29/01/2026
ইনবক্সে পাওয়া দোয়া কবুলের গল্প!
আমি স্কুল লাইফে ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম আলহামদুলিল্লাহ। আমার রোল এক ছিল। তাই স্যার ম্যামদের এক্সপেকটেশন আমার কাছে বেশি ছিল। এসএসসি পরীক্ষার সময় সব বিষয় অনেক বেশি ভালো হলেও ফিন্যান্স এ অনেক খারাপ করি। ফেইল করবো ভেবেছিলাম।
কোন আশা ছিলনা জানেন! আমি বাসায় এসে এত কান্না করেছিলাম সেদিন যে আমি পরের পরীক্ষার জন্য পড়তেই পারিনাই। হাউমাউ করে কেদেছিলাম। আমার মা আমার কান্না দেখে বলেছিলেন কোন সমস্যা নাই। এক বছর নষ্ট হলে জীবন এখানেই শেষ না। মানে ফেইল করলে আমার পরিবার থেকে সমস্যা নাই কারণ তারা দেখেছে যে আমি পরিশ্রম করেছি। কিন্তু স্কুলের সবার যে আমার থেকে অনেক এক্সপেকটেশন ছিল! আমি কিভাবে স্কুলে মুখ দেখাবো এই চিন্তায় ই আমি শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম।
তখন আমি দুরুদ ইস্তেগফার এর ফজিলত সম্পর্কে জানতাম না। তাহাজ্জুদ ও পরতাম না। আমার মনে হতো, শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ পড়তে হয়তো শুধু তারাই পারে যারা অনেক বেশি ঈমানদার, যারা অনেক বেশি আমল করে। আমি ভাবতাম আমার পক্ষে তাহাজ্জুদ আদায় করা অসম্ভব কারণ আমি তো এত আমল করি নাই।আমার তো গুনাহর শেষ নাই!
যাই হোক, আমি তখন মান্নত করেছিলাম যে আমি এই বিষয়ে ভাল করলে আমি ১ টা নফল রোজা রাখব।
তারপর আমার বোন থেকে জানতে পারলাম মানত করা মাকরূহ। ও আমাকে বলল রেজাল্টের পর যেটা করবা সেটাই রেজাল্ট এর আগে করে আল্লাহর কাছে চাও আল্লাহ ফিরাবে না।
তারপর আমি আর মানত করলাম না। রেজাল্টের আগেই রোজা টা রাখলাম আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলাম মানত করার জন্য ( তখনও জানতাম না এই ক্ষমা চাওয়াই ইস্তেগফার) । তারপর আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করলাম যাতে পাশ করি।
রেজাল্ট এর দিন বিশ্বাস করেন আমি এত ভয়ে ছিলাম সারা রাত আমার ঘুম হয়নাই। ভেবেছিলাম অনেক লজ্জায় পরে যাব ফেইল যদি হয়।
রেজাল্ট দেখলাম। আমি ফিন্যান্স এ সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছি। ৯০+ মার্ক পেলাম। যেটা অসম্ভব ছিল।আমি এখনও জানিনা কিভাবে এত মার্ক পেলাম। হয়ত বা আমি যেই ম্যাথগুলো ভুল ভেবেছিলাম সেগুলো হয়ত সঠিক হয়েছিল! কিংবা হয়তবা শুধু সঠিক ফর্মূলা লেখার জন্যই মার্ক পেয়েছি! আমি আসলে জানিনা। এগুলা আমার অনুমান মাত্র।
তেমন আমল ও করিনাই কারণ এসব আমল জানতাম'ই না তখন। শুধুমাত্র একটা নফল রোজা রেখেছিলাম, মন থেকে ক্ষমা চেয়েছিলাম আর অনেক দোয়া করেছিলাম। আর আল্লাহ তাতেই দোয়া কবুল করেছিলেন আলহামদুলিল্লাহ!