রদানকারী। জীবনকে এভাবে পরিচালনা করলেই আপনি সত্যিকার অর্থে ধর্মের আশ্রয়ে আছেন বা ধম্মং সরণং গচ্ছামি অর্থাৎ ধর্মের শরণে গমণ করছেন। অন্যথায় নয়।

কর্ম ও কর্মফল সম্পর্কে বুদ্ধ বলেছেন     (১) দান করলে ধনী হয়।     (২) গুরুজনকে ভক্তি করলে উচ্চ পরিবারে জন্ম হয়।     (৩) দ...
09/09/2025

কর্ম ও কর্মফল সম্পর্কে বুদ্ধ বলেছেন

(১) দান করলে ধনী হয়।
(২) গুরুজনকে ভক্তি করলে উচ্চ পরিবারে জন্ম হয়।
(৩) দুঃখীর সেবা করলে স্বাস্থ্যবান হয়।
(৪) রাগ না করলে সুন্দর হয়।
(৫) উপকার করলে পণ্ডিত হয়।
(৬) অহংকার করলে নিচ কুলে জন্ম হয়।
(৭) প্রাণীকে অাঘাত করলে রোগা হয়।
(৮) হিংসা করলে বিশ্রী হয়।
(৯) পরের অনিষ্ট করলে মূর্খ হয়।
(১০) প্রাণী হত্যা করলে অল্পায়ু হয়।
(১১) ব্যবিচার করলে নপুংসক হয়।
(১২) সাধু সৎপুরুষ দর্শনে দৃষ্টিশক্তি বর্ধিত হয়।
(১৩) সকল জীবে মৈত্রী পোষণে সাচ্ছন্দ্যময় জীবন লাভ হয়।
(১৪) অন্ন দানে আয়ু, বর্ণ, সুখ, বল, প্রজ্ঞা লাভ হয়।
(১৫) দান, শীল, ভাবনা তথা শীল, সমাধি, প্রজ্ঞানুশীলনে নির্বাণ সম্পত্তি লাভ হয়।

বুদ্ধের এই সত্য বাক্যের প্রভাবে মঙ্গলময় হোক আমাদের সবার জীবন।


___সাধু সাধু সাধু🙏🙏🙏

Address

Satkania
৪৩৮৮

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাকরআলীবিল সার্বজনীন ত্রিরত্ন বিহার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share